বন্ধুত্ব পাতানোর মূল্য ১লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা দিতে হলো পাকিস্তানকে

bondhutto patanor mulyoপাকিস্তানের প্রতি সৌজন্যেরও ‘মূল্য’ চোকাতে হয়েছে ভারতকে। সব সমালোচনাকে অগ্রাহ্য করে ২০১৫ সালের ২৫শে ডিসেম্বর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে লাহোর গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সফরে প্রধানমন্ত্রীর পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহারের জন্য ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা দাম ধরানো হয় ভারতকে। আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে উঠে এসেছে এমনই তথ্য। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে বায়ুসেনার বিমান ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরের খরচ জানতে চেয়ে তথ্যজানার অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী লোকেশ বাত্রা। তা থেকে নানা চমকপ্রদ তথ্য জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার হল, এই দু’বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের সময় পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহারের জন্য ২ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা দিতে হয়েছে ইসলামাবাদকে। বায়ুসেনার বিমানে চড়ে নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, ইরান, ফিজি এবং সিঙ্গাপুর, এই ১১ দেশ সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করলে যাত্রী পরিবহণকারী বিমানকে তার দাম দিতে হয়। রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া ব্যবহার করেন। তার বিল মেটায় বিদেশমন্ত্রক। তবে বায়ুসেনার বিমান ব্যবহারের পাকিস্তানের কাছে আনুমোদন চাইতে হয়। দিতে হয় অতিরিক্ত মাশুল। প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য সেই অতিরিক্ত দামটাই দিতে হয়েছে। ২০১৬ সালের ২২-২৩ মে বায়ুসেনার বিমানে চড়ে পাকিস্তানের ওপর দিয়ে ইরান সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই বাবদ ৭৭ হাজার ২১৫ টাকা রুট নেভিগেশন চার্জ ধার্য করা হয়েছে। ওই বছরেই ৪-৬ জুন কাতার সফরের সময় পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহারের জন্য ৫৯ হাজার ২১৫ টাকা ইসলামাবাদকে দিয়েছে দিল্লি।

Advertisements

পাকিস্তানকে ভেঙে চারটুকরো করে দেওয়া উচিত ভারতের, মন্তব্য স্বামীর

pakistanke venge char tukroঅপমানের প্রতিশোধ চাইলেন সুব্রহ্মণ্যন স্বামী। কুলভূষণ যাদবের মা এবং স্ত্রীকে যে ধরনের হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে পাকিস্তানে, তার একমাত্র প্রতিশোধ পাকিস্তানকে ভেঙে চার টুকরো করে দেওয়া। এমনই মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য এই মুহূর্ত থেকেই প্রস্তুতি শুরু হওয়া উচিত বলেও সুব্রহ্মণ্যন স্বামীর মত। ‘‘খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানকে ভেঙে চার টুকরো করে দেওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময়টা এ বার এসে গিয়েছে।’’ …সংবাদমাধ্যমে মঙ্গলবার এমনই মন্তব্য করেছেন সুব্রহ্মণ্যন স্বামী।  মা ও স্ত্রীয়ের সঙ্গে কুলভূষণের ‘সাক্ষাৎ’ পর্ব ঠিক কেমন ছিল, বিদেশ মন্ত্রক সে তথ্য প্রকাশ্যে আনার পরেই সরব হন সুব্রহ্মণ্যন স্বামী। তিনি বলেন, ‘‘কুলভূষণের মা এবং স্ত্রীয়ের সঙ্গে যে আচরণ পাকিস্তানে করা হয়েছে, তা অনেকটা মহাভারতে বর্ণিত দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের মতো।’’ এই অপমানের প্রতিশোধ নিতেই হবে – দাবি করেন বিজেপি সাংসদ। পাকিস্তানকে ‘ঈর্ষাপরায়ণ’ এবং ‘প্রতিশোধপরায়ণ’ দেশ বলে আখ্যা দেন তিনি। পাকিস্তান সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সে দেশকে একাধিক খণ্ডে ভেঙে দেওয়াই একমাত্র পথ বলে সুব্রহ্মণ্যন মন্তব্য করেন। অবিলম্বে এবং অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করা উচিত ভারতের। মঙ্গলবার এমন কথাও বিজেপি সাংসদ বলেছেন।

