হিন্দু সংহতির সহায়তায় আসামে বিদেশী ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু জামিন পেলো গুয়াহাটি হাইকোর্টে

আসামের কাছাড় জেলার ২ বাঙালি হিন্দু শ্রী সঞ্জীব দে এবং শ্রীমতি মায়ারানি দাসকে এই বছরেই বিদেশী ঘোষণা করেছিল আসামের বিদেশী ট্রাইবুনাল। বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে ওই ২জনের পরিবারের আর্থিক সামর্থ ছিল না আইনি লড়াই চালানোর। তাছাড়া বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার হয়ে  ডিটেনশন ক্যাম্প-এ যেতে হতো এবং যতদিন না তারা নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমান করতে পারছেন, ততদিন তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হতো। এমতবস্থায় তারা হিন্দু সংহতির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে গত ৪ঠা হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল।  সে খবরও প্রকাশ করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে গতকাল ১২ই এপ্রিল, শুক্রবার গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। জামিন পাওয়ায় স্বভাবতই ওই হিন্দুর পরিবারের সদস্যরা খুশি এবং তারা হিন্দু সংহতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। তবে, হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন যে, জামিন পেয়ে গেলেও আইনি লড়াই শেষ নয়। এরপরেও নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার দীর্ঘ লড়াই চলবে। এই লড়াইতে হিন্দু সংহতি এদের পাশে থাকবে।

Advertisements

আসামে বিদেশি ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু; পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলার উধারবন্দ থানার অন্তর্গত দুর্গানগর উজানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দে। কয়েক পুরুষ ধরে তাঁর পরিবারের বসবাস ওই এলাকায়। কিন্তু গত ২৫শে ফেব্রূয়ারি, ২০১৯  তারিখে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল(চতুর্থ) । এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে নিজেকে ভারতের নাগরিক প্রমান করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল না তাঁর। উপায়ন্তর না দেখে সঞ্জীব হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত-এর সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতার আবেদন জানান।
 একই জেলার কচুরদম থানার অন্তর্গত  গনিরগ্রাম সোনাই এলাকার বাসিন্দা মায়ারানী দাস । তাঁর পরিবারও কয়েকপুরুষ ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাসে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল( ষষ্ঠ)। কিন্তু নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের। তাঁর পরিবার হিন্দু সংহতির কাছে আওহযোগিতার আবেদন জানান ।
গত ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এই দুজনকে ন্যায় দেওয়ার লক্ষ্যে গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলো হিন্দু সংহতি ।এ প্রসঙ্গে শ্রী সম্রাট দত্ত বলেন, “যতদিন না এরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন, ততদিন হিন্দু সংহতি এদের আইনি লড়াইয়ে সহযোগী থাকবে”।

স্বামী মুসলিম, জানতে পেরে আত্মহত্যা করলেন আসামের হিন্দু তরুণী

লাভ জিহাদের শিকার হওয়া আসামের তেজপুরের এক হিন্দু তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো। গত ১৫ই মার্চ, আসামের তেজপুরের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা হিন্দু তরুণী পূজা মন্ডল আত্মহত্যা করে। পরে পুলিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পাশাপাশি একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিস। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে পূজা মন্ডল তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে রাজ বরাকে বিয়ে করে। তারপর তারা আমবাগান এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। কিন্তু কয়েকদিন আগেই পূজা তাঁর স্বামীর পরিচয় জানতে পারে। সে জানতে পারে যে তাঁর স্বামী রাজ বরার  আসল নাম রেইজুল আহমেদ এবং সে মুসলিম । এটা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পূজা। তারপর অপমানে আত্মহত্যা করে পূজা, এমনটাই সন্দেহ করছে পুলিস। তারপরেই রেইজুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। রেইজুলের দুটি ফোন নম্বরও দিয়েছে পূজা। কিন্তু রেইজুল দু’বার ফোন ধরলেও,বর্তমানে তাঁর ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটাই জানিয়েছে পুলিস। এমতবস্থায় পুলিস পূজার মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পূজার পরিবারের কারওর খোঁজ পায়নি পুলিস। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া সত্বেও পূজার পরিবারের কেউ তাঁর মৃতদেহ এখনো  আসেনি।তাই পূজার মৃতদেহ এখনও হাসপাতালের মর্গেই পড়ে আছে।  তবে পুলিস রেইজুলকে গ্রেপ্তার করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

আসামে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে প্রচার হিন্দু সংহতির

লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু মেয়ের গৃহ ত্যাগ এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু এই লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সংহতি তার প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে লড়াই করছে। সেই ধারা বজায় রেখে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে মানুষের সচেতনতা গড়ে তুলতে বাড়ি-বাড়ি অভিযান চালানো হলো আসামে।  হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের যুবক কর্মীরা লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় প্রচার চালাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাছাড় জেলার  শিলচর শহর, মালুগ্রাম প্রভৃতি এলাকার হিন্দু বাড়িতে গিয়ে হ্যান্ডবিল দেওয়াসহ প্রচার চালাচ্ছেন।  এই পর্যন্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা ২০০টি পরিবারে প্রচার চালিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বরাক ভ্যালির হিন্দু সংহতি প্রধান সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন, ”আমরা ১০০০ টি পরিবারে প্রচার চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। তাই আগামী দিনগুলিতে হিন্দু সংহতির এই প্রচার অভিযান চলবে”।

ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াং হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলায় হিন্দু রিয়াং উপজাতির বসবাস কয়েকশ বছর ধরে। সেখানেই বসবাস করে মার উপজাতিরা।কিন্তু খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে এই মার(Hmar) উপজাতির বিশাল সংখক মানুষ খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। তারপরেই বিভিন্ন ভাবে রিয়াং উপজাতির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে।কিন্তু এতকিছুর পরেও রিয়াং হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হয়নি। আর তার ফলেই তাদের ওপর নেমে এলো খ্রিস্টানদের আক্রমণ। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি একদল মার(Hmar) উপজাতির খ্রিস্টান যুবক রিয়াংদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে আতঙ্কিত রিয়াং হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাঁরা জিরিঘাটে পালিয়ে আসে। ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের  সম্রাট দত্তের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াংদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর হিন্দু সংহতির উদ্যোগে তাদেরকে জিরিঘাট ইউনাইটেড ক্লাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।বর্তমানে তাঁরা ওই স্থানে রয়েছেন।

হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে রিয়াং হিন্দুদের পুনর্বাসন-এর দাবি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত মার(Hmar) খ্রিস্টান যুবকদের গ্রেপ্তার করারও দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসন যদি হিন্দু সংহতির দাবি না মেনে নেয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে হিন্দু সংহতি, এমনটাই জানিয়েছেন বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত

করিমগঞ্জের দোহালিয়ার সর্বহারা হিন্দু পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

Dohaliyaগত ১০ই ফেব্রূয়ারি রাতে আসামের করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত দোহালিয়ায় ২টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১ টি হিন্দুর বাড়ির সর্বস্ব এবং এর একটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়। এমনকি বাড়ির পাশে থাকা একটি টিনের তৈরি মন্দির পুড়ে ছাই হয়ে যায়।সেই দিন থেকে ওই দুটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছিল। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এই রকম পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিট। গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সেই পরিবারের হাতে ১০ টিন তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা ফেব্রূয়ারি তারিখে। সেইদিন দুপুরে করিমগঞ্জ জেলার পাঠারকান্দি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের আরবি শিক্ষক মাওলানা মেহবুব হাসান স্কুলের ভিতরেই দুই হিন্দু ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এই মেহবুবপ্রতিবাদে পাথারকান্দি ও নিলামবাজারে পথ অবরোধ করে হিন্দুরা। এমনকি ওই আরবি শিক্ষককে স্কুলের বাইরে বেধড়ক মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।পরে ওই শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এর প্রতিবাদে মাদ্রসা ছাত্রদের সংগঠন আমসা পথ অবরোধ করে। আর এই কারণেই দোহালিয়ায়  হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানো হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোহালিয়াকে কেন বেছে নেওয়া হলো?কারণ দোহালিয়া পাহাড়ের কোলে একটি প্রত্যন্ত গ্রাম এবং যে গ্রামে হিন্দু সংখ্যালঘু-মাত্র ৩০০ হিন্দুর বাস। গ্রামটির দুরত্ব আসিমগঞ্জ বাজার থেকে ১ কিমি।তাই ওই অল্পসংখ্যক হিন্দু টার্গেটে পরিণত হলো ।আরো বড় ক্ষতি হতে পারতো, কিন্তু হিন্দুরা সজাগ থাকায় মুসলিম  দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আর সেই হামলায় সর্বস্ব হারানো পরিবারদুটির পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির কর্মী অমিত রায় এবং শুভম দাস আসিমগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১ কিমি পথ টিন মাথায় নিয়ে, পায়ে হেঁটে  গিয়ে পরিবারগুলোর হাতে সাহায্য পৌঁছে দেন।ভবিষ্যতেও ওই পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

বাঙালি হিন্দু অসমীয়া হিন্দুর আত্মীয়, বললেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

himanta biswasharma

বাঙালি হিন্দু অসমীয়া হিন্দুর আত্মীয়, এমনটাই জানালেন আসামের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেইসঙ্গে তিনি এও মনে করিয়ে দেন যে বাঙালি হিন্দু আসামে না থাকলে অসমীয়া হিন্দুরাই সমস্যায় পড়বে, তাই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে হিন্দুর অধিকার বজায় রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। গুয়াহাটি তে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আমরা অসমকে কিছুতেই দ্বিতীয় কাশ্মীর হতে দিতে পারি না। সেটা যাতে না হয়, তার জন্য অসম চুক্তির ৬নং ধারা সহ এই বিলের প্রয়োগ প্রয়োজন। তার দাবি বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের জন্য অসমে হিন্দুদের জনসংখ্যা ১০% কমে গেছে। যা ১৯৭১ এহিন্দু সংখ্যা ছিল ৭১ শতাংশ। সেখানে ২০১১ তে তা কমেছে ৬১%। এরপর যদি বাংলাদেশ থেকে আসা ৮ লক্ষ হিন্দুকে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে হিন্দু জনসংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫২% তে। আর তখনই বদরুদ্দিন আজমল অথবা সিরাজ উদ্দিন আজমল হবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী,বলে কটাক্ষ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এক হাত নিয়ে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই বিলের বিরোধিতা করার প্রচার চালাচ্ছে সংখ্যালঘুদের সংগঠন। যারা নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করছেন তারা এই রাজ্যের অর্থনৈতিক উদ্বাস্তু।

কাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে আর কাকে দেওয়া হবে না, সেটা বলার অধিকার এদেরকে দিয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন তিনি। লোকসভা ভোটকে তিনি তৃতীয় পানিপথের যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং বলেছেন যাদের জন্য জম্মু-কাশ্মীরে রক্ত ঝরেছে তারা কিনা ধর্মনিরপেক্ষতার পাঠ পড়াচ্ছে। তিনি জনসভায় উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ” একবার আপনারা ধুবড়ী, পশ্চিম গোয়ালপাড়া, মানকাচরে ঘুরে আসুন। দেখবেন সেখানে হিন্দুদের কোনো অস্তিত্ব নেই। কালীপূজায় যদি প্রদীপ জ্বলে, সেটাই যথেষ্ট”। যেসব অসমীয়া হিন্দুরা বাঙালি নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা করছেন তাদের বলেন, ” নিজের আত্মীয় বাঙালি হিন্দুর সঙ্গে ঝগড়া করার আগে নগাঁও, ধুবড়ী ঘুরে আসুন। অসমীয়া হিন্দুদের শত্রু বাঙালি হিন্দু নয়, বাঙালি মুসলমান। আসামের হিন্দুদের স্বার্থে আমৃত্যু সংগ্রাম করবেন কথা বলেন তিনি।

ভারত একটি হিন্দু রাষ্ট্র, মন্তব্য হিমন্ত বিশ্বশর্মার

himanta biswasharmaভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নয়, বরং এটি একটি হিন্দু রাষ্ট্র, যা বিগত ৫০০০ বছর ধরে থেকে এসেছে- এমনই মন্তব্য করলেন আসামের মন্ত্রী শ্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। গতকাল ২২শে জানুয়ারী, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এমনই মন্তব্য করেন। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, সংবিধান তো ধর্মনিরপেক্ষ, সেখানে কি করে হিন্দুত্বের কথা বলতে পারেন আপনি। প্রশ্নের উত্তরে হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন যে ধর্মনিরপেক্ষতা একটা শব্দ মাত্র। ভারতবর্ষ বিগত ৫০০০ বছর ধরে একটি হিন্দুরাষ্ট্র , যেখানে সনাতন, বৈদিক ধর্মের ঐতিহ্য বিরাজ করছে। শুধু মাত্র ধর্মনিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে সেই ঐতিহ্যকে অবহেলা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে তার এই মন্তব্য ঘিরে আসামের সেক্যুলার মিডিয়া তাঁর বিরুদ্ধে নেমে পড়েছে। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সংবিধান অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন। তা সত্বেও তিনি তাঁর মন্তব্যে অনড় রয়েছেন।

আসামে ৫ বাঙালি হিন্দু হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন হিন্দু সংহতির

আসামের তিনসুকিয়াতে ৫ বাঙালিকে গুলি করে হত্যা করার প্রতিবাদে গতকাল ২রা নভেম্বর, শুক্রবার হিন্দু সংহতির বরাক শাখা উপত্যকার বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করলো। হিন্দু সংহতির কর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিলচর শহরে এবং অন্য একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয় উধারবন্দ।  দুটি মিছিলে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী হাতে প্লাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। মিছিল থেকে  পরেশ বড়ুয়ার গ্রেপ্তারির দাবিতে শ্লোগান দেয় হিন্দু সংহতি কর্মীরা। দুটি মিছিল শেষেই আলফা জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রধান পরেশ বড়ুয়ার কুশপুতুল পোড়ায় হিন্দু সংহতির কর্মীরা।

ডি-ভোটারের নোটিস পেয়ে আত্মহত্যা করলেন আসামের ওদালগুড়ির দীপক দেবনাথ।

আসামে  বাঙালি হিন্দুদের আত্মহত্যা চলছেই। কয়েকদিন আগে দরং জেলার অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাসের পর এবার আত্মহত্যা করলেন ওদালগুড়ির যুবক দীপক দেবনাথ। তার বাড়ি ঘাগ্রা উলুবাড়ি গ্রামে। স্থানীয় বাজারে তার একটা সাইকেল সারাইয়ের দোকান ছিল। কয়েকমাস আগেই তিনি ডি-ভোটারের নোটিস পান। পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন, সেই থেকেই তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। যদিও নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার জন্যে তার কাছে কোর্টে মামলা করার সুযোগ খোলা ছিল; কিন্তু সাইকেল সারাইয়ের দোকানের সামান্য উপার্জনে মামলা চালানো তার পক্ষে অসম্ভব ছিল। সে কথা জানিয়েছিলেনও পরিবারের বাকিদের। তারপরেও গত ২৮শে অক্টোবর, শনিবার রাতে বাড়ির কাছেই একটি  গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা  করেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আশেপাশের এলাকার বাঙালি হিন্দুরা ভিড় করেন। পরে তার মৃতদেহ নিয়ে একটা মিছিল বের করেন স্থানীয়রা এবং মিছিল থেকে এনআরসি রাজ্য কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলার অপসারণের দাবি ওঠে।

এনআরসি-তে বিদেশী ঘোষণা, অবসাদে আত্মহত্যা করলেন আসামের দলগাওঁয়ের শিক্ষক নীরোদবরণ দাস

dorongপ্রকৃত ভারতীয় হয়েও নাম নেই নাগরিকপঞ্জীর খসড়া তালিকাতে। আর তার ফলেই দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন আসামের দরং জেলার দলগাওঁয়ের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নীরোদবরণ দাস। তার ওপর এনআরসি সেবাকেন্দ্রে গেলে তাকে জানানো হয় যে তিনি বিদেশী। আর সেই মানসিক অবসাদ থেকেই আত্মহত্যা করলেন তিনি। গতকাল ২১শে অক্টোবর, রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করেন ওই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। এনআরসি কতৃপক্ষের ভুলে আর একজন হিন্দু বাঙালিকে মরতে হলো বলে তার পরিবারের লোকেরা জানিয়েছেন। তবে  এই ঘটনা আসামের বাঙালি হিন্দুদের বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলে ধরলো বলে মনে করছেন অনেকেই। কারণ সম্পূর্ণ খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাঙালি দেশের নাগরিক হওয়া সত্বেও আতঙ্কে রয়েছেন। এই আতঙ্ক মোটেই অমূলক নয়। নাগরিকপঞ্জির খসড়া প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বহু জেলার বিশেষ করে নিম্ন আসামের জেলাগুলির হিন্দু বাঙলিরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলেন নীরোদবরণ দাস। তবে কোনোরকম মামলা ছাড়াই কিভাবে তাকে বিদেশী ঘোষণা করলেন এনআরসি কতৃপক্ষ,তা নিয়ে পরিবারের লোকেরা প্রশ্ন তুলেছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা নিয়ে আসামের হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কিভাবে কোনো মামলা ছাড়াই বিদেশী ঘোষণা করা হলো নীরোদবরণ দাসকে, তা খতিয়ে দেখতে  দরং জেলার এসপি তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় হিন্দু নাবালিকাকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো মুসলিম ছাত্র

প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় স্কুলের মধ্যেই এক নাবালিকা ছাত্রীকে কেমিক্যাল ইনজেকশন দিলো স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র। এই চাঞ্চল্যকর এবং অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে আসামের শিলচরের ঘুঙঘুর থানা এলাকার ললিত জৈন মেমোরিয়াল হাই স্কুলে। স্কুলেরই মুসলিম ছাত্র মহম্মদ রবিউল করিম মজুমদার স্কুলে যাওয়া আসার পথে সবসময় উত্যক্ত করতো হিন্দু নাবালিকা রমা দাস (নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৪ বছর) কে। একাধিকবার প্রেম প্রস্তাবও দেয় রবিউল। কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করে রমা। কিন্তু তার ফলে যে এতবড়ো মূল্য দিতে হবে তা রমা নিজেও কল্পনা করতে পারেনি। গত ৭ই জুন, বৃহস্পতিবার স্কুলের ল্যাবরেটরিতে ক্লাস চলাকালীন রবিউল  পিছন থেকে রমার হাতে একটি সিরিঞ্জ ফুটিয়ে দেয়।  তারপর মেয়েটি বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু বিকেলে রমা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায়  তাকে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডাক্তাররা পরীক্ষা করে জানায় যে রমার শরীরে কেমিক্যাল ইনজেকশন করা হয়েছে। এই ঘটনায় দোষী রবিউল মজুমদারের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চেয়ে ঘুঙঘুর থানায় রমার মা অভিযোগ দায়ের করেছেন। উনি স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছেন। কিন্তু দোষী রবিউলকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। পুলিশ জানিয়েছে সে ও তার পরিবার পলাতক। রবিউলের গ্রেপ্তার চেয়ে গত ১১ই জুন, সোমবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা ঘুঙঘুর থানায় ডেপুটেশন দেন।

কাছাড়ের বন্যাদূর্গত হিন্দুদের ত্রাণ বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ১৬ই জুন, শনিবার আসামের কাছাড় জেলার রংপুরের বন্যাদুর্গত হিন্দুদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলো হিন্দু সংহতির আসাম শাখার সদস্যরা।উল্লেখ্য  গত কয়েকদিন ধরেই কাছাড় জেলার বিভিন্ন অংশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। তাতেই অনেক হিন্দু এলাকা বিশেষ করে রংপুরের শিমুলতলা ও আশেপাশের এলাকাগুলি জলে প্লাবিত হয়ে যায়। আর সেই সমস্ত মানুষগুলিকে খিচুড়ি বিতরণ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফ থেকে। এই কাজে হিন্দু সংহতির তরুণ কর্মীরা উৎসাহের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই ট্রেন বিতরণের সময় কর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বরাক উপত্যকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি শ্রী পান্তু চন্দ মহাশয়।

আসামের হাইলাকান্দিতে হিন্দু ছাত্রের খৎনা করলো স্কুলের মুসলিম শিক্ষকরা

khotnaগত ১১ই মে, শনিবার আসামের হাইলাকান্দির এক স্কুলে পাঠরত হিন্দু ছাত্রকে ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী খতনা (লিঙ্গচ্ছেদ) করালো স্কুলেরই মুসলিম শিক্ষক ও ছাত্ররা। এইরকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে হাইলাকান্দির ঘাড়মুরা বিদ্যাপীঠে। জানা গিয়েছে, ওই ছাত্রের নাম সমু দাস। এই ব্যাপারে হাইলাকান্দির পুলিশ সুপার মনীশ শর্মা জানিয়েছেন যে শিশুটির বয়স ৬ বছর। তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। আমরা বিশেষজ্ঞ দিয়ে ঘটনার তদন্ত করছি। তবে এই ঘটনা অসামজুড়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এইরকম ইসলামিক বর্বরতা পাকিস্তান বা বাংলাদেশে এর আগে ঘটলেও ভারতে ঘটায় অনেকেই আতংকিত এবং চিন্তিত।

হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতা করছে আসামের মুসলিম সংগঠনগুলি

গুয়াহাটির খানপাড়ার অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ স্টাফ কলেজ। ভিতরে চলছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জী সংশোধনের কাজ,ঠিক সেই সময় বাইরে তুমুল বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভকারীরা শ্লোগান দিচ্ছে ঘনঘন। সবার একটি দাবি-”বাংলাদেশী হিন্দুদের নাগরিকত্ব মানছি না। গত ৬ই মে, এইরকম ঘটনার স্বাক্ষী থাকলো গুয়াহাটি। হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব দেবার বিরোধিতায় বিক্ষোভ দেখালো সংখ্যালঘু ছাত্র সংগঠন, সারা অসম মাদ্রাসা স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন এবং মুসলিম ছাত্র সংস্থা। তারা হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন ‘নাগরিকত্ব আইন সংশোধন মানব না’, ‘হিন্দু বাংলাদেশী হুঁশিয়ার’। একইসঙ্গে বিক্ষোভ দেখায় সারা অসম বামপন্থী ছাত্র সংগঠন, কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতি। আর এই বিক্ষোভের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই আসামের বাঙালি হিন্দুদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।