পদ্মাবতীর মাধ্যমে ভারতীয় নারীদের অপমান করা হয়েছে

পদ্মাবতীর বিরুদ্ধে এবার সরব অখিল ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন যোজনা। সংগঠনের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বালমুকুন্দ পাণ্ডে বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘এখনকার দিনের চলচ্চিত্র নির্মাতারা যে কোন মূল্যে টাকা রোজগার করতে চায়। আর তাই দেশের জাতীয় গৌরবকে তারা পরোয়া না করে চলচ্চিত্রে ইতিহাসকে বিকৃত করেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ভারতীয় ইতিহাসে রানি পদ্মাবতীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। সিনেমাটি শুধুমাত্র রানি পদ্মাবতীকেই অপমান করে থেমে থাকেনি একই সঙ্গে তারা ভারতীয় নারীদেরও অপমান করেছে।’’ বালমুকুন্দ পাণ্ডে মনে করেন এই সিনেমার মাধ্যমে ভারতীয় নারীদের চরিত্রকে কুলষিত করার প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

অখিল ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন যোজনার জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বালমুকুন্দ পাণ্ডে দাবি করেছেন শুধুমাত্র বাছাই করা কিছু মানুষকে ডেকে এই সিনেমাটি দেখালে চলবে না। বিষয়টি জাতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িত। উল্লেখ্য, অখিল ভারতীয় ইতিহাস সঙ্কলন যোজনা হচ্ছে আরএসএসের শাখা সংগঠন। ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এবং প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে সংগঠনটি কাজ করে থাকে। এদিকে সংসদে বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসবে সিনেমার পরিচালক সঞ্জয়লীলা বনশালী এবং সিবিএফসির প্রধান প্রসূন জোশী।

উল্লেখ্য সিনেমাটিতে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে বলে দাবি তোলে রাজস্থানের রাজপুত সংগঠন কার্নি সেনা। অন্যদিকে পয়লা ডিসেম্বর সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও আবেদন পত্রে ভুল থাকার জন্য তা খরিজ করে দেয় সিবিএফসি। পরে ফের আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে পদ্মাবতী মুক্তি পেলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে বলে কেন্দ্রকে জানিয়েছে মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাটের রাজ্য সরকারগুলি। পাশাপাশি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেছেন প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ছাড়া সিনেমাটি বিহারে প্রদর্শিত হবে না।

Advertisements

রানী পদ্মিনী ‘রাষ্ট্রমাতা’, মূর্তি তৈরী করবেন শিবরাজ সিংহ চৌহান

rani podmini rashtromata shibraj madhya pradeshএবার রানী পদ্মিনীকে ‘রাষ্ট্রমাতা’ বলে দাবি করলেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। তিনি একই সঙ্গে ঘোষণা করলেন রাজ্যে রাষ্ট্রমাতা পদ্মিনীর মূর্তি তৈরি করবেন। সঞ্জয়লীলা বনশালীর ‘পদ্মাবতী’র মুক্তি নিয়ে দেশ জুড়ে যখন বিদ্রোহ, প্রতিবাদ তুঙ্গে তখন সেই সুর একধাপ চড়িয়ে দিয়েই নিজের রাজ্যে ’পদ্মাবতী’র মুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন শিবরাজ। তারপরেই রানী পদ্মিনীকে রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা করে মূর্তি তৈরি করার কথা জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। এখানেই শেষ নয় রানী পদ্মিনীর নামে পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। নারী উন্নয়নে যে মহিলারা উল্লেখযোগ্য কাজ করবেন তাঁদের দেওয়া হবে এই রাষ্ট্রমাতা পদ্মিনী পুরস্কার। মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইতিহাসের অপব্যাখ্যা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সম্মান রক্ষায় রানী পদ্মিনীর আত্মবলিদান শৈশব থেকে সকলে শুনে আসছি। তাঁর সম্মানহানি হতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, রানী পদ্মিনী আদর্শ ভারতীয় নারীর প্রতিচ্ছবি। তাঁর সম্মানেই রাজ্যের রাজধানীতে মূর্তি তৈরি করার কথা ঘোষণা করেছেন শিবরাজ সিং চৌহান।

পদ্মাবতী সিনেমার সমর্থনে টুইট করলেন মমতা ব্যানার্জী

যোগী আদিত্যনাথের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে এলেন পদ্মাবতী বিতর্কে৷ এবার টুইট করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সঞ্জয় লীলা বনশালীর পদ্মাবতী ছবি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে৷ এই ছবি যাতে মুক্তি না পায় তার জন্য এখন উঠে পড়ে লেগেছে রাজস্থানের করণি সেনা৷ এদিকে, কলকাতায় কি করে করণি সেনা এল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত, তার খোঁজ করতে শুরু করেছে পুলিশের গোয়েন্দারা৷

প্রবল বিতর্কে ‘ব্যাকগিয়ার’ নিতে বাধ্য হয়েছে ছবির প্রযোজক সংস্থা ‘ভায়াকম ৮’-ও৷ ছবি মুক্তির তারিখ পিছিয়ে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা৷ ফলে পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী আগামী পয়লা ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে না পদ্মাবতী৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গত ২০শে নভেম্বর, সোমবার ট্যুইট করে জানান, ‘‘পদ্মাবতী নিয়ে বিতর্ক শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, এটি একটি রাজনৈতিক দলের সুচিন্তিত পরিকল্পনা৷ জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্বের পরিকল্পনা৷ এই ‘সুপার এমারজেন্সি’র নিন্দা করছি৷ চলচ্চিত্র জগতের সবাই একযোগে প্রতিবাদ করুন৷’’

পদ্মাবতী সিনেমাহলে চললে দেখে নেবো আমরা : ভারতীয় ক্ষত্রিয় সমাজ

সঞ্জয় লীলা বনশালি পরিচালিত সিনেমা ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে বিতর্কের রেশ এবার সরাসরি এসে পড়ল বাংলায়। শুধু তাই নয়, তথাকথিত গো-বলয়ের অন্তর্ভুক্ত রাজ্যগুলির ধাঁচে এখানেও কার্যত হুমকি দিয়ে ঘোষণা করা হল, ‘পদ্মাবতী’ কোনও প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর ব্যবস্থা হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে। সেক্ষেত্রে তার দায় সম্পূর্ণভাবেই নিতে হবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার এবং ছবির পরিচালককে। শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ভারতীয় ক্ষত্রিয় সমাজ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মনোজ সিং আদর্শ, ব্রাহ্মণ মহাসভার নেতা নবীন মিশ্রাসহ একাধিক নেতা জানিয়ে দেন, ইতিহাস বিকৃত করে এই ছবি বানানো হয়েছে। পদ্মাবতী আমাদের কাছে পরম শ্রদ্ধেয়া একজন দেবী। তাঁকে নিয়ে যা খুশি দেখানো আমরা মেনে নেব না। এরপরই নবীন, মনোজরা জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে এই ছবির বিতর্কিত অংশ বাদ যাবে। যেভাবে পদ্মাবতীকে নর্তকী হিসাবে দেখানো হয়েছে একটি গানে, তা মানা যায় না। আমরা আশা করছি, কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটবে। তবে ওই নির্দিষ্ট গান এবং গল্পের কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তন না করে এই ছবি দেখানোর ব্যবস্থা হলে সিনেমা হলে ঘেরাও হবে। তাঁদের আন্দোলন হিংসার পথে যাবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষত্রিয় সমাজের নেতারা বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই প্রতিবাদ করতে চাই। তবে যেভাবে প্রকাশিত বিবৃতি বা সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণের মধ্যে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলে জানানো হয়েছে, তাতে বিষয়টিকে কার্যত হুমকি হিসাবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বিখ্যাত চিত্র পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালির এই ছবিটি তৈরির সময় থেকেই নানা বিতর্কে জড়িয়েছে। আগামী ১ ডিসেম্বর ছবিটি প্রকাশের দিন স্থির ছিল। তার আগে বিতর্ক এবং প্রতিবাদ অন্য মাত্রা নেয়। রাজস্থান তো বটেই, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশের পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু, কর্ণাটকেও ছবিটির প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হন কিছু মানুষ। রাজস্থানের শ্রী রাজপুত করণী সেনা ছবির প্রধান অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের নাক কেটে নেওয়ার নিদান দেয়। বেশ কিছু হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ছবির পরিচালকের মাথার দাম ঘোষণা করে ফতোয়া দেওয়ার কায়দায়। অন্যদিকে, দেশের বরিষ্ঠ ঐতিহাসিক থেকে শুরু করে বলিউডের একতা কাপুর, শাবানা আজমি সহ অনেকেই এই প্রতিবাদের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ইতিহাসবিদদের একটা বড় অংশ ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, পদ্মিনী বা পদ্মাবতী নামে কোনও চরিত্রের অস্তিত্ব লোকগাথা, মুখে মুখে ফেরা কাহিনীতে থাকলেও এর কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। সেই জায়গা থেকে এই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগেরও কোনও সারবত্তা নেই। তবে এসব শুনতে রাজি নয় ভারতীয় ক্ষত্রিয় সমাজসহ অন্য প্রতিবাদকারী সংগঠন। তাদের সাফ কথা, কোনওভাবেই রাজপুতদের বীরত্বের ঐতিহ্য এবং পদ্মাবতীর গৌরবগাথাকে ছোট করা যাবে না। কিন্তু সমালোচনাকারীরা পুরো ছবিটিই না দেখে কীভাবে সমালোচনা করছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে নবীন মিশ্রা বলেন, আমরাও প্রোমো বা ট্রেলর দেখেছি। তাতেই যে আভাস পাওয়া গিয়েছে, সেখান থেকেই প্রতিবাদ। এই প্রতিবাদ জানাতে সংগঠনের তরফে ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ২২নভেম্বর এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে স্মারকলিপিও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষত্রিয় সমাজের কর্তারা।