বাংলাদেশের পাবনায় কালী প্রতিমা ভাঙচুর করে গয়না লুঠ করলো মুসলিম দুষ্কৃতিরা

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার চর ভাঙ্গুড়া ঘোষপাড়ায় শিব মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে মন্দিরে থাকা স্বর্ণ অংলঙ্কার লুটপাট করেছে স্থানীয় মুসলমানরা। গত ৯ই মার্চ, শুক্রবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। শিব মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা রামপদ ঘোষের নাতি রঘুনাথ ঘোষ জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি মন্দিরের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মন্দিরের দরজা খোলা দেখতে পান। তখন মন্দিরের ভেতরে থাকা শিব প্রতিমা দেখতে না পেয়ে বাইরে খোঁজাখুঁজি করা হয়। একপর্যায়ে মন্দিরের বাইরে ভাঙা অবস্থায় শিব প্রতিমা পরে থাকতে দেখা যায়। মুসলমানরা প্রতিমার গায়ে থাকা প্রায় ১০ ভরি রুপা ও কিছু স্বর্ণের গয়না গনিমতের মাল হিসাবে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জুয়েল জানান, রাতেই পুলিশ দায় সারা ভাবে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে।জানা গিয়েছে, যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আটক করে লুটপাট হওয়া অলংকার উদ্ধারে পুলিশ ঢিমাতালে অভিযান চালাচ্ছে।

Advertisements

বরিশালে তিনটি প্রতিমা ভাঙচুর, দোষীরা অধরা

Barishale 3ti protima bhangchurবাংলাদেশের বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মন্দিরের ৩টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাগধা ইউনিয়নের জয়রামপট্টি গ্রামের সার্বজনীন রাধাগোবিন্দ ও গনেশ পাগল সেবাশ্রম মন্দিরে ৫টি প্রতিমা স্থাপন করে স্থানীয়রা পূজা করে আসছিল।

গত ১৯শে ফেব্রুয়ারী, সোমবার রাতে স্থানীয় ভক্তরা ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে মন্দিরে তালা লাগিয়ে বাড়ি চলে যায়। ওই দিন গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিরা বাঁশের লাঠি দিয়ে জয়রামপট্টি সার্বজনীন রাধাগোবিন্দ মন্দির ও গনেশ পাগল সেবাশ্রমের গৌর ও নিতাই-এর প্রতিমা ভাঙচুর করে। এসময় রাধাগোবিন্দের প্রতিমা আংশিক ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরেরদিন ২০শে ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার সকালে মন্দিরে স্থানীয় পূজারী উষা রানী বল্লভ পূজা দিতে গিয়ে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙা দেখে সবাইকে জানান। এ সংবাদ জানতে পেরে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক মোল্লা, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা আ. রইচ সেরনিয়াবাত ও উপজেলা যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ মন্ডল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. রাজ্জাক মোল্লা সাংবাদিকদের জানান, স্থানীয় উচ্ছৃঙ্খল ছেলেরা প্রতিমা ভাঙচুর করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কে বা কারা মূর্তি ভাঙচুর করেছে তা আমরা জানি না। তবে আমরা কোন মামলা করবো না। মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি ধীরেন্দ্র নাথ বল্লভ সাংবাদিকদের জানান, মন্দিরের জায়গা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। তবে রাতে মন্দিরের ওই স্থানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।

বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের মধুপুরে মন্দিরে আক্রমণ মুসলিমদের, প্রতিমা ভাঙচুর

Bangladesher Tangailer modhupureটাঙ্গাইলের মধুপুরে কালি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারী) রাতে মধুপুর উপজেলার সার্বজনীন শ্মশান ঘাট কালি মন্দিরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। জানা যায়, গত ৩রা ফেব্রুয়ারী, শনিবার  রাতে দুর্বৃত্তরা শ্মশান ঘাটের তালা ভেঙে মন্দিরের ভেতর প্রবেশ করে ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করে। এ ঘটনার খবর পেয়ে রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে পুলিশ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কালি মন্দিরের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারী) কালি মন্দিরে এসে দেখি দুইটি গেটের তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা মন্দিরের ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। পরে বিষয়টি আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে মধুপুর থানার (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেউ বা কারা মন্দিরের ভিতর প্রবেশ করে ভিতরে থাকা ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

আসামের পাথারকান্দিতে কালীমূর্তি ভাঙচুর দুষ্কৃতিদের

গত ১৭ই ফেব্রুয়ারী, শনিবার আসামের পাথারকান্দির একটি প্রাচীন কালীমন্দিরে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতিরা। রাতের অন্ধকারে এই ঘটনা ঘটায় দুষ্কৃতিরা। এই ঘটনায় সারা পাথারকান্দিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পাথারকান্দি থানার অন্তর্গত ৫ নম্বর দোহালিয়া নিউ কলোনি কালীবাড়িতে এই মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দুষ্কৃতিরা মূর্তি ভেঙে টুকরো টুকরো করে পাশের নোংরা ডোবায় ফেলে রেখে যায়। এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণ উত্তেজিত হয়ে পড়ে। তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের সন্দেহের তীর সংখ্যালঘুদের দিকে।  ঘটনার খবর পেয়ে পাথারকান্দি থানার পুলিশবাহিনী এলাকায় আসে। খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসেন স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেন এবং নতুন মন্দির করে দেবার আশ্বাস দেন।

জগৎবল্লভপুরে রাতের অন্ধকারে মনসা মাতার মূর্তি ভেঙে দিলো দুষ্কৃতীরা

হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর থানার অন্তর্গত নরেন্দ্রপুর পশ্চিম পাড়ার ঘটনা। পাড়ার মোর রাস্তার ধারে বেশ কয়েকবছর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা মনসা মাতার মূর্তি স্থাপন করেন। কয়েকবছর ধরে নিয়মিত পুজো হয়ে আসছিলো ওই থানে। আকাশের নিচে একটি বেদির ওপর স্থাপিত ছিল। কিন্তু গত ২০শে ডিসেম্বর, বুধবার দুষ্কৃতীরা ওই মূর্তিটিতে ভাঙচুর করে করে এবং রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে যায়। সকালে এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জগৎবল্লভপুর থানায় খবর গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পাঁচলায় জিহাদের আঁচ : ভাঙা হলো রাধা গোবিন্দের মূর্তি

panchlay jihader anchহাওড়া জেলার অন্তর্গত পাঁচলার লস্করপুরের ২৪ পরতলার নামতলা এলাকা। এলাকায় প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো রাধা গোবিন্দের মন্দির রয়েছে। এই মন্দির হাওড়া জেলার খুব জনপ্রিয় মন্দির। এখানে বাৎসরিক উৎসবের সময় প্রচুর লোক সমাগম হয়। গত কয়েকদিন ধরেই মন্দিরে নাম-সংকীর্তন চলছিল। শনিবার ১৬ই ডিসেম্বর রাতে কীর্তন শেষ করে যে যার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন রবিবার ১৭ই ডিসেম্বর ভোরে কীর্তনের দল মন্দিরে এসে দেখে যে রাধা গোবিন্দের মূর্তির মধ্যে রাধার মাথা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মূর্তি ভাঙার খবর  চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে বিশাল সংখ্যক মানুষ মন্দির চত্বরে এসে জড়ো হন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাঁচলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তাদের ঘিরে ধরে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় হিন্দু জনতা। পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেয়। তবে পুলিশ দোষীদের আদৌ গ্রেপ্তার করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ এর আগে পাঁচলা বাজার লুট হয়েছে, নবী দিবসের মিছিলের অছিলায় হিন্দু বাড়িঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আর এবার রাধা গোবিন্দের মূর্তি  ভাঙা হলো। আগের ঘটনায় দোষীদের সাজা হয়নি। তাই এবার দুষ্কৃতীরা সাজা পাবে কিনা এলাকাবাসীদের মনে সন্দেহ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির শিরোচ্ছেদ করা হলো উত্তরপ্রদেশের লখনউতে

swami-vivekanandaস্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির শিরোচ্ছেদ করা হলো উত্তরপ্রদেশের লখনউতে । ঠিক যেমন করে থাকে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা। ঠিক সেই কায়দাতেই ধর থেকে মুণ্ডফু আলাদা করে দেওয়া হয়েছে বীর বঙ্গ সন্তানের মূর্তির।

গত ২৬শে অক্টোবর,বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ঘটনাটি ঘটেছে যোগী আদিত্যনাথের রাজ্য উত্তর প্রদেশে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। সেই কারণে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে।পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন স্থানীয় ডেপুটি ডিসট্রিক্ট কালেক্টর আশিস কুমার। নতুন মূর্তি তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোনোক্রমে উত্তেজিত জনতাকে ঠাণ্ডা করেন। একইসঙ্গে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতে হয়েছে তাঁকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা নাগাদ উত্তর প্রদেশের ভাদোহির নিউ বাজার রোডের সদর কোতয়ালি এলাকায় এক যুবক স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির শিরোচ্ছেদ করে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন এবং জানান যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি। এরপর থেকেই উত্তেজনা ছড়াতে শুরু করে সমগ্র এলাকা জুড়ে। পুলিশ কড়া হাতে খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই গ্রেফতার করে মূল অভিযুক্তকে। যদিও ধৃতের পরিচয় প্রকাশ্যে আনেনি পুলিশ। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে অভিযুক্ত ব্যক্তি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরে শনি মূর্তি ভেঙে দেওয়া হলো, দুষ্কৃতী অধরা

gopalnagarগত ২৬শে অক্টোবর, মধ্য  রাত্রিতে উত্তর 24 পরগনা জেলার অন্তর্গত গোপালনগর থানার তেঘরিয়াপোতা বাজারে শনি মন্দিরের মূর্তির মাথা ভেঙে দিল দুষ্কৃতীরা। সকালে এলাকার লোকজন দেখে তৎক্ষণাত পুলিশে খবর দিলে তিন থানা গাইঘাটা, গোপালনগর, বঁনগার আধিকারীকরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।  এসে তড়িঘড়ি করে মূর্তি বিসর্জন দিয়ে দেয় যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে এবং পুলিশ রয়েছে ঘটনাস্থলে। হিন্দু সংহতির একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং স্থানীয় হিন্দু জনসাধারণের সঙ্গে কথা বলে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। 

মিনাখাঁয় শনি ঠাকুরের মূর্তি ভাঙ্গায় অভিযুক্ত বাপ্পা মোল্লা গ্রেপ্তার

bapi mollaদুই দিনে চারটি থানার বিভিন্ন জায়গা ধরে চিরুণী তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার শনি ঠাকুরের বিগ্রহ ভাঙার প্রধাণ অভিযুক্ত। তার বাকি সঙ্গীরা পালিয়ে গিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য ঘিরে রাখা হয়েছে পুরো এলাকা।

গত শনিবার, ২১ শে অক্টোবর গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁর ঝিকরা গ্রামের লালপোল পাড়ায় গ্রহরাজ মন্দিরের ভেতর ঢুকে বিগ্রহের মুর্তি ভেঙে দেওয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। রবিবার দোষীদের গ্রেফতার ও নতুন বিগ্রহের দাবিতে ওই গ্রামের পথ অবোরোধ করেন হিন্দু জনসাধারণ। এলাকাবাসীদের দাবি পাশের চড় পাড়ার বাপ্পা মোল্লার কাজ। কারণ গত কয়েক দিন আগে দুর্গাপুজোর ব্যানার ছিঁড়েছিলো এই বাপ্পা মোল্লা। শুধু তাই নয় ওই ব্যানার ছেঁড়ার সময় হাতে নাতে ধরতে গেলে ওই পাড়ার এক ব্যাক্তিকে বেধড়ক ভাবে মারধর করে ওই বাপ্পা মোল্লা। পরে পুলিশ বাপ্পা মোল্লাকে গ্রেপ্তার করার প্রতিশ্রুতি দিলে অবরোধ উঠে যায়। তারপর এলাকাবাসীদের দাবি মতো বাপ্পা মোল্লার খোঁজ চালায় পুলিশ। বাপ্পা মোল্লা যাতে এলাকার বাইরে যেতে না পারে তাঁর জন্য পুলিশ দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় মিনাখাঁ, হাড়োয়া, সন্দেশখালী, ন্যাজাট সহ বিশাল এলাকাকে। তারপর শুরু হয় চিরুণী তল্লাশি। গত ২৩শে অক্টোবর  গভীর রাতে ওই বাপ্পা মোল্লা ও তার কয়েক জন সঙ্গী এলাকার বাইরে পালিয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা করে। পুলিশ সেই পরিকল্পনা গোপন সূত্রে জানতে পেরে রাতে হাসনাবাদ থানার ভেবিয়া শ্বাশান থেকে একটি ওয়ান সাটার দেশি বন্দুক ও এক রাউন্ড গুলি সহ বাপ্পা মোল্লাকে গ্রেফতার করে। আর তার বাকী সাগরেদরা পালিয়ে যায়। এই বাপ্পা মোল্লা কে গ্রেফতার করার পর ২৪শে অক্টোবর সকালে মিনাখাঁ থানা সংলগ্ন বামনপুকুর বাজারে এলাকাবাসী কলকাতা বাসন্তী হাইওয়ে অবোরোধ করে ওই বাপ্পা মোল্লার কঠিনতম শাস্তির জন্য ও বাকিদের তাড়াতাড়ি গ্রেফতারের  জন্য। পুলিশ অবরোধ তোলার জন্যে লাঠিচার্জ করে,  এবং অবরোধ কারীদের মধ্যে পনেরো জনকে গ্রেফতার করে। পুলিশের মারে  এক জনের  মাথা ফেটে যায়। সে বর্তমানে  গুরুতর অবস্থায় মিনাখাঁ গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

কুমিল্লাতে কালীপুজোর মণ্ডপে হামলা মুসলিমদের, প্রতিমা ভাঙচুর

পুজোমন্ডপে মোবাইলের মাধ্যমে হিন্দু মেয়েদের ভিডিও রেকর্ডিং করাকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা হামলা চালিয়ে ২টি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। বাংলাদেশের কুমিল্লা উপজেলার অন্তর্গত পীরযাত্রাপুর গ্রামের বর্মন বাড়ির (ঝাড়-বাড়ির) কালীপুজোর মন্ডপে এই ঘটনা ঘটে ২২ অক্টোবর রবিবার দুপুরে।

জানা যায়, জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ঝাড়-বাড়িতে কালীপুজো চলাকালীন হিন্দু মেয়েদের নাচ-গান এন্ড্রয়েড মোবাইলের মাধ্যমে ভিডিও ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে পূর্বের বিরোধের জের ধরে রবিবার সকালে ঝাড়-বাড়ির প্রবাসী অপু সহ ৩-৪ জন হিন্দু যুবককে গোবিন্দপুর বাজার সংলগ্ন ব্রীজের ওপর পথরোধ করে তাদেরকে মারধর করে আহত করে রবিউল ও তার সঙ্গীরা এবং পুনরায় রবিউলের নেতৃত্বে ৫-৭ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে ওই হিন্দু বাড়ির মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন এবং বুড়িচং থানার ওসি মনোজ কুমার দে, ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রবিবার হরেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের ছেলে ওমান প্রবাসী অপু বর্মন (৩০) জেলার হোমনা উপজেলার তার বন্ধুর বাড়িতে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় সকাল ১১ টায় স্থানীয় গোবিন্দপুর গোমতী নদীর ব্রীজের উপর তার তিন বন্ধুকে রবিউল ও তার সঙ্গী ৪/৫ জন মিলে পথরোধ করে মারধর করে আহত করে। রমেশ বর্মন, অপু বর্মন ও শিপন বর্মন বলেন, তাদের সঙ্গে থাকা টাকা, মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন অপু বর্মন ও রমেশ বর্মনকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। দুপুর ১২ টার দিকে ওই যুবকরা মিলে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র ও লাঠি নিয়ে কালীমন্দিরে হামলা চালিয়ে দুটি প্রতিমা ভাঙচুর করে ।

এ ব্যাপারে বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মনোজ কুমার দে বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সকলকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে”। এই রির্পোট লেখার আগে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তার সত্যতা নিশ্চিত করেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন চলছে বলে ওসি মনোজ কুমার দে জানান।