উত্তর ২৪ পরগনায় বিশাল অস্ত্র কারখানার হদিশ পেল পুলিস, গ্রেপ্তার শেখ আলী হোসেন

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত নারায়ণপুর থানা এলাকায় বড়সড় অস্ত্র কারখানার হদিশ পেলো পুলিস। গতকাল ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিধাননগর পুলিস এবং কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারায়ণপুরের দোননগর এবং ছোট গাঁতির একটি বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে ৩০টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৬০টি অসম্পূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, শেখ আলি হোসেন ওরফে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় ‘জামাই’ বলেই সে অতিপরিচিত ছিল। গত ছয়-আট মাস ধরে সাইকেলের বল বিয়ারিং তৈরির কারখানা চালাত বলেই বাসিন্দারা জানতেন। কিন্তু, এদিন সেখান থেকেই অস্ত্র কারখানা উদ্ধার হওয়ায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারাও।
পুলিস সূত্রের দাবি,  আগের দিন এসটিএফ কলকাতা থেকে সদকাশ এবং টারজান নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসটিএফের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নারায়ণপুর থানা এলাকার একটি জায়গায় পিস্তল তৈরি হচ্ছে। সেই পিস্তল চোরাপথে কলকাতায় ঢুকছে। আবার ভিন জেলাতেও তা পাঠানো হচ্ছে। এরপরেই নারায়ণপুর থানার পুলিসকে নিয়ে এসটিএফ যৌথভাবে মধ্যমগ্রামের রোয়ান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দোননগরে হানা দেয়। পুলিস জানিয়েছে, দোননগরের বাড়িতে হানা দিয়ে জানা যায় বিধাননগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ছোট গাঁতি এলাকায় এই পিস্তলগুলি তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই তা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। এরপরেই পুলিসের যৌথ দল ছোট গাঁতিতেও হানা দেয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছোট গাঁতির বাড়িটিতে একটা অস্ত্র তৈরির কারখানা চলছিল। সেখানে মুঙ্গের থেকে বিভিন্ন কাঁচামালের পাশাপাশি শ্রমিকও আসছিল। তারপরে এই কারখানায় সেই কাঁচামালগুলিকে একত্রিত করে পিস্তল তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কারখানা থেকেই ৬০টি অর্ধেক তৈরি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস আরও জানিয়েছে, ছোট গাঁতির একটি ক্লাবের পাশে ওই বাড়ি থেকে ৬০টি আধা তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও লেদ মেশিন এবং ড্রিলিং মেশিন সহ বিভিন্ন কাঁচামাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

অশোকনগরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৪ দুষ্কৃতী

গত ৮ ই অক্টোবর, রবিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অশোকনগর থানার পুলিশ কল্যানগড়ে সুহৃদ সংঘের মাঠ থেকে চার দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করে। তবে ওখানে থাকা তিনজন দুষ্কৃতীকে পুলিশ ধরতে পারেনি। তারা পালিয়ে যায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ একটি পাইপগান,বেশ কয়েকটি গুলি,একটি ভোজালি ও দড়ি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলো  শেখ সিরাজুল, মিজানুর সাহানি, আলম সাহানি ও মীর সাদ্দাম। ধৃতদের বাড়ি অশোকনগরের খোশদেলপুরে। ধৃতদের সোমবার বারাসাত কোর্টে তোলা হলে বিচারক তাদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

শাসনে ৩০টি তাজা বোমা উদ্ধার করলো পুলিশ

গত ৯ই অক্টোবর,সোমবার সকালে উত্তর ২৪ জেলার  শাসনের চক-আমিনপুর থেকে ৩০টি তাজা বোমা পুলিশ উদ্ধার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাতে শাসনের পাকদহে দু’টি গোষ্ঠীর সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিন সকালে চক আমিনপুরের একটি মাঠ থেকে পুলিশ ৩০টি বোমা উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরাই ওই বোমা জড়ো করেছিল। পুলিশ দুষ্কৃতীদের খোঁজে তল্লাশি চালালেও এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

কাটোয়ায় ১৫টি তাজা বোমা উদ্ধার করলো পুলিশ

বর্ধমানে বোমা উদ্ধার চলছেই। ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বর্ধমানে বোমা তৈরী কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। গত ৫ই অক্টোবর বৃহস্পতিবার কাটোয়ার বাঁধামুড়া গ্রামে অভিযান চালায় কাটোয়া থানার  পুলিশ। গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পাশে পড়ে  থাকা একটি বোমা ভর্তি ব্যাগ খুঁজে পান পুলিশকর্মীরা। পরে পুলিশ বোমাগুলিকে নিষ্ক্রিয় করে। প্রসঙ্গত,ওই গ্রামেই তিনমাস আগে ৭০ টি তাজা বোমা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় তিনজন সংখ্যালঘু   গ্রেপ্তারও হয়েছিল। তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

১৫৯ রাউন্ড গুলিসহ ক্যানিং-এ গ্রেপ্তার অস্ত্র ব্যবসায়ী হাসান লস্কর

গত ৬ই অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ১৫৯ রাউন্ড গুলিসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় পুলিশ। ধৃতের নাম হাসান লস্কর ওরফে বাচ্চা। পরে ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করে বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশন গ্রূপ।  ধৃত হাসান লস্কর দীর্ঘদিন অস্ত্র ব্যবসার  জড়িত ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার অরিজিৎ সিনহা বলেন, ” ধৃতের কাছ থেকে বিভিন্ন সাইজের মোট ১৫৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ব্যবসায় ধৃত  হাসানের সঙ্গে কে বা কারা জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হবে”।