জালনোট এবং গরুপাচারের লাভের টাকায় জিহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি

ভারতে জালনোট এবং গরুপাচারের লাভের টাকায় ভারতবিরোধী জিহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে বাংলাদেশের জামাত-উল-মুজাহিদিন (জেএমবি) এবং নব্য জেএমবি-এর মত জঙ্গি সংগঠনগুলি। আর এইসব হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা-মুর্শিদাবাদ সীমান্ত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে। এইরকমই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। এমনকি জঙ্গি সংগঠনগুলি এইসমস্ত জেলাগুলিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং মজুত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। এমনকি এই কারবারে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা জিহাদিদের সঙ্গ দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট ছাপানোর  কাজ চলছে বাংলাদেশের জেএমবি-এর নিয়ন্ত্রণে। আর এই কারবারের লাভের টাকায় অস্ত্র কেনা হচ্ছে।  সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে আগেভাগে পদক্ষেপ নিতে চাইছে দিল্লি। যে সমস্ত রাজ্যে জাল নোটের কারবারের রমরমা, সেগুলিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করা হবে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি নকল নোটের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে চালানো হচ্ছে, তা জানানো হবে ওই বৈঠকে। খতিয়ে দেখা হবে কোথা থেকে মোট কত নোট এখন পর্যন্ত ধরা পড়েছে। কোথা থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে, তার ভিত্তিতেই রূপরেখা তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে শুধুমাত্র তল্লাশি নয়, সেখানে জাল নোট নিয়ে সচেতনতার উপরও জোর দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রও তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নির্দেশিকা জারি করতে চায়। তারা চাইছে, রাজ্যগুলি একেবারে গোড়ায় গিয়ে তদন্ত করুক। শুধুমাত্র দালাল বা কেরিয়ার ধরেই যেন জাল নোটের তদন্ত শেষ করে না দেওয়া হয়। শিকড়টা কোথায় খুঁজে বের করতে হবে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত আসল ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর দিতে হবে। তাদের পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্টদের ভারতে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিতে হবে। যাতে তারা বাধ্য হয় জাল নোটের কারবার বন্ধ করতে। কোথাও জাল নোট সহ কেউ ধরা পড়লে যেন নোট বাজেয়াপ্ত করেই তদন্ত শেষ করে না দেওয়া হয়। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে জাল নোট কারবারিদের যোগাযোগ প্রমাণ করতে তথ্য ও নথি সংগ্রহের উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হবে বলে সূত্রের খবর।

Advertisements

জুতোর মধ্যে জালনোট পাচারের চেষ্টা, কলকাতায় ধৃত ওয়াসিম আক্রম

জুতোর মধ্যে জাল নোট ঢুকিয়ে মুম্বইয়ে পাচারের আগেই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের হাতে ধরা পড়ে গেলো এক জাল নোট পাচারকারী। ধৃতের নাম ওয়াসিম আক্রম। তার বাড়ি মালদহে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার,১লা নভেম্বর বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার একটি জুতোর দোকানে আসে। সেখান থেকে সে তিনজোড়া নতুন জুতো কেনে। বাজারে বসেই সে জুতোর মধ্যে নোটগুলি সাজিয়ে রাখছিলো। খবর পেয়ে এসটিএফের টিম সেখানে হানা দেয়। গ্রেপ্তার করা
হয় ওয়াসিমকে। তার ব্যাগ থেকে চার লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করে পুলিশ। সব নোটই দু’হাজারের। এই টাকা বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছিল বলে পুলিশকে জানিয়েছে ধৃত ওয়াসিম। তার কাছ থেকে বাংলাদেশের কয়েকজন জালনোট পাচারকারীর নাম মিলেছে। ওয়াসিম নিজেও একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছে বলে পুলিশকে জানিয়েছে। জালনোটগুলি সে মুম্বইয়ে পৌঁছে দিতে কলকাতায় এসেছিলো। এখান থেকে ট্রেনে করে তার মুম্বইয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।