হুগলীর ফুরফুরাতে দুষ্কৃতিদের ফেলে রাখা বোমা ফেটে মারাত্বক আহত হিন্দু বালক

২০১৮-এর ১ জানুয়ারি, সোমবার আনুমানিক সকাল ৯টা ১৫মিনিট নাগাদ হুগলী জেলার জাঙ্গীপাড়া থানার ফুরফুরা গ্রামে কৌটো বোমা বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয় অমিত দাস (চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র) – পিতা ছট্টু দাস। অমিত ফুরফুরার ধাড়াপাড়ার বাসিন্দা। রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা মড়িপুকুর শ্মশান ও ফুরফুরা মাঠ সংলগ্ন বাসস্ট্যান্ডের পাশে একটি ব্যাগের মধ্যে দুটি কৌটো বোমা ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বালক আমিত দাস কৌতুহলবসত সেই ব্যাগ কুড়িয়ে কৌটো খুলতে গেলে বিকট বিস্ফোরণ হয় এবং তার বুক ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়।
তৎক্ষণাৎ তাকে ফুরফুরা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে রেফার করে দেওয়া হয়। অমিতের শরীরে লোহার টুকরো ঢুকে থাকার ফলে তা বের করার জন্যে চিকিৎসকদের অস্ত্রপচার করতে হয়। বিস্ফোরণের পর জাঙ্গীপাড়া থানার পুলিশ এসে এলাকাটি ঘিরে রাখে এবং অবশিষ্ট বিস্ফোরকটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকের খবর নেই। ইংরেজী বর্ষের প্রথম দিনেই এমন দুর্ঘটনায় গ্রামবাসীরা ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পরে। দুষ্কৃতিদের দৌরাত্ম্যবৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ-প্রশাসনের উপর জনগণের চাপা ক্ষোভ তৈরী হয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী অমিত দাস কিছুটা সুস্থ আছে।
Advertisements

তৃণমূল নেতার বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, উড়ে গেলো বাড়ির একাংশ

ঘটনা মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রামের। তৃণমূলের কিষাণ খেতমজদুর সেলের রাজ্য নেতা সাফাতুল্লা শেখের নবগ্রামের খৈইজরডাঙার বাড়িতে বোমা ফাটার ঘটনা নিয়ে দলেই চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। গত ১৮ই নভেম্বর, শনিবার গভীর রাতে তাঁর বাড়িতে বোমা ফাটে। বোমার আঘাতে তাঁর বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার ঘটনাটি নিয়ে তাঁর ছেলে থানায় হামলার অভিযোগ জানিয়েছেন। সাফাতুল্লাসাহেব এক সময় তৃণমূলের নবগ্রামের ব্লক সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি কিষাণ খেতমজদুর সেলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম থেকে তৃণমূলে আসা দুষ্কৃতীরা বাড়িতে বোমা ফাটিয়েছে। পুলিশের একাংশের মদতে দুষ্কৃতীরা এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

ক্যানিংয়ের বাসন্তীতে বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণ, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

গত ৫ই নভেম্বর, রোববার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে একজনের হাত উড়ে গেলো। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার অন্তর্গত আঠারোবাঁকি অঞ্চলের ভারতিমোড়ে। ঐদিন সকালে পাঁচজন বসে বোমা বাঁধছিলো সফি শেখের বাড়ির পিছনের বাগানে। তাদের মধ্যে তিনজন স্থানীয় ও দুই জনের একজন মৌখালীর বাসিন্দা আর একজন দাহারানির বাসিন্দা। হঠাৎই বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে জসিমুদ্দিন শেখের হাত উড়ে যায়, রবি শেখ আগুনে ঝলসে যায় এবং আর একজন ব্যক্তি দিলীপ দাসও গুরুতর আহত হয়। স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, আহতদেরকে সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে শওকত মোল্লার তত্বাবধানে ক্যানিং-এর একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে সকাল ১০টার  দিকে বাসন্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রচুর বোমার মশলা ও সরঞ্জাম উদ্ধার করে, তবে ঘটনাস্থল থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

মুরারইতে সেকারুল শেখের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ, আহত ৫জন

গত ২রা নভেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকালে মুরারই থানার নন্দীগ্রাম পঞ্চায়েতের আরাইল গ্রামে সেকারুল শেখ নামে ব্যক্তির বাড়িতে বোমা ফেটে জখম হল পাঁচজন। সকলেই অল্পবিস্তর জখম হওয়ায় তাঁদের পাইকর ব্লকের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ওই সেকারুল শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান বাড়িতে মজুত বোমা ফেটেই এই ঘটনা ঘটেছে।

গ্রাম ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেকারুল শেখের বাড়ির কাজ চলছিল। সেই সময় বোমা ফাটার ফলে বাড়িতে থাকা সেকারুলের বাবা-মা, মেয়ে ও ভাইঝি ছাড়াও জখম হয় এক রাজমিস্ত্রি। বাসিন্দারা সকলকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসে। পরে সকলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে গ্রামে আসেন মুরারই থানার ওসি। তিনি বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখেন। আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় সেকারুলকে। যদিও তার বাবা সেনাউল শেখ বলেন, কেউ বাড়িতে বোমা ছোঁড়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কারা কী কারণে বোমা ছুঁড়েছে তা বলতে পারেননি তিনি।

পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সামিন সুলতান ইনতিয়াজ আরিফ বলেন, বিধানসভা ভোটের সময় সেকারুল জোটের হয়ে প্রচার করেছে। কয়েকমাস আগে সে তৃণমূলে যোগ দেয়। এরপর থেকেই গ্রামের এক তৃণমূল নেতার সঙ্গে তার ঝামেলা চলছে। তৃণমূলের মুরারই-২ ব্লক সভাপতি আফতাবউদ্দিন মল্লিক বলেন, দলে থেকে কোনও গ্রুপবাজি করা চলবে না। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।