কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী ইসলামিক স্টেট জঙ্গি জাহিদ

মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে বাংলাদেশী এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জাহিদ নামের ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গত ৪ঠা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার রাতে ধরা হয়। সে বাংলাদেশের আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে সে সম্প্রতি বিদেশে পালানোর ছক কষছিল বলে জেনেছেন উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসাররা। এ রাজ্যে বসেই সে জেহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য সামগ্রী।

কয়েকমাস আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) এক সদস্য। তাকে জেরা করে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিরা ডেরা বাঁধছে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে। সেখানকার বিভিন্ন খারিজি মাদ্রাসায় জেহাদিদের প্রশিক্ষণ পর্ব চলছে। শুধু তাই নয়, এখানে এসে থাকছে নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক জঙ্গি। তাদের পাসপোর্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে এখানেই। ধৃত জঙ্গি জেরায় জানায়, সে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই জেহাদিরা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ জেরা করার পর ওই এবিটি সদস্য তদন্তকারী আধিকারিকদের জানায়, জাহিদ নামের এবিটির এক সদস্য কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে এ রাজ্যে এসেছে ওই জঙ্গি। তাকে সে জাল পাসপোর্ট করে দিয়েছে। কলকাতায় বসেই সংগঠনের কাজকর্ম দেখভাল করে জাহিদ। তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বিদেশে পালিয়ে থাকা এবিটির একাধিক সদস্যের। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম তার সম্বন্ধে খোঁজখবর করতে শুরু করে। জানা যায়, জাহিদ বাংলাদেশী। তার বিরুদ্ধে সেদেশে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এবিটির হয়ে কাজ করার পাশাপাশি সে আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের হয়েও কাজ করছে। এ রাজ্য থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের সুবিধা থাকাতেই সে এখানে ডেরা বেঁধেছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই সে সীমান্তের ওপারে গিয়েছে বলে খবর। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম বৃহস্পতিবার কলকাতায় হাজির হয়। জোড়াসাঁকো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদকে। শুক্রবার তাকে ব্যঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘন সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর জাহিদকে জেরা করে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারছেন, তার হাত ধরে উত্তরপ্রদেশ থেকে একাধিক জেহাদি কলকাতায় এসেছে। তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে সে। যারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে জেহাদি কাজকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত সীমান্ত এলাকাকেই বেছে নিয়েছে তারা। জাহিদ পুলিশকে জানিয়েছে, কলকাতায় থাকলেও সে সীমান্তের ওপারের জেহাদিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ওপার বাংলার জঙ্গিদের সীমান্ত পার করে নিয়ে আসার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নতুন জেহাদি নিয়োগের দায়িত্ব সে সম্প্রতি পেয়েছিল। সেজন্য সে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে জেহদি ভাবধারা প্রচার করে বেড়াচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এখান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক বাংলাদেশর জেহাদিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলেও খবর। তবে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে তার কাছে নির্দেশ আসে সৌদি আরবে চলে যাওয়ার। সেখানে সংগঠনের তহবিল দেখার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়, সৌদিতে কিছুদিন সংগঠনের কাজকর্ম করবে। পরে তাকে আবার ভারতে নিয়ে আসা হবে। সেই কারণেই তার ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় ধরা পড়া অন্য এক জঙ্গি। তা নিয়েই সে সৌদিতে যাবে বলে ঠিক করে ফেলে। এজন্য সমস্ত কিছুর ব্যবস্থাও হয়ে গিয়েছিল। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তার পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের কোন কোন নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

Advertisements

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের আক্রমণ, নিহত ৪১

ফের আইএস হানায় রক্তাক্ত আফগানিস্তান৷ এ বারও বেছে বেছে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষকেই টার্গেট করল তারা৷ বৃহস্পতিবার শিয়াদের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘তাবায়ান’-এ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কমপক্ষে ৪১ জনকে খতম করে আইএস জঙ্গিরা, জখম হন আশিরও বেশি মানুষ৷ হামলার সময় ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একটি আলোচনা চক্রের জন্য হাজির হয়েছিলেন বহু ছাত্রছাত্রী, ফলে বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্বল্প বয়সি ছেলেমেয়েও রয়েছে৷ মুখপত্র ‘আমাক’-এ বিবৃতি দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট৷ তালিবান আবার পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা এই হামলা করেনি৷

আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের ৩৮ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, সেই উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা চক্রে যোগ দিতেই ‘তাবায়ান’-এ এসেছিলেন পড়ুয়ারা৷ মহম্মদ হাসান নামের এক পড়ুয়ার বক্তব্য, ‘‘সভার ভিতরে সামনের দিকেই বসেছিলাম আমি, হঠাৎ পিছন থেকে বিকট আওয়াজ হল, গোটা বিল্ডিং কেঁপে উঠল৷ মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধে ভরে গেল গোটা সভাঘর৷ কোনও মতে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম আমরা৷’’ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম বিস্ফোরণটি হয় এই অনুষ্ঠান কেন্দ্রে, এতে ‘তাবায়ান’ তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, সঙ্গে সঙ্গে ‘আফগান ভয়েস’-এর দপ্তরেও ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ এক সাংবাদিকের প্রাণ যাওয়ার এবং আরও দু’জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে৷ এর পর আরও দুটো ছোট বিস্ফোরণ হয় ওই এলাকায়, যদিও তাতে কোনও প্রাণহানি হয়নি৷

গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা ভীষণ ভাবে বেড়ে গিয়েছে৷ মূলত দেশের পূর্ব অংশকেই টার্গেট করছে তারা, কারণ এই এলাকাতেই সবথেকে বেশি শিয়াদের বসবাস৷ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, আফগানিস্তানে শিয়া-সুন্নি সংঘাত বাধাতে চাইছে আইএস৷ কারণ প্রাণহানির হাত থেকে বাঁচাতে না পারার জন্য এমনিতেই আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির ওপর রেগে রয়েছেন শিয়ারা, এমন অবস্থায় নতুন করে হামলার ঘটনা আগুনে ঘি ঢালতেই পারে৷ ক্ষোভের আগুনে জল ঢালতে প্রেসিডেন্ট শুরুতেই এই হামলাকে ‘মানবতার ওপর হামলা’ আখ্যা দিয়ে দিয়েছেন৷ আহতদের দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনাও করেছেন তিনি৷ তবে তাতে ক্ষোভ কমার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ গত অক্টোবরেই আইএস হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ৩৯ জনের, তাঁরা প্রত্যেকেই শিয়া৷

আইএস-এর প্রতি সহানুভূতিশীল সন্দেহে ১০৩ ভারতীয় আটক

IS-er proti sohanuvutisil sondeheদেশের ১৪টি রাজ্যে আইএস-এর প্রতি সহানুভূতিশীল সন্দেহে অন্তত ১০৩ ব্যক্তিকে আটক করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ), কেন্দ্রীয় সন্ত্রাস দমন এজেন্সি ও বিভিন্ন রাজ্যের নিরাপত্তা বাহিনী। শুধু উত্তরপ্রদেশ থেকেই আটক হয়েছে ১৭ জন। এছাড়া মহারাষ্ট্রে ১৬, তেলেঙ্গানায় ১৬, কেরলে ১৪ এবং কর্নাটকে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির সম্প্রতি রাজ্যসভার অধিবেশনে এ তথ্য জানান। এই কয়েকটি রাজ্যে আটকের সংখ্যা ১৪টি রাজ্যের মোট আটকের সংখ্যার ৬৯ শতাংশ। সংসদে আহির বলেন, আইএস-এ যোগ দিয়েছে, এ রকম খবর গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তেমন নেই। তেলেঙ্গানায় এক লক্ষ মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে জনসংখ্যা অনুপাতে আটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরই রয়েছে উত্তরাখন্ড, কেরল, মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্র। চলতি বছর ১৭ ডিসেম্বর কেরলার কান্নুর জেলায় আইএস-এর প্রতি সহমর্মী সন্দেহে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে এনআইএ। ১৯৬৭ সালের আন ল’ফুল অ্যাকটিভিটিজ প্রিভেনশান অ্যাক্টের অধীনে ওই মামলা করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই জানা গিয়েছে, মহিলার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় যুবকদের প্রলুব্ধ করছে আইএস। বিগত কয়েক বছরে কেরল থেকে শতাধিক যুবক যুবতী আইএস-এ যোগ দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস হাজার হাজার বিদেশিকে নিয়োগ করেছে। ২০১৬ সালে জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে সবচেয়ে বেশি সশস্ত্র হামলা (১,১৩৩টি) ও হত্যার (৯,১১৪ জন) জন্য আইএস দায়ী। মার্কিন বিদেশ দপ্তরের কান্ট্রি রিপোর্ট অন টেররিজমে এই তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী আইএস। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৭ জন। ২০১৫ সালের তুলনায় আইএস-এর হাতে নিহতের সংখ্যা ২০১৬ সালে ৪৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে তাদের হাতে নিহত হয় ৬,১৭৮ জন। ২০১৬ সালে নিহত হয় ৯,১১৪ জন। আর আইএসের জঙ্গিদের হাতে অপহরণের সংখ্যা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে অপহরণ করা হয়েছিল ৪,৮০৫ জনকে আর ২০১৬ সালে অপহরণ করা হয় ৮,৩৭৯ জনকে। সিরিয়া ও ইরাকের বাইরে হামলার সংখ্যা বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ২০১৫ সালে এই সংখ্যাটা ছিল ৪৪, আর ২০১৬-তে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯টিতে।

নিজের কর্মস্থলেই বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশী আইএস জঙ্গি আকায়েদউল্লা

nijer kormostholey bisforok bangladesh IS jongiসোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনালে যেতে হন্তদন্ত হয়ে ছুটছে মানুষ। টাইম স্কোয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথটি কিছুটা সরু। সেখানে মানুষের আনাগোনাও বেশি। আচমকা বিকট শব্দ আর ধোঁয়া! শুরু হয়ে গেল চিৎকার ও মানুষের ছোটাছুটি। ম্যানহাটানের পোর্ট অথারিটি বাস টার্মিনালে দিনের শুরুটা ছিল এমনই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত বিভিন্ন বাস এই টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া গ্রেহাউন্ড ও পিটারপ্যানের মতো দূরবর্তী স্থানগুলিতে যাত্রী পরিবহণকারী বাসগুলিও এখান থেকেই ছেড়ে যায়। গড়ে প্রতিদিন এই বাস টার্মিনাল দিয়ে আড়াই লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। আত্মঘাতী হামলার জন্য এই তল্লাটই বেছে নিয়েছিল আইএস জঙ্গি। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সঙ্গে নিজের যোগাযোগ স্বীকার করে নিয়েছে ধৃত ব্যক্তি। নিজেকে আইএস প্রচারক বলেও দাবি করেছে সে।

আতঙ্ক আর ভয়ের অনুভূতি কেড়ে নিয়েছিল সকালের স্নিগ্ধতা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জানা যায় হামলাকারীর পরিচয়। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম আকায়েদউল্লা। ২৭ বছরের এই ব্যক্তি বাংলাদেশী। তার বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। যদিও বাংলাদেশ পুলিশের দাবি, তাদের কাছে আকায়েদউল্লার অতীত অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই।

সাত বছর আগে সে নিউ ইয়র্কে আসে। ইদানীং থাকে ব্রুকলিনের ইস্ট ফর্টি এইট স্ট্রিটে। আকায়েদ ও তাঁর পরিবার যে বাড়িতে থাকে, ঠিক তার পাশেই থাকেন অ্যালান বুতরিকো। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, আকায়েদ থাকত ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষে। তাঁর বোন থাকত দোতলায়। তাঁর ভাইও থাকত একই বাড়িতে। বুতরিকো বলেন, গত দুই রাত ধরে আকায়েদের বাড়ি থেকে মারামারি, চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। আমার ভাড়াটেরা জানিয়েছেন, দু’রাত ধরেই এমন চলেছে। তাঁরা বলেছেন যে, কান্না ও গোঙানোর শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে কী হয়েছে বুঝতে পারেননি। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়নি। অ্যালান আরও জানান, মোটেই বন্ধুসুলভ ছিল না আকায়েদ। কারও সঙ্গেই খুব একটা কথা বলত না। তারা কেবল এখানে থাকত, ব্যস এটুকুই।

সিএনএন জানিয়েছে, নিজের কর্মস্থলেই বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিল আকায়েদউল্লা। প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। আকায়েদ তা স্বীকারও করেছে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ হয়নি। আকায়েদ ইচ্ছে করেই নির্দিষ্ট স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল জানিয়েছেন, আকায়েদউল্লা যে বিস্ফোরকটি ব্যবহার করেন, সেটি তার শরীরে লাগানো ছিল। বিস্ফোরকে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উচ্চমানের ছিল না। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস পাওয়া গিয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিন কোম্পানিতে কাজ করছিল আকায়েদ। সেখানে তার ভাইও কাজ করত।

কী কারণে এই হামলা? সিএনএন বলছে, গাজায় ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এ ধরনের হামলা চালাতে আকায়েদকে বাধ্য করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, গাজায় ইজরায়েলের ‘অনুপ্রবেশ’ সে মেনে নিতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেনি।

অন্যদিকে, আকায়েদউল্লার নিউ ইয়র্ক শহরে ট্যাক্সি ও লিমোজিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল। ২০১৫ সালের মে মাসের পর ওই লাইসেন্স আর নবীকরণ করা হয়নি। তবে শহরের ইয়েলো ট্যাক্সি বা উবের চালানোর লাইসেন্স তাঁর ছিল না। গুরুতর আহত আকায়েদউল্লাকে এখন বেলেভু হাসপাতালে পুলিশের হেপাজতে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণে তার হাত ও পেটের কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণে আরও চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিউ ইয়র্কের ফিল্ম অ্যাকাডেমির প্রাক্তন ছাত্র আলি পি রিহান সোশ্যাল সাইটে লিখেছেন, ‘‘নিউ ইয়র্কে আজকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়ে লজ্জা হচ্ছে।’’

নিউইয়র্কে চলতি বছরে এটি তৃতীয় জঙ্গি হামলার ঘটনা। গত মার্চ মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন সদস্য ছুরিকাঘাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে হত্যা করে। এ ছাড়া গত অক্টোবর মাসে এক উজবেক বংশোদ্ভূত অভিবাসী পথচারীদের উপর ট্রাক চালিয়ে দিলে আটজনের মৃত্যু হয়। ওই দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘তাঁর অভিবাসী নীতি সংস্কার যে সঠিক পদক্ষেপ ছিল তা আবার প্রমাণিত।’’

নিজেদের দখল করা ৯৫শতাংশ জমি হারিয়েছে ইসলামিক স্টেট, দাবি ন্যাটো প্রধানের

nijeder dokhole thaka 95shotangsho jomiতিন বছর আগে ইরাক ও সিরিয়ার একাধিক ভূখন্ড দখল করে নিজেদের রাজত্ব বিস্তার করেছিল আন্তর্জাতিক মৌলবাদী সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইসিস। কিন্তু গত তিন বছরের যুদ্ধে অনেকটাই শক্তি ক্ষয় হয়েছে আইসিসের। সূত্রের খবর সম্প্রতি আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনী(ন্যাটো)-এর মুখপাত্র মেক গুরগ এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন তিন বছরের যুদ্ধে ইরাক ও সিরিয়ার ৯৫ শতাংশ ভূখন্ড আইসিস মুক্ত করা গিয়েছে। এখন আগের তুলনায় আইসিস অনেক বেশি দুর্বল বলে তিনি দাবি করেছেন।
তিনি বলেন, তিন বছর আগে ইরাক ও সিরিয়ার একাধিক অঞ্চল দখল করে রেখেছিল আইসিস। তুলনামূলক ভাবে ব্রিটেনের মতো আয়তন ছিল সেই ভূখন্ডের। কিন্তু তিন বছরে যুদ্ধে ৯৫ শতাংশ ভূখন্ড থেকে আইসিসকে উৎখাত করা গিয়েছে। ৭.৫ মিলিয়ন মানুষ আইসিসের অধীনে ছিল এখন তাদেরকে মুক্ত করা গিয়েছে। আর্থিক ভাবেও অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়েছে আইসিস বলে তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে আইসিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিশ্বের অন্য কোথাও যাতে কোন জঙ্গি হামলা চালাতে না পারে সেই দিকেও নজর রাখছে আমেরিকা। আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটবাহিনীর মুখপাত্র মেক গুরগ বলেন সীমান্তে, আকাশ পথে, গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশসহ একাধিক সরকারি সংস্থারগুলির সঙ্গে তারা নিবিড় যোগাযোগ রেখে চলেছেন যাতে করে কোন প্রকারে আমেরিকার উপর কোন জঙ্গি হামলা চালাতে না পারে।