কিশোরীকে অপহরণ করে শারীরিক নিগ্রহ, ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শেখ আজহারউদ্দিনের

SK Ajharuddinগত বছরের ঘটনা। ১২ জুলাই মানিকতলা থানায় একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন একজন মহিলা। জানান, তাঁর নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ইকবালপুরের বাসিন্দা। মানিকতলায় তাঁর পৈতৃক বাড়ি। ১১ জুলাই, মানিকতলার বাড়িতে ঘুরতে যাবে বলে ইকবালপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল মেয়েটি। তারপর থেকেই সে নিখোঁজ। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত তদন্তে নেমে পড়ে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, মেয়েটিকে শেষ দেখা গেছে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে। মেয়েটির মা জানিয়েছিলেন, শেখ আজহারউদ্দিন নামে এক প্রতিবেশীর নজর ছিল কিশোরীটির ওপর। নানা ছুতোয় সে বারবার তাঁর মেয়ের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করত। আজহারউদ্দিনের চেহারার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন সেই মহিলা, তার সঙ্গে সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির চেহারার বর্ণনাও হুবহু মিলে যাচ্ছিল। সেই দিনই, সাব ইনস্পেকটর সন্তোষ কুমার শা-এর নেতৃত্বে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম তল্লাশি চালায় শেখ আজহারউদ্দিনের বাড়িতে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সেই কিশোরীকে। শেষ মুহূর্তে পিছনের দরজা দিয়ে পালায় আজহারউদ্দিন। মেয়েটি জানায়, আজহারউদ্দিন তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল আজহারউদ্দিন। সেদিনও একা বেরোতে দেখে সে মেয়েটির পিছু নেয়। কথা বলার ফাঁকে মেয়েটিকে নানাকিছু কিনে দেওয়ারও লোভ দেখায় সে। বয়স কম, প্রলোভনে পা দিয়ে ফেলে মেয়েটিও। আজহারউদ্দিন তখন বাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার অছিলায় তাকে নিয়ে আসে নিজের বাড়িতে। তারপর বলপূর্বক মেয়েটিকে শারীরিক নিগ্রহ করে সে। ভয় দেখিয়ে তাকে ঘরে আটকে রেখেছিল আজহারউদ্দিন। পুলিশ গিয়ে সেই দিনই উদ্ধার না করলে আরও বড় অনিষ্ট ঘটতে পারত। কিশোরীটির মেডিকেল রিপোর্টেও শারীরিক নিগ্রহের প্রমাণ মেলে। আজহারউদ্দিনের খোঁজ শুরু হয়। খবর দেওয়া হয় সোর্সদেরও। সোর্স মারফত খবর পেয়েই গত ২০ মার্চ মানিকতলা থেকে আজহারউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম। তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও পসকো (Protection of Children from Sexual Offences Act) আইনে মামলা রুজু হয়। উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ-সহ চার্জশিট জমা দেওয়া হয় দ্রুতই। সেই মামলারই রায় বের হলো গত ৩রা জুন।। আজহারউদ্দিনের ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় বিচারক। সঙ্গে ৬০,০০০ টাকা জরিমানা। এই জরিমানার ৯০% টাকাই ক্ষতিপূরণ বাবদ যাবে কিশোরী মেয়েটির কাছে। জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়বে আরও ৬ মাস।

সৌজন্যে- কলকাতা পুলিস

হিন্দু সংহতির সহায়তায় হিন্দু ধর্মে ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিনা পারভীন

Maitriহিন্দু সংহতির সহায়তায়  পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা হিনা পারভীন। হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর নাম এখন হিনা নস্কর। হিন্দু সংহতির কর্মীকে বিয়ে করল সে। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ওই দম্পতিকে সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে। ছবিতে হিনার সঙ্গে হিন্দু সংহতির কোষাধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী।

একের পর এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের পরে খুন, কালনায় গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের কামরুজ্জামান

নিজের অস্ত্র নিয়ে শনিবার শিকারে বেরিয়ে কালনা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল সিরিয়াল মহিলা খুনি | এই ভয়াবহ খুনির নাম কামরুজ্জামান সরকার | বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। গত দেড় বছর আগে বাড়ি করে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোয়ালপাড়ার সুজননগরে | খুনি এদিন পুলিশের নিকট তার অপরাধের সব কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এই অপরাধীর নেশা ছিল বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মচারী সেজে লাল মোটর বাইক নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো | মিটার দেখার নাম করে বিভিন্ন বাড়িতে দিনের বেলাতেই প্রবেশ করতো। বাড়িতে মহিলাকে একা পেলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধর্ষণ করতো। তারপর প্রমান লোপাটের জন্য প্রথমে মাথায় রডের আঘাত করে অজ্ঞান করতো। শেষে গলায় সাইকেলের চেন পেঁচিয়ে মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত করেই বাইক নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেত।বিগত তিন মাসে কেবল কালনা থানাতেই ছয়টি এই রকম অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মন্তেশ্বর, মেমারী, পাণ্ডুয়া, বলাগর থানা ধরলে এই অপরাধের সংখ্যা ১২টি। শেষ খুনের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বৈকালে কালনা থানা এলাকায়। এক দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে পাশবিক অত্যাচারের পর হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে রবিবার অপরাধী বাইক নিয়ে শিকারে বেরিয়ে কালনা-১ ব্লকের কাঁকুরিয়া গ্রামে অপর এক বাইকের সাথে ধাক্কা মেরে পড়ে যায়। স্থানীয় একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার বাইক চালকদের তুলতে গিয়ে লাল বাইকের কথা মনে পড়ে যায়। কারন পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ও সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পেরে গিয়েছিল যে অপরাধী লাল বাইক ব্যবহার করে। তাই সন্দেহ হতেই সিভিক তার ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে ব্যাগে লোহার রড, চেন সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। যে সরঞ্জামগুলি মহিলাদের হত্যা করার সময় ব্যবহার করা হতো। প্রথমে তাকে ধরে বুলবুলিতলা ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কালনা মহকুমার পুলিশ অফিসাররা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব দোষ স্বীকার করে। বুলবুলিতলা ফাঁড়ি থেকে অপরাধীকে কালনা থানায় আনা হয়। সেখানে বর্ধমান জেলার এডিশনাল এস পি এসে তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।

বীর সাভারকার ও সেলুলার জেল

savarkarপোর্ট ব্লেয়ার, যেখানে অবস্থান বৃহৎ এক কারাগার যার নাম সেলুলার জেল। এ কারাগারের নাম সেলুলার এ কারণে যে, এর সাতটি উইং ছিল, যা মাঝখানে একটি সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিন তলাবিশিষ্ট উইংগুলো এমনভাবে তৈরি ছিল যে এর সামনে-পেছনে আরেক উইং থেকে দেখা যেত না। কাজেই এক উইংয়ের বন্দিরা অন্য উইং সম্পর্কে কোনো ধারণাই পেত না।
এ কারাগারে সর্বমোট ৬ হাজারের উপরে কারাকক্ষ ছিল। এখন মাত্র তিনটি উইং আর পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি সংরক্ষিত রয়েছে। পোর্ট ব্লেয়ারের অবশ্যদর্শনীয় স্থান এ সেলুলার জেল। আগেই বলেছি, এর সঙ্গে জড়িত ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন।
সেলুলার জেলে বিপ্লবীদের শুধু বন্দি করেই রাখা হয়নি, প্রায় ৯০ জনকে ফাঁসিও দেয়া হয়েছিল। ফাঁসির জায়গাটিও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। গভীর রাতে পাগলা ঘণ্টা বাজিয়ে বিপ্লবী বন্দিদের চোখের সামনেই ফাঁসি দেয়া হতো, হয়তো তাদের মধ্য থেকেই কোনো একজনকে।
আন্দামানে প্রথমদিকে কোনো নির্দিষ্ট কারাগার ছিল না। সমগ্র দ্বীপটিই ছিল কারাগার। অষ্টাদশ শতাব্দীতে লেফটেন্যান্ট ব্লেয়ার এ জায়গায় প্রথম স্থাপনা গড়ে তোলেন। পরে আন্দামানকে খোলা জেলে রূপান্তরিত করা হয় ১৮৫৭ সালের ‘সিপাহী বিদ্রোহ’ বা প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যর্থ চেষ্টার পরের বছর, ১৮৫৮ সাল থেকে।
 যদিও ১৭৮৯ সালে তৎকালীন বেঙ্গল সরকার সমগ্র দ্বীপাঞ্চলকে কারাগার হিসেবে ঘোষণা দিয়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের দ্বীপান্তর করে কালাপানিতে পাঠাত। আদতে আন্দামানের চারদিকে জলরাশি কোনোভাবেই কালো রঙের নয়, বরং অদ্ভুত সুন্দর নয়ন জুড়ানো নীল স্বচ্ছ জল।
কালাপানি হিন্দু ধর্মমতে ধর্মচ্যুত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। হিন্দুদের কালাপানি পার হওয়া ছিল ধর্মবহির্ভূত কাজ। এ কারণেই তৎকালীন ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির হিন্দুসেনাদের অন্যতম শর্ত ছিল সমুদ্র পার না হওয়া। পরে অবশ্য এ মতবাদ টেকেনি। সেই সময় থেকে কালাপানি মানে গভীর সমুদ্র আর আন্দামান যেহেতু বিচ্ছিন্ন দ্বীপ, চারদিকে সমুদ্র, তাই এ নামে পরিচিত হয়েছিল। এখনও কালাপানি আর আন্দামান একাকার হয়ে আছে।
প্রথম জেল তৈরি হয় ভাইপার দ্বীপে। তবে আন্দামান উন্মুক্ত ছিল জাতীয়তাবাদী কয়েদিদের জন্য।
আন্দামানের পোর্ট ব্লেয়ারের কারাগার তৈরির পরিকল্পনা বহু আগের হলেও ১৮৫৭ সালের সিপাহী যুদ্ধের কারণে সময়মতো নির্মাণকাজ শুরু করা যায়নি। তবে সেলুলার কারাগার তৈরি ত্বরান্বিত হয় ১৮৭২ সালের ফেব্য়রির ৮ তারিখে।
সেলুলার জেল তৈরির কাজ শেষ হয় ১৯০৬ সালে। তারপর থেকেই সেখানে যাবজ্জীবনের জন্য দেশান্তরী করা হতে থাকে বিপ্লবীদের। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বাংলার বিপ্লবী। বাঘা যতিনের সমর্থক থেকে শুরু করে ‘যুগান্তর’ ও ‘অনুশীলন সমিতি’র শত শত সদস্যকে বন্দি রাখা হয়। এর মধ্যে অনেকের মৃত্যু, ফাঁসি হয় পোর্ট ব্লেয়ারের সেলুলার জেলে। আরও পরে পাঞ্জাবের ভগৎ সিং এর আন্দোলনের বহু সহযাত্রীকে আন্দামানে অন্তরীণ রাখা হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন বটুকেশ্বর দত্ত। অনেকে অনশন ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে জীবন দান করেন উপমহাদেশের স্বাধীনতার জন্য।
সেলুলার জেলের অন্যতম বিখ্যাত বাসিন্দা ছিলেন ভারতে হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তা  বিনায়ক দামোদর সাভারকার, যার নামে পোর্ট ব্লেয়ারের বিমানবন্দরের নাম বীর সাভারকার ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। হিন্দু ঐক্য দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে কখনোই তার বনিবনা হয়নি।
ভারতে ইতিহাসে সাভারকার কে দীর্ঘতম কঠোর জেলখানায় (৫০ বছর) দণ্ডিত করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ হোম বিভাগের ‘ডি (বিপজ্জনক) কারাগারে’ শ্রেণীভুক্ত করা হয়েছিল ভিডি সাভারকারকে।
সেলুলার জেলখানায় নির্দোষ বন্দিদের মধ্যে সবচেয়ে তারঁ ওপর সবচেয়ে অধিক অমানবিক নির্যাতন হয়, দাঁত হ্যান্ডক্যাফ, শিকল গেজ, ক্রস-বার শাখা, তেজস্ক্রিয়তা ইত্যাদি ছাড়াও তেল-মিলিংয়ের মতো অত্যাচার তিনি পেয়েছিলেন ও সহ্য করেছিলেন।
সশস্ত্র প্রহরী পরিবেষ্টিত হয়ে ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে ৪ ঠা জুলাই বীর সাভারকার আন্দামানে উপনীত হলেন। ১৮৫৭ সালে সিপাহী যুদ্ধের পর থেকে ভারতে মুক্তিকামী বীর যোদ্ধাদের উক্ত দ্বীপে অভ্যন্তরীণ রাখা হতো । দুশ্চর তপস্যারত দেশপ্রাণ  বীর পুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত ভূখণ্ডে পদার্পণ করে বীর সাভারকার নীরবে স্বদেশ ভক্ত বীরপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন ।
বিখ্যাত সেলুলার বন্দি নিবাসে তিনি নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করছেন , এমন সময় উপস্থিত হলেন মিস্টার বেরি । তিনি উপস্থিত হয়ে অত্যন্ত রুক্ষ স্বরে বীর সাভারকার কে প্রশ্ন করলেন “
 আপনিই মার্সেই থেকে পলায়নের চেষ্টা করেছিলেন?’
তা শুনে বীর সাভারকার গম্ভীরভাবে উত্তর করলেন, ” সে চেষ্টা করেছিলাম বৈকি । কিন্তু তাতে আপনার কি প্রয়োজন ? “
নবাগতের সঙ্গী অপরাপর বন্দীদের যে স্বাতন্ত্র আছে প্রথম আলাপেই মিস্টার বেরি তা উপলব্ধি করলেন।
 পরের দিন সকালে কয়েকজন ইউরোপীয় ভদ্রলোক বীর সভারকারকে দেখাবার জন্য মিস্টার বেরির সঙ্গে কারা কক্ষে উপস্থিত হলেন। মিস্টার বেরি সাভারকার  কে লক্ষ্য করে বললেন , “ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস আপনিতো সংকলন করেছেন এবং সিপাহিদের শহীদ বলে বর্ণনা করেছেন ।”
বীর সাভারকার বললেন , “এ বিষয়ে আমি অনেক বই পড়েছি।”
 মিস্টার বেরি প্রশ্ন করলেন , “তা হলে এসব লুণ্ঠনকারী দস্যুদের স্বদেশ ভক্ত বীর পুরুষ বলে বর্ণনা করলেন কেন ? সিপাহী বিদ্রোহের সময় আমার বাবা ওইসব উশৃংখল জনতার হাতে ধরা পড়েছিলেন । আমি তার কাছে শুনেছি যে , ,নরপিচাশ  নানাসাহেব এমনকি সম্ভ্রান্ত বংশের ইংরেজ মহিলাদের উৎপীড়ন করেছিলেন .”
সাভারকর তৎক্ষণাৎ উত্তর করলেন ,”আপনার বাবা মিথ্যাবাদী । তিনি কি নিজে তা দেখেছেন?”
 হতমভব মিস্টার বেরি বললেন, ” যিনি প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি তাঁর নিকট শুনেছেন ।”
বীর সাভারকার বললেন, ” লখনৌতে ইংরেজ নর-নারী যখন বন্দী হয়েছিলেন তখন নানাসাহেব যে কানপুরে ছিলেন এটি ঐতিহাসিক সত্য ।”
সমাগত জনৈক ইংরাজ ভদ্রলোক প্রশ্ন করলেন , ” আপনি এইসব রাজদ্রোহীদের কে ঘৃণা করেন না ?”
বীর সাভারকার গম্ভীর স্বরে বলে উঠলেন , “আমি আমার জাতীয় নেতাদের অপমান সহ্য করতে পারব না। আপনারা আত্ম মর্যাদা রক্ষা করে কথা বলবেন । “
তাদের হতভম্ব ও নির্বাক দেখে বীর সাভারকর পুনরায় বললেন, ” নানাসাহেব, তাতিয়া তোপি ,প্রমূখ সংগ্রামী নায়কদের স্বার্থান্বেষী, নরহত্যা কারী কেন বলছেন ? তার প্রমাণ দেখাতে পারবেন? নানাসাহেব রাজদন্ড গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন আর তাতিয়া টোপি সুখ্যাতি চেয়েছিলেন, আপনারা এটি বড় অপরাধ বলে মনে করেন । কিন্তু আপনারা কি  জানেন  না, ভিক্টটর ইমান রাজ্য শাসন করতে চেয়েছিলেন, ওয়াশিংটন ও নেতৃত্বের জন্য ,নাম যশ এর জন্য লালায়িত ছিলেন। যদি তারা কেবল  তাদের মহানুভবতার জন্য আপনাদের স্মরণীয় ও বরণীয় হতে পারেন, তাহলে নানাসাহেব তাতিয়া তোপি কি অপরাধ করেছেন?”
 মিস্টার বেরি আর বাক্যালাপ না করে সঙ্গীগণ কে সাথে নিয়ে চলে গেলেন।
  সেলুলার জেল দেখতে বিশাল। কিন্তু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কক্ষে বিভক্ত ছিল ।মাঝখানে দাঁড়িয়ে চারদিকে দেওয়া স্পর্শ করা যায় । অন্ধকার ময় এই রূপ ক্ষুদ্র কক্ষেই বন্দি দের বাস করতে হতো । তার উপর  আন্দামানের  আবহাওয়া অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর এবং নিরানন্দময় ছিল। বছরে বাতাসে তিন মাস অত্যন্ত উত্তাপ থাকে এবং বৃষ্টি এত অধিক হয় যে কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ সূর্যালোক দৃষ্টিগোচর হয় না। এর নৈসর্গিক পরিস্থিতি এবং কারাগারের অন্ধ আবেষ্টনী সাভারকারের মনে কোনো প্রভাববিস্তার করতে পারল না ।
কারণ তার দেহ ক্ষুদ্র কক্ষে আবদ্ধ থাকলেও তার কবি মন অন্তশূন্যে,  দিগন্তে, সাগর সৈকতে, কুসুম কাননে আনন্দে ঘুরে বেড়াতো । সেই আনন্দ লহরী সুললিত হয়ে ছন্দে উদগত হয়ে উঠত ।
কিন্তু তার ব্যক্ত করার বা লিপিবদ্ধ করার কোন উপায় ছিল না। আলোকের কোন ব্যবস্থা ছিল না এবং কাগজ-কলম বন্দির পক্ষে স্বপ্নরাজ্যের সামগ্রী ছিল।
 সুতরাং কাগজ-কলম অভাবে দেওয়ালেই অঙ্গার  ইটের টুকরো  বা নখের  সাহায্যে লিখে ও মুখস্ত করে রাখতেন। এজন্য তাকে দীর্ঘকাল কোনো কারা কক্ষে রাখা হত না। ঘন ঘন কারা পরিবর্তন করা হত।
এই কক্ষ পরিবর্তন করা তার লেখবার স্থানাভাবই পূরণ করত। তিনি এই সব কবিতা মুখস্থ করে রাখতেন। কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে আসবার সময় প্রায় দশ সহস্র কবিতা তিনি কন্ঠে বহন করে আনেন।  স্মৃতিশক্তি প্রাচীন বৈদিক মুনি ঋষিদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
আন্দামানের সেলুলার জেল বা কারাগারের সঙ্গে এই ভূখণ্ডে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি এবং স্বাধীনতার ইতিহাসের এক বিরাট অংশ জড়িত। সে কারণেই বর্তমানে এ কারাগার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। আন্দামানের পর্যটনের অন্যতম বা কেন্দ্রীয় আকর্ষণ সেলুলার জেল।
 স্বাধীনতা অর্জন অত্যন্ত কঠিন; কিন্তু হারানো মোটেও কঠিন নয়। প্রশ্ন জাগে, যাদের আত্মত্যাগে আমরা স্বাধীন হয়েছি, আমরা কি তাদের ত্যাগের মর্যাদা দিতে পেরেছি?
লেখা :- দুর্গেশনন্দিনী 

হিন্দু যুবককে মারধর, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় থানা ঘেরাওয়ের পর উধারবন্দে ভিআইপি সড়ক অবরোধ হিন্দু সংহতির

আসামের উধারবন্দের দয়াপুরে এক হিন্দু যুবককে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত মুসলিম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিস কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দু ঘন্টা ভিআইপি সড়ক অবরোধ করলো হিন্দু সংহতি। গতকাল ২৬শে মে, রবিবার বেলা বারোটায় কালীবাড়ি রোডের হিন্দু সংহতি কার্যালয় থেকে প্রায় শতাধিক হিন্দু সংহতির যুবক কর্মী মিছিল করে গিয়ে উধারবন্দ থানা ঘেরাও করে। থানায় ওসি অমিত সূত্রধর দোষীদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে কোনোরকম আশ্বাস দিতে ব্যর্থ হন। তখন ক্ষিপ্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা শহরের ব্যস্ততম রাস্তা ভিআইপি রোড অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। অল্প সময় পরে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। তবুও হিন্দু সংহতির কর্মীরা অবরোধ চালিয়ে যেতে থাকেন। অবরোধে প্রচুর বাস,গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। তখন প্রশাসনের টনক নড়ে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পরিষদ সদস্য প্রবল চন্দ এবং উধারবন্দের সার্কেল অফিসার কুলদীপ হাজারিকা। তিনি এসে আন্দোলনরত হিন্দু সংহতির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। হিন্দু সংহতির তরফে বলা হয় যে, আগামী ২৮শে মে-এর মধ্যে অভিযুক্ত মুসলিম দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে হিন্দু সংহতি, সে কথা জানানো হয় পুলিসকর্তাকে। সেই মতো সার্কেল অফিসার দাবি মেনে নেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পানগ্রাম দ্বিতীয় খন্ডের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন দাসের ছেলে শুভমের ওপর  গত ১০ই মে সন্ধ্যা ৭টায় দয়াপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পের সামনে কাবুল লস্কর, কাদির লস্কর, সাঈদ লস্কর, সিজু লস্করসহ আরও বেশ কয়েকজন মুসলিম দুষ্কৃতী রড, দা দিয়ে আক্রমণ করে। তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা।  সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিস। তাই হিন্দু যুবক শুভমকে সুবিচার পাইয়ে দেবার লক্ষ্যেই হিন্দু সংহতির এই আন্দোলন।

মুসলিমদের কবল থেকে হিন্দু গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিল হিন্দু সংহতি কর্মীরা

Sumita dasহিন্দু পরিচয় দিয়ে নিয়ে এসে আটকে রাখা এক অসহায় হিন্দু গৃহবধূকে মুসলিমদের কবল থেকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিলো হিন্দু সংহতির কর্মীরা। গত ২২শে মে, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জীবনতলা থানা এলাকায়। হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীরা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করার পর পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানা যায়। জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর নাম সুমিতা দাস(নাম পরিবর্তিত) ।তিনি এক কন্যা ও পুত্র সন্তানের মা। তার বাড়ি গোসাবায়। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতেন এবং কলকাতায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এর মধ্যে কিছুদিন আগে ফোনে মিসকলে জীবনতলা এলাকার এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই মুসলিম যুবক নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়।ধীরে ধীরে ওই যুবকের সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবকের কথামতো তিনি তাঁর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে জীবনতলায় চলে আসেন। ওখানে খেলার মাঠের পাশে একটি ঘরে মহিলাকে আটকে রাখে ওই মুসলিম যুবকেরা। ওই মাঠে হিন্দু সংহতির কিছু কর্মী ফুটবল খেলছিল। তাদের নজরে পড়ে যে মেয়েটিকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। আরও দেখা যায় যে বাইরে কয়েকজন মুসলিম যুবক মদ্যপান করছে। অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে এই আশঙ্কা করে, ওই কর্মীরা অন্য কর্মীদের বিষয়টি জানান। তৎক্ষণাৎ হিন্দু সংহতির সক্রিয় কর্মী তাপস নস্কর, সন্দীপ নস্কর, মৃত্যুঞ্জয় রায়সহ কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং ঐ মুসলিম ছেলেদের মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং এক কর্মীর বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। পরে ওই মুসলিম ছেলেরা হিন্দু সংহতির কর্মীদের নামে থানায় অভিযোগ জানায় এবং পুলিস তদন্তে আসে। পরে পুলিসের সামনেই ওই মুসলিম ছেলেদের আবার মারধর করে হিন্দু সংহতির কর্মীরা। তারপরেই গতকাল ২৩শে মে ওই গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফে। ওর পরিবারের লোকেরা সুমিতা দাসকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যায় । তাদের মেয়েকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করায় তাঁর পরিবারের লোকেরা হিন্দু সংহতি এবং কর্মীদেরকে অশেষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

জলপাইগুড়িতে রাজবাড়ির মন্দিরের মূর্তিসহ একাধিক মূর্তি ভাঙলো দুষ্কৃতীরা

এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মস্থান সুরক্ষিত নয়। তার প্রমাণস্বরূপ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মন্দিরে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ ঘটে চলেছে। সেই তালিকায় নতুন নাম যোগ হলো জলপাইগুড়ি শহর। গত ১৭ই মে রাতে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মনসা মন্দিরের মূর্তিসহ শহরের একাধিক মন্দিরের মূর্তিতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। পরেরদিন সকালে বিষয়টি শহরের বাসিন্দাদের নজরে আসে। তখনই শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ীর মনসা মন্দির খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির এবং মন্দিরটির সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার মানুষের আবেগ জড়িত রয়েছে। কিন্তু ওই মন্দিরটির মূর্তি ভেঙে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও শহরের জেলা সদর হাসপাতালের ভিতরে থাকা কালী মন্দিরের মূর্তিও ভেঙে দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হয় তিস্তা বুড়ির মন্দিরের মূর্তিও।  এছাড়াও রাজবাড়ীর পার্কে থাকা একাধিক মূর্তিও ভেঙে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। মন্দির ভাঙার খবর পেয়ে শহরের প্রচুর মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি থানার পুলিসও। তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শহরের বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন যে শুধুমাত্র মন্দিরের মূর্তিগুলি কেন ভাঙলো দুষ্কৃতীরা। এ নিয়ে তাদের অভিযোগের তীর শহরে গজিয়ে ওঠা বিশেষ সম্প্রদায়ের বস্তিগুলির ওপর এবং এই ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

আবির খেলাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের লাভপুরে মন্দির ভাঙচুর, হিন্দুদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালো মুসলিমরা

হরিনাম সংকীর্তনের নগর পরিক্রমায় আবির ছোঁড়া নিয়ে হিন্দুরা মুসলিমদের আক্রমণের শিকার হলো। ভাঙার চেষ্টা করা হলো মন্দির। মুসলিম দুষ্কৃতীদের আক্রমণে তিনজন হিন্দু মহিলা সহ মোট সাতজন জখম হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় বোলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। গত ১৬ই মে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার লাভপুর থানার অন্তর্গত ছোটগোগা গ্রামে। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ওই গ্রামে কীর্তন অনুষ্ঠান চলছিল। গত ১৬ই মে শেষ দিনে ধুলোট অনুষ্ঠান অর্থাৎ নগর পরিক্রমা  চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে হিন্দুরা আবির খেলছিলেন নিজেদের মধ্যে। সেই আবির খেলার সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক মুসলমান মোটরবাইক আরোহীর গায়ে লাগে। তখন একটু খানি বচসা হয়। সেদিন বিষয়টি মিতে গেলেও পরেরদিন অর্থাৎ ১৭ই মে, শুক্রবার রাত্রে পশ্চিমপাড়ার একদল মুসলিম দুষ্কৃতী বাঁশ, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ চালায়। বিজলি দত্ত নামে এক হিন্দু গৃহবধূকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে ওই মুসলমান দুষ্কৃতীরা। মুসলিম দুষ্কৃতীদের মারে ওই মহিলা গুরুতর আহত হয়, তাঁর কোমর ভেঙে যায়। নিতাই দাস নামে আর এক হিন্দু গ্রামবাসীর হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও, বেশ কয়েকজন হিন্দুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এছাড়াও, গ্রামের যে মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন চলছিল, সেই মন্দিরটিতে আক্রমণ করে ভাঙতে থাকে মুসলিমরা। এলাকা বাসীরা প্রতিবাদ করলে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।  এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে গ্রামবাসীরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুত্বই অবস্থা যাদের ছিল, তাদের বোলপুরে রেফার করা হয়। বাকিদের লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

হাসনাবাদের হাটখোলা বাজারে হামলা TMC আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের; ভেঙে দেওয়া হলো শনি ঠাকুরের মূর্তি

গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা বিজেপি করে, এই অজুহাতে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালালো টিএমসি-এর ঝান্ডাধারী মুসলিম দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত হাসনাবাদ থানার হাটখোলা বাজারে। স্থানীয় এক হিন্দু বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে গত ১৯শে মে রাত দশটা নাগাদ  একদল মুসলিম দুষ্কৃতী হাটখোলা বাজার এলাকায় এসে বেছে বেছে একের পর হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায়। মুসলিম দুষ্কৃতীরা কয়েকটি আসবেস্টস-এর ছাউনি ভেঙে দেয়। এছাড়াও একটি ক্লাবে ভাঙচুর চালায়। এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা বাজারের পাশে থাকা একটি শনি মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরে থাকা শনি ঠাকুরের মূর্তি টেনে বাইরে ফেলে দেয় এবং মন্দিরে থাকা পূজার উপাচার সামগ্রী তছনছ করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার হিন্দু বাসিন্দারা এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তাঁরা তাদের সেই ক্ষোভ হিন্দু সংহতির প্রতিনিধির কাছে প্রকাশ করেছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকার কিছু হিন্দু বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ডানকুনিতে খুন হলেন গৃহবধূ পিঙ্কি বারি, গ্রেপ্তার প্রেমিক শেখ সেলিম

চিকিৎসককে দেখাতে যাওয়ার কথা বলে নিজের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন লিলুয়ার বাসিন্দা গৃহবধূ পিঙ্কি বারি। তার পরে আর বাড়ি ফেরেননি। সেইদিন রাতেই ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার হয় ডানকুনির হাউসিং মোড়ের কাছের একটি হোটেলে। গত ৯ই মে  এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস গত ১১ই মে পিঙ্কির ‘প্রেমিক’ শেখ সেলিম নামে এক মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় দিনমজুর সেলিম বিবাহিত এবং তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের এক কর্তা জানিয়েছেন, ধৃত সেলিম জেরায় জানিয়েছে, পিঙ্কির সঙ্গে দু বছর আগে তাঁর আলাপ হয়। সেই থেকে দুজনের সম্পর্কের শুরু হয়। এদিকে পিঙ্কি বিবাহিত এবং তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সেলিম আরও জানিয়েছে, সে এবং পিঙ্কি প্রায়ই বিভিন্ন হোটেলে সময় কাটাতো। কিন্তু ইদানিং পিঙ্কি তাকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছিলো  অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। তাই সে পিঙ্কিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। অভিযুক্তের দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিস। আপাতত ধৃত সেলিম পুলিস হেফাজতে রয়েছে।

ঝান্ডার আড়ালে মার খাওয়াই কি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ভবিষ্যৎ?

সময় বদলেছে, শাসক বদলেছে। কিন্তু হতভাগ্য হিন্দুর সুদিন ফেরেনি। বাম জমানায় লাল ঝান্ডার আড়ালে জিহাদি মুসলিমরা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। সেই দীর্ঘ অত্যাচার রাজনীতির সংঘর্ষের পরিচয়ে হিন্দুর সামনে তুলে ধরেছে মিডিয়া। ফলে এ রাজ্যের আপামর হিন্দু বুঝতেই পারেনি যে রাজ্যের অন্য প্রান্তে হিন্দুর ওপর জিহাদের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে।
বর্তমানে শাসকদল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হিন্দুর ওপর অত্যাচার বিন্দুমাত্র কমেনি। টার্গেট সেই একই- হিন্দু; মার খেয়ে, ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালানো হিন্দু। তাই এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এবার টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো সশস্ত্র জিহাদি মুসলিমরা। পুড়ে গেল ঘর-বাড়ি, ধানের গোলা, হিন্দুর দোকানঘর।
ঠিক আগের মতোই কোনো মিডিয়া দেখতে পেল না সেই ঘটনা। সেই আগের মতোই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলে চালানোর চেষ্টা করছে একদল লোক। এর মধ্যেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন কিছু হিন্দু। তাঁরা জানেন না, তারা ভোট দিতে গ্রামে ফিরে আসতে পারবেন কিনা। তবুও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর নেশায় বুঁদ।
কিন্তু আজ পশ্চিমবঙ্গের তামাম হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্ন- এর শেষ কোথায়?
একবারও কি আপনারা ভেবে দেখবেন না ঝান্ডার আড়ালে টার্গেট আপনি, আপনার মন্দির, আপনার সম্পত্তি?

শুধুই কি মার খাবেন? নাকি পাল্টা মার দেবেন?

ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু বাঙালি হিন্দুর; ‘বাংলাদেশে দেহ পাঠাও’, বললো পরিবার

আসামের  তেজপুরের বাসিন্দা বাসুদেব বিশ্বাস। তাঁর পরিচয় সে একজন বাঙালি হিন্দু। ৫৮ বছর বয়সী বাসুদেব বিশ্বাসের পরিবারের সকলে ভারতীয় হলেও, সরকারের চোখে তিনি ছিলেন বাংলাদেশী। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। গত ১২ই মে, শনিবার সেই ডিটেনশন ক্যাম্পেই মৃত্যু হয় বাসুদেব বিশ্বাসের। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিতে অস্বীকার করলো পরিবার। কিন্তু কারণ কি? পরিবারের বক্তব্য, আসলে ভারতীয় হলেও তাকে বাংলাদেশী চিহ্নিত করেই ছেড়েছে প্রশাসন। তাকে জীবিত অবস্থায় যখন ফেরানো গেল না, তখন তাঁর মৃতদেহ নিয়ে কি হবে? পরিবারের আরও দাবি, ডিটেনশন ক্যাম্পে অবহেলা  ও অত্যাচারেই বাসুদেববাবুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ বলা হচ্ছে। বাসুদেববাবুর পুত্ররা দেহ নিতে অস্বীকার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, বাবা যেহেতু বাংলাদেশী ছিল, তাই তাঁর মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠাক সরকার। আর এসবের ফাঁপরে পড়ে হতভাগ্য বাঙালি হিন্দু বাসুদেব বিশ্বাসের মৃতদেহ মর্গেই পড়ে আছে।

সমুদ্রগড়ে হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

হিন্দু সংহতি সমুদ্রগড় শাখা আয়োজিত মা কালী পূজার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ গতকাল ১২ই মে, রবিবার  এলাকার দরিদ্র মহিলাদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে অনুষ্ঠিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তারপরেই বস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়।  এই অনুষ্ঠানে সমুদ্রগড় এলাকার শতাধিক মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবু রাজবংশী, শ্রী প্রশান্ত শিকদার এবং সুমন দাস।

রমজান মাসে রেশনে বিশেষ বরাদ্দ সরকারের

এর আগে সংখ্যালঘুদের নাম করে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি, মাদ্রাসায় ঢালাও বরাদ্দ, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ঋণ, ইমাম ভাতা তো ছিলই। এবার রেশনেও শুরু হলো মুসলিম তোষণ। কারণ রমজানের রোজা চলাকালীন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যে রেশনে বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রমজান মাসের জন্যে রেশনে চিনি,ময়দা,তেল, ছোলার বিশেষ বরাদ্দ হয়েছে। আগামী ৪ঠা জুনের মধ্যে দুই দফায় রোজা পালনকারী গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে,জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা অন্ত্যোদয় এবং স্পেশাল প্রায়োরিটি রেশন গ্রাহকরা এটা পাবেন। এছাড়াও, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ছোলা ও ময়দার প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র রমজানের মাসে ১৯টাকা কেজি দরে ময়দা ও ৪৭টাকা কেজি দরে ছোলা পাবেন। প্রথম দফায় পরিবার পিছু ৫০০গ্রাম করে দুটি সামগ্রী দেওয়া হবে। এছাড়াও পরিবার প্রতি ১ লিটার করে তেল বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে রেশন ডিলারদের সংগঠন আপত্তি তুলেছে। তাঁরা সব শ্রেণীর গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ  তুলেছেন। তারা সরকারকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সব শ্রেণীর গ্রাহকরা এই বিশেষ বরাদ্দ পান। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে অনেকে মনে করছেন যে, স্পেশাল প্রায়োরিটির আড়ালে মুসলিম সম্প্রদায়ের রেশন গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

সমূদ্রগড়ে হিন্দু সংহতি আয়োজিত মা কালীর পূজায় জনসমুদ্র

গত ১১ই মে, হিন্দু সংহতির সমূদ্রগড় শাখার আয়োজিত মা কালীর পূজা মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো। পূজার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জেলে বন্দী তিন হিন্দু সংহতি কর্মী শ্রী সঞ্জিত শর্মা, শ্রী প্রতাপ সরকার এবং শ্রী সঞ্জয় সূত্রধর-এর মুক্তির দাবি তোলা হয় । আজ ছিল পূজার প্রথম দিন। প্রথম দিনে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। যজ্ঞনুষ্ঠানে আশেপাশের প্রচুর মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় পূজাস্থলে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে এবং পূজা প্রাঙ্গণ মেলার আকার ধারণ করে। সেই সঙ্গে আপামর জনগণকে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি উপস্থিত ছিলেন।