আসামে ৫ বাঙালি হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন হিন্দু সংহতির

আসামের তিনসুকিয়াতে ৫ বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করার প্রতিবাদে গতকাল ২রা নভেম্বর, শুক্রবার হিন্দু সংহতির বরাক শাখা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো। হিন্দু সংহতির কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিলচর শহরে এবং অন্য একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় উধারবন্দ।  দুটি মিছিলে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী হাতে প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। মিছিল থেকে  পরেশ বড়ুয়ার গ্রেপ্তারির দাবিতে শ্লোগান দেয় হিন্দু সংহতি কর্মীরা। দুটি মিছিল শেষেই আলফা জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান পরেশ বড়ুয়ার কুশপুতুল পোড়ায় হিন্দু সংহতির কর্মীরা।

Advertisements

ডি-ভোটারের নোটিস পেয়ে আত্মহত্যা করলেন আসামের ওদালগুড়ির দীপক দেবনাথ।

আসামে  বাঙালি হিন্দুদের আত্মহত্যা চলছেই। কয়েকদিন আগে দরং জেলার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাসের পর এবার আত্মহত্যা করলেন ওদালগুড়ির যুবক দীপক দেবনাথ। তার বাড়ি ঘাগ্রা উলুবাড়ি গ্রামে। স্থানীয় বাজারে তার একটা সাইকেল সারাইয়ের দোকান ছিল। কয়েকমাস আগেই তিনি ডি-ভোটারের নোটিস পান। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সেই থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। যদিও নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার জন্যে তার কাছে কোর্টে মামলা করার সুযোগ খোলা ছিল; কিন্তু সাইকেল সারাইয়ের দোকানের সামান্য উপার্জনে মামলা চালানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সে কথা জানিয়েছিলেনও পরিবারের বাকিদের। তারপরেও গত ২৮শে অক্টোবর, শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই একটি  গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা  করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আশেপাশের এলাকার বাঙালি হিন্দুরা ভিড় করেন। পরে তার মৃতদেহ নিয়ে একটা মিছিল বের করেন স্থানীয়রা এবং মিছিল থেকে এনআরসি রাজ্য কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার অপসারণের দাবি ওঠে।

এনআরসি-তে বিদেশী ঘোষণা, অবসাদে আত্মহত্যা করলেন আসামের দলগাওঁয়ের শিক্ষক নীরোদবরণ দাস

dorongপ্রকৃত ভারতীয় হয়েও নাম নেই নাগরিকপঞ্জীর খসড়া তালিকাতে। আর তার ফলেই দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন আসামের দরং জেলার দলগাওঁয়ের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাস। তার ওপর এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গেলে তাকে জানানো হয় যে তিনি বিদেশী। আর সেই মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করলেন তিনি। গতকাল ২১শে অক্টোবর, রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এনআরসি কতৃপক্ষের ভুলে আর একজন হিন্দু বাঙালিকে মরতে হলো বলে তার পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। তবে  এই ঘটনা আসামের বাঙালি হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরলো বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাঙালি দেশের নাগরিক হওয়া সত্বেও আতঙ্কে রয়েছেন। এই আতঙ্ক মোটেই অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বহু জেলার বিশেষ করে নিম্ন আসামের জেলাগুলির হিন্দু বাঙলিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন নীরোদবরণ দাস। তবে কোনোরকম মামলা ছাড়াই কিভাবে তাকে বিদেশী ঘোষণা করলেন এনআরসি কতৃপক্ষ,তা নিয়ে পরিবারের লোকেরা প্রশ্ন তুলেছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা নিয়ে আসামের হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে কোনো মামলা ছাড়াই বিদেশী ঘোষণা করা হলো নীরোদবরণ দাসকে, তা খতিয়ে দেখতে  দরং জেলার এসপি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হিন্দু নাবালিকাকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো মুসলিম ছাত্র

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলের মধ্যেই এক নাবালিকা ছাত্রীকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র। এই চাঞ্চল্যকর এবং অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে আসামের শিলচরের ঘুঙঘুর থানা এলাকার ললিত জৈন মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র মহম্মদ রবিউল করিম মজুমদার স্কুলে যাওয়া আসার পথে সবসময় উত্যক্ত করতো হিন্দু নাবালিকা রমা দাস (নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৪ বছর) কে। একাধিকবার প্রেম প্রস্তাবও দেয় রবিউল। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে রমা। কিন্তু তার ফলে যে এতবড়ো মূল্য দিতে হবে তা রমা নিজেও কল্পনা করতে পারেনি। গত ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার স্কুলের ল্যাবরেটরিতে ক্লাস চলাকালীন রবিউল  পিছন থেকে রমার হাতে একটি সিরিঞ্জ ফুটিয়ে দেয়।  তারপর মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু বিকেলে রমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়  তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায় যে রমার শরীরে কেমিক্যাল ইনজেকশন করা হয়েছে। এই ঘটনায় দোষী রবিউল মজুমদারের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চেয়ে ঘুঙঘুর থানায় রমার মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। উনি স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু দোষী রবিউলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। পুলিশ জানিয়েছে সে ও তার পরিবার পলাতক। রবিউলের গ্রেপ্তার চেয়ে গত ১১ই জুন, সোমবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘুঙঘুর থানায় ডেপুটেশন দেন।

কাছাড়ের বন্যাদূর্গত হিন্দুদের ত্রাণ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ১৬ই জুন, শনিবার আসামের কাছাড় জেলার রংপুরের বন্যাদুর্গত হিন্দুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতির আসাম শাখার সদস্যরা।উল্লেখ্য  গত কয়েকদিন ধরেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতেই অনেক হিন্দু এলাকা বিশেষ করে রংপুরের শিমুলতলা ও আশেপাশের এলাকাগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যায়। আর সেই সমস্ত মানুষগুলিকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফ থেকে। এই কাজে হিন্দু সংহতির তরুণ কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ট্রেন বিতরণের সময় কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক উপত্যকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয়।

আসামের হাইলাকান্দিতে হিন্দু ছাত্রের খৎনা করলো স্কুলের মুসলিম শিক্ষকরা

khotnaগত ১১ই মে, শনিবার আসামের হাইলাকান্দির এক স্কুলে পাঠরত হিন্দু ছাত্রকে ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী খতনা (লিঙ্গচ্ছেদ) করালো স্কুলেরই মুসলিম শিক্ষক ও ছাত্ররা। এইরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে হাইলাকান্দির ঘাড়মুরা বিদ্যাপীঠে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রের নাম সমু দাস। এই ব্যাপারে হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার মনীশ শর্মা জানিয়েছেন যে শিশুটির বয়স ৬ বছর। তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা বিশেষজ্ঞ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছি। তবে এই ঘটনা অসামজুড়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এইরকম ইসলামিক বর্বরতা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে এর আগে ঘটলেও ভারতে ঘটায় অনেকেই আতংকিত এবং চিন্তিত।

হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতা করছে আসামের মুসলিম সংগঠনগুলি

গুয়াহাটির খানপাড়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজ। ভিতরে চলছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী সংশোধনের কাজ,ঠিক সেই সময় বাইরে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা শ্লোগান দিচ্ছে ঘনঘন। সবার একটি দাবি-”বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব মানছি না। গত ৬ই মে, এইরকম ঘটনার স্বাক্ষী থাকলো গুয়াহাটি। হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখালো সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন, সারা অসম মাদ্রাসা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এবং মুসলিম ছাত্র সংস্থা। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন ‘নাগরিকত্ব আইন সংশোধন মানব না’, ‘হিন্দু বাংলাদেশী হুঁশিয়ার’। একইসঙ্গে বিক্ষোভ দেখায় সারা অসম বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। আর এই বিক্ষোভের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আসামের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এনআরসি -তে নাম তুলতে জাল নথি জমা, বরপেটায় গ্রেপ্তার মুসলিম পরিবারের ৩ সদস্য

জাতীয় নাগরিক পঞ্জিতে (এনআরসি) নাম তোলার জন্যে জাল নথি জমা দিয়ে আসামের বরপেটা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন মুসলিম পরিবারের তিন সদস্য। গত ২৩শে এপ্রিল, সোমবার এই ঘটনা ঘটে। জানা গিয়েছে, গত সোমবার বৰপেটা মাধব চৌধুরী কলেজে বংশলতিকা যাচাইয়ের কাজ চলছিল। সেসময় এই জালিয়াতি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, বরপেটা থানার অন্তর্গত  দেব্রাদি গ্রামের বাসিন্দা জুলমত আলী নামের ব্যক্তি তাঁর প্রথম স্ত্রী আসমাতন নেসার নামে থাকা ভোটার আইডি কার্ড, পানকার্ড ইত্যাদি জালিয়াতি করে দ্বিতীয় স্ত্রী রোমেলা বেগমের নামে ব্যবহার করছিলেন। শুধু তাই নয়, ২০১৫ সালে আসমাতন নেশার নামে পঞ্চায়েত প্রধানের দেওয়া প্রমাণপত্রটিও জুলমত জালিয়াতি করে রোমেলা বেগমের নামে করে নিয়েছিলেন। কিন্তু এইবছর এনআরসিতে দ্বিতীয় স্ত্রী রোমেলা বেগমের নাম তোলার জন্যে এই সমস্ত জাল নথি জমা দিয়েছিলেন। এদিকে, রোমেলা বেগমের বাবা এনআরসি অফিসারদের কাছে দাবি করেন যে তার মেয়ের নাম আসমাতন নেসা। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান পুলিশকে জানান যে ওই প্রমাণপত্রটি জাল। তারপরই গতকাল বরপেটা থানার পুলিশ জুলমত আলী,তার দ্বিতীয় পক্ষকে স্ত্রী রোমেলা বেগম এবং তার পিতা রমজান আলীকে গ্রেপ্তার করে।

আসামের ভরলুমুখে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার সাবির আহমেদ

আসামের  ভরলুমুখে ৪ বছরের শিশু এক মুসলিম যুবকের পাশবিক মানসিকতার শিকার হলো। গত ২৩ই এপ্রিল, সোমবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে অভিযুক্ত সাবির আহমেদকে। ভরলুমুখের এসপি প্রাণজিৎ দুয়রা জানান, মঙ্গলবার সকালে থানায় শান্তিপুরের বাসিন্দারা অভিযোগ দায়ের করে জানান যে  সাবির সকালে ঘরে কেউ না থাকার সুযোগ নিয়ে চার বছরের শিশুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। প্রতিবেশীরা দেখে ফেললে সে শিশুটিকে ফেলে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলে এবং মারধর করে আটকে রাখে। পরে স্থানীয়রাই পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে ভরলুমুখ মহিলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং ধর্ষক সাবিরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। গতকাল ২৪ই এপ্রিল, মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক সাবিরকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশী হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতা করলেন অসমের মন্ত্রী

atul boraবাংলাদেশি হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করলেন অসমে বিজেপি সরকারের শরিক অসম গণ পরিষদ (অগপ) সভাপতি ও অসমের কৃষিমন্ত্রী অতুল বোরা। তাঁর অভিমত, কেন্দ্র বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসা হিন্দুদের এদেশের নাগরিকের স্বীকৃতি দিতে চাইলেও আমরা তা সমর্থন করি না, কেননা তা ১৯৮৫-র ঐতিহাসিক অসম চুক্তি লঙ্ঘন করছে। ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে সব বেআইনি বিদেশি অনুপ্রবেশকারীকে অসম থেকে বের করে দিতে হবে, বলেছেন তিনি। বোরার অভিমত, অসমের সমাজ ধর্মনিরপেক্ষ। আমরা কখনই ধর্মীয় পরিচিতির মাপকাঠিতে অবৈধ বিদেশিদের ভাগাভাগি করতে দেব না। অসমের স্বার্থের ক্ষতি হলে প্রয়োজনে রাজ্যে মন্ত্রিপদ ছাড়তেও আমরা দ্বিধা করব না বলে জানিয়ে দেন তিনি। বলেন, অগপ সবসময়ই রাজ্যবাসীর দাবি, চাহিদার ব্যাপারে সংবেদনশীলতা দেখাবে।বোরা আরও বলেন, অসমে সর্বশেষ আপডেট হওয়া জাতীয় নাগরিক তথ্যপঞ্জিতে যাতে কোনও অবৈধ বিদেশির নাম না অন্তর্ভুক্ত হয়, তা সুনিশ্চিত করবে অগপ।

শিলচরে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ, হিন্দু সংহতির ভুমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ পুলিশকে

