হিলি সীমান্তে রমরমিয়ে চলছে গরু পাচার

ঠান্ডার মরশুম শুরু হতেই হিলি সীমান্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে গোরু পাচার। কুয়াশা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে বাংলাদেশে গোরু পাচার। অভিযোগ কার্যত পুলিশ ও বিএসএফের মদতেই এই পাচার চলছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিন দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। জেলায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ২৫২ কিলোমিটার রয়েছে। তার মধ্যে এখনও ৩২ কিলোমিটার উন্মুক্ত রয়েছে। নেই কোনও কাঁটাতার। এই এলাকা দিয়ে সব থেকে বেশি পাচার হয় বলে অভিযোগ।
শীতের মরশুমে কুয়াশায় অন্ধকার ঘন হওয়ায় ফের গোরু পাচারের করিডর হয়ে ওঠেছে হিলি সীমান্ত। বেশকিছু দিন ধরে রমরমা ভাবে চলছে গোরু পাচার। হাট থেকে গোরু ক্রয় করে সেগুলি তিওড় ডাঙ্গি এলাকায় রাখার পর ত্রিমোহিনী দিয়ে চক গোপাল, ডুমরণ, গোবিন্দপুর, জামালপুর সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। পাচার চক্রের মাথা রয়েছে রাজনৈতিক দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী ব্যক্তিরা। এদিকে প্রশ্ন ওঠেছে কার মদতে এমন কারবার চলছে ? তবে কি পুলিশ বিএসএফের মদত রয়েছে ? আবার কেউ কেউ দাবি করছে মদত ছাড়া এমন কাজ করার সাহস পাবে কি করে ?
কেটে গিয়েছে চার দশকেরও বেশি সময়। দেশ এখন ডিজিটালের শিখরে। উন্নত হয়েছে সামরিক ব্যবস্থা। কিন্তু যেন সেই খোলা সীমান্ত, অবৈধ মালপত্রের পাচার এখনও গ্রাস করে রেখেছে হিলি সীমান্ত ব্যবস্থাকে। দিনে স্টোরিং রাতে পাচার এ যেন হিলির নিত্যসঙ্গী। পাচার কাজের সঙ্গে জড়িত স্কুল পড়ুয়ারাও। রুটিরুজি জোগাড়ে হিলিতে কৃষিকাজের বিকল্প নেই কোনও কর্মসংস্থান বলে অভিযোগ পাচারকারীদের।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, অনুপ্রবেশকারী সমাজবিরোধীরা গোরু পাচার করে বিষিয়ে তুলেছে। রাত হলেই রমরমা গোরু পাচার চালু হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে আক্রান্ত হতে হয় মানুষ’কে। প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পাচারকারীরা এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত প্রশাসনের বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের তরফ থেকে পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়।
Advertisements

গাইঘাটায় গরু-সহ ২ পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করলো বিএসএফ

বেশকিছুদিন বন্ধ থাকার আবার নতুন করে গরু পাচার শুরু হয়েছে  উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায়। বিভিন্ন সূত্র মারফত এমনই খবর আসছিলো। এবার তার প্রমান মিললো। গত মঙ্গলবার, ২০শে নভেম্বর সন্ধ্যায় এই জেলার গাইঘাটার আংরাইল সীমান্তে গরুবোঝাই গাড়িসহ ২  গ্রেপ্তার করলো বিএসএফ। ওই দুজন পাচারকারী হলো মনিরুল মন্ডল এবং হাবিবুল্লাহ মিস্ত্রী। পরে তাদেরকে পুলিসের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত দুজন পাচারকারীর বাড়ি একই জেলার বাদুড়িয়া থানার অন্তর্গত কীর্তিপুরে। তাদের কাছ থেকে ৫টি গরু উদ্ধার করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে পাচারে ব্যবহৃত গাড়িটিও।

উত্তরদিনাজপুরের চোপড়া এবং করণদিঘি সীমান্তে জোরকদমে চলছে পাচার।

আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের করিডর হয়ে উঠেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। গরু-মোষ থেকে শুরু করে কাফ সিরাপ, মদ, চোরাই মোটর বাইকের ইঞ্জিন সহ অনেক কিছুই এই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়। পাচারের পথে রুপোও এই জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। মাঝেমধ্যে বিএসএফ পাচারকারীদের আটক ও পাচার সামগ্রী উদ্ধার করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সীমান্তরক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়েই পাচার চলছে। নজরদারি এড়াতে মাঝেমধ্যে পদ্ধতির পরিবর্তন করে পাচারকারীরা। এমনকী সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে সুড়ঙ্গ কাটার ঘটনাও ধরা পড়ে। চোরাচালানের বিকল্প রাস্তা বানাতেই ওই সুড়ঙ্গ কাটা হচ্ছিল বলে বিএসএফ ও পুলিসের গোয়েন্দারা জানান।  জেলার ইটাহার ও চাকুলিয়া বাদে সমস্ত ব্লকেই বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বেশির ভাগ জায়গা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও কিছু জায়গায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। চোপড়ার বড় বিল্লা ও গোয়ালগছ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। কিছু জায়গায় নদীই দু’দেশের সীমান্ত হিসেবে রয়েছে। করণদিঘির বোরধই, ভাটোল ও খুরকা এলাকার সীমান্তে নাগর নদী প্রবাহিত হয়েছে। এইসব উন্মুক্ত পথই চোরাচালানের কাজে বেশি ব্যবহার হয়। তবে কাঁটাতার কেটে গোরু পাচারের ঘটনাও এখানে ধরা পড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল প্রায় এক বছর আগে চোপড়ার ফতেপুর বিওপি এলাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে ৮০ ফুট সুড়ঙ্গ খনন করে ফেলেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিস ও বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান, নির্বিঘ্নে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের জন্যই এই সুড়ঙ্গ খনন হয়েছিল।
সীমান্তে পাচারের কাজ যে বন্ধ হয়নি তার প্রমাণ এইসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ই পাচারের নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়। পাচারকারীদের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের সংঘর্ষও হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে দিনের বেলায় গবাদিপশু সহ অন্যান্য পাচারের সামগ্রী জমা করা হয়। সীমান্তে অনেকগুলি বড় বড় হাট আছে। সেখানে গোরু কেনাবেচা হয়। হাটগুলি থেকে গোরু কিনে পাচারকারীরা পায়ে হাঁটিয়ে একেবারে সীমান্ত লাগোয়া এলাকার গ্রামে জমা করে রাখে। রাতে অন্ধকার নামতেই শুরু হয় অপারেশন। দুষ্কৃতীরা সুযোগ বুঝে কাঁটাতার কেটে ওপারে গোরু পাঠিয়ে দেয়। সম্প্রতি হেমতাবাদের বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েতের করইডাঙ্গি গ্রামে পাচারের জন্য মজুত গোরু উদ্ধার করতে গেলে বিএসএফের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ হয়। কাফ সিরাপ ও নেশার বিভিন্ন সামগ্রী প্যাকেট করে এপার থেকে ছুঁড়ে ওপারে ফেলা হয়। গোয়ালপোখরের ফুলবাড়ি, দেবীগঞ্জ সহ অনেক এলাকাই পাচারকারীদের দখলে। বামনবাড়ি এলাকায় পাচারের আগেই বিএসএফ ১৫ কেজি রুপো উদ্ধার করেছিল। আবার সম্প্রতি পাঞ্জিপাড়া ও ইসলামপুরে তক্ষক উদ্ধার হয়েছিল। সেগুলি বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

নিত্য-নতুন পদ্ধতিতে গরু পাচার, ধরতে আসছে সিবিআই

যে লোকের নাম মহম্মদ ইমানুল হক , তার ব্যবসায়িক নাম যে বিশু শেখ , তিনিই আবার পরিচিত খুদে নামে , সেটা আর কী করে জানবেন সিবিআই অফিসারেরা! গত সপ্তাহে গরু পাচারের অভিযোগে ইমানুলকে গ্রেপ্তারের  পরে এ রাজ্যের বাকি পাচারকারীদের গ্রেফতার করতে এবার কোমর বেঁধে নামছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ এই তদন্তের জন্য বিশেষ দল তৈরি করে কাজ শুরু করছেন তাঁরা৷ সিবিআই কর্তাদের ধারণা, শুধু গরু পাচারই নয় – বাঁকুড়া, বীরভূম, আসানসোলের মতো এলাকায় কয়লা এবং বালি কারবারের একটা মোটা অংশ যাচ্ছে শাসকদলের নেতাদের কাছে৷ সূত্রের খবর, এই গরু পাচারের তদন্তে নেমে মুর্শিদাবাদ জেলার শাসকদলের এক যুবনেতার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট মহকুমার এক নেতার নাম জানা গিয়েছে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, এই গরু পাচারের মোটা টাকার অংশ বড়মাপের কিছু নেতার কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে৷ গতকাল ১৩ই মার্চ, মঙ্গলবার এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ‘এত দিন এই পাচারের ঘটনা ঘটছে অথচ জেলা পুলিশ কিছু জানে না, সেটা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমাদের কাছে খবর, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের কিছু জায়গায় অদ্ভুত কিছু মোবাইল ফোনের রিংটোন সেট করে রাখা হয়৷ যেমন পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে গরু বর্ডারের কাছাকাছি আনতে পারলে শাঁখ বাজানোর মতো আওয়াজ করা হয় মোবাইল দিয়ে৷ যাতে জনবহুল এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময় রাতের অন্ধকারে নির্বিঘ্নে পেরিয়ে যাওয়া যায়৷ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় পুলিশের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজও৷ ’ এক তদন্তকারীর বক্তব্য, বিভিন্ন এলাকায় যারা পাচারকারী, তারা ডামি নাম ব্যবহার করে এই ‘লাইন ’ খোলে৷ বিশু নিজের ক্ষেত্রেও তাই নিজের নাম ব্যবহার না করায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল খোদ সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের৷ ফলে তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে আসল লোককে চিহ্নিত করতেই কেটে যায় তিন মাস৷ সূত্রের খবর, এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে পুলিশের এই পাচার থামানোর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না৷ উদাহরণ হিসেবে তাঁরা সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি রিপোর্ট, যেখানে বলা হয়েছে দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া থানা এলাকায় উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে গরু পাচার বন্ধ করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ সেখানে থানার কাছে বাজেয়াপ্ত  করা গরুদের রাখার জন্য যে খোঁয়াড় চড়া দামে লিজ দেওয়া হয়েছে, তার খরচ পর্যন্ত তুলতে পারছেন না লিজ নেওয়া ব্যবসায়ী৷ গত ডিসেম্বরে সিবিআই আলাপ্পুজা স্টেশন থেকে বিএসএফের কাম্যান্ড্যান্ট জিবু ম্যাথুকে গ্রেপ্তার  করে নতুন পাঁচশো এবং দু’হাজার টাকার নোটের ৪৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে৷ তাঁকে গ্রেফতার করার পরে জানা যায় বিশু শেখের নাম৷ সিবিআই তাঁকে জেরা করে জানতে পারে, শুধু বিএসএফ বা জেলা পুলিশই নয় , শাসকদলের বেশ কিছু জেলাস্তরের নেতাকেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এই কারবার চলে৷

সিবিআই জানতে পেরেছে, ধৃত ইমানুল আগে নোটবদলের কাজ করত৷ তার পরে গরু পাচারে হাত পাকায়৷ বিশু শেখ নাম দিয়ে পুরো লাইনটি কিনে নেয়৷ এই ব্যবসা করতে গিয়ে তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়ে যায়৷ গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে কলকাতায় ফাইভ ষ্টার হোটেলে উঠলে সেখান থেকে ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত এই গরু পাচারকারীকে গ্রেফতার  করেন গোয়েন্দারা৷

উত্তর দিনাজপুরে ৬ বাংলাদেশীসহ ১২ টি গরু আটক

গত ৯ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার পুলিশ সোলপাড়া থেকে ৬ বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে স্থানীয় আব্দুল মালেকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ১২টি গরু উদ্ধারের পাশাপাশি ওই বাংলাদেশী নাগরিকদের আটক করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে কাঁটাতার কাটার যন্ত্র ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের অনুমান, রাতে সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ধৃতরা গরুগুলি বাংলাদেশে পাচার করার পরিকল্পনা করেছিল। ধৃতেরা এদেশে আসার কোনও পাসপোর্ট দেখাতে পারেনি। ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁয়।

