কলকাতার নারকেলডাঙায় চার লক্ষাধিক টাকার জালনোটসহ ধৃত ২

জালনোটের কারবারের রমরমা চলছে পশ্চিমবঙ্গে। আর প্রতিক্ষেত্রেই জালনোট আসছে সেই মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেই। গতকাল ৪ঠা জানুয়ারী, শুক্রবার  কলকাতায় দুই জালনোট কারবারির গ্রেপ্তারে তারই প্রমান মিললো। কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারকেলডাঙা থানা এলাকার স্বর্ণময়ী স্ট্রিট থেকে কলকাতার ২ বাসিন্দা এবং মালদহের এক জালনোট কারবারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪লক্ষ টাকারও বেশি জালনোট। গ্রেপ্তার হওয়া দুই জন হলো মহম্মদ আক্রম আলী এবং মহম্মদ গুডডু কুরেশি। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি তিলজলাতে এবং অপরজনের বাড়ি তপসিয়াতে। এরা মালদহ থেকে জালনোট নিয়ে এসে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে দিতো। এদের সঙ্গে মালদহের জালনোট কারবারি আনারুল হক-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। আনারুল হক আবার বাংলাদেশ থেকে জালনোট ভারতে নিয়ে আসতো এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতো। ধৃতদের জেরা করে এই কারবারে আর কারা কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

Advertisements

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ৬লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার তিন

মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরে ৬লক্ষ টাকার জালনোট সহ পুলিসের জালে ধরা পড়ল তিন ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বানজেটিয়া এলাকায় পুলিস ও স্পেশাল অপারেশন গ্রূপ(এসওজি)যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই তিন জালনোট পাচারকারীকে পাকড়াও করে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বান্ডিলে ৫০০ ও ২০০০টাকার জাল নোট ছিল। ধৃতদের জেরা করে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জালনোট কারবারের এক ডিস্ট্রিবিউটরের নাম জানতে পেরেছে পুলিস। সে জেএমবির বাংলাদেশ শাখাকে অর্থের জোগান দেয় বলে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। সমগ্র ঘটনা সম্পর্কে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে পুলিস রিপোর্ট পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিস সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃত জালনোট কারবারিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে ফরাক্কা থানা এলাকায় জালনোট সহ মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস বিস্ফোরক সমেত এক ম্যাজিক ভ্যান চালক ও তিন জালনোট পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত ম্যাজিক ভ্যানের চালক জেএমবির সদস্য বলেই পুলিস জানতে পেরেছে। ধৃতদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য জানার পর জেলা পুলিস জালনোটের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে পুলিস ও এসওজি বানজেটিয়া এলাকায় জাল বিছায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরের দিকে ওই তিন ব্যক্তি বাজারের ব্যাগ হাতে সেখানে আসে। দীর্ঘক্ষণ তারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। নিজেদের মধ্যে হিন্দুস্থানি ভাষায় কথা বলছিল। সন্ধ্যার দিকে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ইতস্তত করে। দু’জন এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাদের ধরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালনোট উদ্ধার করা হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম মতিউর রহমান(৫০), রাবু মিঞা(৭৫) ও মদন মণ্ডল(৫০)। মালদহের কালিয়াচক থানার গোপালনগরে ধৃতদের বাড়ি। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শ্মশানী ও চরিঅনন্তপুর গ্রাম দু’টির মাঝখানে গোপালনগর অবস্থিত। মাঝখানে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও শ্মশানী ও চরিঅনন্তপুরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট পাচারকারীরা। সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার উপর দিয়ে এপারে জালনোটের বান্ডিল আসছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। একই সঙ্গে পুলিসের সন্দেহ, পুলিসের নজর এড়াতেই জালনোটের কারবারে বয়স্কদের নামানো হয়েছে। পুলিস সুপার বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে ৬লক্ষ টাকার জালনোট মিলেছে। এরমধ্যে ৩৮৮টি ৫০০টাকার এবং ২০৩টি ২০০০টাকার জালনোট আছে। ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন এবং মালদহ-বহরমপুর বাসের টিকিট মিলেছে।
শুক্রবার ধৃতদের বহরমপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাত থেকে এদিন সকাল পর্যন্ত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু মিঞা ওরফে সাফিজুদ্দিনের নাম জানা গিয়েছে। বাবলু জালনোটের ডিস্ট্রিবিউটর। বাংলাদেশের মনাকষা, তেলকুপি ও শিবগঞ্জে তার ঘাঁটি। মালদহের কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর সীমান্ত দিয়ে জালনোটের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে বাবলু। এক্ষেত্রে মূলত গঙ্গার রাজনগরঘাট ও চর ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, বাবলুর জেএমবির ফাইনান্সার বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা নিজেদের মধ্যে গোলমাল করে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিস সুপার বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা বাবলুর নাম জানা গিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, ধৃতরা বহরমপুর ও বেলডাঙার কয়েকজনের নাম জানিয়েছে। তাদের খোঁজ শুরু হয়েছে।

কালিয়াচকে প্রায় ১০লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার, গ্রেপ্তার এক্রামুল শেখ

ফের মালদহ থেকে নতুন ২০০০ টাকার নোটের প্রায় ১০ লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হল। গত ৭ই নভেম্বর, মঙ্গলবার ভোররাতে মালদহের কালিয়াচকের আইটিআই মোড় থেকে বিএসএফ এক ব্যক্তিকে ওই জালনোটসহ আটক করে। ধৃতের কাছ থেকে ৯ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কালিয়াচকের চরিঅনন্তপুরের বাসিন্দা ধৃতের নাম এক্রামুল শেখ। তার অন্তর্বাসের ভিতরে চারটি বান্ডিলে নোটগুলি লুকনো ছিল। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নোটগুলি বাংলাদেশ হয়ে আসা সর্বাধুনিক গুণমানের। এর আগে ফরাক্কা থেকে এই একই গুণমানের নোট ধরা পড়েছিল। সিরিজ সংখ্যাতে মিল আছে কি না তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

বিএসএফের ডিআইজি (দক্ষিণবঙ্গ) আরপিএস জয়সওয়াল বলেন, ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু তথ্য মিলেছে। আমরা আটক ব্যক্তিকে কালিয়াচক থানার হাতে তুলে দিয়েছি। ধৃতের কাছ থেকে ৪৮৫টি জাল দু’হাজারের নোট মিলেছে। এনিয়ে নভেম্বর পর্যন্ত আমরা ৫৩ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করেছি।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই বিএসএফের কাছে জালনোটের চোরাচালান নিয়ে খবর আসে। সেই মোতাবেক তিনটি বাহিনী তৈরি করে একটিকে গোলাপগঞ্জ বাজার, একটিকে আইটিআই মোড় ও অন্যটিকে গোলাপগঞ্জ-কালিয়াচক লিংক রোডে মোতায়েন করা হয়। ভোরে আইটিআই মোড়ের দিকে মধ্যবয়স্ক এক ব্যক্তিকে বিএসএফ জওয়ানরা আসতে দেখে। তাকে দাঁড়াতে বললে সে পালানোর চেষ্টা করে। তখনই জওয়ানরা তাকে তাড়া করে ধরে ফেলে। ধৃতকে তল্লাশি চালিয়ে তার অন্তর্বাসের ভেতর থেকে চারটি নোটের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়।

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নোটগুলি উন্নত মানের। বস্তুত সর্বশেষ যে প্রায় নিখুঁত গুণমানের নোট পাচারকারীরা বাজারে ছেড়েছিল এদিনের নোট সেই গোত্রেরই। এই নোট কত পরিমাণ ছাপানো হয়েছে তা বোঝার জন্য বিএসএফের গোয়েন্দাবিভাগ তৎপরতা শুরু করেছে।