বাসন্তীর চড়াবিদ্যায় হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন

আজ বিকেলে দক্ষিণ 24 পরগনা জেলার অন্তর্গত বাসন্তী থানার চড়াবিদ্যায় হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।এই অনুষ্ঠানটি ৯নং কুমড়োখালি মামভাগ্নে স্কুলের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে ওই অঞ্চলের হিন্দু সংহতি কর্মী-সমর্থকদের যোগদানে পুরো স্কুল মাঠটি ভরে যায়।অনেকেই বসার জায়গা না পাওয়ায় দাঁড়িয়ে থেকে বক্তব্য শোনেন।এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল ব্যাপকহারে।স্থানীয় হিন্দু মা-বোনদের এই অনুষ্ঠান নিয়ে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।এই অনুষ্ঠানে উপস্হিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়, সহ-সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী । অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি সম্মানীয় দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়ের বক্তব্য শুনে উপস্থিত হাজারেরও বেশি কর্মী-সমর্থকেরা উচ্ছাসে ফেটে পড়েন ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চড়াবিদ্যা অঞ্চলে হিন্দুর মান-সম্মান, মাটি বাঁচানোর লড়াইয়ে হিন্দু সংহতি প্রথম থেকেই এলাকার হিন্দুদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের সহযোগী হয়েছে

Advertisements

শিখ কিশোরীকে গণধর্ষণ পাকিস্তানে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে এম্বুলেন্সের ভিতরে একজন শিখ কিশোরীকে গণধর্ষণ করলো ২ মুসলিম যুবক।। পুলিস জানিয়েছে, ওই কিশোরী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। সে গত শনিবার নানকানা সাহিব শহরের একটি গুরুদ্বার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। দুদিন মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে মেয়েটির বাবা পুলিসের দ্বারস্থ হন। শেষে রবিবার সকালে শহরের বাইপাসে একটি এম্বুলেন্সের ভিতর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা গাড়ির ভিতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তখনি মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি তার পরিবারের লোককে জানায় যে দুজন তার ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। কিন্তু কারোর নাম বলতে পারেনি সে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই কিশোরী চিকিৎসাধীন।  তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

জেলায় জেলায় হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন

পূজাবকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সংহতির আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। গত ২৮শে অক্টোবর হাওড়া জেলার বাগনানে হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়, সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনান থানা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী শ্রী সুমন গোলুই প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে  সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

  একইদিনে অর্থাৎ গত ২৮শে অক্টোবর, বর্ধমান জেলার কাটোয়াতে হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি কাটোয়া থানা এলাকার বাঁদরাতে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানেও শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির  সহ সভাপতি দেব চট্টোপাধ্যায়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, সহ সম্পাদক শ্রী বিশ্বজিৎ মজুমদার এবং কাটোয়া এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী প্রশান্ত চক্রবর্তী।
  ওই একইদিনে ২৮শে অক্টোবর হুগলি জেলার চণ্ডীতলায় কানাইডাঙ্গা কালীমন্দির প্রাঙ্গনে  হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, হুগলি জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থপ্রতিম ঘোষ, হুগলি জেলার হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী আশিস মান্না এবং বাবলু গরাং। এই অনুষ্ঠানে এলাকার হিন্দু কিশোর-কিশোরীরা লাঠিখেলা প্রদর্শনী করে। এছাড়াও ঐদিন হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ব্লকেও হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং  জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থ প্রতিম ঘোষ। এই অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক সুন্দর গোপাল দাস মহাশয় এবং জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থপ্রতিম ঘোষ মহাশয়। এই অনুষ্ঠানেও  শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। 

সোনারপুরে ৩৫ লক্ষ টাকার হেরোইনসহ ২ মুসলিম গ্রেপ্তার

গত ২৮শে অক্টোবর, শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার স্টেশনের পাশে ৩৫ লক্ষ টাকার হেরোইনসহ দুজন মাদক কারবারীকে গ্রেপ্তার করলো পুলিস। ধৃতরা হলো রশিদ লস্কর এবং শেখ জালালুদ্দিন। এদের মধ্যে রশিদ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ঘুটিয়ারি শরীফের বাসিন্দা এবং শেখ জালালুদ্দিন নদীয়ার কালীগঞ্জের বাসিন্দা। এদের কাছ থেকে পুলিস ১কেজি ১০০গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে  যে, সূত্র মারফত বারুইপুর জেলা পুলিসের কাছে খবর আসে যে দুজন ব্যক্তি সোনারপুর স্টেশনের পাশেই হেরোইন ডেলিভারি দিতে আসবে। সেইমতো ঐদিন সকাল থেকে পুলিস কর্মীরা স্টেশনের আশেপাশে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে থাকেন। পরে পুলিসকর্মীরা এই দুজনকে তল্লাশি করেন এবং পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এই কারবারে আর কারা জড়িত, তা জানার জন্যে তাদের জেরা করা হচ্ছে বলে পুলিসের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

জালনোট এবং গরুপাচারের লাভের টাকায় জিহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি

ভারতে জালনোট এবং গরুপাচারের লাভের টাকায় ভারতবিরোধী জিহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছে বাংলাদেশের জামাত-উল-মুজাহিদিন (জেএমবি) এবং নব্য জেএমবি-এর মত জঙ্গি সংগঠনগুলি। আর এইসব হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মালদা-মুর্শিদাবাদ সীমান্ত এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে। এইরকমই রিপোর্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। এমনকি জঙ্গি সংগঠনগুলি এইসমস্ত জেলাগুলিতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ এবং মজুত করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক। এমনকি এই কারবারে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা জিহাদিদের সঙ্গ দিচ্ছে। জানা গিয়েছে, নতুন ৫০০ টাকার নোট ছাপানোর  কাজ চলছে বাংলাদেশের জেএমবি-এর নিয়ন্ত্রণে। আর এই কারবারের লাভের টাকায় অস্ত্র কেনা হচ্ছে।  সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে আগেভাগে পদক্ষেপ নিতে চাইছে দিল্লি। যে সমস্ত রাজ্যে জাল নোটের কারবারের রমরমা, সেগুলিকে নিয়ে বিশেষ বৈঠক করা হবে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলি নকল নোটের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কীভাবে চালানো হচ্ছে, তা জানানো হবে ওই বৈঠকে। খতিয়ে দেখা হবে কোথা থেকে মোট কত নোট এখন পর্যন্ত ধরা পড়েছে। কোথা থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ টাকা উদ্ধার হয়েছে, তার ভিত্তিতেই রূপরেখা তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাতে শুধুমাত্র তল্লাশি নয়, সেখানে জাল নোট নিয়ে সচেতনতার উপরও জোর দেওয়া হবে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রও তদন্তের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু নির্দেশিকা জারি করতে চায়। তারা চাইছে, রাজ্যগুলি একেবারে গোড়ায় গিয়ে তদন্ত করুক। শুধুমাত্র দালাল বা কেরিয়ার ধরেই যেন জাল নোটের তদন্ত শেষ করে না দেওয়া হয়। শিকড়টা কোথায় খুঁজে বের করতে হবে। এই কারবারের সঙ্গে জড়িত আসল ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে জোর দিতে হবে। তাদের পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্টদের ভারতে থাকা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিতে হবে। যাতে তারা বাধ্য হয় জাল নোটের কারবার বন্ধ করতে। কোথাও জাল নোট সহ কেউ ধরা পড়লে যেন নোট বাজেয়াপ্ত করেই তদন্ত শেষ করে না দেওয়া হয়। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে জাল নোট কারবারিদের যোগাযোগ প্রমাণ করতে তথ্য ও নথি সংগ্রহের উপর জোর দেওয়ার কথা বলা হবে বলে সূত্রের খবর।

ডি-ভোটারের নোটিস পেয়ে আত্মহত্যা করলেন আসামের ওদালগুড়ির দীপক দেবনাথ।

আসামে  বাঙালি হিন্দুদের আত্মহত্যা চলছেই। কয়েকদিন আগে দরং জেলার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাসের পর এবার আত্মহত্যা করলেন ওদালগুড়ির যুবক দীপক দেবনাথ। তার বাড়ি ঘাগ্রা উলুবাড়ি গ্রামে। স্থানীয় বাজারে তার একটা সাইকেল সারাইয়ের দোকান ছিল। কয়েকমাস আগেই তিনি ডি-ভোটারের নোটিস পান। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সেই থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। যদিও নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার জন্যে তার কাছে কোর্টে মামলা করার সুযোগ খোলা ছিল; কিন্তু সাইকেল সারাইয়ের দোকানের সামান্য উপার্জনে মামলা চালানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সে কথা জানিয়েছিলেনও পরিবারের বাকিদের। তারপরেও গত ২৮শে অক্টোবর, শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই একটি  গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা  করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আশেপাশের এলাকার বাঙালি হিন্দুরা ভিড় করেন। পরে তার মৃতদেহ নিয়ে একটা মিছিল বের করেন স্থানীয়রা এবং মিছিল থেকে এনআরসি রাজ্য কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার অপসারণের দাবি ওঠে।

বাংলাদেশের গাইবান্ধায় ২ হিন্দু শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় একই হিন্দু পরিবারের সাত বছরের দুই কন্যা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী মুদি দোকানদার নুরুন্নবী মিঞা  ও তার পুত্র জাহির মিঞা । এমনকি ঘটনার পর ওই দুই শিশুটির পরিবারকে অভিযোগ না জানানোর জন্যে হুমকিও দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত নুরুন্নবী মিঞা এবং তার ছেলে জাহির মিঞা-এর  বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর, বুধবার  রাতে নির্যাতিত দুই শিশুর একজনের বাবা  সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন দুপুরে সদর উপজেলার চক মামরোজপুর গ্রামের একটি দোকান ঘরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। রবিদাস সম্প্রদায়ের দুই শিশুই দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বাঁকুড়ার রানিবাঁধের আদিবাসী মানুষজন করম উৎসবে মেতে উঠলেন

গতকাল ২৫শে অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রানিবাঁধের আদিবাসী ও কুর্মি সম্প্রদায়ের মানুষজন করম পরবে মাতkaramলেন। এদিন রানিবাঁধের অম্বিকানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের চিরকুনকানালি গ্রামে তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের বিশেষ পরব অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে চিরকুনকানালি গ্রাম ছাড়াও পাশাপাশি ভালুকা, বুড়িশোল, বাগডুবি, মৌকানালি সহ বেশকিছু গ্রামের বাসিন্দারা অংশ নেন। সকলেই তাদের রঙিন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।  এদিন দুপুর ১২টা থেকে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষরা ধামসা-মাদলের তালে তালে বিশেষ করম নৃত্যের মাধ্যমে এবং পুজো করে শস্যের দেবী  অর্থাৎ মা লক্ষ্মীর আরাধনা করেন । চিরকুনকানালি গ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মোড়ল শরৎ টুডু বলেন, মূলত অবিবাহিত মেয়েরা মোড়লের কাছে অনুমতি নিয়ে করম পরবে নৃত্য করে। পাঁচদিন ধরে তারা এক বেলা অর্ধাহারে থাকে। শাল গাছের খুঁটি পুঁতে তার তলায় পুজো করা হয়।  এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে লোধা, সাঁওতাল এবং ভূমিজ সম্প্রদায়ের মানুষেরাও মেতে ওঠেন।

কালিয়াচক সীমান্তে বিএসএফ -এর গুলিতে মৃত বাংলাদেশী গরু পাচারকারী

গতকাল ২৪শে আগস্ট, বুধবার ভোররাতে মালদহের কালিয়াচকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শ্মশানিতে বিএসএফ ও গোরু পাচারকারীদের মধ্যে গুলির লড়াই হয়েছে। ঘটনার জেরে একজন বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং একজন ভারতীয় জখম হয়েছে। বিএসএফ সূত্রে অবশ্য দাবি করেছে, ওই ভারতীয় ব্যক্তিও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যদিও তার পরিবারের দাবি, সে ঘাস কাটতে গিয়েছিল। জখম ব্যক্তি মালদহের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি আছে। অন্যদিকে বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি পাচারকারীর নাম মহম্মদ জেমস। গুলিতে তার মৃত্যু হলে অন্য পাচারকারীরা তাকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের মধ্যে টেনে নিয়ে যায়। ফলে তার দেহ পাওয়া যায়নি। এনিয়ে গত ১০ দিনে দু’বার গোরুপাচারকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বিএসএফ ও পাচারকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত

দুর্গা পূজার সমাপনে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন  জেলার মহকুমা এবং ব্লকগুলিতে হিন্দু সংহতির কর্মীদের  উদ্যোগে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে।
  গত ২১শে অক্টোবর, রবিবার হাওড়া জেলার অন্তর্গত আমতায় হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী  চিত্তরঞ্জন দে, হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী  সমীর গুহরায় এবং সহ সম্পাদক  শ্রী মুকুন্দ কোলে। এই অনুষ্ঠানে সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়  মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি বক্তব্যের প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আজাদ হিন্দ সরকারের ৭৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান পালন করার জন্যে। তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন যে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হিন্দু সংহতি সবসময় সামনে থাকবে। এছাড়াও তিনি হিন্দু সংহতির কর্মীদেরকে সবসময় হিন্দুদের পাশে থাকার কথা বলেন।অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত কর্মীদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।
 এছাড়াও গত ২৩শে অক্টোবর, মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত বনগাঁয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য এবং হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস। শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় ভারতমাতার ছবিতে মাল্যদান করে এবং প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে বনগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জয়নগরের গঙ্গাপুর গ্রামে এবছর লক্ষ্মী পূজা হলো না

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগর থানার অন্তর্গত গঙ্গাপুর গ্রাম। মাত্র কয়েকদিন আগেই দুর্গা পূজা উপলক্ষে আনন্দে মেতে উঠেছিল গোটা গ্রাম।কিন্তু দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের দিন ডিজে বাজানো নিয়ে পুলিসের সঙ্গে গন্ডগোলের পর রাতারাতি বদলে গিয়েছে ছবিটা। পুলিস গ্রামের বহু বাড়িতে ঢুকে নির্বিচারে ভাঙচুর চালিয়েছে; পুরুষ-কিশোর ও মহিলা সবাইকে ব্যাপক মারধর করা হয়েছে।এছাড়াও গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।এমতবস্থায় পুরো এলাকা থমথমে।এলাকার যুবকরা জেলে যাওয়ায় লক্ষী পুজো করার মন নেই কারওর।গ্রামের মধ্যে যুবকরা মিলে সর্বজনীন লক্ষী পূজা করতো প্রতি বছর।কিন্তু এবছর পুলিসি অত্যাচারের ভয়ে বহু যুবক গ্রামছাড়া হওয়ায় এবছর সর্বজনীন লক্ষীপূজা হচ্ছে না গ্রামে।এমনকি বহু গৃহস্থ বাড়িতে লক্ষীপূজা হলেও সেই আগের মতো জাঁকজমক আর আনন্দ নেই এইবছরে।

জাতীয় পতাকার অবমাননা করে গ্রেপ্তার হলেন মাধবডিহি থানার সিভিক ভলান্টিয়ার আব্দুল করিম সাহানা

জাতীয় পতাকা অবমাননা করার অভিযোগে মাধবডিহি থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম আব্দুল করিম সাহানা। বর্ধমান জেলার অন্তর্গত মাধবডিহি থানার সুবলদহ গ্রামে তার বাড়ি। গত ২১শে অক্টোবর, রবিবার দুপুরে বাড়ি থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। জাতীয় পতাকাটি পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিস জানিয়েছে, মাধবডিহি থানা এলাকায় জাতীয় পতাকার উপর বসে পেঁয়াজ কাটার একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। ৪০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপিংসটি দেখে এলাকার বাসিন্দারা ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় দোষীর শাস্তির দাবিতে সরব হন বহু মানুষ।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মাধবডিহি থানার এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাছে বিষয়টি জেনে ওসি দেবাশিস নাগ গ্রামে তদন্তে যান। সেখানে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে ওসি জানতে পারেন, ছবিটি আব্দুল করিম সাহানার। সিভিক ভলান্টিয়ার হয়েও কীভাবে জাতীয় পতাকার অবমাননা সে করল তা নিয়ে পুলিসের কাছে সরব হন এলাকার বাসিন্দারা। এরপরই আব্দুল করিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার কথা সে কবুল করে। পুলিসকে সে জানায়, ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে সুবলদহ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাপন পাকড়ের চায়ের দোকানে সে কয়েকজনের সঙ্গে ফিস্ট করেছিল। সেই সময় জাতীয় পতাকার উপর বসে সে পেঁয়াজ কাটে। সেই দৃশ্য কেউ মোবাইলে রেকর্ড করে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। পুলিস বাপনের সঙ্গে কথা বলে। তিনি পুলিসকে জানান, বিষয়টি দেখতে পেয়ে তৎক্ষণাৎ পেঁয়াজ কাটা বন্ধ করে জাতীয় পতাকা যত্ন করে তুলে রাখা হয়। আব্দুল করিমের হেফাজত থেকে জাতীয় পতাকাটি বাজেয়াপ্ত করেছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের দখল হয়ে যাওয়া জমি ফিরিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা

নির্বাচনের মুখে দাঁড়ানো বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছার বার্তা দিলেন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুজোয় ষষ্ঠীর দিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যান তিনি। আর সে দিনই দখল হয়ে যাওয়া মন্দির সংলগ্ন প্রায় ২৭ কাঠা জমি মন্দির কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদানের পরিমাণ ২১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করার কথাও ঘোষণা করেছে আওয়ামি লিগ সরকার।   বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু হিন্দুদের বঞ্চনা এবং অত্যাচারের দিকটি যখন বার বার আলোচনায় আসছে, তখন প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের আগে হিন্দু সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য নেওয়া  বলেই অনেকে মনে করছেন । ঢাকেশ্বরী মন্দিরের এই জমি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি ছিল বাংলাদেশের  সংখ্যালঘু হিন্দু  সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি। এই জমি এক সময়ে মন্দিরের অধীনে থাকলেও কালক্রমে দখল হয়ে যায়। সম্প্রতি শেখ হাসিনার নির্দেশে সরকার সে জমি দখলমুক্ত করে মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেছে।

ভারতে জালনোটের কারবারকে নিয়ন্ত্রণ করছে নব্য জেএমবি সদস্যরাই

মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে জাল নোট সহ ধৃত জঙ্গি রহিম শেখকে হাতে পেতে চায় ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জে নব্য জেএমবি’র জাল নোটের কারবারের হদিশ পেতেই রহিমকে পাওয়া প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই এ ব্যাপারে রাজ্য পুলিসের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ জেনেছে, নব্য জেএমবি সদস্যরাই এখন বাংলাদেশে জাল নোট তৈরির একাধিক কারখানা খুলেছে। ভারতে জাল নোটের কারবারকে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রাজ্যে এই সংগঠনের হয়ে কাজ করা জঙ্গিদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করছে নব্য জেএমবি-ই। অস্ত্র কেনার টাকা হাওলার মাধ্যমে এখান থেকেই তাদের কাছে যাচ্ছে। এই কাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিল রহিম শেখ।  জেলা পুলিসের কর্তারা রহিম শেখকে জেরা করে এখনও পর্যন্ত যেসব তথ্য পেয়েছেন, তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। এতদিন পর্যন্ত জেএমবি জঙ্গিরাই জাল নোটের কারবারকে নিয়ন্ত্রণ করত। কিন্তু এই সংগঠন ভেঙে যাওয়ার পর তার দখল নিয়েছে নব্য জেএমবি জঙ্গিরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জকে কেন্দ্র করেই গোটা কারবারটি নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এখানে একাধিক ইউনিট গড়ে তুলেছে নব্য জেএমবি। যার দেখভাল করছে এই সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নকল নোট ছাপা হচ্ছে। আসল নোটের সঙ্গে জাল নোটের ফারাক কমিয়ে আনার চেষ্টা হচ্ছে। অত্যন্ত ভালো মানের কাগজে জাল নোট ছাপা হচ্ছে। সেখানে কাজ করছে কয়েকশো যুবক। এই সংগঠনের সদস্যরাই সীমান্ত পেরিয়ে মালদহ ও মুর্শিদাবাদে তা নিয়ে আসছে। তারপর তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জে পুলিসের হাতে ধরা পড়ে রহিম শেখ। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রায় ৮ লক্ষ টাকার জাল ভারতীয় নোট। তার এক সহযোগীও ধরা পড়ে। কিন্তু রহিম শেখ যে বাংলাদেশি, তা প্রথমে জানা যায়নি। জেরায় জানা যায়, সে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে জাল নোট সহ ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা করা হয় (কেস নম্বর ২১৬/২০১৮)। তদন্তে জানা যায়, রহিম সাধারণ জাল নোটের কারবারি নয়। সে নব্য জেএমবি’র সক্রিয় সদস্য। তার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে একাধিক জেহাদি সীমান্ত পেরিয়ে এ দেশে ঢুকেছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক কারবারেও যুক্ত সে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করে এনআইএ। তারা জানতে পারে, রহিম বড় মাথা। এরপরই তাকে হাতে পেতে তোড়জোড় শুরু হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা রহিম শেখকে জেরা করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন।

এনআরসি-তে বিদেশী ঘোষণা, অবসাদে আত্মহত্যা করলেন আসামের দলগাওঁয়ের শিক্ষক নীরোদবরণ দাস

dorongপ্রকৃত ভারতীয় হয়েও নাম নেই নাগরিকপঞ্জীর খসড়া তালিকাতে। আর তার ফলেই দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন আসামের দরং জেলার দলগাওঁয়ের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাস। তার ওপর এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গেলে তাকে জানানো হয় যে তিনি বিদেশী। আর সেই মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করলেন তিনি। গতকাল ২১শে অক্টোবর, রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এনআরসি কতৃপক্ষের ভুলে আর একজন হিন্দু বাঙালিকে মরতে হলো বলে তার পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। তবে  এই ঘটনা আসামের বাঙালি হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরলো বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাঙালি দেশের নাগরিক হওয়া সত্বেও আতঙ্কে রয়েছেন। এই আতঙ্ক মোটেই অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বহু জেলার বিশেষ করে নিম্ন আসামের জেলাগুলির হিন্দু বাঙলিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন নীরোদবরণ দাস। তবে কোনোরকম মামলা ছাড়াই কিভাবে তাকে বিদেশী ঘোষণা করলেন এনআরসি কতৃপক্ষ,তা নিয়ে পরিবারের লোকেরা প্রশ্ন তুলেছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা নিয়ে আসামের হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে কোনো মামলা ছাড়াই বিদেশী ঘোষণা করা হলো নীরোদবরণ দাসকে, তা খতিয়ে দেখতে  দরং জেলার এসপি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।