ত্রিপুরায় গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা জেএমবি জঙ্গি নাজির শেখ

গতকাল ৫ই মার্চ, ত্রিপুরা পুলিস আগরতলা থেকে নাজির শেখ নামে এক জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে।  বছর পঁচিশের নাজিরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। সে আগরতলায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার ডিজি এ কে শুক্লা জানিয়েছেন যে, নাজির ২০১৩ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত। ডিজি আরও বলেন যে বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের মুলচক্রী কওসরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো নাজির। পুলিস জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে গোয়েন্দাদের একটি দল এবং পুলিস মিলিতভাবে আগরতলার অরুন্ধুতি নগর থেকে নাজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের সন্দেহ, ধৃত নাজির রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি জেএমবি-এর কাজ করছিলো। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জেরা করছে পুলিস।

জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর জঙ্গি শিস মহম্মদ গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদে

Jamatul Mujahidin Bangladeshরাজ্য থেকে ফের গ্রেপ্তার জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর জঙ্গি। গতকাল ৩রা ফেব্রুয়ারী, শনিবার মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ধৃত জঙ্গির নাম শিস মহম্মদ। বাড়ি শামসেরগঞ্জের ইলিজাবাদ গ্রামে। সে গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি পয়গম্বর শেখের সঙ্গী। গত মাসে বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরক পাচারে পয়গম্বরের সঙ্গে শিসেরও হাত ছিল বলে পুলিশের দাবি। শিসকে শনিবার কলকাতায় এনে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এসটিএফ জানিয়েছে, শিস বিস্ফোরক তৈরিতে ওস্তাদ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর কিছু দিন চুপচাপ থাকলেও গত বছর থেকে তারা মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় নব্য জেএমবি গঠনের কাজ শুরু করে। এই সংগঠনের ৬-৭টি মডিউলের খোঁজ ইতিমধ্যেই মিলেছে। প্রতিটি মডিউলে ১০-১২ জন জঙ্গি আছে বলে খবর। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম লাগোয়া জেলাগুলির সঙ্গে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও বাংলাদেশে নব্য জেএমবি-এর শিকড় ছড়িয়েছে মূলত পয়গম্বর ও শিসের হাত ধরেই।

বাংলাদেশের নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গ শাখার প্রধানসহ চার ভয়ঙ্কর জঙ্গি গ্রেপ্তার

bangladesher nobbo jmb er uttorbongo sakhar prodhanনিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গ সামরিক শাখার প্রধান সুরা সদস্য বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টারসহ(৪৫) চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া চার জঙ্গি রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে ধৃতদের মধ্যে বাবুল মাস্টার ছাড়াও রয়েছে নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান, আলমগীর হোসেন ওরফে আরিফ এবং আফজল হোসেন ওরফে লিমন। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ৪টি বার্মিজ চাকু ও ১টি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

বগুড়ার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমান সিএনজি চালক হিসেবে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে পলি আক্তারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে জঙ্গি ঘাঁটি গড়ে তোলে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথে ইউরো বিস্ফোরক জেল, আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে এখানে মজুত করা হতো। মিস্ত্রি নিজে হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরির সরঞ্জাম বগুড়া শহরের বিআরটিসি মার্কেটের বিভিন্ন দোকান থেকে সংগ্রহ করত। পরবর্তীতে মিস্ত্রি, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার জোড়বাড়িয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের ছেলে জেএমবি চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামরিক শাখা প্রধান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাইজুল ইসলাম খান ওরফে নোমান ওরফে রাসেল ওরফে ফারদিন এবং সিরাজগঞ্জ সদরের জামুয়া গ্রামের মওলানা আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম জুয়েলসহ হ্যান্ড গ্রেনেড তৈরি করে দেশের বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় সরবরাহ করত। পাশাপাশি জঙ্গি সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিত। উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ এই জঙ্গি ঘাঁটিতে নব্য জেএমবির প্রথম সারির নেতা তামিম চৌধুরী, মারজান, সাগর, রাজীব গান্ধী, বাবুল মাস্টার, রিপন, কওসর, ওসমান, মমিন ও রজবসহ অনেকে নিয়মিত আসা যাওয়া করত। এই আস্তানা থেকেই ২০১৫-১৬ সালে উত্তরবঙ্গে সংগঠিত বিভিন্ন টার্গেট কিলিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের ২৬ নভেম্বর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়া মসজিদে হামলায় ব্যবহৃত একে-২২ রাইফেল ও বিদেশি পিস্তল শেরপুরের আস্তানা থেকে সরবরাহ করা হয়।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুরের জঙ্গি ঘাঁটিতে বিস্ফোরণের দিন, ২০১৬ সালের ৩ এপ্রিল নামাজ শেষে জুয়েল ও ফারদিন গ্রেনেড তৈরির কাজ করছিল। একটি গ্রেনেড তৈরির পর কালো টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে জুয়েল তা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকে। তখন দেলোয়ার মিস্ত্রি ও ফারদিনসহ কয়েকজন জঙ্গি ওই ঘরে বসে গল্প করছিল। রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোডশেডিং হলে দেলোয়ার মিস্ত্রি মোমবাতি জ্বালানোর জন্য ঘর থেকে বের হয়। ঠিক তখনই বিকট শব্দে একটি গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর মিস্ত্রি আহত জুয়েলকে টেনে অন্য ঘরে নিয়ে যায়। আর ফারদিন ওই রুমেই পড়েছিলে। পরে দেলোয়ার মিস্ত্রি গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত ফারদিন ও জুয়েলকে ফেলে ব্যাগে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল ও কিছু গোলাবারুদ নিয়ে দ্রুত পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সে পাশের একটি আমবাগানে ব্যাগটি লুকিয়ে রাখে। সেখান থেকে শাজাহানপুরের জঙ্গি মোমিন ওই রাইফেল এবং কাওসর নামে এক জঙ্গি পিস্তলটি নিয়ে পালিয়ে যান। এছাড়া অন্য জঙ্গিরা যে যার মতো করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বগুড়ার শিবগঞ্জের শিয়া মসজিদে হামলার অন্যতম আসামি কাওসর ২০১৬ সালে বগুড়ায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। এছাড়া মোমিন ওই অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়। শিয়া মসজিদে হামলার সময়ও গুলিতে একজন নিহত এবং তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, ঢাকার গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবির উত্তরবঙ্গ শাখার সামরিক প্রধান রাজীব গান্ধী ওরফে জাহাঙ্গির আলম গ্রেপ্তারের পর বাবুল আখতার ওরফে বাবুল মাস্টার তার স্থলাভিষিক্ত হয়। তার সাংগঠনিক নাম বাবুল মাস্টার। গত ২০০৩ সালে জেএমবিতে যোগদান এবং ২০১৩ সাল পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলায় জেএমবির সদস্য সংগ্রহের কাজ পরিচালনা করে। বাবুল ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগদান করে। সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ হওয়ায় ২০১৭ সালের প্রথমদিকে উত্তরবঙ্গ সামরিক প্রধান হওয়ার পর সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, হামলার টার্গেট নির্ধারণ, অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পায়। চলতি বছরে মে মাসে নব্য জেএমবির শুরার সদস্য পদ পায়।

দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিস্ত্রি ওরফে মিজানুর রহমানের(৩৯) স্ত্রী, চার ভাই, ভাতিজা খায়রুল (বগুড়ায় ধৃত), ভাগ্নে মেহেদিসহ (পলাতক) পরিবারের অন্তত ১০ সদস্য নব্য জেএমবির সঙ্গে জড়িত। বড় ভাই ইউসুফ হাজি গত বছর বগুড়ায় গ্রেপ্তার হয়। দেলোয়ার ২০০৫ সালে বড় ভাইয়ের (ইউসুফ হাজি) মাধ্যমে জেএমবিতে যোগদান করে। ২০১২ সাল পর্যন্ত জেএমবির দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে নওগাঁ, নাটোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাজ করে। জঙ্গি তামিম চৌধুরীর পর ২০১৩ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জুনুদ আত তাওহিদ আল খিলাফাহে যোগ দেয়। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগদান এবং বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাট, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার জঙ্গিনেতা হিসেবে কাজ শুরু করে। মিস্ত্রি ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহির বাগমারায় আহম্মদিয়া মসজিদে বাংলাদেশের প্রথম আত্মঘাতী হামলার প্রধান সমন্বয়কারী ছিল। ওই হামলায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ওরফে নইম তার আপন ছোট ভাই। নইম ২০১৬ সালে রাজশাহিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। অপর ছোট ভাই মোয়াজ্জেম চলতি বছরের ১৬ নভেম্বর নওগাঁর আত্রাই থানায় জঙ্গি বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়। দেলোয়ার হোসেন ২০১৫ সালের শেষের দিকে বগুড়ার শেরপুরের গাড়িদহ ইউনিয়নের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে উত্তরবঙ্গে নব্য জেএমবির সর্ববৃহৎ আস্তানা গড়ে তোলে।

পুলিশ সূত্রের খবর, আলমগীর হোসেন ওরফে আরিফ(২৬) ২০১৬ সালের মাঝামাঝি শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি নেতা সাগরের মাধ্যমে জেএমবিতে যোগ দেয়। ধৃত আফজল হোসেন ওরফে লিমন(২৮) গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ব্যবসা করত। ২০১৬ সালের প্রথমদিকে সে তার সব সহায়-সম্বল বিক্রি করে জেএমবিতে যুক্ত হয়। তার পিছনে ছিল সেই শীর্ষ স্থানীয় জঙ্গি নেতা রাজীব গান্ধীই।

ঢাকায় দুই জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করলো র‌্যাব

গত ১৮ই অক্টোবর,বুধবার ঢাকার সবুজবাগ ও ওয়ারী এলাকা থেকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের গিয়াসউদ্দিন (৩৪) ও লিটন(৩৪) নামের জেএমবি’র দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১ সদস্যরা। বুধবার বেলা ২টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত র‌্যাব সদস্যরা ঢাকার সবুজবাগ ও ওয়ারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত গিয়াসউদ্দিন রূপগঞ্জ থানার সন্ত্রাস দমন আইনের মামলার (নং-২৭) পলাতক আসামী ও লিটন বন্দর থানার সন্ত্রাস দমন আইনের মামলার (নং-৬৯) পলাতক আসামী। বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র‌্যাব-১১ এর ব্যাটালিয়ান সদর দফতর থেকে র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। র‌্যাব প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়, গিয়াসউদ্দিন ২০১২ সালের মাঝামাঝি জসিম উদ্দিন রাহমানির বাবুর্চি হিসেবে কাজ শুরু করে। এ সময় সে জসিম উদ্দিন রাহমানির উগ্রবাদী বক্তব্য শোনার মধ্য দিয়ে জঙ্গীবাদে উদ্ধুদ্ধ হয়। আরিফ হোসেনের মাধ্যমে সে জেএমবিতে  (সারোয়ার-তামীম গ্রুপ) যোগদান করে এবং নতুন সদস্য নিয়োগের  কাজ শুরু করে। সে পরবর্তীতে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রিক্সা চালাতো এবং মাঝে মাঝে ঢাকার বিভিন্ন হোটেলে বার্বুচির কাজও করত।

এই সকল কাজের অন্তরালে সে জেএমবির কাজ করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত লিটন ২০১২ সালে জসিম উদ্দিন রাহমানির মসজিদে যাতায়াত শুরু করে এবং জঙ্গীবাদে উদ্বুদ্ধ হয়। ২০১৩ সালে জনৈক মুনতাসির এর সাথে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে ২০১৫ সালে মুনতাসিরের মাধ্যমে জেএমবিতে (সারোয়ার-তামীম গ্রুপ) যোগদান করে কাজ শুরু করে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র‌্যাব জানায়।