মায়ের কাতর আবেদনে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করলো লস্কর জঙ্গী

majidদক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ। সেখানকার একটি ফুটবল দলের গোলরক্ষক ছিল মাজিদ খান। কিছুদিন আগে এক সংঘর্ষে মৃত্যু হয় তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুর। তার পরেই বদলে যায় মাজিদের জীবন। ২০ বছর বয়সি সুদর্শন এই তরুণ সপ্তাহখানেক আগেই যোগ দেয় জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবায়। হাতে তুলে নেয় স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই ছবি ছড়িয়ে দেয় জঙ্গি সংগঠন। লক্ষ্য একটাই – বুরহান ওয়ানির মতো এবার যাতে মাজিদ খানকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে উপত্যকার তরুণরা। নাম লেখায় জঙ্গি সংগঠনে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তত ১০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিয়েছে।
এদিকে, ছেলের এহেন ছবি প্রকাশিত হতেই ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে মুষড়ে পড়ে তার পরিবার। গত বৃহস্পতিবার মাজিদ বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে খাওয়াদাওয়া ভুলেছেন তার মা, আশিয়া বেগম। তাঁর বাড়িতে যাঁরাই আসছেন, তাঁদের কাছেই ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য সাহায্য চাইছেন তিনি। জঙ্গি সংগঠন ছেড়ে বাড়িতে ফিরে আসার জন্য ছেলের কাছে আবেদনও জানান আশিয়া বেগম। ভিডিওতে তিনি ছেলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি ওর (মাজিদ) জন্য অপেক্ষা করছি। আমি চাই ও ফিরে আসুক। আবার ফুটবল খেলুক।’ ক্রন্দনরত মায়ের আর্তিভরা এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই হাজার হাজার মানুষ মজিদকে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ জানান। বিফলে যায়নি অনুরোধ। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে মজিদ। এই বিষয়ে সেনা বা পুলিসের তরফে কিছু বলা না হলেও জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণের আগে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে মাজিদ।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আর জঙ্গিদের সংস্পর্শে নেই মাজিদ। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে যাবে সে। সূত্র মারফত আরও জানা গিয়েছে, মাজিদের বাড়ি ফিরে আসার পক্ষে যেভাবে জনমত গড়ে উঠেছে, তা মাথায় রেখেই মাজিদকে বাড়ি ফিরে যেতে আর বাধা দেয়নি জঙ্গি নেতারা। গোটা বিষয়টি মাথায় রেখে এবার জম্মু-কাশ্মীরের অন্য মহিলাদের কাছে তাঁদের ছেলেদের ফিরে আসার জন্য অনুরোধ জানাতে পরামর্শ দিয়েছেন ডিজিপি এস পি বৈদ্য।

Advertisements

কাশ্মীরে মহিলাদের চুল কাটার ঘটনায় দোষারোপ সেনাবাহিনীর ওপর

hair 2 (1)hair

কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর অবস্থা ঠিক যেন যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো। কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গাতে বেশ কিছুদিন ধরেই রাতের অন্ধকারে কে বা কারা মহিলাদের চুল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বাড়ির দরজা বন্ধ থাকলেও এই ঘটনা ঘটছে। চুল কাটার ঘটনা বেশি ঘটছে সাম্বা,কাঠুয়া,আখনুর,রাজৌরিতে। এ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে এলাকাগুলিতে। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা প্রচার করে বেড়াচ্ছে যে সেনা জওয়ানরা এই কাজ করছে। এর ফলে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন মহিলারা। বর্তমানে পাথর ছোড়ার কাজ প্রায় বন্ধ,কারণ বেশিরভাগ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদেরকে এনআইএ গ্রেপ্তার করেছে। তাই ভারতবিরোধী আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে মহিলাদেরকে রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা এটা বলে মনে করছেন অনেকে।  এমনকি কয়েকদিন আগে ত্রালে মহিলারা সেনার এক জওয়ানকে ঘিয়ে ধরে হেনস্তা করেন। এই ব্যাপারে জম্মু,কাঠুয়া ও সাম্বা রেঞ্জের ডিআইজি অক্ষুর আহমদ ওয়ানি বলেন, ”বেশির ভাগ চুল কাটার ঘটনা বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে ঘটছে। তাই সেনার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন”।