ফের জঙ্গি হামলা বাংলাদেশে, এবার আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ব়্যাব দপ্তরে

RAB-Attackফের জঙ্গি হামলা বাংলাদেশে। এবার ঢাকার উত্তরায় বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশের ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (RAB) সদর দপ্তরে হামলা করল আত্মঘাতী জঙ্গি। ঘটনায় জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি >>

‘হিন্দু রাষ্ট্র ভারতে রক্তগঙ্গা বইয়ে দাও’, হুমকি আইএস-এর

17309461_424491394558640_9041933933288805104_nলখনউ এনকাউন্টারে নিহত সইফুল্লার মৃত্যুর ‘বদলা’ নাও, আহ্বান আইএস জঙ্গি চ্যানেলের l
‘সইফুল্লাই ভারতীয় মুসলিমদের আদর্শ l’ এবার এমনই প্রচার শুরু করেছে আইএস পরিচালিত জেহাদি চ্যানেল l শুধু তাই নয়, ‘আল হিন্দি’ নামের ওই জেহাদি চ্যানেলের দাবি, ভারতীয় মুসলিমদের যুবকদের এবার এভাবেই হামলা চালাতে হবে  >>

দেখুন কীভাবে শিশুদের জেহাদি শিক্ষার পাঠ দিচ্ছে জঙ্গিরা

isis_web-1দূরে বেঞ্চের উপর পড়ে রকেট লঞ্চার৷ পাশেই আত্মঘাতী জঙ্গির বিস্ফোরক বেল্টের একাংশ৷ আর কয়েকটা বই৷ হাওয়ায় উল্টে যাচ্ছে পাতা৷ তাতে বন্দুক হাতে এক ব্যক্তি৷ তলায় লেখা ‘স্নাইপার’৷ পাশে আরও একটি বন্দুক৷ তলায় লেখা ‘গান’৷ মসুলের অনাথাশ্রমের এই ছবিই সম্প্রতি প্রকাশ্যে এল৷ আইএস পরিচালিত এতিমখানায় (অনাথাশ্রম) এভাবেই চলছে জেহাদি শিক্ষার পাঠ  >>

কুষ্টিয়ায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার

kushtia-324x215কুষ্টিয়ায় র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। এ সময় অভিযান চলাকালীন সময়ে হাবিবুর রহমান ওরফে হোকবা (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে গেছে  >>

দেশীয় অস্ত্রসহ ২ যুবক আটক

গত ১৯ ফেব্রুয়ারী সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলায় দেশীয় অস্ত্রসহ ২ যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ৭টি রামদা ও একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়  >>

ভারতীয় সেনাকে পেট্রল বোমা দিয়ে আক্রমণের ছক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের

kashmir-protestorsবিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদতেই কাশ্মীরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে পাক মদতপুষ্ট আইএসআই৷ এমনই খবর রয়েছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে  >>

‘২০০ জনেরও বেশি মহিলাকে ধর্ষণ করেছি’, স্বীকারোক্তি আইএস জঙ্গির

‘যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাকে ইয়েজিদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মহিলাদের ওপর আইএস জঙ্গিদের অত্যাচার ও গণধর্ষণ খুবই সাধারণ ব্যাপার। আমি নিজেই ২০০-রও বেশি মহিলাকে ধর্ষণ করেছি। আইএস নেতৃত্বই আমাদের এই কাজের জন্য সবুজ সঙ্কেত দিয়েছিল  >>

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে খালাস দুই অভিযুক্ত, মুক্ত মূল চক্রীও

image-eeeeeeeeপরপর বিস্ফোরণে সে দিন কেঁপে উঠেছিল উৎসবের অপেক্ষায় সেজে ওঠা দিল্লি। দিওয়ালির পসরা সাজিয়ে বসা রাজধানীর আলো ঝলমলে বাজার-বাস স্ট্যান্ড-রেল স্টেশন চত্বর ভরে গিয়েছিল রক্ত আর আতঙ্কে  >>

রাজস্থানে ভারত-পাক সীমান্ত থেকে আটক এক পাক গুপ্তচর

border_webপাক গুপ্তচর সন্দেহে রাজস্থান থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করল সিআইডি এবং বর্ডার ইনটেলিজেন্স পুলিশের গোয়েন্দারা  >>