মঙ্গলসূত্র খুলিয়ে স্ত্রীকে কুলভূষণের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দিল পাকিস্তান

নামেই ‘মানবিক’ সাক্ষাত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে স্ত্রী ও মাকে সাক্ষাত করতে দিলেও প্রতিমুহূর্তে পাকিস্তান বুঝিয়ে দিয়েছে দিন ঘনিয়ে আসছে তাঁর। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পাক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্ত্রী চেতনকুলকে মাথার টিপ, হাতের বালা এমনকী মঙ্গলসূত্র পর্যন্ত খুলে ফেলতে হল। যে পোশাক পরে তাঁরা দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাও খুলিয়ে দেওয়া হয়। পরতে দেওয়া হয় অন্য পোশাক। ফেরার সময়ে স্ত্রীর জুতো পর্যন্ত ফেরত দেয়নি পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ মা মাতৃভাষা মারাঠিতে স্বচ্ছন্দ হলেও, সেই ভাষায় তাঁকে ছেলের সঙ্গে কথাও বলতে দেওয়া হয়নি। গতকাল পাক বিদেশ মন্ত্রক তাদের ‘মানবিক মুখে’র কথা ঘটা করে ঘোষণা করলেও, আদতে যে একটি আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
গতকালই ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন নৌ কমান্ডার কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মাকে দেখা করতে দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লি সেই সাক্ষাতের ঘটনায় পাকিস্তানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। যেভাবে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কুলভূষণকে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে তা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করেছে বলে এদিন কঠোর নিন্দা করেছে বিদেশ মন্ত্রক। এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক বলেছে, যেভাবে কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মা দেখা করেছেন, তাতে তাঁর স্বাস্থ্য কতটা ভালো রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
এদিন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কুলভূষণ যাদবের পরিবার। গতকালের সাক্ষাতের বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন তাঁরা। এরপরেই ওই সাক্ষাতের ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া বিবৃতি দেয় বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ওই সাক্ষাতের যে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে যাদব অত্যন্ত চাপের মধ্যে ছিলেন। এবং তাঁকে অবাঞ্ছিত পরিবেশের মধ্যে কথা বলতে হয়েছে। কাচের দেওয়ালের আড়ালে ইন্টারকমের মাধ্যমে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলতে হয় কুলভূষণকে। কিন্তু প্রায় দু’বছর পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়া মা অবন্তী মাতৃভাষা মারাঠিতে কথা বলতে পর্যন্ত পারেননি। পাক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইংরেজিতে কথা বলতে হয়েছে স্ত্রী ও মাকে। ইংরেজিতে সড়গড় না হওয়ায় মাঝে মাঝেই মারাঠি বেরিয়ে আসছিল তাঁর স্ত্রী ও মায়ের। তৎক্ষণাৎ ওই আলোচনা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন উপস্থিত পাক আধিকারিকরা।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে অভিযোগ করা হয়, যেভাবে এই আলোচনাটি সংগঠিত করা হয়েছে ততে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট, তারা যাদবের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল তাই বহাল রাখতে চাইছে। তাই পাকিস্তানের এই ভূমিকার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। দু’দেশের সমঝোতার যে উদ্দেশ্য থাকে, তা-ই নষ্ট করে দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল পাক বিদেশ মন্ত্রক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল স্ত্রী ও মাকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ায় পাক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুলভূষণ। এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার স্পষ্টই বলেন, যাদব প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং একটি ভয়ের পরিবেশে কথা বলেছেন। তাঁর অধিকাংশ মন্তব্যই শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চরবৃত্তির যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান এনেছে, তাকে সত্য প্রমাণিত করতেই এই মিথ্যার বেসাতি জোর করে বলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল কুলভূষণের স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে ছিলেন ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার জে পি সিং। কিন্তু পাকিস্তান কূটনৈতিক সৌজন্য পর্যন্ত দেখায়নি। তিনজনে এক সঙ্গে পাক বিদেশ মন্ত্রকের ভবনে ঢুকলেও, তাদের আলাদা করে দেওয়া হয়। জে পি সিংকে আলাদা বসিয়ে রেখে কুলভূষণের স্ত্রী ও মাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই শুরু হয়ে যায় তাঁদের ‘সাক্ষাৎ’ পর্ব। আলোচনা যে শুরু হয়েছে তা জানতেও পারেননি তিনি। তখন জে পি সিং প্রতিবাদ করলে তাঁকে আলোচনাস্থলের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মূল জায়গায় ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়। সবমিলিয়ে পাকিস্তান যেভাবে কুলভূষণকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

