হিন্দুবীর দয়াল বর্মনকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো হিন্দু সংহতি

rayganjযারা হিন্দুর স্বার্থে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছে, হিন্দু সংহতি জন্মলগ্ন থেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর এবারও তার অন্যথা হলো না। রায়গঞ্জের হিন্দু সংহতির কর্মী দয়াল বর্মনকে হিন্দু সংহতি জেল থেকে ছাড়িয়ে আনলো গত ১২ই অক্টোবর। দয়াল বর্মন উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার অন্তর্গত ভটোসা গ্রামের বাসিন্দা। গত দুর্গাপূজা চলাকালীন মহাঅষ্টমীর দিন গ্রামেই দুর্গা মণ্ডপে অঞ্জলি চলছিল। কিন্তু তখন গ্রামের মসজিদে আজানও চলছিল জোরকদমে। অনেকেই মুসলিমদের অনুরোধ করেন মাইকের আজানটা অঞ্জলীর সময় বন্ধ রাখার জন্যে। কিন্তু সংখ্যালঘু ভাইয়েরা সেকথা শোনেনি। তখন গ্রামের বীর যুবক দয়াল বর্মন একাই মসজিদে উঠে মাইক খুলে নামিয়ে নেন। মহাঅষ্টমীর  অঞ্জলিও শেষ হয় নির্বিঘ্নে। কিন্তু  মসজিদের পক্ষ থেকে দয়ালের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই দিনই পুলিশ দয়ালকে গ্রেপ্তার করে। গত ১২ই অক্টোবর দয়াল জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দয়ালকে মালা দিয়ে বরণ করে নেয় হিন্দু সংহতি কর্মীরা। পরে সংহতির কর্মীরা মিছিল করে তাকে তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

Advertisements

রায়গঞ্জের দুই সংহতি কর্মী জেল থেকে মুক্তি পেলো

উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে পুলিশের কাছে আটক হিন্দু সংহতির যোদ্ধা, রাড়িয়ার বাসিন্দা বিনয় রায় এবং মালঞ্চ নিবাসী বাবলু বর্মণ আদালত থেকে জামিন পেল। গতকাল ১০ অক্টোবর, মঙ্গলবার তাদেরকে কোর্ট থেকে জামিন করানো হয়। তাদেরকে আনতে আশপাশের এলাকা থেকে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত হয়েছিল জেলের বাইরে। হিন্দু সংহতি কর্মীরা ছাড়া পাওয়ার পরে তাদেরকে ফুলের মালা পরিয়ে  বীরোচিত সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করে নেয় হিন্দু সংহতির অন্যান্য যোদ্ধাগণ .তারপর তাদেরকে নিয়ে মিছিল করে সংহতি কর্মীরা তাদেরকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এই সংহতি কর্মীরা কিছুদিন আগে রায়গঞ্জ ও আশেপাশের এলাকাতে ঈদের দিনের মন্দিরের সামনে গরুর রক্ত ফেলাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া দাঙ্গাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। হিন্দু সংহতি  প্রথম থেকেই এই গ্রেপ্তার হওয়া কর্মীদের পরিবারের পাশে ছিল।

আসামে একাধিক স্থানে বিশাল শোভাযাত্রা হিন্দু সংহতির

গত ১৯শে সেপ্টেম্বর মহালয়ার দিনে হিন্দু সংহতির আসাম শাখার উদ্যোগে আসামের শিলচর এবং উধারবন্দ শহরে বিশাল বাইক মিছিল হয়। এই মিছিল গুলোতে প্রচুর সংখ্যায় বাইক নিয়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি যুবক উপস্থিত ছিল। এই মিছিল প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মী সঞ্জীব নাথ বলেন যে এই মিছিলের ফলে শিলচরের সাধারণ হিন্দু সমাজের মধ্যে আত্ববিশ্বাস ফিরে  এসেছে। শুধু তাই নয়, হিন্দু সংহতির এই শক্তি প্রদর্শন আসামের সাধারণ হিন্দু  জনগণকে  হিন্দু সংহতির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছে। উধারবন্দ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী পান্তু চন্দ বলেন উদ্ধারবন্দের শোভাযাত্রায় এলাকার চা বাগানের শ্রমিক এবং মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। সংহতির কাছাড় জেলার সভাপতি শ্রী পিঙ্কু দেবের মতে আসামে এখন বিজেপির সরকার আছে। এই সময়ে হিন্দু সমাজের শক্তিবৃদ্ধি করতে না পারলে সেটা হবে সার্বিক ব্যর্থতা।

দুর্গাপুরের মহাবীর আখড়ার শোভাযাত্রায় প্রধান অতিথি হিন্দু সংহতি সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য

গত ২৯শে সেপ্টেম্বর দুর্গাপুরের মহাবীর আখড়ার পরম্পরাগত শোভাযাত্রায় এবছরের প্রধান অথিতি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই শোভাযাত্রা বিগত ৫০ বছর ধরে হয়ে আসছে। এই শোভাযাত্রা দুর্গাপুর ও আসানসোলের হিন্দুদের কাছে যথেষ্ট গর্বের ও ঐতিহ্য বহনকারী। এই শোভাযাত্রায় প্রায় ৪০০০ যুবক অস্ত্রসহ অংশগ্রহণ করেন। প্রত্যেকের মাথায় গেরুয়া পাট্টা ও হাতে গেরুয়া পতাকা নিয়ে এই শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন। এই শোভাযাত্রা দুর্গাপুর শহরের মেন গেট থেকে শুরু হয়ে কাদা রোড হয়ে টাউনশিপ ঘুরে চিত্ত আলোর ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় সংহতি সভাপতির উপস্থিতি যুবকদের মধ্যে উন্মাদনার সৃষ্টি করে বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।