জালনোটসহ চোরাই বাইক উদ্ধার মুর্শিদাবাদে

jalnotsoho chorai byke uddharজাল নোটের রমরমা কারবার ছিলই, এবার চোরাইবাইক কেনাবেচার সঙ্গেও জড়িয়ে গেল মালদহের বৈষ্ণবনগর এবং কালিয়াচকের নাম। সোমবার থেকে ফারাক্কার বিভিন্ন জায়গায় দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে ৬টি চোরাই মোটরবাইকসহ দু’লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে ফারাক্কা থানার পুলিশ। এ ব্যাপারে জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের সকলেরই বাড়ি হয় বৈষ্ণবনগর না হয় কালিয়াচকে। গত জুন মাসেও তিন দিনের অভিযানে ফারাক্কায় উদ্ধার হয় ১৫টা চোরাই মোটরবাইক। সমস্ত বাইকই ঝাড়খণ্ড ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করে আনা। ফারাক্কায় বহুদিন থেকেই চোরাইবাইকের আনাগোনা রয়েছে। তবে জাল টাকার কারবারিরাই যে এই কারবারে জড়িত তার প্রমাণ আগে পায়নি পুলিশ। পুলিশ জানায়, সোমবার  ফারাক্কায় উজ্জ্বল মন্ডল ও আনিকুল শেখ নামে দু’জনকে পুলিশ আটক করে। তাদের বাড়ি মালদহের বৈষ্ণবনগর চর এলাকায়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া গিয়েছে এক লক্ষ টাকার জাল নোট। আটক করা হয় দু’টি বাইক। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায় দুটি বাইকই চোরাই। এতে যে নম্বর প্লেট রয়েছে সেগুলি দুটি লরির নম্বর। এরপরেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে মঙ্গলবার সন্ধ্যেয় আরও তিনজন ফারাক্কায় জাল টাকা নিয়ে আসবে কোনো একটি জায়গায়। সেই কথা মত সন্ধ্যেয় ফারাক্কায় হানা দেয় পুলিশ। তিনজনের কাছে মেলে এক লক্ষ টাকার জাল নোট। ফারাক্কার একদিকে কালিয়াচক, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড। আর পূর্বে বৈষ্ণবনগরের বিস্তীর্ণ চর এলাকার বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা গ্রাম। এই ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগেই চুরি যাওয়া বাইক এসে ভিড়ছে ফারাক্কার গ্রামাঞ্চলে। ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে সেগুলি ব্যবহার করছে। ফারাক্কার আই সি উদয়শঙ্কর ঘোষ জানান, মঙ্গলবারের ধৃত তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেও ফারাক্কার দু’টি জায়গায় তল্লাশি চালাতে প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ। সেখানে জাল টাকা ও চোরাই বাইক রয়েছে। এই কারণেই ধৃতদের পরিচয় আপাতত গোপন রাখা হয়েছে।

Advertisements

মালদহের ইংলিশবাজারে জালনোট সমেত গ্রেপ্তার মহম্মদ সরিফুল শেখ

২০ হাজার টাকার জালনোট সহ এক যুবককে মালদহের ইংলিশবাজার থানার পুলিশ গত ১৪ই ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ সরিফুল শেখ। রতুয়ার ভাদোরের ওই বাসিন্দাকে রাতে মালদহ মেডিক্যাল লাগোয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০টি নতুন দু’হাজার টাকার নোট মিলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকাগুলি নতুন সিরিজের। আর তা থেকেই গোয়েন্দা মহলের অনুমান ওই যুবক নতুন উন্নত মানের টাকাগুলির স্যাম্পেল কাউকে দেখাতে এনেছিল। কিন্তু পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিন মালদহ আদালতে তুলে তাকে পাঁচ দিনের জন্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জালনোট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে পুলিশ চেষ্টা করছে।

জালনোটের মামলায় সারাদেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ প্রথম স্থানে

Jalnoter mamlay saradesher২০১৬’র নিরিখে দেশের মধ্যে জাল নোট নিয়ে সর্বাধিক মামলা রুজু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। দেশের মধ্যে সর্বাধিক ১৮৩ জন গ্রেপ্তারও হয়েছে এই রাজ্যে। সম্প্রতি ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর পক্ষ থেকে ২০১৬’র গোটা দেশের অপরাধ পরিসংখ্যানের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে, জাল নোট সংক্রান্ত মামলায় পশ্চিমবঙ্গ সবার উপরে রয়েছে। তাতে আরও বলা হয়েছে, জাল নোট পাচারে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ভারতের সীমান্ত রাজ্য হিসেবে গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের সঙ্গে একই আসনে রয়েছে দিল্লিও। বলা ভালো, ২০১৬’তে সর্বাধিক মূল্যের প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি জাল নোট দিল্লি থেকে বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ।
ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর (এনসিআরবি) রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৬’তে দিল্লিতে দেশের মধ্যে সর্বাধিক মোট ১,১৪,৭৫১টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যার মূল্য ৫,৬৫,২১,৪৬০ টাকা। এরপরেই দ্বিতীয় স্থানে ছিল গুজরাত। সেখানে ৩৯,৭২৫ টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। যার মূল্য প্রায় ২,৩৭,২৪,০৫০ টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এখানে ২০১৬’তে ৩২,৮৬৯টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। যার মূল্য প্রায় ২,৩২,৯৫,৮০০ টাকা। এরপরে যথাক্রমে অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব এবং বিহারের মতো রাজ্য রয়েছে। সবমিলিয়ে ২০১৬’তে গোটা দেশে ১৫,৯২,৫০,১৮১ কোটি টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। দেশের মধ্যে সর্বাধিক জাল নোট দিল্লিতে বাজেয়াপ্ত হলেও, পশ্চিমবঙ্গ মামলা রুজু এবং গ্রেপ্তারের পরিসংখ্যানে সবার উপরে রয়েছে। এরাজ্যে ২০১৬’তে জাল নোট সংক্রান্ত ২০৩টি মামলা রুজু হয়েছে। যাতে ১৮৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। দ্বিতীয়স্থানে থাকা উত্তরপ্রদেশে ১২৫টি মামলা হয়েছে এবং ১১২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।
তৃতীয়স্থানে রয়েছে কর্ণাটক, সেখানে মোট ৯৯টি মামলা হয়েছে। যাতে ৭৬ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এই তালিকায় এরপরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাতের মতো রাজ্য। এদিকে, ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেন মধ্যরাত থেকে ৫০০ এবং ১,০০০ টাকার নোট বাতিল। এর পরপরই ২,০০০ টাকার নোট বাজারে আনা হয় সরকারের পক্ষ থেকে। এখন এনসিআরবি রিপোর্টে বলা হয়েছে, দু’হাজার টাকার নোট বাজারে আনার পর ২০১৬’র মাত্র ৫৩ দিনেই ২,২৭২টি জাল দু’হাজার টাকার নোট দেশজুড়ে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। যার মধ্যে ১৩০০টি জাল নোট গুজরাত, ৫৪৮টি পাঞ্জাব এবং ২৫৪টি কর্ণাটক থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়। ২০১৬ সালে দেশের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ থেকে দ্বিতীয় সর্বাধিক ১৩,৭৮৬টি এক হাজার টাকার নোট এবং ১৯,০০৫টি ৫০০ টাকার নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে গোটা দেশে ২,৮১,৮৩৯টি জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার মূল্য ১০,১২,২২,৮২১ কোটি টাকা।

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ধৃত জালনোট চক্রের পান্ডা নায়েদ আহমেদ

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ভারতে ঢুকে, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় ডেরা বানিয়ে রমরমিয়ে চলছিল জাল নোটের কারবার৷ গত ১২ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বাদুড়িয়ার কাঁকড়াসুতির ডাঙাপাড়া এলাকায় হানা দিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে জালনোট চক্রের পাণ্ডা নায়েদ আহমেদকে৷ গ্রেপ্তার করা হয় সাজানো বাবা নাসিরুদ্দিন মোল্লাকেও৷ নাসিরুদ্দিনকে বাবা সাজিয়ে এ দেশের আধার কার্ড, প্যান কার্ড বানিয়ে ফেলেছিল নায়েদ আহমেদ৷ একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় অ্যাকাউন্ট খুলে রমরমিয়ে চালাচ্ছিল জাল নোটের ব্যবসা৷ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে উদ্ধার হয় ৫৬০০ টাকার ভারতীয় মুদ্রার জালনোট৷ যার মধ্যে ৫০০ টাকার ৬টি, ১০০ টাকার ২২টি, ৫০ টাকার ৮টি জালনোট আছে৷

বহরমপুরে ছ’লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার তিনজন, পাওয়া গেলো জঙ্গি যোগ

প্রায় ছ’লক্ষ টাকার জালনোট সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করল বহরমপুর থানার পুলিশ। গত ১৭ই নভেম্বর, শুক্রবার বিকালে শহরের রানিবাগান এলাকায় অস্থায়ী ভুটিয়া মার্কেটে হানা দিয়ে পুলিশ জালনোট পাচারকারীদের পাকড়াও করে। ধৃত পাচারকারীদের মধ্যে একজনের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জালনোট কারবারের পিছনে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে। তাই ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বহরমপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুটিয়া মার্কেটে জালনোট হস্তান্তর করার সময় পাচারকারীদের ধরা হয়। ধৃতদের নাম ওবাইদুল্লা ইসলাম, সুজয় মণ্ডল ও ইনতাজ আলি। ওবাইদুল্লার বাড়ি মুর্শিদাবাদ থানার গুধিয়া এলাকায়। অপর দু’জনের বাড়ি হরিহরপাড়ার শঙ্করপুরে। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃত ওবাইদুল্লার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগসূত্র আছে। বাংলাদেশের এক ক্যারিয়ারের কাছ থেকে নোটগুলি এপারে আনা হয়েছে বলে সে জানিয়েছে। নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে।

দু’সপ্তাহ আগে শহরের রানিবাগানে শীতের পোশাক নিয়ে অস্থায়ী দোকান খুলেছে ভুটিয়ারা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জালনোট ছড়ানোর জন্য ভিড়ে ঠাসা অস্থায়ী মার্কেট জালনোট পাচারকারীরা বেছে নিয়েছে বলে থানায় খবর আসে। সেই মতো সকাল থেকেই পুলিশ ভুটিয়া মার্কেটে জাল বিছিয়ে রাখে। দিনভর ব্যাগ হাতে বাজারে ঘোরাঘুরি করলেও ওবাইদুল্লা কেনাকাটা করেনি। বিকেল নাগাদ সে সুজয় ও ইনতাজকে একটি ব্যাগ দেয়। তখনই তাদের ঘিরে ধরা হয়। ওবাইদুল্লা পালানোর চেষ্টা করে। কিছুটা ধাওয়া করে তাকে ধরা হয়। গোটা অভিযানের নেতৃত্ব দেন থানার আইসি সনৎ দাস। গত ১৮ই নভেম্বর, শনিবার ধৃতদের বহরমপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে ধৃতদের পুলিশ হেপাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ২৯৮টি জাল ২০০০টাকার নোটে ৫লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার জালনোট মিলেছে। ধৃতরা বাইকে চেপে ভুটিয়া মার্কেটে এসেছিল। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও তিনটি বাইক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের এক কর্তা বলেন, ওবাইদুল্লা দীর্ঘদিন ধরে এই কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলেই মনে হচ্ছে। জেরায় ওবাইদুল্লা জানিয়েছে, প্রতিবেশী মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর থানা এলাকা থেকে সে ওই নোটগুলি সংগ্রহ করে। খোদ বাংলাদেশি ক্যারিয়ারের মাধ্যমে নোটগুলি এপারে আনা হয়েছে বলে সে জানিয়েছে।

পুলিশের সন্দেহ, ধৃত ওবাইদুল্লার সঙ্গে বাংলাদেশি জঙ্গি সংগঠন ও জালনোট কারবারীদের সরাসরি যোগাযোগ আছে। সুজয় ও ইনতাজেকে দু’লক্ষ টাকা দিয়েছিল ওবাইদুল্লা। সে আরও দু’লক্ষ টাকা অন্য কোনও পাচারকারীকে দিত বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এখন জালনোট ছাপা হচ্ছে মালদহে, ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সারাদেশে

akhono jal note maldaসীমান্তে কড়াকড়ি। ওপার থেকে জাল নোট আমদানির বিশেষ ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না। তাই এপারেই মালদহের কয়েকটি জায়গায় জাল নোট ছাপানোর কারখানা গজিয়ে উঠেছে। তারপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকা থেকে ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে। জাল নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া একটি হোটেলে এনআইএ এবং গোলাবাড়ি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পায়। নোট অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ধৃতরা এখানে এসেছিল বলে খবর।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা কিছুদিন ধরেই জানতে পারছিলেন, হাওড়া স্টেশন দিয়ে জাল নোট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মালদহের জাল নোটের কারবারিরাই এখানে আসছে। এজেন্টরা এখান থেকে নোট সংগ্রহ করছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেন। একইসঙ্গে গোলাবাড়ি থানাকেও বিষয়টি জানানো হয়। তারা এনআইএ’র সঙ্গে কাজ শুরু করে। তদন্তকারী দলের সদস্যদের কাছে খবর আসে, মালদহের ইংলিশবাজারের সাততারি গ্রামের চার বাসিন্দা এই কাজে জড়িত। তারাই ঘরে অফসেট মেশিন বসিয়ে জাল নোট তৈরি করছে। বাংলাদেশ থেকে নোট তৈরির কাগজ তারা নিয়ে আসছে। ওই চারজনের উপরই নজরদারি শুরু হয়। জোগাড় করা হয় তাদের ফোন নম্বর। সেই ফোনে আঁড়ি পেতেই জানা যায়, মঙ্গলবার তারা হাওড়ায় আসছে। সেখানকার একটি হোটেলে উঠবে। তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা কয়েকজন জাল নোট কারবারির। মালদহ থেকে আসা ওই নোট কারবারিদের সঙ্গে রয়েছে মোটা অঙ্কের জাল নোট। এরপর রাতেই গোলাবাড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়া স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই ধরা হয় বক্তার আনসারি, উৎপল চৌধুরি, ফইজুল মিঞা ও রাজ্জুল মিঞাকে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট। সবগুলি দু’হাজারের নোট বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এর আগে এরা মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে কলকাতায় এসেছে। তা পৌঁছে দিয়েছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। ধৃতদের নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াতও ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলি অফসেটে ছাপা হয়েছে। সেই কারণে গুণগত মান কিছুটা খারাপ। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে এখন কিছুটা কড়াকড়ি চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে নকল নোট এলেও তার জোগান কিছুটা কম। সেই ঘাটতি তারা মেটাতে চাইছে অফসেট মেশিনে জাল নোট তৈরির মাধ্যমে। কাগজ ও কালি বাংলাদেশ থেকেই আসছে। তা দিয়েই মালদহের বিভিন্ন জায়গায় এই নোট তৈরি করা হচ্ছে। এই নোট তৈরিতে খরচ কিছুটা হলেও কম পড়ছে। ওপার বাংলা থেকে আসা জাল নোটের বান্ডিলেও এই নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয় এবং সহজেই মার্কেটে চালিয়ে দেওয়া যায়। এই কৌশলে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ নোট এই রাজ্যসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। তাদের জেরা করে এই কারবারে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম হাতে এসেছে তদন্তকারী অফিসারদের। তাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে।

মালদহে ৯৬,০০০টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার নাজেমা বিবি

জালনোট পাচারের অভিযোগে কর্ণাটক পুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে এক মহিলাকে গত ১১ই নভেম্বর, শনিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম নাজেমা বিবি। ওই মহিলা ও তার স্বামী মিলিতভাবে জালনোটের কারবার চালাত। ধৃতের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৮টি নতুন ২০০০ টাকার নোট পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিশ ধৃতকে এদিনই আদালতে পাঠিয়ে নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে বেঙ্গালুরুতে নাজেমার স্বামী উজির শেখ জালনোটের মামলায় কর্ণাটক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সে জামিন পেয়ে বেপাত্তা হয়ে যায়। কর্ণাটক পুলিশের একটি দল মালদহে এসে ওই বিষয়ে পুলিশ কর্তাদের জানায়। তারপরেই শনিবার পুলিশ বৈষ্ণবনগরের শাহবানচকের পূর্ব বেদরাবাদ গ্রামে উজির শেখের বাড়িতে অভিযান চালায়। উজির শেখকে পুলিশ ধরতে না পারলেও তার স্ত্রী নাজেমা বিবিকে গ্রেপ্তার করে। বাড়ি থেকে ৯৪ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়।

রায়গঞ্জে জালনোটসহ গ্রেপ্তার বাবলু শেখ ও ইসমাইল আলি

গত ১৭ই অক্টোবর, মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলার  রায়গঞ্জে ২৬ হাজার টাকার জাল ভারতীয় টাকাসহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এদিন জেলখানা মোড় সংলগ্ন এলাকা থেকে এই জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম বাবলু শেখ ও ইসমাইল আলি। এদের মধ্যে প্রথম জনের বাড়ি মালদহের কালিয়াচকে ও অপরজনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারে। তল্লাশি চালিয়ে বাবলুর কাছ থেকে ১২ হাজার টাকার ও ইসমাইলের কাছ থেকে ১৪ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। ধৃতরা কেন এই নোট সংগ্রহ করেছিল, এই নোটগুলি নিয়ে তারা কোথায় যাচ্ছিল, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, জাল নোট সহ পুলিশ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে ২৬ হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার হয়েছে। এদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।