হাসপাতালে হামলা করে জঙ্গি ছিনিয়ে নিয়ে গেল লস্কর-ই-তোইবা

Haspatale hamla kore jongiগতকাল ৬ই ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের হরি সিং হাসপাতালে দুঃসাহসিক হামলা চালিয়ে কুখ্যাত পাক জঙ্গিকে নিয়ে চম্পট দিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তোইবা। দিনের একেবারে ব্যস্ত সময়ে এই হামলায় মারা গিয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, শ্রীনগরের প্রধান হাসপাতালে এই দুঃসাহসিক জঙ্গি হামলার সুযোগেই এক পাক জঙ্গিকে ছিনিয়ে নিয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছে। শহরতলির অলি-গলি দিয়ে জঙ্গিকে নিয়ে তারা পালিয়ে গিয়েছে। পালিয়ে যাওয়া ওই কট্টর লস্কর জঙ্গির নাম মহম্মদ নাভিদ জাট ওরফে আবু হানজালা। নিহত দুই পুলিশকর্মী হলেন হেড কনস্টেবল মুস্তাক আহমেদ ও কনস্টেবল বাবর আহমেদ। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের ডিজি এস পি বৈদ জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। জঙ্গিরা তাদের একজন কট্টর সহকারীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। আমরা লাল সতর্কতা জারি করেছি। এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে। ঘটনার পরেই এলাকায় যান ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (মধ্য কাশ্মীর) গুলাম হাসান ভাট। জঙ্গি পালানোর পরেই শহর জুড়ে লাল সতর্কতা জারি করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশকর্মীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

খবরটা সম্ভবত আগাম ছিল। হাসপাতালের পার্কিং লটে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল জঙ্গিরা। এদিন সকালে রুটিন মেডিকেল চেক আপের জন্য জাট সহ ছয় জঙ্গিকে কারাগার থেকে শ্রীনগরের ৭০ বছরের পুরনো মহারাজ হরি সিং হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল পুলিশ। এ ব্লকের ওপিডি-তে ওই অপরাধীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি থেকে পুলিশ নামতেই শুরু হয় হামলা। জঙ্গিরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। জঙ্গিদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হেড কনস্টেবল মুস্তাক আহমেদের। আর হাসপাতালে মারা যান আহত কনস্টেবল বাবর আহমেদ। সেই সুযোগে মৃত এক পুলিশের কারবাইন নিয়ে চম্পট দেয় নাভিদ জাট।

পলাতক জঙ্গি পাক পাঞ্জাবের মুলতানের বাসিন্দা। শ্রীনগরের বেশ কয়েকটি জঙ্গি হামলার ঘটনায় সে জড়িত। ২০১৪ সালের আগস্টে তাকে দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জাট টেকনিক্যাল এক্সপার্ট বলে পরিচিত। মহারাজ হরি সিং হাসপাতালটিও বিতস্তার এক শাখা নদীর ধারে অবস্থিত। এর একদিকে করণ নগর, অন্যদিকে নবাব বাজার। ফলে এমন জায়গায় পালিয়ে যাওয়া তুলনায় সহজ। জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশের তরফে আগেই এই জঙ্গিদের শ্রীনগর জেল থেকে সরিয়ে অন্য নিরাপদ জেলে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে পুলিশের ওই পদক্ষেপ আটকে দেয় সেশন কোর্ট।

Advertisements

পাকিস্তান থেকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরা দুই লস্কর জঙ্গি ধৃত

পুলিশ, সেনা ও আধাসেনার মিলিত অভিযানে বড় সাফল্য। গত ৩রা ফেব্রুয়ারী, শনিবার উত্তর কাশ্মীরের বারামুলা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হল পাকিস্তানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লস্কর-ই-তোইবার দুই জঙ্গিকে। শুধু তাই নয়, বৈধ ভিসার মাধ্যমে এই দুই জঙ্গি পাকিস্তান গিয়েছিল অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে। পুলিশের দাবি, ধৃত জঙ্গিদের ভিসার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল দিল্লির পাকিস্তানি হাই কমিশন। যাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে ফেরার পর এরা কাশ্মীরে জঙ্গি হামলা চালাতে পারে। জেরার মুখে পড়ে গোটা চক্রান্তের কথা স্বীকারও করে নিয়েছে দুই জঙ্গি।
এদিন পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সিআরপিএফ মিলিতভাবে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়া এই দুই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করে। শ্রীনগরে পুলিশের এক মুখপাত্র একথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়া ও ফিরে এসে উপত্যকায় হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে তাদের ভিসা দেওয়া হয়েছিল। অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা ওয়াঘা-আটারি সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসে। কিন্তু কাশ্মীরের জঙ্গি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। ধৃত জঙ্গিদের নাম আব্দুল মজিদ ভাট ও মহম্মদ আশরাফ মির।
পুলিশের জেরার মুখে পড়ে ধৃতরা জানিয়েছে, পাকিস্তানে একঝাঁক পাক বালকের সঙ্গেই অস্ত্র প্রশিক্ষণ হয়েছিল তাদের। প্রশিক্ষণ শিবিরে থাকা অধিকাংশ পাক বালকের বয়স ১০ বছরের আশপাশে। তারা বালুচিস্তানের বাসিন্দা। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরগুলি গড়ে উঠেছে ইসালামাবাদের কাছাকাছি একটি জায়গায়। ধৃত লস্কর জঙ্গিরা জেরায় আরও জানিয়েছে, অস্ত্র প্রশিক্ষণের এই শিবিরগুলি চলে লস্করের এক কমান্ডারের অধীনে। এই কমান্ডারের আবার তিনটি কোড নেম রয়েছে। হানজালা, আদানান ও ওমর। শুধু তাই নয়, অল্প বয়সি ছেলেদের যে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, কোড নেম রয়েছে তাদেরও। যেমন, ওসামা, নাভিদ ও হাতাফ। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

ভারত ভেঙে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র তৈরি করা হোক, দাবি মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য মুফতি নাসিরের

dirghodiner muslim toshon.jpgদীর্ঘদিনের মুসলিম তোষণ যে এদেশের মুসলমানদের দেশের প্রতি টান জাগিয়ে তুলতে পারেনি, তার প্রমান মিললো। জম্মু-কাশ্মীরের মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য মুফতি নাসির দাবি তুলেছেন যে ভারত ভেঙে আর একটি মুসলিম রাষ্ট্র তৈরি করা হোক। তিনি যুক্তি হিসেবে বলেছেন যে ভারতের বর্তমান মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি। দেশভাগের সময় দেশের ১৭ কোটি মুসলিম জনসংখ্যা নিয়ে পাকিস্তান তৈরি হয়েছিল। তাই বর্তমানেও তেমনটা করা হোক। এছাড়াও তিনি উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে হওয়া সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জন্যে হিন্দুদেরকে দায়ী করেছেন। তবে তার এই বক্তব্যে দেশপ্রেমী জনগণ যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তারা তার গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। এখনো পর্যন্ত তিনি বহাল তবিয়তে থাকায় জম্মু-কাশ্মীর সরকারের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

অমরনাথ যাত্রায় হামলা : ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ফাইল কাশ্মীর পুলিশের

গত বছর অমরনাথ যাত্রার উপর হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার মেম্বারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ফাইল করল জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে ওই হামলায় আট পুণ্যার্থী প্রাণ হারিয়েছিলেন।

গতকাল ২৯শে জানুয়ারী, সোমবার অনন্তনাগের দায়রা আদালতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রণবীর পেনাল কোড এবং সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে ১ হাজার ৬০০ পাতার চার্জশিট দায়ের করা হয়েছে। এখানে উল্লেখযোগ্য, রণবীর আইন অনেকটা ভারতীয় দণ্ডবিধির মতো। শুধুমাত্র জম্মু-কাশ্মীরে প্রযোজ্য হয়। পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত এবং মৌখিক তথ্যপ্রমাণ গত ছ’মাস ধরে রেকর্ড করা হয়েছে। রেকর্ড হয়েছে ডিআইজি (দক্ষিণ কাশ্মীর) এস পি পানির নেতৃত্বে। অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে আবু ইসমাইল, ইয়াওয়ার বসির, মাভিয়া এবং ফুরকান গত বছর দু’টি পৃথক এনকাউন্টারে প্রাণ হারিয়েছে। গত বছর ১০ জুলাই অমরনাথ থেকে ফেরার পথে একটি তীর্থযাত্রী বোঝাই বাসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় লস্কর জঙ্গিরা। ঘটনাস্থলেই আটজন নিহত হয়েছিলেন।

সেনার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করলো পিডিপি-বিজেপি জোট সরকার

