হিন্দু ধর্মে ফেরার পর সুমাইয়া এখন রাত্রি

IMG_20190228_075243হিন্দু সংহতির সহায়তায় পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরলেন সুমাইয়া। তার নাম এখন রাত্রি। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তাকে সবরকম সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। রাত্রির মতো যারা পূর্বপুরুষের সনাতন ধর্মে ফিরতে চাইবে, তাদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিন যে, #হিন্দু_সংহতি তাদের পাশে থাকবে।
সেইসঙ্গে সবার কাছে আবেদন যে আপনারা এই কাজে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।
হিন্দু সংহতি-হিন্দুর সাথে, হিন্দুর পাশে।

Advertisements

সর্বস্ব পুড়ে যাওয়া আদিবাসীদের সাহায্য হিন্দু সংহতির

গত ৭ই ফেব্রূয়ারি নদীয়া জেলার পলাশীপাড়া থানার অন্তর্গত বার্ণিয়া গ্রামের সর্দার পাড়ায় আগুন লাগে।  সেই আগুনে আদিবাসীদের ৫টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বাড়ির মধ্যে থাকা বাসনপত্র, পরনের কাপড় কিছুই বাঁচানো যায়নি আগুনের গ্রাস থেকে। সেই আগুনের গ্রাসে নিঃস্ব হয়ে পড়া আদিবাসীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতি। গতকাল ২৬শে ফেব্রূয়ারি বার্ণিয়া গ্রামে একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সর্বস্ব হারানো ৫টি আদিবাসী পরিবারের হাতে রান্নার বাসনপত্র এবং কিছু অর্থ সাহায্য তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় এবং শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি। এছাড়াও স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রীমতি রাখী সরকার এবং রূপচাঁদ সরকার এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বালুরঘাটে মিষ্টি বিতরণ হিন্দু সংহতির

ভারতীয় বায়ুসেনা পুলওয়ামা হামলার বদলা নিয়েছে। বায়ু সেনার বোমাবর্ষণ ৩০০জনের বেশি জঙ্গি মারা গিয়েছে। আর সেই খুশিতে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট শহরে মিষ্টি বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি কর্মীরা। শহরের বালুরঘাট থানার সামনে শ্রী রজত রায়-এর নেতৃত্বে হিন্দু সংহতি কর্মীরা পথ চলতি মানুষকে মিষ্টিমুখ করায়। সেই সঙ্গে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ু সেনাকে অভিনন্দন জানানো হয়।

ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া রিয়াং হিন্দুদের ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতি

গত ১৮ই ফেব্রূয়ারি  আসামের কাছাড় জেলার ভুবনখালের উপজাতি হিন্দু রিয়াংদেরকে ভিটে ছাড়তে হয়েছিল খ্রিস্টান মার উপজাতির আক্রমণের মুখে পড়ে, কারণ রিয়াং হিন্দুরা খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হতে চায়নি। তারপরেই তাদের জিরিঘাট এলাকায় আশ্রয়, খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিল হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিট। সেইসঙ্গে প্রশাসনের কাছে উচ্ছেদ হওয়া রিয়াংদের পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। সেই মতো আজ হিন্দু সংহতির কর্মীরা এবং স্থানীয় থানার পুলিসকর্মীরা রিয়াংদেরকে তাদের বাড়িতে ফিরিয়ে দেন। সেইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন রিয়াংদের নিরাপত্তার সমূহ দায়িত্ব নিয়েছে।
হিন্দু সংহতির উদ্ধারবন্দ শাখার সদস্যরা অনেকটা পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রিয়াং হিন্দুদের তাদের নিজের বাড়িতে পৌঁছে দেন। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত।

পাকিস্তানে ঢুকে হামলা চালালো বায়ুসেনা, গুঁড়িয়ে দিলো জঙ্গিঘাঁটি, মৃত ২০০-এর বেশি জঙ্গি

পুলওয়ামা হামলার বদলা নিল ভারত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। গতকাল রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ১২টি মিরাজ যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। পাক জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে ১০০০ কেজি বোমাবর্ষণ করা হয় বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, বালাকোট সেক্টর থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানগুলি। জয়েশ জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে লেজার গাইডেড হামলা করা হয়। এর ফলে লক্ষ্যবস্তুতে নিঁখুতভাবে হামলা চালানো সম্ভব। শোনা যাচ্ছে হামলার জেরে পাকিস্তানের দুটি যুদ্ধবিমানও ধ্বংস করা হয়েছে। বায়ুসেনা সূত্রে খবর বালাকোট, চাকোতি এবং মুজফ্ফরাবাদে জয়েশ জঙ্গিদের তিনটি লঞ্চপ্যাড গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ১২টি যুদ্ধবিমান এই অভিযানে অংশ নেয়। সীমান্ত পেরিয়ে ৮০ কিমি ভিতরে ঢুকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে হামলা চালানো হয়। ধ্বংস করে দেওয়া হয় একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি। ঘটনায় প্রায় ২০০ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অতর্কিত এই সফল অভিযান চালিয়ে ১২টি যুদ্ধবিমানই ভারতের আদমপুর বায়ুসেনাঘাঁটিতে ফিরে আসে।

কালের কণ্ঠ-এর সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথের বাড়িতে হামলা দুষ্কৃতীদের, চললো গুলি

kaler konthoবাংলাদেশের প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্র কালের কণ্ঠ-এর হিন্দু সাংবাদিক শ্রী ছোটন কান্তি নাথকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালালো একদল দুষ্কৃতী। এমনকি তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায় দুষ্কৃতীরা।  জানা গিয়েছে, গতকাল ২৫শে ফেব্রূয়ারি ভোররাতে ছোটোনা নাথের কক্সবাজারের চকরিয়ার বাড়িতে বাইকে চেপে আসে একদল দুষ্কৃতীরা। তারা বাড়ির দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে। না পেরে, বাড়ির জানালা লক্ষ করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তারপরে বাড়ির লোকেরা জেগে উঠলে পালিয়ে যায়। পরে ছোটনবাবু পুলিসে খবর দেন।  পুলিস এসে ঘটনার তদন্ত করে। তবে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে শ্মশানের কালী মন্দির ভাঙা হলো দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে

বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত বোচাগঞ্জ উপজেলার সহসপুর চৌরঙ্গী বাজারে নিকটবর্তী শশ্মানে আনুমানিক গত ২৪শে ফেব্রূয়ারি,  বিকেল ৫ ঘটিকায় নবনির্মিত কালী মন্দির ও শশ্মানে জায়গা দানকারী স্বর্গীয় কেশব চন্দ্র রায় বাবুর সমাধিস্থল ভাংচুর করে একই গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহ (বাচ্চু মিয়া)ও সহসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শফিকুল আলম বাবুর নেত্রীত্বে আনুমানিক দুই শতাধিক মুসলিম দুষ্কৃতি।

সনকাই ও  মহাশ্মশান কালী মন্দিরের সভাপতি ভারত চন্দ্র রায় বলেন  সহসপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে  দুষ্কৃতিকারীরা প্রথমে শ্মশানের সাইনবোর্ড ভেঙ্গে ফেলার পর নবনির্মিত কালী মন্দিরের ঘরটি ভাঙচুরের পর অতর্কিত ভাবে জনসাধারণের দিকে ইট পাটকেল ছুঁড়ে মারে।  এতে ঘটনাস্থলেই একই এলাকার গন্ডিরাম রায় পিতা ঝটুরাম রায়,শ্যামল রায়,মজেন রায়,হরিপদ রায়,নেতীশ চন্দ্র রায় সহ আরও দুই জন গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন।আহতদের মধ্যে গন্ডিরাম রায়কে দিনাজপুর আব্দুর রহিম  মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাকিদের সেতাবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ননীগোপাল রায় বলেন ঘটনাস্থলে আমি শান্তশিষ্ট রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি কিন্তু ভাংচুরকারীরা কোন কথাই শুনেনি।
নবনির্মিত মন্দির ও সমাধিস্থল ভাংচুর শেষে ভাংচুরকারীরা চৌরঙ্গী বাজারের আল্লাহু হু আকবর,ধর ধর মালাউনরে ধর চিৎকার করে হিন্দু দোকান ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হামলা চালায়। বেশ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর  লুঠপাট চালায় মুসলিম দুষ্কৃতীরা।
এই ঘটনার বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানার আব্দুর রৌফ মন্ডলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা শোনামাত্র ঘটনাস্থলে দ্রুত ফৌজ পাঠিয়ে দিয়েছি এবং গতকাল রাত্রেই মুল আসামিকে দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মালদহের ইংলিশবাজারের কালীমন্দিরে প্রণামীর টাকাসহ অলংকার চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা

inglishbazarপশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় একের পর এক মন্দিরে চুরি হয়ে চলেছে। চোরেরা প্রত্যেকটি মন্দিরের অলংকার থেকে শুরু করে পূজার যাবতীয় জিনিস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এবার চুরি হলো মালদার কালীমন্দিরে। গত ১৯শে জানুয়ারী, শুক্রবার রাতে  মালদহের ইংলিশবাজারের হায়দরপুরের একটি ক্লাবের কালীমন্দিরে  চুরির ঘটনা ঘটলো । শনিবার সকালে স্থানীয়রা মন্দিরের ভাঙা লোহার গেট দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারে। তারপরেই হইচই পড়ে যায়। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবীপ্রতিমার গায়ে থাকা যাবতীয় অলঙ্কার, বাসনপত্র ও প্রণামীর টাকা দুষ্কৃতীরা নিয়ে চলে গিয়েছে। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে পরে পুলিস আসে। শহরের মধ্যে এধরনের চুরি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি শহরে একাধিক মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইংলিশবাজার থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডু বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

সীমান্তে কাঁটাতার কাটার চেষ্টা, বিএসএফ-এর গুলিতে মৃত্যু বাংলাদেশীর

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার কাটতে এসে বি এস এফের গুলিতে মৃত্যু হলো এক বাংলাদেশীর। গত ১৮ ই জানুয়ারী ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরদিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার শ্রীপুর বর্ডার আউট পোষ্টে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে এসেছে। মৃতদেহের পাশ থেকে দুটি কাটার ও ভোজালি উদ্ধার হয়েছে। মৃতের পরিচয় জানা যায় নি। গোয়ালপোখর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন ভোরে গোয়ালপোখর থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে শ্রীপুর বর্ডার দিয়ে এক ব্যাক্তি কাটাতারের বেড়া কেটে ভারত সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই সময় প্রহরারত বি এস এফ জোয়ান তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই ব্যাক্তির। মৃতদেহর পাশ থেকে উদ্ধার হয় দুটি কাটার ও একটি ভোজালি। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ।

নির্বাচনের আগেই আক্রমণের শিকার বাংলাদেশের হিন্দুরা

রাত পোহালেই বাংলাদেশ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগেই আবারও বাংলাদেশে আক্রান্ত হিন্দুরা। উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি হিন্দুবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে এনিয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলায় তিনটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

আখানগর ইউনিয়নের ঝাঁপরতলি গ্রামের আনন্দ চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা হয়। শুক্রবার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া শাহপাড়া গ্রামে কৃষ্ণ ঘোষের এবং আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাও গ্রামের যাক্রু বর্মনের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্তদের অভিযোগ পরিকল্পনা করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট দিতে না পারেন সেই কারণেই এই হামলা বলে অভিযোগ।

আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে নির্বাচনের আবহে ওই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হতে পারে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও এই আশঙ্কার উল্লেখ করা ছিল। পরিস্থিতি অশান্ত করতেই আইএসআই মদতপুষ্ট বিএনপি ও জামাত হিন্দুদের নিশানা করতে পারে বলে ধারণা অনেকের। কারণ সংখ্যালঘুদের বড় একটা অংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভোট গ্রহণ। ফলে দেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নির্বাচনের আগে ও ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। বাড়িতে ঢুকে হামলা, কটুক্তি হুমকির ঘটনা নতুন নয় সেখানে। সংখ্যালঘু ঐক্য পরিষদের দাবি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তর। সেই জন্যেই তারা সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

