রোহিঙ্গা হিন্দুদের প্রতি বঞ্চনা করছে বাংলাদেশ সরকার

মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের জন্যে বুকের রক্ত ঝরছে এদেশের নেতা,মন্ত্রী থেকে শুরু করে মিডিয়া,সংবাদপত্রগুলির। কিন্তু কেমন আছে মায়ানমার থেকে সর্বস্ব হারিয়ে আসা হিন্দুরা,যারা ২৫ আগস্ট আক্রান্ত হয়েছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সল্ভেসন আর্মি’-এর হাতে? সেদিন রাতে উত্তর রাখাইনের দিউ আন গ্রামে হামলা চালিয়েছিল ‘রোহিঙ্গা সল্ভেসন আর্মি’, প্রায় ১০০ অপহরণ করে নিয়ে যায় মুসলিম জঙ্গিরা। পরে তাদের গণকবর উদ্ধার করা হয়। অনেক হিন্দু প্রাণ হাতে করে নেফা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্স বাজারে  আশ্রয় নেয়।তাদেরকে রাখা হয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে একই শরণার্থী শিবিরে। কিন্তু সেখানে হিন্দু শরণার্থীদের প্রতি বঞ্চনা  করা হতে থাকে, অনেক রোহিঙ্গা হিন্দু মহিলারা জানিয়েছেন তাদেরকে ধর্ম পরিবর্তন করার জন্যে চাপ দেওয়া হতে থাকে। ফলে তাদেরকে  সেখান থেকে সরিয়ে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এর একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিষ্কার করে তাদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সেখানে ত্রাণ ঠিকমতো সরবরাহ করা হয়না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পানীয় জলের অভাব রয়েছে। সরবরাহ করা হয় না নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য। শেষমেশ রোহিঙ্গা হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালো ‘ইউনাইটেড শিখ’ একটি সংগঠন।

Advertisements

বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হিন্দুদের গণহত্যায় জড়িত ২২ রোহিঙ্গা জঙ্গি

গতকাল বাংলাদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ২২ জন রোহিঙ্গা জঙ্গিকে। এরাই মায়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা হিন্দুদের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। নিজেদের অসহায় শরণার্থী বলে পরিচয় দিয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে হিন্দুদের গণহত্যার মূল পাণ্ডা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় পাকিস্তান মদতপুষ্ট এই রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরেই রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের ভারতে থাকতে দেওয়ায় নারাজ নয়াদিল্লি। তার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বারবার সমালোচিতও হতে হয়েছে সরকারকে। রাজনীতির অন্দরমহলে মতপার্থক্য থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সুরে সুর মিলিয়েছে শেখ হাসিনা প্রশাসনও। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া দেশের পক্ষে বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে বলে মত ঢাকার। উদ্বাস্তুদের কূটনৈতিক তৎপরতায় মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে এ মাসেই ওই দেশে যাবেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।রবিবারের ২২ জনের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করল, দুই দেশের আতঙ্ক অমূলক নয়। এক সংবাদসংস্থার দাবি, জঙ্গিমহলে ‘বস’ নামে পরিচিত জুনুনি ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মি’-র (আরসা) সদস্য। জন্ম পাকিস্তানে। বড় হয়ে ওঠা সৌদি আরবে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নাশকতামূলক প্রচারে সক্রিয়। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের আর্থিক মদতেই মায়ানমারে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালায় সে। রবিবারের ঘটনায় আর্সির পাক যোগ ফের স্পষ্ট হল। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করায় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্বাস্তু শিবিরগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশি সেনা। এক বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে আমরা একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হব শরণার্থীদের। এছাড়া উপায়ও নেই।” জঙ্গিদের পাক যোগ নিয়ে তিনি বলেন, “ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সম্প্রীতি ভঙ্গের কালো ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। ওরা বরাবরই এই অমানবিক কাজ করে এসেছে। যদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে পাকিস্তান। সুতরাং দেশে পাকিস্তান বা আইএসআইয়ের জঙ্গিবাদে সরাসরি মদত দেওয়ার প্রসঙ্গটি অবান্তর। তবে ওই দেশ থেকে অন্য পথে সন্ত্রাসবাদের আমদানির বিষয়টি উড়িয়ে দেননি তিনি।

বাংলাদেশের মায়ানমার সংলগ্ন কুতুপালংয়ের পশ্চিমপাড়া। সেখানকারই এক পোলট্রি ফার্মে রয়েছেন রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থীরা। প্রায় ৫০০ জনের বেশি রয়েছেন সেখানে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণেই তাঁদের উপর হামলা করছে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। ‘আরসা’ সংগঠনের রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গিরা তাঁদের নৃশংস আক্রমণ করেছে। ফকিরাপাড়া আলাকিয়ানদের আক্রমণে প্রায় ১০৮ জন হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেন বলে শরণার্থীদের।