মালদহ সীমান্তে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা, সতর্কতা জারি

মালদহ সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সেদেশের জঙ্গি দমন বাহিনী রাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (RAB) লাগাতার সংঘর্ষে ভারতীয় ভূখণ্ডে জঙ্গি অনুপ্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আর এর জেরেই মালদহের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত জওয়ান মজুত করা হয়েছে বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার ভোরে চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সংঘর্ষের পরই রাতে মালদহের শবদলপুরে সীমান্তে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে বিএসএফের গুলির লড়াই হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশী ভূখণ্ড থেকে অনুপ্রবেশের জন্য বিএসএফকে লক্ষ্য করে দুষ্কৃতীরা গুলি করে। তখনই পালটা জবাব দেয় বিএসএফ। যদিও গুলি চালানোর বিষয়টি তারা স্বীকার করেনি।

বিএসএফের আইজি (দক্ষিণবঙ্গ) পিএসআর আনজানেলিউ বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা সতর্ক আছি। বিএসএফ কোথাও গুলি চালায়নি।”

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোররাতে চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জেএমবি জঙ্গিদের একটি আস্তানা ঘিরে র্যাবের অভিযানে তিনজনের মৃত্যু হয়। এলাকাটি মালদহ জেলা সংলগ্ন হওয়ায় সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিএসএফের আশঙ্কা, র্যাবের তাড়া খেয়ে জঙ্গিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়তে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে সেদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ অন্তত ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বিরাট দূরত্বের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চাঁপাই নবাবগঞ্জে জঙ্গি ঘাটি সাবলীলভাবে গড়ে উঠতে পেরেছে। এখানকার কয়েকটি এলাকা জঙ্গিদের ঘাঁটি হিসাবে গোয়েন্দা মহলে পরিচিত। একইসঙ্গে এই এলাকায় কার্যত সমান্তরাল প্রশাসনও জঙ্গিরা চালায় বলেও অভিযোগ আছে। জঙ্গিদের এই মুক্তাঞ্চল হয়ে ওঠার জেরেই ভারত বিরোধী কার্যকলাপের একটি বড় আখড়া এই এলাকা হয়ে উঠেছিল। শিবগঞ্জে একাধিক জালনোটের ছাপানোর মেশিনও বসানো হয়েছে। জামাত জঙ্গিদের কাজে লাগিয়েই পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই শিবগঞ্জেই জাল টাকা ছাপানোর ব্যবস্থা করে ফেলেছিল। এবিষয়ে বারবার ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি বাংলাদেশ প্রশাসনকে অভিযোগ করেছে। সম্প্রতি ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে বাংলাদেশী নিরাপত্তা কর্তাদের বৈঠকে শিবগঞ্জ প্রসঙ্গে উদ্বেগ ব্যক্ত করা হয়। এরপরই শিবগঞ্জে লাগাতার অভিযান শুরু করে র্যাব। মঙ্গলবার রাতে সেইরকমই একটি জোরাল অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরের অভিযানের পরই মালদহের সীমান্তগুলিতে অতিরিক্ত সর্তকর্তা জারি করে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে মালদহ থেকে কোচবিহার পর্যন্ত কাঁটাতার বিহীন সীমান্তে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশও সতর্ক রয়েছে।

Advertisements

ত্রিপুরায় গ্রেপ্তার ৮মুসলিম অনুপ্রবেশকারী

গত ২৯শে নভেম্বর, বুধবার সকালে আট সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিককে আটক করে আগরতলা পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছে তিনটি শিশু। এ ব্যাপারে জানা গেছে, এদিন সকালবেলা আগরতলার খয়েরপুর থানা এলাকায় সন্দেহজনকভাবে চলাফেরার জন্য ওই লোকেদের আটক করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ভারতীয় নাগরিকত্বের কোনও প্রমাণপত্র পাওয়া যায়নি। তবে এদের কাছে রয়েছে রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ আই কার্ড। ধৃতরা জানিয়েছে, তারা নাকি কাশ্মীর থেকে ত্রিপুরায় এসেছে। বুধবার পুলিশ ধৃতদের আদালতে হাজির করে। পুলিশের ধারণা ধৃত লোকেরা পাকিস্তান বা আফগানিস্থানের নাগরিক হতে পারে। এরা খুব ভালো হিন্দিতে কথা বলতে পারে। আর তা নিয়েই সন্দেহ দানা বাঁধছে।

৪জন বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার

4 jon bangladeshi onuprobeshkariগত ১২ই নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থানার পুলিশ ৪জন বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করলো। ঐদিন রাতে দুপুরে তাদেরকে কালচিনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। ধৃতরা হলো সাগর কাজী, হাসান সর্দার, তারিপুল ইসলাম ও ইমরান খান। এদের বয়স ২২-২৫ বছরের মধ্যে। ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের মাদারীপুর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক এদেরকে ১৪দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অনুপ্রবেশকারীরা দালাল ধরে এদেশে ঢুকেছিলো মুম্বইতে যাবার উদ্দেশ্যে। তবে কাজের খোঁজে কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিল কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

আসামের মাজুলিতে ৫০জনের বেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার, রোহিঙ্গা বলে সন্দেহ

অবৈধ বাংলাদেশির আগ্ৰাসন থেকে বাদ পড়েনি সত্ৰভূমি মাজুলি। এখানে দলে বলে আসছে বাংলাদেশি মুসলমান। কোলে ছোট ছোট শিশু নিয়ে প্ৰায় অৰ্ধশতাধিক মহিলা-পুরুষ মাজুলিতে এসেছে।গত ২২শে অক্টোবর, রবিবার বিকেলে বাংলাদেশি এই দলকে মাজুলির ফুলনি চারালিতে দেখে চোখ ছানাবড়া স্থানীয় জনসাধারণের। কেউ কেউ এদের রোহিঙ্গা মুসলিম  বলে মনে করে আঁতকে উঠেন। মাজুলি মহকুমা ছাত্ৰ সংস্থার নেতৃত্বে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় অর্ধশতাধিক সন্দেহভাজন পুরুষ-মহিলা এবং ছোট ছোট শিশু, বালক-বালিকাদের ধরে মাজুল জেংরাইমুখ থানার হাতে তুলে  দেওয়া হয়েছে।
প্রায় অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিরা কোথা থেকে আচমকা এখানে এসেছে সে রহস্যের জট এখনও খোলেনি। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে মাজুলিতে।
তবে এক সূত্রের খবর, এরা বরপেটা জেলার কোথাও দীৰ্ঘ দিন গোপনে ছিল। এবার দিগবিদিগশূন্য হয়ে এই সব বাংলাদেশি মধ্য অসম পার হয়ে উজানের লখিমপুর জেলা হয়ে সত্ৰপীঠ মাজুলিতে দলে দলে আসছে। লক্ষ্যণীয়, এদের কেউই অসমিয়া ভাষা বোঝে না। সাংবাদিক বা পুলিশের অসমিয়ায় ভাষায় কোনও জিজ্ঞাসারাও উত্তর দিতে পারছে না তারা। এমতাবস্থায় এদের নিয়ে ফাঁপরে পড়েছে মাজুলির পুলিশ প্ৰশাসন।

পেট্রাপোল সীমান্তে ১১জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার

bangladeshiগত ১০ই অক্টোবর,মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার  পেট্রাপোল সীমান্তের খলিতপুর এলাকা থেকে ১১জন বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করলো বিএসএফ। পুলিশ জানিয়েছে ধৃতদের বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা, মাদারীপুর,ফুলগাছি,রঘুনাথপুর ও বিজুইপুর এলাকায়। তাদের  বয়স  ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ধৃতরা কেরালা যাবার উদ্দেশে সীমাত পেরিয়ে এদেশে ঢুকেছিলো। মঙ্গলবার  ধৃতদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।