‘হিন্দু রাষ্ট্র ভারতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দাও’, হুমকি আইএস-এর

17309461_424491394558640_9041933933288805104_nলখনউ এনকাউন্টারে নিহত সইফুল্লার মৃত্যুর ‘বদলা’ নাও, আহ্বান আইএস জঙ্গি চ্যানেলের l
‘সইফুল্লাই ভারতীয় মুসলিমদের আদর্শ l’ এবার এমনই প্রচার শুরু করেছে আইএস পরিচালিত জেহাদি চ্যানেল l শুধু তাই নয়, ‘আল হিন্দি’ নামের ওই জেহাদি চ্যানেলের দাবি, ভারতীয় মুসলিমদের যুবকদের এবার এভাবেই হামলা চালাতে হবে  >>

অশ্লীল আচরণে বাধা দেওয়ায় হাসনাবাদে কীর্তন মঞ্চ ভাঙচুর

এবার কীর্তনের আসরে হামলা চালাল মুসলমানরা । গত বুধবার (৮ই ফেব্রুয়ারী) রাত ৮ টা নাগাদ উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ থানার টাকী-মালঞ্চ রোডের তকীপুরে পল্লীমঙ্গল সমিতি  >>

ধর্ম-জাতি ভিত্তিক সংঘর্ষে দেশে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ, তারপরেই পশ্চিমবঙ্গ

800x480_image63583238মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলেই পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বশি ধর্ম-জাতিভিত্তিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে মঙ্গলবার সংসদে তথ্য তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী কিরণ রিজিজু | তিনি এই দাবি করে গত তিন বাছরের একটি তালিকা এদিন প্রকাশ করেন | এই তালিকায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি উঠে এসেছে | তবে বরাবরের মতোই তালিকার শীর্ষে রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। …………..»»

আদিনা মসজিদ কি সত্যিই মসজিদ?

……………..পরবর্তীতে দেখলাম  রজনীকান্ত চক্রবর্তী আমাদের ততটাও হতাশ করেন নি। প্রবাসী পত্রিকায় ‘পান্ডুয়া ভ্রমণ’ নামক রচনায় তিনি লিখেছেন, “আমি সাতাইশ বৎসর পূর্ব্বে একবার পান্ডুয়া দেখিতে গিয়াছিলাম…তখন আদিনার ভিতর বিস্তর হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি দিয়া খচিত নামাজের স্থানে উঠিবার সোপান দেখিয়াছিলাম। যেমন মসজিদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্খলিত হইতেছিল,অমনি মুসলমান ভয়ে লুক্কায়িত গণেশ কার্ত্তিকেয় কৃষ্ণ বিষ্ণু বাহির হইয়া পড়িতেছিল। সে সকল মূর্তির নাক প্রায় ভাঙ্গা ছিল। বেচারা কালাপাহাড়ের উপর তার কারণ অর্পিত হইত। এখন সে সকল মূর্তি দেখা গেল না। কোথায় গেল ?” ……….. »

 

বজবজে ডাকাতির পর ধর্ষণ গৃহবধূকে

484975-nirbhaya-kerala-rapeগত ৩০শে জানুয়ারী বজবজ থানার অন্তর্গত দুইটা গ্রামে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটলো। ডাকাতরা শুধু গৃহ সামগ্রী লুঠ করেই ক্ষান্ত হয়নি,গৃহবধূকে গণধর্ষণের অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে  >>

মুন্সীগঞ্জে সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর, আহত ৪

92ed5a35f2a63b647d7dcc243d4417b9-5892fc26b8d77মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার খিদিরপাড়া ইউনিয়নে পূর্ব শত্রুতার জেরে সরস্বতী দেবীর প্রতীমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে  >>

মালদা পুলিশের বিশেষ অভিযান : তিন সপ্তাহে ধৃত ৭৫০ জন দুস্কৃতী 

মালদার কালিয়াচকে দুস্কৃতীরাজ বন্ধ করতে ময়দানে নামল মালদা জেলা পুলিশ। অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে মালদা জেলা পুলিশের দাওয়াই – অন্যান্য থানা থেকে পুলিশ কর্মী এবং অফিসারদের নিয়ে এসে বিশেষ অভিযান। গত তিন সপ্তাহে জেলায় গ্রেফতার সাড়ে সাতশো অপরাধী। উদ্ধার ১৩টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৩ রাউন্ড কার্তুজ। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি এবার কালিয়াচকে শান্তি ফিরতে চলেছে ?জেলার নতুন পুলিশ সুুপারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে কালিয়াচকবাসী। উল্লেখ্য, চুরি হোক কিংবা ডাকাতি কিংবা জালনোট উদ্ধার বা খুন, বার বার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে মালদার কালিয়াচক।খুন,ডাকাতি,ছিনতাই নিত্যদিনের সঙ্গী কালিয়াচকের অধিবাসীদের। দুস্কুতীদের আতঙ্কে রাতের পর রাত জেগে কাটিয়েছে কালিয়াচকের মানুষ। কিন্ত জেলা পুলিশ সুুপারের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এইসব ঘটনায় রাশ টানতে নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশ সুুপার অর্ণব ঘোষ। শুরু হয় জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান। সাফল্য পায় জেলা পুলিশ। মূলত কালিয়াচক,বৈষ্ণবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক দুস্কুতীকে। উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও।পুলিস সুুপার অর্ণব ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে তাদের এই বিশেষ অভিযান চলছে। এই তিন সপ্তাহে জেলায় মোট সাড়ে সাতশো অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে,১৩টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৩ রাউন্ড কার্তুজও।পাশাপাশি কালিয়াচকে অপরাধ দমন করতে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

হেমতাবাদের পর কালিয়াগঞ্জ : জিহাদী তান্ডব অব্যহত

image

image

image

image

উত্তর দিনাজপুর জেলার হেমতাবাদের পর এবার ঐ জেলারই কালিয়াগঞ্জ, আবার আক্রান্ত হল হিন্দু মন্দির।

গত 18 জুলাই রাতে দুস্কৃতীদের হামলার শিকার হল কালিয়াগঞ্জের ৭ নং ভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বাঘন বটতলার হিন্দু মন্দির। হেমতাবাদের মত এখানেও দুস্কৃতীরা হামলার পরে বিগ্রহগুলির মাথা কেটে নিয়ে যায়। গত কাল সকালে এই ঘটনা প্রকাশ হওয়া মাত্র এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় হিন্দুরা কালিয়াগঞ্জ থেকে রায়গঞ্জ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি স্থানীয় বিডিওর সাথে এলাকায় এসে CPI(ML)-এর নেতা জগদীশ রাজভড় ও কংগ্রেসের নেতা উত্তম ঘোষের সঙ্গে আলোচনা করে মূর্তিগুলিকে বিসর্জন দিয়ে দেন। বিকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সর্বদলীয় সভার আয়োজন করা হয় যেখানে একটি

শান্তিকমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে কোন সদর্থক ইঙ্গিত না পাওয়ায় এলাকার হিন্দুরা যথেষ্ট ক্ষুব্ধ বলে খবর পাওয়া গেছে।

