জলপাইগুড়িতে দুই নারী পাচারকারী গ্রেপ্তার

জলপাইগুড়ি জেলায় ইদানিং নারী পাচার বেড়ে গিয়েছে।  আর সেই জেলাতে নারী পাচার চক্রের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল কোতোয়ালি থানার পুলিশ।গত ১৭ই ডিসেম্বর, রবিবার রাতে ওই দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাসিরউদ্দিন মোল্লা ও সোভারুল ইসলাম। তাদের বাড়ি মালদহের কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগরে। মালদহের এক মহিলাকে নেপালে পাচারের উদ্দেশে তারা জলপাইগুড়িতে এসেছিল। কোতোয়ালি থানার পুলিশ এদিন ফাঁদ পেতে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে ও দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে।

Advertisements

আলিপুরদুয়ারের রায়মাটাং চা বাগানে ছাত্রী নিখোঁজ, পাচার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা

আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি থানার অন্তর্গত রায়মাটাং চা বাগানের বাসিন্দা দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত ১নভেম্বর সকালে স্কুলে যায় কালচিনি হিন্দি হাইস্কুলের ওই ছাত্রীটি। কিন্তু আর বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। ছাত্রীর পরিবারের ধারণা মেয়ে নারী পাচারচক্রের খপ্পরে পড়তে পারে। কারণ ইদানিং চা বাগান এলাকায় নারীপাচার প্রচুর সংখ্যায় হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগেই এক নারীপাচারকারী সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ফলে পাচার হয়ে যাবার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এনিয়ে তারা কালচিনি থানায় সন্দেহভাজন একজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে। পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথন বলেন, রায়মাটাং চা বাগান থেকে এক স্কুল ছাত্রী নিখোঁজ হয়েছে। ছাত্রীটিকে উদ্ধারে সব রকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তিন নারীপাচারকারী লিটন শেখ, আমির শেখ ও ফিরদৌস শেখ গ্রেপ্তার

girls trafickingনাবালিকা পাচারের তদন্তে নেমে কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরুতে নাবালিকা পাচার চক্রের যোগাযোগ পেল পুলিশ। সেই সূ্ত্রে পশ্চিম বন্দর থানার একটি তদন্তকারী দল কলকাতা থেকে বেঙ্গালুরু পাড়ি দিয়ে ভিন্‌ রাজ্যের একটি পাচার চক্রের তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে বেঙ্গালুরুর রামনগর জেলার বৈদারহালি থানা এলাকার একটি ডেরা থেকে লিটন শেখ, আমির শেখ এবং ফিরদৌস শেখ নামে ওই তিন জনকে ধরা হয়। সোমবার ধৃতদের স্থানীয় আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আজ, মঙ্গলবার ধৃতদের কলকাতায় নিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে পশ্চিম বন্দর থানা এলাকার এক কিশোরীকে পরিচারিকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেন স্থানীয় দুই যুবক শেখ সেলিম এবং জিকু মোল্লা। পরিচিত হওয়ায় তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে ওই কিশোরী।পুলিশের কাছে অভিযোগে কিশোরী জানিয়েছে, সেলিম এবং জিকু তাকে বেঙ্গালুরু নিয়ে গিয়ে আন্দ্রাহালি নামে এক জায়গায় একটি বহুতলে আটকে রাখে। পরে তাকে দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করা হয়। কয়েক মাস পরে কোনও ভাবে কলকাতায় পালিয়ে আসে ওই কিশোরী। ২২ অক্টোবর এলাকায় সে সেলিম ও জিকুকে দেখে। পুলিশের দাবি, পাচারকারীদের চোখের সামনে ঘুরতে দেখে ভয় পেয়ে পুলিশে অভিযোগ জানালে গ্রেফতার করা হয় ওই দু’জনকে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের
জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই ভিন্ রাজ্যের পাচারকারী চক্রের খোঁজ মেলে। যারা কলকাতা থেকে নাবালিকা এবং মহিলাদের মোটা টাকার বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যেত। পরে সেখানে তাঁদের বিক্রি করে দেওয়া হত।

পুলিশ জানায়, কলকাতায় ধৃত সেলিম তদন্তকারীদের জানায়, ওই চক্রের সদস্যেরা বেঙ্গালুরুতে রয়েছে। সেই মতো কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) সৈয়দ ওয়াকার রেজার নির্দেশে পশ্চিম বন্দর থানার একটি বিশেষ দল সেলিমকে সঙ্গে নিয়েই বেঙ্গালুরু যায়। পরে সেখান থেকে উত্তর বেঙ্গালুরুর রামনগর জেলার বৈদারহালিতে হানা দিয়ে তিন জনকে ধরে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বেঙ্গালুরু থেকে ধৃত তিন দুষ্কৃতীই বাংলাদেশের বাসিন্দা। বছর চারেক আগে তারা কলকাতায় আসে। পরে তারা বেঙ্গালুরুতে ঘাঁটি তৈরি করে। ধৃতদের জেরায় তদন্তকারীরা জেনেছেন, সেলিম
এবং জিকু মোটা টাকার বিনিময়ে বন্দর এলাকার নাবালিকা এবং মহিলাদের কাজের নাম করে বেঙ্গালুরু নিয়ে যেত। সেখানে প্রথমে হোটেলে রাখার পরে পাচার হওয়া মহিলাদের তুলে দেওয়া হত লিটন, আমির এবং ফিরদৌসদের মতো চক্রের পাণ্ডাদের হাতে। পরে তারা ওই মেয়েদের জোর করে দেহ ব্যবসায় নামাতো। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সেলিম এবং জিকুর মতো এমন চক্রের এজেন্ট ছড়ানো রয়েছে। শুধুমাত্র কলকাতা থেকে গত কয়েক বছরে পাঁচ জনেরও বেশি নাবালিকাকে পাচার করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছে ধৃতেরা।

