চাইলেই পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল করতে পারে ভারত: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হংসরাজ

পাক-অধিৃকত কাশ্মীর যদি ভারত ছিনিয়ে নেয় তাহলে কারও ক্ষমতা নেই আটকানোর। হুঁশিয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী হংসরাজ আহিরের। তাঁর দাবি, আগের সরকারগুলির ‘গাফিলতি’র জন্যই আজ কাশ্মীরের একটি অংশ ইসলামাবাদের দখলে। এখন ভারত চাইলেই তা কেড়ে নিতে পারে। কেউ কিছু করতে পারবে না।

হংসরাজ আহিরের হুঁশিয়ারির কারণ ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লার বুধবারের মন্তব্য। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাশ্মীরের উরিতে একটি জনসভায় ফারুক আবদুল্লা বলেন, আর কতদিন আমরা বলব যে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অংশ? কেন্দ্রীয় সরকার দাবি করেছে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নেবে। আমিও বলছি, দয়া করে নিয়ে নিন। আমরাও দেখতে চাই। সত্যিটা হল, পাক-অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানেরই অংশ। তারা সেটা কোনওভাবেই ফেরত দেবে না। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানকে দুর্বল ভাবলে ভুল হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, পাকিস্তান হাতে চুড়ি পরে বসে নেই। তাদের কাছেও পরমাণু অস্ত্র আছে। যুদ্ধে নামার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে। একইসঙ্গে মনে রাখা দরকার, আমরা মানব সভ্যতার অংশ। কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে পাকিস্তানের হয়ে জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। শাসক দল বিজেপি তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে ‘ওকালতি’ করার অভিযোগ তুলেছে। বৃহস্পতিবার নাম না করে ফারুক আবদুল্লার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীও। নয়াদিল্লিতে তিনি বলেন, উনি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বলছি, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতেরই অংশ। পূর্বের সরকারগুলির ভুলের জন্যই কাশ্মীরের ওই অংশ আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। যদি আমরা ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করি, তাহলে কেউ আটকাতে পারবে না। কারণ, এটা আমাদের অধিকার। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে পাকিস্তানের কাছ থেকে কাশ্মীরের ওই অংশ ভারত ছিনিয়ে নিয়েই ছাড়বে।

Advertisements

অধিকৃত কাশ্মীর ফিরে পাওয়ার দাবি ছাড়ুক ভারত : ফারুক আবদুল্লা

pak-odhikrito Kashmirer dabi FAROOQABDULLAপাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের, এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বেফাঁস কথা বললেন ফারুক আবদুল্লা। উরির বারামুলায় দলীয় কর্মীদের সভায় তিনি বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের দাবি ছেড়ে তা ফিরে পাওয়ার লড়াই থামিয়ে দিক ভারত।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স সভাপতি বলেন, আর কতদিন আমরা বলতেই থাকব যে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর আমাদের? ওটা আমাদের পৈত্রিক জায়গা নয়। ওটা পাকিস্তান, আর এটা মানে জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের। ৭০ বছর কেটে যাওয়ার পরও ভারত পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফিরে পায়নি বলেও মন্তব্য করেন ফারুক। বলেন, এখন ওরা বলছে, ওটা আমাদের জায়গা। ভারত বলছে, ওটা আমাদের জায়গা। পাক অধিকৃত কাশ্মীর ফিরে পেতে হবে। আমরাও বলছি, পাকিস্তানের হাত থেকে কেড়ে নিতে হবে। আমরা সব দেখছি। ওরা কিন্তু দুর্বল নয়, চুড়ি পরে বসে নেই। ওদের হাতেও পরমাণু বোমা আছে। যুদ্ধের কথা ভাবার আগে আমাদের কিন্তু মনে রাখতে হবে, আমাদেরও বেঁচে থাকতে হবে

আসিয়ান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশংসিত রামায়ণ মহাকাব্যের সংগীতানুষ্ঠান

ashian sommelone prosongshito ramayan mohakabber songitanusthanগত ১৩ই নভেম্বর, সোমবার দু’দিনের আসিয়ান সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক এবং অভ্যাগতদের প্রশংসা পেল রামায়ণ মহাকাব্যের উপর একটি সংগীতানুষ্ঠান। ফিলিপিন্স এবং সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী একাধিক দেশের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক যোগাযোগের প্রতিফলন উঠে এসেছে এই অনবদ্য পরিবেশনায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেচিয়াং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশের একাধিক প্রতিনিধি এই অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মোদি ট্যুইট করে ‘রাম হরি’ শীর্ষক এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রশংসিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফিলিপিন্সে রাময়াণকে বলা হয় ‘মহারাদিয়া লয়ানা’, যার অর্থ রাজা রাবণ। এদিনের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কোরিওগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন ‘ব্যালে ফিলিপিন্স’-এর অ্যালিস রেয়েজ।

আরবের মাটিতে প্রবেশ যোগ-প্রাণায়ামের

araber matite yogaসৌদি আরবে মহিলাদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর এবার স্বীকৃতি পেল যোগ। যোগ-ব্যায়ামকে ক্রীড়া তালিকায় রেখে স্বীকৃতি দিয়েছে সৌদি আরবের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রক। শুধু তাই নয়, সরকারের তরফে এক নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যে কেউ যোগ প্রশিক্ষণ নিতে পারবেন। তিনি যোগ প্রশিক্ষণ দিতেও পারবেন। তবে যাঁরা প্রশিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত হবেন তাঁদের বৈধ লাইসেন্স থাকতে হবে। সৌদি আরবের প্রথম যোগ প্রশিক্ষক নউফ মারওয়াই দাবি করেন, যোগের কারণেই তিনি দুরারোগ্য ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। এরপর সৌদি সরকারের কাছে তিনি যোগ প্রশিক্ষণ দেওয়ার অনুমতি চান। কিন্তু তাঁর অবেদন একাধিকবার বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি রয়্যাল কাউন্সিলের কাছে আবেদন করেন। এরপর ক্রীড়ামন্ত্রকের এক বৈঠকে সৌদির রাজা মহিলাদের খেলাধূলোর বিষয়টির উপর নজর দেওয়ার নির্দেশ দেন। সেইমতো ক্রীড়ামন্ত্রক যোগকে খেলার তালিকাভুক্ত করে স্বীকৃতি দিল।

আট কিলো গাঁজাসহ বিমানবন্দরে ধৃত সরফরাজ আলম ও শেখ রাজু

গতকাল ১৫ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার আট কিলো গাঁজা সমেত কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দুই পাচারকারীকে ধরলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ কর্মীরা৷ তাঁদের দাবি, উদ্ধার হওয়া গাঁজার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা৷ ধৃতদের নাম সরফরাজ আলম ও শেখ রাজু৷ বিমানবন্দরের এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই গাঁজা নিয়ে আন্দামানের পোর্টব্লেয়ার যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের৷ সরফরাজ সেখানেই থাকে৷ শেখ রাজুর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের তালমুড়ে৷

কলেজ ছাত্রীকে চপার দিয়ে কোপানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার কাজী পাপ্পু শেখ

college chatrike chopper pappu sekhকলেজ ছাত্রী পাত্তা না দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কলেজ ছাত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপাল এক যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৫ই নভেম্বর, বুধবার সন্ধ্যায় মধ্যমগ্রামের বিবেকানন্দ নগর এলাকায়। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জখম ছাত্রীকে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ গতকাল ১৬ই নভেম্বর, বৃহস্পতিবার দেগঙ্গা থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারও করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম কাজি পাপ্পু শেখ । ধৃত যুবক জেরায় অপরাধের কথা কবুল করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই কলেজ ছাত্রীর বাড়ি দেগঙ্গার ইয়াজপুর এলাকায়। তিনি প্রথম বর্ষের কলেজ ছাত্রী। ইয়াজপুর এলাকাতেই পাপ্পুর বাড়ি। গত ১৮ জুলাই নিখোঁজ হয়ে যায় ওই ছাত্রী। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে পরদিন ১৯ জুলাই ছাত্রীর পরিবারের লোকজন দেগঙ্গা থানায় লিখিত জানান। বিষয়টি নিয়ে হইচই হতেই গত ২১ জুলাই এক ব্যক্তি ওই ছাত্রীকে থানায় দিয়ে যায়। পরে, জানা যায় ওই ব্যক্তি পাপ্পুর দাদা। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, পাপ্পু তাঁদের মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। জোর করে প্রেম করার চেষ্টা করত। পাপ্পুই তাঁকে অপহরণ করেছিল। পরে, জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ছাত্রীকে ফিরিয়ে দিয়েছে সে।

এদিকে, এই ঘটনার পর ছাত্রীর বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছিলেন। পুনরায় যাতে এই ঘটনা না ঘটে তার জন্য তাকে মধ্যমগ্রামের দিকবেড়িয়া এলাকায় মাসির বাড়িতে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকেই সে পড়াশোনা করছিলো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় সে টিউশন পড়ে মাসির বাড়ির দিকে ফিরছিলো। তার সঙ্গে এক বান্ধবীও ছিলো। অভিযোগ, বিবেকানন্দ নগর এলাকায় হঠাৎ পাপ্পু এসে হাজির হয়। সে তাদের পথ আটকায়। ওই কলেজ ছাত্রী তাকে সরে যেতে বলে। তারপরই আচমকা সে ধারালো অস্ত্র বের করে ওই ছাত্রীকে এলোপাথাড়ি কোপায়। সে এবং তার বান্ধবী বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকারও করে। অস্ত্রের আঘাতে ওই ছাত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তারপরই ওই যুবক দৌড়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে, চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। তাঁরা রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে মধ্যমগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। কিন্তু, অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পাপ্পুকে দেগঙ্গার সোহাই-শ্বেতপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেরায় সে পুলিশের কাছে দাবি করেছে, সে অপহরণ করেনি। সম্প্রতি, ওই ছাত্রী তাকে পাত্তা না দিয়ে অন্য এক ছাত্রের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলো। সেই রাগেই সে তাকে খুন করার জন্য এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। যদিও সে সত্যি বলছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছি। সে অপরাধ কবুল করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রণয়ঘটিত কারণে এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নাবালিকাকে ধর্ষণ : অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে রুক্মিণী(নাম পরিবর্তিত) পোদ্দার (বয়স-৪, পিতা-বিপিন পোদ্দার)-কে ধর্ষণ করল এলাকারই যুবক জুমরাতি। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া জেলার ডোমজুড় অঞ্চলের উত্তর ঝাপড়দহ গ্রামে।

সূত্রের খবর, গত ১৪ই নভেম্বর বিপিনবাবু ও তার স্ত্রী যখন বাড়ি ছিলেন না তখন এলাকার যুবক জুমরাতি তাদের বাড়ি আসে। বিপিনবাবুর বড়ো মেয়ে স্কুলে গিয়েছিল। বাড়িতে ছিল ছোট্ট রুক্মিণী ও তার বোন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নরপশু জুমরাতি রুক্মিনীকে ধর্ষণ করে। মেয়েটি যন্ত্রণায় চিৎকার করলে অভিযুক্ত তাকে ফেলে পালায়। বাবা-মা ফিরে এলে রুক্মিণী তাদের সব কথা বলে। ডোমজুড় থানায় অপরাধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে থানা কোনো অভিযোগ নিতে চায় নি বলে রুক্মিনীর বাবা বিপিনবাবু জানান। এরপর তিনি এলাকার হিন্দু সংহতির সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংহতি কর্মীরা আসরে নামে। তাদের চাপে অভিযুক্ত জুমরাতির বিরুদ্ধে ডোমজুড় থানা একটি এফ.আই.আর. দায়ের করে এবং ওই দিন রাতেই দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরদিন হাওড়া কোর্টে তুললে অভিযুক্তকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারপতি। বিপিন বাবুর দাবি, যেভাবে তার নাবালিকা কন্যার ওপর অত্যাচার করা হয়েছে তাতে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তিনি চান।

এখন জালনোট ছাপা হচ্ছে মালদহে, ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সারাদেশে

akhono jal note maldaসীমান্তে কড়াকড়ি। ওপার থেকে জাল নোট আমদানির বিশেষ ঝুঁকি নেওয়া যাচ্ছে না। তাই এপারেই মালদহের কয়েকটি জায়গায় জাল নোট ছাপানোর কারখানা গজিয়ে উঠেছে। তারপর তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন রাজ্যে। হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকা থেকে ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট উদ্ধারের পর এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে। জাল নোট পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে চারজনকে। বিশেষ সূত্র মারফত খবর পেয়ে হাওড়া স্টেশন লাগোয়া একটি হোটেলে এনআইএ এবং গোলাবাড়ি থানার পুলিশ মঙ্গলবার রাতে যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে এই সাফল্য পায়। নোট অন্য রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই ধৃতরা এখানে এসেছিল বলে খবর।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তারা কিছুদিন ধরেই জানতে পারছিলেন, হাওড়া স্টেশন দিয়ে জাল নোট বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। মালদহের জাল নোটের কারবারিরাই এখানে আসছে। এজেন্টরা এখান থেকে নোট সংগ্রহ করছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে তাঁরা আলাদা করে খোঁজখবর শুরু করেন। একইসঙ্গে গোলাবাড়ি থানাকেও বিষয়টি জানানো হয়। তারা এনআইএ’র সঙ্গে কাজ শুরু করে। তদন্তকারী দলের সদস্যদের কাছে খবর আসে, মালদহের ইংলিশবাজারের সাততারি গ্রামের চার বাসিন্দা এই কাজে জড়িত। তারাই ঘরে অফসেট মেশিন বসিয়ে জাল নোট তৈরি করছে। বাংলাদেশ থেকে নোট তৈরির কাগজ তারা নিয়ে আসছে। ওই চারজনের উপরই নজরদারি শুরু হয়। জোগাড় করা হয় তাদের ফোন নম্বর। সেই ফোনে আঁড়ি পেতেই জানা যায়, মঙ্গলবার তারা হাওড়ায় আসছে। সেখানকার একটি হোটেলে উঠবে। তাদের সঙ্গে দেখা করার কথা কয়েকজন জাল নোট কারবারির। মালদহ থেকে আসা ওই নোট কারবারিদের সঙ্গে রয়েছে মোটা অঙ্কের জাল নোট। এরপর রাতেই গোলাবাড়ি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে হাওড়া স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকেই ধরা হয় বক্তার আনসারি, উৎপল চৌধুরি, ফইজুল মিঞা ও রাজ্জুল মিঞাকে। তল্লাশি চালিয়ে তাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় ৯ লক্ষ টাকার জাল নোট। সবগুলি দু’হাজারের নোট বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, এর আগে এরা মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে কলকাতায় এসেছে। তা পৌঁছে দিয়েছে উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। ধৃতদের নিয়মিত বাংলাদেশে যাতায়াতও ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারদের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলি অফসেটে ছাপা হয়েছে। সেই কারণে গুণগত মান কিছুটা খারাপ। ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তে এখন কিছুটা কড়াকড়ি চলছে। সীমান্ত পেরিয়ে নকল নোট এলেও তার জোগান কিছুটা কম। সেই ঘাটতি তারা মেটাতে চাইছে অফসেট মেশিনে জাল নোট তৈরির মাধ্যমে। কাগজ ও কালি বাংলাদেশ থেকেই আসছে। তা দিয়েই মালদহের বিভিন্ন জায়গায় এই নোট তৈরি করা হচ্ছে। এই নোট তৈরিতে খরচ কিছুটা হলেও কম পড়ছে। ওপার বাংলা থেকে আসা জাল নোটের বান্ডিলেও এই নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে কারও কোনও সন্দেহ না হয় এবং সহজেই মার্কেটে চালিয়ে দেওয়া যায়। এই কৌশলে ইতিমধ্যেই বিপুল পরিমাণ নোট এই রাজ্যসহ দেশের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। তাদের জেরা করে এই কারবারে যুক্ত আরও কয়েকজনের নাম হাতে এসেছে তদন্তকারী অফিসারদের। তাদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে চাই হিন্দু বা খ্রিস্টান আধিকারিক, দাবি পাকিস্তানের আইনমন্ত্রীর

nirapottar daitte hindu ba christian pakistanনিরাপত্তার দায়িত্বে চাই অমুসলিম নিরাপত্তা আধিকারিক। সম্প্রতি এমন অবাক করা দাবি করেছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ। মন্ত্রীমশাইয়ের দাবি, তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়েছে ইসলামি চরমপন্থীরা। তাই মুসলিম নিরাপত্তা আধিকারিকদের বলয়ে নিজেকে সুরক্ষিত মনে করছেন না তিনি। যদিও, সানাউল্লার দাবি এখনও মানেনি সরকার। সপ্তাহ কয়েক আগে এক টিভি সাক্ষাৎকারে সানাউল্লাহ দাবি করেন, মুসলিম ও আহমদিদের মধ্যে ফারাক আছে। এতেই ক্ষেপে ওঠে পাকিস্তানের চরমপন্থী মুসলিমরা। বেশ কয়েকদিন ধরে সানাউল্লাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে ইসলামি চরমপন্থী সংগঠন। এর পরই নিজের নিরাপত্তায় অমুসলিম আধিকারিক নিয়োগের দাবি জানান তিনি। যদিও তাঁর দাবি এখনো মানেনি স্থানীয় প্রশাসন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে সানাউল্লার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের ইতিহাস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সানাউল্লার দাবি, তাঁকে হিন্দু, খ্রিস্টান, আহমদি পুলিশ আধিকারিকদের তালিকা দিতে হবে পুলিশ সুপারকে। পুলিশ তাঁকে পছন্দসই নিরাপত্তারক্ষী না দেওয়ায় বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি।

কুম্ভ মেলা এবং ত্রিশূর পুরমের মেলায় হিন্দু গণহত্যার হুমকি দিলো ইসলামিক স্টেট

ভারতের আকাশে ঘনাচ্ছে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার মেঘ। মাসদেড়েক আগে জঙ্গি সংগঠন আইএসের হানায় রক্তাক্ত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাস। সেই হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এবার ভারতজুড়ে হামলার হুমকি দিল আইএস। মালয়লাম ভাষায় একটি অডিও টেপ প্রকাশ করে হামলার হুমকি দিয়েছে ওই জঙ্গি সংগঠন। ১০ মিনিট দীর্ঘ ওই অডিও টেপে লাস ভেগাসের ধাঁচে ভারতে হামলা চালানোর কথা বলা হয়েছে। শুধু হামলার হুমকিই নয়, নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে লক্ষ্যও। কুম্ভমেলা এবং ত্রিশূর পুরমের মতো যেসব উৎসবে প্রচুর মানুষ ভিড় জমান, সেগুলিকেই হামলা চালানোর জন্য বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই অডিও বার্তাটিতে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভারতেও নিজেদের জাল ছড়িয়ে হামলা চালাতে সচেষ্ট আইএস। তবে হামলা চালানোর জন্য দল গড়ার বদলে ব্যক্তিবিশেষের মাধ্যমে উদ্দেশ্য সাধনই লক্ষ্য এই জঙ্গি সংগঠনের। কোরানকে উদ্ধৃত করে পুরুষ কন্ঠের মালয়লাম ওই অডিও টেপটির বক্তব্যেও সেই পরিকল্পনার ছক স্পষ্ট। চলতি বছরের ১ অক্টোবর এক আইএস জঙ্গি লাস ভেগাসে ভিড়ে ঠাসা মিউজিক কনসার্টে বন্দুক নিয়ে হামলা চালায়। ওই মিউজিক ফেস্টিভ্যালে হাজির হয়েছিলেন প্রায় ২২ হাজার মানুষ। আইএস জঙ্গির এলোপাথাড়ি ছোঁড়া গুলিতে মৃত্যু হয় ৫৮ জনের। জখম হন প্রায় ৫৪৬ জন। সেই হামলার ঘটনার উল্লেখ করে অডিও টেপটিতে সাধারণ মানুষকে হত্যা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অডিওটিতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের বুদ্ধি প্রয়োগ কর। খাবারে বিষ মিশিয়ে দাও। ট্রাক ব্যবহার কর। ত্রিশূর পুরম বা কুম্ভমেলায় তাঁদের উপর দিয়ে তা চালিয়ে দাও। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আইএস মুজাহিদিনরা এভাবে হামলা চালাচ্ছে। লাস ভেগাসে একটি মিউজিক কনসার্টে আমাদের এক সমর্থক বহু মানুষকে হত্যা করেছে। তোমরা অন্তত একটি ট্রেনকে লাইনচ্যুত করার চেষ্টা কর। অথবা ছুরি ব্যবহার কর।’ গোয়েন্দাদের অনুমান, আইএসের শাখা দৌলতউল ইসলামের মাধ্যমে ৫০তম এই অডিও বার্তাটি ছড়ানো হয়েছে। অডিও টেপটিতে ওই পুরুষ কন্ঠটি আরও বলেছে, ‘প্রার্থনা এবং চেষ্টার পরেও যদি তোমরা তা না করতে পার, তবে দৌলতউল ইসলাম এবং আইএসের তরফে তোমাদের আর্থিক সাহায্য করা হবে।’

কেরল পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তানের কোনও একটি জায়গা থেকে টেলিগ্রাম মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এই অডিও বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের অনুমান, অডিও টেপটিতে যে পুরুষ কন্ঠটি রয়েছে, তা কাসারাগডের আইএস শাখার নেতা রশিদ আবদুল্লার। প্রসঙ্গত, গত বছর মুম্বই থেকে স্ত্রী-পুত্রসমেত নিখোঁজ হয়ে যায় রশিদ আবদুল্লা। ছেলের খোঁজ পেতে পুলিশের দ্বারস্থ হয় তার বাবা। এরপরেই এই আইএস জঙ্গি নেতার বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ’র দায়ের করা মামলার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। জানা গিয়েছে, রশিদ আবদুল্লার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি মোতাবেক চার্জশিট পেশ করেছে এনআইএ। তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করেছে ইন্টারপোলও। ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে এই অডিও বার্তাটি বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে নজরদারিও। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে কেরল পুলিও। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ৩০০টিরও বেশি ভয়েস ক্লিপ জোগাড় করে সেগুলি বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। আরও জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এই রাজ্য থেকে অন্তত ১০০ জন আইএস জঙ্গিগোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এদিকে, অডিও ক্লিপটি প্রকাশ্যে আসার পরে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েটের প্রাক্তন স্পেশ্যাল ডিরেক্টর ভি বালাচন্দ্রন জানান, ইউরোপ ও আরব দুনিয়ার পর এবার ভারতে তারা হামলা চালাতে চাইছে। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কেরলের ডিজিপি লোকনাথ বেহারা।

ভারতের জনচরিত্রের পরিবর্তন – একটি সমীক্ষা

প্রাককথন

আমরা আমাদের আগের বেশ কয়েকটি প্রবন্ধে ভারতের জনসংখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পর্যায়ে আমরা উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখন্ড (১), পশ্চিমবঙ্গ (২), আসাম (৩), কেরালা (৪), জম্মু ও কাশ্মীর (৫), হিন্দি বলয়ের বিক্ষিপ্ত এলাকা (৬) এবং মধ্য ভারতের আদিবাসীবহুল এলাকায় (৭) ক্রমহ্রাসমান ভারতীয় জনসংখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। গত আগস্ট মাসে, প্রফেসর শাশ্বতী সরকারের দেয়া ভাষণের উপর ভিত্তি করে আমরা জনসংখ্যার পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যান্য পরিবর্তন এবং তার ফলাফল, সম্ভাব্য কারণ, সমাধান এবং সমাধানের অযোগ্য (৮) বিষয় নিয়েও আলোচনা করবো। এই লেখায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে নিউ ইয়র্কে প্রফেসর শাশ্বতী সরকারের ভাষণের উপর ভিত্তি করে, আমরা ভারতের জনসংখ্যার বয়স ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়েও আলোচনা করবো। এই প্রবন্ধে আমরা মূলত পর্যালোচনা করবো যে কিভাবে ভারতীয় জনসংখ্যার (যাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিস্থাপন ভারতীয় উপমহাদেশে হয়েছে। যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং বিবিধ আদিবাসী সমাজ) তরুণ প্রজন্ম ভারতের বিভিন্ন স্থানে হ্রাস পাচ্ছে এবং তার সাথে আমরা নতুন প্রজন্মের (০-৪ বছর) সাথে পুরনো প্রজন্মের (৬৫-৬৯ বছর) তুলনামূলক আলোচনাও করবো। আমরা সেই এলাকাগুলিকে পরীক্ষা করবো যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বড় শহরগুলির, যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে, তরুণ জনসংখ্যার সাম্প্রদায়িক চরিত্রের প্রতিও আমরা নজর দেবো। জনসংখ্যায় তরুণ ও প্রবীনদের সংখ্যার অনুপাত আগামীদিনে জনসংখ্যার গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে। আমরা বিশেষক্ষেত্রগুলি এবং তার সাথে নতুন প্রজন্মের ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাসের কারণ নিয়েও আলোচনা করবো। সবশেষে আমরা ভারতের গ্রাম ও শহরের তুলনামূলক আলোচনা করবো যাতে দূর্বল জায়গাগুলি এবং পরিবর্তনের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত হতে পারি।

পূর্বস্থিতি

১৮৭২ (প্রথম জনসংখ্যা নির্ণয়ের সময়) থেকে ২০১১ (সর্বশেষ জনসংখ্যা নির্ণয়) সালের মধ্যে অবিভক্ত ভারতে ভারতীয় জনসংখ্যা ৭৯% থেকে কমে ৬৬% হয়েছে (৮)। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে ১৮৭২ থেকে প্রতি দশকেই ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে আসছে। নীচের গ্রাফগুলিতে ১৮৮১ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত জনসংখ্যার দশক অনুযায়ী পার্থক্য দেখা যাবে। দেশভাগ হয়েছিল যখন মোট জনসংখ্যার ৭৩% ভারতীয় জনসংখ্যা ছিল। একই সময়ে, অর্থ্যাত ১৮৮১ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে, মুসলিম ও খ্রীস্টান জনসংখ্যা যথাক্রমে ১৯.৯% থেকে ২৪.৩% এবং ০.৭% থেকে ১.৮% হয়েছে। ১৮৭২ সালে কেবল উত্তর পূর্ব সীমান্ত রাজ্য, জম্মু ও কাশ্মীর, বালুচিস্তান এবং সিন্ধ এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা সংখ্যালঘু ছিল। বাংলা ও পাঞ্জাবে ভারতীয় জনসংখ্যাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।

graph1graph 2

সাথে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ইসলাম ও খ্রীস্টান জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ভারতীয় জনসংখ্যার হ্রাস মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলনা। দেশভাগের পরে, পশ্চিম পাকিস্তান প্রায় হিন্দু শূণ্য হয়ে যায় আর পূর্ব পাকিস্তানেও হিন্দু সংখ্যা প্রভূত কমে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে ভারতীয় জনসংখ্যা, ১৯৪১ সালে যা ১৯.৭% ছিল, সেটা ২% হয়ে যায় ২০১১ সালে (পাকিস্তানে শেষ জনগণনা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে আর এই সংখ্যা সেই গণণার উপর ভিত্তি করেই পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে নতুন জনগণণার নির্দেশ জারী করা হয়েছে তবে তার সম্পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি)। পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভারতীয় জনসংখ্যা ১৯৪১ সালের ২৯৫ থেকে কমে ২০১১ সালে ৮.৯% হয়েছে (৮)। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় জনসংখ্যার অনুপাত ১৯৫১ সালের ৮৭.২ থেকে কমে ২০১১ সালে ৮৩.২% হয়েছে। ফলতঃ, এই প্রবন্ধে আমরা উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো যে ভারতের কোথায় ভারতীয় জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে এবং কোথায় পেতে চলেছে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। আমরা, প্রথমত, দেশজুড়ে জনসংখ্যার হ্রাস এবং তার বিপদ নিয়ে আলোচনা করবো।আমরা সেইসব এলাকার, গ্রাম ও শহর আলাদাভাবে, বয়স অনুযায়ী জনসংখ্যা নিয়েও আলোচনা করবো। এছাড়াও আমরা উল্লেখযোগ্য বড় শহরগুলির জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করবো।

চিহ্নিতকরণ

আমাদের এই লেখায় আমরা মানচিত্রে দেয়া বিভিন্ন রঙ দিয়ে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি বুঝাতে চেয়েছি। মানচিত্রে পরিপুর্ণ ভারতীয় জনসংখ্যা বুঝাতে আমরা ব্যবহার করেছি –

১.  ৬০%+ ভারতীয় – সাদা

২.  ৫০-৬০% ভারতীয় – হালকা সবুজ

৩.  ২০-৫০% ভারতীয় – গাঢ় সবুজ

৪.  <২০% ভারতীয় – লাল

মানচিত্রে প্রবীন (৬৫-৬৯) এবং নবীন (০-৪) বয়সের জনসংখ্যার পার্থক্য বুঝাতে নিম্নলিখিত রঙ ব্যবহার করেছি –

১.  ভারতীয়দের সদর্থক পরিবর্তন – গেরুয়া

২.  ০-৫% ভারতীয় হ্রাস – সাদা

৩.  ৫-১০% ভারতীয় হ্রাস – হালকা সবুজ

৪.  ১০-১৫% ভারতীয় হ্রাস – সবুজ

৫.  ১৫-২০% ভারতীয় হ্রাস – গাঢ় সবুজ

৬.  ২০%+ ভারতীয় হ্রাস – লাল

ম্যাপ – জেলা অনুযায়ী ভারতীয় জনসংখ্যার চুড়ান্ত ভাগ।

map1 map2 map3

ম্যাপ – সম্প্রদায়গত জনসংখ্যার বয়সানুপাতিক পরিবর্তনের ডাইনামিক রূপ।

উপরে দেয়া মানচিত্রে এটা স্পষ্ট যে বহু এলাকাতেই নবীন ও প্রবীনদের ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। উত্তর পূর্ব এলাকা এবং কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় ভারতীয় জনসংখ্যা শূণ্য হয়ে গেছে তাই এইসব এলাকায় প্রবীন ও নবীনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পরছেনা।

এই মানচিত্রে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যার ৬৫-৬৯ বছর এবং ০-৪ বছরের চুড়ান্ত রূপরেখার সাথে সাথে আমরা দেশজুড়ে তাদের পরিবর্তনেরও উল্লেখ করবো।

এই লেখায় ব্যবহৃত সব তথ্যই বিভিন্ন জেলার ২০১১ সালের জনগণণার সময় প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

ম্যাপ – জেলা অনুসারে প্রবীন (৬৫-৬৯) ও নবীন (০-৪) প্রজন্মের ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন।

map4

পরবর্তী বক্তব্যে যাওয়ার আগে একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে ,১) গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, উত্তর পূর্ব ঝাড়খন্ড বা ছত্তিশগড়ের কিছু এলাকায় যেটুকু বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তার মাত্রা খুবই কম। কেবলমাত্র গোয়াতে কিছুমাত্র সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে আর সেটাও হয়েছে প্রধানত মহারাষ্ট্র আর কর্ণাটক থেকে হিন্দুদের পুনর্বাসনের জন্যে। তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে যে কোন জায়গাতেই প্রবীন ও নবীনদের পরিবর্তন ৫%-এর বেশী নয়।

আরেকটা বিষয় হল যে, পাকিস্তানের সীমা বরাবর, জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে, একমাত্র গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলেই ভারতীয় জনসংখ্যা ৫ শতাংশের বেশী হারে কমেছে। কচ্ছের গ্রামাঞ্চলে এই পার্থক্য >১০% যেখানে প্রবীনদের সংখ্যা ৮১.৮৭% থেকে নবীনদের জনসংখ্যা ৭১.০৪%। এই হ্রাসের অনুপাত সীমা সুরক্ষার জন্যে খুবই আশঙ্কাজনক।

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে ভারতীয় জনসংখ্যা মূলত সাতটি অঞ্চলে হ্রাস পাচ্ছে –

১. পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, মেয়ট এবং শেখায়তি

২. বাংলাদেশ সীমান্ত

৩. মালাবার, কানাড়া এবং কুর্গ

৪. অরুণাচল প্রদেশ

৫. জম্মু

৬. ওড়িশার উপজাতিবহুল এলাকা

৭. মণিপুরের উপত্যকা

এই এলাকাগুলি ছাড়াও মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বহির্ভাগে ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় শূণ্য হয়ে গেছে। মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বহির্ভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে যেটুকু সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সেটা বাস্তবে প্রতীকী যেহেতু সেই জায়গাগুলি বাস্তবে ভারতীয় জনসংখ্যা নেই বললেই চলে। নিকোবর দ্বীপের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। লাদাখ এলাকায় যেটুকু সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সেটা কৃত্তিম, প্রাক্তন সেনাদের (বিএসএফ, আর্মি, আইটিবিপি) বিপুল সংখ্যায় জমায়েত এলাকার মানচিত্রে ভারতীয় জনসংখ্যার সদর্থক রূপ প্রকাশ করছে। যদিও আসল ঘটনা হল যে লাদাখে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের (যারা এই অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার মূল ধারা) সংখ্যা ক্রমাগত কমছে (৫)।

আমরা এই সবকটি এলাকার গ্রাম ও শহরের পরিবর্তনের কথা এবার বিশদে আলোচনা করবো।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, মেরট এবং শেখায়তি

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে, উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর, মেরট, বাগপথ, হাপুর ও গাজিয়াবাদ নিয়ে গঠিত দোয়াবের উত্তরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। (এই সবকটি জেলাই ২০১১ সালের জনগণণার সময় বর্তমান ছিল। সামলির মত সদ্যগঠিত জেলার ক্ষেত্রে ২০১১ সালে তার পূর্বতন জেলার রেকর্ড দেখতে হবে)। রোহিলখন্ড, মথুরা এবং আলিগড়ের মত জেলাগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

map5  map6

ম্যাপ – উত্তরাখন্ড, শহর এবং গ্রাম।

সাহারনপুর, মেরট, মুজাফফরপুর ও বাগপথের শহরাঞ্চলে এবং গাজিয়াবাদ, মেরট, মুজাফফরপুর ও বাগপথের গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল যে গাজিয়াবাদ ও বাগপথ এখনও হিন্দুদের গড় হলেও (যথাক্রমে ৭৩.৮৫% এবং ৭১.৭%), এই এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। রোহিলখন্ড, আলিগড়, বুলন্দশহর এবং হাতরাসের শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। বাস্তবে, উত্তর দোয়াব এবং রোহিলখন্ডের শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু।

uttarpradesh map formation

উপরের তালিকা থেকে বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট, যেমন –

. সাহারনপুর, মুজাফফরনগর, মেরট, গাজিয়াবাদ এবং বাগপথ সম্মীলিত উত্তর দোয়াবের শহর ও গ্রাম, উভয় স্থানেই, হিন্দুর সংখ্যা দ্রুত কমছে। সাহারনপুরের গ্রামাঞ্চলে প্রবীন ও নবীনদের পার্থক্য সর্বাধিক ২১% আর সর্বোনিম্ন ১৪.৭৫%। এমতাবস্থায়, এই এলাকাতে হিন্দু জনসংখ্যা শুধু কমছে বললে সেটা সত্যের অপলাপ হবে।

 . রোহিলখন্ডের (জ্যোতিবা ফুলে নগর, বেরেলী, বিজনোর, মোরাদাবাদ এবং রামপুর) শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা হয় ইতিমধ্যেই ভগ্নাংশে পরিণত হয়েছে (জ্যোতিবা ফুলে নগর, বিজনোর, এবং রামপুর) অথবা হতে চলেছে (বেরেলী ও মোরাদাবাদ) যেখানে পার্থক্য ১০ শতাংশের বেশী। এই এলাকার গ্রামাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে, বিজনোরে ১২.০৪%, জ্যোতিবা ফুলে নগর ৮.৭২% এবং মোরাদাবাদে ৯.০৭%। রামপুর গ্রামীন এলাকার জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই সর্বোনীম্ন স্তরে (৫৮.২২%) পৌছে গেছে এবং প্রবীন ও নবীনদের পার্থক্য ৫% হারে বাড়ছে। এমনকি বেরেলীর মত স্থান, যেখানে ভারতীয়দের অবস্থা সবচেয়ে ভাল, সেখানেও প্রবীন ও নবীনদের মধ্যে পার্থক্যে ভারতীয় জনসংখ্যা ৫% করে জমি হারাচ্ছে।

. আলীগড় ও বুলন্দশহর সম্মীলিত উত্তর দোয়াবের শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুত কমছে। আলিগড়ের ক্ষেত্রে এই হার ১০.০৬% আর বুলন্দশহরের ক্ষেত্রে ১২.৮২%। এই এলাকার গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল যদিও সেখানেও এই প্রবীন ও নবীনদের হার যথাক্রমে ৫.১৭% ও ৪%

দক্ষিণ উত্তরাখন্ড

 map7  map8

ম্যাপ – দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, শহর ও গ্রাম

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে হরিদ্বারের মত এলাকার শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। শহীদ উধম সিং নগরের মত স্থানেও ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার ঘটনাকে উপেক্ষা করা যায়না। নীচের তালিকাতে আমরা প্রকৃত সংখ্যা ও সম্ভাব্য পরিণতির উল্লেখ করা হয়েছে।

uttarakhand map formation

উপরের তালিকা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে উত্তর দোয়াব ও রোহিলখন্ড সংলগ্ন উত্তরাখন্ডে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে এবং হরিদ্বারে রীতিমত ভেঙে পরেছে। নৈনিতালের অবস্থাও হরিদ্বারের মত এবং দেরাদূনের শহরাঞ্চলেও অবস্থা কিছুমাত্র ভাল নয়। উত্তর দোয়াব ও রোহিলখন্ডের মুসলিম বেল্ট উত্তরদিকে এগোতে এগোতে কুমায়ুন ও গাড়োয়ালের শহরাঞ্চলকেও ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে।

মেরট এবং শেখায়তি

map9  map10

map11 map12

মেরঠ ও শেখায়তির ভৌগলিক অবস্থান পাশাপাশি হলেও মুসলিম জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এদের সাদৃশ্য প্রায় নেই বললেই চলে। মেয়ঠ অঞ্চলের  (মেরঠ, হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলা এবং রাজস্থানের ভরতপুর ও আলওয়ার জেলা) গ্রামগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে যেহেতু অধিকাংশ মেও মুসলিম গ্রামের অধিবাসী। যদিও, সত্যি কথা বলতে গেলে, ফরিদাবাদ, আলওয়ার ও ভরতপুরের মাত্র কিছু অংশই মেয়ঠের সাথে সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত কিন্তু যেহেতু আমাদের কাছে বয়সের উপজেলাভিত্তিক জনসংখ্যার তথ্য নেই তাই আমরা ফরিদাবাদ, আলওয়ার ও ভরতপুরকে মেয়ঠ অঞ্চলের সাথে যোগ করেছি। অন্যদিকে, শেখায়তি এলাকার মুসলিম জনসংখ্যার একটা বড় অংশ সেই অঞ্চলে অধিষ্ঠিত শহুরে ব্যবসায়ী ও অন্যান্য শিল্পীদের দ্বারা গঠিত। যেহেতু এলাকা দুটি পাশাপাশি অবস্থিত তাই আমরা তাদের একই অংশে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

 mewat and shekhawati tableমেরটের গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় মুছে গেছে। শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে যা প্রমান করে যে শহরের হিন্দুরা গ্রামাঞ্চলের মধ্যেও মুসলমানদের চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে। মেরঠের অন্য তিনটি জেলায়, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন মুলত গ্রামীণ, যা বোঝায় যে হিন্দুরা গ্রামীণ ফরিদাবাদ (বর্তমান পলয়াল জেলা সমেত), আলওয়ার ও ভরতপুর এলাকাতে খুব দ্রুত জমি হারাচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এই জেলাগুলিতে, পূর্ববর্তী প্রজন্মে হিন্দু জনসংখ্যা ৮৫%-র বেশী ছিল। আর তাই এই পতন বেশ উল্লেখযোগ্য এবং এই এলাকার হিন্দুদের জন্যে অশুভ ইঙ্গিতবাহী।

অন্যদিকে, শেখায়তি অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার পতন প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। গ্রামীণ এলাকায় হিন্দুরা প্রধানত ৯০ শতাংশের বেশী এবং কোথাও ৪%-এর বেশী অনুপাতে কমছেনা। যদিও শেখায়তির তিনটি জেলার গ্রামাঞ্চলে হিন্দুদের পতনের হার ১২% থেকে ১৫%-এর মধ্যে। এটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

 বাংলাদেশ সীমান্ত

 বিহার

map13  map14

বিহারের প্রধানত উত্তর পূর্ব কোনে জনসংখ্যার ভারসাম্যগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যা ধীরে ধীরে মিথিলার, নেপাল সংলগ্ন, অঞ্চলেও ছড়িয়ে পরছে কিন্তু আপাতত সর্বাধিক প্রভাবিত এলাকা হল উত্তর পূর্ব বিহারের (সীমাঞ্চল) কিষনগঞ্জ, আড়া, পূর্ণিয়া এবং কাটিহার জেলা। জেলাগুলির শহর ও গ্রাম, উভয়ের জনসংখ্যাই ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নীচের তালিকা দেখলে পরিবর্তন বোঝা যাবে।

bihar map tableউপরের মানচিত্র আর তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে কিষণগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় মুছে গেছে এবং শহরাঞ্চলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। আড়া, পূর্ণিয়া আর কাটিহারের গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা বেশ ভাল মাত্রায় হ্রাস পেলেও শহরাঞ্চলে এখনও তারাই সংখ্যাধিক। এটা বাংলাদেশ সংলগ্ন সবকটি যায়গার চরিত্রগত বৈশিষ্ট যেহেতু অধিকাংশ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী গ্রামাঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে পছন্দ করে যাতে সেই এলাকার সরকারি ও খালি জমিতে মৌরুসিপাট্টা বসাতে পারে।

ঝাড়খণ্ড

map15  map16

বিহারের সীমাঞ্চলের মত ঝাড়খন্ডের সাঁওতাল পরগণারও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। বিপুল সংখ্যায় অবৈধ বাংলাদেশীদের আগমনের ফলে সীমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শীদাবাদবীরভূম সন্নিহিত এলাকাগুলির খাস জমি আজ বেদখল হয়ে গেছে।

উপরের তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে সাহেবগঞ্জ, পাকুর এবং গোড্ডার শহরের জনসংখ্যা এবং সাহেবগঞ্জ, দেওঘর ও জামতাড়ার গ্রামীন জনসংখ্যা চরম অবনতি ঘটছে। আমাদের ধারণা যে এটা বিভিন্ন জেলায় শিল্পায়নের প্রভাব। পাকুরের গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ বেশী তাই সেখানে অবৈধ বাংলাদেশীদের দ্বারা জমি দখল করার সম্ভাবনা কম। জামতাড়া, দেওঘর বা গোড্ডার মত এলাকা, যেখানে কৃষিকাজ তুলনামূলক কম আর খালি জমির পরিমান বেশী, সেখানে বাংলাদেশীরা সহজেই কব্জা জমাচ্ছে। গোড্ডা, পাকুর ও সাহেবগঞ্জে গড়ে ওঠা শিল্পগুলিতে, কমদামি শ্রমিকের যোগান দিচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশীরা।

 পশ্চিমবঙ্গ

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের অনেকটা অংশই পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আর পশ্চিমবঙ্গে মূল বাসিন্দাদের স্বার্থরক্ষা করার, মেঘালয় ও মিজোরামের মত, কোন আইন না থাকার ফলে এই রাজ্য অবৈধ বাংলাদেশীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আমরা এর পরিণতি পর্যালোচনা করবো।

 

 map17   map18

উপরের মানচিত্রটি এক ঝলক দেখলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে হিন্দু জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। এর সাথে যদি শহরাঞ্চলের হিন্দুদের কর্মসূত্রে অন্যরাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা যোগ করা তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নীচের তালিকায় আমরা জেলাগুলির পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরছি।

 westbengal table formationউপরের তালিকা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে সাতটি জেলায় হিন্দুদের সংখ্যা কমার পরিমাণ রীতিমত ভয়াবহ। দুই পরগণার অবস্থা সবচেয়ে মারাত্মক, বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগণার অবস্থা খুবই শোচনীয় যেহেতু সেখানে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। হাওড়ার অবস্থাও তথৈবচ। এই জেলার গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই ভারতীয় জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই তিনটি জেলা ছাড়াও, উত্তর দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের হার উদ্বেগজনক। কর্মসুত্রে হিন্দুদের স্থানত্যাগ এবং অবৈধ বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসাবে আগমন এই জেলাগুলির জনসংখ্যার বিপুল তারতম্য ঘটিয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যার পতনের হার আশঙ্কাজনক হলেও, ভয়াবহ নয়।

এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিন ২৪ পরগণা, হাওড়া, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলার গ্রাম ও শহর, উভয় ক্ষেত্রে, উত্তর ২৪ পরগণা ও নদীয়া জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে এবং মালদা জেলার শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে। এলাকাথেকে প্রাপ্ত খবরানুসারে, দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া ও নদীয়া অবৈধ বাংলাদেশীদের গড়ে পরিণত হয়েছে।

 আসাম

map19  map20

উপরে দেয়া মানচিত্রে একটু নজর দিলে বোঝা যাবে যে আসামের গ্রাম এবং শহর, দুই যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সেহেতু অবৈধ বাংলাদেশীরা গ্রামীণ এলাকায় বসতি স্থাপনে বেশী আগ্রহী, তাই গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাসের হার শহর থেকে বেশী। কেবলমাত্র ডিমা হাসাও এলাকার, যেখানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত আলাদা আইন রয়েছে, শহরাঞ্চলে কিছুটা সদর্থক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

assam table formation 

উপরের তালিকায় চোখ বুলালে বোঝা যাবে যে বোড়ো অধ্যুষিত কোকরাঝাড়, বাকসা ও চিড়াং জেলা সমেত, সমগ্র দক্ষিণ আসামে ভারতীয় জনসংখ্যার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। বরাক উপত্যকার জন্যেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ, যে আগে প্রধানত গ্রামীণ এলাকার সমস্যা ছিল, এখন শহরেও প্রবেশ করে গ্রাম ও শহর, দুই যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যাকে বিপন্ন করে তুলছে। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল যে, উত্তর আসামের লখিমপুর ও সতিপুরের মত স্থানেও ভারতীয় জনসংখ্যা বিপদের সম্মুখীন। এটা প্রমাণ করছে যে উত্তর আসামও বিপদসীমায় অবস্থান করছে।

 ত্রিপুরা

map21  map22

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিপুরার জেলাগুলিতে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বিহার থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাংলাদেশ সীমান্ত।

tripura table formationআসাম সংলগ্ন উত্তর ত্রিপুরাতে জনসংখ্যার পতন আশঙ্কাজনক। আসামের তুলনায় এই পতন কম উদ্বেগজনক হলেও, ভবিষ্যতে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠার পরিপূর্ন সম্ভাবনা আছে।

 জম্মু

map23 map24

জম্মুর পার্বত্য ও সমতল, উভয় এলাকাতেই যে ভারতীয় জনসংখ্যা কমছে সেটা উপরের মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে। পার্বত্য এলাকার রাজৌরি অঞ্চলের গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই জনসংখ্যা কমছে আর সমতল এলাকার কিসতওয়ার ও ডোডা অঞ্চলের, মূলত গ্রামাঞ্চলে, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন ঘটছে। উধমপুর কিছুটা স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছে। নীচের তালিকায় পার্থক্যটা দেখতে পারা যাবে।

jammu &amp; kashmir table formationরাজৌরিতে ভারতীয় জনসংখ্যার কম উপস্থিতি সত্ত্বেও তাদের দ্রুত পতন যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। জম্মু ও কাঠুয়ার গ্রামাঞ্চলে, একসময় বিপুল উপস্থিতি সত্ত্বেও, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন গভীর উদ্বেগের বিষয়। উপরের তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে কিসতওয়ার ও ডোডার গ্রামীন এলাকাতেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে।

এই প্রসঙ্গে লাদাখ ও কাশ্মীর উপত্যকার কথাও উল্লেখ করা দরকার। যেহেতু লাদাখে প্রচুর সংখ্যায় প্রাক্তন সৈন্যরা (সামরিক ও আধাসামরিক) বসবাস করেন তাই এলাকার প্রকৃত ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের হিসাব করা কঠিন। যদিও বৌদ্ধদের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা প্রমাণ করে যে এই এলাকার জন্মবৃদ্ধির হার খুবই কম এবং পরিস্থিতিও খুবই খারাপ। কাশ্মীর উপত্যকা থেকে হিন্দুরা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে, তাই পতনের হিসাব করা মূল্যহীন।

মালাবার, কুর্গ এবং কানাড়া

ইদানিংকালে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুত পতন যেসব স্থানে ঘটেছে এই এলাকাটি তার অন্যতম। কর্মসূত্রে হিন্দুদের এলাকা ত্যাগ, হিন্দুদের মধ্যে কম জন্মবৃদ্ধির হার এবং মুসলমানদের মধ্যে বিপুল জন্মবৃদ্ধির হার এই এলাকার হিন্দু জনসংখ্যা সর্বকালীন নীচে নামিয়ে দিয়েছে।

map25 map26

 মালাবার

মানচিত্র দেখলে বোঝা যাবে যে ভারতীয় জনসংখ্যার কি ভয়াবহ পতন ঘটেছে। এই অঞ্চলের শুধু পালাক্কাড় জেলা ছাড়া সব যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যা ৬০%-এর কম এবং মাল্লাপুরম ও ওয়ানাড় জেলাতে তারা ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘূ। নীচের তালিকায় পরিবর্তনটা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

kerala table formationশিক্ষার প্রসারের ফলে জন্মহার হ্রাস, আর্থিক অনগ্রসরতা ও সাস্কৃতিক কারণে পরিযায়ী মনোবৃত্তি, বিশেষত উত্তরের জেলাগুলিতে, এবং বিপুল সংখ্যার মুসলিমদের অত্যাধিক জন্মহার – এসবেরই পরিণতিতে মালাবার অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা বিপর্যয়ের মুখে। শহর ও গ্রাম, দুই যায়গাতেই এই বিপর্যয় ঘটছে তবে শহরে এই হার বেশী। মাল্লাপুরম, পাল্লাকাড়, কোজিকোড়ে, কান্নুর এবং কাসাড়াগোড় এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং ত্রিসুর ও ওয়ানাড় এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

 কানাড়া ও কুর্গ

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কর্ণাটকের কুর্গ ও দক্ষিন কানাড়ার জেলাগুলিতে যেটার ভৌগলিক অবস্থান মালাবার এলাকার ঠিক বিপরীতে। ভারতীয় জনসংখ্যার জন্মহার হ্রাস, আর্থিক অনগ্রসরতা ও সাস্কৃতিক কারণে পরিযায়ী মনোবৃত্তি, মুসলিম অনুপ্রবেশ এবং বিপুল সংখ্যার মুসলিমদের অত্যাধিক জন্মহারের ফলে এই এলাকার ভারতীয়দের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

map27map28

কুর্গ ও দক্ষিন কানাড়া – উভয় জেলাই, কেরালার সংলগ্ন হওয়ার ফলে, গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই একই ফল ভোগ করছে। পতনের দিশানির্দেশ নীচের তালিকায় দেখতে পাওয়া যাবে।

kurg and kanara table formationমণিপুর উপত্যকা

map29 map30

মণিপুরের ক্ষেত্রে ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের এক অন্য ধারা লক্ষ্য যায়। মণিপুরের বহির্ভাগ, অর্থনীতিতে ভূমিকা নগন্য, প্রায় সম্পূর্ন খ্রীষ্টানবহুল। অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি হল মণিপুরের মধ্যভাগ যেখানে হিন্দু (এবং সনামাহি) মিথিসরা নির্ণায়ক শক্তি। এর ফলে খ্রীষ্টান শ্রমিকরা বহুল পরিমানে মধ্যভাগে প্রবেশ করে ভারতীয় জনসংখ্যাকে বিপন্ন করে তুলেছে। যথাযথ হিসাব নীচের তালিকাতে।

manipur table formation

অরুণাচল প্রদেশ

অরুণাচল প্রদেশে আমরা আবার এক অন্য ধরণের পরিবর্তন দেখতে পারি। এখানে ধর্মান্তরের জন্যে প্রধানত শ্রমের উপযোগী কমবয়সীদের চিহ্নিত করা হয়। প্রবীন প্রজন্ম মূলত ধর্মান্তরিত হয়না এবং তাদের মৃত্যুর সাথেই তাদের ভূমিকা শেষ হয়ে যায়। এই প্রথা প্রথম নাগাল্যান্ডে দেখতে পাওয়া যায় যেখানে ধর্মান্তরে অনিচ্ছুক প্রবীন প্রজন্মর বিলুপ্তির সাথে সাথে নবীন প্রজন্মের খ্রীশটানরাই অবশিষ্ট থাকে। অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম ভাগে এই ধারাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই রাজ্যে মূল পরিবর্তন ঘটেছে রাজধানী ইটানগর ও তার আশেপাশের জেলাগুলিতে অথবা সুদূর পূর্ব অংশে, যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

map31 map32

পরিবর্তনের প্রকৃত রূপ নীচের তালিকা দেখলে স্পষ্ট হবে।

arunachal pradesh table formation

ওড়িশার উপজাতিবহুল দক্ষিণাঞ্চল

map33                        

উপরে বর্ণিত ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের ধারা ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলে উপজাতিবহুল এলাকাতেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। নীচের তালিকায় দক্ষিণ ওড়িশার গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে।

 orissa dokkhinanchal table formationপ্রধান শহর

শেষ অধ্যায়ে আমরা প্রধান শহরগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবো। আমরা ৫০ টা প্রধান শহরকে বেছে নিয়েছি। এদের সবারই দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে এবং এই শহরগুলিতে জনস্রোত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলত, আমরা এখানে প্রবীন ও নবীনদের তলনামূলক আলোচনার বদলে ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং তার সাথে মোট জনসংখ্যায় নবীনদের (৪ বছর) অংশীদারিত্ব নিয়ে পর্যালোচনা করবো। ছোট শহর ও শহরতলীর ক্রমহাসমান হিন্দু জনসংখ্যার জন্যে অনেকে সেখান থেকে হিন্দুদের বড় শহরে চলে যাওয়াকে কারণ বলে দাবী করে থাকেন। এই দাবী কতটা সঠিক সেটা আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করবো। তরুণ হিন্দুরা যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যায় মেট্রো শহরগুলিতে চলে গিয়ে থাকে তাহলে সেই মেট্রো শহরে হিন্দুদের নবীন প্রজন্মের, বিশেষত কর্মক্ষম এবং শিশুদের, সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া উচিত কারণ তরুণদেরই সন্তানধারনের সম্ভাবনা বেশী।

আমরা পঞ্চাশটা বড় শহরকে বেছে নিয়েছি যাদের জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশী বা কাছাকাছি। এদের মধ্যে ১২ টা শহরে, আমরা দেখেছি যে, ভারতীয়দের (হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ) অনুপাত আশি শতাংশের নীচে। এই ১২টা শহর হল মুম্বাই (কর্পোরেশন এলাকা), হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, লক্ষ্ণৌ, থানে, ভোপাল, মীরাট, বেনারস, ঔরঙ্গাবাদ, শ্রীনগর, এলাহাবাদ, রাঁচি এবং তিরুবনন্তাপূরম। এই ১২টা শহরে আমরা ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করেছি। যে ২০টি শহরে শরণার্থীরা গেছে বলা হয় সেগুলির উপর আমরা চোখ বুলিয়ে নেবো।

metropoliton cities table formation

) ১৯৯১ সালে কোন জনগণনা না হওয়ার কারণে শ্রীনগরের ক্ষেত্রে ১৯৮১ সালের হিসাব নেয়া হয়েছে।

) বাদামীবাগকে এই হিসাবের মধ্যে নেয়া হয়েছে যদিও এবারের জনগণনায় বাদামীবাগকে আলাদা করে ধরা হয়েছে।

) এই সংখ্যা শ্রীনগরে বসবাসকারী প্রকৃত ভারতীয় জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। যেহেতু জনগণনায় এই তথ্য পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি তাই আমাদের কাছে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

বিপুল জনস্রোতের কারণে এই শহরগুলির জনসংখ্যা কখনই স্থায়ী রূপ নেয়না এবং প্রতি জনগণনাতেই বদলাতে থাকে। তবুও, ভোপাল বাদ দিয়ে বাকি শহরগুলির ক্ষেত্রে একটা মৌলিক ধারা হল যে ১৯৯১ সালের প্রেক্ষিতে ভারতীয় জনসংখ্যার হ্রাস। প্রধান শহরগুলিতে হিন্দুরা প্রচুর মাত্রায় প্রবেশ করলেও সেখানকার ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত কমেই যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে প্রধান শহরগুলিতেও, বিশেষত যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘূ জনসংখ্যা ছিল, ভারতীয়রা ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এছাড়া এটাও স্পষ্ট যে কর্মক্ষম ভারতীয় জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এই শহরগুলিতে প্রবেশ করলেও তাদের নতুন প্রজন্ম, ৪ বছর, জনসংখ্যার অনুপাতে পিছিয়ে পরছে। মুম্বাই মেট্রোপলিটন এলাকার তথ্যে কিছু ভ্রান্তি রয়েছে। মুম্বাই শহরাঞ্চল প্রধানত দুটি জেলা দ্বারা গঠিত – মুম্বাই ও মুম্বাই শহরতলী। মুম্বাই জেলায় ভারতীয় জনসংখ্যা ৭১.৯২ শতাংশে নেমে এসেছে যেখানে ০৪ বয়সের অনুপাত ৬৫.১১% আর তাদের মধ্যে মাত্র ৫৫.৫৯ শতাংশ হিন্দু। দ্বিতীয় আশঙ্কাজনক তথ্য হল যে বাকি ৯.৫২ শতাংশ ভারতীয়র মধ্যে ৪.২৭% হল বৌদ্ধ যাদের মধ্যে অনেকেই খ্রীষ্টান হয়ে যায় কিন্তু কাগজেকলমে বৌদ্ধ থাকে। ফলে এই আশঙ্কা থেকে যায় যে মুম্বাইয়ের মোট ৩০ লাখ জনসংখ্যার (কলকাতার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ) মধ্যে মাত্র ৬০% ভারতীয় রয়ে যেতে পারে যেহেতু ভারতীয় জনসংখ্যা প্রতি দশকেই ২% হারে কমছে। কলকাতাতেও মোট জনসংখ্যার প্রেক্ষিতে নতুন প্রজন্মের (৪ বছর) অনুপাত সমানে কমছে, যা ইতিমধ্যেই ৯.% কম, এবং এটার মূল কারণ হল শহরে বসবাসকারী অবৈধ মুসলিমদের উচ্চ জন্মহার। মীরাটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ এবং আগামী জনগনণায় এখানকার নতুন প্রজন্মের অনুপাত ৫০ শতাংশের নীচে নেমে যাবে।

সহায়িকা – এই প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য ২০১১ সালের জনগণনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদান শহরের তালিকায় ২০০১ সালের তথ্য ২০০১ সালের জনগণনা থেকে নেয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালের জনগণনার তথ্য এ.পি.যোশী, এম.ডি.শ্রীনিবাস ও জে.কে.বাজাজের রিলিজিয়াস ডেমোগ্রাফি অফ ইন্ডিয়া থেকে নেয়া হয়েছে।

( ক্রমশঃ )

 

 

 

 

কুলগাঁওয়ে গুলির লড়াইয়ে হত এক জওয়ান, মারা গেল এক জঙ্গিও

জম্মু-কাশ্মীরের কুলগাঁওয়ে গতকাল ১৪ই নভেম্বর, মঙ্গলবার জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে। সেনা সূত্রে খবর, কুলগাঁওয়ে নৌবাগ কুণ্ডে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলির লড়াইয়ে এক জওয়ান গুরুতর জখম হন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। এই সংঘর্ষের সময়েই এক জঙ্গি মারা যায়। স্থানীয় পুলিশের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালেই নৌবাগ কুণ্ডের গ্রামটি ঘিরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। তল্লাশি অভিযান শুরু হতেই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। নিরাপত্তারক্ষীরাও তার পালটা জবাব দেন। সন্ধ্যে পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই চলেছে বলেই জানা গিয়েছে। অপরদিকে, পুলওয়ামার ট্রাল এলাকা নামের গ্রামে জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাপক্ষীদের সংঘর্ষের খবর মিলেছে। জঙ্গিদের একটি গোপন ডেরার সন্ধান পাওয়ার পরই দু’পক্ষের মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়।

হিন্দুদের দখলে থাকা জমি মুসলিমদের নিয়ে দখল করার চেষ্টা স্থানীয় টিএমসি নেতার

হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া থানার অন্তর্গত বিষ্টুপুর-সলপ এলাকার দোলুইপাড়া। পাড়াটি সম্পূর্ণরূপে হিন্দু অধ্যুষিত। পাড়ার পাশেই একটি সরকারি জমি ও মাঠ পরে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ওই পাড়ার হিন্দুদের পরিচালনায় ওই জমিতে শিব ঠাকুরের পূজা হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তাতে আশেপাশের গ্রামের হিন্দুরাও অংশ নেন। ওই জমির একপাশে একটি বাঁশের চালাঘর ও তার মধ্যে শিবলিঙ্গ ছিল। কিন্তু কিছুদিন ধরে এক হিন্দু টিএমসি নেতার মদতে স্থানীয় কিছু টিএমসির কর্মী-সমর্থক ওখানে একটি দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করতে চাইছিলেন। এই নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ওই নেতার ঝামেলা বাধে এবং দলীয় অফিস নির্মাণের পরিকল্পনা থেকে পিছু হঠেন। কিন্তু তিনি গতকাল ১৪ই নভেম্বর, মঙ্গলবার রাতে ১কিলোমিটার দূরের নারকেলতলার তৃণমূল সমথর্ক মুসলিমদের সঙ্গে নিয়ে এসে ওই আটচালা ঘরটিকে ভেঙে দেন। স্থানীয় হিন্দুরা পুলিশকে এই ঘটনার খবর দিতে পুলিশ এসে শিবলিঙ্গটিকে নিরাপত্তার অজুহাত দিয়ে নিয়ে চলে যায়। স্থানীয় হিন্দুরা এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তারা ওই জায়গাতে পাকা মন্দির নির্মাণ করতে চায়। এই ঘটনায় ওই স্থানীয় টিএমসি নেতা উলুবেড়িয়া থানায় ৬জন হিন্দুর নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।

ছবির নাম হিন্দুবিরোধী, বাদ পড়লো চলচ্চিত্র উৎসব থেকে

hindu birodhi cholochchitroচলতি মাসের শেষে গোয়ায় শুরু হবে ৪৮তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআই)। তার আগে নতুন বিতর্ক। গোয়ায় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জন্য ১৩ সদস্যের জুরি বোর্ড সনল কুমার শশীধরনের মালয়লাম ছবি ‘এস দুর্গা’ বাছাই করেছিল জুরি বোর্ড। কিন্তু ছবিটির নাম হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার মতো যথেষ্ট, তাই এই ছবিটিকে উৎসবে প্রদর্শিত ছবির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ প্রথমে ছবিটির নাম ছিল ”সেক্সি দূর্গা”। কিন্তু সেন্সর বোর্ড আপত্তি  করায় নাম পরিবর্তন করেন পরিচালক। আর এতেই যত বিপত্তি। বাঙালি পরিচালক সুজয় ঘোষ পদত্যাগ করেছেন জুরি বোর্ড থেকে। পরিচালক শশীধরণ মামলা করেছেন। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করার ত্রূটি রাখেননি এই পরিচালক। এই নিয়ে পরিচালকের পাশে দাঁড়িয়ে টুইট করেছেন ভারতে আশ্রিতা তসলিমা নাসরিন।