জেলায় জেলায় হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন

পূজাবকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু সংহতির আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে চলেছে। গত ২৮শে অক্টোবর হাওড়া জেলার বাগনানে হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়, সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনান থানা এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী শ্রী সুমন গোলুই প্রমুখ। এই অনুষ্ঠানে সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে  সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

  একইদিনে অর্থাৎ গত ২৮শে অক্টোবর, বর্ধমান জেলার কাটোয়াতে হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানটি কাটোয়া থানা এলাকার বাঁদরাতে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানেও শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির  সহ সভাপতি দেব চট্টোপাধ্যায়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, সহ সম্পাদক শ্রী বিশ্বজিৎ মজুমদার এবং কাটোয়া এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী প্রশান্ত চক্রবর্তী।
  ওই একইদিনে ২৮শে অক্টোবর হুগলি জেলার চণ্ডীতলায় কানাইডাঙ্গা কালীমন্দির প্রাঙ্গনে  হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, হুগলি জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থপ্রতিম ঘোষ, হুগলি জেলার হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী আশিস মান্না এবং বাবলু গরাং। এই অনুষ্ঠানে এলাকার হিন্দু কিশোর-কিশোরীরা লাঠিখেলা প্রদর্শনী করে। এছাড়াও ঐদিন হুগলি জেলার জাঙ্গিপাড়া ব্লকেও হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং  জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থ প্রতিম ঘোষ। এই অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক সুন্দর গোপাল দাস মহাশয় এবং জেলা সভাপতি ডাঃ পার্থপ্রতিম ঘোষ মহাশয়। এই অনুষ্ঠানেও  শতাধিক হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। 

Advertisements

প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হিন্দু নাবালিকাকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো মুসলিম ছাত্র

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলের মধ্যেই এক নাবালিকা ছাত্রীকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র। এই চাঞ্চল্যকর এবং অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে আসামের শিলচরের ঘুঙঘুর থানা এলাকার ললিত জৈন মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র মহম্মদ রবিউল করিম মজুমদার স্কুলে যাওয়া আসার পথে সবসময় উত্যক্ত করতো হিন্দু নাবালিকা রমা দাস (নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৪ বছর) কে। একাধিকবার প্রেম প্রস্তাবও দেয় রবিউল। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে রমা। কিন্তু তার ফলে যে এতবড়ো মূল্য দিতে হবে তা রমা নিজেও কল্পনা করতে পারেনি। গত ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার স্কুলের ল্যাবরেটরিতে ক্লাস চলাকালীন রবিউল  পিছন থেকে রমার হাতে একটি সিরিঞ্জ ফুটিয়ে দেয়।  তারপর মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু বিকেলে রমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়  তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায় যে রমার শরীরে কেমিক্যাল ইনজেকশন করা হয়েছে। এই ঘটনায় দোষী রবিউল মজুমদারের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চেয়ে ঘুঙঘুর থানায় রমার মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। উনি স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু দোষী রবিউলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। পুলিশ জানিয়েছে সে ও তার পরিবার পলাতক। রবিউলের গ্রেপ্তার চেয়ে গত ১১ই জুন, সোমবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘুঙঘুর থানায় ডেপুটেশন দেন।

বালিয়াবাসন্তি-তে পরম্পরাগত কালী মাতার আরাধনায় আমন্ত্রিত সংহতি সভাপতি

furfura(baliya-basonti)গত ১২ই জুন, হুগলী জেলার অন্তর্গত বালিয়াবাসন্তি(বর্তমানে ফুরফুরা শরীফ) এলাকার পরম্পরাগত রক্ষাকালী মায়ের আরাধনার প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়। এই কালীমাতা এলাকার হিন্দুদের কাছে  ধাড়া মায়ের পুজো নাম পরিচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় এই বালিয়াবাসন্তি একসময় হিন্দু বাগদি রাজাদের রাজত্ব ছিল। কিন্তু মুসলিম আক্রমণকারীরা তা দখল করে নেয় এবং বাগদি রাজাদের রাজধানী ফুরফুরা শরীফে পরিণত হয়। এই ধাড়া কালিমায়ের পুজোর সঙ্গে স্থানীয় হিন্দুদের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। এই পুজোতে আশেপাশের এলাকাগুলি থেকে বিশাল সংখ্যক হিন্দু উপস্থিত ছিল। এই অনুষ্ঠানে দেবতনু ভট্টাচার্যের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির অন্যতম উপদেষ্টা শ্রী শান্তনু সিংহ মহাশয় এবং সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়।

কাছাড়ের বন্যাদূর্গত হিন্দুদের ত্রাণ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ১৬ই জুন, শনিবার আসামের কাছাড় জেলার রংপুরের বন্যাদুর্গত হিন্দুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতির আসাম শাখার সদস্যরা।উল্লেখ্য  গত কয়েকদিন ধরেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতেই অনেক হিন্দু এলাকা বিশেষ করে রংপুরের শিমুলতলা ও আশেপাশের এলাকাগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যায়। আর সেই সমস্ত মানুষগুলিকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফ থেকে। এই কাজে হিন্দু সংহতির তরুণ কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ট্রেন বিতরণের সময় কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক উপত্যকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয়।

আশ্রমের জমি দখলের চেষ্টা, রুখে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

IMG-20180505-WA0002দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মন্দিরবাজার আঁচনা। ওখানে রাস্তার ধারে সুশান্ত মহারাজের একটি আশ্রম রয়েছে, যা এলাকার সাধারণ হিন্দুদের কাছে অতি পরিচিত। আশ্রমের ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে এলাকার হিন্দু জনসাধারণ উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিয়ে থাকে। কিন্তু ওই জমির ওপর নজর স্থানীয় মুসলমানদের একাংশের। স্থানীয় মুসলমানদের একটি গোষ্ঠির সহযোগিতায় জাহির মোল্লা (পিতা-মৃত নাজিম মোল্লা) নামক ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে জমি দখল করে ঘর করতে শুরু করে। আশ্রমের সন্ন্যাসী বাধা দেন। তখনকার মতো কাজ বন্ধ করে চলে যায়। কিন্তু আশ্রমের মহারাজ জাহির মোল্লা ও স্থানীয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে মামলা দায়ের করেন। কোর্ট গত ৩রা মে ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করে এবং মন্দিরবাজার থানার পুলিশকে নির্দেশ দেয় যে তারা যেন ২১জুন,২০১৮ -এর মধ্যে কোর্টে রিপোর্ট পেশ করে। কিন্তু কোর্টের আদেশ অমান্য করে গতকাল ৫ই মে, শনিবার মুসলমানরা আশ্রমের জায়গায় গায়ের জোরে ঘর তৈরি করতে শুরু করে। কিন্তু স্থানীয় হিন্দুরা সাহায্যের জন্যএগিয়ে আসেনি। এমনকি মন্দিরবাজার থানার পুলিশকে জানানো হলেও কোনো এক অজ্ঞাত কারণে পুলিশ সাহায্যের জন্যে এগিয়ে আসেনি। তখন সুশান্ত মহারাজ হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী রাজকুমার সরদারকে ফোন সমস্যার কথা জানান এবং সাহায্যের জন্যে আবেদন করেন। শ্রী রাজকুমার সরদার হিন্দু সংহতির কর্মীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পরে পুলিশ ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে ওই স্থানে মন্দিরবাজার থানার পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছে।

কালনার ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তপন ঘোষ

tapandaগত ২৯শে এপ্রিল, রবিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন কালনা মহকুমার অন্তর্গত জামালপুরের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী বুড়ো ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। শ্রী ঘোষ মহাশয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী বিশ্বজিৎ মজুমদার। মেলাতে শ্রী ঘোষ মহাশয়কে ঘিরে সাধারণ হিন্দু জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উন্মাদনা ছিল। সকলে হাতে থাকা অস্ত্র আকাশের দিকে তুলে শ্রী ঘোষ মহাশয়কে স্বাগত জানান। এই মেলাতে  বর্ধমান,নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রচুর ভক্ত বুদ্ধপূর্ণিমার দিন আসেন। সকলে অস্ত্র নিয়ে খেলতে খেলতে আসেন ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিতে। অনেকে এই মন্দিরে মানদ করেন। তারপর মনোকামনা পূর্ণ হলে পশু বলি দেন। এইবারে প্রচুর ভক্ত মন্দিরে পূজাসহ  পশু বলি দেন।

উত্তর দিনাজপুরের রাড়িয়া গ্রামের বাৎসরিক ধর্মসভায় আমন্ত্রিত তপন ঘোষ

উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত রায়গঞ্জের  রাড়িয়া  গ্রামে গতকাল ২১শে এপ্রিল, শনিবার গ্রামের বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে এক বিরাট হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।তবে এবারের অনুষ্ঠান অন্য বছরের তুলনায় সম্পূর্ণরকম আলাদা ছিল। কারণ এই বছর অনুষ্ঠানের সর্বাগ্রে সমস্ত দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়েছিল হিন্দু সংহতির তরুণ-যুবকেরা। আর তাদের প্রচেষ্টায় এই বছরের অনুষ্ঠান অনেক বিরাট আকারে পালিত হলো।  আর সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে মুখ্য উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক শ্রী পীযুষ মন্ডল এবং হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী তুষার সরকার। রাড়িয়া গ্রামে  শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় আসবেন-এই খবর ঘিরে এলাকার জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল। প্রধান রাস্তা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু জনসাধারণ মিছিল করে, ঢাক বাজিয়ে, জয় মা কালী জিন্দাবাদ,হিন্দু সংহতি জিন্দাবাদ, তপন ঘোষ জিন্দাবাদ শ্লোগান দিতে দিতে শ্রী ঘোষকে সভাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে তপন ঘোষ হিন্দু জনসাধারণের উদ্দেশে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে, ”মাটি রক্ষার জন্যে শুধু লড়াই করে যেতে হবে। আর এটাই হলো হিন্দু সংহতির মন্ত্র। যুবকেরা তোমরা মনে রেখো, লড়াই করতে করতে মাথা কেটে যাবে, তবুও যেন তোমাদের পা পিছিয়ে না আসে”। এছাড়াও তিনি উপস্থিত হিন্দু জনতার উদ্দেশ্যে বলেন যে, ওরা মুসলিমদের জন্যে দেশভাগ করে নিয়েছে,তবুও কেন এদেশে জায়গার নাম ইসলামপুর থাকবে? প্রসঙ্গত গত বছর বকরি ঈদের সময় গরুর মাংস ফেলাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় এই  রাড়িয়া গ্রামের হিন্দু যুবক তোতন দাস শহীদ হন। সেই সময়  রাড়িয়া গ্রামের হিন্দুদের পাশে হিন্দু সংহতি দাঁড়িয়ে থেকে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিল।

হিন্দু সংহতির সমুদ্রগড় শাখার মা কালীর আরাধনায় আমন্ত্রিত সংহতি সভাপতি

গতকাল ১৭ই এপ্রিল,মঙ্গলবার হিন্দু সংহতির বর্ধমান জেলার সমুদ্রগড় শাখার উদ্যোগে শক্তির দেবী মা কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় এবং হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়। এছাড়া কালীপূজা উপলক্ষই যজ্ঞ  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া এই অনুষ্ঠানের মণ্ডপে শিয়ালদহ স্টেশনের নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রেল ট্যার্মিনাস করার যে দাবি হিন্দু সংহতি জানিয়ে আসছে, তা নিয়ে একটি ফ্লেক্স দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে সমুদ্রগড় ছাড়াও আশেপাশের নাদনঘাট এলাকা থেকে বিশালসংখক হিন্দু জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

শিলচরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, হিন্দু সংহতির ভুমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ পুলিশকে

গত ২রা এপ্রিল কাছাড় প্রতিবাদী মঞ্চ নামে মুসলিমদের একটি সংগঠন কাছাড় বনধের ডাক দেয়। তার রেশ ধরে শিলচরের কালীবাড়িতে মুসলিমরা হিন্দুদের  লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। আর তা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের দাঙ্গা হয় কালীবাড়ির চর ও মধুরবন্দ এলাকায়। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। তবে গত ১০ই এপ্রিল শিলচর-এর পুলিশ সুপার একটি সর্বদলীয় সভা ডাকেন। ওই সভাতে কাছাড় জেলার জেলাশাসকও উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত কয়েকজন সেকুলার ও মুসলমান নেতা হিন্দু সংহতির কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন যে ”হিন্দু সংহতি সংগঠনটির ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবার জন্যে পুলিশকে আমি নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়াও ওই সংগঠনটি কিভাবে কাজ করে, কিভাবে সদস্য করায় পুরো বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবে পুলিশ”। এছাড়াও তিনি সাম্প্রতিক মধুরবন্দ দাঙ্গাতে হিন্দু সংহতির ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, কালীবাড়ির চর ও মধুরবন্দে দাঙ্গা প্রথমে মুসলিমরা শুরু করলেও পরে নিয়ন্ত্রণ আসে হিন্দুদের হাতে। ক্ষুব্ধ হিন্দুরা মধুরবন্দ এলাকার মুসলিমদের অনেকগুলি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেই প্রসঙ্গে হিন্দুর অধিকার ও হিন্দুর মাটি বাঁচানোর লড়াইয়ের হিন্দুর একমাত্র ভরসা হিন্দু সংহতি এখন আসামের তথাকথিত সেকুলার এবং জেহাদী মুসলমানদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

মাদ্রাসা নিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে আসামজুড়ে তোলপাড়, স্বাগত জানালো হিন্দু সংহতি

himonto biswasharmaগত ৬ই এপ্রিল আসাম বিধানসভায় মাদ্রাসা প্রাদেশিকীকরণ বিল পাশ হয়। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা করলেন সময়ের শিক্ষা মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার কেন মাদ্রাসা চালাতে টাকা দেবে? কারণ তা সংবিধানবিরোধী। তিনি আসামে মাদ্রাসা শিক্ষার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পূর্বের কংগ্রেস সরকারকে দোষ দিয়ে বলেন যে “কংগ্রেসের আমলেই এইসব হয়েছে। কি সৌদি আরবে তো অসমীয়া পোড়ানো হয় না, তাহলে আসামে কেন আরবি পড়ানো হবে ?” আর এই মন্তব্যে তোলপাড় পড়ে  যায় আসামে। বিকেলে সাংবাদিকদেরকে কংগ্রেস নেতা রাকিবুল হোসেন বলেন যে আসামে ইংরেজি পড়ানো হয়, কিন্তু ইংল্যান্ডে তো অসমীয়া পড়ানো হয় না। তার জবাবে পরেরদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন যে,”ইংরেজি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা,তাই পড়ানো হয়। কিন্তু আরবি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা নয়”। এছাড়া বদরুদ্দীন আজমল হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা আসামের শিক্ষামন্ত্রী হবার পর থেকেই মাদ্রাসার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এনেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো শক্রবারের ছুটির বদলে মাদ্রসায় রবিবার ছুটি চালু করা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-র ডিসেম্বর মাসে আসামে হিন্দু সংহতির কাজ শুরু হয়। ২রা ডিসেম্বর শিলচরে প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে এই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন সংহতির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। আসাম সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সংহতি সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য্য বলেন, “এই কাজগুলো করার জন্যই দেশভক্ত ভারতীয়রা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে। এখন জনসংখ্য়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আসাম সরকার তথা কেন্দ্র সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীকে জেল থেকে ছড়িয়ে আনলো হিন্দু সংহতি

গত ৯ই মার্চ, ২০১৮ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত  গড়বেতা বিধানসভার  গোয়ালতোড় থানার মায়তা অঞ্চলের হিন্দু সংহতির একনিষ্ঠ কর্মী অচিন মাল ও ভাই বুবাই মালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওইদিন পুজোর চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে ছোটখাটো বচসা হয় হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে। পরে সেই বচসা হাতাহাতিতে গড়ায়। মুসলমানদের অভিযোগের ভিত্তিতে অচিন এবং বুবাইকে জেলে যেতে হয় ।তার যথেষ্ট কারণও আছে । গোয়ালতোড় থানা অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় খুন,ধর্ষণ লেগেই থাকতো। অচিন মালের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতির সহযোগিতায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা শুরু করে ওখানের হিন্দুরা। তাই হিন্দু বিরোধীদের চক্ষুশূল হতে থাকে অচিন মাল। তাই তাকে মিথ্যা কেসে ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়।

      আজ ২৯সে মার্চ, বৃহস্পতিবার সকাল বেলা হিন্দু সংহতির একনিষ্ঠ কর্মী অচিন মাল ও তার ভাই বুবাই মালকে মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় শোধনাগার থেকে জামিনে মুক্ত করিয়ে আনলো হিন্দু সংহতি। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর ওই দুই কর্মীকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানান হিন্দু সংহতির সহ – সম্পাদক শ্রী সৌরভ শাসমল মহাশয় ।