৫রোহিঙ্গা মুসলিমকে মায়ানমারে ফেরত পাঠালো কেন্দ্র

Members of a Muslim Rohingya family sit as they pose for a photograph with Indian and Myanmar security officials before their deportation on India-Myanmar border at Morehভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারকে গত ৩রা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার মায়ানমারে ফেরত পাঠালো কেন্দ্র সরকার, সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমন খবর জানা  গিয়েছে। আরো জানা গিয়েছে যে ওই রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারটি গত ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে বেআইনিভাবে মনিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পরে আসাম পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়। সেই থেকে তারা আসামে জেলবন্দি ছিল। কিন্তু গত বছর কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করে যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। আর তারপরেই এদেশে অবৈধভাবে থাকা রোহিঙ্গা মুসলিমদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং তারপরেই রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই মতো গত বছরে অক্টোবর মাসে ৭জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। তারপরেই ৫ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠানো হলো। তাদেরকে মনিপুর সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ওই রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যাতে ওই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভারত এবং মায়ানমারের বিদেশমন্ত্রকের অফিসারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

নদীপথে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করতে পারে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা, জারি সতর্কতা

প্রতিদিন রায়মঙ্গল নদীতে নৌকা নিয়ে ভেসে পড়েন মৎস্যজীবীরা। মাছ ধরেই সংসার চলে তাঁদের। তবে সম্প্রতি গোয়েন্দা রিপোর্টে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাছ ধরার নৌকায় করে বাংলাদেশে থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করার চেষ্টা চালাতে পারে রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা।

সুন্দরবনের ‘টি জংশন’ থেকে রায়মঙ্গল নদী ধরে একদিকে এগোলে বাংলাদেশ। আর অন্য দিকটায় ভারতের ঝিঙ্গা আর ঝিল্লার জঙ্গল। ‘টি জংশন’-এর ল্যাজের দিকটা চলে গিয়েছে হেমনগরের দিকে। আর রায়মঙ্গল সোজা এগিয়ে গিয়েছে সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের দিকে আরও এগিয়ে গেলে পড়বে বিহারীখাল। গহন জঙ্গল। এর মধ্যেই ‘টি জংশন’-এ রায়মঙ্গলের মাঝখানে নোঙর করে রয়েছে বিএসএফ-এর ‘ফ্লোটিং বর্ডার আউটপোস্ট’। সীমান্তরক্ষী বাহিনী এখানে পাহারা দেয় জলসীমান্তে। এক আধিকারিক জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জাহাজের চেহারার এই আউটপোস্টের চারটি স্পিডবোটের প্রত্যেকটিই জলে। কারও কোনও বিরাম নেই। কারণটি হচ্ছে মায়ানমারের রোহিঙ্গা। দিল্লির নির্দেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের দিকে বিশেষ সতর্ক বিএসএফ।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাংলাদেশের টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে যে এনজিও কর্মীরা যাতায়াত করছে, তাদের মধ্যে রয়েছে জঙ্গি নেতারাও। বাংলাদেশের বারোটি এনজিওকে চিহ্নিত করে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের রিপোর্ট অনুযায়ী, মায়ানমারের যুবকদের সাহায্য করার নামে জঙ্গি নেতারা তাদের মগজধোলাই করছে। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে যে কোনও সময়ই চোরাপথে ভারতের ভূখণ্ডে পাঠাতে পারে জঙ্গি নেতারা। সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের পাঠানো সহজ। এর আগেও সমুদ্রপথে এসে সুন্দরবন দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে বহু রোহিঙ্গা। মাছের ট্রলারে করে দালালদের হাত ধরে এসেছে বহু রোহিঙ্গা পরিবারও। গোয়েন্দাদের মতে, এবারও মাছের ট্রলার বা নৌকো অথবা বিদেশি জলযানে করে চোরাপথে এদেশে ঢুকতে পারে রোহিঙ্গারা।

মায়ানমারের এই বাসিন্দারা বাংলাদেশ থেকে যে রুটগুলি ধরে অনুপ্রবেশ করতে পারে, সেগুলির ম্যাপও তৈরি করেছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের মতে, সমুদ্র পেরিয়ে হরিভাঙা নদী, বিহারীখাল হয়ে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাওয়া হতে পারে সামশেরনগরের ভূখণ্ডের দিকে। আবার রায়মঙ্গল দিয়ে টি জংশনের কাছে এসে কালীতলা, কুমীরমারি অথবা হেমনগরের দিকে কোনও ডাঙায় উঠে পড়তে পারে তারা। কিন্তু কেন্দ্রের কড়া নির্দেশ, একজন রোহিঙ্গাও যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে। তাই রোহিঙ্গাদের রুখতে এখন সুন্দরবনে অতিরিক্ত সতর্ক বিএসএফ। জানা গিয়েছে, তল্লাশির কাজে বিএসএফকে সাহায্য করছে পুলিশও।