লাহোরে নিজের দল মিল্লি মুসলিম লীগের পার্টি অফিস খুললো হাফিজ সইদ

Lahore nijer dol milliমার্কিন চাপ অগ্রাহ্য করেই নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করল মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ মহম্মদ সইদ। রীতিমতো ঘটা করে লাহোরে তাঁর দল মিল্লি মুসলিম লিগের একটি অফিসও খুলে ফেলেছে সে। সোজা কথায়, হাফিজ সইদ বুঝিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে মাথা নত করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে সে সরে আসবে না। ফলে পাকিস্তান এখন দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে গেল।

হাফিজ মহম্মদ সইদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী আগেই ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তার মাথার দাম ধার্য হয়েছে এক কোটি ডলার। সম্প্রতি পাক আদালতের রায়ে হাফিজের গৃহবন্দি দশা মুক্ত হওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করতে চাপ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকী, পাকিস্তান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাফিজকে নিকেশ করার কথাও ওয়াশিংটন ভেবেছে বলে পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে গোপন রিপোর্ট দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নিজের সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে মুম্বই হামলার মূল চক্রী। তবে সেটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মার্কিন চাপকে যে মানতে সে নারাজ তা বুঝিয়ে দিয়েছে হাফিজ। বস্তুত, ট্রাম্পকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে জেহাদের রাস্তা আরও জোরদার করে জনগণের সহানুভূতি আদায়ের পথ পরিষ্কার করতে চাইছে হাফিজ সইদ।

লস্কর-ই-তোইবা নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেই জামাত-উদ-দাওয়া নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল হাফিজ সইদ। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মাথা নত করে তাকে একসময় গৃহবন্দি করে পাক সরকার। কিন্তু আদালতের রায়ে বন্দিদশা কাটার পরেই ফের স্বমূর্তি ধারণ করেছে এই ভারত বিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদী। এবার রাখঢাক না রেখে নির্বাচনে লড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে সে। মিল্লি মুসলিম লিগের ব্যানারে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে জামাত লড়বে বলে জানায় হাফিজ।

পাকিস্তানে শিখদের ধর্মান্তরণের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সুষমা স্বরাজের

Pakistane Shikh Dhormantokoronপাকিস্তানের হাঙ্গু জেলায় শিখদের জোর করে মুসলিম হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিষয়টি নিয়ে তিনি অবিলম্বে পাক প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে কথা বলবেন বলে মঙ্গলবার তাঁর টুইটে জানিয়েছেন সুষমা। এ দিন তাঁর টুইটে ইসলামাবাদের ভারতীয় হাইকমিশনকে ট্যাগ করে বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমরা পাকিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে কথা বলব। হাঙ্গু জেলায় বসবাসকারী শিখদের ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।’’ গত ১৬ ডিসেম্বর পাক সংবাদপত্র ‘ট্রিবিউন’-এ ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বিষয়টি বিদেশমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য টুইট করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ। সেই টুইটে তিনি বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে পাক সরকারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান বিদেশমন্ত্রীকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে সুষমার ওই টুইট। গত শনিবার পাক সংবাদপত্র ‘ট্রিবিউন’ জানায়, হাঙ্গু জেলার খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে থাকা শিখদের সরকারি কর্তারা জোর করে মুসলিম বানাচ্ছেন। সেখানকার শিখ সম্প্রদায়ের তরফে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে হাঙ্গুর ডেপুটি কমিশনারের কাছে।

তাতে বলা হয়েছে, ‘‘দোয়াবায় আমাদের (শিখ) ধর্মীয় মতাদর্শের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। স্থানীয় শিখদের ধর্মান্তরণে বাধ্য করছেন তহশিলের সহকারী কমিশনার তাল ইয়াকুব খান।’’

হাঙ্গুর জেলা প্রশাসন অবশ্য ওই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, এক জনেরও ধর্মান্তরণ হয়নি।তবে একটা অভিযোগ যখন এসেছে, তখন তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় শিখদের নিয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছে হাঙ্গু জেলা প্রশাসন।

কাশ্মীরকে স্বাধীন করে একাত্তরের হারের বদলা নেবো, মন্তব্য হাফিজ সইদ-এর

kashmirke swadhin kore ekattorer harereকাশ্মীরকে স্বাধীন করে ১৯৭১-এ পাকিস্তানের হারের বদলা নেওয়া হবে। ফের হুঙ্কার দিল জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান ও মুম্বই হামলার মাথা হাফিজ সইদ। লাহোরে এক সভায় হাফিজ সইদের হুমকি, ‘‘পাকিস্তান ১৯৭১ সালের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছিল। সেই পরজয়ের বদলা নেওয়া হবে কাশ্মীরকে স্বাধীন করে।’’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই থামাতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আক্রমণ করে পাক সেনা। সে সময় পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনাকে আটকে দেয় ভারত। অসহায় পাক সেনারা ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ফলস্বরূপ স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই রাগ এখনও পুষে রেখেছে পাকিস্তান। সেই কথাই বেরিয়ে এল সইদের মুখ থেকে। জঙ্গি মদতের অভি‌যোগে বেশ কিছুদিন সইদকে গৃহবন্দি করে রাখে পাকিস্তান। তবে শেষপ‌র্যন্ত আদালতের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেয়েই সইদ ঘোষণা করে, কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে জামাত-উদ-দাওয়া। শনিবার নওয়াজ শরিফ ও তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের উদ্দেশ্যে সইদের বার্তা, তোমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে, পাকিস্তানকে রক্ষা করবে। কিন্তু তোমরা দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছ। তোমরা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলে। দেশের মানুষের সঙ্গে তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছ।

নিরাপত্তার দায়িত্বে চাই হিন্দু বা খ্রিস্টান আধিকারিক, দাবি পাকিস্তানের আইনমন্ত্রীর

nirapottar daitte hindu ba christian pakistanনিরাপত্তার দায়িত্বে চাই অমুসলিম নিরাপত্তা আধিকারিক। সম্প্রতি এমন অবাক করা দাবি করেছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ। মন্ত্রীমশাইয়ের দাবি, তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে ইসলামি চরমপন্থীরা। তাই মুসলিম নিরাপত্তা আধিকারিকদের বলয়ে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করছেন না তিনি। যদিও, সানাউল্লার দাবি এখনও মানেনি সরকার। সপ্তাহ কয়েক আগে এক টিভি সাক্ষাৎকারে সানাউল্লাহ দাবি করেন, মুসলিম ও আহমদিদের মধ্যে ফারাক আছে। এতেই ক্ষেপে ওঠে পাকিস্তানের চরমপন্থী মুসলিমরা। বেশ কয়েকদিন ধরে সানাউল্লাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন। এর পরই নিজের নিরাপত্তায় অমুসলিম আধিকারিক নিয়োগের দাবি জানান তিনি। যদিও তাঁর দাবি এখনো মানেনি স্থানীয় প্রশাসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে সানাউল্লার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সানাউল্লার দাবি, তাঁকে হিন্দু, খ্রিস্টান, আহমদি পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা দিতে হবে পুলিশ সুপারকে। পুলিশ তাঁকে পছন্দসই নিরাপত্তারক্ষী না দেওয়ায় বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি।