ভিনধর্মে মেয়ের বিয়ে, মুসলিম পরিবারকে একঘরে করল মসজিদ কমিটিই

keralaমেয়ের বিয়ে হয়েছে ভিনধর্মের ছেলের সঙ্গে। তাতে সম্মতি দিয়েছে পরিবারও। আর তাই ওই মুসলিম পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার ডাক দিল এক মসজিদ কমিটি।

ঘটনা কেরলের। কুন্নুমল ইউসুফ নামে এক ব্যক্তি তাঁর মেয়ের বিয়ে দেন ভিনধর্মের এক ব্যক্তির সঙ্গে। পাত্র খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী। এতে বাড়ির লোকের কোনও অসুবিধা নেই। সানন্দেই এই ঘটনায় সম্মতি দিয়েছে পরিবার। কিন্তু এ ঘটনাতেই নির্দেশিকা জারি করে মাদারুল ইসলাম সংঘের মহল্লা কমিটি। ১৯ অক্টোবর একটা নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়, মসদিজের সঙ্গে সংযুক্ত মহল্লার মানুষরা যেন ওই পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ না রাখে। সামাজিকভাবে যেন ওই পরিবারকে বয়কট করা হয়। জানানো হয়, যেহেতু তাঁরা ভিনধর্মে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি হয়েছেন, তাই মসজিদের সমস্ত কাজ থেকে তাঁদের বয়কট করা হল। এমনকী অন্য কাজের ক্ষেত্রেও মসজিদ কমিটি কোনও সম্পর্ক রাখবে না। এই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরও অবশ্য বিয়ে রদ হয়নি। নির্দেশিকা জারির ঠিক পরদিনই নির্ধারিত দিনেই বিয়ে হয়। পরিবারের এক সদস্য বিয়ের কথা ফেসবুকে জানিয়ে লেখেন, কী করে মসজিদ কমিটি সময়ের স্রোতের উলটো দিকে যেতে পারে।

তবে মসজিদ কমিটির এই নির্দেশিকা বা ফতোয়া মানেননি সাধারণ বাসিন্দারাই। নির্দেশিকা জারি হওয়া সত্ত্বেও বহু মানুষ এই বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। ফতোয়ার বিরুদ্ধে এটাই যেন ছিল তাঁদের পালটা প্রতিবাদ। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে রামের ছবির সামনে আরতি করে মৌলবাদিদের রোষের মুখে পড়েছিলেন বারাণসীর মুসলিম মহিলারা। কিন্তু তাঁরাও ফতোয়া মানেননি। পালটা প্রতিবাদ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এক্ষেত্রেও সেই একই ছবি দেখা গেল। সময়ের স্রোতের সঙ্গে যে মুসলিম সমাজ নিজেদেরকে একাত্ম করে নিয়েছে, এ ঘটনাগুলি বোধহয় তাই প্রমাণ করে দিচ্ছে।

Advertisements

দেব-দেবীর পুজো করলে খোয়াতে হবে ধর্ম, ফতোয়া দারুল উলুমের

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করা নিয়ে দিন দু’য়েক ফতোয়া জারির রেশ কাটার আগেই ফের একটি বিতর্কিত ফতোয়া জারি করল দারুল উলুম। ইসলামি এই প্রতিষ্ঠানটির নতুন ফতোয়া, আল্লাহ ছাড়া অন্য দেব-দেবীর পুজো করলেই ধর্মচ্যুত হবেন মুসলিমরা। গত ২১শে অক্টোবর, শনিবার সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে খোলাখুলি এই ফতোয়া জারি করেন দেওবন্দের ওই প্রতিষ্ঠানটির এক সদস্য। দিওয়ালি উপলক্ষে বারাণসীতে মুসলিম মহিলা সংগঠন এবং বিশাল ভারত সংস্থানের যৌথ উদ্যোগে শনিবার এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে মুসলিম মহিলারাও আরতি করেন, রামের পুজো করেন। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রীতির বার্তা দেওয়াই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই প্রসঙ্গেই এ দিনের ফতোয়া বলে জানিয়েছে দারুল।

মুসলিম মহিলা সংগঠনের এক নেত্রী নাজনীন আনসারি বলেন, ‘‘আমাদের পূর্বপুরুষ রাম। নাম, ধর্ম বদলে ফেলা যায়, কিন্তু পূর্বপুরুষ কি বদলানো যায়! রামের আরাধনা মুসলিম-হিন্দুদের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করবে। এই অনুষ্ঠান মুসলিমদের উদারতার প্রতীক হয়ে উঠবে।’’কিন্তু তাঁদের এই সৎ ভাবনা ভাল ভাবে নেয়নি দারুল উলুম। ফতোয়া জারি করা হয় এই ধরনের আচারের উপর।

দিন দু’য়েক আগে মুসলিম পুরুষ, মহিলাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের ছবি পোস্ট করার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দারুল। এমনকী চলতি মাসেই ফতোয়া জারি করে দারুল উলুম জানিয়ে দেয়, মুসলিম মেয়েরা বিউটি পার্লারে যেতে পারবেন না। ভ্রু প্লাক বা চুল কাটা কোনও কিছুই করা যাবে না। কারণ এসব নাকি ইসলাম-বিরোধী।

বিয়েতে গান বাজবে না, শরিয়তী ফতোয়া দিলো জম্মু-কাশ্মীরের ইসলামী সংগঠন

মুসলিমদের বিয়ের অনুষ্ঠানে কোনো গান বাজানো চলবে না, এমনই ফতোয়া দিলো জম্মুর কিস্তওয়ার-এর ইসলামী সংগঠন মজলিশ-ই-শুরা। এই সংগঠনটি আরো বেশ কিছু ফতোয়া জারি করেছে। যেমন-একই স্কুলে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়াশুনো করতে পারবে না। মেয়েদের বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। এছাড়া মজলিশ-ই-শুরা তাদের ফতোয়াতে উল্লেখ করেছে যে, যারা এই ফতোয়াকে অমান্য করবে, তাদেরকে সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে। এছাড়া মেয়েদের প্রসাধন সামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এই সংগঠন। প্রসঙ্গত, উল্লেখ করা যায় কয়েকদিন আগেই দারুল-উলুম মেয়েদের মেক-আপ করা, ভ্রূ প্লাক করা বা ট্রিমিং করা ইসলাম বিরোধী বলে ফতোয়া দিয়েছিলো।

ভ্রু-প্লাক, ট্রিমিং ও চুল কাটা ইসলামবিরোধী, ফতোয়া দিলো দারুল উলুম

ভ্রু-প্লাক, ট্রিমিং ও চুল কাটা ইসলামবিরোধী। মুসলিম মহিলাদের এসব থেকে দূরে থাকতে ফতোয়া দিল দারুল উলুম। উত্তরপ্রদেশের সহারানপুরের জনৈক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানিয়েছে সংস্থাটি। মহিলাদের ভ্রু প্লাক ও চুল কাটা কি ইসলামিক আইনে বৈধ কিনা জানতে চেয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তার জবাবে দারুল ইফতা জানিয়েছে, এই সব কাজ ইসলামবিরোধী। ফতোয়া দিয়ে তারা জানিয়েছে, কোনও মহিলা চুল কাটলে তিনি ইসলামিক আইন লঙ্ঘন করবেন।তাদের ব্যাখ্যা, চুল মহিলাদের সৌন্দ‌র্য বাড়ায়। তাই ইসলামে চুল কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। দারুল ইফতার মৌলানা সাদিক কাশমির দাবি, বিউটি পার্লারে ‌মেক আপ করে মহিলারা পুরুষদের চোখ টানার চেষ্টা করেন। ইসলামে এটা বারণ করা হয়েছে। মুসলিম পুরুষেরও দাঁড়ি কামানো নিষেধ। দেশজুড়ে মুসলিম মহিলাদের বিউটি পার্লারে ‌যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এটা বন্ধ করতেই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাদিক কাশমি।

তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলাই এই ফতোয়া মানতে অস্বীকার করেছেন। তিন তালাকে নি‌র্যাতিতা সোফিয়া আহমেদের কথায়, ”এভাবে কেউ আমাদের ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না। মৌলবিরা আমাদের মাথা হেঁট করছেন।