দিনে ফেরি,রাতে নাবালিকাকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই মুসলিম যুবক

ফাঁকা রাস্তা থেকে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা এবং তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভিনজেলার দুই ফেরিওয়ালা মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানার পুলিস। গত ৬ই জানুয়ারী, রবিবার রাতে কাঁথি থানার বেণীচক গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের অটোতে ভাঙচুর চালায় এবং তাদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিস উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই কিশোরীর আত্মীয়র অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই দুই মুসলিম যুবক অটোতে করে বিভিন্ন জিনিস ফেরি করতো।  রবিবার রাতে দেশপ্রাণ ব্লকের পেটুয়া থেকে ফেরি করে কাঁথি ফিরছিলো। সেই সময় কাঁথি-রসুলপুর রাজ্য সড়কের শ্যামপুরের কাছে বাড়ি আসার জন্যে অটো ধরতে দাঁড়িয়ে ছিল এক কিশোরী তাঁর মা। তারা যাত্রীবাহী অটো মনে করে হাত দেখায়, তখন তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেয়।  গাড়ি একটু এগিয়ে যেতেই কিশোরী ও তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে দুই যুবক। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই কিশোরীর মাকে ঠেলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আনিস ও হাসিবুল ওই কিশোরীকে মুখ চাপা দিয়ে তাদের গাড়িতে করে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বিপদ বুঝে ওই কিশোরী কোনওরকমে মুখের কাপড় সরিয়ে চিৎকার শুরু করতেই স্থানীয় পথচলতি মানুষজন দৌড়ে আসেন। তাঁরা পিছু ধাওয়া করে ওই গাড়িটিকে ধরে ফেলেন। পাকড়াও করা ওই দুই যুবককে। শুরু হয় গণধোলাই। গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়েই পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের শেখ হাসিবুল ও নদীয়া জেলার নবদ্বীপের বাসিন্দা শেখ আনিস। ধৃতরা এই ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। মঙ্গলবার দু’জনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কাঁথি থানার আইসি সুনয়ন বসু বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।