পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে নতুন জিহাদি সংগঠন ”জামাত -উল-মুজাহিদিন-ইন্ডিয়া”

শীর্ষনেতার নাম কওসর ওরফে বোমারু মিজান৷ সংগঠনের নতুন নাম জেএমআই৷ আপাতত এই নামেই এ রাজ্য -সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ডানা মেলছে বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জেএমবি৷ এমনকী তারা মুর্শিদাবাদের ঘাটি গেড়ে রীতিমতো মডিউল তৈরি করে ফেলেছে৷ সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের হাতে দুই জেএমবি জঙ্গি ধরা পড়ার পরে জানা গিয়েছিল , বিহারের বৌদ্ধ গয়ায় কী ভাবে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল তারা৷ এ বার জানা গেল নিজেদের কাজ কতটা নিখুঁত হয়েছে , তা জানার জন্য ‘ট্রায়াল রান ’ হিসেবে ওই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়৷ ২০১৪ সালের অক্টোবরে খাগড়াগড়ে তৈরি করার সময়ে হ্যান্ড গ্রেনেড ফেটে ওই সংগঠনের চার জন মারা যান৷ গোয়েন্দা সূত্রের খবর , সে সময়ে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিল কওসর৷ কিন্তু ওই একটি ঘটনায় পুরো সংগঠনের গোপন কাজকর্ম প্রকাশ্যে এসে পড়ে৷ ফলে তীব্র ভাবে কথা শুনতে  হতে হয় কওসর ওরফে বোমারু মিজানকে৷ একটা সময়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়ে সে পুরোনো সংগঠনের কাজকর্ম ছেড়ে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয়৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর , ওই সংগঠনের শীর্ষনেতা মেজর জিয়ার সঙ্গে কাজ শুরু করে কওসররা৷ তারা যোগাযোগ শুরু করে আইএসের এশিয়া শাখার সঙ্গে৷ দু’পক্ষের মধ্যে ঐক্য দানা বাঁধার পরে ঢাকায় জঙ্গি হানা৷ কিন্তু এর পরেই বাংলাদেশ জুড়ে ব্যাপক পুলিশ তত্পরতায় তামিম চৌধুরি এবং সালওয়ার নামে দুই নেতার মৃত্যু হয়৷ ফলে এই সংগঠনের কাজ অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়ে৷ এর ঠিক পরেই বর্তমান নেতা আয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় কওসরের৷ ফলে সে আবার তার পুরোনো সংগঠনে যোগ দিয়ে এ পারে পালিয়ে আসে৷ শুরু করে নতুন সংগঠন বাড়ানোর কাজ৷ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন , গত বছরের অগস্টে জেএমবির শীর্ষনেতা সালাউদ্দিনের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে কওসরের বৈঠক হয়৷ সেই বৈঠক থেকেই নতুন জেএমআই অর্থাত্ জামাত -উল -মুজাহিদিন ইন্ডিয়ার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল৷ সংগঠনের ভারতীয় শাখার প্রধান করা হয় বোমারু মিজানকে৷ তাকে দিয়ে মোট ২২ জনের একটি কোর গ্রুপ তৈরি করা হয়৷ যাদের তিন ভাগে ভাগ করে পাঠানো হয় চেন্নাইতে প্রশিক্ষণের জন্য৷ কিন্ত্ত চেন্নাইয়ে কেন ? গোয়েন্দা সূত্রের খবর , কলকাতা বা তার আশপাশের জেলাগুলিতে খাগড়াগড়ের ঘটনার পরে পুলিশের নজরদারি অনেকটা বেড়ে গিয়েছে৷ গত কয়েক বছরে একাধিক জেএমবি নেতা গ্রেন্তারও হয়েছে৷ ফলে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো ঝুঁকি এখানে নিতে রাজি হয়নি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠন৷ কয়েকমাস প্রশিক্ষণের পরে নতুন যোগ দেওয়া যুবকদের পাঠানো হয় বৌদ্ধগয়ায়ে নিজেদের তৈরি করা আইইডি বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য৷ পুলিশ জানতে পেরেছে , ঝাড়খণ্ডে এই সংগঠনের যে শাখা রয়েছে , তারা পাকুড় থেকে সরঞ্জাম সরবরাহ করে তা পাঠিয়ে দেয় মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে৷ সেখান থেকে আইইডি তৈরি হয়ে চলে যায় বৌদ্ধ গয়ায়৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর , আপাতত সালাউদ্দিনের সংগঠনের সঙ্গে আল কায়দার এশিয়া শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে৷ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বাংলাদেশের এই জঙ্গি সংগঠনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আইসিস এবং আল কায়দা দু’পক্ষই নিজেদের সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করে৷ কলকাতা পুলিশের হাতে প্রায় ছ’মাস আগে দুই আল কায়দা জঙ্গি ধরা পড়ার পরে গত সন্তাহে পয়গম্বর শেখ -সহ তিন জেএমবি জঙ্গিকে গ্রেন্তার করে এসটিএফ৷ তার পরেই উঠে আসে সংগঠনের নতুন কাজকর্মের হদিস৷

Advertisements

কলকাতা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা পিনটু গাজী

ব্যাগে গুলি নিয়ে বিমানে উঠতে গিয়ে ধরা পড়লো এক ব্যক্তি। গত ২৫শে জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা বিমানবন্দরে। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা পিনটু গাজী কেরালা যাবার উদ্দেশ্যে বিমান ধরার জন্যে আসেন। কিন্তু ব্যাগ স্ক্যান করার সময় দেখা যায় যে ওই ব্যক্তির ব্যাগে গুলি রয়েছে। তখন বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানরা তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

কোচবিহারের বাংলাদেশ সীমান্তে জওয়ানকে খুন করলো পাচারকারীরা

সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক জওয়ানের গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হল কোচবিহারের বাংলাদেশ সীমান্তে৷ সাহেবগঞ্জ থানা এলাকায় গাছের সঙ্গে বেঁধে তাঁর সার্ভিস রাইফেল থেকে গুলি করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত৷ জওয়ানের দেহে গুলির ক্ষতচিহ্ন মিলেছে৷ আদতে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও -এর বাসিন্দা বিএসএফের ৪২ ব্যাটেলিয়নের জওয়ান অরবিন্দ কুমারের (২৫ ) মৃত্যুর পিছনে গোরুপাচারকারীদের হাত আছে বলে পুলিশের অনুমান৷ তবে নৃশংস ভাবে খুন কার কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত নন তদন্তকারীরা৷ কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে বলেন , ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে৷ সেগুলি খতিয়ে দেখলে কারণ স্পষ্ট হবে৷ পাচারকারীদের পাশাপাশি এর পিছনে অন্য কোনও বিবাদ আছে কি না , তা-ও দেখা হচ্ছে৷ ’ দিনহাটা -২ নম্বর ব্লকে সাহেবগঞ্জের কাছে দুর্গানগর সীমান্ত চৌকি এলাকায় বুধবার রাতে আচমকা গুলির শব্দ শুনে সেখানে ছুটে গিয়ে অরবিন্দের দেহ দেখতে পান সেখানে নিযুক্ত অন্য জওয়ানরা৷ খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান বিএসএফের কোচবিহার সেক্টরের ডিআইজি সি এল বেলওয়া৷ বৃহস্পতিবার সকালে কোচবিহারের পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডি দিব্বা , দিনহাটার এসডিপিও কুন্তল বন্দ্যোপাধ্যায় , দিনহাটা -২ নম্বর ব্লকের বিডিও অমর্ত্য দেবনাথ -সহ পদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন৷ পুলিশ সুপার সেখানেই উপস্থিত বিএসএফ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন৷ ঘটনাস্থল দড়ি দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়৷ জওয়ানের দেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়৷ কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত , পুলিশ সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে না -পারলেও সাহেবগঞ্জ -সহ দিনহাটার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারত -বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানে যুক্তরাই যে এর পিছনে আছে , সে সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংশয় নেই৷ ওই সীমান্ত দিয়ে মূলত গোরুর চোরাচালান হয়ে থাকে৷ শীতে কুয়াশার আড়ালে স্বাভাবিক ভাবেই তা বাড়ে৷ এতে প্রধান বাধা সীমান্তে টহলদার বিএসএফ জওয়ানরা৷ তাঁদের সঙ্গে অতীতেও দুষ্কৃতীদের সংঘর্ষ হয়েছে৷ কিন্ত্ত এক বিএসএফ জওয়ানকে এ ভাবে হাত -পা বেঁধে তাঁর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তাঁকেই খুন করার ঘটনা নজিরবিহীন৷ জওয়ানের দেহের পাশে রাইফেল ছাড়াও তাঁর ওয়াকিটকি ও একটি দা উদ্ধার হয়েছে৷ যে জায়গায় অরবিন্দ দায়িত্বে ছিলেন , সেখান থেকে ৫০ মিটার দূরত্বে দেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ তাঁর গলাতেও আঘাতের চিহ্ন মেলে৷ একটি সূত্রের দাবি , পাচারকারীরা মারধর করতে করতে তুলে নিয়ে যায় ওই জওয়ানকে৷ কী করে সেই ঘটনা আশপাশে নজরদারির দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের চোখ এড়িয়ে গেল , সে প্রশ্ন উঠেছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই এতে গাফিলতির অভিযোগও উঠছে৷

স্বরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর আসানসোলে, মন্দির করে দেবার প্রতিশ্রুতি মেয়রের

গত ২৩শে জানুয়ারী, মঙ্গলবার রাতে আসানসোল পুরসভার ৪৩নং ওয়ার্ডের দিলদারনগর এলাকায়। ওই এলাকার স্থানীয় একটি ক্লাব প্রতি বছরের মতো এবছরও স্বরস্বতী পূজোর আয়োজন করেছিল। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। ঘটনার রাতে মণ্ডপে কেউ ছিল না। অভিযোগ সেই সুযোগ নিয়ে স্থানীয় কোনো দুষ্কৃতী প্রতিমার কিছু অংশ ভেঙে দিয়ে চলে যায়। পরের দিন এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় বেরিয়ে এসে বিক্ষোভ দেখতে থাকেন। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় ছুটে আসেন আসানসোল পুরসভার মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারী। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাতদিনের মধ্যে নতুন মন্দির তৈরি মোর দেবার প্রতিশ্রুতি দেন।

তমলুকে শীতলা ও মনসা মন্দিরে ভয়ঙ্কর চুরি, দুষ্কৃতী অধরা

রাতের অন্ধকারে গ্রামের শীতলা মাতা ও মনসা মাতার মন্দিরের সোনা ও রুপোর গহনা মিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার সামগ্রী চুরির ঘটনা ঘটলো। গত ১৯শে জানুয়ারী, শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক থানার নারায়ণদাঁড়ি গ্রামে। মন্দিরটি তার বাড়ির পাশে হওয়ায় গ্রামের বাসিন্দা মদন মোহন বেরা মন্দিরটির দেখভাল করেন। তিনি এই চুরির ঘটনা জানিয়ে গত ২০শে জানুয়ারী, শনিবার তমলুক থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি থানায় করা অভিযোগে জানিয়েছেন যে প্রায় ৭লক্ষ টাকার গহনা চুরি গিয়েছে। চুরি যাওয়া গহনাগুলির মধ্যে সোনার হার ৪টি, সোনার শাঁখা ৪টি, রুপোর বালা ২০টি, সোনা ও রুপোর চুড়া ৪টি ইত্যাদি। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত চুরির ঘটনায় জড়িত কোনো দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার হয়নি।

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে দুস্থদের কম্বল বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ২৪শে ডিসেম্বর, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট এলাকার বড়িশা গ্রামে স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে দুস্থ সহায়-সম্বলহীন মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২০০ জন মহিলাকে কম্বল দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির এই মহতী উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো কলকাতার ”সালাসার ভক্তবৃন্দ”। এছাড়াও ঐদিন হিন্দু সংহতির কর্মীরা বড়িশা মোড়ে একটি শ্রী হনুমান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী দেবদত্ত মাজি মহাশয়, হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং সহ-সম্পাদক শ্রী সৌরভ শাসমল। এছাড়া সালাসার ভক্তবৃন্দ -এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শ্রী বীরেন্দ্র মোদী  মহাশয় এবং শ্রী সুশীল যজোতিয়া মহাশয়।

মাদক পাচারের অপরাধে ধৃতের ১০ বছর জেল

কয়েক লক্ষ টাকার মাদক পাচারের অপরাধে মহম্মদ সাবির নামে এক ব্যক্তিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিল আদালত। গত ৮ই ডিসেম্বর, শুক্রবার কলকাতা নগর দায়রা কোর্টের বিশেষ আদালতের বিচারক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় ওই সাজা দেন। বিচারক ওই দণ্ডাদেশের সঙ্গে দু’ লক্ষ টাকা জরিমানাও করেন। সরকারি আইনজীবী স্বপনকুমার নাগ শনিবার জানান, ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর দূরপাল্লার বাসে করে নিষিদ্ধ চরস ওই মাদক কারবারি কলকাতায় পাচার করার মতলবে ছিল। কিন্তু আগেভাগে সেই খবর পেয়ে যান শুল্ক দপ্তরের গোয়েন্দারা। তাঁরা হানা দিয়ে বারাসত থেকে মাদকসহ ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেন। শুল্ক দপ্তরের ওই আইনজীবী জানান, এই ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু সে নাবালক হওয়ায় তার বিচার চলছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। আদালতের রায় নিয়ে ধৃতের আইনজীবী বলেন, নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা উচ্চ আদালতে আপিলের মামলায় যাবেন।

বর্ধমানে গোরু ও মোষ বোঝাই লরি সহ গ্রেপ্তার বেশ কয়েকজন

গরু পাচার রুখতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ। কয়েকদিনে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি গরু ও মোষ বোঝাই লরি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গরু পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে লরি চালক ও খালাসিদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। গত ৮ই ডিসেম্বর, শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি গরু ও মোষবোঝাই লরি বাজেয়াপ্ত করেছে বর্ধমান, রায়না ও ভাতার থানার পুলিশ। নবাবহাট মোড় থেকে পাঁচটি গরু ও মোষবোঝাই লরি বাজেয়াপ্ত করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। লরিগুলি গলসির দিক থেকে আসছিল। গরু পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচ লরি চালককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ৫২টি গোরু ও আটটি মোষ বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। গোরু ও মোষগুলিকে খাটালে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

একটি গোরু ও মোষ বোঝাই লরি বাজেয়াপ্ত করেছে রায়না থানার পুলিশ। সগড়াই-শ্যামসুন্দর রোডে কিষাণমান্ডির কাছে পুলিশ লরিটিকে আটকায়। গোরু ও মোষের বৈধ কোনও কাগজপত্র চালক দেখাতে পারেনি বলে পুলিশের দাবি। লরিটিতে ১০টি গরু ও চারটি মোষ ছিল। অন্যদিকে, ভাতার থানার পুলিশ দু’টি গরু ও মোষ বোঝাই লরি বাজেয়াপ্ত করেছে। লরি দু’টিতে ১৬টি গোরু ও ১২টি মোষ ছিল। বীরভূম থেকে গরু ও মোষগুলি কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে ধৃত লরি চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে পুলিশ। শনিবার ধৃত লরি চালক ও খালাসিদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে সোমবার ধৃতদের ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।

সুপ্রিম কোর্ট নিষিদ্ধ করার পরও স্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিলেন অধ্যাপক স্বামী

শীর্ষ আদালতের রায়ে তিন তালাক বেআইনি হয়েছে দু’মাস হয়ে গেল। কিন্তু বাস্তবে এখনও বহাল তবিয়তে বর্তমান তিন তালাকের অভিশাপ। অভিযোগ, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক খালিদ বিন ইউসুফ খান হোয়াটসঅ্যাপে তালাক দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন খালিদকে।

একেবারে ভেঙে পড়ে ৩ সন্তানের মা ইয়াসমিন বলেছেন, যদি বিচার না পান তবে সন্তানদের নিয়ে ভাইস চ্যান্সেলরের বাসভবনের সামনে আত্মহত্যা করবেন তিনি।

অভিযুক্ত অধ্যাপক এএমইউয়ের সংস্কৃতের অধ্যাপক, ২৭ বছর ধরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে যুক্ত। তিনি প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপ ও পরে টেক্সট মেসেজ করে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। স্ত্রীকে বাড়ি থেকেও বার করে দিয়েছেন তিনি। বিচারের আশায় দোরে দোরে ঘুরছেন ইয়াসমিন। অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যেয় পুলিশের সাহায্যে নিজের বাড়িতে ঢুকতে পেরেছেন তিনি। ইয়াসমিন জানিয়েছেন, ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিচার না পেলে ভিসি তারিক মনসুরের বাড়ির সামনে ৩ ছেলেমেয়েকে নিয়ে তিনি আত্মহত্যা করবেন।

ওই অধ্যাপকও স্বীকার করে নিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টে নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শুধু হোয়াটসঅ্যাপ ও এসএমএসে নয়, ইয়াসমিনকে তিনি শরিয়া মেনে ২ জন সাক্ষীর সামনে মৌখিকভাবেও তালাক দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০ বছর ধরে ইয়াসমিন হেনস্থা করে চলেছেন তাঁকে। বিয়ের আগে একাধিক সত্য গোপন করেছেন বলেছিলেন, তিনি গ্র্যাজুয়েট কিন্তু বিয়ের পর দেখেছেন, তা মিথ্যে কথা।

যদিও ইয়াসমিনের দাবি, তিনি শুধু স্নাতক নন, এএমইউ থেকে স্নাতকোত্তর ও বিএড করেছেন তিনি।

পুলিশ বলেছে, ইয়াসমিন এখনও স্বামীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি, তিনি শুধু কাউন্সেলিং চাইছেন। এই পরিস্থিতিতে পুলিশের বেশি কিছু করার নেই। তবে স্বামী স্ত্রীকে ডেকে পাঠিয়েছে তারা।

লন্ডনের হাউস কমন্স সভায় বক্তব্য রাখলেন হিন্দু সংহতির প্রাণ পুরুষ তপন ঘোষ

ইতিহাসে প্রথমবার বৃটিশ পার্লামেন্টে ভারতের হিন্দুর সংকটের কথা তুলে ধরলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণ পুরুষ তপন ঘোষ। তারপর সেখানে শুরু হয়ে গিয়েছে বিরাট তোলপাড়। তপন ঘোষকে যে সকল সংস্থা আমন্ত্রণ করে নিয়ে গিয়েছিল তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইংলন্ডের ইসলামের এজেন্টরা ও মুসলমান এম.পি.রা।

গত ১৮ই অক্টোবর লন্ডনের হাউস কমন্স-এ এক আলোচনাসভার প্রধান বক্তা ছিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। এই অনুষ্ঠানটির যৌথভাবে আয়োজন করেছিল হিন্দু ফোরাম অফ বৃটেন এবং ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ হিন্দু টেম্পলস (NCHTUK)। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৃটিশ পার্লামেন্টের শাসকদলের এমপি বব ব্লাকমান। আলোচনার বিষয় ছিল ‘Tolerating the Intolerant’। তপন ঘোষ মহাশয় তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাঙালি হিন্দুর সহিষ্ণু হবার ফলে আজ বাঙালি হিন্দুর অস্তিত্ব বিপন্ন – এ কথা তুলে ধরেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জমি দিয়ে দিলেই জিহাদি আগ্রাসন থেমে যাবে না সেটা ১৯৪৭-এ দেশভাগের পরে কাশ্মীরের ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গেছে। তৎকালীন নেতারা হয় অজ্ঞ ছিলেন বা ইচ্ছা করে আমাদেরকে সত্যটা বুঝতে দেননি। গান্ধার, সিন্ধ প্রদেশ, পশ্চিম পাঞ্জাব, পূর্ববঙ্গ একসময় যা আমাদের ছিল, তা আজ আর আমাদের নেই। কারণ আমরা সহিষ্ণু। আজ বাঙালি হিন্দু সহিষ্ণু হবার ফলে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর অস্তিত্বই বিপন্ন”। এছাড়াও তিনি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর সংখ্যা কমে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, “দেশভাগের পর ৮১ শতাংশ হিন্দুর রাজ্যে আজ হিন্দু ৭০ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যদিও দেশভাগের পর প্রচুর সংখ্যক হিন্দু শরণার্থী বাংলায় আশ্রয় নিয়েছিল। আর এটা সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশ থেকে মুসলিম অনুপ্রবেশের ফলে”। তিনি বক্তব্যে গ্রাম বাংলার সাধারণ হিন্দুরা যে জিহাদি মুসলিমদের দ্বারা আক্রান্ত, সেকথা বলতে গিয়ে বলেন, “আজ আপনারা পশ্চিমের দেশগুলি লস্কর-ই-তৈবা নিয়ে আতঙ্কিত। কিন্তু আমাদের গ্রাম বাংলার সাধারণ হিন্দুরা কোনোদিন লস্কর নিয়ে চিন্তিত নয়। গ্রামে লস্কর জঙ্গি নেই, তবু তারা আতঙ্কিত ও ভীত, তাদের বাড়িঘর আক্রান্ত। আর নির্বাচনী গণতন্ত্রে ব্লক ভোটের লোভ এই পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। তাদের বাড়ির মেয়েদেরকে লাভ জিহাদের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। আমি এটাকে ফ্রড জিহাদ বলতে চাই। কারণ, মুসলিম ছেলেরা হিন্দু নাম নিয়ে হিন্দু মেয়েদেরকে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ঠকায়। আমি যখনই পশ্চিমি দেশগুলিতে আসি, তখনই আমি মানবধিকার লঙ্ঘনের কথা শুনি। কিন্তু আমরা যেখানে বাস করি সেখানে আমাদের অস্তিত্বই বিপন্ন। সেখানে মানবধিকার নিয়ে ভাবাই বিলাসিতা”। তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসলামিক জঙ্গি তৈরির কারখানা মাদ্রাসার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, “যদি কোনো ৫-৬ বছর বয়সের বালক বা বালিকাকে মাদ্রাসায় জিহাদ শেখানো হয়, তাহলে সে একদিন নিজেকে উড়িয়ে দেবে না কি?” এই ভাষণে তপন ঘোষের যে কথাটি ইংলন্ডের মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে তা হল, তিনি শ্রোতাদের কাছে আহ্বান জানান যে ইউরোপের সমস্ত সাধারণ মানুষ তাদের নিজ নিজ দেশের সরকারের উপর ও সংযুক্ত রাষ্ট্রপুঞ্জের উপর চাপ দিক যে সৌদি আরব যেন ভারত সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে মাদ্রাসার জন্য টাকা পাঠানো বন্ধ করে। কারণ, এই মাদ্রাসাতেই ধর্মান্ধতার পাঠ দেওয়া হয় ও জঙ্গি তৈরী হয়। তিনি আরো বলেন যে তাঁর সংগঠন হিন্দু সংহতি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ডিফেন্স ফোর্স তৈরির কাজে হাত দিয়েছে, কারণ আমরা  পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা কাশ্মীরের মতো হতে দিতে চাই না। হিন্দু সংহতি বাংলায় প্রতিরোধ মানসিকতার জন্ম দিতে চায়। তিনি প্রতিরোধ বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে বলেন,”বাংলার হিন্দুর পায়ের তলার মাটি,মা-বোনের ইজ্জত,মঠ-মন্দির বাঁচানোর জন্যে আজ লড়াই-এর প্রয়োজন।অনেকেই বলেন যে হিন্দু লড়াই করতে পারে না। আমি এই ধারণায় বিশ্বাসী নই। আমি বিশ্বাস করি যে  হিন্দু কোনোদিন লড়াইতে হারে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের অনগ্রসর শ্রেণীর যারা তারা যথেষ্ট লড়াকু। আমাদের কর্তব্য তাদেরকে সম্মান করা,তারা যে শ্রদ্ধা পাবার যোগ্য তা তাদেরকে দেওয়া”। তিনি শ্রোতাদের মনে করিয়ে দেন যে হিন্দু সংহতি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন।কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে রাজনীতি করে হিন্দুর ভালো করা যাবে না। তারপর তিনি সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

পার্লামেন্টের এই অনুষ্ঠানের আর এস এসের গ্রেট বৃটেনের প্রধান প্রচারক চন্দ্রকান্ত শর্মা এবং আরও কয়েকজন স্বয়ংসেবক উপস্থিত ছিলেন। তপন ঘোষের মোট ১২ দিনের ইংল্যান্ড সফরে বৃটিশ পার্লামেন্টে ভাষণ ছাড়াও তিনি আরও অনেকস্থান ভ্রমণ করেছেন।লন্ডনের জালারাম মন্দিরে তাঁকে সম্বর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে লর্ড বোর্ণের সামনে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হয়েছে। বিখ্যাত স্বামীনারায়ণ মন্দিরে দেওয়ালি অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের বর্তমান প্রধান মহন্ত স্বামী মহারাজ তপন ঘোষকে আশীর্বাদ করেন ও হিন্দু সংহতির কাজ সমন্ধে তাঁকে অবহিত করা হয়। এছাড়া ইসকন মন্দিরে দেওয়ালী উদযাপনের বিশাল কার্যক্রমে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে রামায়ণ অভিনয় হয় এবং বিশাল আকারে বাজি পোড়ানো হয়। ইসকনের এই মন্দির বিখ্যাত বীটল গায়ক জর্জ হ্যারিসনের বাড়িতে অবস্থিত। সংলগ্ন কয়েকশো একর জমি বর্তমানে এই  মন্দিরের সম্পত্তি। সেখানে সুন্দর একটি গোশালা আছে। এসবই তপন ঘোষ পরিদর্শন করেন এবং ইসকনের কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাও হয়। বার্মিংহামে গিয়ে তিনি শিখ অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা সর্দার মোহন সিং-এর সঙ্গে দেখা করেন এবং শিখ মেয়েরা যে মুসলিমদের দ্বারা যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে, ইংলন্ডে একে বলা হয় গ্রূমিং, সে বিষয়ে আলোচনা করেন।

এছাড়া ওখানে একজন বিখ্যাত জেহাদ বিরোধী নেতা টমি রবিনসন ও তাঁর দুই সহযোগী এসে তপন ঘোষের সঙ্গে দেখা করেন। দুজনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এই সফরে তিনি আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে দেখা ও আলোচনা করেন।

দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের মানুষ খুনি- সুজাত ভদ্র

sujat vodroগত ১লা নভেম্বর, বুধবার পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া(পিএফআই) আয়োজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কলকাতায় ‘আমাদেরও কিছু বলার আছে’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন একঝাঁক ইসলামিক সমাজকর্মী ও বুদ্ধিজীবীগণ।

রানী রাসমণি এভিনিউ এ অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গুজরাটের মানুষ খুনি। তিনিই ইচ্ছে করে গুজরাটে মানুষ খুন করেছেন। তারই মদতে আহসান জাফরী সহ মুসলিম মহল্লাগুলোকে জ্বালিয়ে দেয় হিন্দুত্ববাদীরা।

 

বাসন্তীতে কালীপূজার অনুষ্ঠানে আক্রমণ

বাসন্তী থানার অন্তর্গত ৪নং হরেকৃষ্ণপুর “মা সুমিত্রা নবজীবন মিলন সংঘ” প্রতিবছরের মতো এবারও কালীপূজার আয়োজন করে। গত ২৪শে অক্টোবর ক্লাবের সদস্যরা আনুমানিক রাত ১২টা নাগাদ মাইকে গান চালিয়ে আনন্দ করছিল। অভিযোগ, সেই সময় আবু সালাম মোড়ল, আবু কাসেম মোড়ল, আবু কালাম মোড়ল, পিঙ্কু মোল্লা, আবুল মোল্লা সহ বেশ কয়েকজন মুসলিম যুবক ঘটনাস্থলে এসে মাইক বন্ধ করতে বলে। ক্লাবের সদস্যরা রাজি না হলে অভিযুক্তরা বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করতে করতে তাদের ওপর চড়াও হয়। প্যান্ডেলের লাইট, মাইক প্রভৃতি ভাঙচুর করে। দীপক মন্ডলের নেতৃত্বে ক্লাবের সদস্যরা বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে মারামারি লেগে যায়। এই সময় আবু কালামরা দীপকের দুই বোন সরস্বতী মন্ডল ও মল্লিকা মন্ডলকেও মারধর করে। জয়দেব হালদার, দেবু দলুই, প্রদীপ মন্ডল, গৌর হালদার দুষ্কৃতীদের মারে কমবেশি আহত হয়। উল্লেখ্য, খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় সাউন্ড মিক্সচার মেশিন (আনুমানিক মূল্য চার হাজার টাকা) ও দীপক মন্ডলের মানিব্যাগটি যাতে তিন হাজার টাকা ছিল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ক্লাবের পক্ষ থেকে উক্ত অভিযুক্তদের নামে বাসন্তী থানায় একটি কেস দায়ের (জিডি নং ৮২৭/২৭) করা হয়েছে। মুসলমানদের পক্ষ থেকেও প্রদীপ মন্ডল, দীপক মন্ডল, সুকুমার হালদার, স্বপন হালদার, দেবু দলুই-এর নামে পাল্টা একটি  অভিযোগ থানায় করা হয়েছে। তবে বাসন্তী থানা অভিযোগ নিলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নি বলে সূত্র মারফত জানা গেছে।

ধর্মতলায় জিহাদি সংগঠন পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার সভা, হাজির ছিলেন সুকৃতি বিশ্বাস।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ-এর তদন্তে জানা গিয়েছে যে কেরালায় পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লাভ জিহাদ করে হিন্দু মেয়েদের ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করছে। কিন্তু সেই সংগঠন এবার পশ্চিমবঙ্গে বড়ো সভা করে বাঙালি হিন্দুদের উদ্দেশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলো।

‘আমাদেরও কিছু বলার আছে’ শীর্ষক গোটা দেশ জুড়ে একটি ক্যাম্পেন চালায় পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া। তারই অংশ হিসাবে গত ১লা নভেম্বর, বুধবার রানী রাসমণি রোডে জমায়েত করে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়। পার্কসার্কাস থেকে একটি মিছিলও বের হয়। সেই মিছিলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করা হয়।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়। বিজেপি সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়া কে নিয়ে কিছু এজেন্সির মাধ্যমে মিথ্যাচার করে সংগঠনের বদনাম করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের। পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার রাজ্য সভাপতি মুহাম্মাদ সাহাবুদ্দিন বলেন, “এই সরকার সব দিক দিয়ে ব্যার্থ।আর ব্যার্থতা ঢাকতেই জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘোরাতে পপুলারকে নিয়ে এইসব করছে।তবে বিজেপি সরকার বুঝে গেছে, পপুলার ফ্রন্টকে দমানো যাবেনা। আমরা ফ্যাসিবাদী এই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলবোই।”  সংগঠনটির রাজ্য সম্পাদক ডঃ মিনারুল ইসলাম আবার গোরক্ষক বাহিনীর মানুষ খুনের বিরোধীতা করে বলেন, “গণতান্ত্রিক দেশে সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী সরকার চলছে। গরু নিয়ে যাবার অপরাধে মানুষকে খুন করা হচ্ছে। শুধু মাত্র একজন যা বলে দেবে তাই হবেনা। দেশের মানুষেরও কিছু বলার আছে।”

পপুলার ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সম্পাদক ওয়াহিদ শেঠ বলছেন, “নোট বাতিল থেকে কালো টাকা ফেরত সব দিক দিয়ে সরকার জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে। সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদী শক্তি ও তাদের নিয়ন্ত্রিত কিছু এজেন্সি প্রথম থেকেই মুসলিম ও দলিত বিদ্বেষী প্রচার মাধ্যমের সাহায্যে পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়াকে দমন করা ও বদনাম করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিছু পত্র পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল বিশেষ কিছু সরকারী এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে জোর কদমে মিথ্যা প্রচার করে চলেছে।”

অভিযোগ করা হয়, পপুলার ফ্রন্ট নাকি ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল কান্নুর জেলার নারতে একটি অস্ত্র প্রশিক্ষন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিল। সংগঠনটি বলছে, সেটি ছিল যোগা বা শরীর চর্চার প্রশিক্ষন কর্মসূচী, যেটি জাতীয় স্তরে প্রতি বছর হেলথ পিপল, হেলথ ন্যাশন প্রচারাভিযানের অংশ হিসাবে করা হয়ে আসছিল একটি জনবহুল এলাকাতে।

সংগঠনের নেতারা এদিন জনসভায় সন্ত্রাসের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে। সভায় উপস্থিত ছিলেন সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, এসডিপিআই এর রাজ্য সভাপতি তায়েদুল ইসলাম, ইমাম নেতা মিনারুল সেখ, মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র, মাইনোরিটি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি শাহ, শিখ নেতা সুখ নন্দন সিং আলুওয়ালিয়া, জেডিইউ এর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অমিতাভ দত্ত, ডঃ আফসার আলি প্রমুখ। প্রায় সকল বক্তা মোদী সরকারের সমালোচনা করে দলিত ও সংখ্যালঘু অত্যাচার নিয়ে কথা বলেন।

স্বরুপনগরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার জাল ডাক্তার আমির হোসেন গাজী

amir hosenamir hosen2উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট  থানার অন্তর্গত স্বরূপনগর। এলাকায় চেম্বার করতেন প্রেসক্রিপশনে M.B.B.S. লেখা ডাক্তার আমির হোসেন গাজী। তার বাড়ি বাদুড়িয়া থানার সফিরাবাদ এলাকায়। এলাকার বাসিন্দা সুমন বৈদ্য(২২) জ্বরে আক্রান্ত হলে  তার মা সন্ধ্যা বৈদ্য তাকে গত ৩০শে সেপ্টেম্বর চিকিৎসক আমির হোসেনের কাছে নিয়ে যান। ওখানে চিকিৎসা করিয়েও সুমনের জ্বর না কমায় তার মা তাকে আবার ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু ডাক্তার বাবু সুমনকে ভালো করে না দেখে ওষুধ দিয়ে বলেন যে সুমন সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু সুমনের অবস্থার অবনতি হওয়াতে ১লা অক্টোবর তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাবার পথে সুমনের মৃত্যু হয়। তার মা সন্ধ্যাদেবী স্বরূপনগর থানায় চিকিৎসক আমি হোসেন গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে যে ওই চিকিৎসকের M.B.B.S ডিগ্রি জাল। তিনি কখনও M.B.B.S পাশই করেননি। পুলিশ গত ১৭ই অক্টোবর মঙ্গলবার আমির হোসেন গাজীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন।