কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার অবন্তীপুরায় সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে জেলায় জেলায় হিন্দু সংহতির বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হলো।

গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান সদর শাখার উদ্যোগে এবং প্রমুখ কর্মী শিবাংশু ভঞ্জের নেতৃত্বে  কয়েকশো কর্মী বর্ধমান শহরে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিল বর্ধমান শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাল্টা প্রতিশোধেরও দাবি তোলা হয়। মিছিলের শেষে বীরগতিপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানদের স্মৃতিতে মোমবাতি জ্বালিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিংয়ের তালদিতে  হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। কয়েকশো কর্মীর বিক্ষোভে তালদি বাজার কেঁপে ওঠে। কর্মীরা ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ শ্লোগান দেন। মিছিলের শেষে মাসুদ আজহারের কুশপুতুল এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
এছাড়াও, গতকাল ১৬ই ফেব্রূয়ারি, হিন্দু সংহতির পূর্ব বর্ধমান জেলার গুসকরা ইউনিটের উদ্যোগে কাশ্মীরে সেনা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। মিছিলটি আউশগ্রাম থানার সামনে থেকে শুরু হয়ে বাজার ঘুরে আবার থানার সামনে শেষ হয়।
 এছাড়াও, আজ হাওড়া জেলার আমতায় হিন্দু সংহতির উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয় কাশ্মীরে সেনা জওয়ানদের হত্যার প্রতিবাদে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। এই মিছিলে কয়েকশো হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেয়। মিছিল থেকে পাকিস্তান বিরোধী শ্লোগান দেওয়া হয় এবং পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো হয়।
হাওড়া জেলার আমতা ছাড়াও হুগলি জেলার চণ্ডীতলা থানার অন্তর্গত মশাট বাজারে হিন্দু সংহতির কর্মীরা পাকিস্তানের পতাকা পুড়িয়ে কাশ্মীরে সেনা জওয়ান হত্যার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এছাড়াও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরানের খানের কুশপুতুল পোড়ানো হয়।
Advertisements

রাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে জিহাদি কার্যকলাপ, আরামবাগে গ্রেপ্তার খাগড়াগড় কাণ্ডের কওসর ও কদর কাজি

kadarরাজমিস্ত্রির ছদ্মবেশে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত কওসরের আত্মীয় কদর কাজি। জঙ্গি সংগঠন জেএমবির নতুন মডিউল তৈরির জন্যই সে এ রাজ্যে এসেছিল। তাই নতুন যুবকদের খোঁজা হচ্ছিল। পাশাপাশি চলছিল টাইম বোমা তৈরির কাজও। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনআইএ) হাতে ধৃত কদরকে জেরা করে এইসব তথ্যই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকদের হাতে এসেছে। বাংলাদেশে জেএমবি সংগঠনের কোন কোন সদস্যের সঙ্গে সে যোগাযোগ রাখছিল, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে। মঙ্গলবার কদর কাজি ও সাজ্জাদ আলিকে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকেই ১২ তারিখ পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
বর্ধমানের খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণের পরই কওসরের সঙ্গে রাজ্য ছাড়ে কদর কাজি। তারা দু’জনেই একসঙ্গে থেকেছে বিভিন্ন সময়ে। বেশ কিছুদিন বাংলাদেশে লুকিয়ে ছিল কওসর ও তার আত্মীয় কদর। কদরকে জেরা করে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, কওসরের হাত ধরেই সে জেএমবিতে প্রবেশ করে। তার প্রশিক্ষণও হয় খাগড়াগড়-কাণ্ডের মূল অভিযুক্তের হাতে। প্রথমে কদরকে জেহাদি নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বিস্ফোরক তৈরিও শেখে। খাগড়াগড়ের পর বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে থেকে শেষমেশ বেঙ্গালুরুতে ঘাঁটি গাড়ে কওসরের সঙ্গেই। সেখানে থাকতে থাকতেই বিস্ফোরক তৈরির নতুন ফর্মুলা শেখে কদর। হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেয় কওসর ওরফে বোমা মিজান। ধৃত জেরাতেও জানিয়েছে, টাইম বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ সে নিয়েছে তার আত্মীয়ের কাছ থেকে। আরামবাগের যে বাড়িতে কাজের সুবাদে থাকছিল, সেখান থেকে ঘড়ি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট সহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার হওয়ায় তার প্রমাণ মিলেছে।

মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি,ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্যে ঢালাও ঋণ রাজ্য সরকারের

রাজ্যের মুসলিম ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়ার জন্যে বিশাল পরিমান টাকা ঋণ দিচ্ছে রাজ্য সরকার।  সেই টাকাতে মুসলিম ছাত্ররা চীন, রাশিয়া,বাংলাদেশ এবং ইউরোপের বহু দেশে ডাক্তারি পড়তে যাচ্ছে এই রাজ্য থেকেই। তাদেরকে ঋণ দিচ্ছে ”রাজ্য সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম”। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই ঋণ-এর পরিমান ২০লাখ টাকা এবং সুদ দিতে হবে তিন শতাংশ হারে। আর ঋণ শোধ করার শর্ত হলো ডাক্তারি পড়া শেষ করার ছয় মাস পর থেকে ঋণ শোধ করা শুরু করতে হবে। এই বছরে অর্থাৎ ২০১৮ সালে এই ঋণ সবথেকে বেশিজন পেয়েছেন মালদা জেলায়। জানা গিয়েছে, এইবছর মালদা জেলায় ঋণ পাওয়ার জন্যে আবেদন করেছিলেন ২৫০জন মুসলিম ছাত্র-ছাত্রী, যাদের মধ্যে ১৮৫জনকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা করে। এদের অনেকেই বিদেশে ডাক্তারি এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাচ্ছেন।
 পূর্বতন বাম সরকারের আমলেও এই ঋণ দেওয়া চালু ছিল এবং ঋণের পরিমান ছিল ৫ লাখ টাকা। কিন্তু বর্তমান আমলে তার পরিমান বেড়ে হয়েছে ২০ লাখ টাকা। কিন্তু সংখ্যালঘু মুসলিম ছাত্রদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্যে সরকারি ঋণ দেওয়া হলেও, গরিব পরিবারের মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের বিদেশে ডাক্তারি পড়ার, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার স্বপ্ন কি দোষ করলো? সবার জন্যে উচ্চ শিক্ষার ঋণ ব্যাংকগুলি দিলেও, শুধমাত্র মুসলিমদের জন্যে সরকারি ঋণ কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। হিন্দুদের জন্যে এইরকম কোনো সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গরিব,অথচ মেধাবী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটে যেতে হয় সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলির দরজায়। ঋণ পেলেও সুদ দিতে হয় বেশি; আর ঋণ না পেলে বিদেশে ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার  স্বপ্নের মৃত্যু হয়। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ” একদিকে সংখ্যালঘু তোষণের নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে, অপরদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার আফিম খেয়ে হিন্দুরা আচ্ছন্ন হয়ে আছে। তাদের পায়ের তলার মাটি ক্রমশ ধসে পড়ছে, তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তারা অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এই বোধই হিন্দুদের নেই। আমাদের প্রজন্ম আমাদের দায়িত্ব পালনে সার্বিক ভাবে ব্যর্থ হয়েছি। আজ হিন্দু যুব ও ছাত্র সমাজকে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবতে হবে, নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য মাঠে নামতে হবে, সমাজের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে তুলে নিতে হবে”।

তিনদফা দাবিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে বিশাল মিছিল হিন্দু সংহতির

uluberiya-rally1গতকাল ২৯শে নভেম্বর, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এবং বাধ্যতামূলক  জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন-এই তিনদফা দাবিতে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা  সংহতির উদ্যোগে। এই মিছিলে উলুবেড়িয়া এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেন। এছাড়াও, প্রচুর হিন্দু জনসাধারণ মিছিলে পা মেলান। মিছিল গঙ্গারামপুর মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে।  মিছিলের শেষে একটি ছোট পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পথসভাতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়।  শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় তার বক্তব্যে বলেন, ”আজ সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে সমস্ত হিন্দুকে আজ জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি তুলতে হবে। তা নাহলে এই পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে মুসলিম জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, একদিন হিন্দুরাই এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে।তখন এই হিন্দুকে ভিটে-মাটি ত্যাগ করে বিহার, ঝাড়খন্ড কিংবা উড়িষ্যায় আশ্রয় খুঁজেতে হবে,  বাংলাদেশের হিন্দুরা অত্যাচারের শিকার হয়ে এদেশে  নিয়েছেন।” তিনি আরো বলেন যে আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতদিন না সরকার এই তিনদফা মেনে না নেয়।  এছাড়াও এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি এবং সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। পরে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের অফিসে যান এবং তিনদফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দেন।

তাসের সর্দারের পরিবার ক্ষতিপূরণ পেলেও অসীমা প্রামানিকের পরিবার বঞ্চিত

গত  ২৩শে অক্টোবর, মঙ্গলবার  হাওড়ার সাঁতরাগাছি স্টেশনের ফুট ওভারব্রিজে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে মারা যান পেশায় রাজমিস্ত্রি তাসের সর্দার। তার বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার হরিহরপাড়া থানার নশীপুর গ্রামে।এই মৃত্যুর পর রেল কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি।কিন্তু তার মৃত্যুর ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই রাজ্য সরকার ৫লক্ষ টাকা তার পরিবারকে সাহায্য করলো এবং টাকা তার একাউন্ট  এ পৌঁছে গেল।খুব ভালো ।
কিন্তু তার আগে  গত ২৮শে সেপ্টেম্বর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার বারুইপুরের স্টেশনে ওভাররব্রিজের সিমেন্টের স্ল্যাব ভেঙে পড়ে মারা যান অসীমা প্রামানিক। এক্ষেত্রেও রেল কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। তিনি 2 নং প্লাটফর্ম এর তলা দিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন।তার বাড়ি মাদারহাটের নায়েবের মোড়। তার বাড়িতে দেখা করতে গিয়েছিলেন এলাকার MLA এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায়।কিন্তু সেই ঘটনার পর প্রায় ২মাস কেটে গেল।এখনো পর্যন্ত ১টাকাও ক্ষতিপূরণ পৌঁছায়নি রাজ্য সরকারের তরফে ।
কিন্তু তাসের সর্দার কে দিলেও, কেন অসীমা প্রামানিকের পরিবার ৫লক্ষ টাকা দেয়নি রাজ্য সরকার? কেন?কেন?অসীমা প্রামানিক হিন্দু বলে?নাকি অসীমা প্রামানিকরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক এই রাজ্যে? 

কলকাতার হলদিরাম বাস-স্টপ এর নাম এখন হজ হাউস বাস স্টপ

IMG-20181115-WA0035কলকাতা এয়ারপোর্টের  দিকে বাসে করে যেতে গেলে হলদিরাম বলে একটি বাস স্টপ ছিল, যেখানে বাস দাঁড়াতো। কিন্তু ওখানে সরকারি উদ্যোগে তৈরি কোনো যাত্রীদের বসার বা অপেক্ষা করার শেড ছিল না। কিন্তু কিছুদিন আগেই মানুষজনের নজরে আসে যে ওখানে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্যে একটি শেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং নাম দেওয়া হয়েছে হজ হাউস বাস স্টপ। তবে এই নতুন নামকরণ নিয়ে সুশীল সমাজের অনেক মানুষই আপত্তি জানিয়েছেন। হঠাৎ কি কারণে এই নতুন নামকরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের বক্তব্য, এই বাংলা যে ক্রমাগত ইসলামীকরণের দিকে  এগিয়ে চলেছে, এ তারই নমুনা। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ”আজ সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাম পরিবর্তন করা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু একইরকম ভাবে এই পশ্চিমবঙ্গেও নাম পরিবর্তন হয়ে চলেছে, তবে তা চুপিসারে। এমনকি মিডিয়া থেকে সংবাদপত্র কোথাও প্রকাশিত হচ্ছে না। কিন্তু কিছুদিন আগেই উত্তর দিনাজপুরের একটি স্কুল ইসলামপুরের জায়গায় ঈশ্বরপুর লেখাতে রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানালেও,আজ কলকাতার  হলদিরাম বাস-স্টপের  নাম পরিবর্তিত হয়ে হজ হাউস হওয়ায় তাঁরা চুপ কেন?” তিনি আরও বলেন, ”পশ্চিমবাংলার এই নিঃশব্দ ইসলামীকরণের প্রতিবাদে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।”

নন্দকুমারে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালী মাখালো দুষ্কৃতিরা, চাঞ্চল্য এলাকায়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত নন্দকুমারের কল্যাণচক হাই স্কুল মোড়ে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে কালি ঘষে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা গিয়েছে, গত ১৮ই এপ্রিল রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালি মাখিয়ে দেয়। এদিন সকালে এই ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পর পুলিস ও প্রশাসনের কর্তারাও নড়েচড়ে বসেন। গত ১৯শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়বের উদ্যোগে কালি তুলে নতুন করে মূর্তি রং করা হয়। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানার জন্য পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, খবর পাওয়ার পরই দ্রুত স্বামীজির মূর্তিতে লেগে থাকা কালি তুলে নতুন রং করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি সংখ্যালঘু তকমা পাওয়ার যোগ্য কিনা -খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্যের মাদ্রাসাগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের অধিকার কার হাতে থাকবে –মাদ্রাসা পরিচালন সমিতি নাকি মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন – সুপ্রিম কোর্টে এই প্রশ্নের মীমাংসা হল না বৃহস্পতিবারেও৷ এই প্রশ্নের মীমাংসার আগে শীর্ষ আদালত বিচার করে দেখবে , রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি সংখ্যালঘু তকমা পাওয়ার যোগ্য কিনা৷ আগামী মঙ্গলবার থেকে এই প্রশ্নের উত্তর -সন্ধানে শুরু হবে শীর্ষ আদালতে শুনানি৷ গত ১৯শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের বেঞ্চ৷ মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের অধিকার নিয়ে মামলার শুনানিতে রাজ্যের একটি মাদ্রাসার তরফে জানানো হয় , ২০০৭ সালে রাজ্যের সব ক’টি মাদ্রাসাকে ‘সংখ্যালঘু’ শ্রেণিভুক্ত বিদ্যালয়ের তকমা দিয়ে বিজ্ঞন্তি প্রকাশ করেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার৷ সেই বিজ্ঞন্তি চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে কয়েকটি মাদ্রাসা৷ রাজ্যের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগের অধিকার মাদ্রাসা পরিচালন সমিতির হাতে না দিয়ে পরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের হাতে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়৷ কাঁথি রহমানিয়া  মাদ্রাসার তরফে আইনজীবী আবু সোহেল আবার দাবি করেন , সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের অধিকার রাজ্য সরকারের নেই৷ এর পরেই বিচারপতি অরুণ মিশ্র এবং বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত স্থির করেন, রাজ্যের মাদ্রাসাগুলি ‘সংখ্যালঘু’ মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য কিনা , তা আগে স্থির করবে আদালত৷ ৷ এর গত গত এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলো যে রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোতে কি পড়ানো হয়। এমনকি বিচাপতিরা এই মন্তব্য করেছিল যে রাজ্য সরকার যেহেতু টাকা দেয়, তাই শিক্ষক নিয়োগের অধিকারও তাদের থাকা উচিত।

হিন্দু সংহতিকে নিয়ে তুমুল হইহট্টগোল বিধানসভায়

Hindu Samhatike tumul hottogolহিন্দু সংহতি এবার পৌঁছে গেল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। গতকাল ২২ শে ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী উঠে দাঁড়িয়ে স্পিকারকে বলেন যে হিন্দু সংহতি কেন ও কিভাবে ধর্মতলায় ধর্মান্তকরণ করলো, তার জন্যে বিশেষ আলোচনা করা হোক বিধানসভায়। সুজন চক্রবর্তীর এই বক্তব্যে সমর্থন জানিয়ে অন্যান্য বাম বিধায়করাও উঠে দাঁড়িয়ে একই দাবি জানাতে থাকেন। তিনি বিধানসভায় বলেন যে কলকাতার বুকে এইরকম একটি ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে হিন্দু সংহতি এই কাজ করেছে। এই নিয়ে তিনি আলোচনার দাবি করেন। তার এই দাবিতে কংগ্রেসের আব্দুল মান্নানসহ অন্য বিধায়করাও উঠে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। কিন্তু স্পিকার বিমান বন্দোপাধ্যায় তাদের এই দাবি মেনে নেননি। তখন বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা বিধানসভার মধ্যে চিৎকার-চেঁচামেচি জুড়ে দেন। পুরো বিধানসভায় তুমুল হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায়। কিন্তু স্পিকার বারবার এই বলে বোঝাতে থাকেন যে এটা বিধানসভায় আলোচনা করার মতো বিষয় নয়। আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত স্পিকারকে সভার কাজ মুলতবি করতে বাধ্য করেন বাম ও কংগ্রেস বিধায়করা।

ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা সবথেকে বেশি বাড়ছে পশ্চিমবঙ্গে

২০০১ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার বৃদ্ধি পেয়েছে ২৪ শতাংশ হারে। যদিও বিগত দশকের চেয়ে মুসলিম বৃদ্ধির হার কিছুটা কম। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ২৯ শতাংশ। ইকনমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী বিগত দশ বছরে ভারতে হিন্দু জনসংখ্যার তুলনায় মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, মালদা ও উত্তর দিনাজপুরে হিন্দু জনসংখ্যার থেকে ছাপিয়ে গিয়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা ৪৭ লক্ষ, হিন্দু ২৩ লক্ষ। মালদায় ২০ লক্ষ মুসলিম, হিন্দু ১৯ লক্ষ। উত্তর দিনাজপুরে ১৫ লক্ষ মুসলিম, ১৪ লক্ষ হিন্দু।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভারতে হিন্দু জনসংখ্যা যদি ০.৭ শতাংশ কমে, বাংলায় কমেছে ১.৯৪ শতাংশ। ঠিক তেমনই মুসলিম জনসংখ্যা ভারতে ০.৮ শতাংশ বেড়েছে কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে বেড়েছে ১.৭৭ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে মোট জনসংখ্যা ৯ কোটি ১২ লক্ষ। ধর্ম ভিত্তিতে হিন্দু রয়েছে ৬ কোটি ৪ লক্ষ। মোট জনসংখ্যার ৭০.৫৩ শতাংশ হিন্দু রয়েছে। মুসলিম জনসংখ্যা ২ কোটি ৪ লক্ষ। ২৭.০১ শতাংশ রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়।

আদমশুমারী অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরে বসবাসকারী মুসলিম মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। মোট জনসংখ্যার ৬৮.৩ শতাংশ মুসলিম। এরপরেই আছে অাসাম, সেখানে ৩৪.২ এবং ২৭.০১ শতাংশ মুসলিম বসবাস করে পশ্চিমবঙ্গে। মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে উত্তরাখন্ড, কেরল, গোয়াতেও। উত্তরাখন্ডে এই বৃদ্ধির হার ১১.৯ থেকে ১৩.৯ শতাংশ। কেরলে ২৪.৭ থেকে বেড়ে ২৬.৬। গোয়াতে এই বৃদ্ধির হার ৬.৮ থেকে ৮.৪ শতাংশ। হরিয়ানা ৫.৮ থেকে ৭ শতাংশ। রাজধানী দিল্লিতে ১১.৭ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২.৯ শতাংশে। অন্যদিকে মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে মণিপুরে। উত্তরপূর্ব ভারতের এই রাজ্যে বিগত আদমশুমারী অনুযায়ী (২০০১ সালে) যেখানে ৮.৮ শতাংশ ছিল সেখানে সর্বশেষ আদমশুমারী অনুযায়ী (২০১১) এই বৃদ্ধির হার কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৪ শতাংশ।

২০০১ জনগণনা – পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা – ৮,০১,৭৬,১৯৭ জন, হিন্দু জনসংখ্যা – ৫,৮১,০৪,৮৩৫ জন (পুরুষ – ৩,০০,৬৯,৫০৩ জন ও মহিলা – ২,৮০,৩৫,৩৩২ জন), মুসলিম জনসংখ্যা – ২,০২,৪০,৫৪৩ জন (পুরুষ- ১,০৪,৭০,৪০৬ জন ও মহিলা- ৯৭,৭০,১৩৭ জন)।

২০১১ জনগণনা – পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা – ৯,১২,৭৬, ১১৫ জন, হিন্দু জনসংখ্যা – ৬,৪৩,৮৫,৫৪৬ জন (পুরুষ – ৩,৩০,৪৬,৫৫৭ ও মহিলা – ৩,১৩,৩৮,৯৮৯ জন), মুসলিম জনসংখ্যা – ২,৪৬,৫৪,৮২৫ জন (পুরুষ – ১,২৬,৪০,০৯২ ও মহিলা – ১,২০,১৪,৭৩৩ জন)।

২০০৯-এ পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মুসলমান। এ গবেষণা অনুযায়ী বর্তমানে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৬৮০ কোটি যার মধ্যে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় ১৫৭ কোটি, অর্থাৎ বর্তমান বিশ্বে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৩ শতাংশ মুসলমান। আর মুসলমানদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ এশিয়া মহাদেশে বসবাস করে। ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ২০ কোটি ৩০ লাখ মুসলমান বাস করে যা বিশ্বে মোট মুসলমান জনসংখ্যার প্রায় ১৩%। পাকিস্তানে ১৭ কোটি ৪০ লাখ, ভারতে ১৭ কোটি ৭২ লাখ, বাংলাদেশে ১৪ কোটি ৫০ লাখ, এবং ইরান ও তুরস্কে ৭ কোটি ৪০ লাখ মুসলিম বসবাস করে।

হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তপন ঘোষের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে জেলায় জেলায় ডেপুটেশন কর্মীদের

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার হিন্দু সংহতির দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপনের দিন সাংবাদিকদের মারধর করার কারণ দেখিয়ে হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়কে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করে কলকাতার হেয়ার স্ট্রীট থানার পুলিশ। তারপর দুইবার কোর্টে তোলা হলেও শ্রী ঘোষকে নানা অজুহাতে জামিন দেওয়া হয়নি। আর তাই শ্রী ঘোষের মুক্তির দাবিতে রাজ্যব্যাপী জেলাশাসককে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। গত ১৯শে ফেব্রুয়ারী, সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, হাওড়া, উত্তর দিনাজপুর, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়াসহ একাধিক জেলার কর্মীরা ঐসব জেলার জেলাসশককে ডেপুটেশন দেয়। কর্মীরা দলবদ্ধভাবে বেশ কয়েকটি জায়গায় শ্রী ঘোষ মহাশয়ের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ক্যানিঙ-এ কর্মীরা বিক্ষোভ দেখায়। উত্তর দিনাজপুরের জেলাশহর রায়গঞ্জে কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায়। মেদিনীপুর শহরে হিন্দু সংহতির সহ-সম্পাদক শ্রী সৌরভ শাসমল নেতৃত্বে কর্মীরা জেলাশাসকের অফিসের সামনে ধর্ণা দেন। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে ডেপুটেশন হলো প্রথম পর্ব, তপন ঘোষের নিঃশর্ত মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইজরায়েল যাওয়াতে আপত্তি মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির

siddikullaইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ভারতে নরেন্দ্র মোদীর সরকার যে ভাবে আতিথেয়তা দিচ্ছে, তার কড়া বিরোধিতা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাতে ইজরায়েলের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে সে দেশে না যান, সেই দাবিও তুলেছেন তিনি। সিদ্দিকুল্লা গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার বলেন, ‘‘সারা বিশ্বে অশান্তির বার্তা দিচ্ছে ইজরায়েল। রাষ্ট্রপুঞ্জে আমেরিকা ও ইজরায়েল ভোটে পরাস্ত হয়েছে। তাদের রাষ্ট্রপ্রধানকে এ দেশে প্রধানমন্ত্রী যে ভাবে সাদর অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন, তাতে ঠিক বার্তা যাচ্ছে না।’’ ইজরায়েলের একটি সংস্থা মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে মহিলা নেতৃবৃন্দের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তা হিসাবে। কিন্তু মমতার মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্যের বক্তব্য, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্বশীল হলে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবেন না, এটাই আমাদের বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কেও ওখানে অসম্মানিত হতে হয়েছিল।’’

তিন তালাক বিরোধী আইন চান না মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি

নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাকযুদ্ধ অব্যাহত। বিমুদ্রীকরণকে হাতিয়ার করে এতদিন তুলোধনা চলছিল, এবার নতুন সংযোজন তিন তালাক বিল। একই সঙ্গে অসমে বাঙালি নির্যাতন থেকে ব্যাঙ্কিং বিল প্রভৃতি ইস্যুতে বুধবার সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৱুধবার বীরভূমের আহমদপুরে জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিন তালাক বিরোধী বিল প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘সব কিছু নিয়ে রাজনীতি করছে বিজেপি। তিন তালাক বিরোধী বিল রাজনৈতিক কারণে এনেছে কেন্দ্র। এইবিলে আরও বিপদে পড়বেন মহিলারা। মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারে তৃণমূল।’’ গতকাল ৫ই জানুয়ারী, শুক্রবার রাজ্যসভায় তিন তালাক বিলটি উঠলে টিএমসি-এর এম পি ডেরেক ও’ব্রায়েন তুমুল চিৎকার চেঁচামেচি করে বিলটির বিরোধিতা করেন। এমনকি রাজ্যসভা টিভি সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে যে তিনি কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে যে এটি হলো মমতা ব্যানার্জীর মুসলিম তোষণের আর একটি নমুনা মাত্র। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে মুসলিম মহিলাদের সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ নয় মমতা ব্যানার্জির কাছে, মুসলিম ভোটই বড়ো কথা।

বর্তমানে রাজ্যের সব কসাইখানা বন্ধ

ক্ষমতায় এসেই উত্তর প্রদেশের ‘বেআইনি’ কসাইখানা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল যোগী আদিত্যনাথ সরকার৷ পরে গবাদি পশু বিক্রি এবং কাটার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারও৷ কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মানা হবে না ওই সিদ্ধান্ত৷ এ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চললেও বাস্তবতা হচ্ছে, গত আট-ন ’মাস ধরে বন্ধ রন্তানির অনুমোদনপ্রান্ত রাজ্যের একমাত্র কসাইখানাটি৷ কলকাতার ট্যাংরার আধুনিক কসাইখানাটি বন্ধ রয়েছে গত ১ এপ্রিল থেকে৷ পরিবেশ দূষণের কারণে বছর কয়েক আগেই মৌড়িগ্রামে বড় একটি স্লটার হাউস বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ৷ সেই প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটটি থেকেও রন্তানি হত মোষের মাংস৷ এখন ট্যাংরার স্লটার হাউসটি বন্ধ। জানা গিয়েছে, ট্যাংরার ইউনিটটি তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভাবে মোষের প্রসেসড মাংস রন্তানির উদ্দেশ্যেই৷ দিনে সেখানে ছশো মোষ কাটার এবং প্রসেসিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা রয়েছে৷ যুক্ত ছিলেন কয়েকশো মানুষ৷ তা থেকে মাসে সরকারেরও আয় হত ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা৷ কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দপ্তরের আওতাতেই রয়েছে ওই স্লটার হাউস।  স্লটার চালু করতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সরকারের মন্ত্রী রেজ্জাক মোল্লা।