শীতলকুচিতে বিজেপি -তৃণমূলের সংঘর্ষের আড়ালে আক্রান্ত হিন্দু; বাড়ি-ঘর, দোকান ও মন্দির ভাঙচুর; চললো গুলি

বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষ সাম্প্রদায়িক রূপ নিলো। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার  জেলার শীতলকুচি ব্লকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ই জুন, শনিবার শীতলকুচিতে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজেপি মিছিল বের করা হয় শীতলকুচি বাজারের পাশেই রথের ডাঙ্গাতে। যখন মিছিল একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, সেইসময় মিছিলের কয়েকজনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে করেকজন বিজেপি সমর্থক। সেই থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। তারপরেই কিছুক্ষনের মধ্যেই বিশাল সংখক মুসলমান টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। একের পর এক হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। রথের ডাঙায় হিন্দুদের দোকানপাট ভাঙচুর করে মুসলমানেরা পুলিসের সামনেই। RAF শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। উন্মত্ত মুসলিম জনতাকে আটকানোর চেষ্টা করেনি। ফক্করের হাটের বেছে হিন্দুদের দোকানগুলিতে ভাঙচুর চালায় মুসলিমরা। ধীরে ধীরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাগলাপীর, পঞ্চারহাট এলাকায়। হিন্দুদের লক্ষ করে গুলিও চালায় মুসলিমরা। এছাড়াও, এটা যে শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না, তাঁর প্রমান মেলে অচিরেই। টিএমসির ঝান্ডাধারী উন্মত্ত মুসলমান জনতা ভাঙচুর করে পাগলাপীর এলাকার হরিমন্দির, ফক্করের হাটের হরিমন্দির এবং পঞ্চারহাটের হরিমন্দির। গুলিতে আহত হয় দুইজন হিন্দু যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে বিজেপি তকমা দিয়ে এই আক্রমণের আসল লক্ষ্য ছিল হিন্দুরা। ঘটনা পর্যালোচনা করে সেই ইঙ্গিতও মিলছে।

জলপাইগুড়িতে রাজবাড়ির মন্দিরের মূর্তিসহ একাধিক মূর্তি ভাঙলো দুষ্কৃতীরা

এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মস্থান সুরক্ষিত নয়। তার প্রমাণস্বরূপ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মন্দিরে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ ঘটে চলেছে। সেই তালিকায় নতুন নাম যোগ হলো জলপাইগুড়ি শহর। গত ১৭ই মে রাতে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মনসা মন্দিরের মূর্তিসহ শহরের একাধিক মন্দিরের মূর্তিতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। পরেরদিন সকালে বিষয়টি শহরের বাসিন্দাদের নজরে আসে। তখনই শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ীর মনসা মন্দির খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির এবং মন্দিরটির সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার মানুষের আবেগ জড়িত রয়েছে। কিন্তু ওই মন্দিরটির মূর্তি ভেঙে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও শহরের জেলা সদর হাসপাতালের ভিতরে থাকা কালী মন্দিরের মূর্তিও ভেঙে দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হয় তিস্তা বুড়ির মন্দিরের মূর্তিও।  এছাড়াও রাজবাড়ীর পার্কে থাকা একাধিক মূর্তিও ভেঙে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। মন্দির ভাঙার খবর পেয়ে শহরের প্রচুর মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি থানার পুলিসও। তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শহরের বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন যে শুধুমাত্র মন্দিরের মূর্তিগুলি কেন ভাঙলো দুষ্কৃতীরা। এ নিয়ে তাদের অভিযোগের তীর শহরে গজিয়ে ওঠা বিশেষ সম্প্রদায়ের বস্তিগুলির ওপর এবং এই ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

হাসনাবাদের হাটখোলা বাজারে হামলা TMC আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের; ভেঙে দেওয়া হলো শনি ঠাকুরের মূর্তি

গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা বিজেপি করে, এই অজুহাতে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালালো টিএমসি-এর ঝান্ডাধারী মুসলিম দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত হাসনাবাদ থানার হাটখোলা বাজারে। স্থানীয় এক হিন্দু বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে গত ১৯শে মে রাত দশটা নাগাদ  একদল মুসলিম দুষ্কৃতী হাটখোলা বাজার এলাকায় এসে বেছে বেছে একের পর হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায়। মুসলিম দুষ্কৃতীরা কয়েকটি আসবেস্টস-এর ছাউনি ভেঙে দেয়। এছাড়াও একটি ক্লাবে ভাঙচুর চালায়। এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা বাজারের পাশে থাকা একটি শনি মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরে থাকা শনি ঠাকুরের মূর্তি টেনে বাইরে ফেলে দেয় এবং মন্দিরে থাকা পূজার উপাচার সামগ্রী তছনছ করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার হিন্দু বাসিন্দারা এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তাঁরা তাদের সেই ক্ষোভ হিন্দু সংহতির প্রতিনিধির কাছে প্রকাশ করেছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকার কিছু হিন্দু বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার রাশেদুল হাসান

dhaka-Mirpurবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে আজ সকাল ৭ টায় মন্দিরের  প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।কালী  মায়ের প্রতিমা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টায় মন্দির খুলে পরিষ্কার করার সময় ২২ বছরের এক যুবক প্রবেশ করেন। এতো সকালে কেন এখানে এসেছেন -জানতে চাইলে জানায়, সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাই প্রার্থনা করতে এসেছেন। তার নাম মিঠুন চক্রবর্তী বলে সে পরিচয় দেয়।
সে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০ মিনিট প্রার্থনা করে। আশাপাশে কেউ না থাকায় ভেতরে গিয়ে কালী প্রতিমা টেনে নীচে ফেলে দেয় এবং ভাঙচুর করে। প্রতিমা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ভেতরে থাকা পুরোহিতের সহকারী ও পরিচ্ছন্নকর্মী দৌড়ে গিয়ে যুবককে ধরে ফেলেন।
পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে, সে আসলে কোন হিন্দুু নয়, তার আসল নাম রাশেদুল হাসান। মিরপুর ১১ নম্বর এভিনিউ এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় মিরপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাদের সন্দেহ এ প্রতিমা ভাঙচুর এর পেছনে বড় দুস্কৃতিকারীরা জড়িত রয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কোচবিহারের বড়োমরিচায় হরিমন্দির ও কালীমন্দির ভাঙার ঘটনায় গ্রেপ্তার হল পাঁচ দুষ্কৃতি 

কোচবিহার জেলার শীতলকুচি থানার অন্তর্গত বড়োমরিচা অঞ্চল। ওই অঞ্চলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। ১৫ই অক্টোবর মাথাভাঙ্গার সরকারেরহাটের কালীমন্দির ভাঙার পর দাঙ্গা শুরু হয় শীতলকুচি, মাথাভাঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেসময় বড়োমরিচার মুসলিম জনতা সম্পূর্ণ বিনা প্ররোচনায় হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। গত ১৬ই অক্টোবর রাতে বড়োমরিচার শ্রী শ্রী হরিমন্দিরে ভাঙচুর চালায় মুসলিম জনতা। হিন্দুরা সেই আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেনি। কিন্তু মন্দির কমিটির সম্পাদক কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে শীতলকুচি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যার FIR নম্বর ৩২৮। এই ঘটনায় মাত্র দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে।

অপরদিকে বড়োমরিচার কালীমন্দিরেও গত ১৬ই অক্টোবর সন্ধ্যায় আক্রমণ করে স্থানীয় মুসলিমরা। মন্দিরের পাকা দেওয়ালে ভাঙচুর চালায়, ভাঙচুর করা হয় কালী প্রতিমা, লুঠ হয় প্রণামী বাক্স। এই ঘটনায় মন্দির কমিটির সম্পাদক শীতলকুচি থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যার FIR নম্বর ৩২৯। এই ঘটনায় জড়িত মাত্র ৩জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উভয় ক্ষেত্রেই ঘটনায় জড়িত অনেক দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার না করায় শীতলকুচির স্থানীয় হিন্দুদের অনেকেই তাদের ক্ষোভ জানিয়েছেন।