হালাল না ঝটকা: বিজ্ঞান কি বলে?

মানুষের খাদ্য সরবরাহের জন্য পশুনিধনকে আইনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত করার প্রয়াস সমস্ত পৃথিবীতেই প্রচলিত। এর কারণ মূলত দ্বিবিধ। প্রথমতঃ পশুনিধন প্রক্রিয়াটিকে যতটা সম্ভব মানবিক (humane) দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে করা,  দ্বিতীয়তঃ, পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন এবং দূষণমুক্ত রাখা। যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হল, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র [1, 2], বৃটেন [3] এবং ভারতের [4] মত গণতান্ত্রিক দেশসমেত বহু দেশে এই আইন থাকা সত্ত্বেও ধর্মীয় রীতিসম্মত পশুহত্যা পদ্ধতিকে এই আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে। ধর্মমতের কারণে পশুহত্যার পদ্ধতিকে মানবিকতার আওতা থেকে বাদ দেওয়া পশুকল্যাণের ভীষণভাবে পরিপন্থী। ষ্টেট অফ গ্লোবাল ইসলামিক ইকোনমী নামক সংস্থার মোতাবেক [5], বিশ্বব্যাপী ‘হালাল’  শংসায়িত  (certified)  সামগ্রীর বাৎসরিক বাজার মূল্য ২.১ লক্ষ কোটি ডলারেরও অধিক। স্পষ্টতঃই পাঠক বুঝতে পারছেন যে হালালের বিস্তৃতি এবং তাদের শক্তি, যার কারণে আইনকেও তাদের দিকে চক্ষু মুদিত করে চলতে হয়। অবশ্য আইনী দুনিয়াতেও এই বিতর্ক চলছে যে চক্ষু মুদ্রিত করে থাকাটা যথোপযুক্ত [6, 7] কিনা।

পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রচলিত ধর্মীয় রীতিসম্মত পশুহত্যার পদ্ধতি অন্যতম হল এই হালাল এবং কোশার (kosher)। দুটিই মূলতঃ একই পদ্ধতি কিন্তু ইহুদীরা বলে কোশার আর মুসলমানেরা বলে হালাল। শিখ এবং হিন্দু, এই দুই ভারতীয় ধর্মমতের অনুসারীরা পরম্পরাগত ভাবে যে পদ্ধতিটি পালন করে তাকে বলে ঝটকা। প্রায় ২০ কোটি মুসলমানের বাসভূমি ভারতে প্রচুর পরিমাণে পশুকে সারা বছর জুড়ে তো বটেই, বিশেষতঃ বকরী-ঈদের সময়, হালাল করে বধ করা হয়। বলা হয় যে কেবল সম্পূর্ণরূপে সুস্থ পশুকেই ধর্মমত মোতাবেক হত্যা করা বিধেয়।

কোশার বা হালালের সময়, একটি ধারালো ছুরিকে প্রাণীটির গলায় (ventral neck) একটি খোঁচাতেই ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তারপর ছুরিটিকে না তুলে বারবার প্রবেশ করানো হয় যাতে শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, মস্তকে রক্তসংবহনকারী স্কন্ধদেশের ধমনী (carotid arteries), স্কন্দদেশের শিরা (jugular vein) এবং ভেগাস স্নায়ু খণ্ডিত [8] হয়। এতে শরীর থেকে রক্ত নির্গত হতে থাকে এবং প্রাণীটি পরিণামে প্রাণ হারায়। এই পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বলে ventral neck incision (VNI)। এতে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতন্ত্র প্রাণীটির মৃত্যু হওয়া পর্যন্ত অক্ষত থাকে।

অপরপক্ষে ঝটকা পদ্ধতিতে হত্যার সময়, ঘাড়ের পিছনের দিকে (dorsal neck) কর্তন করা হয় যাতে মস্তকের খুলিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ড (spinal cord) থেকে নিমেষে পৃথক করা হয়। কেবল ঘাড়ের কর্তন (cervical dislocation)-ই নয়, বরং এক আঘাতে মস্তকের শরীর থেকে বিখণ্ডিতকরণ এর উদ্দেশ্য। তাই এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয় অপেক্ষাকৃত ভারী এবং ধারালো অস্ত্র।

আমরা বর্তমান বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের আলোকে এই দুই পদ্ধতিকে তুলনা করে দেখব, কোন পদ্ধতি বেশি মানবিক এবং পশু কল্যাণের নিরিখে বেশি নীতিসম্মত।

ক) সাধারণভাবে আমাদের শরীরের, আরও সঠিকভাবে বললে সোমাটিক কোষগুলি থেকে কোন অনুভূতি কিছু বিশেষ প্রোটিন (বৈজ্ঞানিক পরিভাষায়, cognate receptor proteins) লাভ করে যারা সেই অনুভূতিকে স্নায়ুর মাধ্যমে প্রেরণ করে। স্নায়ু আসলে কিছু নিউরোণ কোষের সমষ্টি মাত্র। স্নায়ু অনুভূতিকে মেরুদণ্ডের সুষুম্নাকাণ্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কে প্রেরণ করে। মস্তিষ্ক এই অনুভূতির প্রতিক্রিয়া হিসাবে আপন বার্তা সেই সুষুম্নাকাণ্ডের নিউরোণের মাধ্যমেই প্রেরণ করে মাংসপেশীগুলিতে (effector muscles)। মাংসপেশীগুলি মস্তিষ্ক প্রেরিত বার্তাকে ক্রিয়াতে রূপ দেয়। হালালের সময় বার্তাপ্রেরণের স্নায়ু নির্দেশিত সুষুম্নাকাণ্ডের মধ্যস্থ এই পথটিকে কোন ভাবেই ব্যাহত করা হয় না। পক্ষান্তরে ঝটকার সময় এই পথটিকে নিমেষের মধ্যে ছিন্ন করা হয়। ফলে ঝটকার সময় বলিপ্রদত্ত প্রাণীটির ব্যথার অনুভূতি সেই মুহূর্তেই হারিয়ে যায়। কিন্তু হালালের সময় এই ব্যথার অনুভূতি হালালপ্রদত্ত প্রাণীটির মস্তিষ্কে নিরবিচ্ছিন্ন প্রাণীটির মরণাবধি পৌঁছতে থাকে।

খ) ব্যথা পরিমাপের এক স্বীকৃত পদ্ধতি হল ইইজি বা ইলেক্ট্রো এনসেফ্যালোগ্রাম। এই যন্ত্রটি মস্তিষ্কের নিউরোণের বৈদ্যুতিক বার্তাকে পরিমাপ করে। গরু বা ভেড়ার মত শান্ত প্রাণীরা তাদের যন্ত্রণার অনুভূতিকে বাইরে সবসময় প্রকাশ করে না। কিন্তু ইইজি পদ্ধতিতে তাদের ব্যথা স্পষ্টতই প্রকাশ পায়। বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন [9] যে ঝটকা পদ্ধতিতে প্রাণীবধ করলে শিরশ্ছেদের ৫ থেকে ১০ সেকেণ্ডের মধ্যেই মস্তিষ্কের (cerebral cortex) কার্য বন্ধ হয়।

ফরাসী পর্যবেক্ষকেরা অন্যদিকে দেখেছেন [10, 11], হালালের সময় অনুসৃত পদ্ধতিতে (VNI) বধ্য প্রাণীটি ৬০ সেকেণ্ড পর্যন্ত তো বটেই, অনেক সময় বহু মিনিটও ব্যথা অনুভব করে। কখনও কখনও কর্তন সফল না হলে প্রাণীটি অবর্ণনীয় যন্ত্রণা [12] অনুভব করে। এর কারণ  সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুপথ আর  মস্তিষ্কে রক্তসরবরাহকারী  কশেরুকার ধমনীগুলি (vertebral arteries) হালাল করার সময় অক্ষত [13] থাকে। অপরপক্ষে, ঝটকা পদ্ধতিতে বধের সময় স্নায়ু এবং রক্তপরিবাহী নালীগুলি নিমিষে বিচ্ছিন্ন [11] হয়। ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন যেতে পারে না এবং শিরশ্ছেদের প্রায় পরমূহূর্তেই প্রাণীটি সংজ্ঞা হারায়।

অষ্ট্রেলিয়ান এবং বৃটিশ গবেষকগোষ্ঠীগুলির গবেষণায় [15–19] প্রমাণিত যে হালালের সময় যে VNI পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া হয় তাতে প্রাণীটি ভীষণ বেদনায় (noxious stimulation) বিদীর্ণ [14] হয়।

গ) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ পশু কল্যাণ নিবন্ধনকারী সংস্থা এক ঝটকায় গরু, শূকর এবং অন্যান্য গবাদি পশুকে বধ করতে নির্দেশ [1] দেয়। তারা এর সাথে আরও একটি সহায়ক পদ্ধতিকে  প্রাণীবধের উপযুক্ত মনে করে থাকে। এই দ্বিতীয় ব্যবস্থাতে stunning  (এক দ্রুত যান্ত্রিক বা বৈদ্যুতিক পদ্ধতি যাতে সংজ্ঞা আশু লুপ্ত হয়) নামক পদ্ধতিতে [20] সংজ্ঞালোপের ব্যবস্থা করা হয় এবং তারপর প্রাণীটিকে বধ করা হয়। গবেষণাগারে দেখা গেছে যে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে ইউথ্যানাশিয়াতে (নীতিসম্মত প্রাণীবধ) ইঁদুর জাতীয় প্রাণীরা [21] দ্রুত ব্যথাহীন ভাবে সংজ্ঞালুপ্ত হয়ে প্রাণ হারায়। এ ডব্লু এ (Animal Welfare Act) এবং পি এইচ এস (Public Health Service) মনে করে সুষুম্নাকাণ্ডের কর্তন সহ শিরশ্ছেদ এবং সংজ্ঞালুপ্ত করে শিরশ্ছেদ কোন প্রাণীকে বধ করার প্রকৃষ্ট নৈতিক এবং বৈজ্ঞানিক উপায়। একমাত্র গ্যাস [22] দিয়ে সংজ্ঞালোপের পরেই কেবল VNI বা হালালে অনুসৃত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। গবেষণাগারের প্রাণীদের জন্য সমস্ত পৃথিবীর বিজ্ঞানীকুল এই নিয়মগুলি মেনে চলে।

ঘ) বিভিন্ন গবেষক গোষ্ঠীরা বারংবার প্রমাণ করেছেন যে কোশার বা হালাল পদ্ধতিতে প্রাণীবধের সময় প্রাণীগুলি ভীষণ বেদনা বা স্নায়ুমণ্ডলীর ধকল (stress) অনুভব করে। গরু-ষাঁড়, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর ক্ষেত্রে এর ফলে তিনটি ষ্ট্রেস হরমোন (stress hormones), যথা  কর্টিসোল (cortisol), নর-এড্রিনালিন (nor-adrenaline) এবং ডোপামাইন (dopamine) ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত [23–25] হয়। কারণটি খুবই সরল, এই তিনটি হরমোন সমেত আমাদের বেশির ভাগ হরমোনের নিঃসরণই মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অঞ্চলের  দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আমেরিকান বৈজ্ঞানিক টেম্পল গ্র্যাণ্ডিন দেখিয়েছেন [26–27] যে প্রাণীদের সংজ্ঞাশূন্য করে (stunning) হত্যা না করলে রক্তে কর্টিসোলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং তাতে মাংসপেশীর তাপমাত্রাও বাড়ে। সাধারণত স্নায়বিকধকলের কারণে এড্রিনালিন হরমোনের পরিমিত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন ল্যাকটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। ফলে মাংসের পিএইচ কমে (অর্থাৎ  মাংস অম্লভাবাপন্ন হয়)। তার ফলে মাংস যে কেবল গোলাপী এবং নরম থাকে তাই নয়, উপরন্তু মাংসে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায় না।

অপরপক্ষে প্রাণীটিকে যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতিতে হত্যা করলে স্নায়ুর ধকল বাড়ে। ফলে এড্রিনালিন হরমোনেরই অতিরিক্ত ক্ষরণে মাংসপেশীর গ্লাইকোজেন শীঘ্রই নিঃশেষিত হয়। ফলে মাংস যথন বিক্রীত হয় ততক্ষণে তাতে কোন আর ল্যাকটিক অ্যাসিড অবশিষ্ট থাকে না। ফলে মাংসের পিএইচ বাড়ে এবং ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্ত হয়। মাংস হয় [28] শুষ্ক, গাঢ় এবং শক্ত। এড্রিনালিন ছাড়া বাকী সব ষ্ট্রেস হরমোনগুলি রাসায়নিক ভাবে দেখলে ষ্টেরোয়েড মাত্র। তাই তারা কোষের ঝিল্লিকে ভেদ করে ডিএনএর সঙ্গে জুড়ে কোষের স্থায়ী  পরিবর্তন [29–30] সাধন করে। মৃত প্রাণীর শরীর থেকে রক্ত সরিয়ে দিলেও প্রভাব বজায় থাকে। গবেষকরা ভেড়ার মাংসের ক্ষেত্রে [31] দেখেছেন যে ষ্ট্রেস হরমোনগুলিকে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে প্রবেশ করালে মাংসের গড়ন এবং স্বাদ বিনষ্ট হয়। আমেরিকার ন্যাশানাল ইনষ্টিটিউট এফ মেণ্টাল হেল্থের গবেষণায় এনাস্থিসিয়া ছাড়াই [32] ইঁদুরের শিরশ্ছেদ (ঝটকা) করলেও রক্তে এই হরমোনগুলোর পরিমাণ সবসময় কমই থেকে যায়। এর কারণ বোধহয় এটাই যে ঝটকার সময় সাধারণ স্নায়বিক ধকলের অনুভূতি অত্যল্প হয়।

ভারতে প্রাণীহত্যার নিষিদ্ধকরণের আইন কেরালা, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলি ছাড়া সব জায়গাতেই আছে। আইন অনুসারে বধের আগে প্রাণীকে সংজ্ঞাবিহীন করা (stunning) আমাদের দেশের কসাইখানাগুলির অবশ্য পালনীয়  (২০০১ সালের স্লটারহাউস আইনের (slaughterhouse Act) ৬নং ধারা)। কোন প্রাণীকে অন্য কোন প্রাণীর সামনে হত্যা করাও নিষিদ্ধ যাতে প্রাণীদের মধ্যে ষ্ট্রেসের আধিক্য না হয়। ২০১১ সালের Food Safety and Standard Regulations আইনের ৪.১ ধারার ৪(ক) উপধারা মোতাবেকও [33] বধের আগে প্রাণীকে সংজ্ঞাবিহীন করা অবশ্য পালনীয়।

বাস্তব অবশ্য অন্য কথাই বলে। পেটার (PETA  অর্থাৎ People for the Ethical Treatment of Animals)  প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে  ভারতের কসাইখানাগুলি প্রাণীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার দায়ে অভিযুক্ত। কসাইখানার কর্মীরা ভোঁতা ছুরি দিয়ে প্রাণীদের হালাল করে রক্তপাতের মাধ্যমে  হত্যা করে। প্রাণীদের চামড়া জীবন্ত অবস্থাতেই [34] ছাড়ানো হয় এবং জীবন্ত অবস্থায় তাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

ওয়েষ্ট বেঙ্গল এলিম্যাল স্লটার এক্ট ১৯৫০ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী প্রাণীহত্যার ক্ষেত্রে যে নিয়মগত শিথিলতা দেয়, তাকে সুপ্রীম কোর্ট বেআইনী বলে ঘোষণা [4, 2] করেছে। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট রাজ্য সরকারগুলিকে বেআইনী কসাইখানা বন্ধ  করতে আদেশ দিয়েছে। কোর্ট আরও বলেছে পশুদের প্রতি ব্যবহারের উপর নজর রাখতে উপযুক্ত সংস্থা গড়তে হবে যারা মাংস এবং চামড়ার জন্য যেসব প্রাণীহত্যা করা হয়, তাদের উপর নৈতিক আচরণকে নজরে রাখবে। কোর্ট আরও বলেছে [35] যে ভারতীয় সংবিধান ভারতীয় নাগরিকদের প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে বলে। এর জন্য রাজ্যগুলিকে যত্নশীল হতে হবে।

দুনিয়াব্যাপী ধীরে ধীরে আইন যত্নশীল হচ্ছে যাতে হালাল-কোশার ইত্যাদি ধর্মমত মোতাবেক বধের নামে প্রাণীদের দুর্দশা বর্ধিত না হয়। প্রাণীকে সংজ্ঞাশূন্য না করে হালাল করা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে, যেমন ডেনমার্ক, নেদারল্যাণ্ড, সুইডেন, সুইজারল্যাণ্ড এবং লাক্সেমবার্গে [36, 37] নিষিদ্ধ। ইহুদী এবং মুসলমান ধর্মমতের প্রবক্তাদের বক্তব্য ছিল যে সংজ্ঞাশূন্য করে প্রাণীহত্যা করলে প্রাণীদের মস্তিষ্ক আঘাত প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ সে আর সুস্থ থাকে না। ফলে সেই প্রাণী আর হালাল বা কোশারের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এই বক্তব্যকে আজ বহু দেশ খারিজ করে দিচ্ছে। ২০১৫ থেকে হালালের পূর্বে সংজ্ঞাশূন্য করা বৃটেনে চালু হয়েছে যদিও পূর্ণ সাফল্য হয়তো এখনও আসে নি। কিছু আন্তর্জাতিক হালাল শংসাপত্র প্রদানকারী সংস্থা এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে মেনে নিয়েছে। কিন্তু অধিকাংশই তা মানে নি [38] যেমন সংযুক্ত আরব আমীরশাহী, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার বেশির ভাগ হালাল মাংস আমদানিকারী সংস্থা। তাই দেখা যাচ্ছে আজও ধর্মমতই প্রাণীদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, বৈজ্ঞানিক যুক্তি নয়। যেহেতু এই ধর্মমতে বিশ্বাসীরা লক্ষ কোটি ডলারের ব্যবসা প্রদান করে, তাই পশুদের কল্যাণ অনায়াসেই লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু ধর্মমত বা অর্থনীতি নয়, পশুকল্যাণের ক্ষেত্রে মানবতাবাদ এবং বিজ্ঞানেরই শেষ কথা বলা উচিত।

সৌজন্যে : http://Bangodesh.com

Advertisements

শবরীমালা আন্দোলন নারী অধিকারের জন্য নয়, হিন্দু শক্তিকে ধ্বংস করার জন্য : দেবতনু ভট্টাচার্য

save sabarimalaশবরীমালা মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশের অধিকারের পক্ষে যারা আন্দোলন করছেন, নারীদের সমানাধিকার তাদের লক্ষ্য নয়। হিন্দুর শ্রদ্ধার কেন্দ্রগুলোকে আঘাত করে হিন্দুর আত্মবিশ্বাস ধ্বংস করে দেওয়ার পুরনো খেলারই একটা নতুন ইনিংস এই শবরীমালাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে। মহিলারা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারবেন না-এরকম কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম হিন্দু ধর্মে নেই। বরং মন্দিরে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের উপস্থিতিই সর্বত্র বেশি পরিমাণে দেখা যায়। সুতরাং ধর্মাচরণের অধিকারের প্রশ্নে মহিলাদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ কোনোভাবেই ধোপে টেকে না।
আচ্ছা মনে করুন, আজ সকাল সকাল সমস্ত গার্লস স্কুলের সামনে যদি ছেলেরা আন্দোলন শুরু করে, আমাদের প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে, আপনি এটাকে কোন দৃষ্টিতে দেখবেন? একটা গার্লস স্কুলে ছেলেদের প্রবেশের অধিকার না দেওয়ার অর্থ কি ছেলেদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া? ছেলেদের জন্য অথবা কো-এডুকেশন অনেক স্কুল আছে ভাই। শিক্ষাগ্রহণের সদিচ্ছা থাকলে সেখানে যাও। কিন্তু কেউ যদি জেদ ধরে বসে থাকে যে, আমাকে এই গার্লস স্কুলেই ঢুকতে দিতে হবে – তাহলে বুঝতে হবে যে শিক্ষাগ্রহণ বাদে তার অন্য কোথাও মতলব লুকিয়ে আছে এই জেদের পিছনে। বিশেষত এই ব্যক্তি যদি ছাত্র কিংবা ছাত্রী, শিক্ষক অথবা অশিক্ষক কর্মচারী অথবা ছাত্রের অভিভাবক – কোনভাবেই শিক্ষাক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত না হন, শুধুমাত্র পুরুষ বলেই ছাত্রদের অধিকার রক্ষার তাগিদে তিনি গার্লস স্কুলে প্রবেশাধিকার চান, তাহলে তার এই উদ্যোগের পিছনে যে কোনো দূরভিসন্ধি আছে একথা ভাবা কি অযৌক্তিক হবে? মনে করুন বারুইপুর স্টেশনে ট্রেনের পুরুষ যাত্রীদের আন্দোলন চলছে – নারী পুরুষে বিভেদ করা মানছি না মানবো না। মহিলা কামরায় পুরুষদের প্রবেশাধিকার দিতে হবে। কি বলবেন? অনেকে হয়তো বলবেন, এগুলোতো সরকারের তৈরি করা ব্যবস্থা! আচ্ছা, কলকাতারই অনেক গগনচুম্বি বিল্ডিংয়ের মেইন গেটে লেখা থাকতে দেখেছি – সেলসম্যানদের প্রবেশ নিষেধ। কিংবা ভিক্ষুকদের প্রবেশ নিষেধ। সেলসম্যান কিংবা ভিক্ষুকদের আন্দোলন শুরু হলে কি বলবেন? তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালতই বা কি রায় দেবে? এই ব্যবস্থা তো নিশ্চই সরকারের তৈরি নয়!
আমাদের দেশে সর্বসাধারণের জন্য আইনের পাশাপাশি মুসলমানদের জন্য মুসলিম পারসোনাল ল আছে. সেখানে মাত্র ১৫ বছর বয়সে একজন মুসলিম বালিকার বিয়ে দেওয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। মহিলাদের অধিকার নিয়ে যারা লড়াই করছেন, তারা এই বিষয়ে সোচ্চার হচ্ছেন না কেন? ১৫ বছর বয়সী মুসলিম নাবালিকাদের অধিকার নেই ১৮ বছর বয়সে সাবালিকা হয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার? এর চাইতে শবরীমালায় প্রবেশাধিকারটা বেশী গুরুত্বপূর্ণ! পাশাপাশি সুপ্রীম কোর্টের ক্ষমতা আছে সেই ১৫ বছরের সেই মুসলিম নাবালিকাকে ন্যায়বিচার দেওয়ার? ক্ষমতা আছে, সাবালিকা হওয়ার আগে কেউ সেই মেয়েটির বিয়ে দিতে পারবে না –এই রায় দেওয়ার? কিন্তু শবরীমালা মন্দিরে মহিলারা কেন প্রবেশ করতে পারছে না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যারপরনায় চিন্তিত! অযোধ্যায় রামমন্দিরের পক্ষে সমস্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একটার পর একটা ডেট পড়ে চলেছে, এক্ষেত্রে গোটা হিন্দু সমাজের জন্য Justice delayed is justice denied হচ্ছে না? অথচ শবরীমালায় সুপ্রিম কোর্ট অতি সক্রিয়! শবরীমালা মন্দিরে প্রবেশাধিকারের বিষয়টা আয়াপ্পার ভক্তদের সিদ্ধান্ত, পরম্পরাগতভাবে এই নিয়ম পালিত হয়ে এসেছে। আজকে এটা কাস্টমারী ল’য়ে পরিণত হয়েছে। এই আইন যদি পরিবর্তন করতে হয়, তার আবেদন আয়াপ্পার ভক্তদের মধ্য থেকে উঠে আসতে হবে, কোনো রেহানা ফতেমা কিংবা কোনো মেরী সুইটির আবেদনের ভিত্তিতে এই আইনের পুনর্বিবেচনা হতে পারে না।
আশ্চর্যের বিষয়, বোরখা পরে মুসলমান মহিলারা, যাদের বোরখা সরিয়ে খোলা বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়ার অধিকার তাদের নিজেদের ধর্ম তাদের দেয় না, তারা শবরীমালায় আয়াপ্পাভক্ত মহিলাদের অধিকার রক্ষায় মানব বন্ধন তৈরি করে আন্দোলন করছে। মোটের উপর কেরালায় রাজ্য সরকারের সহায়তায় কম্যুনিষ্ট-খ্রীস্টান-মুসলিম লবি একজোট হয়ে হিন্দু সমাজকে ধ্বংস করার খেলায় মেতে উঠেছে, শবরীমালা যার একটা উপলক্ষ্য মাত্র। এই পরিস্থিতিতে সারা ভারতের হিন্দু শক্তিকে কেরলের হিন্দুর পাশে দাঁড়াতে হবে। হিন্দুরা এই অন্যায় সহ্য করবে না। কেরলের আন্দোলন শুধুমাত্র কেরলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কেরল সরকারের এই হিন্দু বিরোধী ভূমিকা অবিলম্বে বন্ধ না হলে সারা ভারতসহ পশ্চিমবঙ্গেও তার তীব্র প্রতিক্রিয়া হবে। কেরল সরকারের বহু প্রতিষ্ঠান ভারতের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, কেরল থেকে নিয়ন্ত্রিত বহু চার্চ সারা ভারতে ছড়িয়ে আছে। শবরীমালার প্রতিক্রিয়ায় সেগুলো জনরোষের শিকার হওয়ার সম্ভাবনাকে মোটেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রোহিঙ্গা মুসলিম ও ভারতের নিরাপত্তা

শ্রী রজত রায়

যে কোন এলাকা যদি প্রাকৃতিক বিপ‍র্যয় বা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে আক্রান্ত হয় বা সেখানকার মানুষ যদি স্থানীয় প্রশাসন এবং প্রতিবেশী এলাকার বাসিন্দাদের রোষের কারনে এলাকা থেকে উৎখাত হয়, তবে তারা পাশের বা সামান্য  কিছুটা দূর এলাকায় আশ্রয় নেয়। যদি আলিপুরদুয়ারের কোন এলাকায় এই ধরনের ঘটনা ঘটে তবে তারা জলপাইগুড়ি না হলে খুব বেশী হলে মালদায় আশ্রয় নেবার চেষ্টা করবে। কিন্তু যদি তারা হুগলি বা বর্ধমানে চলে আসে তবে ব্যাপারটা একটু অস্বাভাবিক।তবে বুঝতে হবে ওখানে ওদের আশ্রয়দাতা কেউ আছে অথবা অন্য কোন সন্দেহজনক বিষয় এর সঙ্গে যুক্ত। মায়ানমার বা বার্মা ভারতের উত্তর পূর্ব সীমান্তে। ওদের লাগোয়া ভারতের রাজ্য আসাম।অথচ ওখান থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলমানরা আসাম,তারপর পশ্চিম বাংলা, তারপর বিহার, তারপর উত্তরপ্রদেশ, এমনকি পাঞ্জাব অতিক্রম করে , পাচটি রাজ্য, ২৩০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে গিয়ে কিভাবে উঠলো? ওদের আশ্রয়দাতা কারা? মূল উদ্দেশ্য কি? ভারতে সবচাইতে বেশী রোহিঙ্গা আছে জম্মুতে। রোহিঙ্গাদের মূল শিকড় বর্তমান বাংলাদেশে। কাশ্মীরের সঙ্গে ওদের ভাষাগত , সংস্কৃতিগত,খাদ্যাভ্যাসগত কোন মিল নেই। অথচ ২০১২ থেকে, রাখাইন প্রদেশের বুদ্ধিষ্টদের এবং প্রশাসনের আক্রোশের(যেটা শুরু হয়েছিলো রোহিঙ্গাদের দ্বারা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী এক মহিলার গনধর্ষন এবং হত্যার পর থেকে)কারনে উৎখাত হওয়া রোহিঙ্গারা জম্মু কাশ্মীর রাজ্যে গিয়ে আস্তানা গাড়লো। ওদের মধ্যে অনেকের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড হয়ে গেলো। এটা জম্মুর হিন্দুদের উপর ভবিষ্যত আক্রমনের পরিকল্পনার অঙ্গ নয়তো?
            বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার ওদের ভারতে আশ্রয় দিতে রাজী নয়।স্বরাষ্ট্র দফতরের মতে ওরা দেশের নিরাপত্তার পক্ষে বিপদজনক।তার বিরুদ্ধে কপিল সিব্বাল, প্রশান্তভূষন, কলিন গঞ্জালভেসদের কোর্টৈ সওয়াল, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিবাদ।মুসলিম নেতা এবং সাংসদ  আসাউদ্দিন ওয়াইশির বক্তব্য,ভারতবাসী যদি তসলিমা নাসরিনকে বোন বলে গ্ৰহন করতে পারে  তবে রোহিঙ্গাদের ভাই বলে কেন গ্ৰহন করবে না? বুঝুন, তুলনার নমুনা এবং ধৃষ্টতা! কয়েকটি মুসলিম সংগঠনের নেতা এবং কিছু রোহিঙ্গা সমর্থক রাজনীতিবিদ ও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ভারতীয় ধারার পরিপন্থী। বসুধৈব কুটুম্বকম্, অতিথিদেবো ভব, আমাদের দেশের সংস্কৃতি। যাক্, যারা ভারতের সংস্কৃতির মধ্যে ভালো কিছুই দেখে না, তারা অন্তত রোহিঙ্গা মুসলিমদের স্বার্থে ভারতীয় ধারার প্রশংসা তো করেছে।অথচ নারকীয় অত্যাচারের মুখে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়া হিন্দুদের সময় এই মানবতাবাদীরা কোথায় থাকে?
         রোহিঙ্গা মুসলমানরা কেমন নিরীহ প্রকৃতির তার একটা উদাহরন দেখুন। The Gurdian, Amnesty International News, B B C news এর রিপোর্ট অনুযায়ী গতবছরের ২৬ আগস্ট রোহিঙ্গাদের একটা উগ্ৰপন্থী সংগঠন ARSA(Arakan Rohingya Salvation Army) রাখাইন প্রদেশের উত্তর সীমান্তে Maung daw শহরের লাগোয়া Ab Naik Kha Maung Sei এবং Ye Baik Khan গ্ৰামে হিন্দুদের উপর ছুরি, তরোয়াল, গাইতি, লোহার রড নিয়ে প্রানঘাতি হামলা চালায়। তাদেরকে হিন্দু থেকে মুসলিম  হতে বলে ।যারা স্বীকৃত হয়েছিলো তাদের প্রানভিক্ষা দেওয়া হয়। ইসলাম কবুল করতে অস্বীকৃত হওয়া পরিবারগুলিকে কুপিয়ে পিটিয়ে খুন করা হয়।মোট ৯৯ জন হিন্দুকে নারকীয় বর্বরতায় হত্যা করা হয়।যার মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সের ৮ টি বাচ্চা ছিলো। কয়েক ডজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং ইসলাম কবুল করে,  ভাগ্যক্রমে রক্ষা পাওয়া ঐ হতভাগ্য পরিবারগুলির জীবিত সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার পর, এবং চারটি গনকবরের মৃতদেহগুলির ছবির ফরেনসিক প্যাথোলজিস্টদের বিশ্লেষনের পর Amnesty International ঐ হত্যাকান্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। একটি ১৮ বছরের মেয়ে সাক্ষ‍্য দেয় যে তার বাবা, কাকা, ভাইকে একসঙ্গে খুন করা হয়েছিলো।এই রোহিঙ্গাদের  আশ্রয় দেবার জন্যে কংগ্ৰেস, আম আদমি পার্টি, তৃনমূল কংগ্ৰেস, বামপন্থীদের কি ব্যাকুলতা! যদি এরা কেন্দ্রে সরকার তৈরী করতে পারে , তবে ভারতবর্ষে উগ্ৰপন্থীদের একটা নতুন ফ্রন্ট খোলার রাস্তা পরিষ্কার হবে।দেশ গোল্লায় যাক। মুসলিম ভোট পক্ষে আসলেই হলো।  ভি পি মেনন বলেছিলেন, No nation can afford to be said generous at the cost of its own integrity. কোন জাতি তার অখন্ডতার বিনিময়ে উদার হতে পারে না। আমাদের দেশের রোহিঙ্গাপ্রেমিরা দেশের নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়ে উদার, না উদার নয়,ভোটের লোভে উদারতার নাটক মঞ্চস্থ করছেন।  অথচ ১৯৮৯ এর শেষদিক থেকে ১৯৯০ এর প্রথমদিক পর্যন্ত প্রায় ১৫৬০০০ কাশ্মীরি পন্ডিতকে আমানুল্লার নেতৃত্বাধীন জে কে এল এফ(জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট)  কাশ্মীর উপত্যকা থেকে উৎখাত করেছে। খুন, ধর্ষন,লুন্ঠনের মাধ্যমে উৎখাত হওয়া ঐ মানুষগুলো আজো নিজভূমে পরবাসী হয়ে ভিখিরির জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলার দরজা খোলা , এই আমন্ত্রন জানানো মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কোনদিন কি একজন কাশ্মীরি হিন্দু পন্ডিতকে নিজের রাজ্যে থাকার আমন্ত্রন করেছেন? রোহিঙ্গা মুসলমানদের ক্ষেত্রে এত মানবিক মমতা ব্যানার্জী, কপিল সিব্বাল, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা কাশ্মীরি পন্ডিতদের ক্ষেত্রে এত অমানবিক কেন? ওরা মুসলমান আর এরা হিন্দু বলে? এই প্রশ্নই বর্তমানে হিন্দুদের ভাবার সময় এসেছে। (সমাপ্ত)
(বিঃ দ্রঃ- মতামত লেখকের ব্যক্তিগত। )

রোহিঙ্গা মুসলিম ও ভারতের নিরাপত্তা

শ্রী রজত রায়। 

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিমের বাস ছিলো। এক দশকের মধ্যে প্রায় ৬২৫০০০ সেখান থেকে সীমানা অতিক্রম করে বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের সন্ধানে যাত্রা শুরু করে।বাংলাদেশে তাদের মূল বলে সেখানেই প্রথমে প্রবেশ করে।কিন্তু কিছুদিন পর বাংলাদেশ সরকার ঘোষনা করে যে তারা আর নতুন করে কোন রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে আশ্রয় দেবে না। হঠাৎ করে একদিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লক্ষ‍্য করলো যে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান নৌকায় করে সমুদ্রে আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের প্রথম লক্ষ‍্য ছিলো থাইল্যান্ড।কিন্তু সেখানকার উপকূলরক্ষী বাহিনী বা নেভি তাদের ঢুকতেই দেয় নি। মুসলমান দেশ তাদের আশ্রয় দেবে এই ধারনায় তারা মালয়েশিয়ায় যায়। সেখানকার সরকার তাদের সীমানাতেই ঢুকতে দেয় নি। এরপর তাদের লক্ষ‍্যস্থল হলো পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু সেখানকার  উপকূলরক্ষী বাহিনীও তাদের সেই দেশের সীমানা স্পর্শ করার অনুমতি দেয় নি। সমুদ্রে আটকে পড়া কিছু মানুষকে ইন্দোনেশিয়ান জেলেরা উদ্ধার করেছিলো। সেখানকার সরকার জেলেদের সাবধানকরে দেয় যেন আর কোন রোহিঙ্গা মুসলিমকে তারা উদ্ধার না করে।মুসলমান দেশগুলো বিপদগ্ৰস্ত মুসলমানদের আশ্রয় দেয় নি।যারা বলেন যে মুসলমানরা একে অপরকে বিপদের সময় পাশে থাকে, ওদের দারুন একতা,ওদের থেকে একতা শিখতে হয়, তাদের ভ্রান্ত ধারনা দূর করার জন্যে এই উদাহরনই আশা করি যথেষ্ট।কোন মুসলমান দেশ শিশু ,বৃদ্ধ, মহিলাদের পর্যন্ত(সবাই মুসলমান) আশ্রয় দেয় নি। নৌকায় করে  অবিশ্রাম সমুদ্রযাত্রার কারনে ওদের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা ‘boat people’ বলে অভিহিত করতো। সবদিকের দরজা বন্ধ দেখে ওরা ভারতকে লক্ষ‍্য হিসেবে বেছে নিলো। পৃথিবীতে ধর্মশালা তো একটাই। বর্তমানে প্রায় ৪০০০০ রোহিঙ্গা মুসলিম ভারতে আছে ।২০১৫ তে ছিলো ১০৫০০ , দুবছরের কিছু বেশী সময়ে সংখ্যা চারগুন বেড়ে গেলো। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা এবং বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন সরকারের উপর প্রবল চাপ শুরু করলো যে এদের ভারত থেকে বিতাড়িত করা চলবে না। কেন্দ্রীয় সরকার এদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক বলে ঘোষনা করেছে বলে তারা কেন্দ্রীয় সরকারকে মানবতাবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে। দুজন রোহিঙ্গা মুসলমান মহম্মদ সলিমুল্লা এবং মহম্মদ শাকিব(কিছু রোহিঙ্গা মুসলমান ২০১২ তে ভারতে এসে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড সব করে নিয়েছিলো। তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে কোর্টে মামলা করার অধিকারী হয়ে গিয়েছে।)সুপ্রিম কোর্টে রোহিঙ্গাদের এদেশে থাকতে দেবার দাবীতে মামলা করেছে। ওদের পক্ষে উকিল হিসেবে দাড়িয়েছে  ফলি নরিম্যান, প্রশান্তভূষন, কপিল সিব্বাল,রাজীব ধাওয়ান, অশ্বিনীকুমার,কলিন গঞ্জালভেসের মতো প্রখ্যাত আইনজীবিরা। বুঝুন অবস্থাটা। কোন মুসলমান দেশ যাদের দেশে ঢুকতেই দিলো না সেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভারতে স্থায়ীভাবে থাকতে দেবার জন্যে কিছু মানুষ এবং কিছু রাজনৈতিক দলের কি প্রাণপন প্রচেষ্টা। দেশের নিরাপত্তা এদের কাছে কোন অর্থই রাখে না। যদি এরা সরকার তৈরী করতে পারে তাহলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা এদেশের নাগরিক হবার ঢালাও অধিকার পেয়ে যাবে। আমাদের রাষ্ট্রের সুরক্ষা চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাড়িয়ে পরবে। বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ হিন্দুর চরম নিপীড়নে যারা কোনদিন একবিন্দু চোখের জল ফেলে নি, তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুঃখে কেদে ভাসিয়ে দিচ্ছে। এই মানসিকতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য এই দেশ ৯০০ বছর পরাধীন ছিলো। আবার কিন্তু অশনি সংকেত দেখা দিচ্ছে। সাধু সাবধান !(চলবে)

রোহিঙ্গা মুসলিম ও ভারতের নিরাপত্তা

শ্রী রজত রায় 

 অনেকের মুখে বলতে শুনেছি হিন্দুদের মধ্যে একতার খুব অভাব।একজনের বিপদে আরেকজন পাশে থাকে না। অন্যদিকে মুসলমানরা সবাই এক। একসঙ্গে নমাজ পড়ে।একসঙ্গে খায়। গোটা বিশ্বের মুসলমানরা নিজেদের এক ভাবে। আল্লা হো আকবর বললে সবাই এক সারিতে চলে আসে। একজনের বিপদে আরেকজন ঝাপিয়ে পড়ে।  এগুলি যদি সত্যি হয়, তবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের এই দুর্দশা কেন? মায়ানমার সেনাবাহিনী এবং সেখানকার স্থানীয় বৌদ্ধদের সাড়াশি উৎপীড়নে উৎখাত রোহিঙ্গা মুসলমানদের পৃথিবীর কোন মুসলমান দেশ আশ্রয় দিচ্ছে না কেন? ওদের মুসলিম সৌভাতৃত্বের বাণী কোথায় গেলো? একমাত্র বাংলাদেশ, যেটা রাখাইন প্রদেশের(আরাকান, শরৎচন্দ্রের উপন্যাসে নামটা খুব পাওয়া যায়) উত্তর সীমান্তে ওদের বাসস্থানের একদম লাগোয়া, সেই দেশে ওরা আপনাআপনি ঢুকে পড়েছে। এছাড়া পৃথিবীর বহু মুসলিম দেশে আশ্রয়প্রার্থী হতে চাইলেও কেউ তাদের  আশ্রয় দিতে রাজী নয়।সবাই সীমান্ত থেকেই ওদের বিদায় করে দিচ্ছে। মুসলমান একতার, ভ্রাতৃত্ববোধের আদর্শের চিহ্নমাত্রও তো নেই।
           ২০১৪ এর এমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর রিপোর্ট  ‘Left Out In The Cold’  অনুযায়ী Gulf Cooperation Council  যার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ,বাহরিন, কুয়েত,সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো সব মুসলমান রাষ্ট্র আছে , তারা মুসলমান রাষ্ট্র সিরিয়ার একজন নির্যাতিত মুসলমানকেও আশ্রয় দেয় নি। একতা আর সৌভাতৃত্ব বোধ ভোজবাজীর মতো উধাও হয়ে গেলো কেন?
          এক চিত্র রাখাইন থেকে পালানো মুসলমানদের ক্ষেত্রেও। ১৯৮২ র ‘বার্মিজ সিটিজেনশিপ ল’ অনুযায়ী যদি কারো পূর্বপুরুষ ১৮২৩ সালের পূর্বে ঐ দেশের বাসিন্দা না হয়ে থাকে তবে সে ঐ দেশের নাগরিক বলে গন্য হবে না। তারা Resident Foreigners হিসেবে গন্য হবে।এমনকি তাদের মা বাবার একজন সে দেশের নাগরিক হলেও না। সামরিক শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে ২০১৫ সালে দেশে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হবার পরেও সেই সরকার ওদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকার করে। ২০১২ সালে এক বৌদ্ধমতাবলম্বী মহিলা রোহিঙ্গাদের দ্বারা গনধর্ষিতা এবং খুন হয়।তারপর স্থানীয় বৌদ্ধদের আক্রোশের মুখে ওদের পলায়ন শুরু হয়। এবার ২৫ শে আগস্ট রোহিঙ্গারা মায়ানমার সেনার একটা ক্যাম্প আক্রমন করে এবং সেইসঙ্গে ১২ জনকে হত্যা করে। তারপর থেকে মায়ানমার সেনাবাহিনী ওদের এলাকা তছনছ শুরু করে ।শুরু হয় গনপলায়ন। পৃথিবীতে এতগুলি মুসলিম দেশ আছে। অনেকগুলি পেট্রোলিয়ামের পয়সায় যথেষ্ট ধনী দেশ। সবাই কয়েকহাজার করে আশ্রয় দিলেই রোহিঙ্গা মুসলিমদের পুনর্বাসন হয়ে যায়?কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় ওদের একজনকেও নিতে রাজী হচ্ছে না কেন? ভারতবর্ষের যে রাজনীতিবিদরা রোহিঙ্গাদের আমাদের দেশে আশ্রয় দেবার ওকালতি করছেন, মানবিকতার দোহাই দিচ্ছেন, বলছেন , আমার রাজ্যের দরজা রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য খোলা, তাদের মনে কি এই প্রশ্নটা আসছে না যে আরব, কাতার, লিবিয়া, বাহরিন এর মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলি কেন ওদের আশ্রয় দিচ্ছে না? ভারতে ওদের আশ্রয় দেবার ওকালতি কোন স্বার্থে? যে মানবিকতার দোহাই দেওয়া হচ্ছে, বাংলাদেশ, পাকিস্থানে হিন্দুর প্রতি নির্মম অত্যাচারের সময় এই মানবিকতা কোথায় থাকে? তখন নীরবতা কেন? রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুঃখে কাতর আর পাকিস্তান, বাংলাদেশের হিন্দুদের দুঃখে উদাসীন , এর নাম কি মানবতা?ধর্মনিরপেক্ষতা?(চলবে )

বড় দেরি করে ফেলছি আমরা।

                                                                      -শ্রী রজত রায়।
      দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ তখন সমাপ্তির পথে। রাশিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান আর পরিবেশ এবং সেইসঙ্গে  লাল ফৌজের দ্বারা  মার্শাল স্ট‍্যালিনের পোড়ামাটির নীতির সফল প্রয়োগ হিটলালের বিখ্যাত Sixth Army-এর  ধ্বংস  নিশ্চিত করল। পাল্টা আক্রমনে লাল ফৌজ জার্মানির একের পর এক ভূখন্ড দখল করে রাজধানীর দিকে আগুয়ান। জাপানের প্রতিরোধ নিঃশেষিত। কিন্তু যে মারনাস্ত্র আমেরিকা তৈরী করেছে তার প্রয়োগ না ক‍রলে  তো মারনক্ষমতা বোঝা যাবে না। ১৯৪৫ এর ৬ আগস্ট আর ৯ আগস্ট  হিরোসিমা আর নাগাসাকিতে ফেলা হল ‘The Little Boy’ আর ‘The Fat Man’ পরমানু বোমা। ধ্বংসস্তুপের শহর হিরোসিমাতে এক আমেরিকান সেনা অফিসার কথা বলছিলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে। সব প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দিচ্ছিলেন। জেনারেল ম্যাকআর্থার‌। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মিত্রবাহিনীর জয়ের প্রধান স্থপতি। যুদ্ধে পরাজয়ের কারন উল্লেখ করার সময় ঐ জেনারেল সবসময় বলতেন, আমি দুটো মাত্র শব্দে যুদ্ধে পরাজয়ের কারনকে ব্যাখ্যা করতে পারি-  ”I can explain the cause of defeat only in two wards, ” too late” অর্থাৎ  বড় দেরী। বন্ধু বা শত্রূ  চিনতে দেরী, সিদ্ধান্ত নিতে দেরী, বিপদসংকেত অনুধাবন করতে দেরী। যদি বাংলার হিন্দুসমাজ বিপদের অশনি সংকেত বুঝতে দেরী করে তবে অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধে পরাজয় অবশ্যম্ভাবি।তার থেকেও বড় কথা, বাঙ্গালী হিন্দু বিপদটা কি সেটা বুঝেও না বোঝার ভান করে এড়িয়ে যায় অথবা বিজ্ঞতার মুখোশের আড়ালে নিজের অজ্ঞতাকে লুকিয়ে রাখে অথবা উটপাখির মত বালিতে মুখ গুজে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে‌।
     কয়েকদিন পূর্বে মধ্য কলকাতার রাজপথ কাপিয়ে একটা মিছিল হয়েছে।উদ্যোক্তা All Bengal Minority Youth Federation. ওই সংগঠনের সাধারন সম্পাদক মহম্মদ কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে টিপু সুলতান মসজিদের সামনে থেকে শুরু হওয়া ঐ মিছিলটা কি এমনি আর পাচটা মিছিলের মতো ছিল? মিছিলটা কি পুলিশের অনুমতি নিয়ে হয়েছিলো? মিছিলের সুর কি তারে বাধা ছিলো? মিছিলের দাবীগুলির মধ্যে কি ভবিষ্যৎ বিপদের ঘন্টাধ্বনির সুস্পস্ট শব্দ শোনা যাচ্ছিলো না?
        দাবী ছিলো ইমাম ভাতা বৃদ্ধি করতে হবে। শুধু এইটুকু হলে একটা কথা ছিলো। কিন্তু মিছিলকারীদের বক্তব্য ছিলো, শারদীয়া উৎসব উদযাপনে অনুদান দিলে আমাদের ইমামভাতাও বৃদ্ধি করতে হবে। কি অকল্পনীয় স্পর্ধা। যদি বাংলাদেশে মুসলমানদের অনুষ্ঠানের  জন্য  সরকারী অনুদানের প্রশ্নে হিন্দুরা তাদেরও অনুষ্ঠানে অনুদান বা পুরোহিতদের অনুদানের দাবীতে মিছিল করতো , তাহলে সেই মিছিলকারীরা অক্ষত অবস্থায় বাড়ী ফিরতে পারতো কি? জানি, অনেকে বলবেন ওটা ইশ্লামিক রাষ্ট্র, আর আমাদেরটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। কিন্তু প্রশ্নটা রাষ্ট্রব্যবস্থার চারিত্রিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে নয়। দাবীটার মধ্যে সমাজের বৃহত্তর অংশকে চ্যালেঞ্জ জানাবার প্রতিস্পর্ধার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ কি যথেষ্ট উদ্বেগছনক নয়? এরপরের দাবী আরো মারাত্মক। মুসলিম পুলিশ কমিশনার চাই এবং পুলিশে মুসলিম সংখ্যাবৃদ্ধি চাই। এটা আমাদের গনতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা। এই দাবীর পিছনে কারন কি? বর্তমান পুলিশি ব্যবস্থায় কলকাতা মহানগরীতে মুসলিমরা কি অসুরক্ষিত?এমন কোনও ঘটনা কেউ কি শুনেছেন? তাহলে এই দাবী কি উদ্দেশ্যে? অন্য সব দপ্তর বাদ দিয়ে পুলিশ বিভাগ কেন? এটা কি কোন অনেক অনেক বড় পরিকল্পনার অঙ্গ? যদি কলকাতা পুলিশে মুসলমান সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার মুসলমান হয় ,তবে কলকাতায় ওরা কোন গোপন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করবে? ১৯৪৬ এর কোলকাতা দাঙ্গার ইতিহাস কি ওরা মনে মনে লালন পালন করে?
         আশ্চর্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলগুলি এ বিষয়ে নীরব। মনে হচ্ছে মৌনব্রত পালন করছে। সুবোধ বিকাশরা গলা জড়াজড়ি করে ক্যামেরার সামনে গোরুর মাংস খেতে পারে, অথচ হাত ধরাধরি করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। এই ঘটনাকে উপেক্ষা করলে ভয়াবহ ভবিষ্যতকে আমন্ত্রন করা হবে।বিনা অনুমতিতে মিছিল এবং সেই মিছিল থেকে চরম সাম্প্রদায়িক দাবী। পুলিশ উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ধারায় মামলা রুজু করেছে কি ? কোন অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে সে মুখোশ উন্মোচন করতে হবে। মুসলমান সমাজের অগ্ৰগন্য ব্যক্তিত্বদের প্রকাশ্যে ঘোষনা করা দরকার  ঐ বেআইনী , অসাংবিধানিক দাবীগুলির সঙ্গে আমরা সহমত পোষন করি না।ওগুলি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দাবী। তবে তো সত্যিকারের ভারতীয় নাগরিকত্বের পরিচয় দেওয়া হবে। ঐ দাবীগুলির পিছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির মদত নেই তো?নিশ্চেষ্ট হয়ে বসে থাকা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলা। নিজেরা হাত গুটিয়ে অপরের ভরসায় থাকলে ভগবানও  রক্ষা করবেন না। ঐ জেনারেল ম্যাকআর্থারের  তত্ত্ব অনুযায়ী বড় দেরী হলে বড় পরাজয়।স্বামীজী বলতেন, আহাম্মকের কথা মানুষ শোনে না , তো ভগবান কি শুনবেন। সেই বিপদ বুঝে উঠতে বড্ড দেরি করে ফেলছি আমরা। আর এইভাবে ভবিষ্যত ভারতের কাছে আমরা নিজেদের যেন আহাম্মক বলে প্রমানিত না করি

দোল পূর্ণিমা বা হোলি উৎসব

পুণ্যভূমি ভারতের সভ্যতা খুব প্রাচীন। সেই মতো সংস্কৃতি, আচার-উপাচার এবং উৎসবও খুব প্রাচীন। আমরা ভারতের হিন্দুরাও সেইসব সংস্কারের সঙ্গে পরিচিত প্রাচীন কাল থেকেই। এই সংস্কার এবং উৎসবের আবেগ প্রাচীন কাল থেকে আমাদের রক্তে প্রবহমান। এই উৎসব শুধুমাত্র হিন্দুর একান্ত নিজেদের।  তবে বর্তমান ভারতে  কিছু কিছু ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুধুমাত্র সেই সব ধর্মের অনুসারীরাই পালন করে। অন্যান্য ধর্মের অনুসারীরা দেখতে পারে বা ইচ্ছা করলে সেই অনুষ্ঠানের আনন্দ ভাগ করে নিতে পারে। হোলি উৎসব তার মধ্যে একটি। হোলি উৎসবে সাধারণত রঙ বা আবির(এক ধরনের গুড়ো রং) নিয়ে একে অন্যের গাঁয়ে দিয়ে দেয়া হয়। ব্যপারটা অনেকটা রঙ দিয়ে খেলা আর কি।
স্কন্দপুরাণ গ্রন্থের ফাল্গুনমাহাত্ম্য গ্রন্থাংশে হোলিকা ও প্রহ্লাদের উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে। হোলিকা ছিলেন মহর্ষি কশ্যপ ও তাঁর পত্নী দিতির পুত্র হিরণ্যকশিপুর ভগিনী। ব্রহ্মার বরে হিরণ্যকশিপু দেব ও মানব বিজয়ী হয়ে দেবতাদের অবজ্ঞা করতে শুরু করেন। ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক ছিলেন। তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুনে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। কারণ হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ অগ্নিকুণ্ড থেকেও অক্ষত থেকে যায় আর ক্ষমতার অপব্যবহারে হোলিকার বর নষ্ট হয়ে যায় এবং হোলিকা পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, এই থেকেই হোলি কথাটির উৎপত্তি।
অন্যদিক বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন। কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে। অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর সকলে আনন্দ করে। এই অন্যায় শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহাআনন্দে পরিণত হয়। দোলযাত্রা বা হোলি উৎসব সংক্রান্ত পৌরাণিক উপাখ্যান ও লোককথাগুলি মূলত দুই প্রকার: প্রথমটি দোলযাত্রার পূর্বদিন পালিত বহ্ন্যুৎসব হোলিকাদহন বা নেড়াপোড়া সংক্রান্ত, এবং দ্বিতীয়টি রাধা ও কৃষ্ণের দোললীলা বা ফাগুখেলা কেন্দ্রিক কাহিনী
শ্রী রাধা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে দোল খেলছেন শ্রী কৃষ্ণ :-
বৈষ্ণব বিশ্বাস অনুযায়ী, ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সহিত রং খেলায় মেতেছিলেন। সেই ঘটনা থেকেই দোল খেলার উৎপত্তি হয়। দোলযাত্রার দিন সকালে তাই রাধা ও কৃষ্ণের বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নাত করে দোলায় চড়িয়ে কীর্তনগান সহকারে শোভাযাত্রায় বের করা হয়। এরপর ভক্তেরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রং খেলেন। দোল উৎসবের অনুষঙ্গে ফাল্গুনী পূর্ণিমাকে দোলপূর্ণিমা বলা হয়। আবার এই পূর্ণিমা তিথিতেই চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্ম বলে একে গৌরপূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়।
অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদযাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সংপৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু উদযাপনের রীতি এক ।বাংলায় আমরা বলি ‘দোলযাত্রা’ আর পশ্চিম ও মধ্যভারতে ‘হোলি’,। রঙ উৎসবের আগের দিন ‘হোলিকা দহন’ হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে । শুকনো গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একটা  থাম বানিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ হয় । পরের দিন রঙ খেলা । বাংলাতেও দোলের আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম।
দোলযাত্রা উৎসবের একটি ধর্মনিরপেক্ষ দিকও রয়েছে। এই দিন সকাল থেকেই নারীপুরুষ নির্বিশেষে আবির, গুলাল ও বিভিন্ন প্রকার রং নিয়ে খেলায় মত্ত হয়। শান্তিনিকেতনে বিশেষ নৃত্যগীতের মাধ্যমে বসন্তোৎসব পালনের রীতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সময়কাল থেকেই চলে আসছে। দোলের পূর্বদিন খড়, কাঠ, বাঁশ ইত্যাদি জ্বালিয়ে এক বিশেষ বহ্ন্যুৎসবের আয়োজন করা হয
বাঙালির হোলি বা দোলযাত্রা যেহেতু উৎসবটি রং নিয়েই তাই কিশোর এবং তরুণদের মধ্যে রঙের প্যাকেট একটি উল্লেখযোগ্য উপহার। এই উৎসবের তাৎপর্য একে অন্যের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের সবচেয়ে ভালো উপায় পছন্দের মানুষকে মিষ্টি মুখ করানো। হিন্দু ধর্মের কোনো কোনো গোত্র এই দিনে বিবাহিত মেয়েকে এবং মেয়ের জামাইকে নতুন কাপড় উপহার দেয়। হোলির আগের দিন শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা হয়। তখন শুকনো রং ছিটানো হয়।
কেউ কেউ হোলি না খেললেও জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অথবা বাড়ির ছাদে উঠে উপভোগ করেন হোলি খেলা। অনেকে বিশ্বাস করে এই রঙ খেলার মাধ্যমে নিজেদের সব অহংকার, ক্রোধ যেন  শেষ হয়ে যায় এবং সকলে মিলেমিশে উপভোগ করে এই হোলি উৎসব বা দোল পূর্ণিমা।

হিন্দু সংস্কৃতি কি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

আজকাল খুব একটা কথার প্রচলন হয়েছে – “দলিত সমাজ” অত্যাচারিত, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা অত্যাচারিত ! এবং এই অত্যাচারের ফলেই নাকি বহু নিম্ন বর্ণের হিন্দু ধর্মান্তরিত হয়েছেন – বলা ভালো মুসলিম হয়েছেন, খ্রিস্টান হয়েছেন – সেই বহুকাল আগে থেকে ! হিন্দু সমাজ বা হিন্দু সংস্কৃতি – নাকি ব্রাহ্মণ্যবাদী !!

একটু আদিকাল থেকে দেখে আসা যাক :-
শ্রুতি থেকে বেদ যখন লিপিবদ্ধ হয় – যিনি লিপিবদ্ধ করেন – সেই ব্যাসদেব, তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! ব্রাহ্মণ যখন পৈতা ধারন করেন – তাঁকে যে “গায়ত্রী” মন্ত্র জপ্ করতে হয় বা পাঠ করতে হয় – [“ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ
তৎ সবিতুর্বরেণ্যং
ভর্গো দেবস্য ধীমহি
ধিয়ো য়ো নঃ প্রচোদয়াৎ।”] , সেই গায়ত্রী মন্ত্রের যিনি দ্রষ্টা – মহর্ষি বিশ্বামিত্র – তিনি ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! দেবতারা যাঁর সাহায্যে – স্বর্গ পুনর্দ্ধার করেন এবং যাঁর আত্মত্যাগ জগৎ স্বরণীয়, সেই দধিচি মুনি – শূদ্র ছিলেন – ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! যাঁকে দক্ষিণ ভারতের উদ্ধারকর্তা বলা হয় – সেই অগস্ত্যা মুনি – শূদ্র ছিলেন, ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! এরপরেও হিন্দু সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

ত্রেতা যুগে রচিত রামায়ণ – যিনি রচনা করলেন – মহাঋষি বাল্মীকি, ব্রাহ্মণ ছিলেন না(আজও দেখুন – উত্তর প্রদেশের বাল্মীকি যাঁরা, তাঁরা এস.সি.)! রামায়ণে সব থেকে শ্রদ্ধেয় চরিত্র – রাম, ক্ষত্রিয় ছিলেন – ব্রাহ্মণ নয় ! শ্রীরামের যুদ্ধ যাঁর বিরূদ্ধে – তিনি রাবণ, রাবণ ব্রাহ্মণ ছিলেন ! এরপরেও হিন্দু সংস্কৃতি – ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

মহাভারতে তিন নীতির যুদ্ধ ! ধর্মনীতি, রাজনীতি এবং কূটনীতি ! ধর্মনীতি যিনি ধারন করে আছেন তিনি শ্রীকৃষ্ণ ! রাজনীতি যিনি ধারন করে আছেন – তিনি মহামতি বিদুর ! আর কূটনীতির ধারক – শকুনি ! ভারতীয় সভ্যতার প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী যাঁকে বলা হয় – সেই মহামতি বিদুর – ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! মহাভারত যুগে শ্রীকৃষ্ণের পর যিনি সব থেকে জ্ঞানী ব্যক্তি – সেই মহামতি বিদুর শূদ্র ছিলেন – ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! এরপরেও হিন্দু সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ?

প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ তিন রাজবংশ – নন্দ বংশ (শূদ্র), মৌর্যবংশ(শূদ্র) এবং গুপ্ত বংশ(বৈশ্য) ! এঁরা কেউ ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! এরপরেও যাঁদের রাজত্বের বিস্তৃতি, প্রায় মোগলদের রাজত্বের সমান বিস্তৃতি ছিলো – সেই পালবংশও ব্রাহ্মণ ছিলো না ! এমন কি সেন বংশও ব্রাহ্মণ ছিলো না ! তাহলে কখন ব্রাহ্মণ্যবাদীরা অব্রাহ্মণদের উপর অত্যাচার করেছিলো বলতে পারেন ? যখন প্রাচীন সব গল্পই দেখা যায়, দরিদ্র ব্রাহ্মণ – ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে প্রতিদিন ভিক্ষা করতে বের হচ্ছেন, ঘরে ব্রাহ্মণপত্নী পথ চেয়ে আছেন – কখন ব্রাহ্মণ ফিরবেন, ভিক্ষা নিয়ে – তারপর রান্না হবে – সেই ব্রাহ্মণগণ অত্যাচারী ছিলো ?

আধুনিক যুগের ভারতের দিকপুরুষ – যিনি ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ শ্রী রামকৃষ্ণের শিষ্য এবং যিনি রামকৃষ্ণ মঠ প্রতিষ্ঠা করেন, সেই স্বামী বিবেকানন্দ ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! ভারত সেবাশ্রম সংঘের প্রতিষ্ঠাতা প্রণবানন্দ মহারাজ – ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! আজ সারা বিশ্বে শ্রীকৃষ্ণ নাম মাহাত্ম্য বিতরণ, মন্দির প্রতিষ্ঠা হচ্ছে- যেই সংঘঠনের মাধ্যেমে – সেই “ইসকন” এর প্রতিষ্ঠাতা শ্রীল প্রভুপাদ – ব্রাহ্মণ ছিলেন না ! তাহলে বলতে পারেন – কোথায় এই সংস্কৃতি ব্রাহ্মণ্যবাদী ????

হ্যাঁ এঁরা সকলেই – নিজ কর্ম গুনে ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ, এবং কর্ম দ্বারাই ব্রাহ্মণ ! গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন – “চাতুর্বণ্যং ময়া সৃষ্টং গুণকর্মবিভাগশঃ”। তিনি গুণ ও কর্মের ভিত্তিতে চারিবর্ণের সৃষ্টি করেছেন ! চারজাতি নয় !

আমাদের সংস্কৃতি কখনো কারও মাঝে বিভেদ রাখেনি ! নাহ্ – ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র – কারো মাঝে না ! ব্রাহ্মণশ্রেষ্ঠ শংকরাচার্য যেমন – মেথর কে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে পিছপা হননি, তেমননি – আমাদের সংস্কৃতি – পিছপা হয়নি শূদ্র থেকে ব্রাহ্মণকে সন্মান জানাতে ! আমাদের সংস্কৃতি – ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ শংকরাচার্য, রামকৃষ্ণ দেব, চৈতন্য মহাপ্রভু, সবাই কে সন্মান দিয়েছে – তাঁদের কৃতকর্মের জন্য !

তবে কি – সেই সমাজে বা এই সমাজে বিভেদ ছিলো না – অত্যাচার ছিলো না ? অবশ্যই ছিলো – সেটা ধনী দরিদ্রের বিভেদ, দরিদ্রের উপর ধনীর অত্যাচার ! তাহলে – কেনোই বলা হয় – উচ্চজাতির প্রতি নিম্নজাতির অত্যাচার ছিলো ? কারণ – হাজার বছর পূর্বে সৃষ্টি হওয়া একটি চক্রান্ত যা আড়াইশত বছর পূর্বে আরও জোরদার হয় এবং এই হিন্দু সমাজ কে ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য যা – আজও সমান তালে চলছে ! না হলে বলুন তো প্রায় দূ’কোটি “মতুয়া” সম্প্রদায় কেনো ইসলামিক পূর্ব-পাকিস্থান বা ইসলাম প্রধান বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসে – ভারতে আশ্রয় নিতে হয় ? যদি- উচ্চবর্ণের অত্যাচারে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলিম হয়ে থাকে ? আজও কেনো বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসতে হয় –  প্রধানতঃ নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ! বাংলাদেশ সংলগ্ন বর্ডার সাইট গুলি লক্ষ্য করুন – দেখবেন, বেশীর ভাগই তথাকথিত নিম্নবর্ণের হিন্দু ! কেনো – তাঁরা আজও মুসলিম নয় ? কারণ – যা আমাদের ইতিহাস পাল্টে গুলে খাওয়ানো হচ্ছে – তা ভুল ইতিহাস ! উল্লেখ করা যেতে পারে – পূর্ব পাকিস্থানের মন্ত্রী – যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডলের কথা ! “দলিত-মুসলিম ঐক্য” স্লোগানের মহান প্রাণ পুরুষ – পাকিস্তান রাষ্ট্রের আইন মন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু হায় – তাঁকেও রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসতে হয়েছিলো হিন্দু অধ্যুষিত ভারতেই, তিনি ক্ষমা পাননি – নিম্ন বর্ণের হিন্দু হলেও !

কোন সমাজ – ব্রাহ্মণ্যবাদী ছিলো ? কিভাবে ছিলো ? যেখানে হিন্দুদের সাতটি গোত্রই চতুর্বর্ণে দেখা যায় ! যেমন – ভরদ্বাজ গোত্র, ব্রাক্ষণের যেমন আছে তেমনি শূদ্রদেরও আছে ! কাশ্যপ গোত্র – ব্রাক্ষণ থেকে শূদ্র সবার মধ্যে আছে ! এতেই কি প্রমাণ হয় না – হিন্দুরা সাম্য ? হ্যাঁ হিন্দুরা অবশ্যই সাম্যবাদী I কারন এই সংস্কৃতিই জগতের সকলের মঙ্গলার্থে এবং কোন ভেদ না করে – স্বগর্বে ঘোষনা করতে পারে – “ওম্ সর্বে ভবন্তু সুখিনঃ সর্বে সন্তু নিরাময়াঃ, সর্বে ভদ্রাণি পশ্যন্তু, মা কশ্চিতদুখভাগভবেত। ওম্ শান্তি শান্তি শান্তি।”

প্রাচীন তিনটি উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র, তক্ষশিলা – নালন্দা – কাশী তে দেখুন তো ক’জন ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ছিলেন আর ক’জন অব্রাহ্মণ পণ্ডিত ! তারপরেও এই সংস্কৃতি নাকি – ব্রাহ্মণ্যবাদী সংস্কৃতি ????

সর্বশেষ উদাহরণ :- দলিত সম্প্রদায়ের – রামজি মালোজী শাকপাল ও ভীমারাই’র চৌদ্দতম তথা কনিষ্ঠ পুত্র ভীমরাও কে যিনি পুত্ররূপে “ভীমরাও অাম্বেদকর” নামে সারা পৃথিবী কে চিনিয়েছেন – তিনি ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের “মহাদেব আম্বেদকর” (লক্ষ্য রাখুন – আম্বেদকর পদবীটি মারাঠি ব্রাহ্মণ পদবী) এবং যিনি – বাবাসাহেব ডঃ ভীমরাও রামজী আম্বেদকর কে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠিয়েছিলেন – তিনি বরদা’র মহারাজা – শাহজী রাও একজন ব্রাহ্মণ !

হিন্দু সংস্কৃতি কে ভাঙতে যাঁরা তখন থেকে এখন একই ভাবে চক্রান্ত করে গেছেন – তাদের কে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার সময় এখনই ! কারণ আপনিও আপনার কর্মগুনে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য এবং শূদ্র, জন্মগত নয় I

“ব্রাহ্মণ আমার ভাই – চন্ডাল আমার ভাই – সবার শরীরে মানুষেরই রক্ত !” – (স্বামী বিবেকানন্দ)l

(শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডঃ সরূপ প্রসাদ ঘোষ মহাশয়ের বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে, এই লেখাটি লিখেছেন – বাদল চন্দ্র সাহা ) !

বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম

ভারতে ইসলামের বীজ সুদৃঢ়ভাবে প্রোথিত হয় ৭১২ সালে। সেই সাম্রাজ্যবাদী ইসলামের অশুভ ছায়া আমাদের এই বঙ্গদেশকে স্পর্শ্ব করলো তার ৫০০ বছর পরে, অর্থাত ১২০৬ সালে। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলেছে সেই অসুর শক্তির সাথে সংগ্রাম। রাজশাহী-দিনাজপুরের রাজা গণেশ, বিক্রমপুরের চাঁদ রায় এবং কেদার রায়, যশোরের প্রতাপাদিত্য, বিষ্ণুপুরের বীর হাম্বীর, বেড়াচাঁপার রাজা চন্দ্রকেতু ও তার দুই সেনাপতি হামা আর দামা, বালিয়া বাসন্তীর বাগ্দী রাজাদের মত অসংখ্য বাঙালি বীর এই অসুর সাম্রাজ্যবাদের সামনে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। আজও সেই লড়াইয়ে বাঙালি পিছিয়ে নেই।

এই সংগ্রাম কেন?
১৪০০ বছর আগে জন্ম নেওয়া ইসলাম নামক একটি মতবাদ পৃথিবীকে দুভাগে ভাগ করেছে। শুধু ভাগ করেই শেষ নয়, সেই মতবাদে যারা বিশ্বাস করেন না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই অবিশ্বাসীদেরকে তীব্র ঘৃণা করতে শিখিয়েছে। তাদের বিশ্বাস, সংস্কৃতি, ধর্ম – সবকিছু ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছে। আমরা সারা পৃথিবীর মানুষকে বসুধৈব কুটুম্বকম মনে করি, অথচ তারা আমাদেরকে কাফের-মুশরিক-বুতপরস্ত বলে ঘৃণা করে। তারা আমাদের এই মাটিকে দারুল ইসলামে পরিণত করতে চায়। তারা বাংলার বারো মাসে তেরো পার্বণকে ধ্বংস করে আমাদের উপরে আরবের মরু সংস্কৃতিকে জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়। ওরা পারস্য, মিশর, আফগানিস্তান, পাকিস্তানের পাঞ্জাব, বালুচিস্তান, সিন্ধ – সব জায়গার মূল সভ্যতাকে এবং তাদের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছে। আমাদের বাংলার তিনভাগের দুভাগ মাটি ছিনিয়ে নিয়ে বাংলাদেশ করেছে। সেখান থেকে বাঙালিকে তাড়িয়েছে, গণহত্যা করেছে, বাঙালি মেয়েদের নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেছে। বাঙালির দুর্গাঠাকুরের মূর্তি ভেঙেছে, কালীঠাকুরের মূর্তি ভেঙেছে, রামকৃষ্ণ মিশনে হামলা করেছে। সতসঙ্গ-ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘ-রামঠাকুরের অশ্রমসহ কোনও বাঙালি প্রতিষ্ঠানই এই জেহাদী আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পায়নি। শুধু ওপার বাংলা কেন, এপারের দেগঙ্গা, নলিয়াখালি, ধানতলা, ধুলাগড়, বাদুড়িয়া-বসিরহাট, তেহট্ট, কালিয়াচক, চোপড়া, রায়গঞ্জ – সর্বত্র কি আমরা একই চিত্র দেখতে পাই নি! সুতরাং ইতিহাস বলছে, আমরা শান্তি চাইলেই শান্তি আসবে না। কারণ অশান্তির বীজ তাদের মতবাদের মধ্যেই নিহিত আছে। আমাদের চাওয়া অথবা না চাওয়ার কোনও মূল্য নেই।
১৯৪৭ এ এই ভারতের মাটি গেছে – এই সত্যের চেয়েও বড় সত্য হল আমাদের এই বাংলার তিনভাগের দুভাগ মাটি চলে গেছে। হিন্দু উদ্বাস্তু হয়েছে – কিন্তু তার চাইতে বড় সত্য হল, বাঙালি উদ্বাস্তু হয়েছে, বাঙালি নিধনযজ্ঞ হয়েছে, বাঙালি মা-বোনদের ধর্ষণ করা হয়েছে। ওপারে বাঙালির শিবরাত্রি, চড়কপূজা, নবান্ন, পৌষ পার্বন, কালীপূজা, দুর্গাপূজা, সরস্বতী পূজা, অরন্ধন, রান্নাপূজো, রাসমেলা, নাম সংকীর্তনের সংস্কৃতি ধ্বংস হয়েছে। আর এপারে বাঙালির দুর্গাপূজা রূপান্তরিত হয়েছে শারদোৎসবে, রবিঠাকুর হয়েছেন বুর্জোয়া কবি, নেতাজী হয়েছেন তোজোর কুকুর। বাঙালির মেরুদন্ড ভাঙার এই কাজ ওপারে করে চলেছে জেহাদী মুসলমানেরা, আর এপারে করে চলেছে তাদের দোসর বাংলার সেকু-মাকুরা।

উপায় কি?
এই পরিস্থিতিতে আমাদের সামনে তিনটে অপশন আছে – ১)বাংলার মাটি ছেড়ে পালাও, ২) আত্মসমর্পণ করো আর মরু সংস্কৃতিকে কবুল করো, ৩) ইসলামিক জেহাদের বিরুদ্ধে অস্তিত্বরক্ষার লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ো। এই লড়াই মারাঠা লড়েছে, রাজপুতানা লড়েছে, বিজয়নগর লড়েছে, পাঞ্জাব লড়েছে, বুন্দেলখন্ড লড়েছে। তারা সবাই নিজেদের দমে লড়েছে এবং জিতেছে। সারা দেশ কবে একতাবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে নামবে-তারজন্য কেউই অপেক্ষা করে বসে থাকেনি। এই লড়াইয়ে বাঙালিও পিছিয়ে থাকেনি, তার উল্লেখ আমি আগেই করেছি। আমরা, বাঙালিরা সেই সংগ্রামী যোদ্ধাদের উত্তরসূরী। আজ দ্বিতীয় কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সমুপস্থিত। গোটা বিশ্বে আজ ইসলামিক উম্মা একদিকে এবং সভ্য মানবসমাজ অন্যদিকে। এই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে বাঙালির দায়িত্ব বাংলাকে এবং বাঙালিয়তাকে রক্ষা করা। এই বাংলাই আজ আমাদের ওয়ার ফ্রন্ট বা যুদ্ধক্ষেত্র।

আমরা কি প্রস্তুত?

রাজনৈতিক ইসলাম – একটি সর্বগ্রাসী মতবাদ (পর্ব – ২)

ড: বিল ওয়ার্নার

অনুবাদ : অমিত মালী।

গতকালের পর :-
সবশেষে রাজনৈতিক ইসলাম অন্য ধর্মের অস্তিত্বকেও অস্বীকার করে, অন্যধর্মের বিরোধিতা করে। কোরান মুসলিমদেরকে এই শিক্ষাই দিয়ে আসছে। কয়েকটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। কোরানের সূরা ২, আয়াত ১৯৩ তে বলা হয়েছে – কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন যুদ্ধ করো, যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ-এর সর্বময় কতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার হাদিসে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। মুসলিম হাদিসের ১নম্বর হাদিস এবং ৩১ নম্বর হাদিসে মহম্মদ বলছেন যে ”আমাকে মানবসভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবাই স্বীকার করে যে এই পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই এবং যেন স্বীকার করে নেয় যে একমাত্র আমিই আল্লাহ-এর নবী।” বুখারী হাদিসের ৪নম্বর, ৫২ নম্বর এবং ১৯৬নম্বর হাদিসে মহম্মদ বলছেন, ”আমাকে কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন যুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবাই স্বীকার করে নিচ্ছে যে এই পৃথিবীতে একমাত্র উপাস্য হলেন আল্লাহ।” আর এই মতবাদগুলি যেগুলি মহম্মদের জীবনের ওপর ভিত্তি করে সৃষ্টি হয়েছে, এটা হলো জিহাদ – যা কাফিরদের বিরুদ্ধে ততক্ষন চালিয়ে যেতে হবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আর এই তত্ত্বের ফলে বিগত হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশের সাধারণ মানুষ আক্রমণের শিকার হয়েছেন, তারা তাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন। আর এই পরিকল্পনা বিশ্বব্যাপী ইসলাম প্রসারের জন্যে করা হয়েছে। তবে সবসময় জিহাদের দ্বারাই যে ইসলাম প্রসার পেয়েছে তা নয়। আর একটি কারণ হলো ইসলামিক দেশ থেকে মুসলিমদের অন্য দেশে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করা এবং তাদের সংখ্যা বাড়ানো। আর ঠিক এই কারণে বর্তমানে পৃথিবীতে ইসলামের শক্তি দিন দিন বাড়ছে।
ইসলামকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা :-
প্রথমেই বলা হয়েছে যে ইসলাম প্রতিটি মুসলিমের ব্যক্তিগত জীবনকে নিয়ন্ত্রিত করে। আর একটি ইসলামিক মতবাদ হলো এই যে সমস্ত বিশ্বকে ইসলামের অধীনে আনতে  হবে। রাজনৈতিক ইসলামের আর একটি অংশ হলো শরিয়া আইন। এটা ইসলামের নিজস্ব আইন ব্যবস্থা, যাকে  হাতিয়ার করে মুসলমানরা যে দেশে থাকুক না কেন, সে দেশের প্রচলিত আইনকে অস্বীকার করে এবং শরিয়া মেনে চলতে চায়। মুসলিমরা দাবি করে যে এটা হলো মহান আল্লাহ-এর আইন এবং প্রতিটি মুসলিম নারী-পুরুষ এই আইন মেনে চলতে বাধ্য। এই শরিয়া আইনে অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেমন – কিভাবে প্রাথর্না করতে হয়, বিবাহ, ব্যাংকের আইন, কিভাবে একজন আদর্শ স্বামী বা স্ত্রী হতে হয়, যৌনতা, কোন অপরাধের কি শাস্তি হওয়া উচিত, কোন খাদ্য মুসলিমদের জন্য গ্রহণ যোগ্য আর কোনটি নয়, কোন পোশাক মুসলিমরা পরবে আর কোনটি পরবে না, কিভাবে শৌচকর্ম করতে হবে, ইসলাম ত্যাগ যারা করবে তাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে এইসব। আর শরিয়া আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা হল এই যে কাফিরদেরকেও শরিয়া আইন মানতে হবে।
হজরত মহম্মদের মৃত্যুর পর আবু বকর, তার ঘনিষ্ঠ সঙ্গী প্রথম খলিফা হন। খলিফা হয়ে তিনি প্রথমে আদেশ দেন যে যারা ইসলাম ত্যাগ করে চলে যেতে চায়, তাদের হত্যা করা হোক। কারণ মহম্মদের সময়কালে অনেক মানুষকে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। তাই তারা ইসলাম ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলো। আর এটাই রাজনৈতিক ইসলামের একটি অংশ। যদি কেউ একবার ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে আর সে কখনো ইসলাম ত্যাগ করতে পারবে না, তাকে মুসলিম হয়েই থাকতে হবে। আর যদি সে ইসলাম ত্যাগ করে, তাহলে তার জন্যে মর্মান্তিক মৃত্যু অপেক্ষা করে আছে। পরের খলিফা হন উমর, যিনিও ছিলেন মহম্মদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী। তিনি মোট দশ বছর শাসন করেন। আর দশ বছরে তিনি আরবের পাশে থাকা খ্রিস্টান অধ্যুষিত সিরিয়া এবং জরাথ্রুস্টের অনুগামীদের দেশ ইরানের বিরুদ্ধে জিহাদ করে কাটিয়ে দেন। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না জিহাদের প্রথম এবং শেষ লক্ষ্য হলো অন্য ধর্মকে পরাজিত করে ইসলামের রাজত্ব কায়েম করা। আর এই কারণে আজ বিশ্বব্যাপী ইসলাম রাষ্ট্রের সংখ্যা এতগুলি। তুর্কির আগে নাম ছিল আনাতোলিয়া এবং একটি খ্রিস্টান রাষ্ট্র ছিল। কিন্তু ইসলামী জিহাদের সামনে পড়ে আজ তুর্কির শতকরা ৯৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম। আজ তার নামও পাল্টে হয়েছে তুরস্ক। উত্তর আফ্রিকা, মিশর, ইরাক, সিরিয়া এবং লেবানন এইসব দেশগুলি খ্রিস্টান দেশ ছিল। কিন্তু ইসলামিক জিহাদের ফলে আজ এই দেশগুলি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত। আফগানিস্তান বৌদ্ধ রাষ্ট্র ছিল, পাকিস্তান এবং মালয়েশিয়া হিন্দুরাষ্ট্র ছিল। কিন্তু ইসলামিক আক্রমণের শিকার হয়ে আজ এই দেশগুলি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। আর এই জিহাদের একটি বৈশিষ্ট্য হল যে ইসলামিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হলেই জিহাদ শেষ হয় না, যতক্ষণ না পর্যন্ত সবকটি  কাফিরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে ততক্ষন জিহাদ চলবে। আর এই কারণে ইসলাম আজ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। আর ইতিহাসে ইসলাম হলো সবচেয়ে সফল সর্বগ্রাসী রাজনৈতিক মতবাদ, কমিউনিস্ট এবং নাৎসি মতবাদের থেকেও।(সমাপ্ত )

রাজনৈতিক ইসলাম – একটি সর্বগ্রাসী মতবাদ (পর্ব – ১)

ড: বিল ওয়ার্নার।

অনুবাদ: অমিত মালী।

প্রথমে বলে নেওয়া যাক সর্বগ্রাসী বলতে কি বোঝানো হচ্ছে। সর্বগ্রাসী মতবাদ অর্থাৎ এমন একটি সর্বোচ্চ ক্ষমতা, যেখানে রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতা নেই এবং যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন নিয়ন্ত্রিত হয়। তাছাড়া যেখানে অন্যান্য মতকে অস্বীকার করা হয়।
ইসলামের প্রকৃতি :-
ইসলামের সম্বন্ধে সবাই একটা বলে থাকেন এই যে এটি কোরান নির্দেশিত একটি ধর্ম। যদিও একটি জিনিস অনেকেই জানেন না তা হলো এর ধর্মীয় দিক হলো একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাছাড়া কোরান থেকে জানা সম্ভব নয় যে কিভাবে মুসলিমরা তাদের আল্লাহকে ডাকবে বা অন্যান্য ধর্মীয় নিয়ম পালন করবে। কোরানে আল্লাহ-এর কথা পাওয়া যায় এবং দুটি লেখায় মহম্মদের কথা পাওয়া যায়; একটি হলো সিরা বা সুন্নত-যা হলো মহম্মদের বিস্তারিত জীবনী এবং অন্যটি হলো হাদিস-যাতে আছে মহম্মদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির মধ্য দিয়ে ইসলামের শিক্ষা। এর মধ্যে হাদিস হলো একটু দীর্ঘ গ্রন্থ এবং পৃথিবী জুড়ে বেশ কয়েকরকম হাদিসের প্রচলন রয়েছে।
কোরানের প্রায় ৯০টি আয়াতে এই কথা বলা হয়েছে যে মহম্মদ হলেন মুসলিমদের জন্যে আদর্শ ব্যক্তি। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত মহম্মদের মতো করে জীবনযাপন করা। মহম্মদ হলেন সর্ব গুনের অধিকারী। তিনি হলেন আদর্শ পিতা, আদর্শ স্বামী, আদর্শ বিচারক, আদর্শ নেতা, আদর্শ যোদ্ধা, আদর্শ ব্যবসায়ী এবং আদর্শ রাজনীতিবিদ। মহম্মদ তার জীবনে যা যা বলেছেন বা করেছেন সেগুলি সবই হলো সুন্নত। তাই ইসলাম এবং মুসলমানদের বুঝতে হলে কোরান, সুন্নত এবং হাদিস -এই তিনটি বইকে ভালো করে পড়তে ও বুঝতে হবে। শুধুমাত্র কোরান পড়ে ইসলাম বা মুসলমানকে বোঝা কখনোই সম্ভব নয়। অধিকাংশ লোকই এটা জেনে আশ্চর্য হবে যে কোরানে মহম্মদ শব্দটির ব্যবহার সর্বশক্তিমান আল্লাহ-এর থেকে ছ’গুন বেশিবার ব্যবহার করা হয়েছে। ইসলাম সম্পর্কে আর একটি প্রচলিত ধারণা হলো এই যে আপনি যদি ইসলামের সম্বন্ধে চান, তাহলে আপনাকে মুসলিম ব্যক্তির কাছ থেকে তা জানতে হবে। কিন্তু এই ধারণা ঠিক নয়। কারণ ইসলামের প্রথম এবং শেষ কথা হলো সর্বশক্তিমান আল্লাহ এবং মহম্মদ। তাই কোনো মুসলিম ব্যক্তির ইসলাম সম্বন্ধে করা কোনো মন্তব্যের কোনো মূল্য নেই। কারণ কোরান, হাদিস এবং সুন্নতে যা রয়েছে সেটাই হলো সঠিক ইসলাম। যদি কোনো কিছু কোরান, সুন্নত বা হাদিসে না থাকে, তাহলে সেটা ইসলাম নয় – তা সে যেই বলুক না কেন। পৃথিবীর একমাত্র মুসলিম ব্যক্তি যার ইসলামের ওপর কোনো কিছু বলার অধিকার রয়েছে, তিনি হলেন মহম্মদ। আর যদি আপনি একবার ইসলামকে জানতে পারেন, তাহলে মুসলিমদের বিষয়ে সবকিছু আপনি বুঝতে পারবেন। এই কথার অর্থ হলো এই যে যারা ইসলামকে জানেন, কেবলমাত্র তারাই ইসলামের ব্যাপারে মত দিতে পারেন। আর একটি ধারণা মুসলিমরা প্রচার করে আসছে যে যদি আপনি ইসলামকে জানতে চান, তাহলে আপনাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হতে হবে। এই ধারণা একেবারেই ভুল। কারণ বেশিরভাগ মুসলিম ব্যক্তি কোরান এবং সুন্নতের সম্বন্ধে খুবই কম জানে, তাই ইসলামের সম্পর্কে তাদের মন্তব্য একদম ঠিক নয়। তাই এই মতামত একান্তই তাদের ব্যক্তিগত।
 রাজনৈতিক ইসলাম :-
সুতরাং ইসলাম সম্বন্ধে সমস্ত মতই তিনটি বইতে পাওয়া যায় – কোরান, সুন্নত এবং হাদিস-এ। যদি আপনি ইসলামের সম্বন্ধে ধারাবাহিকভাবে পড়তে থাকেন, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে বেশিরভাগ লেখায় কিন্তু এইসব লেখা নেই যে কিভাবে একজন আদর্শ মুসলিম হতে হবে, কিভাবে আল্লাহকে ডাকতে হবে; বরং কোরানের বেশিরভাগ কথাই অমুসলিমদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে। যে আরবি শব্দটির মধ্য দিয়ে অমুসলিমদের বোঝানো হয়েছে, তা হলো ‘কাফির’, যার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় বিধর্মী বা অবিশ্বাসী হিসেবে। পুরো ইসলামের কোথাও কাফিরদের সম্বন্ধে একটাও ভালো কথা লেখা নেই। আল্লাহ কাফিরদেরকে ঘৃণা করেন এবং তাদের পরাজিত করার জন্যে পরিকল্পনা করতে থাকেন। মুসলিমরা দাবি করে থাকেন যে কাফিরদের মধ্যে খ্রিস্টান ও ইহুদিরা ইসলামে গ্রহণযোগ্য ‘জিম্মি’ হিসেবে, যাদের কিনা পবিত্র গ্রন্থ আছে। ইসলামের এই মতবাদকে একটু বিস্তারিত করলে বলা যায় যে খাঁটি খ্রিস্টান হলো তারাই, যারা স্বীকার করে নেয় যে মহম্মদ হলেন শেষ নবী এবং স্বীকার করে নেয় যে গসপেল লিখিত তত্বগুলি হলো ভুল এবং যে খ্রিস্টান যিশুখ্রিস্টের অলৌকিক ক্ষমতাগুলিকে অবিশ্বাস করে। আবার খাঁটি ইহুদি হলো তারাই যারা মহম্মদকে শেষ নবী বলে মেনে নেয় এবং তোরাহকে দুর্নীতিপরায়ণ বলে স্বীকার করে নেয়। আর যদি একজন খ্রিস্টান বা ইহুদি এইকথা মেনে না নেয়, তাহলে সেও ইসলামের চোখে একজন কাফির। একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখবেন যে ইসলাম দাবি করে যে সে হলো পৃথিবীর একমাত্র সত্য ধর্ম এবং সে পৃথিবীর সব ধর্মের বিচারক। একটা লক্ষ্য করার মতো বিষয় হলো এই যে ইসলাম বিষয়ক বইগুলির মধ্যে সমস্ত হাদিসের ৩৭ শতাংশ কাফিরদের নিয়ে, সুন্নতের ৮১ শতাংশ কাফিরদেরকে নিয়ে এবং কোরানের ৬৪ শতাংশ লেখা কাফিরদেরকে নিয়ে। সবমিলিয়ে দেখা যায় যে ইসলামিক মতবাদের অর্ধেক অংশই কাফিরদেরকে নিয়ে।  আর ঠিক এইখানে ইসলামের আসল উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়। ইসলাম বিষয়ক বইতে যাদের নিয়ে লেখা হয়েছে, তারা আসলে ইসলামের অংশ নয়। আর অর্থ এটাই দাঁড়ায় যে তাদেরকে অর্থাৎ কাফিরদেরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করার জন্যে পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়টাকে ঢোকানো হয়েছে। রাজনৈতিক ইসলামই শুরু হচ্ছে কাফিরদেরকে নিয়ে। আর এই অংশের জন্যে আজ সারা বিশ্বের মানবসভ্যতা বিপদের মুখোমুখি এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতির শিকার ইসলামের দ্বারা। তাই সবদিক বিচার করে দেখা যায় যে ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, এটি একটি রাজনৈতিক মতবাদ ও সংস্কৃতি। কারণ ইসলাম মানুষের ব্যক্তিগত জীবনযাপন ও সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম তার সিদ্ধান্ত ও মত চাপিয়ে দেয় মানুষের ওপর যা অন্য কোনো ধর্ম করে না। কারণ ইসলাম পরিচালিত হয় একটি রাজনৈতিক পদ্ধতিতে এবং নিয়মশৃঙ্খলার ঘেরাটোপে। যদি ইসলাম শুধু মাত্র একটি ধর্ম হতো, তাহলে পৃথিবীর মানুষের চিন্তার কোনো বিষয় ছিল না। কিন্তু ইসলাম তা নয়। উদাহরণ হিসেবে বৌদ্ধ ধর্মের কথা আলোচনা করা যাক। বৌদ্ধ ধর্মের মানুষজন পৃথিবীর অনেক দেশেই আছে। কিন্তু তারা রাষ্ট্রের ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার দাবি বা চেষ্টা কোনোটাই করে না। কিন্তু ইসলাম রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। এমনকি নিজেদের ক্ষমতার প্রমান রাখে প্রতিটি ক্ষেত্রে – ফতোয়া জারি করা, এটা করা যাবে বা ওটা করা যাবে না ইত্যাদি।
তাছাড়া ইসলামের নামের মধ্যে সর্বগ্রাসী মতের শুরু। ইসলাম কথার অর্থ হলো আত্মসমর্পণ, আত্মসমর্পণ কোরান এবং মহম্মদের সুন্নতের প্রতি। এখানেই মহম্মদের সর্বময় ক্ষমতার উৎস। তার জীবনের কয়েকটি ঘটনা আলোচনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। মহম্মদ মদিনায় যাবার পর জিহাদি হয়ে ওঠেন এবং তার প্রতিবেশীদেরকে আক্রমণ করেন। কিন্তু  প্রথমে তিনি যখন মদিনায় এসেছিলেন তখন মদিনার জনসংখ্যার অর্ধেক ছিল ইহুদি। কিন্তু দুই বছরের মধ্যেই মদিনায় আর একটা ইহুদি অবশিষ্ট ছিল না। তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, হত্যা করা হয়েছিল, বন্দি বানানো হয়েছিল এবং বেঁচে গিয়েছিলো তারাই যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল। তারপর মহম্মদ আক্রমন করেন আরবের বিভিন্ন অংশে থাকা মূর্তিপূজকদের – যারা বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তিপূজা করতো, যদিও আজ আর জানা সম্ভব নয় তারা সনাতন ধর্মের অংশ ছিল কিনা। পুরো আরব ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়ার পর মহম্মদ সিরিয়া ও ইরাক আক্রমণ করেন এবং এই দুটি দেশে থাকা খ্রিস্টানদের কচুকাটা করেন।
(চলবে,আগামীকাল সমাপ্য )

ভারতের জনচরিত্রের পরিবর্তন – একটি সমীক্ষা

প্রাককথন

আমরা আমাদের আগের বেশ কয়েকটি প্রবন্ধে ভারতের জনসংখ্যা নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পর্যায়ে আমরা উত্তর প্রদেশ এবং উত্তরাখন্ড (১), পশ্চিমবঙ্গ (২), আসাম (৩), কেরালা (৪), জম্মু ও কাশ্মীর (৫), হিন্দি বলয়ের বিক্ষিপ্ত এলাকা (৬) এবং মধ্য ভারতের আদিবাসীবহুল এলাকায় (৭) ক্রমহ্রাসমান ভারতীয় জনসংখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো। গত আগস্ট মাসে, প্রফেসর শাশ্বতী সরকারের দেয়া ভাষণের উপর ভিত্তি করে আমরা জনসংখ্যার পরিবর্তনের সাথে সাথে অন্যান্য পরিবর্তন এবং তার ফলাফল, সম্ভাব্য কারণ, সমাধান এবং সমাধানের অযোগ্য (৮) বিষয় নিয়েও আলোচনা করবো। এই লেখায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে নিউ ইয়র্কে প্রফেসর শাশ্বতী সরকারের ভাষণের উপর ভিত্তি করে, আমরা ভারতের জনসংখ্যার বয়স ভিত্তিক সাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়েও আলোচনা করবো। এই প্রবন্ধে আমরা মূলত পর্যালোচনা করবো যে কিভাবে ভারতীয় জনসংখ্যার (যাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিস্থাপন ভারতীয় উপমহাদেশে হয়েছে। যেমন হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং বিবিধ আদিবাসী সমাজ) তরুণ প্রজন্ম ভারতের বিভিন্ন স্থানে হ্রাস পাচ্ছে এবং তার সাথে আমরা নতুন প্রজন্মের (০-৪ বছর) সাথে পুরনো প্রজন্মের (৬৫-৬৯ বছর) তুলনামূলক আলোচনাও করবো। আমরা সেই এলাকাগুলিকে পরীক্ষা করবো যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। বড় শহরগুলির, যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে, তরুণ জনসংখ্যার সাম্প্রদায়িক চরিত্রের প্রতিও আমরা নজর দেবো। জনসংখ্যায় তরুণ ও প্রবীনদের সংখ্যার অনুপাত আগামীদিনে জনসংখ্যার গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে। আমরা বিশেষক্ষেত্রগুলি এবং তার সাথে নতুন প্রজন্মের ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাসের কারণ নিয়েও আলোচনা করবো। সবশেষে আমরা ভারতের গ্রাম ও শহরের তুলনামূলক আলোচনা করবো যাতে দূর্বল জায়গাগুলি এবং পরিবর্তনের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত হতে পারি।

পূর্বস্থিতি

১৮৭২ (প্রথম জনসংখ্যা নির্ণয়ের সময়) থেকে ২০১১ (সর্বশেষ জনসংখ্যা নির্ণয়) সালের মধ্যে অবিভক্ত ভারতে ভারতীয় জনসংখ্যা ৭৯% থেকে কমে ৬৬% হয়েছে (৮)। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যে ১৮৭২ থেকে প্রতি দশকেই ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পেয়ে আসছে। নীচের গ্রাফগুলিতে ১৮৮১ থেকে ১৯৪১ পর্যন্ত জনসংখ্যার দশক অনুযায়ী পার্থক্য দেখা যাবে। দেশভাগ হয়েছিল যখন মোট জনসংখ্যার ৭৩% ভারতীয় জনসংখ্যা ছিল। একই সময়ে, অর্থ্যাত ১৮৮১ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে, মুসলিম ও খ্রীস্টান জনসংখ্যা যথাক্রমে ১৯.৯% থেকে ২৪.৩% এবং ০.৭% থেকে ১.৮% হয়েছে। ১৮৭২ সালে কেবল উত্তর পূর্ব সীমান্ত রাজ্য, জম্মু ও কাশ্মীর, বালুচিস্তান এবং সিন্ধ এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা সংখ্যালঘু ছিল। বাংলা ও পাঞ্জাবে ভারতীয় জনসংখ্যাই সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল।

graph1graph 2

সাথে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে ইসলাম ও খ্রীস্টান জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও ভারতীয় জনসংখ্যার হ্রাস মোটেই সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলনা। দেশভাগের পরে, পশ্চিম পাকিস্তান প্রায় হিন্দু শূণ্য হয়ে যায় আর পূর্ব পাকিস্তানেও হিন্দু সংখ্যা প্রভূত কমে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে ভারতীয় জনসংখ্যা, ১৯৪১ সালে যা ১৯.৭% ছিল, সেটা ২% হয়ে যায় ২০১১ সালে (পাকিস্তানে শেষ জনগণনা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে আর এই সংখ্যা সেই গণণার উপর ভিত্তি করেই পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে নতুন জনগণণার নির্দেশ জারী করা হয়েছে তবে তার সম্পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি)। পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) ভারতীয় জনসংখ্যা ১৯৪১ সালের ২৯৫ থেকে কমে ২০১১ সালে ৮.৯% হয়েছে (৮)। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় জনসংখ্যার অনুপাত ১৯৫১ সালের ৮৭.২ থেকে কমে ২০১১ সালে ৮৩.২% হয়েছে। ফলতঃ, এই প্রবন্ধে আমরা উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো যে ভারতের কোথায় ভারতীয় জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে এবং কোথায় পেতে চলেছে, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। আমরা, প্রথমত, দেশজুড়ে জনসংখ্যার হ্রাস এবং তার বিপদ নিয়ে আলোচনা করবো।আমরা সেইসব এলাকার, গ্রাম ও শহর আলাদাভাবে, বয়স অনুযায়ী জনসংখ্যা নিয়েও আলোচনা করবো। এছাড়াও আমরা উল্লেখযোগ্য বড় শহরগুলির জনসংখ্যার পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করবো।

চিহ্নিতকরণ

আমাদের এই লেখায় আমরা মানচিত্রে দেয়া বিভিন্ন রঙ দিয়ে নিম্নলিখিত তথ্যগুলি বুঝাতে চেয়েছি। মানচিত্রে পরিপুর্ণ ভারতীয় জনসংখ্যা বুঝাতে আমরা ব্যবহার করেছি –

১.  ৬০%+ ভারতীয় – সাদা

২.  ৫০-৬০% ভারতীয় – হালকা সবুজ

৩.  ২০-৫০% ভারতীয় – গাঢ় সবুজ

৪.  <২০% ভারতীয় – লাল

মানচিত্রে প্রবীন (৬৫-৬৯) এবং নবীন (০-৪) বয়সের জনসংখ্যার পার্থক্য বুঝাতে নিম্নলিখিত রঙ ব্যবহার করেছি –

১.  ভারতীয়দের সদর্থক পরিবর্তন – গেরুয়া

২.  ০-৫% ভারতীয় হ্রাস – সাদা

৩.  ৫-১০% ভারতীয় হ্রাস – হালকা সবুজ

৪.  ১০-১৫% ভারতীয় হ্রাস – সবুজ

৫.  ১৫-২০% ভারতীয় হ্রাস – গাঢ় সবুজ

৬.  ২০%+ ভারতীয় হ্রাস – লাল

ম্যাপ – জেলা অনুযায়ী ভারতীয় জনসংখ্যার চুড়ান্ত ভাগ।

map1 map2 map3

ম্যাপ – সম্প্রদায়গত জনসংখ্যার বয়সানুপাতিক পরিবর্তনের ডাইনামিক রূপ।

উপরে দেয়া মানচিত্রে এটা স্পষ্ট যে বহু এলাকাতেই নবীন ও প্রবীনদের ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। উত্তর পূর্ব এলাকা এবং কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় ভারতীয় জনসংখ্যা শূণ্য হয়ে গেছে তাই এইসব এলাকায় প্রবীন ও নবীনদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন চোখে পরছেনা।

এই মানচিত্রে ভারতের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যার ৬৫-৬৯ বছর এবং ০-৪ বছরের চুড়ান্ত রূপরেখার সাথে সাথে আমরা দেশজুড়ে তাদের পরিবর্তনেরও উল্লেখ করবো।

এই লেখায় ব্যবহৃত সব তথ্যই বিভিন্ন জেলার ২০১১ সালের জনগণণার সময় প্রাপ্ত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

ম্যাপ – জেলা অনুসারে প্রবীন (৬৫-৬৯) ও নবীন (০-৪) প্রজন্মের ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন।

map4

পরবর্তী বক্তব্যে যাওয়ার আগে একটা বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে ,১) গুজরাট, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কেরালা, উত্তর পূর্ব ঝাড়খন্ড বা ছত্তিশগড়ের কিছু এলাকায় যেটুকু বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে তার মাত্রা খুবই কম। কেবলমাত্র গোয়াতে কিছুমাত্র সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে আর সেটাও হয়েছে প্রধানত মহারাষ্ট্র আর কর্ণাটক থেকে হিন্দুদের পুনর্বাসনের জন্যে। তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে যে কোন জায়গাতেই প্রবীন ও নবীনদের পরিবর্তন ৫%-এর বেশী নয়।

আরেকটা বিষয় হল যে, পাকিস্তানের সীমা বরাবর, জম্মু ও কাশ্মীরের বাইরে, একমাত্র গুজরাটের কচ্ছ অঞ্চলেই ভারতীয় জনসংখ্যা ৫ শতাংশের বেশী হারে কমেছে। কচ্ছের গ্রামাঞ্চলে এই পার্থক্য >১০% যেখানে প্রবীনদের সংখ্যা ৮১.৮৭% থেকে নবীনদের জনসংখ্যা ৭১.০৪%। এই হ্রাসের অনুপাত সীমা সুরক্ষার জন্যে খুবই আশঙ্কাজনক।

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে ভারতীয় জনসংখ্যা মূলত সাতটি অঞ্চলে হ্রাস পাচ্ছে –

১. পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, মেয়ট এবং শেখায়তি

২. বাংলাদেশ সীমান্ত

৩. মালাবার, কানাড়া এবং কুর্গ

৪. অরুণাচল প্রদেশ

৫. জম্মু

৬. ওড়িশার উপজাতিবহুল এলাকা

৭. মণিপুরের উপত্যকা

এই এলাকাগুলি ছাড়াও মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বহির্ভাগে ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় শূণ্য হয়ে গেছে। মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং মণিপুরের বহির্ভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে যেটুকু সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সেটা বাস্তবে প্রতীকী যেহেতু সেই জায়গাগুলি বাস্তবে ভারতীয় জনসংখ্যা নেই বললেই চলে। নিকোবর দ্বীপের ক্ষেত্রেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। লাদাখ এলাকায় যেটুকু সদর্থক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে সেটা কৃত্তিম, প্রাক্তন সেনাদের (বিএসএফ, আর্মি, আইটিবিপি) বিপুল সংখ্যায় জমায়েত এলাকার মানচিত্রে ভারতীয় জনসংখ্যার সদর্থক রূপ প্রকাশ করছে। যদিও আসল ঘটনা হল যে লাদাখে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের (যারা এই অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার মূল ধারা) সংখ্যা ক্রমাগত কমছে (৫)।

আমরা এই সবকটি এলাকার গ্রাম ও শহরের পরিবর্তনের কথা এবার বিশদে আলোচনা করবো।

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ, দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, মেরট এবং শেখায়তি

পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে, উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগর, মেরট, বাগপথ, হাপুর ও গাজিয়াবাদ নিয়ে গঠিত দোয়াবের উত্তরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। (এই সবকটি জেলাই ২০১১ সালের জনগণণার সময় বর্তমান ছিল। সামলির মত সদ্যগঠিত জেলার ক্ষেত্রে ২০১১ সালে তার পূর্বতন জেলার রেকর্ড দেখতে হবে)। রোহিলখন্ড, মথুরা এবং আলিগড়ের মত জেলাগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যা লক্ষ্যণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে।

map5  map6

ম্যাপ – উত্তরাখন্ড, শহর এবং গ্রাম।

সাহারনপুর, মেরট, মুজাফফরপুর ও বাগপথের শহরাঞ্চলে এবং গাজিয়াবাদ, মেরট, মুজাফফরপুর ও বাগপথের গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হল যে গাজিয়াবাদ ও বাগপথ এখনও হিন্দুদের গড় হলেও (যথাক্রমে ৭৩.৮৫% এবং ৭১.৭%), এই এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। রোহিলখন্ড, আলিগড়, বুলন্দশহর এবং হাতরাসের শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। বাস্তবে, উত্তর দোয়াব এবং রোহিলখন্ডের শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু।

uttarpradesh map formation

উপরের তালিকা থেকে বেশ কিছু বিষয় স্পষ্ট, যেমন –

. সাহারনপুর, মুজাফফরনগর, মেরট, গাজিয়াবাদ এবং বাগপথ সম্মীলিত উত্তর দোয়াবের শহর ও গ্রাম, উভয় স্থানেই, হিন্দুর সংখ্যা দ্রুত কমছে। সাহারনপুরের গ্রামাঞ্চলে প্রবীন ও নবীনদের পার্থক্য সর্বাধিক ২১% আর সর্বোনিম্ন ১৪.৭৫%। এমতাবস্থায়, এই এলাকাতে হিন্দু জনসংখ্যা শুধু কমছে বললে সেটা সত্যের অপলাপ হবে।

 . রোহিলখন্ডের (জ্যোতিবা ফুলে নগর, বেরেলী, বিজনোর, মোরাদাবাদ এবং রামপুর) শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা হয় ইতিমধ্যেই ভগ্নাংশে পরিণত হয়েছে (জ্যোতিবা ফুলে নগর, বিজনোর, এবং রামপুর) অথবা হতে চলেছে (বেরেলী ও মোরাদাবাদ) যেখানে পার্থক্য ১০ শতাংশের বেশী। এই এলাকার গ্রামাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে, বিজনোরে ১২.০৪%, জ্যোতিবা ফুলে নগর ৮.৭২% এবং মোরাদাবাদে ৯.০৭%। রামপুর গ্রামীন এলাকার জনসংখ্যা ইতিমধ্যেই সর্বোনীম্ন স্তরে (৫৮.২২%) পৌছে গেছে এবং প্রবীন ও নবীনদের পার্থক্য ৫% হারে বাড়ছে। এমনকি বেরেলীর মত স্থান, যেখানে ভারতীয়দের অবস্থা সবচেয়ে ভাল, সেখানেও প্রবীন ও নবীনদের মধ্যে পার্থক্যে ভারতীয় জনসংখ্যা ৫% করে জমি হারাচ্ছে।

. আলীগড় ও বুলন্দশহর সম্মীলিত উত্তর দোয়াবের শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুত কমছে। আলিগড়ের ক্ষেত্রে এই হার ১০.০৬% আর বুলন্দশহরের ক্ষেত্রে ১২.৮২%। এই এলাকার গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি কিছুটা ভাল যদিও সেখানেও এই প্রবীন ও নবীনদের হার যথাক্রমে ৫.১৭% ও ৪%

দক্ষিণ উত্তরাখন্ড

 map7  map8

ম্যাপ – দক্ষিণ উত্তরাখন্ড, শহর ও গ্রাম

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে হরিদ্বারের মত এলাকার শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। শহীদ উধম সিং নগরের মত স্থানেও ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাওয়ার ঘটনাকে উপেক্ষা করা যায়না। নীচের তালিকাতে আমরা প্রকৃত সংখ্যা ও সম্ভাব্য পরিণতির উল্লেখ করা হয়েছে।

uttarakhand map formation

উপরের তালিকা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে উত্তর দোয়াব ও রোহিলখন্ড সংলগ্ন উত্তরাখন্ডে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে এবং হরিদ্বারে রীতিমত ভেঙে পরেছে। নৈনিতালের অবস্থাও হরিদ্বারের মত এবং দেরাদূনের শহরাঞ্চলেও অবস্থা কিছুমাত্র ভাল নয়। উত্তর দোয়াব ও রোহিলখন্ডের মুসলিম বেল্ট উত্তরদিকে এগোতে এগোতে কুমায়ুন ও গাড়োয়ালের শহরাঞ্চলকেও ধীরে ধীরে গ্রাস করে নিচ্ছে।

মেরট এবং শেখায়তি

map9  map10

map11 map12

মেরঠ ও শেখায়তির ভৌগলিক অবস্থান পাশাপাশি হলেও মুসলিম জনসংখ্যার ক্ষেত্রে এদের সাদৃশ্য প্রায় নেই বললেই চলে। মেয়ঠ অঞ্চলের  (মেরঠ, হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলা এবং রাজস্থানের ভরতপুর ও আলওয়ার জেলা) গ্রামগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে যেহেতু অধিকাংশ মেও মুসলিম গ্রামের অধিবাসী। যদিও, সত্যি কথা বলতে গেলে, ফরিদাবাদ, আলওয়ার ও ভরতপুরের মাত্র কিছু অংশই মেয়ঠের সাথে সাংস্কৃতিকভাবে যুক্ত কিন্তু যেহেতু আমাদের কাছে বয়সের উপজেলাভিত্তিক জনসংখ্যার তথ্য নেই তাই আমরা ফরিদাবাদ, আলওয়ার ও ভরতপুরকে মেয়ঠ অঞ্চলের সাথে যোগ করেছি। অন্যদিকে, শেখায়তি এলাকার মুসলিম জনসংখ্যার একটা বড় অংশ সেই অঞ্চলে অধিষ্ঠিত শহুরে ব্যবসায়ী ও অন্যান্য শিল্পীদের দ্বারা গঠিত। যেহেতু এলাকা দুটি পাশাপাশি অবস্থিত তাই আমরা তাদের একই অংশে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

 mewat and shekhawati tableমেরটের গ্রামাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় মুছে গেছে। শহরাঞ্চলেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে যা প্রমান করে যে শহরের হিন্দুরা গ্রামাঞ্চলের মধ্যেও মুসলমানদের চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে। মেরঠের অন্য তিনটি জেলায়, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন মুলত গ্রামীণ, যা বোঝায় যে হিন্দুরা গ্রামীণ ফরিদাবাদ (বর্তমান পলয়াল জেলা সমেত), আলওয়ার ও ভরতপুর এলাকাতে খুব দ্রুত জমি হারাচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে এই জেলাগুলিতে, পূর্ববর্তী প্রজন্মে হিন্দু জনসংখ্যা ৮৫%-র বেশী ছিল। আর তাই এই পতন বেশ উল্লেখযোগ্য এবং এই এলাকার হিন্দুদের জন্যে অশুভ ইঙ্গিতবাহী।

অন্যদিকে, শেখায়তি অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যার পতন প্রধানত শহরকেন্দ্রিক। গ্রামীণ এলাকায় হিন্দুরা প্রধানত ৯০ শতাংশের বেশী এবং কোথাও ৪%-এর বেশী অনুপাতে কমছেনা। যদিও শেখায়তির তিনটি জেলার গ্রামাঞ্চলে হিন্দুদের পতনের হার ১২% থেকে ১৫%-এর মধ্যে। এটা যথেষ্ট চিন্তার বিষয়।

 বাংলাদেশ সীমান্ত

 বিহার

map13  map14

বিহারের প্রধানত উত্তর পূর্ব কোনে জনসংখ্যার ভারসাম্যগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যা ধীরে ধীরে মিথিলার, নেপাল সংলগ্ন, অঞ্চলেও ছড়িয়ে পরছে কিন্তু আপাতত সর্বাধিক প্রভাবিত এলাকা হল উত্তর পূর্ব বিহারের (সীমাঞ্চল) কিষনগঞ্জ, আড়া, পূর্ণিয়া এবং কাটিহার জেলা। জেলাগুলির শহর ও গ্রাম, উভয়ের জনসংখ্যাই ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নীচের তালিকা দেখলে পরিবর্তন বোঝা যাবে।

bihar map tableউপরের মানচিত্র আর তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে কিষণগঞ্জের গ্রামীণ এলাকায় ভারতীয় জনসংখ্যা প্রায় মুছে গেছে এবং শহরাঞ্চলে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। আড়া, পূর্ণিয়া আর কাটিহারের গ্রামাঞ্চল ও শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা বেশ ভাল মাত্রায় হ্রাস পেলেও শহরাঞ্চলে এখনও তারাই সংখ্যাধিক। এটা বাংলাদেশ সংলগ্ন সবকটি যায়গার চরিত্রগত বৈশিষ্ট যেহেতু অধিকাংশ বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী গ্রামাঞ্চলে বসতি স্থাপন করতে পছন্দ করে যাতে সেই এলাকার সরকারি ও খালি জমিতে মৌরুসিপাট্টা বসাতে পারে।

ঝাড়খণ্ড

map15  map16

বিহারের সীমাঞ্চলের মত ঝাড়খন্ডের সাঁওতাল পরগণারও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে। বিপুল সংখ্যায় অবৈধ বাংলাদেশীদের আগমনের ফলে সীমাঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের মুর্শীদাবাদবীরভূম সন্নিহিত এলাকাগুলির খাস জমি আজ বেদখল হয়ে গেছে।

উপরের তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে সাহেবগঞ্জ, পাকুর এবং গোড্ডার শহরের জনসংখ্যা এবং সাহেবগঞ্জ, দেওঘর ও জামতাড়ার গ্রামীন জনসংখ্যা চরম অবনতি ঘটছে। আমাদের ধারণা যে এটা বিভিন্ন জেলায় শিল্পায়নের প্রভাব। পাকুরের গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ বেশী তাই সেখানে অবৈধ বাংলাদেশীদের দ্বারা জমি দখল করার সম্ভাবনা কম। জামতাড়া, দেওঘর বা গোড্ডার মত এলাকা, যেখানে কৃষিকাজ তুলনামূলক কম আর খালি জমির পরিমান বেশী, সেখানে বাংলাদেশীরা সহজেই কব্জা জমাচ্ছে। গোড্ডা, পাকুর ও সাহেবগঞ্জে গড়ে ওঠা শিল্পগুলিতে, কমদামি শ্রমিকের যোগান দিচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশীরা।

 পশ্চিমবঙ্গ

ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের অনেকটা অংশই পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত আর পশ্চিমবঙ্গে মূল বাসিন্দাদের স্বার্থরক্ষা করার, মেঘালয় ও মিজোরামের মত, কোন আইন না থাকার ফলে এই রাজ্য অবৈধ বাংলাদেশীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে। আমরা এর পরিণতি পর্যালোচনা করবো।

 

 map17   map18

উপরের মানচিত্রটি এক ঝলক দেখলেই বোঝা যাবে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলিতে হিন্দু জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে। এর সাথে যদি শহরাঞ্চলের হিন্দুদের কর্মসূত্রে অন্যরাজ্যে চলে যাওয়ার প্রবণতা যোগ করা তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। নীচের তালিকায় আমরা জেলাগুলির পরিবর্তনের ছবি তুলে ধরছি।

 westbengal table formationউপরের তালিকা থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে সাতটি জেলায় হিন্দুদের সংখ্যা কমার পরিমাণ রীতিমত ভয়াবহ। দুই পরগণার অবস্থা সবচেয়ে মারাত্মক, বিশেষত দক্ষিণ ২৪ পরগণার অবস্থা খুবই শোচনীয় যেহেতু সেখানে বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা সর্বাধিক। হাওড়ার অবস্থাও তথৈবচ। এই জেলার গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই ভারতীয় জনসংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই তিনটি জেলা ছাড়াও, উত্তর দিনাজপুর, মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলাতেও ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের হার উদ্বেগজনক। কর্মসুত্রে হিন্দুদের স্থানত্যাগ এবং অবৈধ বাংলাদেশীদের শরণার্থী হিসাবে আগমন এই জেলাগুলির জনসংখ্যার বিপুল তারতম্য ঘটিয়েছে। বাকি জেলাগুলিতে ভারতীয় জনসংখ্যার পতনের হার আশঙ্কাজনক হলেও, ভয়াবহ নয়।

এছাড়াও, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিন ২৪ পরগণা, হাওড়া, উত্তর দিনাজপুর ও মুর্শিদাবাদ জেলার গ্রাম ও শহর, উভয় ক্ষেত্রে, উত্তর ২৪ পরগণা ও নদীয়া জেলার গ্রামীণ অঞ্চলে এবং মালদা জেলার শহরাঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত কমছে। এলাকাথেকে প্রাপ্ত খবরানুসারে, দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া ও নদীয়া অবৈধ বাংলাদেশীদের গড়ে পরিণত হয়েছে।

 আসাম

map19  map20

উপরে দেয়া মানচিত্রে একটু নজর দিলে বোঝা যাবে যে আসামের গ্রাম এবং শহর, দুই যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং সেহেতু অবৈধ বাংলাদেশীরা গ্রামীণ এলাকায় বসতি স্থাপনে বেশী আগ্রহী, তাই গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাসের হার শহর থেকে বেশী। কেবলমাত্র ডিমা হাসাও এলাকার, যেখানে জমির মালিকানা সংক্রান্ত আলাদা আইন রয়েছে, শহরাঞ্চলে কিছুটা সদর্থক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

assam table formation 

উপরের তালিকায় চোখ বুলালে বোঝা যাবে যে বোড়ো অধ্যুষিত কোকরাঝাড়, বাকসা ও চিড়াং জেলা সমেত, সমগ্র দক্ষিণ আসামে ভারতীয় জনসংখ্যার ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। বরাক উপত্যকার জন্যেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ, যে আগে প্রধানত গ্রামীণ এলাকার সমস্যা ছিল, এখন শহরেও প্রবেশ করে গ্রাম ও শহর, দুই যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যাকে বিপন্ন করে তুলছে। উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল যে, উত্তর আসামের লখিমপুর ও সতিপুরের মত স্থানেও ভারতীয় জনসংখ্যা বিপদের সম্মুখীন। এটা প্রমাণ করছে যে উত্তর আসামও বিপদসীমায় অবস্থান করছে।

 ত্রিপুরা

map21  map22

উপরের মানচিত্র থেকে এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিপুরার জেলাগুলিতে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। বিহার থেকে ত্রিপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই বাংলাদেশ সীমান্ত।

tripura table formationআসাম সংলগ্ন উত্তর ত্রিপুরাতে জনসংখ্যার পতন আশঙ্কাজনক। আসামের তুলনায় এই পতন কম উদ্বেগজনক হলেও, ভবিষ্যতে উদ্বেগজনক হয়ে ওঠার পরিপূর্ন সম্ভাবনা আছে।

 জম্মু

map23 map24

জম্মুর পার্বত্য ও সমতল, উভয় এলাকাতেই যে ভারতীয় জনসংখ্যা কমছে সেটা উপরের মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে। পার্বত্য এলাকার রাজৌরি অঞ্চলের গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই জনসংখ্যা কমছে আর সমতল এলাকার কিসতওয়ার ও ডোডা অঞ্চলের, মূলত গ্রামাঞ্চলে, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন ঘটছে। উধমপুর কিছুটা স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছে। নীচের তালিকায় পার্থক্যটা দেখতে পারা যাবে।

jammu &amp; kashmir table formationরাজৌরিতে ভারতীয় জনসংখ্যার কম উপস্থিতি সত্ত্বেও তাদের দ্রুত পতন যথেষ্ট চিন্তার বিষয়। জম্মু ও কাঠুয়ার গ্রামাঞ্চলে, একসময় বিপুল উপস্থিতি সত্ত্বেও, ভারতীয় জনসংখ্যার পতন গভীর উদ্বেগের বিষয়। উপরের তালিকা থেকে এটা স্পষ্ট যে কিসতওয়ার ও ডোডার গ্রামীন এলাকাতেও ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুতহারে কমছে।

এই প্রসঙ্গে লাদাখ ও কাশ্মীর উপত্যকার কথাও উল্লেখ করা দরকার। যেহেতু লাদাখে প্রচুর সংখ্যায় প্রাক্তন সৈন্যরা (সামরিক ও আধাসামরিক) বসবাস করেন তাই এলাকার প্রকৃত ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের হিসাব করা কঠিন। যদিও বৌদ্ধদের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যা প্রমাণ করে যে এই এলাকার জন্মবৃদ্ধির হার খুবই কম এবং পরিস্থিতিও খুবই খারাপ। কাশ্মীর উপত্যকা থেকে হিন্দুরা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে, তাই পতনের হিসাব করা মূল্যহীন।

মালাবার, কুর্গ এবং কানাড়া

ইদানিংকালে ভারতীয় জনসংখ্যা দ্রুত পতন যেসব স্থানে ঘটেছে এই এলাকাটি তার অন্যতম। কর্মসূত্রে হিন্দুদের এলাকা ত্যাগ, হিন্দুদের মধ্যে কম জন্মবৃদ্ধির হার এবং মুসলমানদের মধ্যে বিপুল জন্মবৃদ্ধির হার এই এলাকার হিন্দু জনসংখ্যা সর্বকালীন নীচে নামিয়ে দিয়েছে।

map25 map26

 মালাবার

মানচিত্র দেখলে বোঝা যাবে যে ভারতীয় জনসংখ্যার কি ভয়াবহ পতন ঘটেছে। এই অঞ্চলের শুধু পালাক্কাড় জেলা ছাড়া সব যায়গাতেই ভারতীয় জনসংখ্যা ৬০%-এর কম এবং মাল্লাপুরম ও ওয়ানাড় জেলাতে তারা ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘূ। নীচের তালিকায় পরিবর্তনটা পর্যালোচনা করা হয়েছে।

kerala table formationশিক্ষার প্রসারের ফলে জন্মহার হ্রাস, আর্থিক অনগ্রসরতা ও সাস্কৃতিক কারণে পরিযায়ী মনোবৃত্তি, বিশেষত উত্তরের জেলাগুলিতে, এবং বিপুল সংখ্যার মুসলিমদের অত্যাধিক জন্মহার – এসবেরই পরিণতিতে মালাবার অঞ্চলে ভারতীয় জনসংখ্যা বিপর্যয়ের মুখে। শহর ও গ্রাম, দুই যায়গাতেই এই বিপর্যয় ঘটছে তবে শহরে এই হার বেশী। মাল্লাপুরম, পাল্লাকাড়, কোজিকোড়ে, কান্নুর এবং কাসাড়াগোড় এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ এবং ত্রিসুর ও ওয়ানাড় এলাকার পরিস্থিতিও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

 কানাড়া ও কুর্গ

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে কর্ণাটকের কুর্গ ও দক্ষিন কানাড়ার জেলাগুলিতে যেটার ভৌগলিক অবস্থান মালাবার এলাকার ঠিক বিপরীতে। ভারতীয় জনসংখ্যার জন্মহার হ্রাস, আর্থিক অনগ্রসরতা ও সাস্কৃতিক কারণে পরিযায়ী মনোবৃত্তি, মুসলিম অনুপ্রবেশ এবং বিপুল সংখ্যার মুসলিমদের অত্যাধিক জন্মহারের ফলে এই এলাকার ভারতীয়দের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

map27map28

কুর্গ ও দক্ষিন কানাড়া – উভয় জেলাই, কেরালার সংলগ্ন হওয়ার ফলে, গ্রাম ও শহর, উভয় স্থানেই একই ফল ভোগ করছে। পতনের দিশানির্দেশ নীচের তালিকায় দেখতে পাওয়া যাবে।

kurg and kanara table formationমণিপুর উপত্যকা

map29 map30

মণিপুরের ক্ষেত্রে ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের এক অন্য ধারা লক্ষ্য যায়। মণিপুরের বহির্ভাগ, অর্থনীতিতে ভূমিকা নগন্য, প্রায় সম্পূর্ন খ্রীষ্টানবহুল। অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি হল মণিপুরের মধ্যভাগ যেখানে হিন্দু (এবং সনামাহি) মিথিসরা নির্ণায়ক শক্তি। এর ফলে খ্রীষ্টান শ্রমিকরা বহুল পরিমানে মধ্যভাগে প্রবেশ করে ভারতীয় জনসংখ্যাকে বিপন্ন করে তুলেছে। যথাযথ হিসাব নীচের তালিকাতে।

manipur table formation

অরুণাচল প্রদেশ

অরুণাচল প্রদেশে আমরা আবার এক অন্য ধরণের পরিবর্তন দেখতে পারি। এখানে ধর্মান্তরের জন্যে প্রধানত শ্রমের উপযোগী কমবয়সীদের চিহ্নিত করা হয়। প্রবীন প্রজন্ম মূলত ধর্মান্তরিত হয়না এবং তাদের মৃত্যুর সাথেই তাদের ভূমিকা শেষ হয়ে যায়। এই প্রথা প্রথম নাগাল্যান্ডে দেখতে পাওয়া যায় যেখানে ধর্মান্তরে অনিচ্ছুক প্রবীন প্রজন্মর বিলুপ্তির সাথে সাথে নবীন প্রজন্মের খ্রীশটানরাই অবশিষ্ট থাকে। অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম ভাগে এই ধারাই পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই রাজ্যে মূল পরিবর্তন ঘটেছে রাজধানী ইটানগর ও তার আশেপাশের জেলাগুলিতে অথবা সুদূর পূর্ব অংশে, যেখানে ভারতীয় জনসংখ্যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

map31 map32

পরিবর্তনের প্রকৃত রূপ নীচের তালিকা দেখলে স্পষ্ট হবে।

arunachal pradesh table formation

ওড়িশার উপজাতিবহুল দক্ষিণাঞ্চল

map33                        

উপরে বর্ণিত ভারতীয় জনসংখ্যা পতনের ধারা ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলে উপজাতিবহুল এলাকাতেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। নীচের তালিকায় দক্ষিণ ওড়িশার গ্রামীণ এলাকার পরিস্থিতি দেখানো হয়েছে।

 orissa dokkhinanchal table formationপ্রধান শহর

শেষ অধ্যায়ে আমরা প্রধান শহরগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবো। আমরা ৫০ টা প্রধান শহরকে বেছে নিয়েছি। এদের সবারই দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে এবং এই শহরগুলিতে জনস্রোত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলত, আমরা এখানে প্রবীন ও নবীনদের তলনামূলক আলোচনার বদলে ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন এবং তার সাথে মোট জনসংখ্যায় নবীনদের (৪ বছর) অংশীদারিত্ব নিয়ে পর্যালোচনা করবো। ছোট শহর ও শহরতলীর ক্রমহাসমান হিন্দু জনসংখ্যার জন্যে অনেকে সেখান থেকে হিন্দুদের বড় শহরে চলে যাওয়াকে কারণ বলে দাবী করে থাকেন। এই দাবী কতটা সঠিক সেটা আমরা এই প্রবন্ধে আলোচনা করবো। তরুণ হিন্দুরা যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যায় মেট্রো শহরগুলিতে চলে গিয়ে থাকে তাহলে সেই মেট্রো শহরে হিন্দুদের নবীন প্রজন্মের, বিশেষত কর্মক্ষম এবং শিশুদের, সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া উচিত কারণ তরুণদেরই সন্তানধারনের সম্ভাবনা বেশী।

আমরা পঞ্চাশটা বড় শহরকে বেছে নিয়েছি যাদের জনসংখ্যা ১০ লক্ষের বেশী বা কাছাকাছি। এদের মধ্যে ১২ টা শহরে, আমরা দেখেছি যে, ভারতীয়দের (হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন এবং শিখ) অনুপাত আশি শতাংশের নীচে। এই ১২টা শহর হল মুম্বাই (কর্পোরেশন এলাকা), হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, লক্ষ্ণৌ, থানে, ভোপাল, মীরাট, বেনারস, ঔরঙ্গাবাদ, শ্রীনগর, এলাহাবাদ, রাঁচি এবং তিরুবনন্তাপূরম। এই ১২টা শহরে আমরা ভারতীয় জনসংখ্যার পরিবর্তন পর্যালোচনা করেছি। যে ২০টি শহরে শরণার্থীরা গেছে বলা হয় সেগুলির উপর আমরা চোখ বুলিয়ে নেবো।

metropoliton cities table formation

) ১৯৯১ সালে কোন জনগণনা না হওয়ার কারণে শ্রীনগরের ক্ষেত্রে ১৯৮১ সালের হিসাব নেয়া হয়েছে।

) বাদামীবাগকে এই হিসাবের মধ্যে নেয়া হয়েছে যদিও এবারের জনগণনায় বাদামীবাগকে আলাদা করে ধরা হয়েছে।

) এই সংখ্যা শ্রীনগরে বসবাসকারী প্রকৃত ভারতীয় জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে। যেহেতু জনগণনায় এই তথ্য পৃথকভাবে উল্লেখ করা হয়নি তাই আমাদের কাছে প্রকৃত তথ্য পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

বিপুল জনস্রোতের কারণে এই শহরগুলির জনসংখ্যা কখনই স্থায়ী রূপ নেয়না এবং প্রতি জনগণনাতেই বদলাতে থাকে। তবুও, ভোপাল বাদ দিয়ে বাকি শহরগুলির ক্ষেত্রে একটা মৌলিক ধারা হল যে ১৯৯১ সালের প্রেক্ষিতে ভারতীয় জনসংখ্যার হ্রাস। প্রধান শহরগুলিতে হিন্দুরা প্রচুর মাত্রায় প্রবেশ করলেও সেখানকার ভারতীয় জনসংখ্যা ক্রমাগত কমেই যাচ্ছে। এটা স্পষ্ট যে প্রধান শহরগুলিতেও, বিশেষত যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যালঘূ জনসংখ্যা ছিল, ভারতীয়রা ধীরে ধীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এছাড়া এটাও স্পষ্ট যে কর্মক্ষম ভারতীয় জনসংখ্যার একটা বড় অংশ এই শহরগুলিতে প্রবেশ করলেও তাদের নতুন প্রজন্ম, ৪ বছর, জনসংখ্যার অনুপাতে পিছিয়ে পরছে। মুম্বাই মেট্রোপলিটন এলাকার তথ্যে কিছু ভ্রান্তি রয়েছে। মুম্বাই শহরাঞ্চল প্রধানত দুটি জেলা দ্বারা গঠিত – মুম্বাই ও মুম্বাই শহরতলী। মুম্বাই জেলায় ভারতীয় জনসংখ্যা ৭১.৯২ শতাংশে নেমে এসেছে যেখানে ০৪ বয়সের অনুপাত ৬৫.১১% আর তাদের মধ্যে মাত্র ৫৫.৫৯ শতাংশ হিন্দু। দ্বিতীয় আশঙ্কাজনক তথ্য হল যে বাকি ৯.৫২ শতাংশ ভারতীয়র মধ্যে ৪.২৭% হল বৌদ্ধ যাদের মধ্যে অনেকেই খ্রীষ্টান হয়ে যায় কিন্তু কাগজেকলমে বৌদ্ধ থাকে। ফলে এই আশঙ্কা থেকে যায় যে মুম্বাইয়ের মোট ৩০ লাখ জনসংখ্যার (কলকাতার প্রায় দুই তৃতীয়াংশ) মধ্যে মাত্র ৬০% ভারতীয় রয়ে যেতে পারে যেহেতু ভারতীয় জনসংখ্যা প্রতি দশকেই ২% হারে কমছে। কলকাতাতেও মোট জনসংখ্যার প্রেক্ষিতে নতুন প্রজন্মের (৪ বছর) অনুপাত সমানে কমছে, যা ইতিমধ্যেই ৯.% কম, এবং এটার মূল কারণ হল শহরে বসবাসকারী অবৈধ মুসলিমদের উচ্চ জন্মহার। মীরাটের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ এবং আগামী জনগনণায় এখানকার নতুন প্রজন্মের অনুপাত ৫০ শতাংশের নীচে নেমে যাবে।

সহায়িকা – এই প্রবন্ধে ব্যবহৃত তথ্য ২০১১ সালের জনগণনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রদান শহরের তালিকায় ২০০১ সালের তথ্য ২০০১ সালের জনগণনা থেকে নেয়া হয়েছে। ১৯৯১ সালের জনগণনার তথ্য এ.পি.যোশী, এম.ডি.শ্রীনিবাস ও জে.কে.বাজাজের রিলিজিয়াস ডেমোগ্রাফি অফ ইন্ডিয়া থেকে নেয়া হয়েছে।

( ক্রমশঃ )

 

 

 

 

বাংলাদেশে ২০০১ সালে অক্টোবরের সেই রক্তাক্ত দিনগুলিঃ….

বাংলাদেশে ২০০১ সালে অক্টোবরের সেই রক্তাক্ত দিনগুলিঃ….

দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে গতকালের মতো আজও রাহুলরা চারজন বেরিয়ে গেল। আজ বেরিয়েছে খুব ভোরে। সূর্য ওঠার আগে। প্রাতরাশ করবে দৌলতখান বাজারে গিয়ে। সেখানে স্পট ভিজিট করে যাবে লালমোহনের উমেদচর গ্রামে। তারা দৌলতখানের লেজপাতা গ্রামে এল প্রথম। আনিসই তাদের এই গ্রামে প্রথম নিয়ে এল। লেজপাতা গ্রামের সরকার বাড়িতে তেরোটি হিন্দু পরিবার বাস করে। বাড়ির কোন পুরুষের গায়েই কাপড় নেই। সবাই গামছা পরিহিত। নতুন গামছা। বাজার থেকে বাকিতে আনতে হয়েছে। ঘরের কিছু তো রাখেনি, পরনের কাপড়ও লুট করে নিয়েছে। উলঙ্গ করে সরকার বাড়ির প্রতিটি পুরুষকে হকি স্টিক দিয়ে পিটিয়েছে নির্বাচনের পরদিন রাতে। এ বাড়ির সকলেই যখন ঘুমিয়েছিল, পঁচিশ থেকে ত্ৰিশজনের একটি দল এসে বিকট শব্দে বাড়ির উঠোনে বোমা ফাটায়। বোমার শব্দে বাড়ির সবার ঘুম ভেঙে যায়। পরেশচন্দ্ৰ মিস্ত্রীর স্ত্রী প্রভারানি রাহুলদের জানায়, বোমা বিস্ফোরণের পর সন্ত্রাসীরা ‘নারায়ে তাকবির – আল্লা হু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে আমাদের দরজায় আঘাত করে। প্রভারানি পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে ঘরের পেছনের পুকুরে লাফিয়ে পড়ে শুধু নাক ওপরে রেখে বাকি সমস্ত শরীর জলে ডুবিয়ে নিজেকে বাঁচানোর  প্রাণপণ চেষ্টা করে। কিন্তু নরপশুরা টর্চলাইট মেরে চুল ধরে টেনে তোলে প্রভারানিকে। পুকুরের পাড়েই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ওরা। তার নাক-ফুলটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। এসব বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রভারানি। এই বাড়ির চার যুবতী মেয়ে বীণা, পলি, মিলন, শিপ্রা দৌড়ে হোগলাপাতার বনে গিয়েও ইজ্জত বাঁচাতে পারে নি, কাঁদতে কাঁদতে জানায় প্রভারানি। রিঙ্কু নামে পাঁচ বছরের একটি বাচ্চাকে দেখিয়ে বলে, ওর নাকের মাংস ছিড়ে নিয়ে গেছে নাক-ফুল লুট করার সময়। মৌলবাদী সন্ত্রাসীরা ভ্যান ও রিক্সা নিয়ে এসেছিল। বাবা-মায়ের সামনে কন্যাকে, স্বামীর সামনে স্ত্রীকে উলঙ্গ করে উল্লাস করেছে প্রথমে। তারপর ধর্ষণ করেছে, পর্যায়ক্রমে। যাবার সময় পনেরোটি ভ্যান ও রিক্সা ভর্তি করে সরকার বাড়ির তেরো পরিবারের তৈজসপত্র, বিছানা, কাপড়, সামান্য ধান-চাল যা ছিল সবকিছু নিয়ে যায়। এ বাড়ির দুই পরিবারের তিনটি গরু ছিল, তাও নিতে ভুল করেনি।

এখান থেকে রাহুল্যরা আসে। চরপাতা ইউনিয়নের অঞ্জুরানি মেম্বারের বাড়িতে। অঞ্জরানি চরপাতা ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্যা। কিন্তু সে বাড়িতে নেই। মুখোশ পরে একদল যুবক  নির্বাচনের ভোটকেন্দ্ৰে যাওয়ার চারদিন আগে অঞ্জুরানির ঘর থেকে টেলিভিশন ও অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে। তার পনেরোদিন আগে খুন হয়েছে অঞ্জুরানির বডিগার্ড। রাহুলদের এসব জানায় অঞ্জুরানি মেম্বার বাড়ির নিত্যহরি রায়। হাওলাদার বাড়ির বৃদ্ধা পুষ্পাঞ্জলি হাওলাদার তাদের জানায় সুপারিবাগান, বাড়িঘর সবকিছু লুট করা হয়েছে। গত পাঁচবছর তাদের মধ্যে কোনো ভয়, আতঙ্ক ছিল না। কিন্তু নির্বাচনের পরদিন থেকে এখানকার আওয়ামিলিগের নেতারা সব পালিয়ে গেছে। তারা উপস্থিত থাকলে আমাদের এত বড়ো ক্ষতি হত না।

চরদুয়ারি গ্রামের হিন্দুবাড়ির যুবতীদের ওপর একের পর এক নির্যাতন করা হয়েছে। সব কিছু হারিয়ে বাড়ির মেয়েরা প্রায় উন্মাদ। তারা বাড়ির দরজা খুলে আছে এবং একটি বাড়ির গেটে লিখে রেখেছে ‘যা খুশি কর। এই মেয়েদের সঙ্গে কথা বলার সাহস পেল না রাহুলরা। বারি অবশ্য কথা বলতে চেয়েছিল। কিন্তু আনিস থামিয়ে দিল। এর আগে সে এই এলাকা একবার ঘুরে গেছে। পুরুষ দেখলেই এই মেয়েরা উলঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। তাদের উপর একদিন নয়, ধারাবাহিকভাবে পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তারা এখন উন্মাদ। বাইরের পুরুষদের দেখলে তারা আর ভীত হয় না। নরপশু তাদের শরীর ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলেছে। এজন্য বাইরের পুরুষ দেখলে তারা ভাবে নতুন কেউ এসেছে সেই ক্ষত আরও একটু বাড়ানোর জন্য।

পাগলের বেশে রাস্তায় হাঁটছে নূরজাহান বেগম। ওরা মোটরসাইকেল থামায়। সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নূরজাহান বলে, এসব কথা লিখবেন না। তাহলে ওরা আমাদের মেরে ফেলবে। অসিত বালার বাড়িতে কাজ করে নূরজাহান। বারো হাজার টাকা দিয়ে অত্যাচার থেকে রেহাই পেয়েছে। অসিত বালা। কিন্তু এই টাকার কথা কাউকে বললে তাদের সবাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। বালা বাড়িতে প্রতি বছর ধূমধামের সঙ্গে দুর্গাপূজা হয়। এবার পূজামণ্ডপ খালি। পূজামণ্ডপের সামনে ব্যথিত কুকুর কঁদছে। অসিত বালা বারো হাজার টাকা দিয়ে নিজে নির্যাতন থেকে বেঁচেছে বটে,  কিন্তু ও বাড়ির অন্যান্য শরিকদের কেউ রেহাই পায়নি। অসিত
বালা নির্বাচনের আগে বাড়ির মেয়েদের মির্জাকালুর শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। নূরজাহান তার রান্নাবান্নার কাজ করে দিত। অসিত বালা রক্ষা পেলেও তার কাজের মেয়ে নূরজাহান রক্ষা পায়নি। তারপর থেকেই সে পাগলের মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। নিজের কথা কিছুই বলে না। শুধু সাংবাদিক শুনলে বলে, এসব কথা লিখবেন না। ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।

আনিস জানায় এবার আমরা চরকুমারী গ্রামে যাব।অক্টোবরের দুই তারিখে নির্বাচনের পরদিন রাতে কী ঘটেছিল সে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে চরকুমারী গ্রামের মধ্যবয়সী নেপাল রায়। গ্রামের তেলি বাড়িতে বসে সে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিল রাহুলদের। ফরিদ খালিফা এই গ্রামে ধাৰ্মিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। সে এসে জানায়, বাড়িতে হামলা হতে পারে। হামলাকারীরা বাড়ির জিনিসপত্র নিয়ে গেলে তা ফিরে পাবে। নতুন করে কিনতে পারবে। কিন্তু বাড়ির আওরতদের ওপর হামলা হলে তা আর ফিরে পাবে না। নেপাল রায়রা আপদে-বিপদে ফরিদ খালিফার কাছে ছুটে গেছে সব সময়। তাকে মুরুব্বি হিসেবে মান্য করে। তিনিই যখন বাড়িতে এসে হামলার কথা বলছেন, তা অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই।

নেপাল জিজ্ঞেস করে, তাহলে আমরা কী করব?
ফরিদ জবাব দেয়, আওরতদের দূরে কোনো আত্মীয়ের বাড়ি পাঠিয়ে দাও।
নেপাল বলে, কিন্তু এখন তো সন্ধ্যা হয়ে আসছে। আপনার দল তো জিতেছে, আপনি একটু ওদের বলে আমাদের রক্ষা করুন |
ফরিদ কিছুটা রেগে গিয়ে বলে, যারা হামলা করবে তাদের তো আমি চিনি না। শুনেছি হামলা হতে পারে। একটা কাজ করতে পারো, আজকের রাতটা বাড়ির আওরতদের আমার বাংলাঘরে পাঠিয়ে দিতে পারো।

নেপাল সরল বিশ্বাসে সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যায়। ফরিদ খালিফা আজকের রাতটা বাড়ির ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন নারীকে বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়ে যে উপকার করলেন, তা সে সারা জীবন মনে রাখবে। রাত পোহালেই দূরের কোনো আত্মীয় বাড়ি পাঠিয়ে দেবে স্ত্রী, কন্যা ও বিধবা বোনকে। অন্যান্য শরিকরাও তাই স্থির করে। ফরিদ খালিফার বাংলাঘরে ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ জন বিভিন্ন বয়সের নারীরা কেউ ঘুমিয়েছে, কেউ অন্ধকারে উপরের দিকে তাকিয়ে বাড়ির কথা, ঘরের কথা ভাবছে। এ সময় ফরিদ খালিফা এসে ডাক দেয়। প্রথম ডাকে কেউ জবাব দেয় না। দ্বিতীয়বারও নয়। তৃতীয়বার দরজায় ধাক্কা মেরে যখন ডাকে, তখন একজন উঠে দরজা খুলে দেয়। যে দরজা খুলে দেয় সে নেপালের কন্যা। এবার ক্লাস নাইনে পড়ছে। ফরিদ মেয়েটির মুখে লাইট মারে। তারপর পুরো শরীরে। এরপর পুরো ঘরে। তড়িৎগতিতে টর্চলাইট দরজার বাইরের দিকে ঘুরিয়ে কাদের যেন ভেতরে আসতে আহ্বান করে। একদল নরপশু হুড়মুড় করে ঘরে ঢোকে। ফরিদ নেপাল রায়ের মেয়ের হাত ধরে রেখেছে এক হাতে। সবার ভেতরে ঢোকা হয়ে গেলে অপর হাতে দরজা বন্ধ করে দেয়। এরপর একজনকে হারিকেন জালাতে বলে। সবার উদ্দেশ্যে একটি চকচকে ধারালো ছুরি দেখিয়ে জানিয়ে দেয়, কেউ চিৎকার করলে এই ছুরি তার গলায় বসে যাবে। তারপর নেপাল রায়ের মেয়েকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় ঘরের এক কোণে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি জায়গায়। রাত বারোটা থেকে তিনটে পর্যন্ত প্রায় পঞ্চাশজন নরপশু এই নারীদের শরীর খুবলে খায়। নেপাল রায়ের মেয়েটি যখন অঞ্জন হয়ে পড়ে তখন ফরিদ ডাকে নেপালের স্ত্রীকে। রক্তাক্ত কন্যাকে দৌড়ে গিয়ে বুকে তুলে নিতে যাচ্ছিল সবিতা। কিন্তু ফরিদ এক ঝটকায় সেখান থেকে ছিনিয়ে আনে সবিতাকে। বিবস্ত্র করে মেয়ের পাশে ধাক্কা মেরে শুইয়ে দেয় সবিতাকে। আর বলতে পারে। না, নেপাল রায় – অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

লেখকঃ প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শ্রী সালাম আজাদ… ।।
সৌজন্যেঃ স্বদেশ সংহতি সংবাদ। পূজা সংখ্যা ২০১৭; পৃষ্ঠা – ১২