হিন্দুদের উদ্দেশ্যে অসম্মানজনক মন্তব্য, মন্ত্রীপদ হারালেন পাকিস্তানের মন্ত্রী

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিয়ে অপমানসূচক এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের দায়ে মন্ত্রীপদ  খোয়ালেন পিটিআই নেতা তথা পঞ্জাব প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ফৈয়াজ়ুল হাসান চৌহান। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এর ব্যাখ্যা চেয়ে ফৈয়াজ়ুলকে আজ নিজের অফিসে ডেকে পাঠান পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সর্দার উসমান বুজ়দার এবং সেখানেই তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। একাংশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নিজের দলেও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় শেষমেশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ফৈয়াজ়ুল।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার দশ দিন পরে, গত ২৪ ফেব্রূয়ারি  এক জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফৈয়াজ়ুল বেশ কিছু ‘হিন্দু-বিরোধী’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। কয়েক দিন ধরে ফৈয়াজ়ুলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁকে সরানোর দাবিতে #স্যাকফৈয়াজ়চৌহান নামে বেশ কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চাপের মুখে আজ ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফৈয়াজ়ুল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি হিসেবে, পাকিস্তানে এখন প্রায় ৭৫ লক্ষ হিন্দুর বাস। বেসরকারি মতে যদিও সংখ্যাটি ৯০ লক্ষের বেশি। তাঁদের সিংহভাগই থাকেন সিন্ধু প্রদেশে।

Advertisements

ত্রিপুরায় গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা জেএমবি জঙ্গি নাজির শেখ

গতকাল ৫ই মার্চ, ত্রিপুরা পুলিস আগরতলা থেকে নাজির শেখ নামে এক জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে।  বছর পঁচিশের নাজিরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। সে আগরতলায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার ডিজি এ কে শুক্লা জানিয়েছেন যে, নাজির ২০১৩ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত। ডিজি আরও বলেন যে বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের মুলচক্রী কওসরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো নাজির। পুলিস জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে গোয়েন্দাদের একটি দল এবং পুলিস মিলিতভাবে আগরতলার অরুন্ধুতি নগর থেকে নাজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের সন্দেহ, ধৃত নাজির রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি জেএমবি-এর কাজ করছিলো। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জেরা করছে পুলিস।

তমলুকের শ্রীরামপুরের হিন্দুরা জিহাদি আক্রমণের শিকার, বাড়ি-ঘর ও মন্দির পুড়ে ছাই

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের শ্রীরামপুর গ্রামের হিন্দুরা ভয়ঙ্কর জিহাদি আক্রমণের শিকার হলো। মুসলিমরা হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। হিন্দুদের বাড়ির সামনে থাকা তুলসী মঞ্চ, মন্দিরে থাকা দেবতার মূর্তি নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে শ্রীরামপুর গ্রামের পাশের এলাকা হলো বাহির খোপ-যা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এর আগে সরস্বতী পুজোর সময়েও ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছিল হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে। এছাড়াও, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে কোনো ঘটনায় মুসলিমরা হিন্দুদের টার্গেট করে থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে। এবারেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ২৮শে ফেব্রূয়ারি। ওইদিন মুসলিমরা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় যে বাহির খোপ গ্রামের ফারুক নামে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এনিয়ে মুসলিমরা পথ অবরোধ করে। এলাকায় প্রচুর পুলিস মোতায়েনও করা হয়। কিন্তু পরেরদিন ১লা মার্চ ফারুকের মৃতদেহ একটি পুকুরে উদ্ধার হয়। এরপরেই বাহির খোপ এলাকার মুসলমানেরা হিন্দু গ্রাম শ্রীরামপুর আক্রমণ করে। উন্মত্ত মুসলিমরা একের পর এক বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলিমরা শাবল, গাইতি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল, তা দিয়ে গ্রামের একের পর এক মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ওই মুসলিমরা। এই ঘটনায় পুরো গ্রামে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। আতঙ্কে বহু পরিবার গ্রামছাড়া।এদিকে গ্রামে একটি পুলিস পিকেট রয়েছে।

ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার রাশেদুল হাসান

dhaka-Mirpurবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে আজ সকাল ৭ টায় মন্দিরের  প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।কালী  মায়ের প্রতিমা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টায় মন্দির খুলে পরিষ্কার করার সময় ২২ বছরের এক যুবক প্রবেশ করেন। এতো সকালে কেন এখানে এসেছেন -জানতে চাইলে জানায়, সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাই প্রার্থনা করতে এসেছেন। তার নাম মিঠুন চক্রবর্তী বলে সে পরিচয় দেয়।
সে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০ মিনিট প্রার্থনা করে। আশাপাশে কেউ না থাকায় ভেতরে গিয়ে কালী প্রতিমা টেনে নীচে ফেলে দেয় এবং ভাঙচুর করে। প্রতিমা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ভেতরে থাকা পুরোহিতের সহকারী ও পরিচ্ছন্নকর্মী দৌড়ে গিয়ে যুবককে ধরে ফেলেন।
পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে, সে আসলে কোন হিন্দুু নয়, তার আসল নাম রাশেদুল হাসান। মিরপুর ১১ নম্বর এভিনিউ এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় মিরপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাদের সন্দেহ এ প্রতিমা ভাঙচুর এর পেছনে বড় দুস্কৃতিকারীরা জড়িত রয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হিন্দু ধর্মে ফেরার পর সুমাইয়া এখন রাত্রি

IMG_20190228_075243হিন্দু সংহতির সহায়তায় পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরলেন সুমাইয়া। তার নাম এখন রাত্রি। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তাকে সবরকম সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। রাত্রির মতো যারা পূর্বপুরুষের সনাতন ধর্মে ফিরতে চাইবে, তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিন যে, #হিন্দু_সংহতি তাদের পাশে থাকবে।
সেইসঙ্গে সবার কাছে আবেদন যে আপনারা এই কাজে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
হিন্দু সংহতি-হিন্দুর সাথে, হিন্দুর পাশে।

সর্বস্ব পুড়ে যাওয়া আদিবাসীদের সাহায্য হিন্দু সংহতির

গত ৭ই ফেব্রূয়ারি নদীয়া জেলার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত বার্ণিয়া গ্রামের সর্দার পাড়ায় আগুন লাগে।  সেই আগুনে আদিবাসীদের ৫টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাড়ির মধ্যে থাকা বাসনপত্র, পরনের কাপড় কিছুই বাঁচানো যায়নি আগুনের গ্রাস থেকে। সেই আগুনের গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে পড়া আদিবাসীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতি। গতকাল ২৬শে ফেব্রূয়ারি বার্ণিয়া গ্রামে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বস্ব হারানো ৫টি আদিবাসী পরিবারের হাতে রান্নার বাসনপত্র এবং কিছু অর্থ সাহায্য তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় এবং শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি। এছাড়াও স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রীমতি রাখী সরকার এবং রূপচাঁদ সরকার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বালুরঘাটে মিষ্টি বিতরণ হিন্দু সংহতির

ভারতীয় বায়ুসেনা পুলওয়ামা হামলার বদলা নিয়েছে। বায়ু সেনার বোমাবর্ষণ ৩০০জনের বেশি জঙ্গি মারা গিয়েছে। আর সেই খুশিতে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরে মিষ্টি বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি কর্মীরা। শহরের বালুরঘাট থানার সামনে শ্রী রজত রায়-এর নেতৃত্বে হিন্দু সংহতি কর্মীরা পথ চলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করায়। সেই সঙ্গে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ু সেনাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া রিয়াং হিন্দুদের ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতি

গত ১৮ই ফেব্রূয়ারি  আসামের কাছাড় জেলার ভুবনখালের উপজাতি হিন্দু রিয়াংদেরকে ভিটে ছাড়তে হয়েছিল খ্রিস্টান মার উপজাতির আক্রমণের মুখে পড়ে, কারণ রিয়াং হিন্দুরা খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চায়নি। তারপরেই তাদের জিরিঘাট এলাকায় আশ্রয়, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিল হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিট। সেইসঙ্গে প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ হওয়া রিয়াংদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। সেই মতো আজ হিন্দু সংহতির কর্মীরা এবং স্থানীয় থানার পুলিসকর্মীরা রিয়াংদেরকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন রিয়াংদের নিরাপত্তার সমূহ দায়িত্ব নিয়েছে।
হিন্দু সংহতির উদ্ধারবন্দ শাখার সদস্যরা অনেকটা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রিয়াং হিন্দুদের তাদের নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেন। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত।

পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালালো বায়ুসেনা, গুঁড়িয়ে দিলো জঙ্গিঘাঁটি, মৃত ২০০-এর বেশি জঙ্গি

পুলওয়ামা হামলার বদলা নিল ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। গতকাল রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ১২টি মিরাজ যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করা হয় বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, বালাকোট সেক্টর থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানগুলি। জয়েশ জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার গাইডেড হামলা করা হয়। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুতে নিঁখুতভাবে হামলা চালানো সম্ভব। শোনা যাচ্ছে হামলার জেরে পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমানও ধ্বংস করা হয়েছে। বায়ুসেনা সূত্রে খবর বালাকোট, চাকোতি এবং মুজফ্ফরাবাদে জয়েশ জঙ্গিদের তিনটি লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১২টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। সীমান্ত পেরিয়ে ৮০ কিমি ভিতরে ঢুকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামলা চালানো হয়। ধ্বংস করে দেওয়া হয় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। ঘটনায় প্রায় ২০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অতর্কিত এই সফল অভিযান চালিয়ে ১২টি যুদ্ধবিমানই ভারতের আদমপুর বায়ুসেনাঘাঁটিতে ফিরে আসে।

কালের কণ্ঠ-এর সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথের বাড়িতে হামলা দুষ্কৃতীদের, চললো গুলি

kaler konthoবাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ-এর হিন্দু সাংবাদিক শ্রী ছোটন কান্তি নাথকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালো একদল দুষ্কৃতী। এমনকি তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা।  জানা গিয়েছে, গতকাল ২৫শে ফেব্রূয়ারি ভোররাতে ছোটোনা নাথের কক্সবাজারের চকরিয়ার বাড়িতে বাইকে চেপে আসে একদল দুষ্কৃতীরা। তারা বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। না পেরে, বাড়ির জানালা লক্ষ করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তারপরে বাড়ির লোকেরা জেগে উঠলে পালিয়ে যায়। পরে ছোটনবাবু পুলিসে খবর দেন।  পুলিস এসে ঘটনার তদন্ত করে। তবে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে শ্মশানের কালী মন্দির ভাঙা হলো দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত বোচাগঞ্জ উপজেলার সহসপুর চৌরঙ্গী বাজারে নিকটবর্তী শশ্মানে আনুমানিক গত ২৪শে ফেব্রূয়ারি,  বিকেল ৫ ঘটিকায় নবনির্মিত কালী মন্দির ও শশ্মানে জায়গা দানকারী স্বর্গীয় কেশব চন্দ্র রায় বাবুর সমাধিস্থল ভাংচুর করে একই গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহ (বাচ্চু মিয়া)ও সহসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল আলম বাবুর নেত্রীত্বে আনুমানিক দুই শতাধিক মুসলিম দুষ্কৃতি।

সনকাই ও  মহাশ্মশান কালী মন্দিরের সভাপতি ভারত চন্দ্র রায় বলেন  সহসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে  দুষ্কৃতিকারীরা প্রথমে শ্মশানের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলার পর নবনির্মিত কালী মন্দিরের ঘরটি ভাঙচুরের পর অতর্কিত ভাবে জনসাধারণের দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে।  এতে ঘটনাস্থলেই একই এলাকার গন্ডিরাম রায় পিতা ঝটুরাম রায়,শ্যামল রায়,মজেন রায়,হরিপদ রায়,নেতীশ চন্দ্র রায় সহ আরও দুই জন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে গন্ডিরাম রায়কে দিনাজপুর আব্দুর রহিম  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদের সেতাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ননীগোপাল রায় বলেন ঘটনাস্থলে আমি শান্তশিষ্ট রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি কিন্তু ভাংচুরকারীরা কোন কথাই শুনেনি।
নবনির্মিত মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর শেষে ভাংচুরকারীরা চৌরঙ্গী বাজারের আল্লাহু হু আকবর,ধর ধর মালাউনরে ধর চিৎকার করে হিন্দু দোকান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালায়। বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর  লুঠপাট চালায় মুসলিম দুষ্কৃতীরা।
এই ঘটনার বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার আব্দুর রৌফ মন্ডলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা শোনামাত্র ঘটনাস্থলে দ্রুত ফৌজ পাঠিয়ে দিয়েছি এবং গতকাল রাত্রেই মুল আসামিকে দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার প্রস্তুতি চলছে।

কোচবিহারের দিনহাটায় মাদ্রাসা ছাত্রের ব্যাগ থেকে বোমা উদ্ধার করলো পুলিস

cooch bombকোচবিহারের দিনহাটায় এক মাদ্রসা ছাত্রের ব্যাগ থেকে বোমা উদ্ধার করলো পুলিস। আর সেই নেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের শিক্ষা মহলে। পুলিশ যদি তৎপর না থাকতো, তাহলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। জানা গিয়েছে যে  দিনহাটার বড় আটিয়াবাড়ি জোরপাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। এই বিদ্যালয়ের দিনহাটার বিভিন্ন মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষার প্রথম দিন চান্দেরকুঠি হাই মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে বিরক্ত করে মুন্সিরহাট সাদেকিয়া হাই মাদ্রাসার এক পরীক্ষার্থী। সেই ঘটনার জেরে চান্দেরকুঠির ছাত্ররা একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করে এবং মুন্সিরহাট মাদ্রাসার এক ছাত্রকে তারা মারধর করে। ঘটনার জেরে পরীক্ষা শেষে চান্দেরকুঠির ছাত্রদের গাড়ি থামিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় মুন্সিরহাটের কিছু ছাত্র। শেষ পরীক্ষার দিন চান্দেরকুঠি ছাত্রদের দেখে নেওয়া হবে বলেও তারা শাসায়। বিষয়টি দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে জানাজানি হলে তাঁরা মিটমাটের উদ্যোগ নেয়। এদিন শেষ পরীক্ষার দিন গণ্ডগোল হতে পারে বলে পুলিসকেও জানানো হয়। সেজন্য এদিন ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কোনও গণ্ডগোল যাতে না হয় সেজন্য দুই মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক, শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা শেষে এক একজন করে হল থেকে বের করে দেয় পুলিস। আপাত শান্তিপূর্ণভাবেই পরীক্ষা পর্ব মিটে যায়। কিন্তু পরীক্ষা শেষে দুই বন্ধু সহ দিনহাটা চৌপথিতে মদের দোকানের সামনে যায়। সেখানে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তারা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে মারামারি দেখে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়াররা এগিয়ে যায়। হাতাহাতি শান্ত হলে ব্যাগে কী রয়েছে দেখতে চাইলে বাধা দেয় ছাত্রটি। ব্যাগের চেন খুলিতেই বোমা বেরিয়ে আসে। দ্রুত দিনহাটা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস এসে বোমা সহ ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায়।

ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াং হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলায় হিন্দু রিয়াং উপজাতির বসবাস কয়েকশ বছর ধরে। সেখানেই বসবাস করে মার উপজাতিরা।কিন্তু খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে এই মার(Hmar) উপজাতির বিশাল সংখক মানুষ খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। তারপরেই বিভিন্ন ভাবে রিয়াং উপজাতির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে।কিন্তু এতকিছুর পরেও রিয়াং হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হয়নি। আর তার ফলেই তাদের ওপর নেমে এলো খ্রিস্টানদের আক্রমণ। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি একদল মার(Hmar) উপজাতির খ্রিস্টান যুবক রিয়াংদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে আতঙ্কিত রিয়াং হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাঁরা জিরিঘাটে পালিয়ে আসে। ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের  সম্রাট দত্তের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াংদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর হিন্দু সংহতির উদ্যোগে তাদেরকে জিরিঘাট ইউনাইটেড ক্লাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।বর্তমানে তাঁরা ওই স্থানে রয়েছেন।

হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে রিয়াং হিন্দুদের পুনর্বাসন-এর দাবি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত মার(Hmar) খ্রিস্টান যুবকদের গ্রেপ্তার করারও দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসন যদি হিন্দু সংহতির দাবি না মেনে নেয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে হিন্দু সংহতি, এমনটাই জানিয়েছেন বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত

‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এর উদ্যোগে দাড়িভিটের ভাষাবীরদের স্মরণ

গতকাল ২১শে ফেব্রূয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসে ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’-এর উদ্যোগে কলকাতার রাজা রামমোহন লাইব্রেরি হল-এ দাড়িভিটের ভাষাবীরদের স্মরণে এক শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে দাড়িভিটের মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষাবীর রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের বলিদানকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রী অচিন্ত্য বিশ্বাস, বিশিষ্ট সাহিত্যিক শ্রী দেবাশীষ লাহা এবং এষা দে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজেশ-তাপসের পিতামাতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজেশ-তাপসের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে একে একে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির ভাষা কেড়ে নেবার বৃহত্তর চক্রান্ত সকলের সামনে তুলে ধরেন।অধ্যাপক অচিন্ত্য বিশ্বাস তার বক্তব্যে বলেন, “ যারা জলখাবারকে নাস্তা বলে, যারা স্নানকে গোসল বলে, তারা কখনোই বাঙালি হতে পারে না।আজ বাংলা দেশের ভাষা আন্দোলনকে আপন করে নিলে ভাষা রক্ষায় রাজেশ-তাপসের বলিদান ব্যর্থ হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “ এই পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে।আর সেই চক্রান্তের শিকার হলো রাজেশ-তাপস।” হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জিহাদি শক্তির আজ ভয়ঙ্কর থাবা পশ্চিমবঙ্গে । তাঁর প্রতিরোধে হিন্দু সংহতির যুবশক্তি তাদের সমূহ শক্তি দিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ করছে, লড়াই করছে, রক্ত ঝরাচ্ছে। কিন্তু বৌদ্ধিক লড়াইয়ের কাজটাও করা দরকার। যার ফলে যুবসমাজের মন আন্দোলিত হবে, তাঁরা শক্তি খুঁজে পাবে,তাঁদের মনন শক্তি খুঁজে পাবে।” তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে জিহাদি শক্তির বাঙালি হিন্দুর শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ রক্ষার লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ রাখেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেবাশীষ লাহা এবং এষা দে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। দেবাশীষ লাহা বলেন যে শুধু ভাষায় কথা বললে বাঙালি হওয়া যায় না। তোতা পাখি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে, তাহলে তাকে কি বাঙালি বলবো?বাঙালি হলে তাঁর তুলসিতলা থাকবে,তাঁর দুর্গা পূজা থাকবে,তাঁর পয়লা বৈশাখ থাকবে; তবেই সে বাঙালি হবে।

হাওড়ার দাশনগরে একই রাতে দুটি মন্দিরে চুরি, দুষ্কৃতীরা অধরা

গত ১৯শে ফেব্রূয়ারি, মঙ্গলবার হাওড়া জেলার অন্তর্গত দাশনগর এলাকার একটি শ্যামাকালী ও তারা মায়ের মন্দিরে চুরি হয়েছে। দু’টি মন্দির থেকেই দুষ্কৃতীরা প্রতিমার গায়ে থাকা অলঙ্কার ও বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়েও দাশনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার নিয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। অথচ পুলিস এখনও পর্যন্ত কোনও চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।