তবে বেঙ্গালুরু থেকে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হলেও কোনও নাবালিকাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বেঙ্গালুরুতে অভিযুক্তদের বেশ কয়েকটি ডেরা রয়েছে। এ ছাড়া ধৃত পাচার চক্রের বাকি
সদস্যরা কোথায় এবং ধৃত বাংলাদেশিরা কী করে এ দেশে ঢুকেছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।

দিল্লীতে গ্রেপ্তার নারী পাচারচক্রের মাথা মুসলিমা বিবি

আন্তঃ রাজ্য নারী পাচারকারী চক্রের প্রধান মাথা মুসলিমা বিবি। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার,উত্তরপ্রদেশ জুড়ে মেয়ে পাচারের নেটওয়ার্ক চালায় সে। সে গত একবছরে শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫০-এর বেশি মেয়েকে টোপ দিয়ে দিল্লী ও হরিয়ানার যৌনপল্লীতে বেচে দিয়েছে। গত কয়েকমাস আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার পাচার হয়ে যাওয়া ছ’টি মেয়েকে দিল্লির নিষিদ্ধপল্লী থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন সুন্দরবন জেলার পুলিশ আধিকারিকরা। তখন উদ্ধার হওয়া মেয়েরা  পিঙ্কি পান্ডার নাম বলেন। এরপর  পিঙ্কি পান্ডার খোঁজে তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। কিন্তু তদন্তে উঠে আসে মুসলিমা বিবির নাম – যা চমকে দেয় গোয়েন্দাদের। মুসলিমা বিবিই নিজের নাম পাল্টে হিন্দু নাম পিঙ্কি পান্ডা নিয়ে গরিব পরিবারের হিন্দু মেয়েদেরকে দিল্লিতে মোটা মাইনের কাজ পাইয়ে দেবার টোপ দিতো। আর সেই ফাঁদে পা দিলেই মেয়েদেরকে দিল্লী ও হরিয়ানায় যৌনপল্লীতে বিক্রি করে দিতো। গত শুক্রবার, ২০শে অক্টোবর রাতে সেই মুসলিমা বিবিকে দিল্লীর অভিজাত এলাকার ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করলো পুলিশের স্পেশাল অপারেশন গ্রূপ। এই বিষয়ে সুন্দরবন জেলার পুলিশ সুপার তথাগত বসু বলেন, ”ওই পাচারকারীকে ধরার কাজে দিল্লী পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শক্তিবাহিনী সাহায্য করেছে। প্রায় দীর্ঘ দশবছর ধরে মুসলিমা বিবিকে খোঁজা হচ্ছিলো”। কয়েকদিনের মধ্যে তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হবে। তাকে জেরা করে আরো অনেক পাচার হয়ে যাওয়া মেয়ের খোঁজ পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

পাচারের আগে আলিপুরদুয়ারে উদ্ধার ২ আদিবাসী যুবতী, গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন

বেশিরভাগ চা বাগানই বন্ধ। কাজ নেই, বাড়িতে অভাব। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আদিবাসী পরিবারের মেয়েদেরকে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভারতের অন্য রাজ্যের যৌনপল্লীগুলিতে। রীতিমতো দল বেঁধে  পাচারকারীরা ঘাঁটি গেড়েছে চা বাগানগুলিতে। কাজের  টোপ দিয়ে  ভিনরাজ্যে পাচারের আগে কালচিনি থানার পুলিশ ১৪ই অক্টোবর, শনিবার সকালে হাসিমারা থেকে দুই আদিবাসী যুবতীকে উদ্ধার করে। নারীপাচারের অভিযোগে এদিনই পুলিশ এক মহিলাকে আটক করে এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কালচিনি থানার ওসি লাকপা লামা বলেন, কালচিনির একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে চা বাগানের দুই যুবতীকে এদিন হাসিমারা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন নামে নারীপাচার চক্রের এক পান্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক মহিলা এজেন্টকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর দুই যুবতীকে তাদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই যুবতীর বাড়ি কালচিনির ভাতখাওয়া চা বাগানে। গত পাঁচ দিন ধরে ওই দু’জন নিখোঁজ ছিল। এনিয়ে যুবতীদের পরিবার পুলিশকে অভিযোগও জানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে লোহিত এক্সপ্রেসে দুই কিশোরীকে এদিন পাচারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেকারণেই তাদের হাসিমারায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন পুলিশ হাসিমারা থেকে তাদের উদ্ধার করে।

নারীপাচারকারীকে ধরতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশকর্মীরা,আহত ৫

pulish

(ছবিতে আহত পুলিশ কর্মীরা )

নারী পাচারকারী কালাম তরফদারকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার প্রতিবেশী ও সঙ্গীদের হাতে বেধড়ক মার খেলেন পুলিশকর্মীরা। ঘটনাটি গত ১৪ই অক্টোবর শনিবার উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোপালনগর থানার অন্তর্গত গঙ্গানন্দপুর পঞ্চায়েতের মাঝডোবা গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে,এই ঘটনায় এক মহিলা এএসআই সহ দুই পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন। গত ১২ই অক্টোবর,বৃহস্পতিবার কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা নামের এক নারী পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। তার সহযোগী কালাম তরফদারকে ধরতে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ গোপালনগর থানার পুলিশকে নিয়ে ওই গ্রামে যায়। তখনই আক্রান্ত হয় পুলিশ। বলাই বাহুল্য,পুলিশকে আক্রমণকারীরা সকলেই ছিল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের।