দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

আদিবাসী হিন্দু ভাই-বোনদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে গত ৬ই জানুয়ারি, রবিবার হিন্দু সংহতির উদ্যোগে বালুরঘাট ব্লকের মালঞ্চা আয়নাপাড়া গ্ৰামে রবিবার দুস্থ আদিবাসী ভাই বোনদের মধ্যে কম্বল বিতরন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দুঃস্থ আদিবাসী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ৫৮জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মকর্তা শ্রী রজত রায় মহাশয়, বালুরঘাট সদর হাসপাতালের (অবসরপ্রাপ্ত) স্টোর ইনচার্জ শ্রী গৌরীশঙ্কর রায়, বালুরঘাট জেলা আদালতের আইনজীবি শ্রী প্রদীপ সরকার, মুহুরি শ্রী নিশিকান্ত পাহান, পঞ্চায়েত সদস্যা শ্রীমতি সাদ্রী ওরাও এবং আরো অনেকে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হিন্দু সমাজের ঐক্যবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে আরো সক্রিয়ভাবে হিন্দুসমাজে অগ্ৰনী ভূমিকা নেবার আহ্বান জানান। দল নয়, গোষ্ঠী নয়, ভাষা নয়, বর্ণ নয়, পেশা নয়, পরিচিতি একটাই হোক- আমরা হিন্দু; এই বার্তাই দেন বক্তারা।

Advertisements

৫রোহিঙ্গা মুসলিমকে মায়ানমারে ফেরত পাঠালো কেন্দ্র

Members of a Muslim Rohingya family sit as they pose for a photograph with Indian and Myanmar security officials before their deportation on India-Myanmar border at Morehভারতে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী ৫ সদস্যের একটি রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারকে গত ৩রা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার মায়ানমারে ফেরত পাঠালো কেন্দ্র সরকার, সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে এমন খবর জানা  গিয়েছে। আরো জানা গিয়েছে যে ওই রোহিঙ্গা মুসলিম পরিবারটি গত ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে বেআইনিভাবে মনিপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে এবং পরে আসাম পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়। সেই থেকে তারা আসামে জেলবন্দি ছিল। কিন্তু গত বছর কেন্দ্র সরকার ঘোষণা করে যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা ভারতের নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক। আর তারপরেই এদেশে অবৈধভাবে থাকা রোহিঙ্গা মুসলিমদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং তারপরেই রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই মতো গত বছরে অক্টোবর মাসে ৭জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। তারপরেই ৫ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে ফেরত পাঠানো হলো। তাদেরকে মনিপুর সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ওই রোহিঙ্গা মুসলিমদের একটি ছবিও প্রকাশ করেছে, যাতে ওই রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভারত এবং মায়ানমারের বিদেশমন্ত্রকের অফিসারদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে।

শবরীমালা রক্ষায় ভিক্টোরিয়ার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন কলকাতার মালয়ালীদের

sdsdশবরীমালা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন কলকাতায় বসবাসরত শতাধিক মালায়ালী হিন্দু। গতকাল ৫ই জানুয়ারী, শনিবার শতাধিক পুরুষ ও মহিলা হাতে প্ল্যাকার্ড, প্রদীপ ও ফুলসহ পুজোর থালা হাতে নিয়ে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় কেরালার হিন্দু জনতার আন্দোলনকে সমর্থন জানান। অনেকের মাথায় ‘সেভ শবরীমালা’ লেখা ফেট্টি বাঁধা ছিল। প্রসঙ্গত কলকাতায় খুব কম সংখক মালয়ালম হিন্দু বসবাস করেন। কিন্তু তাদের এই ক্ষুদ্র পরিসরের প্রতিবাদ কেরালার আন্দোলনরত হিন্দু জনতাকে সমর্থন যোগাবে, এমনটাই ধারণা বিক্ষোভকারীদের। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ”শবরীমালা মন্দিরের ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষায় কেরালার হিন্দুদের আন্দোলনের প্রতি হিন্দু সংহতির পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।”এছাড়াও তিনি বলেন ”ভবিষ্যতে কলকাতার মালয়ালী হিন্দুরা যদি বৃহৎ পরিসরে আন্দোলন করে, হিন্দু সংহতি তাদের পাশে থাকবে। ”

অপহৃতা প্রিয়া সরদার এখনও উদ্ধার হলো না

IMG-20181228-WA0033অপহৃতা হওয়ার পর আজ ১০দিন কেটে গেল। এখনও উদ্ধার হলো না উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের মাধাই সরদার-এর ১৫ বছর ৮ মাস বয়সী নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করতে পারলো না পুলিস। মাধাই সরদার একজন দরিদ্র মানুষ, যিনি দিনমজুরের কাজ করেন।এমতবস্থায় বারবার পুলিসের দ্বারস্থ হয়েও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে উদ্ধার হয়নি তার কন্যা। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে আইনিসহ সবরকম সহযোগিতা করা হচ্ছে প্রিয়ার পরিবারকে, যাতে তাদের মনোবল না ভেঙে পড়ে । তাছাড়া গত ৩রা জানুয়ারি, রাজ্যের শিশু ও মহিলা কল্যাণ দপ্তরে নিজের কন্যাকে দ্রুত ফিরিয়ে দেবার আবেদন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন হতভাগ্য পিতা মাধাই সরদার।এছাড়াও কেন্দ্রের Schedule Castes ডিপার্টমেন্টে চিঠি দিয়েছেন তিনি।তা সত্বেও এখনো উদ্ধার হলো না নাবালিকা প্রিয়া সরদার। মিনাখাঁ থানার পুলিস শুধু এক কথাই বলে চলেছে-আমরা চেষ্টা করছি।কিন্তু উদ্ধার করার লক্ষ্যে কোনোরকম দায়িত্বপূর্ণ উদ্যোগ পুলিসের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি।হয়তো প্রিয়ার পিতা দিনমজুর বলে সুবিচার থেকে বঞ্চিত।
এমতবস্থায় সুশীল, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের কাছে নিবেদন এই যে আপনারা আন্দোলন গড়ে তুলুন, প্রতিবাদের ভাষাকে জোরদার করুন।

সিলেটের গৌরাঙ্গ মন্দিরে লুঠপাট দুষ্কৃতীদের

gouranga akhraনির্বাচনের পরেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা অব্যাহত। গত ৩রা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার  রাতে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের দুপড়িরপাড় গ্রামে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আখড়ায় লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে!রাতের অন্ধকারে মন্দিরের তালা ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে মন্দিরের বিগ্রহের স্বর্নালংকার ও সেবায়েতের ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।সেই সঙ্গে মন্দিরের মধ্যে থাকা পূজার বাসনপত্র ফেলে দেয় এবং মন্দিরের ভিতরে থাকা পূজার জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র তছনছ করে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে আখড়া কতৃপক্ষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

কলকাতার নারকেলডাঙায় চার লক্ষাধিক টাকার জালনোটসহ ধৃত ২

জালনোটের কারবারের রমরমা চলছে পশ্চিমবঙ্গে। আর প্রতিক্ষেত্রেই জালনোট আসছে সেই মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেই। গতকাল ৪ঠা জানুয়ারী, শুক্রবার  কলকাতায় দুই জালনোট কারবারির গ্রেপ্তারে তারই প্রমান মিললো। কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারকেলডাঙা থানা এলাকার স্বর্ণময়ী স্ট্রিট থেকে কলকাতার ২ বাসিন্দা এবং মালদহের এক জালনোট কারবারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪লক্ষ টাকারও বেশি জালনোট। গ্রেপ্তার হওয়া দুই জন হলো মহম্মদ আক্রম আলী এবং মহম্মদ গুডডু কুরেশি। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি তিলজলাতে এবং অপরজনের বাড়ি তপসিয়াতে। এরা মালদহ থেকে জালনোট নিয়ে এসে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে দিতো। এদের সঙ্গে মালদহের জালনোট কারবারি আনারুল হক-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। আনারুল হক আবার বাংলাদেশ থেকে জালনোট ভারতে নিয়ে আসতো এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতো। ধৃতদের জেরা করে এই কারবারে আর কারা কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

কোচবিহারে পুলিস ভ্যান থেকে পালিয়ে গেল ২ বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারী

সংশোধনাগারে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ কর্মীদের মারধর করে পালিয়ে গেল গ্রেপ্তার হওয়া দুই বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারী । গতকাল ২রা জানুয়ারী, বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার  ঘুঘুমারি এলাকায়। ওই ঘটনায় প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে ।জানা গিয়েছে, দিন ১৭ আগে অবৈধ ভাবে ভারতের প্রবেশ করার সময় দিনহাটা মহকুমার নয়ার হাট এলাকা থেকে বিএসএফ ২জন বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে  আটক করে। পরে তাদের দিনহাটা থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।  পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃত ওই দুই বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী  নাম মিজানুর শেখ ও সারিদ শেখ। এদিন তাঁদের দিনহাটা আদালত থেকে কোচবিহার সংশোধনাগারে নিয়ে আসার সময় ঘুঘুমারি এলাকায় পুলিশ কর্মীদের মারধর করে পুলিস ভ্যান থেকে পালিয়ে যায় ওই দুই বাংলাদেশী কয়েদি । পলাতক ওই দুই বাংলাদেশীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।

শবরীমালা আন্দোলন নারী অধিকারের জন্য নয়, হিন্দু শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য : দেবতনু ভট্টাচার্য

save sabarimalaশবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের অধিকারের পক্ষে যারা আন্দোলন করছেন, নারীদের সমানাধিকার তাদের লক্ষ্য নয়। হিন্দুর শ্রদ্ধার কেন্দ্রগুলোকে আঘাত করে হিন্দুর আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দেওয়ার পুরনো খেলারই একটা নতুন ইনিংস এই শবরীমালাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন না-এরকম কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম হিন্দু ধর্মে নেই। বরং মন্দিরে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের উপস্থিতিই সর্বত্র বেশি পরিমাণে দেখা যায়। সুতরাং ধর্মাচরণের অধিকারের প্রশ্নে মহিলাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ কোনোভাবেই ধোপে টেকে না।
আচ্ছা মনে করুন, আজ সকাল সকাল সমস্ত গার্লস স্কুলের সামনে যদি ছেলেরা আন্দোলন শুরু করে, আমাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে, আপনি এটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখবেন? একটা গার্লস স্কুলে ছেলেদের প্রবেশের অধিকার না দেওয়ার অর্থ কি ছেলেদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া? ছেলেদের জন্য অথবা কো-এডুকেশন অনেক স্কুল আছে ভাই। শিক্ষাগ্রহণের সদিচ্ছা থাকলে সেখানে যাও। কিন্তু কেউ যদি জেদ ধরে বসে থাকে যে, আমাকে এই গার্লস স্কুলেই ঢুকতে দিতে হবে – তাহলে বুঝতে হবে যে শিক্ষাগ্রহণ বাদে তার অন্য কোথাও মতলব লুকিয়ে আছে এই জেদের পিছনে। বিশেষত এই ব্যক্তি যদি ছাত্র কিংবা ছাত্রী, শিক্ষক অথবা অশিক্ষক কর্মচারী অথবা ছাত্রের অভিভাবক – কোনভাবেই শিক্ষাক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত না হন, শুধুমাত্র পুরুষ বলেই ছাত্রদের অধিকার রক্ষার তাগিদে তিনি গার্লস স্কুলে প্রবেশাধিকার চান, তাহলে তার এই উদ্যোগের পিছনে যে কোনো দূরভিসন্ধি আছে একথা ভাবা কি অযৌক্তিক হবে? মনে করুন বারুইপুর স্টেশনে ট্রেনের পুরুষ যাত্রীদের আন্দোলন চলছে – নারী পুরুষে বিভেদ করা মানছি না মানবো না। মহিলা কামরায় পুরুষদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে। কি বলবেন? অনেকে হয়তো বলবেন, এগুলোতো সরকারের তৈরি করা ব্যবস্থা! আচ্ছা, কলকাতারই অনেক গগনচুম্বি বিল্ডিংয়ের মেইন গেটে লেখা থাকতে দেখেছি – সেলসম্যানদের প্রবেশ নিষেধ। কিংবা ভিক্ষুকদের প্রবেশ নিষেধ। সেলসম্যান কিংবা ভিক্ষুকদের আন্দোলন শুরু হলে কি বলবেন? তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালতই বা কি রায় দেবে? এই ব্যবস্থা তো নিশ্চই সরকারের তৈরি নয়!
আমাদের দেশে সর্বসাধারণের জন্য আইনের পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য মুসলিম পারসোনাল ল আছে. সেখানে মাত্র ১৫ বছর বয়সে একজন মুসলিম বালিকার বিয়ে দেওয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের অধিকার নিয়ে যারা লড়াই করছেন, তারা এই বিষয়ে সোচ্চার হচ্ছেন না কেন? ১৫ বছর বয়সী মুসলিম নাবালিকাদের অধিকার নেই ১৮ বছর বয়সে সাবালিকা হয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার? এর চাইতে শবরীমালায় প্রবেশাধিকারটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ! পাশাপাশি সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা আছে সেই ১৫ বছরের সেই মুসলিম নাবালিকাকে ন্যায়বিচার দেওয়ার? ক্ষমতা আছে, সাবালিকা হওয়ার আগে কেউ সেই মেয়েটির বিয়ে দিতে পারবে না –এই রায় দেওয়ার? কিন্তু শবরীমালা মন্দিরে মহিলারা কেন প্রবেশ করতে পারছে না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যারপরনায় চিন্তিত! অযোধ্যায় রামমন্দিরের পক্ষে সমস্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটার পর একটা ডেট পড়ে চলেছে, এক্ষেত্রে গোটা হিন্দু সমাজের জন্য Justice delayed is justice denied হচ্ছে না? অথচ শবরীমালায় সুপ্রিম কোর্ট অতি সক্রিয়! শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশাধিকারের বিষয়টা আয়াপ্পার ভক্তদের সিদ্ধান্ত, পরম্পরাগতভাবে এই নিয়ম পালিত হয়ে এসেছে। আজকে এটা কাস্টমারী ল’য়ে পরিণত হয়েছে। এই আইন যদি পরিবর্তন করতে হয়, তার আবেদন আয়াপ্পার ভক্তদের মধ্য থেকে উঠে আসতে হবে, কোনো রেহানা ফতেমা কিংবা কোনো মেরী সুইটির আবেদনের ভিত্তিতে এই আইনের পুনর্বিবেচনা হতে পারে না।
আশ্চর্যের বিষয়, বোরখা পরে মুসলমান মহিলারা, যাদের বোরখা সরিয়ে খোলা বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার অধিকার তাদের নিজেদের ধর্ম তাদের দেয় না, তারা শবরীমালায় আয়াপ্পাভক্ত মহিলাদের অধিকার রক্ষায় মানব বন্ধন তৈরি করে আন্দোলন করছে। মোটের উপর কেরালায় রাজ্য সরকারের সহায়তায় কম্যুনিষ্ট-খ্রীস্টান-মুসলিম লবি একজোট হয়ে হিন্দু সমাজকে ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছে, শবরীমালা যার একটা উপলক্ষ্য মাত্র। এই পরিস্থিতিতে সারা ভারতের হিন্দু শক্তিকে কেরলের হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে হবে। হিন্দুরা এই অন্যায় সহ্য করবে না। কেরলের আন্দোলন শুধুমাত্র কেরলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কেরল সরকারের এই হিন্দু বিরোধী ভূমিকা অবিলম্বে বন্ধ না হলে সারা ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গেও তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে। কেরল সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কেরল থেকে নিয়ন্ত্রিত বহু চার্চ সারা ভারতে ছড়িয়ে আছে। শবরীমালার প্রতিক্রিয়ায় সেগুলো জনরোষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাকে মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

হিন্দু সংহতির উদ্যোগে কুমারগঞ্জে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার অন্তর্গত কাঁটাকোল গ্রামটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম।গ্রামের চারিদিকে দারিদ্র্যের ছাপ। খড়ের ছাউনি এবং বাঁশের বেড়াতে মাটির লেপ দেওয়া দেওয়ালের বাড়িতে আদিবাসী ভাই-বোনদের বসবাস; বেশ কয়েকটি বাড়িতে টিন এবং এসবেস্টস-এর ছাউনি দেওয়া। সমাজের এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলির মাঝে কাজ শুরু করলো হিন্দু সংহতি।সেই কাজের অঙ্গ হিসেবে এই শীতে সেইসমস্ত আদিবাসী ভাই-বোনদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে আজ হিন্দু সংহতির উদ্যোগে একটি কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ২৫জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল প্রাপকদের মধ্যে কয়েকজন বৃদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বালুরঘাট শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী রজত রায়।

নির্বাচনের আগেই আক্রমণের শিকার বাংলাদেশের হিন্দুরা

রাত পোহালেই বাংলাদেশ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগেই আবারও বাংলাদেশে আক্রান্ত হিন্দুরা। উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি হিন্দুবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে এনিয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলায় তিনটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

আখানগর ইউনিয়নের ঝাঁপরতলি গ্রামের আনন্দ চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা হয়। শুক্রবার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া শাহপাড়া গ্রামে কৃষ্ণ ঘোষের এবং আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাও গ্রামের যাক্রু বর্মনের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্তদের অভিযোগ পরিকল্পনা করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট দিতে না পারেন সেই কারণেই এই হামলা বলে অভিযোগ।

আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে নির্বাচনের আবহে ওই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হতে পারে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও এই আশঙ্কার উল্লেখ করা ছিল। পরিস্থিতি অশান্ত করতেই আইএসআই মদতপুষ্ট বিএনপি ও জামাত হিন্দুদের নিশানা করতে পারে বলে ধারণা অনেকের। কারণ সংখ্যালঘুদের বড় একটা অংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভোট গ্রহণ। ফলে দেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নির্বাচনের আগে ও ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। বাড়িতে ঢুকে হামলা, কটুক্তি হুমকির ঘটনা নতুন নয় সেখানে। সংখ্যালঘু ঐক্য পরিষদের দাবি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তর। সেই জন্যেই তারা সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

লাভ-জিহাদের শিকার মিনাখাঁর হিন্দু নাবালিকা প্রিয়া সরদার, হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পিতা

IMG-20181228-WA0033লাভ-জিহাদের করাল গ্রাসের শিকার হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে  হিন্দু সমাজের একের পর এক কন্যা। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলেছে পশ্চিমবঙ্গে। এবার লাভ-জিহাদের শিকার হলো উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মিনাখাঁ থানার অন্তর্গত গড় আবাদ গ্রামের বাসিন্দা  হিন্দু নাবালিকা প্রিয়া সরদার(নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৫ বছর ৮মাস)। সে গত ২৩শে ডিসেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাঁর পিতা শ্রী মাধাই সরদার বিশেষ সূত্রে জানতে পারেন যে ওই গ্রামের বাসিন্দা মোক্তাউদ্দিন মোল্লা তাঁর মেয়েকে নিয়ে গিয়েছে। এরপরেও তিনি তার মেয়ের খোঁজ করতে থাকেন। কোনোভাবে মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি মিনাখাঁ থানায় অভিযুক্ত মুসলিম যুবক মোক্তাউদ্দিন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন, যার FIR নম্বর ৩৮৪/১৮। পুলিসের কাছে দায়ের করা অভিযোগে প্রিয়ার পিতা মাধাই সরদার জানিয়েছেন যে অভিযুক্ত মুসলিম যুবক মোক্তাউদ্দিন তার মেয়েকে অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত হিন্দু নাবালিকা প্রিয়া সরদারকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। এমতবস্থায় প্রিয়ার পিতা তার নাবালিকা কন্যাকে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা চেয়ে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য-কে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন তার নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধারে সহযোগিতা চেয়ে। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তাকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো হিন্দু সংহতি

Taldiহিন্দু সংহতি সবসময়ই তার কর্মীদের বিপদে-আপদে পাশে থেকেছে। এবারও সেই ধারা বজায় থাকলো। গত ২৬শে ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং-এর দুই জন কর্মী সৌমেন নস্কর এবং চিরঞ্জিত হালদারকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি মারফত জানা গিয়েছে, গত ২৫শে ডিসেম্বর রাত্রে ক্যানিং-এর তালদি বাস স্ট্যান্ডে একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার সময় দুইজন মুসলিম যুবককে ব্যাপক মারধর করে হিন্দু সংহতির কর্মীরা। সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করে ওই মুসলিম যুবকেরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে দুই জন হিন্দু সংহতির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে ক্যানিং থানার পুলিস। পরেরদিন তাদেরকে কোর্টে তুললে তাদেরকে জামিন করানো হয়। জামিন করানোর সময় হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতেও হিন্দু সংহতি তার্কর্মীদের পাশে দাঁড়াবে বলে তিনি  জানান।

মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যে ঢালাও ঋণ রাজ্য সরকারের

রাজ্যের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়ার জন্যে বিশাল পরিমান টাকা ঋণ দিচ্ছে রাজ্য সরকার।  সেই টাকাতে মুসলিম ছাত্ররা চীন, রাশিয়া,বাংলাদেশ এবং ইউরোপের বহু দেশে ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছে এই রাজ্য থেকেই। তাদেরকে ঋণ দিচ্ছে ”রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম”। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঋণ-এর পরিমান ২০লাখ টাকা এবং সুদ দিতে হবে তিন শতাংশ হারে। আর ঋণ শোধ করার শর্ত হলো ডাক্তারি পড়া শেষ করার ছয় মাস পর থেকে ঋণ শোধ করা শুরু করতে হবে। এই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে এই ঋণ সবথেকে বেশিজন পেয়েছেন মালদা জেলায়। জানা গিয়েছে, এইবছর মালদা জেলায় ঋণ পাওয়ার জন্যে আবেদন করেছিলেন ২৫০জন মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী, যাদের মধ্যে ১৮৫জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে। এদের অনেকেই বিদেশে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাচ্ছেন।
 পূর্বতন বাম সরকারের আমলেও এই ঋণ দেওয়া চালু ছিল এবং ঋণের পরিমান ছিল ৫ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমান আমলে তার পরিমান বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিম ছাত্রদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্যে সরকারি ঋণ দেওয়া হলেও, গরিব পরিবারের মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি পড়ার, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন কি দোষ করলো? সবার জন্যে উচ্চ শিক্ষার ঋণ ব্যাংকগুলি দিলেও, শুধমাত্র মুসলিমদের জন্যে সরকারি ঋণ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। হিন্দুদের জন্যে এইরকম কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গরিব,অথচ মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটে যেতে হয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলির দরজায়। ঋণ পেলেও সুদ দিতে হয় বেশি; আর ঋণ না পেলে বিদেশে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার  স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ” একদিকে সংখ্যালঘু তোষণের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, অপরদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার আফিম খেয়ে হিন্দুরা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ ধসে পড়ছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তারা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই বোধই হিন্দুদের নেই। আমাদের প্রজন্ম আমাদের দায়িত্ব পালনে সার্বিক ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আজ হিন্দু যুব ও ছাত্র সমাজকে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে, নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য মাঠে নামতে হবে, সমাজের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিতে হবে”।

মুর্শিদাবাদ জেলা আগ্নেয়াস্ত্র ওবোমা কারবারিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে

মুর্শিদাবাদ জেলায়  সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা। এমনকী, দিনমজুর ও সব্জি বিক্রেতার বেশে কারবার চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯২টি বোমা উদ্ধার হওয়ায় এমনই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা, লোকসভা ভোটের আগে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা জেলায় জাল বিস্তার করছে। এদের সঙ্গে মুঙ্গেরের অস্ত্র এবং বাংলাদেশের বোমা তৈরির কারিগরদের যোগাযোগ আছে বলেই মনে হচ্ছে। জেলার পুলিস সুপার মুকেশ কুমার অবশ্য বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিস সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বোমা ও অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪শে ডিসেম্বর, সোমবার রাতে মহম্মদ শাহনাওয়াজ ওরফে নাসিম নামে এক অস্ত্র কারাবারিকে গ্রেপ্তার করে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস। নিউ ডাকবাংলো মোড় থেকে ওই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত নাসিম এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। ধৃতের কাছ থেকে চারটি পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই রাতেই বেলডাঙা থানার পুলিস ঝুমকা মোড় থেকে সাকির শেখ নামে এক সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি মিলেছে। মির্জাপুরের নতুন পাড়ায় ধৃতের বাড়ি। গত শনিবার জলঙ্গি থানার পুলিস মাহাতাব কলোনি থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ডগুলি সহ আনিসুর মণ্ডল নামে এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম, একটি সেভেন এমএম, একটি ছয়ঘরা এবং দু’টি পাইপগান মিলেছে। শুক্রবার সকালে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর দক্ষিণপাড়া থেকে আনসার আলি ওরফে হাবল নামে এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আনসার এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। মির্জাপুরে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ডোমকল থানার পুলিস একটি নাইন এমএম পিস্তল সহ সাহারুল ইসলাম নামে আর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর দু’দিন আগে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর থেকে অস্ত্র সহ এক ইটভাটার মালিককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে সেভেন এমএম এবং নাইন এমএম পিস্তল সহ আটটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এর বাইরে রবিবার সূতি থানার ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন সাহাজাদপুর ও চণ্ডীতলা গ্রামে পাঁচটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮২টি বোমা উদ্ধার করে পুলিস। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন দিনমজুর ও একজন সব্জি বিক্রেতা। যার মধ্যে ৬২টি ‘টেপ বোমা’ ছিল। ধৃতদের মধ্যে দু’জন এর আগে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক মজুত আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই রাতেই ভরতপুর থানার গুন্দোরিয়া গ্রামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়ি থেকে ১০টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। এইসব গ্রেপ্তারির ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুর্শিদাবাদ জেলায় রমরমিয়ে চলছে বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার, যা নিয়ন্ত্রণ করাই পুলিসের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ।

লাভ জিহাদের শিকার অনুশ্রী বর্মন, হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

Anuradha Barmanকোচবিহার জেলার শিতলকুচি থানার অন্তর্গত জায়গীর নাওহাটি(পাঠানটুলী) গ্রামের বাসিন্দা হেমন্ত বর্মনের মেয়ে অনুশ্রী বর্মন(নাম পরিবর্তিত) গত 20শে ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়ে যায়।বাড়ির লোক অনেক খোঁজাখুঁজি করে অনুশ্রীকে পায়নি।শেষে স্থানীয় সূত্রে তিনি জানতে পারেন যে স্থানীয় ৪জন মুসলিম যুবক অনুশ্রীকে নিয়ে গিয়েছে।তারপরই ২২শে ডিসেম্বর তারিখে অনুশ্রীর পিতা শিতলকুচি থানায় ওই ৪জন মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেন,যার নম্বর ২৪৯/১৮।ওই ৪জন মুসলিম যুবক হলো ১) রানা মিয়াঁ, ২) মজিদ মিয়াঁ, ৩) হাপে মিয়াঁ এবং ৪)নাজিমুল মিয়াঁ।তিনি তার থানায় করা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে তার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়েছেওই যুবকেরা।এমনকি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে পাশেই যেহেতু বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে, তাই তার মেয়েকে বাংলাদেশে পাচার করে দেওয়া হতে পারে এবং তার মেয়ে কোথায়, কি অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়ে তিনি খুব চিন্তিত, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।কিন্তু কয়দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত তার মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।এমনকি তিনি জানিয়েছেন যে পুলিসের ভূমিকায় তিনি সন্তুষ্ট নন, তিনি এও অভিযোগ করেন যে পুলিস উনাকে নিজের মেয়েকে খোঁজার কথা বলেছে।এমতবস্থায় তিনি তার কন্যাকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন।তিনি হিন্দু সংহতির কাছে সাহায্যের জন্য কাতর প্রাথর্না জানান।হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তার মেয়েকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।