গোপন ডেরায় হানা, ২ সেনা-সহ নিহত ৭

image-1

ভাণ্ডোরিয়া গোপাল সিংহ ও (ডান দিকে) রঘুবীর সিংহ

বৈঠক সারতে কুলগামের লুকনো ঘাঁটিতে জড়ো হয়েছে সাত জঙ্গি। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতেই হানা দেয় সেনা ও পুলিশের বাহিনী  >>

কাশ্মীরের কুলগামে গুলির লড়াই, শহিদ ২ জওয়ান, খতম ৪ জঙ্গিও

downloadজম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি-নিরাপত্তাবাহিনীর সংঘর্ষে নিহত হন তিনজন জওয়ান  >>

মালদা পুলিশের বিশেষ অভিযান : তিন সপ্তাহে ধৃত ৭৫০ জন দুস্কৃতী 

মালদার কালিয়াচকে দুস্কৃতীরাজ বন্ধ করতে ময়দানে নামল মালদা জেলা পুলিশ। অপরাধ দমন করার লক্ষ্যে মালদা জেলা পুলিশের দাওয়াই – অন্যান্য থানা থেকে পুলিশ কর্মী এবং অফিসারদের নিয়ে এসে বিশেষ অভিযান। গত তিন সপ্তাহে জেলায় গ্রেফতার সাড়ে সাতশো অপরাধী। উদ্ধার ১৩টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৩ রাউন্ড কার্তুজ। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি এবার কালিয়াচকে শান্তি ফিরতে চলেছে ?জেলার নতুন পুলিশ সুুপারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে কালিয়াচকবাসী। উল্লেখ্য, চুরি হোক কিংবা ডাকাতি কিংবা জালনোট উদ্ধার বা খুন, বার বার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে মালদার কালিয়াচক।খুন,ডাকাতি,ছিনতাই নিত্যদিনের সঙ্গী কালিয়াচকের অধিবাসীদের। দুস্কুতীদের আতঙ্কে রাতের পর রাত জেগে কাটিয়েছে কালিয়াচকের মানুষ। কিন্ত জেলা পুলিশ সুুপারের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এইসব ঘটনায় রাশ টানতে নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশ সুুপার অর্ণব ঘোষ। শুরু হয় জেলা জুড়ে বিশেষ অভিযান। সাফল্য পায় জেলা পুলিশ। মূলত কালিয়াচক,বৈষ্ণবনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে শতাধিক দুস্কুতীকে। উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্রও।পুলিস সুুপার অর্ণব ঘোষ সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে তাদের এই বিশেষ অভিযান চলছে। এই তিন সপ্তাহে জেলায় মোট সাড়ে সাতশো অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে,১৩টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৩৩ রাউন্ড কার্তুজও।পাশাপাশি কালিয়াচকে অপরাধ দমন করতে বিশেষ টিমও গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ইরাক-সিরিয়া যেতে তৈরি পাঁচশো তরুণ

সৌজন্য আনন্দবাজার পত্রিকা :-

দেশ ছেড়ে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে মানসিক ভাবে তৈরি রয়েছেন ভারতের অন্তত ৫০০ মুসলিম যুবক। জম্মু-কাশ্মীর, কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি-সহ বিভিন্ন রাজ্যের এই যুবকদের লক্ষ্যই হল খিলাফত বা ইসলামি ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করে মূলত পশ্চিমি দুনিয়াকে শিক্ষা দেওয়া। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে এই তথ্য জানিয়েছে।

সরকারি ভাবে কেন্দ্রের হিসাব— এখনও পর্যন্ত ভারত থেকে দু’ডজন যুবক সিরিয়া ও ইরাকে গিয়ে আইএসে যোগদান করেছে। গোয়েন্দারা বলছেন, এক সময়ে নতুন নতুন এলাকা দখল করে ক্রমশ শক্তি বিস্তার করলেও, গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকা ও রাশিয়ার মতো শক্তিধর দেশগুলির মার খেয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এই জঙ্গি সংগঠন। একের পর এক এলাকা হাতছাড়া হচ্ছে। লাগাতার হামলায় প্রচুর যোদ্ধাও মারা পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় উপমহাদেশের মতো জনবহুল এলাকাকে যোদ্ধা সংগ্রহের জন্য পাখির চোখ করেছে আইএস। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক টুইটারের মতো সামাজিক সাইটগুলি থেকে জঙ্গিদের প্রতি নরম মনোভাবাপন্ন মুসলিম যুবকদের বেছে নিয়ে তারা লাগাতার মগজ ধোলাইয়ের কৌশল নিয়েছে। তাদের কারও কারও সঙ্গে আইএস-এর আঞ্চলিক নেতারা ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগও করেছে। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে এই মুহূর্তে অন্তত পাঁচশো ভারতীয় যুবক আইএসে যোগ দিতে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে আসা রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই যুবকদের বড় অংশের লক্ষ্য হল ইরাক-সিরিয়া-সহ পশ্চিম এশিয়ায় খিলাফত প্রতিষ্ঠা। তবে রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সব যুবকদের ক্ষোভ প্রধানত পশ্চিমি দেশগুলির একাধিপত্যের বিরুদ্ধে। ভারতীয় প্রশাসন বা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে যে তারা জঙ্গি দলে যোগ দিতে চাইছেন, বিষয়টি তেমন নয়।

সংখ্যালঘু যুবকদের এই প্রবণতা কিছুটা হলেও ধন্দে ফেলেছে ভারতীয় গোয়েন্দাদে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে, শুরুর দিকে যে যুবকেরা সিরিয়া বা ইরাকে পাড়ি দিয়েছিল তাদের অধিকাংশ আগে থেকেই ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, জইশ বা লস্করের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ ভাবে জড়িয়ে পড়েছিল। ধরপাকড়ের ভয়ে তারা বিদেশে পালিয়ে যায়। কিন্তু এখন যে যুবকেরা আইএস-এ যোগ দিতে চায়, তাদের অনেকেরই কোনও জঙ্গি-যোগ নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর, সামাজিক সাইট-সহ যোগাযোগ মাধ্যমগুলির ওপর নিবিড় নজরদারি রেখেই গোয়েন্দারা নতুন এই প্রবণতার কথা জেনেছে। এ দেশ থেকে যারা আইএসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাদের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। নজরদারিতে পাওয়া গিয়েছে, হ্যান্ডলাররা যখন জানতে চাইছে ভারতীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তাদের কোনও ক্ষোভ রয়েছে কি না, তখন অধিকাংশ মুসলিম যুবক বলেছেন— নেই।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই দাবি করলেও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, ভারতীয় ব্যবস্থার ওপর ক্ষোভের প্রমাণ মেলেনি বলে গর্ব করার কিছু নেই। তাতে ভারতের বিপদ কমে না। নজর দেওয়ার মতো বিষয় হল— এ দেশে নিরাপত্তার এত কড়াকড়ি সত্ত্বেও আইএস দিব্যি যুবকদের বাছাই করে মগজধোলাই করে চলেছে। তা ছাড়া ভারত যে আইএসের অন্যতম নিশানা তা স্পষ্ট। মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগও সম্প্রতি নয়াদিল্লিকে সতর্ক করে জানিয়েছে, আইএস-এর একটি অংশ ভারতে হামলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আইএস-এর অনলাইন পত্রিকা ‘দাবিক’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সংগঠনের বাংলা শাখার আমির (প্রধান) শায়ক আবু ইব্রাহিম আল হানিফ দাবি করেছে, বাংলাদেশে হাসিনা সরকারকে উৎখাত করার পাশাপাশি ভারতে খিলাফত প্রতিষ্ঠাও তাদের লক্ষ্য। 

খাগড়াগড়-কাণ্ডে ধৃত এনামুলই এই রাজ্যে আইএসের মূল নিয়োগকর্তা

খাগড়াগড়-কাণ্ডে অভিযুক্ত হিসাবে মহানগরীর উপকণ্ঠ মেটিয়াবুরুজের গুলজারাবাদ থেকে ধৃত এনামুল মোল্লা ছিল এ রাজ্যে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জেহাদি নিয়োগের অন্যতম কর্তা। এরই পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে আইএস-এর মতাদর্শ এবং ‘খিলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে বেড়াত সে। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) তদন্তে এই সমস্ত বিষয় ছাড়াও জানা গিয়েছে, জঙ্গি-জেহাদি কাজকর্ম পরিচালনায় অর্থ সংগ্রহের জন্য এনামুল জাল নোট পাচার কারবারের সঙ্গেও যুক্ত ছিল। গুলজারাবাদের স্লটার হাউস রোডের বাসিন্দা এনামুলকে গত ১৫ মার্চ আরেক সঙ্গী হাবিবুল হক সমেত গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ এবং এনআইএ’র যৌথ দল। খাগড়াগড়-কাণ্ডে ধৃত এনামুল ও তার সঙ্গীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামনে আসার পর গত ২১ মে ওই কাণ্ডে তাদের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

চার্জশিটে জামাত-উল-মুজাহিদিন (জুম) জঙ্গি এনামুলকে ‘কট্টর জেহাদি’ অ্যাখ্যা দিয়েছে এনআইএ। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, জঙ্গি-জেহাদি মতাদর্শ প্রচারে বিভিন্ন সভা-অনুষ্ঠানের আয়োজনও করত সে। সেই সমস্ত সভা-অনুষ্ঠানে খাগড়াগড়-কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত বাংলাদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে কৌসর নিয়মিত হাজির হত। এনআইএ বলছে, এই উপমহাদেশে আইএস-এর ‘মুখ’ হিসাবে কাজ করে জুম। তাদের হয়ে জুম যাবতীয় নাশকতা এবং গুপ্তহত্যা যে চালাচ্ছে, তা অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দাবিক’-এ স্বীকারও করেছে আইএস। 

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জুম জঙ্গি দেশের অন্য জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের (আইএম) সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে যুক্ত ছিল। এখনও পর্যন্ত সিরিয়ায় আইএস-এর হয়ে যে সমস্ত ভারতীয় যুবক লড়াই করতে গিয়েছে, তার সিংহভাগই আইএম-এর সঙ্গে যুক্ত। আইএস-এ অন্তর্ভুক্ত প্রাক্তন আইএম জঙ্গিদের সঙ্গে এ রাজ্যের ‘যোগসূত্র’ ছিল এনামুল। খাগড়াগড়-কাণ্ডের অনেক আগে থেকে সে আইএস মতাদর্শ প্রচার, গোপন সভার আয়োজন, অর্থ ও সদস্য সংগ্রহ এবং প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করত। এনআইএ সূত্রের খবর, এ রাজ্যের কমপক্ষে ২৫ জন যুবককে ‘মগজধোলাই’ করে তাদের আইএস-এর প্রতি আগ্রহী করেছে সে। তার মধ্যে মুর্শিদাবাদ ও নদীয়ার চারজন যুবক এতটাই প্রভাবিত হয়েছিল যে, তারা চোরাপথে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ, পাকিস্তান হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছেছে। 

এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, খাগড়াগড়-কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে কৌসর জেহাদি প্রচার চালানোর জন্য একটি মেমোরি কার্ড দিয়েছিল এনামুলকে। ওই কার্ডটি তদন্তকারীদের হেপাজতে এসেছে। তাতে আইএস-এর বিভিন্ন প্রশিক্ষণ শিবির, গেরিলা যুদ্ধের কলাকৌশল এবং জেহাদি নেতাদের বক্তৃতাও রয়েছে। আয়োজিত প্রশিক্ষণ শিবিরগুলিতে এই মেমোরি কার্ড ব্যবহার করে জেহাদি হতে আসা যুবকদের মগজধোলাই চলত। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, জুম-এর এই সদস্য আসলে এ রাজ্যে আইএস-এর হয়েই মূল কাজটি করত।

এনআইএ সূত্রের খবর, তাদের সাইবার ক্রাইম বিশেষজ্ঞরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জেনেছেন, এনামুল বিভিন্ন জব পোর্টাল এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের মগজধোলাইয়ের কাজটি চালাত। তদন্তকারীরা আরও জেনেছেন, সংগঠনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মালদহ জেলার জাল নোট পাচারকারী একটি বড় গ্যাংয়ের হয়েও কাজ করতে শুরু করেছিল এনামুল।

বীরভূমে বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ল গোটা বাড়ি

জনবহুল এলাকার মধ্যেই বিস্ফোরণে উড়ে গেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য তৈরি একটি গোটা বাড়ি। বুধবার রাতে লোকপুর থানার নওপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের জেরে চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে আশপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালেই উপস্থিত হন উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার ও বম্ব স্কোয়াডের সদস্যরা। ঘটনায় বাসিন্দারা এনআইএ তদন্ত দাবি করেছেন। অন্যদিকে বাড়িটি নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। খয়রাশোল ব্লক প্রশাসন বাড়িটি একবছর আগে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করলেও আইসিডিএসের ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসার অরিন্দম ভাদুড়ি বলেন, যে এলাকায় বাড়িটি রয়েছে সেখানে আমাদের হিসাব অনুযায়ী অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র নেই। কার জমিতে কীভাবে বাড়িটি তৈরি, তাও আমাদের অজানা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নওপাড়া গ্রামের ডাঙালপাড়ায় বছর খানেক আগে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বাড়িটি তৈরি হয়। এখানে কেন্দ্রটি চালু হয়নি। আগের পুরানো বাড়িতেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু ছিল। নতুন বাড়িটিতে তালা দেওয়া না থাকায় স্থানীয় লোকজনই সেটি ব্যবহার করতেন। বুধবার রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত স্থানীয় লোকজন বাড়িটিতে বসে ছিলেন। রাত দেড়টা নাগাদ বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সম্পূর্ণ বাড়িটি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পাশের বেশ কয়েকটি বাড়িতেও বড়সড় ফাটল দেখা যায়। এমনকী পাশ্ববর্তী একটি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন শেখ জয়নাল(২২)। তিনি বিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। ভগ্নপ্রায় বাড়িটির একটি অংশ তাঁর হাতে লাগে। তিনি গুরুতর জখম হন। খবর পেয়ে রাত আড়াইটা নাগাদ লোকপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। সকাল থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা ঘিরে রাখে। ঘটনাস্থলে যান ডিএসপি হেড কোয়ার্টার ধ্রুব দাস। বম্ব স্কোয়াড ও ফায়ার বিগ্রেডও উপস্থিত হয়। শুরু হয় ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ।

শেখ জয়নাল বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম ভূমিকম্প হচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই বাড়ির একটি অংশ আমাদের দরজা ভেঙে আমার হাতে লাগে। আমি কোনওরকমে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। স্থানীয় বাসিন্দা আজমির খান বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্রটি চালু করার দাবি জানাচ্ছি। কিন্তু কেউ কথা কানে তোলেনি। গৃহবধূ নাসিমা বিবি, নাজমা বিবিরা বলেন, আমাদের বাড়িতে ফাটল ধরেছে। বাসিন্দাদেরই একটি অংশের দাবি, অবৈধ কয়লা ও পঞ্চায়েতের দখলদারি নিয়ে শাসকদলের দু’টি গোষ্ঠীর বিবাদ রয়েছে এলাকায়। ২৮মে বিজয় মিছিলের দিনও সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পুলিশ কোনওরকমে অবস্থা সামাল দেয়। মূলত সংঘর্ষের জন্যই বাড়িটিতে বোমা মজুত করা হচ্ছিল বলে বাসিন্দাদের দাবি। যদিও বাসিন্দারা সম্মিলিতভাবে ঘটনার জন্য এনআইএ তদন্তের দাবি করেছেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ভবনটি। একবছর আগে বাড়িটির চাবি ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর হাতে দেওয়া হয়। কিন্তু কোনওদিনই এখানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করেননি ওই কর্মী। তিনি নিয়মিত পুরানো জায়গাতেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালু রাখেন। আর ব্যবহার না হওয়ায় কার্যত দুষ্কৃতীদের আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে বাড়িটি। বাসিন্দাদের দাবি, ছ-সাত মাস আগে একদিন রাতে পুলিশ এসে বাড়িটির তালা ভেঙে দেয়। সেই থেকেই এলাকার লোকজন দিনের বেলায় নিজের ইচ্ছেমতো বাড়িটি ব্যবহার করতে থাকেন। রাতে বাড়িটিতে নানা অবৈধ কার্যকলাপ হত বলে বাসিন্দাদের একাংশের দাবি। 

কিন্তু কেন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রেটি স্থানান্তরিত হল না, এই প্রশ্নের উত্তরে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী আফরজা বেগম বলেন, এই গ্রামেই আমার বাড়ি। নতুন বাড়িটিতে যাতে কেন্দ্রটি স্থানান্তরিত না করি তার জন্য নানা হুমকি সহ্য করতে হয়েছিল। তাই বাধ্য হয়েই ভাঙাবাড়িতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চালাচ্ছি। আমি বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও পঞ্চায়েত প্রধানকে জানিয়েছিলাম। খয়রাশোলের সিডিপিও অনুপম বিশ্বাস বলেন, স্থানীয় মানুষের আপত্তি ও নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমরা কেন্দ্রটিকে স্থানান্তরিত করতে পারিনি। পুলিশ সুপার মুকেশ কুমার বলেন, একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।