গত ২রা এপ্রিল কাছাড় প্রতিবাদী মঞ্চ নামে মুসলিমদের একটি সংগঠন কাছাড় বনধের ডাক দেয়। তার রেশ ধরে শিলচরের কালীবাড়িতে মুসলিমরা হিন্দুদের  লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে। আর তা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের দাঙ্গা হয় কালীবাড়ির চর ও মধুরবন্দ এলাকায়। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। তবে গত ১০ই এপ্রিল শিলচর-এর পুলিশ সুপার একটি সর্বদলীয় সভা ডাকেন। ওই সভাতে কাছাড় জেলার জেলাশাসকও উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত কয়েকজন সেকুলার ও মুসলমান নেতা হিন্দু সংহতির কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন যে ”হিন্দু সংহতি সংগঠনটির ব্যাপারে খোঁজ খবর নেবার জন্যে পুলিশকে আমি নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়াও ওই সংগঠনটি কিভাবে কাজ করে, কিভাবে সদস্য করায় পুরো বিস্তারিত তদন্ত করে দেখবে পুলিশ”। এছাড়াও তিনি সাম্প্রতিক মধুরবন্দ দাঙ্গাতে হিন্দু সংহতির ভূমিকা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, কালীবাড়ির চর ও মধুরবন্দে দাঙ্গা প্রথমে মুসলিমরা শুরু করলেও পরে নিয়ন্ত্রণ আসে হিন্দুদের হাতে। ক্ষুব্ধ হিন্দুরা মধুরবন্দ এলাকার মুসলিমদের অনেকগুলি দোকানপাট ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেই প্রসঙ্গে হিন্দুর অধিকার ও হিন্দুর মাটি বাঁচানোর লড়াইয়ের হিন্দুর একমাত্র ভরসা হিন্দু সংহতি এখন আসামের তথাকথিত সেকুলার এবং জেহাদী মুসলমানদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

মাদ্রাসা নিয়ে হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যে আসামজুড়ে তোলপাড়, স্বাগত জানালো হিন্দু সংহতি

himonto biswasharmaগত ৬ই এপ্রিল আসাম বিধানসভায় মাদ্রাসা প্রাদেশিকীকরণ বিল পাশ হয়। তারপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরোধিতা করলেন সময়ের শিক্ষা মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার কেন মাদ্রাসা চালাতে টাকা দেবে? কারণ তা সংবিধানবিরোধী। তিনি আসামে মাদ্রাসা শিক্ষার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পূর্বের কংগ্রেস সরকারকে দোষ দিয়ে বলেন যে “কংগ্রেসের আমলেই এইসব হয়েছে। কি সৌদি আরবে তো অসমীয়া পোড়ানো হয় না, তাহলে আসামে কেন আরবি পড়ানো হবে ?” আর এই মন্তব্যে তোলপাড় পড়ে  যায় আসামে। বিকেলে সাংবাদিকদেরকে কংগ্রেস নেতা রাকিবুল হোসেন বলেন যে আসামে ইংরেজি পড়ানো হয়, কিন্তু ইংল্যান্ডে তো অসমীয়া পড়ানো হয় না। তার জবাবে পরেরদিন হিমন্ত বিশ্বশর্মা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন যে,”ইংরেজি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা,তাই পড়ানো হয়। কিন্তু আরবি সংবিধান স্বীকৃত ভাষা নয়”। এছাড়া বদরুদ্দীন আজমল হিমন্ত বিশ্বশর্মার এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তবে হিমন্ত বিশ্বশর্মা আসামের শিক্ষামন্ত্রী হবার পর থেকেই মাদ্রাসার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এনেছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো শক্রবারের ছুটির বদলে মাদ্রসায় রবিবার ছুটি চালু করা।

প্রসঙ্গত, ২০১৬-র ডিসেম্বর মাসে আসামে হিন্দু সংহতির কাজ শুরু হয়। ২রা ডিসেম্বর শিলচরে প্রারম্ভিক অনুষ্ঠানে এই একই প্রশ্ন তুলেছিলেন সংহতির প্রতিষ্ঠাতা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। আসাম সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে সংহতি সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য্য বলেন, “এই কাজগুলো করার জন্যই দেশভক্ত ভারতীয়রা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছে। এখন জনসংখ্য়া নিয়ন্ত্রণের জন্য আসাম সরকার তথা কেন্দ্র সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।”

শিলচরের কালীবাড়ি এলাকায় হিন্দুদের ওপর জেহাদী আক্রমণ, শক্ত প্রতিরোধ হিন্দুদের

গত ২রা এপ্রিল আসামের মুসলিমদের একটি সংগঠন কাছাড় বনধ-এর ডাক দেয়। কিন্তু স্থানীয় হিন্দু জনগণের বাধায় সেই বনধ সফল হয়নি। তারপর থেকে শিলচর কালীবাড়ি এলাকায় একটু উত্তেজনা ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। উস্কানি আসছিলো মুসলিমদের তরফ থেকেই। অভিযোগ, শিলচরের কালীবাড়ি এলাকায় পাশের মধুরবন্দ এলাকা, যা কিনা মুসলিম অধ্যুষিত সেখান থেকে পাথর ছোঁড়া হতো। এতে স্থানীয় হিন্দুরা অনেকেই প্রতিবাদ জানান। কিন্তু গত ৮এ এপ্রিল,  শনিবার রাত্রি প্রায় ১০টা নাগাদ মধুরবন্দ এবং তার পাশের চামড়াগুদাম এলাকা থেকে কয়েকশো মুসলমান লাঠি, দা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে হিন্দুদের ওপর। এমনকি হিন্দুদের লক্ষ্য করে প্রচুর পাথর ছোঁড়া হয়। এই আক্রমণে অনেক হিন্দুর মাথা ফাটে। অনেকে দা-এর আঘাতে জখম হয়। কিন্তু প্রথমের দিকে হিন্দুরা পিছু হঠলেও পরে হিন্দুরা প্রতিরোধ করে। হিন্দুরা একজোট হয়ে মুসলিমদের মারধর করতে থাকে। হিন্দুদের মারে মুসলিমরা তাদের এলাকায় দৌড়ে পালিয়ে যায়। তখন হিন্দুরা মুসলিমদের তাড়া করে মধুরবন্দ এলাকায় গিয়ে ব্যাপক মারধর করে। পাশাপাশি অনেকগুলি মুসলিম বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় হিন্দু জনতা। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে চলে আসে। বর্তমানে উত্তেজনা থাকায় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ কালীবাড়ি থেকে ২জন হিন্দু এবং রাঙ্গিরখাঁড়ি থেকে ২ জন হিন্দুকে গ্রেপ্তার করেছে।

শিলচরের রাঙ্গিরখাঁড়িতে নাবালিকা কিশোরীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার সাহাবউদ্দিন শেখ

প্রতিবেশী ১৩ বছরের  হিন্দু কিশোরীকে স্কুল ছুটির পর বাড়ি পৌঁছে দেবে আশ্বাস দিয়ে নিজের অটোতে চাপিয়ে  গিয়ে সোনাবাড়িঘাট বাইপাসে এনে ধর্ষণ করল ধলাই – এর সুখতলার বাসিন্দা সাহাবউদ্দিন শেখ(২৬) । ঘটনাটি গত ৮ই এপ্রিল শনিবার দুপুরে আসামের শিলচর সংলগ্ন সোনাবাড়িঘাটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুল ছুটির পর ওই কিশোরীকে অটোতে তুলে নিয়ে গিয়ে মেয়েটিকে বাড়ি না পৌঁছে দিয়ে সোনাবাড়িঘাট বাইপাস সংলগ্ন সৈদপুর এলাকায় এসে নির্জন জায়গায় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। কিন্তু মেয়েটির চিৎকারে কিছুক্ষন পর ওখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে হয়ে যায়। তারাই সাহাবউদ্দিন শেখকে ব্যাপক মারধর করেন এবং তাকে রাঙ্গিরখাঁড়ি পুলিশফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেয়। বর্তমানে ধর্ষক সাহাব উদ্দিন জেলে রয়েছে।

অপহৃতা হিন্দু নাবালিকাকে উদ্ধার করলো সোনাই থানার পুলিশ

কাছাড় আপডেট :-আসামের কাছাড়  জেলার সোনাই থানা এলাকা থেকে গত ২৭ শে মার্চ সোনালী শুক্লবৈদ্য (নাম পরিবর্তিত) নামে এক হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ছাপির আহমেদ মজুমদার।ওই নাবালিকা যখন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলো তখন এই ঘটনা ঘটে। হিন্দু সংহতি সেই খবর প্রকাশ করেছিল।  আর সেই নাবালিকাকে গত ২৯শে মার্চ গভীর রাত্রে আসামের ডিমাপুর থেকে উদ্ধার করে আনলো সোনাই  থানার পুলিস। যদিও পুলিস অপহরণকারী ছাপির আহমেদকে ধরতে পারেনি।  ওই নাবালিকাকে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন সোনাই থানার ওসি আপনচন্দ্র পাল। ঐদিন নাবালিকাকে কোর্টে তোলা হয় এবং বর্তমানে সে তার বাবা-মায়ের  ফিরে গিয়েছে।