কোচবিহারের দিনহাটায় পাচারের ১৬ টি গরু আটক, গ্রেপ্তার তিন পাচারকারী

গত ১৭ই ডিসেম্বর, রবিবার সন্ধ্যায় দু’টি পৃথক ঘটনায় দিনহাটা মহকুমার সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ ১৬টি গরু আটক করে। এই ঘটনায় তিন জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের সোমবার দিনহাটা মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

রবিবার সাহেবগঞ্জ থানার পুলিশ গোপনসূত্রে খবর পেয়ে দিনহাটা-২ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে অভিযান চালায়। নান্দিনা এলাকায় ভুটভুটিতে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ সেটি আটক করে এবং সেখানে থাকা সাতটি গরু উদ্ধার করে। গরু পরিবহণের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভুটভুটি চালককে গ্রেপ্তার করে।

অন্যদিকে, বুড়িরহাটে একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে সেখানে থাকা ন’টি গরু পুলিশ উদ্ধার করে। ওই গাড়ির চালক ও খালাসিকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ জানার চেষ্টা করছে গরুগুলি কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।

পাচারের সময় মালদহে বিএসএফ-এর গুলিতে এক গরু পাচারকারীর মৃত্যু

গত ১৮ই ডিসেম্বর, সোমবার ভোররাতে মালদহের বৈষ্ণবনগরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক চোরাচালানকারীর মৃত্যু হয়েছে। ভোররাতে বিএসএফ জওয়ানরা গরু চোরাচালান রুখতে গেলে তাঁদের সঙ্গে চোরাকারবারীদের খণ্ডযুদ্ধ হয়। তাতেই বিএসএফ গুলি চালালে এক ভারতীয়র মৃত্যু হয়েছে। বিএসএফ জানিয়েছে, বৈষ্ণবনগরের বৈদ্যনাথপুর এলাকার বাসিন্দা ওই চোরাচালানকারীর নাম আনসার আলি(১৯)। ওই ঘটনায় বিএসএফ কিছু গরু বাজেয়াপ্ত করেছে। মৃতকে বৈষ্ণবনগর থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, শীত পড়তেই কুয়াশার দাপট শুরু হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ভোরের দিকে ঘন কুয়াশা থাকছে। আর সেই সুযোগে গরু চোরাচালান আচমকাই বেড়ে গিয়েছে।

বিএসএফের দক্ষিণবঙ্গের আইজি পিএসআর আনজানেউল বলেন, কুয়াশার কারণে চোরকারবারীরা সক্রিয় হচ্ছে। প্রতিবছরই এটা হয়। আমরা সতর্ক আছি। বৈষ্ণবনগর সীমান্তে চোরাকারবারীরা জওয়ানদের উপরে হামলা চালিয়েছিল। তা প্রতিরোধ করতে গুলি চালাতে হয়। তাতেই এক চোরকারবারীর মৃত্যু হয়েছে। চোরাকারবারীদের সমস্ত পরিকল্পনা প্রতিরোধ করার জন্যে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর শীতের মরশুমের শুরু থেকেই চোরকারবারীদের মধ্যে গরু পাচারের তৎপরতা শুরু হয়। এই প্রথমবার কলা গাছের ভেলায় করে গরু পাচারের এক অভিনব পথ চোরকারবারীরা নিয়েছিল। প্রথম পর্বের এই চোরাচালানের কাজে পুরাতন মালদহ ও হবিবপুরের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে কাজে লাগানো হচ্ছিল। কারণ সেখানে নদীর কিছু বাঁক আছে যেখানে জলের প্রবাহ বেশি থাকে। সেখানে ভেলায় করে গরু ভাসিয়ে দিলেই তা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যেত। কিন্তু ওই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিএসএফ ও পুলিশের অভিযান এবং স্থানীয়দের প্রতিরোধের জেরে চোরকারবারীরা সমস্যায় পড়ে। এরই মধ্যে শীত পড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে। রাত নামতেই এলাকা ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।

