অভিজিৎ সর্দার, পতিতপাবন নস্কর, অনাদি নস্কর, সুজিত নস্করের বলিদান স্মরণ হিন্দু সংহতির

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার অন্তর্গত ৩নং সোনাখালী গ্রাম। এই গ্রামের হিন্দুদের স্বাধীন ভাবে বাঁচার অধিকার ছিল না ২০০০ সাল নাগাদ। গ্রামের হিন্দুদের ওপর বিভিন্নভাবে অত্যাচার করতো মুসলিম দুষ্কৃতী আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে। হিন্দুদেরকে জমির ধান ট্যাক্স হিসেবে দিতে হতো, গরু চুরি করে নিয়ে যেত মুসলমানেরা, হিন্দু মেয়েদেরকে তুলে নিয়ে যেত মুসলমানেরা। রাজনীতি নেতারা, পুলিস-প্রশাসন কেউ হিন্দুদের সুবিচার দিতে পারেনি। তাই এর প্রতিকার করতে, হিন্দুদের স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার দিতে এগিয়ে এসেছিলেন গ্রামের কয়েকজন তরতাজা হিন্দু যুবক RSS এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে। তাদের নেতৃত্বে হিন্দুদের ঐক্য গড়ে ওঠে সোনাখালী ও আশেপাশের গ্রামে। সেই মতো তারা ২০০১ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি একটি বনভোজনের আয়োজন করে। কিন্তু তার আগের দিন ১০ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু যুবকদেরকে ঘিরে ধরে আনোয়ার হোসেন ও তার বাহিনী। গুলি করে , গলার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তরতাজা চার জন হিন্দু যুবককে-অভিজিৎ সর্দার, পতিতপাবন নস্কর, অনাদি নস্কর এবং সুজিত নস্করকে। তার প্রতিবাদে হিন্দুদের প্রতিক্রিয়ায় মুসলিমদের গ্রামছাড়া করা হয়। আজও পর্যন্ত সেই গ্রামে মুসলিমরা ফিরতে পারেনি। তাদের সেই বলিদানকে RSS কোনোদিন মনে রাখেনি।কিন্তু হিন্দু সংহতি প্রতিষ্ঠার পর হিন্দু সংহতি প্ররি বছর এই দিনটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আসছে।
গতকাল ১০ই ফেব্রুয়ারি, সেই দিনটিকে স্মরণ করা হলো হিন্দু সংহতির উদ্যোগে। তাদের সেই বলিদানকে স্মরণ করে এক স্মরণসভা এবং এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিলো। রক্তদান শিবিরে শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মীরা রক্তদান করে। গতকাল তাদের বেদিতে মালা দিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ করেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বিশিষ্ট নেতৃত্ব শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার, প্রমুখ কর্মী শ্রী শ্যামল মন্ডল, শ্রী মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমুখ।

Advertisements