ইরাক-সিরিয়া যেতে তৈরি পাঁচশো তরুণ

সৌজন্য আনন্দবাজার পত্রিকা :-

দেশ ছেড়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে মানসিক ভাবে তৈরি রয়েছেন ভারতের অন্তত ৫০০ মুসলিম যুবক। জম্মু-কাশ্মীর, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের এই যুবকদের লক্ষ্যই হল খিলাফত বা ইসলামি ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে মূলত পশ্চিমি দুনিয়াকে শিক্ষা দেওয়া। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি ভাবে কেন্দ্রের হিসাব— এখনও পর্যন্ত ভারত থেকে দু’ডজন যুবক সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগদান করেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, এক সময়ে নতুন নতুন এলাকা দখল করে ক্রমশ শক্তি বিস্তার করলেও, গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলির মার খেয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এই জঙ্গি সংগঠন। একের পর এক এলাকা হাতছাড়া হচ্ছে। লাগাতার হামলায় প্রচুর যোদ্ধাও মারা পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপমহাদেশের মতো জনবহুল এলাকাকে যোদ্ধা সংগ্রহের জন্য পাখির চোখ করেছে আইএস। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক টুইটারের মতো সামাজিক সাইটগুলি থেকে জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাবাপন্ন মুসলিম যুবকদের বেছে নিয়ে তারা লাগাতার মগজ ধোলাইয়ের কৌশল নিয়েছে। তাদের কারও কারও সঙ্গে আইএস-এর আঞ্চলিক নেতারা ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগও করেছে। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে এই মুহূর্তে অন্তত পাঁচশো ভারতীয় যুবক আইএসে যোগ দিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই যুবকদের বড় অংশের লক্ষ্য হল ইরাক-সিরিয়া-সহ পশ্চিম এশিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠা। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সব যুবকদের ক্ষোভ প্রধানত পশ্চিমি দেশগুলির একাধিপত্যের বিরুদ্ধে। ভারতীয় প্রশাসন বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যে তারা জঙ্গি দলে যোগ দিতে চাইছেন, বিষয়টি তেমন নয়।

সংখ্যালঘু যুবকদের এই প্রবণতা কিছুটা হলেও ধন্দে ফেলেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে, শুরুর দিকে যে যুবকেরা সিরিয়া বা ইরাকে পাড়ি দিয়েছিল তাদের অধিকাংশ আগে থেকেই ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, জইশ বা লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। ধরপাকড়ের ভয়ে তারা বিদেশে পালিয়ে যায়। কিন্তু এখন যে যুবকেরা আইএস-এ যোগ দিতে চায়, তাদের অনেকেরই কোনও জঙ্গি-যোগ নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, সামাজিক সাইট-সহ যোগাযোগ মাধ্যমগুলির ওপর নিবিড় নজরদারি রেখেই গোয়েন্দারা নতুন এই প্রবণতার কথা জেনেছে। এ দেশ থেকে যারা আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। নজরদারিতে পাওয়া গিয়েছে, হ্যান্ডলাররা যখন জানতে চাইছে ভারতীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের কোনও ক্ষোভ রয়েছে কি না, তখন অধিকাংশ মুসলিম যুবক বলেছেন— নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই দাবি করলেও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ভারতীয় ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভের প্রমাণ মেলেনি বলে গর্ব করার কিছু নেই। তাতে ভারতের বিপদ কমে না। নজর দেওয়ার মতো বিষয় হল— এ দেশে নিরাপত্তার এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও আইএস দিব্যি যুবকদের বাছাই করে মগজধোলাই করে চলেছে। তা ছাড়া ভারত যে আইএসের অন্যতম নিশানা তা স্পষ্ট। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগও সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, আইএস-এর একটি অংশ ভারতে হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইএস-এর অনলাইন পত্রিকা ‘দাবিক’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সংগঠনের বাংলা শাখার আমির (প্রধান) শায়ক আবু ইব্রাহিম আল হানিফ দাবি করেছে, বাংলাদেশে হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার পাশাপাশি ভারতে খিলাফত প্রতিষ্ঠাও তাদের লক্ষ্য। 

খাগড়াগড়-কাণ্ডে ধৃত এনামুলই এই রাজ্যে আইএসের মূল নিয়োগকর্তা

খাগড়াগড়-কাণ্ডে অভিযুক্ত হিসাবে মহানগরীর উপকণ্ঠ মেটিয়াবুরুজের গুলজারাবাদ থেকে ধৃত এনামুল মোল্লা ছিল এ রাজ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জেহাদি নিয়োগের অন্যতম কর্তা। এরই পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে আইএস-এর মতাদর্শ এবং ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বেড়াত সে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) তদন্তে এই সমস্ত বিষয় ছাড়াও জানা গিয়েছে, জঙ্গি-জেহাদি কাজকর্ম পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহের জন্য এনামুল জাল নোট পাচার কারবারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। গুলজারাবাদের স্লটার হাউস রোডের বাসিন্দা এনামুলকে গত ১৫ মার্চ আরেক সঙ্গী হাবিবুল হক সমেত গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ এবং এনআইএ’র যৌথ দল। খাগড়াগড়-কাণ্ডে ধৃত এনামুল ও তার সঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামনে আসার পর গত ২১ মে ওই কাণ্ডে তাদের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

চার্জশিটে জামাত-উল-মুজাহিদিন (জুম) জঙ্গি এনামুলকে ‘কট্টর জেহাদি’ অ্যাখ্যা দিয়েছে এনআইএ। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, জঙ্গি-জেহাদি মতাদর্শ প্রচারে বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানের আয়োজনও করত সে। সেই সমস্ত সভা-অনুষ্ঠানে খাগড়াগড়-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে কৌসর নিয়মিত হাজির হত। এনআইএ বলছে, এই উপমহাদেশে আইএস-এর ‘মুখ’ হিসাবে কাজ করে জুম। তাদের হয়ে জুম যাবতীয় নাশকতা এবং গুপ্তহত্যা যে চালাচ্ছে, তা অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দাবিক’-এ স্বীকারও করেছে আইএস। 

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জুম জঙ্গি দেশের অন্য জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত সিরিয়ায় আইএস-এর হয়ে যে সমস্ত ভারতীয় যুবক লড়াই করতে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আইএম-এর সঙ্গে যুক্ত। আইএস-এ অন্তর্ভুক্ত প্রাক্তন আইএম জঙ্গিদের সঙ্গে এ রাজ্যের ‘যোগসূত্র’ ছিল এনামুল। খাগড়াগড়-কাণ্ডের অনেক আগে থেকে সে আইএস মতাদর্শ প্রচার, গোপন সভার আয়োজন, অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করত। এনআইএ সূত্রের খবর, এ রাজ্যের কমপক্ষে ২৫ জন যুবককে ‘মগজধোলাই’ করে তাদের আইএস-এর প্রতি আগ্রহী করেছে সে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ার চারজন যুবক এতটাই প্রভাবিত হয়েছিল যে, তারা চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছেছে। 

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, খাগড়াগড়-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে কৌসর জেহাদি প্রচার চালানোর জন্য একটি মেমোরি কার্ড দিয়েছিল এনামুলকে। ওই কার্ডটি তদন্তকারীদের হেপাজতে এসেছে। তাতে আইএস-এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির, গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল এবং জেহাদি নেতাদের বক্তৃতাও রয়েছে। আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে এই মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে জেহাদি হতে আসা যুবকদের মগজধোলাই চলত। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, জুম-এর এই সদস্য আসলে এ রাজ্যে আইএস-এর হয়েই মূল কাজটি করত।

এনআইএ সূত্রের খবর, তাদের সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জেনেছেন, এনামুল বিভিন্ন জব পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের মগজধোলাইয়ের কাজটি চালাত। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মালদহ জেলার জাল নোট পাচারকারী একটি বড় গ্যাংয়ের হয়েও কাজ করতে শুরু করেছিল এনামুল।

বীরভূমে বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ল গোটা বাড়ি

জনবহুল এলাকার মধ্যেই বিস্ফোরণে উড়ে গেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য তৈরি একটি গোটা বাড়ি। বুধবার রাতে লোকপুর থানার নওপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই উপস্থিত হন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার ও বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। ঘটনায় বাসিন্দারা এনআইএ তদন্ত দাবি করেছেন। অন্যদিকে বাড়িটি নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। খয়রাশোল ব্লক প্রশাসন বাড়িটি একবছর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও আইসিডিএসের ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার অরিন্দম ভাদুড়ি বলেন, যে এলাকায় বাড়িটি রয়েছে সেখানে আমাদের হিসাব অনুযায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নেই। কার জমিতে কীভাবে বাড়িটি তৈরি, তাও আমাদের অজানা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নওপাড়া গ্রামের ডাঙালপাড়ায় বছর খানেক আগে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাড়িটি তৈরি হয়। এখানে কেন্দ্রটি চালু হয়নি। আগের পুরানো বাড়িতেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু ছিল। নতুন বাড়িটিতে তালা দেওয়া না থাকায় স্থানীয় লোকজনই সেটি ব্যবহার করতেন। বুধবার রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন বাড়িটিতে বসে ছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ বাড়িটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও বড়সড় ফাটল দেখা যায়। এমনকী পাশ্ববর্তী একটি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন শেখ জয়নাল(২২)। তিনি বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ভগ্নপ্রায় বাড়িটির একটি অংশ তাঁর হাতে লাগে। তিনি গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে রাত আড়াইটা নাগাদ লোকপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে রাখে। ঘটনাস্থলে যান ডিএসপি হেড কোয়ার্টার ধ্রুব দাস। বম্ব স্কোয়াড ও ফায়ার বিগ্রেডও উপস্থিত হয়। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ।

শেখ জয়নাল বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাড়ির একটি অংশ আমাদের দরজা ভেঙে আমার হাতে লাগে। আমি কোনওরকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। স্থানীয় বাসিন্দা আজমির খান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রটি চালু করার দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু কেউ কথা কানে তোলেনি। গৃহবধূ নাসিমা বিবি, নাজমা বিবিরা বলেন, আমাদের বাড়িতে ফাটল ধরেছে। বাসিন্দাদেরই একটি অংশের দাবি, অবৈধ কয়লা ও পঞ্চায়েতের দখলদারি নিয়ে শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠীর বিবাদ রয়েছে এলাকায়। ২৮মে বিজয় মিছিলের দিনও সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশ কোনওরকমে অবস্থা সামাল দেয়। মূলত সংঘর্ষের জন্যই বাড়িটিতে বোমা মজুত করা হচ্ছিল বলে বাসিন্দাদের দাবি। যদিও বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে ঘটনার জন্য এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবনটি। একবছর আগে বাড়িটির চাবি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর হাতে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনওদিনই এখানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করেননি ওই কর্মী। তিনি নিয়মিত পুরানো জায়গাতেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু রাখেন। আর ব্যবহার না হওয়ায় কার্যত দুষ্কৃতীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে বাড়িটি। বাসিন্দাদের দাবি, ছ-সাত মাস আগে একদিন রাতে পুলিশ এসে বাড়িটির তালা ভেঙে দেয়। সেই থেকেই এলাকার লোকজন দিনের বেলায় নিজের ইচ্ছেমতো বাড়িটি ব্যবহার করতে থাকেন। রাতে বাড়িটিতে নানা অবৈধ কার্যকলাপ হত বলে বাসিন্দাদের একাংশের দাবি। 

কিন্তু কেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেটি স্থানান্তরিত হল না, এই প্রশ্নের উত্তরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী আফরজা বেগম বলেন, এই গ্রামেই আমার বাড়ি। নতুন বাড়িটিতে যাতে কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত না করি তার জন্য নানা হুমকি সহ্য করতে হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই ভাঙাবাড়িতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালাচ্ছি। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়েছিলাম। খয়রাশোলের সিডিপিও অনুপম বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমরা কেন্দ্রটিকে স্থানান্তরিত করতে পারিনি। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

বৃহত্তর ষড়যন্ত্র চন্দ্রকোনায় : হিন্দু সংহতির অফিসে প্রতিনিধি দল

1 জুন: চন্দ্রকোনা রোডের পরিস্থিতি আবার থমথমে। গত ২৮ ও ২৯ এপ্রিল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৩ জন হিন্দু গ্রেপ্তার হয়েছে। F.I.R-এ নাম থাকা ৪ জন এলাকাছাড়া। স্থানীয় হিন্দুদের আশঙ্কা যে প্রশাসন আজ রাত অথবা কালকের মধ্যেই হিন্দু নেতৃবৃন্দ ও সক্রিয় যুবকদেরকে raid করে গ্রেপ্তার করবে। অথবা পুলিশের ভয়ে তারা এলাকাছাড়া হবে। তখন মুসলিমরা বিনা বাধায় স্থানীয় হনুমান মন্দিরের পাশে অবৈধ মসজিদ তৈরী করা শুরু করে দেবে বলে স্থানীয় হিন্দুদের আশঙ্কা, যে মসজিদটি তৈরী করতে ২০১০ সাল থেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২৯ শে এপ্রিল শুক্রবার তারা এজন্য জমায়েত ডেকেছিল। কিনতু তখন প্রশাসন কঠোর থাকায় সেই কাজ তারা করতে পারেনি। আবার তারা সেই চেষ্টা করবে বলে স্থানীয় হিন্দুদের আশঙ্কা। কারণ এরকম কৌশল এর আগে অনেক জায়গায় নেওয়া হয়েছে।

সেখানকার হিন্দুদের একটি প্রতিনিধিদল আজ দুপুরে সংহতির সভাপতি তপন ঘোষের সঙ্গে দেখা করেছে, এবং হিন্দু সংহতির সাহায্য চেয়েছে। তাদেরকে সবরকমের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে।

গত পরশু রাত্রে একজন প্রভাবশালী মুসলিম নেতা চন্দ্রকোনা রোডের কাছে নবকোলা গ্রামে মুসলিম এলাকায় গিয়ে গুপ্ত মিটিং করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা সম্বন্ধে স্থানীয় হিন্দুদের মনে সংশয় দেখা দিচ্ছে।

হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ফোনে ডি. এম. ও এস. পি-র সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কথায় আমরা আশ্বস্ত হতে পারিনি।

আমরা আগামীকাল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জেলাশাসক ও এস.পি. কে লিখিত আবেদন জানাব।

মালদহে ঘাঁটি গাড়ছে বাংলাদেশি মুজাহিদরা

সৌজন্য আনন্দবাজার পত্রিকা : ১ জুন ২০১৬

বাংলাদেশ থেকে একটা সময়ে তারা আফগানিস্তানে গিয়েছিল আল কায়দা-র কাছে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় বছর কুড়ি আগে থেকেই ধীরে ধীরে তাদের ‘ঘর ওয়াপসি’ শুরু হয়েছিল। ওসামা বিন লাদেনের হাতে গড়া সেই বাংলাদেশি মুজাহিদদেরই

এখন ভারতের নিরাপত্তার পক্ষেও বড়সড় ঝুঁকি বলে চিহ্নিত করছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সম্প্রতি জানিয়েছেন, আফগানিস্তানে বেশ কয়েক হাজার বাংলাদেশিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন ওসামা বিন লাদেন। আনন্দবাজারকে ইনু বলেন, ‘‘পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ব্যবস্থাপনায় তিন থেকে পাঁচ হাজার বাংলাদেশি মাদ্রাসা-ছাত্র সাবেক সোভিয়েত সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আফগানিস্তানে গিয়েছিল। তারাই বাংলাদেশে ফিরে যাবতীয় জঙ্গি কার্যকলাপ শুরু করে।’’ বাংলাদেশের গোয়েন্দা-কর্তাদের একাংশও মানছেন, এই ‘মুজাহিদ’-দের থেকে বিপদের ঝুঁকি শুধু বাংলাদেশের নয়, পশ্চিমবঙ্গ তথা ভারতেরও। ঢাকায় ডিআইজি পদমর্যাদার এক গোয়েন্দা-কর্তার কথায়, ‘‘জেএমবি-র অনেক নেতাই এখন তাদের সংগঠনের নাম বলে— জামাতুল মুজাহিদিন বাংলা। জেরায় নেতারা জানিয়েছে, দুই বাংলা মিলেই খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।’’ এনআইএ-র আইজি সঞ্জীব সিংহ বলেন, ‘‘আল কায়দার প্রশিক্ষিত এত জঙ্গি বাংলাদেশে থাকলে, পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে তো দুশ্চিন্তা থাকবেই!’’

বাংলাদেশি গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, আশির দশকে বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে কয়েক হাজার ছাত্র আফগানিস্তানে ‘লড়াই করতে’ যায়। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে আফগান-পাকিস্তান সীমান্তের বিভিন্ন শিবিরে প্রশিক্ষণের পরে তাদের যুদ্ধে পাঠানো হয়। কিন্তু সোভিয়েতের পতনের পরে পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তারা দেশে ফেরা শুরু করে। তাদের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে গড়ে ওঠে ‘হুজি-বি’ (হরকতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) ও ‘জেএমবি’ (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ)। দু’টি নামেরই অর্থ— ‘বাংলাদেশের মুজাহিদদের সংগঠন’। দু’দশক ধরে নানা ওঠাপড়ার পরে হুজি এখন কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও দুই বাংলা জুড়ে সংগঠন বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জেএমবি। শেখ হাসিনা সরকার এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে অভিযান চালানোয় এই সব মুজাহিদরা এখন মালদহকে ঘাঁটি করে এগোতে চাইছে বলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) সূত্রে দাবি করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, বাংলাদেশি জঙ্গিরা  বিশেষ করে কালিয়াচক, বৈষ্ণবনগর এলাকাকেই ঘাঁটি হিসেবে পছন্দ করছে।

কিন্তু মালদহই বা কেন? কারণ হিসেবে সম্প্রতি হাতে আসা কয়েকটি তথ্য পেশ করেছেন গোয়েন্দারা।

এক, সম্প্রতি কালিয়াচকের সীমান্ত ঘেঁষা একটি আমবাগানে জেহাদি প্রশিক্ষণ দিয়ে গিয়েছে জেএমবি-র নেতারা। এনআইএ জেনেছে, ডজন খানেক স্থানীয় যুবক সেখানে অন্তত চার দিন প্রশিক্ষণ নিয়েছে। তার পর আর তাদের হদিস নেই। রাইফেল ধরার তালিম দেওয়া হয় সেখানে, সঙ্গে ছিল শারীরিক কসরত ও জেহাদি পাঠ। প্রশিক্ষকদের মধ্যে অন্তত এক জন মুজাহিদ ছিল বলে খবর।

দুই, এ বছর জানুয়ারি মাসে কালিয়াচকে যে অশান্তি, হিংসা ও আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটে, তাতে শুধু স্থানীয় দুষ্কৃতীরাই নয়, এনআইএ-র কাছে নির্দিষ্ট খবর— বাংলাদেশ থেকে ৫৪ জন জঙ্গি চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে কালিয়াচকে ঢুকেছিল। পদ্মাপারের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলায় জেএমবি-র একটি ডেরায় বসে মুজাহিদরাই এই পরিকল্পনাটি সাজিয়েছিল।

তিন, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে (ইউএপিএ) অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে বৈষ্ণবনগরের একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে আনার সময়ে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়েন। বোমা ছুড়ে, সড়ক অবরোধ করে এবং গাড়ি ভাঙচুর করে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়। গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই কাজের পাণ্ডাদের মধ্যে দু’জন সেই সময়ে বাংলাদেশের দু’টি মোবাইল নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ রাখছিল এবং সেখান থেকেই নির্দেশ পাচ্ছিল।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের মতে, বেআইনি ভাবে ভারতে ঢোকার সব চেয়ে সহজ পথ মালদহ সীমান্ত। এই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পরিবেশ-পরিস্থিতি সব দিক দিয়ে জঙ্গিদের মদত দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে। আইএসআই-এর পাঠানো কোটি কোটি টাকার জাল নোটের অধিকাংশটা এই পথেই ভারতে ঢোকে। মাদক, সোনা ও গরু চোরাচালানের সঙ্গে এই জাল নোট পাচারের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করে জামাত-জঙ্গিরাই। মালদহের ঠিক ও-পারে বাংলাদেশের রাজশাহি ডিভিশনের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা। গোটা রাজশাহি জুড়েই জেএমবি-র ঘাঁটি ছাড়ানো। এনআইএ-র এক কর্তার কথায়, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ জাল নোটের কারবারিদের প্রধান আড্ডা। গত বছর নভেম্বরে সেই শিবগঞ্জ থানায় গিয়ে ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পারেন, আগের এগারো মাসে জাল নোট সংক্রান্ত মাত্র তিনটি মামলা পুলিশের কাছে রুজু হয়েছে। তাজ্জব হয়ে যান তাঁরা।

সব দেখে ভারতীয় গোয়েন্দাদের মনে হয়েছে, কোনও এক অজানা কারণে বাংলাদেশের প্রশাসনের একটা অংশও রাজশাহি ও চাঁপাই নবাবগঞ্জের চোরাচালান ও জাল নোটের কারবার রুখতে ততটা তৎপর নয়। পুলিশের বদলে র‌্যাব (র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন) বা গোয়েন্দা সংস্থা এই এলাকায় বাড়তি নজরদারি চালালে জঙ্গিদের কাজকর্ম হয়তো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

রাজ্যের মন্ত্রী জামায়াত নেতা সিদ্দিকুল্লার হাসিনা বিরোধী লড়াইয়ের ডাক

পশ্চিমবঙ্গের নয়া মমতা মন্ত্রীসভায় জায়গা পাওয়া জামায়াত উলেমা এ হিন্দের রাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের বিরোধিতার ডাক দিলেন। কারণ হাসিনার শাসনে জামায়াত নেতারা বড় কষ্টে আছেন কিনা। সব ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলছে। কত অন্যায়, কত অবিচার করে চলেছেন শেখ হাসিনা ঐ মহান জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে যে পাকিস্তান পর্যন্ত প্রতিবাদ করেছে। সদ্য ফাঁসিতে ঝোলা নিজামিকে শহীদ মেনে তাদের এক অঙ্গ রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ঘোষণা করেছেন।

সিদ্দিকুল্লা তার ভাষণে বলেন, যে বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা দিয়ে ঘেরা আছে, তাই আমাদের এবার কিছু করতেই হবে। জামায়াত ভাইয়েদের উপর খুব অন্যায় অবিচার করছে হাসিনা, যা আমরা চলতে দিতে পারি না। বিচারের নামে চলছে গণহত্যা। অথচ দু’দেশের সংবাদ মাধ্যম কোন গুরুত্ব দেয় না। তিনি তৃণমূল, কংগ্রেস, ও সিপিএম দলকে বাংলা জামায়াতিদের সমর্থনে এগিয়ে আসতে বলেন। সিদ্দিকুল্লার আক্ষেপ যে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের জেতার ভোটের জন্য জামায়াতের দ্বারস্থ হলেও বাংলাদেশে জামায়াত ভাইদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলবেন না।

তিনি ভারতের হিন্দু মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের বাংলাদেশে জামায়াত নেতাদের বিচারের নামে গণহত্যার বিরুদ্ধে সরব হতে আহ্বান করেন। ১৭ই মে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর অনুযায়ী কলকাতা শহরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাকের ডগায় ১৫টি মুসলিম মৌলবাদী সংগঠন মিলে শেখ হাসিনা বিরোধী কনভেনশনে জামায়াত নেতা ও রাজ্যমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী বাংলাদেশে জামায়াত ই ইসলাম রক্ষার জন্য লড়াইয়ের ডাক দেন।

শুক্রবার কলকাতা শহরের প্রান কেন্দ্র রেডরোডের উপর তৃণমূলি নয়া মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়। লক্ষ মানুষের সমাগমের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনে জামায়াতকে সাথে নিয়ে জয়ী বিধায়কদের মধ্য থেকে নতুন মন্ত্রী পরিষদের নাম ঘোষণা হয়। মন্ত্রিত্ব পেলেন জামায়াত নেতা সিদ্দিকুল্লা।

এই শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন শেখ হাসিনা, জাপান সফরের জন্য তিনি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারলেও প্রতিনিধি মারফৎ একটি ঢাকাই জামদানি ও ইলিশ মাছ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সৌহার্দের প্রতীক হিসাবে প্রেরণ করেন।

মালদার হিন্দুরা চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে

image

মালদার আদিনাথ পরিবর্তিত হল আদিনায়। আদিনাথের মন্দির থেকে শিবলিঙ্গ উধাও। সরকারী সংরক্ষণে থাকলেও কার্যত মুসলমানদের দখলে এই মন্দির পরিসর। মুসলমানদের এই আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করে গত 17ই এপ্রিল শিবের আসনে জল ঢালতে গিয়েছিলেন প্রফুল্ল ঘোষ। চারদিক থেকে প্রচুর মুসলমান একত্রিত হয়ে ঘেরাও করেও তাঁকে সঙ্কল্পচ্যুত করতে পারেনি। জল তিনি ঢেলেছিলেন। বললেন অতীতেও ঢেলেছি, ভবিষ্যতেও ঢালবো। এই সাহসী হিন্দু যোদ্ধার দর্শন করে দিনটা শুরু করলাম।