জামাতের সঙ্গে কোনো আপস নয়,জানালো ভারত

“জামাত ছাড়া, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলবে নয়াদিল্লি৷ গণতন্ত্রবিরোধী জামাতের সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করতে রাজি নয় ভারত।” এমনই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা৷ তিনি জানান, মূলত তিনটি কারণে জামাতের সঙ্গে কোনও রকমের বোঝাপড়ায় যাবে না ভারত৷ প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ভূমিকা, দ্বিতীয়ত, তাঁদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং তৃতীয়ত তাদের গণতন্ত্র বিরোধী নীতি-আদর্শ। যেগুলির পুরোপুরি বিরোধী ভারত৷  তিনি আরও জানান, আওয়ামি লিগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি-সহ সমস্ত দলের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ রয়েছে। ব্যতিক্রম জামাত৷ কারণ, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লড়াইয়ের বিরোধিতা করেছে জামাত। মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে তারা। ওই গণহত্যার শিকার হয়েছেন ভারতীয় সেনারাও। জামাত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রিংলা৷ তিনি জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরও নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে জামাত সদস্যরা। আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট করেন তিনি৷

ডালখোলার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণ, খাগড়াগড় কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কি?

dalkholaউত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলা থানার অন্তর্গত ঝাটকিয়া গ্রাম। সেই গ্রামেই রয়েছে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা। কিন্তু গত ২৯শে নভেম্বর, গভীর রাত্রে ওই মাদ্রাসায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের আওয়াজে পুরো গ্রাম কেঁপে ওঠে। এমনকি মাদ্রাসার দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার ভিতরে চেয়ার,টেবিল ভেঙেচুরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ে বিস্ফোরণের তীব্রতায়। বিস্ফোরণের আওয়াজে গ্রামবাসীরা মাদ্রাসা চত্বরে ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরা মাদ্রসার মৌলবী জুনেদ আলম রুমানিকে ঘিরে ধরে বিস্ফোরণের কারণ জানতে চান।    কিন্তু আশ্চর্জনকভাবে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ বিস্ফোরণের কথা প্রথমে পুলিসকে জানাননি। সূত্র মারফত এই খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ইসলামপুরের অতিরিক্ত পুলিস সুপার কার্তিকচন্দ্র মন্ডল ঘটনাস্থলে আসেন। তখনই মাদ্রাসা কতৃপক্ষ দাবি করেন যে মাদ্রসায় বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা বোমা ছুঁড়েছে এবং শুক্রবার দুপুরে ডালখোলা থানায় FIR দায়ের করেছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে রাতে বিস্ফোরণ হলেও সকালে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ কেন পুলিসকে জানাননি।
তবে এই ঘটনায় খাগড়াগড় কান্ডের কথা মনে করিয়ে দিলো। এমনিতেই খাগড়াগড় কান্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত গোয়েন্দারা। এরমধ্যেই ঝাটকিয়ার এই বিস্ফোরণ অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মাদ্রাসার ভিতরে বোমা বিস্ফোরণ করলো কারা? কি কারণে এই বোমা বিস্ফোরণ ? রাতে বিস্ফোরণ হলেও, দুপুরে কেন থানায় অভিযোগ জানানো হলো ?যদিও এইসব প্রশ্নের উত্তর একমাত্র তদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে এই ঘটনাকে যথেষ্ট গুরত্ব দিয়ে দেখছেন জেলা পুলিসের কর্তারা। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিস সুপার ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছেন এবং নিজের তত্বাবধানে তদন্ত করছেন। তাছাড়া মাদ্রাসার ভিতরে কি কাজকর্ম হতো, তা জানার জন্যে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছেন পুলিসকর্তারা। তবে এই ঘটনার পর কাউকে আটক বা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়নি।

মুর্শিদাবাদের পাঁচথুপীতে সিংহবাহিনী মন্দিরে ভয়ানক চুরি

singhabahiniমুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার অন্তর্গত পাঁচথুপীর সিংহবাহিনী মন্দিরে ভয়ানক চুরির ঘটনা ঘটলো। আজ সকালে পুরোহিত মন্দিরে এসে দেখতে পান যে মন্দিরের তালা ভাঙা এবং  মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় তিন লক্ষ টাকার  সোনার অলংকার  চুরি হয়ে গিয়েছে। তিনি এই ঘটনার কথা স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরের সামনে ভিড় জমান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে , এই মন্দির আশেপাশের এলাকাতে জাগ্রত মন্দির হিসেবেই পরিচিত। ফলে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা  ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বড়ঞা থানার পুলিস এসে পৌঁছায়। স্থানীয় মানুষরা পুলিসের কাছে দোষীদেরকে  করার আবেদন জানান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে  এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

লাভ-জিহাদের শিকার হিঙ্গলগঞ্জের সুমিতা মন্ডল; পুলিসের ঢিলেমি, হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

Photo2লাভ-জিহাদের করাল গ্রাস থামছে না পশ্চিমবাংলার বুকে। এইবার লাভ জিহাদের শিকার হল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার  হিঙ্গলগঞ্জের হিন্দু নাবালিকা সুমিতা মন্ডল( নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৬ বছর ৯মাস)। সে হিঙ্গলগঞ্জ হাইস্কুল( উঃ মাঃ ) দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়াশুনো করতো। গত ১৯ ই নভেম্বর রাত্রে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। হিঙ্গলগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে সুমিতার পিতা  জানিয়েছেন যে, তাঁর মেয়েকে হিঙ্গলগঞ্জের বাঁকড়া গ্রামের মতিউর সরদার (পিতা -রবিউল সরদার ) ফুঁসলিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়েছে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিস অভিযুক্ত মতিউর সরদার-এর বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের করেন,যার FIR No -১৬৪/১৮। কিন্তু তার পরে বেশ কয়েকদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু অপহৃতা সুমিতা এখনো উদ্ধার হয়নি। এমতবস্থায় সুমিতার পিতা তার মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি গতকাল ২৬শে নভেম্বর হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে তাঁর নাবালিকা কন্যাকে ফিরিয়ে দেবার কাতর প্রার্থনা জানান। সুমিতার পিতা জানিয়েছেন যে, তার কন্যাকে ফিরিয়ে দেবার ক্ষেত্রে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিস যথেষ্ট ঢিলেমি করছে এবং তিনি আরো জানিয়েছেন যে বার বার থানায় যাওয়া সত্বেও তার নাবালিকা কন্যাকে উদ্ধার করার ব্যাপারে কোনো ভরসা দিতে পারেননি হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিস। তাই তিনি হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। এমতবস্থায় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তার অপহৃতা কন্যাকে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয় সুমিতার পিতাকে।

দুর্গাপুরে ২ হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ, ২ মুসলিম যুবক গ্রেপ্তার

গত ২৩শে নভেম্বর, শুক্রবার দুর্গাপুরের দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে ২ মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করলো পুলিস। ধৃতদের নাম মহম্মদ হোসেন এবং মুর্তাজা আনসারী। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দুই নাবালিকা দুর্গাপুরের বাসিন্দা এবং তারা বিধাননগরের একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়তো। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ হোসেন বিধাননগরের টেটিখোলায় একটি নাচের স্কুল চালায়। সেই স্কুলেই নাচ শিখতো ওই ২ নাবালিকা। গত ১২ই নভেম্বর, কলকাতায় একটি নাচের প্রতিযোগিতায় নিয়ে যাবার নাম করে ওই দুই নাবালিকাকে নিয়ে যায় মহম্মদ হোসেন। কিন্তু  কলকাতায় না নিয়ে গিয়ে বাসে করে সিউড়ি নিয়ে যায় এবং  সেখানে তাদের মুর্তজা আনসারীর বাড়িতে আটকে রাখে। এর মধ্যে এক কিশোরী গত ১৫ই নভেম্বর থেকে পালিয়ে গিয়ে বাড়িতে আসে এবং পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা বলে। এদিকে দুই কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পরিবারের তরফে নিউ টাউনশিপ থানায় জানানো হয়েছিল। পরে পুলিশ সেখানে হানা দিয়ে মুর্তাজা আনসারীকে গ্রেপ্তার করে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান যে, ধৃতদের সঙ্গে নারী পাচারকারীদের যোগাযোগ থাকতে পারে এবং  পাচার করার উদ্দেশ্যে ওই দুই নাবালিকাকে নিয়ে  যাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ধৃতদের জেরা করে পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে বলে পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে।