বৈষ্ণবনগরে ২ লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করলো বিএসএফ

গতকাল ৫ই ফেব্রুয়ারী, সোমবার ভোর রাতে মালদহের বৈষ্ণবনগরের কুম্ভীরার কামাত থেকে প্রায় দু’লক্ষ টাকার জালনোট বিএসএফ বাজেয়াপ্ত করেছে। চোরাচালানের জন্যে আসা এক জালনোট কারবারীর বাইক থেকে ওই টাকার বান্ডিল পড়ে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, ১৯৭টি নতুন দু’হাজার টাকার নোট অর্থাৎ ১ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। চোরাচালানকারীকে ধরা যায়নি। অন্ধকার ও কুয়াশার সুযোগ নিয়ে চোরচালানকারী পালিয়ে যায় বলেও বিএসএফ দাবি করেছে।

বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এদিন জালনোট পাচার নিয়ে গোপন সূত্রে খবর আসার পর সবদলপুর ও ফরাক্কায় দু’টি অভিযানকারী দল মোতায়েন করা হয়। ভোররাতে একজন সন্দেহভাজনকে কামাত গ্রামের দিক থেকে আসতে দেখা যায়। জওয়ানরা তাকে আটকাতে চাইলে সে মোটরবাইক নিয়ে উল্টোমুখে ঘুরে পালিয়ে যায়। কিন্তু তার বাইক থেকে একটি প্যাকেট পড়ে যায়। পরে জওয়ানরা সেই প্যাকেট বাজেয়াপ্ত করে জালনোট উদ্ধার করে। বিএসএফের ডিআইজি (দক্ষিণবঙ্গ) আরপিএস জসোয়াল বলেন, ‘‘নতুন বছরে এখন পর্যন্ত ৪ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকার নতুন টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এদিন বাজেয়াপ্ত করা টাকা পরবর্তী তদন্তের জন্যে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’’

Advertisements

মুর্শিদাবাদে ৩.৫ লক্ষ টাকার জালনোটসহ রাজমিস্ত্রি ইসমাইল গ্রেপ্তার

পাড়ায় পরিচয় ছিল রাজমিস্ত্রি হিসেবে। কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাকে ঘুরে বেড়াতে হয় বলে প্রতিবেশীদের জানিয়েছিল। কিন্তু সেই রাজমিস্ত্রি যে আসলে বড়মাপের জাল নোটের কারবারি, সিআইডির হাতে ধরা পড়ার পরই তা জানা গেল। যা দেখে রীতিমতো অবাক ইসমাইলেরর গ্রামের বাসিন্দারা। গত ৩১শে জানুয়ারী, বুধবার ভোররাতে তাকে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার জাল নোট। সমস্ত নোটই ৫০০ ও ২০০০-এর বলে জানা গিয়েছে। নোটগুলি বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছিল বলে সিআইডির তদন্তকারী অফিসাররা নিশ্চিত।

মালদহে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করায়, জাল নোটের কারবারিরা কৌশল বদলেছে বলে সিআইডি কর্তাদের কাছে খবর আসছিল। কিন্তু কোথায় তা রাখা হচ্ছে এবং কোন জেলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, মুর্শিদাবাদই এখন জাল নোট কারবারের বড় ঘাঁটি। মালদহের কারবারিরাই এখানে এসে ডেরা বেঁধেছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা জাল নোট মজুতও করা হচ্ছে এখানেই। সেই সূত্রেই তদন্তকারী অফিসারদের হাতে আসে ইসমাইলের নাম। তার সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা যায়, সে জাল নোট পাচারের অন্যতম বড় মাথা। বাংলাদেশের জাল নোটের শীর্ষ কারবারিরা তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তার মাধ্যমে জাল নোট পৌঁছোচ্ছে এ রাজ্য সহ দেশের অন্য প্রান্তেও। কিন্তু তাকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারেন, ওই যুবকের বাংলাদেশে আত্মীয় রয়েছে। সেই সুবাদে তার বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানকার বহু জায়গাই তার চেনা। সেদেশে থাকা তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাল নোট পাচারকারীরা ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পরই তার মাধ্যমে জাল নোট পাঠানো শুরু হয় এদেশে।

তদন্তকারী অফিসাররা জেনেছেন, সে যে জাল নোটের কারবারি, তা যাতে গ্রামের কেউ জানতে না পারে, সেজন্য ইসমাইল রাজমিস্ত্রির কাজ নেয়। এই কাজ কিছুটা জানা ছিল তার। তাই ধৃত এই পেশাকেই বেছে নেয়। যাতে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার নাম করে সেখানে জাল নোট ছড়িয়ে দিয়ে আসা যায়। ইসমাইল তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছে, বাড়ি তৈরি করার নাম করে সে একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছে। এরপর সেখানকার নোট পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের জাল নোট একাধিকবার এদেশে নিয়ে এসেছে। কখনও এজেন্টরাও সীমান্তে এসে নোট দিয়ে গিয়েছে তার হাতে। তার সঙ্গে সেদেশের নোট পাচারকারীদের কথা হত বলে জানা যাচ্ছে। ইসমাইলের দাবি, এই জাল নোট রাখার জন্য মুর্শিদাবাদে একটি স্ট্যাকইয়ার্ড তৈরি করে সে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সে বড় মাথা হয়ে যায়। তার কাছ থেকে এই নকল নোট এরাজ্যের অন্যান্য এজেন্টরা নিয়ে যেত। তবে ভিন রাজ্যে সে নিজেই নিয়ে যেত। তা থেকে অফিসাররা বুঝতে পারছেন, অন্যান্য রাজ্যের জাল নোট পাচারকারীদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের জাল নোট কারবারিদের কয়েকজনের নাম তার কাছ থেকে জেনেছেন সিআইডির গোয়েন্দারা। যাদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আবার বাংলাদেশ পুলিশের তাড়া খেয়ে এদেশে এসে তার কাছে থেকে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকী তাদের নকল পাসপোর্ট পর্যন্ত ইসমাইল তৈরি করে দিয়েছে বলে খবর অফিসারদের কাছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তরা এ দেশে পালিয়ে আসার পর, তার খুঁজে দেওয়া ডেরাতেই থেকেছে বলে জেনেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। পরে তাদের পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সে। তা থেকে আধিকারিকরা বুঝতে পারছেন, ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। ধৃতকে এই বিষয়ে জেরা করে তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।

মালদহে তিন লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার মহম্মদ সাদ্দাম

মালদহের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে গত ২৮শে জানুয়ারী, রবিবার ভোরে বিএসএফ প্রায় তিন লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করেছে। ওই ঘটনায় মহম্মদ সাদ্দাম নামে এক যুবককেও আটক করা হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে গোপন সূত্রে জালনোট পাচারের খবর আসে। তারপরেই একটি বিশেষ বাহিনী কালিয়াচকের গোলাপগঞ্জ সীমান্তে মোতায়েন করা হয়। ভোররাতে বাংলাদেশ সীমান্তে চোরকারবারীদের তৎপরতা নজরে আসতেই বিএসএফ সতর্ক হয়। এরপরই সীমান্তের ওপার থেকে কিছু ছুঁড়ে দেওয়া হয়। ভারতীয় ভূখণ্ডে তা এক যুবক সংগ্রহ করার চেষ্টা করতেই বিএসএফ জওয়ানরা এলাকা ঘিরে ফেলে। ওই যুবক পালনোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। ওই এলাকা থেকে একটি প্লাস্টিকে মোড়া প্যাকেট পাওয়া যায়। তারমধ্যে ১৩৭টি নতুন ২০০০ টাকার জালনোট ছিল। জিজ্ঞাসাবাদে বিএসএফ জানতে পারে ধৃতের নাম মহম্মদ সাদ্দাম। বছর কুড়ির ওই যুবক গোলাপগঞ্জের গোপালনগরের বাসিন্দা। পরে বিএসএফ ওই যুবক ও বাজেয়াপ্ত টাকা কালিয়াচক থানার পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। বিএসএফের ডিআইজি(দক্ষিণবঙ্গ) আরপিএস জয়সওয়াল বলেন, ‘‘২ লক্ষ ৭৪ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সাদ্দাম নামে এক যুবককেও আটক করা হয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ের তদন্তের জন্য টাকাসহ ওই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ।’’

মালদহে জালনোট পাচারের মাথাকে গ্রেপ্তার করলো এনআইএ গোয়েন্দারা

প্রশান্ত মণ্ডল নামের জালনোট পাচারের এক বড় চাঁইকে এনআইএ গোয়েন্দারা মালদহের বৈষ্ণবনগর থেকে গ্রেপ্তার করেছে।বৈষ্ণবনগরের জৈনপুর সুকপাড়ার বাসিন্দা ওই চাঁইকে ধরিয়ে দিলে ২৫ হাজার টাকার পুরস্কার মূল্য এনআইএ ঘোষণা করেছিল। ২০১৫ সালে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে জালনোট পাচারের একটি ঘটনায় ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই) ওড়িশার এক বাসিন্দাকে গ্রেপ্তার করে। তখনই প্রশান্তর নাম প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় থেকে হন্যে হয়ে খুঁজলেও ওই চাঁইয়ের খোঁজ মেলেনি। অবশেষে সোমবার গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এনআইএ গোয়েন্দারা প্রশান্ত মণ্ডলকে মালদহ থেকে ধরে কলকাতায় নিয়ে চলে যায়। এনিয়ে এআইএ কর্তৃপক্ষ রাত পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

তবে এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে রাঁচি জেল থেকে এই জালনোট পাচারচক্রের সংগঠিত হওয়া শুরু হয়েছিল। বৈষ্ণবনগরেরই বাসিন্দা নিষ্ফল মণ্ডল ছিল এই চক্রের মাথা। ২০১৬ সালে এনআইএ-এর হাতে নিষ্ফল মণ্ডল ধরা পড়ে যায়। তারপর থেকেই জালনোটের মডিউলগুলিকে নতুন করে গড়া হয়। সোমবার রাতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রশান্ত মণ্ডলকে সেই রকমই একটি মডিউলের মাথায় বসানো হয়েছিল। যে কারণেই এনআইএ এই প্রশান্ত মণ্ডলকে ধরার জন্য ২৫ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন এনআইএ-এর চোখে ধুলো দিয়ে অবশেষে সোমবার রাতে প্রশান্ত ধরা পড়ে।

২০১৫ সালের মে মাসে ধুলিয়ানের ডাকবাংলো থেকে ডিআরআই ১০ লক্ষ টাকার জালনোট সহ সুশান্ত সাহুকে গ্রেপ্তার করে। ওড়িশার কান্তাবানিয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড এলাকায় জালনোট ছড়ানোর কাজ করতো। ডিআরআইয়ের বহরমপুর রিজিয়নের তদানীন্তন কর্তা কে কে হালদার এনিয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে এই মামলা এনআইএ নিয়ে নেয় এবং ২০১৬ সালে দিল্লিতে মামলা রুজু হয়। ওই ঘটনায় দু’জন বাংলাদেশীসহ ১১ জনকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একদফা চার্জশিট পেশ হয়েছে। এনআইএ গোয়েন্দারা তদন্তে নেমে জানতে পারে ২০০৫ সালে রাঁচির জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় নিষ্ফল মণ্ডল নামের এক মালদহবাসীর উদ্যোগে জালনোট পাচার চক্র তৈরি হয়। নিষ্ফল আগে থেকেই জালনোট পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলত। জেল থেকে বের হওয়ার পরেই নিষ্ফল মণ্ডলের নেতৃত্বে বিহার-ওড়িশা সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জালনোট পাচারের কাজ শুরু হয়ে যায়। এনআইএ-এর তথ্য অনুসারে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক কোটি টাকা ছড়ানো হয়েছিল। এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পরেই ২০১৬ সালে নিষ্ফল মণ্ডলের জন্য পুরস্কার মূল্য ঘোষণা করে। ওই বছরেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে মালদহ থেকে তাকে গ্রেপ্তারও করা হয়। তারপরেই নিষ্ফলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী প্রশান্ত মণ্ডল জালনোট পাচার চক্রের মাথা হয়ে বসে। সম্প্রতি নতুন ২০০০ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট মালদহে প্রচুর পরিমাণে মজুত হওয়ার পেছনে এই প্রশান্ত মডিউলেরই হাত আছে বলে গোয়েন্দারা মনে করছে। গত সপ্তাহেই বৈষ্ণবনগরে প্রশান্তর খোঁজে এনআইএ অভিযান চালিয়েছিল। কিন্তু ধূর্ত এই চাঁইকে তারা ধরতে পারেনি। সোমবার রাতে ফের গোপন অভিযান চালিয়ে এনআইএ সাফল্য পায়।

মালদহে প্রচুর জালনোট সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করলো এনআইএ-এর গোয়েন্দারা

গত ৫ই জানুয়ারী, শুক্রবার ভোররাতে মালদহের বৈষ্ণবনগরের টাউনশিপ মোড় থেকে ৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করেছে এনআইএ। সেই সঙ্গে দু’জন পাচারকারীকেও তারা গ্রেপ্তার করেছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সন্তোষ মণ্ডল ও পিন্টু মণ্ডল। তারা দু’জনেই কালিয়াচকে শাহবাজপুরের বাসিন্দা। এই দুই ক্যারিয়ারের উপরে সম্প্রতি এনআইএ’র গোয়েন্দারা নজর রাখতে শুরু করেছিলেন। শুক্রবার ভোরে ফারাক্কা থেকে ট্রেন ধরতে যাওয়ার পথে এনআইএ গোয়েন্দারা ওই দু’জনকে ধরে ফেলেন। এনআইএ-এরর দাবি, এরা ট্রেনে করে নোট সরবরাহ করতে যাচ্ছিল। এনিয়ে গত ১৫ দিনে মালদহ থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হল।

আচমকা মালদহে জালনোট পাচারের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর ভোররাতে এক মহিলা ও তার পুরুষসঙ্গী জালনোট পাচারের সময় ধরা পড়ে যায়। সেই সময়েই নতুন কৌশল তৈরি করে জালনোট পাচারের বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি উন্নত মানের জালনোট বাংলাদেশের শিবগঞ্জে তৈরি করা হয়েছে। সেই নোট বাজারে ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে গোয়েন্দারা আগেই সতর্ক করেছিলেন।

পুজোর সময় মালদহে জালনোট ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে পাচারকারীদের বিপুল তৎপরতা দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বিভিন্ন নিরাপত্তা এজেন্সির পালটা তৎপরতার জেরে পুজোর পরে মালদহ থেকে জালনোট পাচারের ঘটনা কমে আসে। এরপর বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা বাদ দিলে ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে প্রথম জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়। গত ৩১ ডিসেম্বর ভোররাতে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালিয়াচকের হ্যাপি মোড় থেকে বিএসএফ জওয়ানরা ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করে। সেই ঘটনায় ঘেরা ভগবানপুরের বাসিন্দা এক মহিলা ও পুরুষকে বিএসএফ ধরেছিল। ওই মহিলার পোশাকের ভেতরে জালনোটগুলি রাখা হয়েছিল। ওই দু’জন পাচারকারী দম্পতির ছদ্মবেশ নিয়ে বিএসএফকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তাদের কাছ থেকে উন্নতমানের জালনোট পাওয়া যায়।

সেই ঘটনার পর পাঁচদিনের মাথায় শুক্রবার ভোররাতে গোয়েন্দাদের হাতে দুই জন জালনোট পাচারকারী গ্রেপ্তার হল।তাদের কাছ থেকে যে ৪ লক্ষ ৬২ হাজার টাকার জালনোট পাওয়া গিয়েছে তা গত রবিবার বাজেয়াপ্ত হওয়া টাকার মতোই উন্নতমানের বলে জানা গিয়েছে। এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দু’জন মূলত পাচারকারী। তাই তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মালদহ লাগোয়া বাংলাদেশের শিবগঞ্জে মজুত জালনোটের পাচার রুখতে গোয়েন্দা মহল তৎপর রয়েছে।

বড়ঞায় জালনোট সহ গ্রেপ্তার লোটাস শেখ

গত ১৭ই ডিসেম্বর, রবিবার রাতে ২৪ হাজার টাকার জালনোট সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্গত বড়ঞা থানার পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম লোটাস শেখ। তার বাড়ি বড়ঞা থানার সুন্দরপুর গ্রামে। এদিন রাতে তাকে স্থানীয় বেলগ্রাম মোড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে ১২টি দু’হাজার টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। ধৃতকে সোমবার কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাকে ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আলিপুরদুয়ারে ৩৬হাজার টাকার জালনোটসহ রহিম মিঞা গ্রেপ্তার

ভারতীয় ৩৬ হাজার টাকার জাল নোটসহ আলিপুরদুয়ারের শামুকতলা থানার পুলিশ গত ৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম রহিম মিঞা। তার বাড়ি তুফানগঞ্জের উত্তর ধলপলে। এদিন দুপুরে ভাটিবাড়ি বাজারে এক লটারি বিক্রেতার দোকানে ওই জাল টাকার নোট ভাঙাতে এলে লটারি বিক্রেতার নোটগুলি দেখে সন্দেহ হয়। তারপরই বিষয়টা পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ এসে রহিম মিঞাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সুপার আভারু রবীন্দ্রনাথন বলেন, বুধবার ধৃত ব্যক্তিকে আদালতে তুলে পুলিশি হেপাজতের জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে।