হিন্দুদের নিরাপত্তার দাবিতে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিলো হিন্দু সংহতি

রাজ্যে ক্রমবর্ধমান জিহাদি কার্যকলাপের পরিসমাপ্তি, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে হিন্দুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা ,সন্দেশখালি হত্যাকান্ডের N I A তদন্ত , রাজ্যের সরকারী হাসপাতালগুলির নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে দেওয়া , রোহিঙ্গা মুসলিমদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলিতে বেআইনি আর্থিক লেনদেন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এই বিষয়গুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবী করে গতকাল ১৪ই জুন, শুক্রবার হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মাননীয় দেবতনু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে মাননীয় রাজ্যপালের কাছে আমাদের হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান এবং তারপর রাজভবনের গেটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন যে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে হিন্দুরা আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি কলকাতার হাসপাতালের চিকিৎসকরাও সুরক্ষিত নয়। তিনি দাবি করেন যে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এছাড়ও এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় ও শ্রী শান্তনু সিংহ, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায়।

ঝান্ডার আড়ালে মার খাওয়াই কি পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ভবিষ্যৎ?

সময় বদলেছে, শাসক বদলেছে। কিন্তু হতভাগ্য হিন্দুর সুদিন ফেরেনি। বাম জমানায় লাল ঝান্ডার আড়ালে জিহাদি মুসলিমরা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুর ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। সেই দীর্ঘ অত্যাচার রাজনীতির সংঘর্ষের পরিচয়ে হিন্দুর সামনে তুলে ধরেছে মিডিয়া। ফলে এ রাজ্যের আপামর হিন্দু বুঝতেই পারেনি যে রাজ্যের অন্য প্রান্তে হিন্দুর ওপর জিহাদের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে।
বর্তমানে শাসকদল পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু হিন্দুর ওপর অত্যাচার বিন্দুমাত্র কমেনি। টার্গেট সেই একই- হিন্দু; মার খেয়ে, ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালানো হিন্দু। তাই এবারও তার ব্যতিক্রম হলো না। এবার টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বিস্তীর্ণ অঞ্চলের হিন্দুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো সশস্ত্র জিহাদি মুসলিমরা। পুড়ে গেল ঘর-বাড়ি, ধানের গোলা, হিন্দুর দোকানঘর।
ঠিক আগের মতোই কোনো মিডিয়া দেখতে পেল না সেই ঘটনা। সেই আগের মতোই এই ঘটনাকে রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলে চালানোর চেষ্টা করছে একদল লোক। এর মধ্যেই বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন কিছু হিন্দু। তাঁরা জানেন না, তারা ভোট দিতে গ্রামে ফিরে আসতে পারবেন কিনা। তবুও পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর নেশায় বুঁদ।
কিন্তু আজ পশ্চিমবঙ্গের তামাম হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে প্রশ্ন- এর শেষ কোথায়?
একবারও কি আপনারা ভেবে দেখবেন না ঝান্ডার আড়ালে টার্গেট আপনি, আপনার মন্দির, আপনার সম্পত্তি?

শুধুই কি মার খাবেন? নাকি পাল্টা মার দেবেন?

রমজান মাসে রেশনে বিশেষ বরাদ্দ সরকারের

এর আগে সংখ্যালঘুদের নাম করে মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি, মাদ্রাসায় ঢালাও বরাদ্দ, বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্যে ঋণ, ইমাম ভাতা তো ছিলই। এবার রেশনেও শুরু হলো মুসলিম তোষণ। কারণ রমজানের রোজা চলাকালীন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্যে রেশনে বিশেষ বরাদ্দের ঘোষণা করলো রাজ্য সরকার। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রমজান মাসের জন্যে রেশনে চিনি,ময়দা,তেল, ছোলার বিশেষ বরাদ্দ হয়েছে। আগামী ৪ঠা জুনের মধ্যে দুই দফায় রোজা পালনকারী গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খাদ্য দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গিয়েছে,জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা অন্ত্যোদয় এবং স্পেশাল প্রায়োরিটি রেশন গ্রাহকরা এটা পাবেন। এছাড়াও, নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ছোলা ও ময়দার প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র রমজানের মাসে ১৯টাকা কেজি দরে ময়দা ও ৪৭টাকা কেজি দরে ছোলা পাবেন। প্রথম দফায় পরিবার পিছু ৫০০গ্রাম করে দুটি সামগ্রী দেওয়া হবে। এছাড়াও পরিবার প্রতি ১ লিটার করে তেল বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে এই বিশেষ বরাদ্দ নিয়ে রেশন ডিলারদের সংগঠন আপত্তি তুলেছে। তাঁরা সব শ্রেণীর গ্রাহকদের এই বিশেষ বরাদ্দ  তুলেছেন। তারা সরকারকে চিঠি লিখে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে সব শ্রেণীর গ্রাহকরা এই বিশেষ বরাদ্দ পান। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে অনেকে মনে করছেন যে, স্পেশাল প্রায়োরিটির আড়ালে মুসলিম সম্প্রদায়ের রেশন গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

কেরালায় আটক লাদেনের ছবি লাগানো পশ্চিমবঙ্গের গাড়ি, তদন্তে কেরালা পুলিস

কেরালার পুলিস ওসামা বিন লাদেনের ছবি দেওয়া পশ্চিমবঙ্গের নম্বরপ্লেট লাগানো একটি গাড়ি আটক করেছে। আটক করার পর তদন্তে নামে কেরালা পুলিস।  জানা যায় যে কলকাতার এক বাসিন্দার গাড়ি এটা। তিনি গাড়িটি ব্যাঙ্গালোরের এক বাসিন্দাকে বিক্রি করে দেন। সেই বাসিন্দা আবার কেরালার এক বাসিন্দা মহম্মদ হানিফকে বিক্রি করে দেন। কিন্তু কলকাতার বাসিন্দা কেন গাড়ি ব্যাঙ্গালোরের বাসিন্দাকে বিক্রি করলেন, সেই বিষয়টি ভাবাচ্ছে তদন্তকারী অফিসারদের। তাছাড়া, গাড়িতে ওসামা বিন লাদেনের ছবি থাকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তারা মনে করছেন গাড়িটি কোনো জিহাদি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যদের হতে পারে এবং সেই সূত্রেই বিভিন্ন হাত ঘুরে গাড়িটি কেরালায় পৌঁছেছে। আর সেই কারণেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে কলকাতায় এসেছিলো কেরালা পুলিসের টিম। এই রহস্যের জট কাটানোর জন্যে মহম্মদ হানিফকে আরও বিশদে জেরা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা

দাদা মিথ্যা কেসে জেল খাটছে। বোনের বিয়েতে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতি

4দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বাসন্তী থানার ৯ নং কুমড়াখালী গ্রামের দেবদাস সাঁফুই। বাড়ির বড়ো ছেলে হওয়ার জন্যে সংসারের অনেক দায়িত্ব ছিলো দেবদাসের উপর। ভাই এবং ছোট বোন পড়াশুনো করতো। তাদের বই এবং টিউশন মাস্টারের টাকা সহ সংসার চালানোর জন্যে অনেক কষ্ট করতে হতো দেবদাসকে। গ্রামে তেমন কাজ না থাকার জন্য কেরালাতে যোগাড়ের কাজে যেতে হতো তাকে। কষ্ট করে সংসার চালাতে হলেও তাদের সংসার ছিলো সুখের সংসার। বাবা, মা, ভাই, বোন আর দেবদাস এই পাঁচ জনের সুখের সংসার। কিন্তু এই সুখ স্থায়ী হলোনা। কেরালায় কাজ করে ২০১৭ দূর্গা পুজোর সময় বাড়িতে আসে দেবদাস। ইচ্ছা ছিলো পরিবারের সকলকে সাথে পূজা কাটাবে। দুর্ভাগ্য তার সেই ইচ্ছা পূরণ হলো না।5

গত ২০১৭ দূর্গা পুজোর অষ্ঠমীর রাতে (আনুমানিক রাট ১.৩০) ৯নং কুমড়াখালী গ্রামে সমীর সেখ (৫৫) ও তার স্ত্রীকে (৪৩) রাতের অন্ধকরে কে বা কারা গুলি করে চলে যায়। তাতে নাম জড়ায় দেবদাস সহ আরো ১০ জন হিন্দুছেলের। কারণ এরা ওই এলাকাতে #হিন্দু_সংহতি করতো, এরা হিন্দু সমাজের নেতৃত্ব দিতো, এরা জেহাদিদের হাত থেকে হিন্দুদের বাঁচাতো। এটা মেনেনিতে পারেনি ওই এলাকার মুসলিম নেতৃত্বরা। তাই প্ল্যান করে #হিন্দু_সংহতি -র নেতৃত্বাধীন ছেলেদের ফাসাঁনো হয় সেই কেসে। মোট ১১ জন হিন্দুর নামে কেস হয় বাসন্তী থানায়। সেই কেসের ভিত্তিতে ৪ (4) জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের আলিপুর কোর্টে বিচার চলছে। তাদের পরিবার এবং কেসের দায়িত্ব নিয়েছে হিন্দু সংহতি।

গত  ২৮/০৪/২০১৯ দেবদাসের বোনের বিয়ে ছিলো। সেই বিয়েতে হিন্দু সংহতি বারুইপুর_জেলা কমিটি পক্ষথেকে ১০,০০০ টাকা তুলে দেওয়া হয় দেবদাসের মায়ের হাতে।

হিন্দু সংহতির পক্ষথেকে উপস্থিত ছিলেন স্বপন মন্ডল (সভাপতি হিন্দু সংহতি বারুইপুর জেলা ) শ্যামল মন্ডল, নিমাই হালদার, মিলন ওঝা, অরুন মন্ডল, সোনা নস্কর, তন্ময় সহ আরও অনেকে।

 

রামনবমীর স্লোগান

লেখা- জয়

(১)
কৃত্তিবাসের অমর দান
বাংলা পেল রামের নাম। 

(২)
রামকৃষ্ণ, রামপ্রসাদ, রামমোহন
‘রাম’ নামে মাতলো আবার বঙ্গজীবন।

(৩)
হৃদয় জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রী রাম, জয় শ্রী রাম।

(৪)
বাংলা জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম।

(৫)
ভারত জুড়ে তোমার নাম
জয় শ্রীরাম জয় শ্রীরাম।

(৬)
দিলাম মনের দরজা খুলে
রামের পূজা পদ্মফুলে।

(৭)
আমি শ্রীরামের যোদ্ধা
আমার হৃদয় অযোধ্যা।

(৮)
আমার প্রাণ আমার জমি
বাঁচাতে চাই রামনবমী।

(৯)
বাবর শাহর হিংসা নয়
প্রেম সে বলো রামের জয়।

(১০)
বখতিয়ারের বাংলা নয়
বাংলা বলে রামের জয়।

(১১)
জাগালো রামে বিশ্বাস
এই বাঙ্গলার কৃত্তিবাস।

পশ্চিমবাংলায় বিরিয়ানি বিপ্লব

স্মৃতিলেখা চক্রবর্তী 

আমাদের ছোটবেলায় এত বিরিয়ানি-টিরিয়ানির চল ছিল না। চপ-কাটলেট, পরোটা-মোগলাই, এসবই তখন বাঙালির প্রিয় খাদ্য ছিল। বাজারের আশেপাশের দোকানগুলোয় সন্ধ্যে নামলেই রমরমা ব্যবসা শুরু হয়ে যেত। মস্ত চাটুর মাঝখানে গনগনে আঁচে টগবগ করে ফুটত কালচে পোড়া তেল। তাতে উল্টে পাল্টে এ পিঠ ও পিঠ করে ভাজা হত মুচমুচে মোগলাই। কিংবা বিস্কুটের গুঁড়োয় মোড়া ভেটকির ফিসফ্রাই। আর ছিল পাড়ার মোড়ে মোড়ে নিরামিষ তেলেভাজার দোকান। সকালে গরম কচুরি-জিলিপি, আর বিকেল নামলেই আলুর চপ, বেগুনি, পিয়াজি এসবের পসরা সাজত। রোল-চাউয়ের ঠেলাও ছিল। তবে ভাজা-পোড়া খাবারের প্রতি বাঙালির তীব্র আকর্ষণকে সেগুলো খুব একটা টেক্কা দিতে পারেনি।
এরপর হঠাৎ একদিন কি যে হল। সব হিসেব ওলট-পালট করে গোটা কলকাতা জুড়ে ছোট বড় বিরিয়ানির দোকান খুলতে লাগল। আলু, ডিম আর মাংসের টুকরো দেওয়া লম্বা চালের নোনতা পোলাও। বাজারে আসতেই সুপার হিট। দেদার বিক্রি। বিক্রি যত বাড়তে লাগল, দোকানের সংখ্যাও তত বাড়তে লাগল। বিরিয়ানি মহল, বিরিয়ানি সেন্টার, আলিবাবা, নানান নামে বিরিয়ানি ব্যবসা। দু পা হাঁটলেই বিরিয়ানির দোকান। ঢাকাই বিরিয়ানি, কলকাতা বিরিয়ানি, হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি ইত্যাদি নানান বিরিয়ানির সম্ভার আক্ষরিক অর্থেই একটা বিরিয়ানি যুগের সূচনা করল। এরপর শুরু হল বিরিয়ানির দোকানে দোকানে টক্কর। কে কত ভাল বিরিয়ানি বানাতে পারে-র থেকেও বড় কথা হল, কে কত বিশুদ্ধ বিরিয়ানি বানাতে পারে। নিজেদের বিরিয়ানির বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে, দোকানগুলো নানা রকম কলা-কৌশল অবলম্বন করল। এদের মধ্যে কিছু দোকান, যারা একটু অতিরিক্ত বুদ্ধিমান, তারা রটিয়ে দিল, তাদের দোকানে খাঁটি মুসলমান রাঁধুনি দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করা হয়। এই প্রচারে বিপুল সাড়া মিলল। সব বাঙালিই মানে, বিরিয়ানি হল খাঁটি মুসলমানি রান্না। কাজেই মুসলমানি রান্না মুসলমানের থেকে ভাল কে রাঁধবে। যে বাঙালি দোকান থেকে কষা মাংস খাওয়ার আগে কখনো জানতে চায়নি, এর রাঁধুনি খাঁটি বাঙালি কিনা; সেই বাঙালিই দলে দলে ছুটল মুসলমান রাঁধুনির রাঁধা “খাঁটি বিরিয়ানি” খেতে।
মুসলমান ব্যবসায়ীরা এই ট্রেন্ড চিনতে ভুল করেনি। বাঙালি যে “খাঁটি বিরিয়ানি” বলতে তাদেরকেই বোঝাচ্ছে, এটা বাঙালি ক্রেতার হাবেভাবে বেশ পরিষ্কার হয়ে গেছিল। শুরুটা হল বড় দোকান গুলো দিয়ে। হঠাৎই বাঙালি পাড়ায় শাখা খুলতে শুরু করল আরসালান, আমিনিয়া, হাজী বিরিয়ানি, রহমানিয়ার দল। তারপরের ধাপে বাঙালি বিরিয়ানির দোকানগুলোর বদলে আসতে শুরু করল আসমা বিরিয়ানি, বরকত বিরিয়ানির মত দোকান। যেসব বাঙালি পাড়ায় আগে একটিও মুসলমান দোকান ছিল না, সেখানে বিরিয়ানির হাত ধরে একের পর এক পাখা মেলতে লাগল আসমা, বরকত, ফাতেমা, রহিমা-রা। মুখে তাদের মিষ্টি হাসি, আর মাথার উপর লেখা সাতশো ছিয়াশী।  আমি একে “বিরিয়ানি বিপ্লব” নামেই ডাকব, যে বিপ্লবের দখল মুসলমানেরা বাঙালির থেকে নিঃশব্দে কেড়ে নিয়েছে ।
বিরিয়ানি বিপ্লবের সাথে সাথে প্রায় নিঃশব্দে ঘটে গেল আরেকটা জিনিস। মুসলমানের বিরিয়ানির দোকানের হাত ধরেই বাঙালির খাবার প্লেটে ঢুকে পড়ল হালাল সংস্কৃতি। বিরিয়ানির লোভে গোগ্রাসে গেলা বাঙালি পাত্তাই দিল না যে সে হালাল খাচ্ছে। হালাল কি, হালাল কেন, সেটা সম্বন্ধে কিছু জানার আগেই হালাল খাওয়া নিয়ে বাঙালির মানসিক বাধা তৈরি হবার আগেই শূন্য হয়ে গেল। এখন KFC র মুরগি ভাজা থেকে মিত্র ক্যাফে-র ফাউল কাটলেট হালাল হলেও বাঙালির কিছু যায় আসে না।
 এতকিছু , কারণ বাঙালি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, বিরিয়ানি একটি মুসলিম খাবার। তাই, মুসলমানে চাল-মাংস ছুঁয়ে দিলেই সুস্বাদু কাবাব বিরিয়ানি তৈরি হয়ে যায়। বিরিয়ানির সাথে মুসলমানের সম্পর্ক নিয়ে বাঙালির এই মনোভাবের কথা আমি জানতেও পারতাম না, যদি না আমার এক অতিবাম স্কুলপাঠী ঠিক এই ঢঙে আমাকে এই কথাটা বলত। বিরিয়ানির মত প্রাক-ইসলামী যুগের রান্না নিয়ে এমন মনোভাব কেউ রাখতে পারে, কথাটা শুনেও ঠিক বিশ্বাস হয়নি। তবে ফেসবুকে বিভিন্ন খাবার গ্রূপে ঘুরে বিরিয়ানি সম্বন্ধে বাঙালির মনোভাব পড়ে আর অবিশ্বাস করতে পারিনি।
আজকে যদি বাঙালিদের ধরে ধরে প্রশ্ন করা হয়, তাদের প্রিয় খাবার কি, ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন বাঙালিই হয়তো উত্তর দেবে- বিরিয়ানি। বিরিয়ানি নিয়ে আমার ব্যক্তিগত আদিখ্যেতা না থাকলেও, “বিরিয়ানি বিপ্লব”-এর পর গোটা পশ্চিমবঙ্গে বিরিয়ানির বাজার ঠিক কতটা বড়, তার ধারণা করতে পারি। রাস্তায় ঘাটে, বাজার হাটে, বিরিয়ানির দোকান এখন সর্বত্র। এখন প্রশ্ন হল এই বিরিয়ানির দোকানগুলোর মধ্যে বাঙালির দোকান ঠিক কত শতাংশ? বিরিয়ানি ব্যবসার কতটুকু লাভ বাঙালি ব্যবসায়ীরা পাচ্ছে? আরসালানের বিপুল ভিড় আর হাজি-র দোকানে বিশাল লাইন দেখে বিশ্বাস করতে ভরসা হয় না, বিরিয়ানি বিপ্লবের খুব বেশি লাভ বাঙালি পাচ্ছে। হয়তো দোষ সেই বাঙালি দোকানগুলোরই, যারা মুসলমান রাঁধুনি দেখিয়ে খদ্দের টানতে গেছিল। তারাই বাঙালি ক্রেতার মাথায় ঢুকিয়েছে বাঙালি রাঁধুনি অত ভাল বিরিয়ানি রাঁধতে পারবে না। সেক্ষেত্রে আর মাঝখানে শিখন্ডী রাখা কেন? চালাও পানসি আরসালান-আমিনিয়া। বাংলায় সব বিপ্লবেরই বোধয় একই পরিণতি হয়। বাঙালির কোলেপিঠে বড় হয়ে বিপ্লব একদিন বাঙালিকে ছাড়িয়ে অন্যত্র চলে যায়।

‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ এর উদ্যোগে দাড়িভিটের ভাষাবীরদের স্মরণ

গতকাল ২১শে ফেব্রূয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবসে ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’-এর উদ্যোগে কলকাতার রাজা রামমোহন লাইব্রেরি হল-এ দাড়িভিটের ভাষাবীরদের স্মরণে এক শ্রদ্ধাঞ্জলী এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে দাড়িভিটের মৃত্যুঞ্জয়ী ভাষাবীর রাজেশ সরকার ও তাপস বর্মনের বলিদানকে বিনম্র চিত্তে স্মরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রী অচিন্ত্য বিশ্বাস, বিশিষ্ট সাহিত্যিক শ্রী দেবাশীষ লাহা এবং এষা দে। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজেশ-তাপসের পিতামাতা। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজেশ-তাপসের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। অনুষ্ঠানে একে একে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির ভাষা কেড়ে নেবার বৃহত্তর চক্রান্ত সকলের সামনে তুলে ধরেন।অধ্যাপক অচিন্ত্য বিশ্বাস তার বক্তব্যে বলেন, “ যারা জলখাবারকে নাস্তা বলে, যারা স্নানকে গোসল বলে, তারা কখনোই বাঙালি হতে পারে না।আজ বাংলা দেশের ভাষা আন্দোলনকে আপন করে নিলে ভাষা রক্ষায় রাজেশ-তাপসের বলিদান ব্যর্থ হয়ে যাবে।” তিনি আরও বলেন, “ এই পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশে পরিণত করার এক গভীর চক্রান্ত চলছে।আর সেই চক্রান্তের শিকার হলো রাজেশ-তাপস।” হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জিহাদি শক্তির আজ ভয়ঙ্কর থাবা পশ্চিমবঙ্গে । তাঁর প্রতিরোধে হিন্দু সংহতির যুবশক্তি তাদের সমূহ শক্তি দিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ করছে, লড়াই করছে, রক্ত ঝরাচ্ছে। কিন্তু বৌদ্ধিক লড়াইয়ের কাজটাও করা দরকার। যার ফলে যুবসমাজের মন আন্দোলিত হবে, তাঁরা শক্তি খুঁজে পাবে,তাঁদের মনন শক্তি খুঁজে পাবে।” তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে জিহাদি শক্তির বাঙালি হিন্দুর শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ রক্ষার লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ রাখেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানে দেবাশীষ লাহা এবং এষা দে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। দেবাশীষ লাহা বলেন যে শুধু ভাষায় কথা বললে বাঙালি হওয়া যায় না। তোতা পাখি বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারে, তাহলে তাকে কি বাঙালি বলবো?বাঙালি হলে তাঁর তুলসিতলা থাকবে,তাঁর দুর্গা পূজা থাকবে,তাঁর পয়লা বৈশাখ থাকবে; তবেই সে বাঙালি হবে।

কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরায় সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় হিন্দু সংহতির বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হলো।

গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান সদর শাখার উদ্যোগে এবং প্রমুখ কর্মী শিবাংশু ভঞ্জের নেতৃত্বে  কয়েকশো কর্মী বর্ধমান শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাল্টা প্রতিশোধেরও দাবি তোলা হয়। মিছিলের শেষে বীরগতিপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিংয়ের তালদিতে  হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। কয়েকশো কর্মীর বিক্ষোভে তালদি বাজার কেঁপে ওঠে। কর্মীরা ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ শ্লোগান দেন। মিছিলের শেষে মাসুদ আজহারের কুশপুতুল এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা ইউনিটের উদ্যোগে কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মিছিলটি আউশগ্রাম থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে বাজার ঘুরে আবার থানার সামনে শেষ হয়।
 এছাড়াও, আজ হাওড়া জেলার আমতায় হিন্দু সংহতির উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয় কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। এই মিছিলে কয়েকশো হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেয়। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয় এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
হাওড়া জেলার আমতা ছাড়াও হুগলি জেলার চণ্ডীতলা থানার অন্তর্গত মশাট বাজারে হিন্দু সংহতির কর্মীরা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে কাশ্মীরে সেনা জওয়ান হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।

রাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে জিহাদি কার্যকলাপ, আরামবাগে গ্রেপ্তার খাগড়াগড় কাণ্ডের কওসর ও কদর কাজি

kadarরাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কওসরের আত্মীয় কদর কাজি। জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নতুন মডিউল তৈরির জন্যই সে এ রাজ্যে এসেছিল। তাই নতুন যুবকদের খোঁজা হচ্ছিল। পাশাপাশি চলছিল টাইম বোমা তৈরির কাজও। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে ধৃত কদরকে জেরা করে এইসব তথ্যই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের হাতে এসেছে। বাংলাদেশে জেএমবি সংগঠনের কোন কোন সদস্যের সঙ্গে সে যোগাযোগ রাখছিল, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। মঙ্গলবার কদর কাজি ও সাজ্জাদ আলিকে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকেই ১২ তারিখ পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পরই কওসরের সঙ্গে রাজ্য ছাড়ে কদর কাজি। তারা দু’জনেই একসঙ্গে থেকেছে বিভিন্ন সময়ে। বেশ কিছুদিন বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিল কওসর ও তার আত্মীয় কদর। কদরকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কওসরের হাত ধরেই সে জেএমবিতে প্রবেশ করে। তার প্রশিক্ষণও হয় খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের হাতে। প্রথমে কদরকে জেহাদি নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বিস্ফোরক তৈরিও শেখে। খাগড়াগড়ের পর বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থেকে শেষমেশ বেঙ্গালুরুতে ঘাঁটি গাড়ে কওসরের সঙ্গেই। সেখানে থাকতে থাকতেই বিস্ফোরক তৈরির নতুন ফর্মুলা শেখে কদর। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেয় কওসর ওরফে বোমা মিজান। ধৃত জেরাতেও জানিয়েছে, টাইম বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ সে নিয়েছে তার আত্মীয়ের কাছ থেকে। আরামবাগের যে বাড়িতে কাজের সুবাদে থাকছিল, সেখান থেকে ঘড়ি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট সহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় তার প্রমাণ মিলেছে।

মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যে ঢালাও ঋণ রাজ্য সরকারের

রাজ্যের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়ার জন্যে বিশাল পরিমান টাকা ঋণ দিচ্ছে রাজ্য সরকার।  সেই টাকাতে মুসলিম ছাত্ররা চীন, রাশিয়া,বাংলাদেশ এবং ইউরোপের বহু দেশে ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছে এই রাজ্য থেকেই। তাদেরকে ঋণ দিচ্ছে ”রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম”। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঋণ-এর পরিমান ২০লাখ টাকা এবং সুদ দিতে হবে তিন শতাংশ হারে। আর ঋণ শোধ করার শর্ত হলো ডাক্তারি পড়া শেষ করার ছয় মাস পর থেকে ঋণ শোধ করা শুরু করতে হবে। এই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে এই ঋণ সবথেকে বেশিজন পেয়েছেন মালদা জেলায়। জানা গিয়েছে, এইবছর মালদা জেলায় ঋণ পাওয়ার জন্যে আবেদন করেছিলেন ২৫০জন মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী, যাদের মধ্যে ১৮৫জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে। এদের অনেকেই বিদেশে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাচ্ছেন।
 পূর্বতন বাম সরকারের আমলেও এই ঋণ দেওয়া চালু ছিল এবং ঋণের পরিমান ছিল ৫ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমান আমলে তার পরিমান বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিম ছাত্রদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্যে সরকারি ঋণ দেওয়া হলেও, গরিব পরিবারের মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি পড়ার, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন কি দোষ করলো? সবার জন্যে উচ্চ শিক্ষার ঋণ ব্যাংকগুলি দিলেও, শুধমাত্র মুসলিমদের জন্যে সরকারি ঋণ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। হিন্দুদের জন্যে এইরকম কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গরিব,অথচ মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটে যেতে হয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলির দরজায়। ঋণ পেলেও সুদ দিতে হয় বেশি; আর ঋণ না পেলে বিদেশে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার  স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ” একদিকে সংখ্যালঘু তোষণের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, অপরদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার আফিম খেয়ে হিন্দুরা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ ধসে পড়ছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তারা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই বোধই হিন্দুদের নেই। আমাদের প্রজন্ম আমাদের দায়িত্ব পালনে সার্বিক ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আজ হিন্দু যুব ও ছাত্র সমাজকে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে, নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য মাঠে নামতে হবে, সমাজের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিতে হবে”।

তিনদফা দাবিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে বিশাল মিছিল হিন্দু সংহতির

uluberiya-rally1গতকাল ২৯শে নভেম্বর, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এবং বাধ্যতামূলক  জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন-এই তিনদফা দাবিতে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা  সংহতির উদ্যোগে। এই মিছিলে উলুবেড়িয়া এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেন। এছাড়াও, প্রচুর হিন্দু জনসাধারণ মিছিলে পা মেলান। মিছিল গঙ্গারামপুর মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে।  মিছিলের শেষে একটি ছোট পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পথসভাতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়।  শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় তার বক্তব্যে বলেন, ”আজ সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে সমস্ত হিন্দুকে আজ জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি তুলতে হবে। তা নাহলে এই পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে মুসলিম জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, একদিন হিন্দুরাই এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে।তখন এই হিন্দুকে ভিটে-মাটি ত্যাগ করে বিহার, ঝাড়খন্ড কিংবা উড়িষ্যায় আশ্রয় খুঁজেতে হবে,  বাংলাদেশের হিন্দুরা অত্যাচারের শিকার হয়ে এদেশে  নিয়েছেন।” তিনি আরো বলেন যে আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতদিন না সরকার এই তিনদফা মেনে না নেয়।  এছাড়াও এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি এবং সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। পরে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের অফিসে যান এবং তিনদফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দেন।

তাসের সর্দারের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেলেও অসীমা প্রামানিকের পরিবার বঞ্চিত

গত  ২৩শে অক্টোবর, মঙ্গলবার  হাওড়ার সাঁতরাগাছি স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান পেশায় রাজমিস্ত্রি তাসের সর্দার। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার নশীপুর গ্রামে।এই মৃত্যুর পর রেল কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।কিন্তু তার মৃত্যুর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই রাজ্য সরকার ৫লক্ষ টাকা তার পরিবারকে সাহায্য করলো এবং টাকা তার একাউন্ট  এ পৌঁছে গেল।খুব ভালো ।
কিন্তু তার আগে  গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার বারুইপুরের স্টেশনে ওভাররব্রিজের সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে পড়ে মারা যান অসীমা প্রামানিক। এক্ষেত্রেও রেল কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তিনি 2 নং প্লাটফর্ম এর তলা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন।তার বাড়ি মাদারহাটের নায়েবের মোড়। তার বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন এলাকার MLA এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়।কিন্তু সেই ঘটনার পর প্রায় ২মাস কেটে গেল।এখনো পর্যন্ত ১টাকাও ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি রাজ্য সরকারের তরফে ।
কিন্তু তাসের সর্দার কে দিলেও, কেন অসীমা প্রামানিকের পরিবার ৫লক্ষ টাকা দেয়নি রাজ্য সরকার? কেন?কেন?অসীমা প্রামানিক হিন্দু বলে?নাকি অসীমা প্রামানিকরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক এই রাজ্যে?