সোমবার ভোরেও সেই রকমই একটি দল ঘন কুয়াশার সুযোগে বৈষ্ণবনগরের বৈদ্যনাথপুর সীমান্ত দিয়ে বহু গরু পাচারের চেষ্টা করে। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি নালার মধ্যে দিয়ে গরুগুলিকে নিয়ে বাংলাদেশের শিবগঞ্জের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ভোরে বিষয়টি টের পেয়েই জওয়ানরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করে। অভিযোগ, তখনই চোরাকারবারীরা পালটা হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের সঙ্গে গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিএসএফ পালটা গুলি চালালে এক চোরাচালানকারীর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই চোরাচালান নিয়ে মালদহের সমস্ত সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাচারের সময় পুলিশের গুলিতে গরু পাচারকারীর মৃত্যু রাজস্থানের আলোয়ারে

রাজস্থানের আলোয়ারে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত সন্দেহভাজন গরু পাচারকারী। বুধবার গভীর রাতে জনতা কলোনিতে ঘটেছে ঘটনাটি। ৫-৭ জনের একটি দলকে ‘চুরি করা’ একটি মিনি ট্রাকে চাপিয়ে রাস্তার গরু নিয়ে যেতে দেখা যায়। পুলিশ পাচারকারী সন্দেহে বাধা দিলে গুলি চালাতে চালাতে পালিয়ে যায় তারা।

আলোয়ারের পুলিশ সুপার রাহুল প্রকাশ জানান, টহলদারিরত পুলিশ দলটি কন্ট্রোলরুমে খবর পাঠালে তাদের কয়েকটি টিম ট্রাকটিকে এসএমডি সার্কল, কালি মোরি ওভারব্রিজ, কলেজ সার্কেলে তাড়া করে। কিন্তু অভিযুক্তরা গুলি চালাতে চালাতে মৌজপুর হাউস রোডের দিকে চলে যায়। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশবাহিনীও। সন্দেহভাজন পাচারকারীদের একজন গুলিতে প্রাণ হারায়। তাকে ফেলে পালায় বাকীরা। তাদের খোঁজ চলছে। নিহত ব্যক্তি হরিয়ানার লোক, তালিম নামে শনাক্ত করা হয়েছে তাকে। আজ ময়না তদন্ত হবে তার। ডিজিপি ওপি গালহোত্রা বলেন, তালিমের দেহ ট্রাকেই পড়ে ছিল। পুলিশ পৌঁছনোর আগেই বাকীরা গাড়িটি ফেলে উধাও হয়ে যায়। ট্রাক থেকে পাঁচটি গরু পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার হয়। দেখা যায়, একটি মৃত। ট্রাকের ভিতর থেকে একটি দেশী পিস্তল, একটি মোবাইল ফোন, একটি ডায়েরি ও তাজা কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। গরুগুলি যাতে ডাকাডাকি না করে, সেজন্য তাদের অ্যাসিড গেলানো হয়েছিল বলে পুলিশের সন্দেহ। ডিজিপি জানান, ট্রাকটি চুরি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা তার চেসিস নম্বর ঢেকে রাখে। সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে সিআইডি-সিবি ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংঘর্ষে মৃত্যুর তদন্ত করছে বলে জানান ডিআইজি।

অভিযোগ, গত এপ্রিলে আলোয়ারেই স্বঘোষিত গোরক্ষকদের পিটুনিতে পেহলু খান নামে ডেয়ারি কৃষকের মৃত্যু হয়। নভেম্বরে গোরক্ষার দাবিদাররা আলোয়ারের গোবিন্দগড়ে ৩৫ বছর বয়সি উমর খান নামের একজনকে গুলি করে খুন করে বলে অভিযোগ। গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর চালানো গুলিতে উমরের এক সহযাত্রীও জখম হন।

এতো গরু যায় কোথায়? প্রশ্ন হাইকোর্টের বিচারপতির

পশ্চিম-বাংলা থেকে গরু অসমে রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অসমের এক ব্যবসায়ী৷ মঙ্গলবার সেই মামলা ওঠে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে৷ গত বছর রাজ্য অনুমতি দিলেও এ বছর সেই অনুমতি পুনর্নবীকরণের আবেদন করলে তা খারিজ করা হয়৷ গতকাল ২৮শে নভেম্বর, মঙ্গলবার মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘এত গরু যদি বাংলা থেকে গিয়ে অসমেই থাকত, তা হলে সেখানে মানুষের থেকে গরুর সংখ্যা বেশি হয়ে যেত৷ সব গরু তো আর সেখানে থাকে না, সেখান থেকে অন্যত্র চলে যায়৷’’ মামলাকারীর আইনজীবী অঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘‘এখান থেকে সরকারি ভাবে গরু অসমে পাঠানো হলেও তা বাংলাদেশে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছে আদালত৷ তাই হাইকোর্ট আপাতত কোনও অনুমতি দেয়নি৷’’

অসমের ধুবড়ির বাসিন্দা নাসিব হোসেন তার সংস্থার মাধ্যমে এ রাজ্য থেকে গরু সরবরাহ করেন সে রাজ্যে৷ ২০১০-এ অসম হাইকোর্ট সে ব্যাপারে অনুমতি দেয়৷ নিয়ম অনুযায়ী, যে রুট দিয়ে গরু নিয়ে যাওয়া হবে সেই জেলাগুলির অনুমতি নিতে হয়৷ দার্জিলিং এবং কোচবিহারের জেলাশাসক অতীতে অনুমতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু এ বছর তা পুনর্নবীকরণের আবেদন করা হলে তা খারিজ করে দেয় রাজ্য৷ তার পরেই হাইকোর্টে মামলা করেন ওই ব্যবসায়ী৷ আদালত ফের ছ’সপ্তাহ পরে শুনানির দিন ধার্য করেছে৷ এর মধ্যে রাজ্যকে হলফনামা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

করিমগঞ্জে আত্মসমর্পণ করলো গরু পাচারকারী আব্দুল মতিন

karimganjআসামের করিমগঞ্জ দিয়ে হাজার হাজার গরু বাংলাদেশে পাচার করতো আব্দুল মতিন। কিন্তু তার মাথা কে, সে ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য ছিল না। সপ্তাহখানেক আগে জানা যায় যে গরু পাচারের প্রধান চক্রী হলো আব্দুল মতিন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে যায়। কিন্তু তার দুই বিবি পুলিশকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয় । আর সেই সুযোগে আব্দুল মতিন পালিয়ে যায়। তারপর পুলিশ তার খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করে। সংবাদপত্র, নিউজ চ্যানেলগুলিতে তার নাম প্রকাশ করা হয়। ফলে তার পক্ষে আর লুকিয়ে থাকা সম্ভব ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে পুলিশের কাছে গত ২৫ শে অক্টোবর নিলামবাজার থানায় আত্মসমর্পণ করে সে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এসপি গৌরব উপাধ্যায় জানান, ”গরু পাচারের সঙ্গে আরো কে বা কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে”।

মালদহের হবিবপুরে দু-দল গরু পাচারকারীর মধ্যে সংঘর্ষ

গত ৬ই অক্টোবর,শুক্রবার ভোরে মালদহের হবিবপুরে ঋষিপুরে গোরুপাচার নিয়ে দু’দল পাচারকারীর মধ্যে গুলি ও বোমার লড়াই হয়েছে। ঘটনার জেরে এক স্কুল ছাত্র জখম হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে করতে আসা বিএসএফের মারে আরও তিন জন জখম হয়েছে। বিএসএফও গুলি চালায় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছে। যদিও বিএসএফ এবং পুলিশ দু’পক্ষই গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মালদহ মেডিকেল সূত্রে জানা গিয়েছে, অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র সহ তিন জন হবিবপুরের একই এলাকা থেকে জখম হয়ে মেডিকেলে ভরতি হয়েছে। তবে কারও শরীরের গুলি বা বোমার আঘাত নেই।

মালদহের হবিবপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, দু’টি দলের মধ্যে সংঘর্ষ হলেও গুলি বা বোমাবাজির কোনও ঘটনা ঘটেনি। জখম কিশোর কাঁটাতারের বেড়াতে পড়ে জখম হয়েছে। এদিকে বিএসএফ দাবি করেছে, এদিন পাচার রুখতে গেলে পাচারকারীরা পালটা হামলা করে। তখন তা প্রতিরোধ করতে হয়েছে। গুলি চালানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন।