দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রোহিঙ্গা কলোনী গড়ে উঠেছে

Dokkhin 24 Parganar Baruipure Rohinga Colonyদক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরের কুলারি এলাকা। এই কুলারিতে স্থানীয় মুসলিম এবং একটি ইসলামিক এনজিও-এর সহযোগিতায় মায়ানমার থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে বসবাস করার সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ওই কলোনিতে প্রায় আটটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারের ২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ১১জন শিশু বাস করছে। এদের প্রত্যেকের UNCHR প্রদত্ত শরণার্থী কার্ড রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম এনজিও-এর তরফ থেকে ওই আটটি পরিবারকে টিনের ছাউনি দেওয়া বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পরিবারের পুরুষরা আশেপাশের এলাকাগুলিতে শ্রমিকের কাজ করছে। রোহিঙ্গা শিশুরা স্থানীয় মাদ্রাসাগুলোতে পড়তে পর্যন্ত যাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলা সত্ত্বেও ওই এনজিও-এর তরফে হুসেন গাজী জানিয়েছেন যে ভবিষ্যতে আরো অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবার এখানে এসে বসতি স্থাপন করবে।

Advertisements

ত্রিপুরার ধর্মনগরে ৬ রোহিঙ্গা মুসলিম গ্রেপ্তার

Tripurar Dharmanagareগত ১৪ই জানুয়ারী ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৯২ কিলোমিটার দূরে ধর্মনগর এলাকা থেকে ৬ রোহিঙ্গা মুসলিমকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশ। এদের মধ্যে ৫ জনই নাবালক-নাবালিকা। এরা  সকলেই কাজের খোঁজে আসাম যাচ্ছিলো।এদের কাছ থেকে পুলিশ রাষ্ট্রসঙ্ঘ প্রদত্ত শরণার্থী কার্ড পেয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ছ’জন রোহিঙ্গা মুসলিম হলো ইব্রাহিম আলম(১৭), মহম্মদ জাহাঙ্গীর আলম(১৭), মহম্মদ এহসান(১৬), নূর ফতেমা(১৫), জাহানা তারা(১৪) এবং দিলওয়ারা বেগম (২৭) । পুলিশি জেরায় জানা গিয়েছে যে এরা পূর্বে হায়দ্রাবাদে কিছুদিন থেকেছে। এমনকি তারা পুলিশকে জানিয়েছে যে তারা এদেশে স্থায়ীভাবে থাকতে চায়, মায়ানমারে ফিরতে চায় না তারা।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রুখতে রাজ্যগুলিকে সতর্ক করলেন রাজনাথ

rohinga onuprobesh rukteবাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্যগুলিকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাগৃহে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও মিজোরামের প্রশাসনিক প্রধান ও শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ওই আহ্বান জানান রাজনাথ। সূত্রের খবর, বৈঠকে তিনি জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটা অংশ এদেশে অনুপ্রবেশ করার মতলবে রয়েছে। তাদের আড়ালে জঙ্গিরা ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে। এই বিষয়ে রাজ্যগুলির সহযোগিতাও চান তিনি। সূত্রের খবর, যে ৪৪ জন রোহিঙ্গা শিশুকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র, তা নিয়ে জোর আপত্তি রয়েছে এ রাজ্যের। গত সেপ্টেম্বর মাসে এ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছে রাজ্য শিশু কমিশন। সেই আপত্তির বিষয়টি এদিনের বৈঠকেও জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানবিক কারণেই যে ওই শিশুদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে।
এদিনের বৈঠকে রাজ্যের তরফে পেশ করা রিপোর্টে ওই ৪৪ জন রোহিঙ্গা শিশুর প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে রাজ্যের বিভিন্ন হোমে ২৪ জন রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন সংশোধনাগারে রয়েছে আরও ২০ জন রোহিঙ্গা শিশু এবং তাদের মায়েরা। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ওই ৪৪ জন রোহিঙ্গা শিশুকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, যে শিশুদের ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, তাদের প্রত্যেকেরই বয়স ছয় বছরের কম। এহেন দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মানবিক কারণেই ফেরত পাঠাতে রাজি হয়নি রাজ্য সরকার। তবে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে রাজ্য সরকার যে বদ্ধপরিকর, তাও জানিয়ে দেওয়া হয় বৈঠকে। নারী ও শিশু পাচারের লক্ষ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিবিরগুলিতেও যে পাচার চক্রের আনাগোনা বাড়ছে, বৈঠকে পেশ করা রাজ্যের রিপোর্টে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যে অনুপ্রবেশের সময় ৮৭ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৭৬ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকিরা আইনের হেফাজতে রয়েছে। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাল নথিপত্র বানিয়ে অনুপ্রবেশ করার চেষ্টা চালাচ্ছে দেশবিরোধী শক্তি। তা নিয়ে আমাদের সবাইকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সীমান্ত সুরক্ষা কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এইডস আক্রান্ত ৫৯জন, চিন্তায় হাসিনা সরকার

এমনিতে ১১ লক্ষ শরণার্থীর থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার দায়িত্ব, তার উপর নতুন বিপদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিল একসঙ্গে ৫৯ জন রোহিঙ্গা এইডস আক্রান্ত শণাক্ত হওয়ায়। তবে যাঁরা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন শুধুমাত্র তাঁদের ক্ষেত্রেই এই মারণ রোগ শণাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য অধিকর্তা মিসবাহউদ্দিন আহমেদ স্বীকার করেছেন, ‘এডসের থাবায় অসুস্থ হয়ে যন্ত্রণা নিয়ে শিবিরে আসার পরই আমরা এই ৫৯ জনকে জানতে পেরেছি। তবে ক্যাম্পে অন্যান্য অসুখ নিয়ে চিকিৎসা করতে যাওয়া বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর্মীর রিপোর্ট বলছে, আরও অনেক এইডস আক্রান্ত শরণার্থীদের ভিড়ে মিশে রয়েছেন।’

যে ৫৯ জন এইডস রোগীর সন্ধান মিলেছে তার মধ্যে ৩৭ জন মহিলা এবং এদের প্রত্যেকের বয়স ৪০-এর নিচে। স্বভাবতই যথেষ্ট উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কারণ, দালালচক্রের হাত ধরে রোহিঙ্গা নারীদের একটা অংশ প্রথমে কক্সবাজার ও পরে দেশের অন্য প্রান্তে যৌন পেশায় ঢুকে পড়ছেন। তাই একবার যদি কোনও এইডস আক্রান্ত তরুণী কক্সবাজারের কোনও হোটেল বা রিসর্টে এই পেশায় ঢুকে পড়েন তবে পর্যটকদের শরীরে অবলীলায় ঢুকে পড়বে। প্রথমে সেই পর্যটক বুঝতে না পারলেও পরে যখন অসুস্থতা ও যন্ত্রণা উপলব্ধি করবেন, ততদিনে অন্যের শরীরে প্রবেশে ভূমিকা নিতেও পারেন তিনি। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মহম্মদ আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ‘আক্রান্তদের সম্পূর্ণ পৃথক ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসার পাশাপাশি নজরদারির ব্যবস্থা হয়েছে। কারণ হাসপাতাল থেকে এই রোগীরা একবার পালিয়ে শরণার্থী শিবিরে মিশে গেলে খুঁজে বার করা কঠিন হবে।’
গত তিন মাসে দফায় দফায় মায়ানমার থেকে সেনা নির্যাতনের জেরে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার লাগোয়া উখিয়া ও টেকনাফ জেলায় এসে আশ্রয় নিয়েছেন। এঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই শিশু ও নারী। কারণ পুরুষরা হয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে মারা গিয়েছেন, নয়তো জখম অবস্থায় গ্রেপ্তার হয়ে মায়ানমার জেলে বন্দি আছেন। উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থী শিবিরে ত্রাণের কাজে অংশ নেওয়া ইউনিসেফের আধিকারিকরাও স্বীকার করেছেন, যে সংখ্যায় এইডস আক্রান্ত ধরা পড়েছে, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। উপজেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, শিবির চালু হওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম একজন এইডস রোগী ধরা পড়ে। এরপর অক্টোবরের ২৪ এবং নভেম্বর মাসের ১০ তারিখ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫৯ জন রোহিঙ্গাকে এইডস রোগী বলে শণাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। স্বভাবতই শরণার্থীদের তরফে দেশে নয়া মারণরোগের বার্তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন শেখ হাসিনা সরকার।

পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে রাজস্থানে ঢুকেছিলো রোহিঙ্গা, ধরা পড়লো ৭ বছর পর

paschimbanga diye rajasthaneঅবৈধভাবে ভারতে থাকার অভিযোগে মায়ানমারের রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করল রাজস্থান পুলিস। রাজস্থানের আজমেঢ় দরগা এলাকায় সাত বছর ধরে থাকছিল সে। ভুয়ো নথি দিয়ে আধার কার্ডও বানিয়ে ফেলেছিল আমানুল্লা নামের ওই রোহিঙ্গা। পুলিস জানিয়েছে, ২০০৯-১০ সালে কলকাতা থেকে রাজস্থানে গিয়েছিল সে। তখন থেকে পরিবার নিয়ে এদেশেই থাকছিল। তার কাছ থেকে শরণার্থী কার্ডও উদ্ধার হয়েছে। আমানুল্লার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করছে রাজস্থান পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, স্থানীয় এক তরুণীকে বিয়ে করেছিল আমানুল্লা। পরিবার নিয়ে থাকছিল সে। তবে ঘরোয়া বিবাদে জড়িয় পড়ার পর তাকে জেরা করে পুলিস। তখনই আসল পরিচয় প্রকাশ্যে চলে আসে। ভুয়ো নথি দিয়ে আধার কার্ডও বানিয়ে নিয়েছিল ওই ব্যক্তি।

রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবার দাবিতে কলকাতায় মিছিল মুসলিমদের

kolkatay rohinga muslim somorthone michilরোহিঙ্গা মুসলিমদের সমর্থনে সারা দেশের মধ্যে সব থেকে বেশি সভা-সমিতি-মিছিল হয়ে চলেছে আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে। এখানে একের পর এক মৌলবাদী সংগঠনের সভা হয়ে চলেছে পুলিশের অনুমতি নিয়েই। আর তা নিয়ে বাংলার মানুষের মাথাব্যথা নেই বিন্দুমাত্র। রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফেরত নিতে হবে মায়ানমার সরকারকে – এই রকম দাবি নিয়ে গত ৬ই নভেম্বর কলকাতার মায়ানমার দূতাবাস অভিযানের ডাক দিয়েছিলো ১৯টি মুসলিম সংগঠন। মিছিলে ছিলেন বঙ্গীয় ইমাম পরিষদের সভাপতি রইসুদ্দিন পুরকাইত, সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি তায়ীদুল ইসলাম, ভাষা চেতনা মঞ্চের ইমামুল হোক। তবে শুরুর একটু পরেই মিছিল আটকে দেয় কলকাতা পুলিশ। তবে কয়েকজন গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয় মায়ানমার দূতাবাসে। মিছিলে হাঁটা মুসলিমদের হাতে অনেকগুলি ব্যানার দেখা গেছে – যাতে সু কি-এর নোবেল শান্তি পুরস্কার ফিরিয়ে নেবার দাবি ছিল। যদিও মিছিলে রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি-এর বিরুদ্ধে কোনো আওয়াজ শোনা যায়নি। মনে রাখা দরকার এই জঙ্গি সংগঠন রাখাইন প্রদেশের হিন্দুদের হত্যা করে গণকবর দিয়েছিলো। ফলে এই মিছিল যে মৌলবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে বিভিন্ন ইমাম, মোয়াজ্জিন সংগঠনের আড়ালে  এই মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত যে আগামীদিনে হিন্দুদের জন্যে বিপদ ডেকে আনবে তা বলাই বাহুল্য।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলিতে গড়ে উঠছে ছোট-ছোট জঙ্গিদল

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী। সন্ত্রাসী বাহিনীগুলোর কাছে রয়েছে দেশি-বিদেশি বন্দুকসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র। এসব বাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভেতরে অপহরণ, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ নানা অপকর্ম শুরু করেছে। ফলে ক্যাম্পের ভেতর সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গতকাল রোববার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালীতে অভিযান চালিয়ে এমনই একটি রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের আটক করে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর রুহুল আমিন জানিয়েছেন, বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন বাগান এলাকায় ৬/৭ জনের রোহিঙ্গা ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে রোববার মধ্যরাতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ রোহিঙ্গা ডাকাতকে আটক করা হয়। আটকরা হলো আবু বকর সিদ্দিক (২০), পিতা-ওসমান গনী, সাং-সিতাপুর, থানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মায়ানমার;  মো. আনোয়ার (২০) পিতা-মৃত আ. আলী, সাং-টমবাজার, থানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মায়ানমার; মো. ফারুক (২২), পিতা-হোসেন আহম্মেদ, সাং-ফকিরাবাজার, থানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মায়ানমার; ইমরান (২২), পিতা-মৃত হাসান শরিফ, সাং-চালিপ্রাং, তানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মায়ানমার এবং খায়ের মোহাম্মদ (২০), পিতা-হাবিব আহাম্মদ, সাং-রাবিল্লা, থানা-মংডু, জেলা-আকিয়াব, মায়ানমার। তাদের কাছ থেকে দেশীয় ৫টি রামদা উদ্ধার করা হয়। এ সময় কয়েকজন ডাকাত পালিয়ে যায়।

মেজর রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আটকরা সকলেই কুতুপালং এবং বালুখালী শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা। বিভিন্ন সময়ে তারা ওই এলাকায় ডাকাতি করে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের লোকজনকে জিম্মি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়।

আটক ৫ রোহিঙ্গা ডাকাত এবং উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রোহিঙ্গা পুরুষদের নির্বীজকরণ করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ সরকার

birth rateঅত্যন্ত দ্রুত হারে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যাবৃদ্ধি আটকাতে নির্বীজকরণ করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সরকার। আগস্টে রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে মায়ানমার সেনা। তারপর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গা। কিন্তু যেভাবে রোহিঙ্গাদের জনসংখ্যা বাড়ছে, তাতে চিন্তিত বাংলাদেশ সরকার। একেই খাদ্যসামগ্রী বাড়ন্ত। এর উপরে অতিরিক্ত বোঝা চাপবে।

কক্সবাজার জেলার পরিবার পরিকল্পনা দফতরের প্রধান পিন্টুকান্তি ভট্টচার্য জানিয়েছেন, জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে সচেতনার অভাব রয়েছে। সবারই বড় পরিবার। এক একজনের তো ১৯টি সন্তান রয়েছে। একের বেশি স্ত্রীও রয়েছে রোহিঙ্গা পুরুষদের। সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে বিনামূল্যে কন্ডোম বিতরণ শুরু করেছিল প্রশাসন। তাতে তেমন সাড়া মেলেনি। মাত্র ৫৪৯টি কন্ডোম বিলি করা গিয়েছে।পরে দেখা গিয়েছে যে দু-একজন বাদ দিলে প্রায় সবাই কন্ডোম ফেলে দিয়েছে।

ওদিকে রোহিঙ্গাদের বংশবৃদ্ধির হার দেখে উদ্বিগ্ন চট্টগ্রামের পরিবার পরিকল্পনা দফতর। সরকারের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের নির্বীজকরণ করানোর অনুমতি চেয়েছে তারা। তবে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পে সামিল হতে ইতিমধ্যে অস্বীকার করেছে রোহিঙ্গারা। সংবাদমাধ্যমে রোহিঙ্গারা দাবি করেছে, বড় পরিবারই তারা চায়। এমনকি জন্ম নিয়ন্ত্রণ ইসলাম বিরোধী বলেও মত মুসলিম রোহিঙ্গাদের।

আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী ৬ লক্ষ রোহিঙ্গার মধ্যে ২০ হাজার মহিলা গর্ভবতী। তাদের মধ্যে ৬০০ জন ইতিমধ্যে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বাংলাদেশের পরিবার কল্যাণ দফতর মনে করছে, পুরুষদের নির্বীজকরণ করানো ছাড়া রোহিঙ্গা জনবিস্ফোরণ রোখার অন্য কোনও পথ খোলা নেই তাদের কাছে।

৬ রোহিঙ্গা মুসলিমকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করল বিএসএফ(BSF)

rohinga-620x325 (1)মায়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া ৬ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পুশব্যাক করেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ(BSF)।

গত ২৫শে অক্টোবর, বুধবার ভোরে পশ্চিমবঙ্গের পাথারঘাটা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশব্যাক করা হয়। ওপারে বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তে একই পরিবারের ওই ৬ রোহিঙ্গা সদস্যকে  কেদারগঞ্জ বাজার থেকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটককৃতরা হলেন, আব্দুল গনি (৩৫), তার স্ত্রী সালমা খাতুন (৩০), তাদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (১০), সাইফুল ইসলাম (৩), মেয়ে নুর কলিমা (৬), তছলিমা খাতুন (১০) মাস। আটকরা বর্তমানে মুজিবনগর থানার হেফাজতে রয়েছে।

পুলিশ জানায়, ভোররাতে আটক রোহিঙ্গারা সীমান্ত পেরিয়ে মুজিবনগরের কেদারগঞ্জ বাজারে অবস্থান নেয়। তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসে।ধৃতরা  পুলিশকে জানান, সাত মাস আগে মায়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতের পাঞ্জাবে চলে যান। পরে তাদের ভারতীয় পুলিশ আটক করে গাড়ি যোগে সীমান্তে নিয়ে আসে। ভোররাতে বিএসএফ (BSF) গেট খুলে তাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়।স্থানীয়রা জানান, ভোরে মুজিবনগর উপজেলার নাজিরাকোনা সীমান্তের ১০৯ নাম্বার মেন পিলারের কাছ দিয়ে রোহিঙ্গাদের আসতে দেখেছেন তারা।

নাজিরাকোনা বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার সিরাজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পুশব্যাকের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা  (ওসি) মনিরুল ইসলাম পুশব্যাকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক রোহিঙ্গাদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আটক রোহিঙ্গা আব্দুল গনি জানান, কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাদের ভাই, বোনসহ অন্য আত্মীয়রা রয়েছে।

ত্রাণের সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রনের বড়িও বিতরণ করছে বাংলাদেশ সরকার

রোহিঙ্গা মুসলিম নারীরা সারাবছর গর্ভবতী থাকেন। তারা সকলেই শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে এসেছেন কয়েকমাস আগেই। কিন্তু শরণার্থী শিবিরে এমন একজনও রোহিঙ্গা মুসলিম নারীকে খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে গর্ভবতী নয়। থাকা-খাওয়ার অভাব থাকলেও সন্তান জন্মের কোনো কমতি নেই। ইতিমধ্যে যদিও প্রতিটি রোহিঙ্গা মুসলিম নারীদের সাত থেকে দশটি সন্তান রয়েছে। তবুও তারা আবার গর্ভবতী। সব শিবিরের অবস্থা এমনই।

আর রোহিঙ্গা মুসলিমদের এই বেশি জন্মহার চিন্তা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সরকারের। তাই ত্রাণের পাশাপাশি জন্মনিয়ন্ত্রনের বড়ি ও কন্ডোমও বিতরণ করতে হচ্ছে সরকারকে। ইতিমধ্যে সরকার জন্ম নিয়ন্ত্রক ইনজেকশন দিয়েছে প্রায় হাজার খানেক রোহিঙ্গা মুসলিম নারীকে।  টেকনাফ বাহারছড়া শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক আমিনুল হক জানান, মানবিক দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গাদের অস্থায়ীভাবে এদেশে থাকতে দেওয়া হয়েছে। তাদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসাসহ নানাভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাই বলে এই নয় যে জনবহুল দেশে অপরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গার সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদেরও সচেতন থাকতে হবে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন,‘’গত ২৫ আগস্ট থেকে এই পর্যন্ত মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নারীরা ৭ শতাধিক শিশু জন্ম দিয়েছে। আর গর্ভবতী রোহিঙ্গা নারী রয়েছে ২২ হাজারের কাছাকাছি। তাদের খুব দ্রুত জন্মনিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। ’’

অপরাধ করে চলেছে রোহিঙ্গা মুসলিমরা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় মুসলিমরা

rohinga-actionকক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এগুলো প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা – নিজেদের মধ্যে মারামারি, পুলিশ ও স্থানীয়দের ওপর হামলা। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে শনিবার (২১ অক্টোবর) টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পে। এছাড়া ড্রাগ পাচার, চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজেও জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গাদের অনেকেই। এসব কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

নতুন-পুরনো মিলিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে বিভিন্ন ক্যাম্পে এখন আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি। অথচ উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৫ লাখ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা চুরি-ডাকাতি,  মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের মারধরের শিকার যেমন হয়েছেন, তেমনি গত শনিবার এক রোহিঙ্গা দম্পতির মারধরের শিকার হয়েছেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির হোসেনও।

এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, রোহিঙ্গাদের হাতে রোহিঙ্গা খুন, রোহিঙ্গাদের হামলায় আহত ব্যক্তির মৃত্যুসহ গত দুই মাসে বেশকিছু অপরাধের ঘটনা ঘটিয়েছে রোহিঙ্গারা। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গাদের ধরা পড়ার ঘটনাও প্রকাশ পেয়েছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের সূত্রে  জানা গেছে, ১৬ সেপ্টেম্বর কুতুপালং এলাকায় রোহিঙ্গাদের হামলায় রোহিঙ্গা খুন হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গাদের হামলায় উখিয়ার পালংখালী এলাকার মুরগির খামারি জমির উদ্দিন আহত হন। ৭ অক্টোবর কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া খাল থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

৮ অক্টোবর কুতুপালংয়ে ত্রাণের টোকেন বিতরণ করতে গিয়ে মুক্তি নামের এনজিওকর্মী রোহিঙ্গাদের হাত থেকে বাঁচতে গাছে উঠে পড়েন। ১৯ অক্টোবর মহিষ বিক্রিকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সহোদর ধলাইয়া ও কালাইয়ার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় স্থানীয় আবু সিদ্দিকের। এরপর তারা সিদ্দিককে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। ২১ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

সর্বশেষ ২১ অক্টোবর টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-ব্লকে রোহিঙ্গা নারী দিল বাহার ও তার স্বামী সৈয়দ আহমদ অবৈধভাবে একটি মুদির দোকান স্থাপন করার চেষ্টা করেন। এসময় ক্যাম্পে থাকা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কবির আহমদ তাদের বাধা দেন। সাদা পোশাকে থাকা পুলিশের ওপর হামলা চালায় তারা। এ ঘটনায় ওই ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কবির আহত হয়। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত শেখ আশরাফুর জামান বলেন, ‘এসআই কবিরের ওপর হামলার ঘটনায় আট জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তায় কাজ করতে গিয়ে পুলিশের দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আবার সেখানেই হামলার শিকার হতে হচ্ছে পুলিশকে। এর থেকে বড় সমস্যা আর কিছু হতে পারে না।’

উখিয়ার পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ভারে উখিয়া টেকনাফ জর্জরিত হয়ে গেছে। তাদের জন্য স্থানীয়দের ঘর থেকে বের হওয়া দায় হয়ে গেছে। তারা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও ঘটাচ্ছে। ফলে স্থানীয়রা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের অবৈধ কার্যক্রমে উখিয়ার সামগ্রিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাদের দমন করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।’ ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রোহিঙ্গাদের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে নিজেদের সুযোগ-সুবিধা বিসর্জন দিয়েছেন স্থানীয়রা। এরপরও যদি তাদের হামলার শিকার হতে হয়, সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ ঘটানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। তারা যেন কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটাতে না পারে, সেজন্য পুলিশ কঠোর নজরদারি রেখেছে।’

তবে রোহিঙ্গাদের এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে আগামীতে তারা আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন  স্থানীয়রা।

রোহিঙ্গা হিন্দুদের প্রতি বঞ্চনা করছে বাংলাদেশ সরকার

মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের জন্যে বুকের রক্ত ঝরছে এদেশের নেতা,মন্ত্রী থেকে শুরু করে মিডিয়া,সংবাদপত্রগুলির। কিন্তু কেমন আছে মায়ানমার থেকে সর্বস্ব হারিয়ে আসা হিন্দুরা,যারা ২৫ আগস্ট আক্রান্ত হয়েছিল রোহিঙ্গা মুসলিমদের জঙ্গি সংগঠন ‘রোহিঙ্গা সল্ভেসন আর্মি’-এর হাতে? সেদিন রাতে উত্তর রাখাইনের দিউ আন গ্রামে হামলা চালিয়েছিল ‘রোহিঙ্গা সল্ভেসন আর্মি’, প্রায় ১০০ অপহরণ করে নিয়ে যায় মুসলিম জঙ্গিরা। পরে তাদের গণকবর উদ্ধার করা হয়। অনেক হিন্দু প্রাণ হাতে করে নেফা নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের কক্স বাজারে  আশ্রয় নেয়।তাদেরকে রাখা হয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের সঙ্গে একই শরণার্থী শিবিরে। কিন্তু সেখানে হিন্দু শরণার্থীদের প্রতি বঞ্চনা  করা হতে থাকে, অনেক রোহিঙ্গা হিন্দু মহিলারা জানিয়েছেন তাদেরকে ধর্ম পরিবর্তন করার জন্যে চাপ দেওয়া হতে থাকে। ফলে তাদেরকে  সেখান থেকে সরিয়ে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং-এর একটি পোল্ট্রি ফার্ম পরিষ্কার করে তাদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করে দেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু সেখানে ত্রাণ ঠিকমতো সরবরাহ করা হয়না বলে অভিযোগ। পাশাপাশি পানীয় জলের অভাব রয়েছে। সরবরাহ করা হয় না নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য। শেষমেশ রোহিঙ্গা হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালো ‘ইউনাইটেড শিখ’ একটি সংগঠন।

বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হিন্দুদের গণহত্যায় জড়িত ২২ রোহিঙ্গা জঙ্গি

গতকাল বাংলাদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ২২ জন রোহিঙ্গা জঙ্গিকে। এরাই মায়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা হিন্দুদের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ। নিজেদের অসহায় শরণার্থী বলে পরিচয় দিয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে হিন্দুদের গণহত্যার মূল পাণ্ডা আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনিও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় পাকিস্তান মদতপুষ্ট এই রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরেই রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের ভারতে থাকতে দেওয়ায় নারাজ নয়াদিল্লি। তার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বারবার সমালোচিতও হতে হয়েছে সরকারকে। রাজনীতির অন্দরমহলে মতপার্থক্য থাকলেও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারতের সুরে সুর মিলিয়েছে শেখ হাসিনা প্রশাসনও। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব দেওয়া দেশের পক্ষে বিপজ্জনক প্রমাণিত হতে পারে বলে মত ঢাকার। উদ্বাস্তুদের কূটনৈতিক তৎপরতায় মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে এ মাসেই ওই দেশে যাবেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।রবিবারের ২২ জনের গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রমাণ করল, দুই দেশের আতঙ্ক অমূলক নয়। এক সংবাদসংস্থার দাবি, জঙ্গিমহলে ‘বস’ নামে পরিচিত জুনুনি ‘আরাকান রোহিঙ্গা সালভ্যাশন আর্মি’-র (আরসা) সদস্য। জন্ম পাকিস্তানে। বড় হয়ে ওঠা সৌদি আরবে। সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটেও নাশকতামূলক প্রচারে সক্রিয়। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের আর্থিক মদতেই মায়ানমারে নাশকতামূলক কাজকর্ম চালায় সে। রবিবারের ঘটনায় আর্সির পাক যোগ ফের স্পষ্ট হল। রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করায় বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, “শরণার্থীদের অনুপ্রবেশের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্বাস্তু শিবিরগুলিতে তল্লাশি চালাচ্ছে বাংলাদেশি সেনা। এক বছরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে আমরা একটি প্রত্যন্ত দ্বীপে পাঠিয়ে দিতে বাধ্য হব শরণার্থীদের। এছাড়া উপায়ও নেই।” জঙ্গিদের পাক যোগ নিয়ে তিনি বলেন, “ধর্মীয় ও আঞ্চলিক সম্প্রীতি ভঙ্গের কালো ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের। ওরা বরাবরই এই অমানবিক কাজ করে এসেছে। যদিও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের দাবি, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে পাকিস্তান। সুতরাং দেশে পাকিস্তান বা আইএসআইয়ের জঙ্গিবাদে সরাসরি মদত দেওয়ার প্রসঙ্গটি অবান্তর। তবে ওই দেশ থেকে অন্য পথে সন্ত্রাসবাদের আমদানির বিষয়টি উড়িয়ে দেননি তিনি।

বাংলাদেশের মায়ানমার সংলগ্ন কুতুপালংয়ের পশ্চিমপাড়া। সেখানকারই এক পোলট্রি ফার্মে রয়েছেন রোহিঙ্গা হিন্দু শরণার্থীরা। প্রায় ৫০০ জনের বেশি রয়েছেন সেখানে। তাঁদের দাবি, শুধুমাত্র হিন্দু হওয়ার কারণেই তাঁদের উপর হামলা করছে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। ‘আরসা’ সংগঠনের রোহিঙ্গা মুসলিম জঙ্গিরা তাঁদের নৃশংস আক্রমণ করেছে। ফকিরাপাড়া আলাকিয়ানদের আক্রমণে প্রায় ১০৮ জন হিন্দু প্রাণ হারিয়েছেন বলে শরণার্থীদের।