দুই জনের মৃত্যুর জেরে থমথমে জম্মু-কাশ্মীরের সোপিয়ান৷ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ডাকা বন্ধে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে জনজীবন৷ গুলিচালনার ঘটনায় সেনার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে রাজ্য পিডিপি-বিজেপির জোট সরকার৷ আত্মরক্ষার্থেই পাল্টা গুলি, দাবি করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক৷

বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২৭শে জানুয়ারী, শনিবার সন্ধ্যেয় গুলি চালিয়েছিল সেনা৷ তাতে দুই সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সোপিয়ান৷ বিচ্ছিন্নতবাদীরা গতকাল ২৮শে জানুয়ারী, রবিবার বন্ধের ডাক দিয়েছিল৷ বন্ধ ছিল দোকানপাট, স্কুল৷ চলেনি সরকারি বাস৷ বারামুলা ও বানিহালের মধ্যে ট্রেন চলেনি৷ গন্ডগোল রুখতে সোপিয়ান, শ্রীনগরের ডাউনটাউন, মাইসুমা এলাকায় কার্ফু জারি করেছিল প্রশাসন৷ দিনভর থমথমে বিভিন্ন এলাকা৷ মোবাইল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয় পুলওয়ামা, অনন্তনাগ, কুলগাম ও সোপিয়ান জেলায়৷ দক্ষিণ কাশ্মীরের এই জেলাগুলি বাদ দিয়ে রাজ্যের অন্যত্র শুধু টুজি পরিষেবা মিলেছে এ দিন৷ উত্তেজনা থাকলেও রবিবার কোনও হিংসার ঘটনা ঘটেনি৷

এই ঘটনা ঘিরে প্রবল অসন্তোষ থাকায় জম্মু-কাশ্মীর সরকার সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে৷ ৩০২ ধারায় খুন ও ৩০৭ ধারায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে সেনার গাড়োয়াল ইউনিটের ১০ জন সদস্যের বিরুদ্ধে৷ এর মধ্যে একজন মেজরও রয়েছেন৷ এই মেজর গুলিচালনার সময় ওই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন৷ শনিবারই গুলিচালনার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি৷

গুলিচালনায় অভিযুক্ত হলেও সেনার দাবি, তারা আত্মরক্ষার জন্যই গুলি চালিয়েছে৷ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, বিনা প্ররোচনায় সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়েছে৷ ১০০-২০০ জনের একটি দল আক্রমণ চালায়৷ কয়েক মিনিটের মধ্যে এই সংখ্যা ২০০-২৫০এ গিয়ে দাঁড়ায়৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘কনভয় থেকে বিচ্ছিন্ন চারটি গাড়িকে ঘিরে ফেলে জনতা৷ গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে৷ তাই আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয়ে সেনাকে গুলি চালাতে হয়েছে৷ অনেক সেনা জওয়ান এই হামলায় আহত হয়েছেন৷’’

হাফিজ সইদ, সালাউদ্দিন এবং হুরিয়ত নেতাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করল এনআইএ

লস্কর-ই-তোইবা প্রধান হাফিজ সইদ, হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সইদ সালাউদ্দিন সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে বিরাট চার্জশিট পেশ করল জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি বা এনআইএ। এদের সকলের বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দিয়ে দেশের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালানোর অভিযোগে ১২ হাজার ৭৯৪ পাতার চার্জশিট প্রস্তুত করেছে এনআইএ।

গত ১৮ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির আদালতে সংশ্লিষ্ট দলিল সহ চার্জশিট পেশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পর্যায়ের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছে জাতীয় তদন্তকারী এজেন্সি। এই বিষয়ে শুনানি আগামী ৩০ জানুয়ারী হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক তরুণ শেরাওয়াত। পাকিস্তানের জঙ্গিনেতা হাফিজ সইদ, সালাউদ্দিন এবং অন্য ১০ জনের বিরুদ্ধে বিরাট এই চার্জশিট তৈরির জন্য প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। দেশের ৬০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে ৯৫০টি সংশ্লিষ্ট তথ্য বাজেয়াপ্ত হয়েছে। একইসঙ্গে, ৩০০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ার পর হাফিজ সইদ, সইদ সালাউদ্দিনের পাশাপাশি চার্জশিটে পাকিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী সইদ আলি শাহ গিলানি, বাসির আহমেদ ভাট, ব্যবসায়ী জাহুর আহমেদ শাহ ওয়াটলি এবং চিত্রসাংবাদিক কামরান ইউসুফের নাম উঠেছে। জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তির সময় পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছিল চিত্র সাংবাদিক কামরান ইউসুফকে। চার্জশিটে নামোল্লেখ করা হয়েছে হুরিয়ত কনফারেন্স নেতা আফতাব আহমেদ শাহ, আলতাফ আহমেদ শাহ, নইম আহমেদ খান, ফারুক আহমেদ দার ওরফে বিট্টা ক্যারেটে, মহম্মদ আকবর খানডে, রাজা মেহরাজুদ্দিন কালওয়াল এবং বসির আহমেদ ভাটের। হুরিয়ত নেতাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসের আবহ তৈরির অভিযোগ করেছে এনআইএ। তদন্তকারী এজেন্সির দাবি, কাশ্মীরে কবে, কখন কীভাবে প্রতিবাদ হবে তার ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল হুরিয়ত নেতারা। সেই ক্যালেন্ডার স্থানীয় সংবাদপত্র, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ধর্মীয় নেতাদের মাধ্যমে উপত্যকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এমআইএ’র মতে, এইসব কীর্তি করে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছিল হুরিয়ত প্রধানরা। আর উপত্যকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসের পরিবেশ ধরে রাখার জন্য মদত এসেছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ব্যবসায়ী জাহুর আহমেদ শাহ ওয়াটলির মতো ব্যক্তির সাহায্যে হাওলায় বিপুল পরিমাণ পাকিস্তানি মুদ্রা এদেশে এসেছে। কয়েকটি ভুয়ো কোম্পানি খুলে খুব সহজেই সেই টাকা ভারতে আনতে পেরেছে ওই ব্যবসায়ী। ২০১৬ সালে গুলির লড়াইয়ে হিজবুল মুজাহিদিনের পোস্টার বয় বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর এনআইএয়ের হাতে ধরা পড়েছিল ব্যবসায়ী জাহুর আহমেদ শাহ। এছাড়া, এই মামলায় ইতিমধ্যেই এনআইএ গ্রেপ্তার করেছে আলতাফ আহমেদ শাহ ওরফে আলতাফ ফান্টুস, তার জামাই সইদ আলি শাহ গিলানি, মিরওয়াজ উমর ফারুক নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী হুরিয়ত কনফারেন্সের মুখপাত্র আয়াজ আকবর, গিলানির নেতৃত্বাধীন হুরিয়ত কনফারেন্সের মুখপাত্র এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী নইম খান, বাসির ভাট ওরফে পীর সফিুউল্লাহ এবং রাজা মেহরাজুদ্দিন কালওয়ালকে।

পুঞ্চ সীমান্তে গুলিযুদ্ধে খতম পাকিস্তানী সেনা

গত ১৫ই জানুয়ারী, সোমবার সেনা দিবসে জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাল্টা জবাবে সাত পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে চার জন। গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাজৌরিতে পাক সেনার গুলিতে এক ভারতীয় জওয়ানের প্রাণহানির ঘটনার জবাবে এই প্রত্যাঘাত করা হয়েছিল। এদিন নয়াদিল্লিতে সেনা দিবসের অনুষ্ঠানে বিপিন রাওয়াত বলেন, ‘‘আমাদের যদি বাধ্য করা হয়, তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনীও প্রস্তুত, ওদের জন্য আরও কড়া দাওয়াই অপেক্ষা করছে।’’ এদিনই পুঞ্চে নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রত্যাঘাতে পাক সেনার মৃত্যুর খবর স্বীকার করেছে পাক কর্তৃপক্ষও। তবে পাক সরকার ট্যুইট করে জানিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলায় অন্তত চার পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে।

রাজৌরি হামলার বদলা নিলো ভারতীয় সেনা

armyগত ২৩শে ডিসেম্বর,  শনিবার জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার খেরি সেক্টরে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলা চালায় পাক বাহিনী। পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম সীমান্তের ৪০০ মিটার ভিতরে ঢুকে এসে খুন করে চার ভারতীয় সেনাকে। এঁদের মধ্যে একজন ছিলেন আবার মেজর। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই সেই হামলার শোধ নিল ভারত। আর প্রত্যাঘাত চালানো হল একেবারে পাকিস্তানের কায়দাতেই। পুঞ্চ সীমান্ত পেরিয়ে পাক বাহিনীর উপর আক্রমণ চালিয়ে তাদের তিন জনকে খতম করে নিরাপদে ফিরে এল ‘ঘাতক’ বাহিনী।
শনিবারের পাক হামলার পরেই তক্কে তক্কে ছিল ভারতীয় বাহিনী। গত ২৫শে ডিসেম্বর, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ সেই মওকা চলে আসে। পুঞ্চ সেক্টরের ওপারে পাকিস্তানের রাওয়ালকোট এলাকার রুখ চকরি সেক্টরে একটি অস্থায়ী চৌকির আশপাশে পাক সেনার একটি ইউনিট দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গেই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি হয়ে যায়। ওই চৌকি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করেন ভারতীয় জওয়ানরা। সূত্রের খবর, ওই বিস্ফোরণেই কয়েকজন পাক সেনার মৃত্যু হয়। হতচকিত হয়ে ছন্নছাড়া হয়ে যায় বাকি সেনা। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন জওয়ানরা। গোপন আক্রমণে সিদ্ধহস্ত ভারতীয় সেনার ‘ঘাতক’ বাহিনীর পাঁচ জওয়ান শুরু করেন অপারেশন। পুঞ্চ সেক্টরের নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে প্রায় ৩০০ মিটার পাক অধিকৃত সীমানায় ঢুকে পড়ে বাহিনী। ৪৫ মিনিটের অপারেশনে তিন জনকে নিকেশ করে নিরাপদে ফিরে আসে। তবে পাকিস্তানের বর্ডার অ্যাকশন টিম হামলা চালালে যেমন মুণ্ডচ্ছেদ বা অঙ্গচ্ছেদ করে, তেমন হামলা ঘাতক বাহিনী চালায়নি। সূত্রের খবর, যে পাক বাহিনীর উপর এই হামলা চালানো হয় সেটি ছিল রাওয়ালকোট ব্রিগেডের ৫৯ বালুচ ইউনিট। পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস এই হামলার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। তারা জানিয়েছে ভারতের হামলায় তিন পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে।

জম্মু-কাশ্মীরে পাক বাহিনীর গুলিতে হত এক মেজরসহ তিন জওয়ান

জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার খেরি সেক্টরে পাক বাহিনীর গুলি চালনার ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক মেজর সহ তিন জওয়ান। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও দুই জওয়ান। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। যদিও সূত্রের খবর, পাক গুলিতে চার সেনার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩শে ডিসেম্বর, শনিবার বেলা ১২টা ১৫ নাগাদ। ১২০ ইনফান্ট্রি ব্রিগেড সেই সময় এলাকায় টহল দিচ্ছিল। তখনই পাক বাহিনী বিনা প্ররোচনায় গুলি চালাতে শুরু করে। পাক বাহিনীর গুলিতে মারা যান মেজর মোহারকর প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং, সিপাহি পারগত সিং। ভারতীয় বাহিনীর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেজর মোহরকর প্রফুল্ল অম্বাদাস, ল্যান্স নায়েক গুলমেইল সিং ও সিপাহি পারগত সিং সাহসী ও আন্তরিক যোদ্ধা ছিলেন। এই শহিদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও কতর্ব্যপরায়নতার কথা জাতি সর্বদা মনে রাখবে। ভারতীয় শহিদ জওয়ানদের এই আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। জানা গিয়েছে, মেজর অম্বাদাস মহারাষ্ট্রের ভান্ডারা জেলার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী রয়েছে। ল্যান্স নায়েক গুরমেইল সিং পাঞ্জাবের অমৃতসরের বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে সিপাহি পারগত সিংয়ের বাড়ি হরিয়ানার করনালে। তাঁর স্ত্রী-পুত্র বর্তমান। শেষ খবরে জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে এবার পাক বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলিবর্ষণ শুরু করেছে জওয়ানরাও। সীমান্তে পাক বাহিনীর এমন বিনা প্ররোচনায় গুলি চালনার ঘটনা অবশ্য নতুন কিছু নয়। গত মাসেও পুঞ্চ এলাকায় ভারী মর্টার নিয়ে আক্রমণ চালিয়েছিল পাক বাহিনী। পাক হামলার কড়া নিন্দা করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের উপ মুখ্যমন্ত্রী নির্মল সিং।

সোপিয়ানে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে হত দুই জয়েশ জঙ্গি

sopiyane nirapottarokkhider songe gulir loraiyeজম্মু-কাশ্মীরের সোপিয়ান জেলায় গত ১৮ই ডিসেম্বর, সোমবার রাতভর অভিযানে নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে জয়েশ-ই-মহম্মদের দুই জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। এই সংঘর্ষের মাঝে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন এক মহিলাও। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান এবং এক পুলিশকর্মীও এই অভিযানে আহত হয়েছেন। পুলিশের তরফে মঙ্গলবার এই খবর দেওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোপন সূত্রে খবর পেয়েই সোমবার বিকেলে সোপিয়ানের ওয়ানিপোরা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন নিরাপত্তারক্ষীরা। জঙ্গিরা আচমকা গুলি চালাতে শুরু করলে নিরাপত্তারক্ষীদের তরফেও পাল্টা আক্রমণ করা হয়। পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, দুই জঙ্গি নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে মারা গেলেও তৃতীয় এক জঙ্গি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মৃত দুই জয়েশ জঙ্গির নাম তনভির আহমেদ এবং আলি ওরফে কোয়ারি। তনভির সোপিয়ানের বাটা মুরানের বাসিন্দা। কিন্তু আলি বিদেশি। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি একে রাইফেল এবং প্রচুর গুলি উদ্ধার হয়েছে। অন্যদিকে, দু’পক্ষের পক্ষে গুলির লড়াইয়ে রুবি নামের এক মহিলা গুরুতর জখম হন। তাঁকে সঙ্গে সঙ্গে পুলওয়ামা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি মারা যান। রুবি হলেন মনজুর আহমেদ মিরের স্ত্রী। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই মহিলা গুলিবিদ্ধ হলেন এবং মারা গেলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জঙ্গিদের সঙ্গে লড়াইয়ের সময় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী নিরাপত্তারক্ষীদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তারক্ষীরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। পুলিশ কর্তাটি জানিয়েছেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় সাধারণ মানুষের কখনই ঘটনাস্থলের কাছাকাছি যাওয়া উচিত নয়। তাতে জীবনের ঝুঁকি থাকেই। এক্ষেত্রে যেমন এক মহিলার মৃত্যু হল। যা কখনই কাঙ্খিত নয়। প্রসঙ্গত, এদিন ন’জন সাধারণ মানুষ চোট পেয়েছেন। তবে, তাঁদের আঘাত গুরুতর নয়।

সেন্ট্রাল কাশ্মীরে এনকাউন্টারে হত ৫ জঙ্গি

central kashmire encounte hoto 4 jongiপ্রবল ঠাণ্ডায় কাঁপছে গোটা কাশ্মীর উপত্যকা। হাড় কনকনে ঠাণ্ডার কামড়ে ওষ্ঠাগত ভূস্বর্গের মানুষজনের প্রাণ। ভীষণ ঠাণ্ডার মধ্যেও ভূস্বর্গে আতঙ্কবাদীদের উপদ্রব ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তবে, শক্ত হাতে সন্ত্রাসবাদীদের উপদ্রবও থামাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।  গত ৩০ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি দমন অভিযানে বড়-সড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। জম্মু ও কাশ্মীরের বদগাম জেলা এবং বারামুল্লা জেলায় এনকাউন্টারে ৫ সন্ত্রাসবাদীকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী। সেন্ট্রাল কাশ্মীরের বদগাম জেলার পাখেরপোরা এলাকার ফুতলিপোরায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয়েছে ৪ জঙ্গি। অন্যদিকে, বারামুল্লা জেলার সোপোরের বোমাই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয়েছে এক জঙ্গি।

নিরাপত্তা বাহিনী ও জঙ্গিদের মধ্যে তীব্র গুলির লড়াইয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তপ্ত ছিল সেন্ট্রাল কাশ্মীরের বদগাম জেলার পাখেরপোরা এলাকা।  দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা গুলির লড়াইয়ে খতম হয়েছে ৪ জঙ্গি। এছাড়াও জঙ্গি দমন অভিযানে আহত হয়েছেন এক জন নিরাপত্তা রক্ষী।  ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় শ্রীনগর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে, বদগাম জেলার পাখেরপোরা এলাকার ফুতলিপোরায় লুকিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পাখেরপোরা এলাকার ফুতলিপোরায় তল্লাশি অভিযান চালায় সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিফ), স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি) এবং জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

ঊর্ধ্বতন ওই পুলিশ কর্তা আরও জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলাকালীন হঠাৎই গুলি চালায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিরা। কালবিলম্ব না করে নিরাপত্তা বাহিনীও পাল্টা জবাব দিয়েছে।  শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, এনকাউন্টারে খতম হয়েছে ৪ জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) জঙ্গি।  পুলিশ সূত্রের খবর, জঙ্গি দমন অভিযানে আহত হয়েছেন এক জন নিরাপত্তা রক্ষী।  এছাড়াও আহত হয়েছেন দু’জন সাধারণ নাগরিক। অভিযোগ, জঙ্গি দমন অভিযান ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় বাসিন্দারা। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানের কারণে বদগামে বন্ধ রাখা হয় ইন্টারনেট পরিষেবাও।  অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলার সোপোরের বোমাই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে খতম হয়েছে এক জঙ্গি।

ভারতীয় মুসলিমরা জেহাদে যোগ দিন, বাবরি ধ্বংসের বর্ষপূর্তিতে কাশ্মীরে বার্তা আল-কায়েদার

হিন্দুদের ধংস  করতে ভারতীয় মুসলিমরা ‘জেহাদে’ যোগ দিন। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তির দিন এই বার্তা এল আল-কায়েদার তরফে। ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি একটি অনলাইন বার্তায় এই জেহাদের ডাক দিয়েছে কাশ্মীরে আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন অনসার-ঘাজওয়া’তুল-হিন্দ। সেই বার্তায় বলা হয়েছে, লক্ষ্য হাসিল না হওয়া পর্যন্ত হিন্দুরা তাদের কৌশল বদলাতে থাকবে। আর তাদের মোদ্দা লক্ষ হল একটি মুসলিমও যাতে জীবিত না থাকে। তা সে শিশু হোক বা বয়স্ক, পুরুষ হোক বা মহিলা।

কাশ্মীরে আল-কায়েদার এই নয়া সহযোগী সংগঠনটি তৈরি হয় চলতি বছরের গোড়ার দিকে। উপত্যকায় সক্রিয় হিজবুল মুজাহিদিন ও লস্কর-ই-তৈবা থেকে বেরিয়ে আসা ক্যাডাররা এই সংগঠনটি তৈরি করেছে বলে রিপোর্ট। বুধবার অনলাইন ফিডের মাধ্যমে আল-কায়দার এই সহযোগী সংগঠনের তরফে এই জেহাদি বার্তা দেওয়া হল। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বর্ষপূর্তি হিসেবেই আজকের দিনটিকে তারা বেছে নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই অনলাইন বার্তায় বলা হয়েছে, জেহাদের স্বার্থে প্রতিটি ভারতীয় মুসলিমের ঘর ছাড়ার জন্য তৈরি থাকা উচিত। কারণ ‘শত্রু’রা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বার্তাটি পাঠ করতে শোনা গিয়েছে এক জেহাদিকে। সুলতান জাবুল আল-হিন্দি ছদ্মনামে। বাচনভঙ্গি ও উচ্চারণ থেকে স্পষ্ট, সে মোটেও কোনও হিন্দিভাষী নয়। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কমান্ডার জাকির ভাট বা জাকির মুসার নেতৃত্বে সক্রিয় আল-কায়েদার এই সহযোগী সংগঠনটিতে কাশ্মীরের বাইরের কোনও ব্যক্তি যুক্ত রয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত কোনও খবর নেই। কিন্তু বার্তা পাঠকের নামের মধ্যে ‘জাবুল’ শব্দটি থাকায় সে সম্ভবত দক্ষিণ আফগানিস্তানে সক্রিয় ছিল বা এখনও রয়েছে বলে ইঙ্গিত মিলছে। চলতি মাসেই আফগানিস্তানের জাবুল, গজনি ও পাকটিকা প্রদেশে মার্কিন ও আফগান বাহিনী অভিযান চালিয়ে বহু জঙ্গিকে নিকেশ করেছে। ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার প্রধান সানা উল-হকের অন্যতম সহযোগী ওমর মনসুর আফগানিস্তানের ওই অভিযানে মারা যায় বলে খবর। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন সহ ভারতের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ফেরার সদস্যরা আফগানিস্তানে গিয়ে আল-কায়েদার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রশস্ত্র ও বিস্ফোরক সম্পর্কে ওই প্রশিক্ষণ হয়েছে। পাশাপাশি কেরল ও মহারাষ্ট্রের কিছু জেহাদিও ওইসব এলাকায় গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে খবর। যদিও দেশের বাইরের কেউ আনসার ঘাজওয়া’তুল-হিন্দের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে, তা এই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

বান্দিপোরায় গুলির লড়াই, খতম মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড লকভির ভাগ্নে সহ ৬ জঙ্গি

bandiporay gulir loraiজঙ্গি দমনে বড় সাফল্য পেল সেনাবাহিনী। শনিবার উত্তর কাশ্মীরে এক অভি‌যান খতম হল ৬ জঙ্গি। নিহত জঙ্গিদের মধ্যে রয়েছে মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড জাকিউর রহমান লকভির ভাগ্নে ওবেইদ। গুলির লড়াইয়ে শহিদ হয়েছেন বায়ুসেনার এক গরুড়  কমান্ডো। এদিন ১৮ই নভেম্বর, শনিবার সকালে  নিরাপত্তাবাহিনী কাশ্মীরের  বান্দিপোরার চান্দেরগির গ্রাম ঘিরে ফেলে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল ওখানে লুকিয়ে রয়েছে বেশকিছু জঙ্গি। তার মধ্যে কয়েকজন পাকিস্তানের নাগরিকও আছে। তল্লাশি অভি‌যান চলাকালীন জঙ্গিরা আচমকাই সেনাবাহিনীর উপরে গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা গুলি চালায় সেনাও। এতেই নিহত হয় ওইসব জঙ্গিরা। প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুখপাত্র রাজেশ কালিয়া জানিয়েছেন, বান্দিপোরায় সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই চলছে। এখনও প‌র্যন্ত ৫ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত জঙ্গিদের পরিচয় নিয়ে সেনার তরফ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশত্র উদ্ধার হয়েছে।  

সৈয়দ সালাউদ্দিনের ছেলেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করলো জম্মু-কাশ্মীর সরকার

Syed Salahuddins sonজঙ্গি সংগঠনকে অর্থ সরবরাহের অভিযোগে ধৃত হিজবুল নেতা সৈয়দ সালাউদ্দিনের ছেলে ইউসুফকে কৃষি দপ্তরের চাকরি থেকে সাসপেন্ড করল জম্মু ও কাশ্মীরের সরকার। গত ২৪শে অক্টোবর ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে উঠে আসে যে ইউসুফের কাছে টাকা আসতো সিরিয়াতে থাকা কাশ্মীরের সন্ত্রাসবাদী গোলাম মহম্মদ ভাট-এর কাছ থেকে। সেই টাকা সে হিজবুল মুজাহিদিন ক্যাডারের মাধ্যমে তার পিতা সৈয়দ সালাউদ্দিনের কাছে পাঠিয়ে দিতো। ইউসুফের সহযোগীদেরও এনআইএ গ্রেপ্তার করেছে, তারা হলো মোহাম্মদ সিদ্দিক ঘানি, গুলাম জিলানী লিলু ও ফারুক আহমেদ দাগ্গা।

জম্মু-কাশ্মীরের বান্দিপোরায় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষ, খতম দুই লস্কর-ই-তোইবা জঙ্গি

জঙ্গি-সেনা সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত ভূস্বর্গ। গত ২৯শে অক্টোবর, রবিবার সকালে উত্তর কাশ্মীরের বান্দিপোরা জেলার মীর মহল্লা গ্রামের হাজিন এলাকায় জঙ্গি-সেনার গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষে দুই জঙ্গি আবদুল্লা ও মসিউদ্দিন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের জাহির আব্বাস নামে এক পুলিশ কনস্টেবল শহীদ হয়েছেন।

জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, একদল লস্কর-ই-তোইবা জঙ্গির লুকিয়ে থাকার পেয়ে মীর মহল্লা গ্রামের হাজিন এলাকাটি ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী। পরে সেখানে তল্লাশি অভিযান শুরু করে তারা। তল্লাশি অভিযান চলাকালীন একদল জঙ্গি সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পাল্টা যোগ্য জবাব দেয় সেনা। শুরু হয় গুলির লড়াই। স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে সেনা। তবে সেনা অভিযান করার সময় ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা সেনা ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়তে থাকে। তাতে অভিযান কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়।