হেনস্তার শিকার হওয়া আসামের বাঙালি হিন্দুদের পাশে হিন্দু সংহতি

Asamনাগরিকত্ব ইস্যুতে বাঙালি হিন্দুদেরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো, তাদের হেনস্তার প্রতিবাদে আসামের বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকায় লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে হিন্দু সংহতির আসাম শাখা। একের পর এক প্রতিবাদ মিছিল, বিক্ষোভ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। এর আগে বিদেশি ঘোষিত কয়েকজন বাঙালি হিন্দুর হয়ে মামলা লড়ছে হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন আগামী দিনেও চলবে।

ছবি- দৈনিক যুগশঙ্খ, আসাম (১৩/০৬/১৯)

হিন্দু যুবককে মারধর, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না করায় থানা ঘেরাওয়ের পর উধারবন্দে ভিআইপি সড়ক অবরোধ হিন্দু সংহতির

আসামের উধারবন্দের দয়াপুরে এক হিন্দু যুবককে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত মুসলিম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে পুলিস কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় দু ঘন্টা ভিআইপি সড়ক অবরোধ করলো হিন্দু সংহতি। গতকাল ২৬শে মে, রবিবার বেলা বারোটায় কালীবাড়ি রোডের হিন্দু সংহতি কার্যালয় থেকে প্রায় শতাধিক হিন্দু সংহতির যুবক কর্মী মিছিল করে গিয়ে উধারবন্দ থানা ঘেরাও করে। থানায় ওসি অমিত সূত্রধর দোষীদের গ্রেপ্তার করার বিষয়ে কোনোরকম আশ্বাস দিতে ব্যর্থ হন। তখন ক্ষিপ্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা শহরের ব্যস্ততম রাস্তা ভিআইপি রোড অবরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন। অল্প সময় পরে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। তবুও হিন্দু সংহতির কর্মীরা অবরোধ চালিয়ে যেতে থাকেন। অবরোধে প্রচুর বাস,গাড়িসহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। তখন প্রশাসনের টনক নড়ে। ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পরিষদ সদস্য প্রবল চন্দ এবং উধারবন্দের সার্কেল অফিসার কুলদীপ হাজারিকা। তিনি এসে আন্দোলনরত হিন্দু সংহতির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। হিন্দু সংহতির তরফে বলা হয় যে, আগামী ২৮শে মে-এর মধ্যে অভিযুক্ত মুসলিম দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করতে হবে হবে। তা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে হিন্দু সংহতি, সে কথা জানানো হয় পুলিসকর্তাকে। সেই মতো সার্কেল অফিসার দাবি মেনে নেন এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পানগ্রাম দ্বিতীয় খন্ডের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন দাসের ছেলে শুভমের ওপর  গত ১০ই মে সন্ধ্যা ৭টায় দয়াপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পের সামনে কাবুল লস্কর, কাদির লস্কর, সাঈদ লস্কর, সিজু লস্করসহ আরও বেশ কয়েকজন মুসলিম দুষ্কৃতী রড, দা দিয়ে আক্রমণ করে। তাঁর কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা।  সেই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিস। তাই হিন্দু যুবক শুভমকে সুবিচার পাইয়ে দেবার লক্ষ্যেই হিন্দু সংহতির এই আন্দোলন।

ডিটেনশন ক্যাম্পে মৃত্যু বাঙালি হিন্দুর; ‘বাংলাদেশে দেহ পাঠাও’, বললো পরিবার

আসামের  তেজপুরের বাসিন্দা বাসুদেব বিশ্বাস। তাঁর পরিচয় সে একজন বাঙালি হিন্দু। ৫৮ বছর বয়সী বাসুদেব বিশ্বাসের পরিবারের সকলে ভারতীয় হলেও, সরকারের চোখে তিনি ছিলেন বাংলাদেশী। তাই তাকে গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়। গত ১২ই মে, শনিবার সেই ডিটেনশন ক্যাম্পেই মৃত্যু হয় বাসুদেব বিশ্বাসের। কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিতে অস্বীকার করলো পরিবার। কিন্তু কারণ কি? পরিবারের বক্তব্য, আসলে ভারতীয় হলেও তাকে বাংলাদেশী চিহ্নিত করেই ছেড়েছে প্রশাসন। তাকে জীবিত অবস্থায় যখন ফেরানো গেল না, তখন তাঁর মৃতদেহ নিয়ে কি হবে? পরিবারের আরও দাবি, ডিটেনশন ক্যাম্পে অবহেলা  ও অত্যাচারেই বাসুদেববাবুর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু সরকারের তরফে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদরোগ বলা হচ্ছে। বাসুদেববাবুর পুত্ররা দেহ নিতে অস্বীকার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, বাবা যেহেতু বাংলাদেশী ছিল, তাই তাঁর মৃতদেহ বাংলাদেশে পাঠাক সরকার। আর এসবের ফাঁপরে পড়ে হতভাগ্য বাঙালি হিন্দু বাসুদেব বিশ্বাসের মৃতদেহ মর্গেই পড়ে আছে।

রাস্তা আটকে নামাজ পড়ার প্রতিবাদ করায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ, উত্তপ্ত আসামের হাইলাকান্দি; কারফিউ জারি

আসামের হাইলাকান্দি শহরের কেন্দ্রস্থলে রাস্তা আটকে নামাজ পড়াকে কেন্দ্র করে নির্বিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ করলো মুসলিমরা। গতকাল ১০ই মে, শুক্রবার  দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সামাল দিতে বিশাল পুলিসবাহিনী ও RAF মোতায়েন করতে হয়। জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই হাইলাকান্দির মুসলমানরা ফেসবুকে শহরের সম্পূর্ণ হিন্দু এলাকা মারোয়াড়ি পট্টিতে রাস্তা আটকে জুম্মার নামাজ পড়ার জন্য মুসলমানদেরকে আহ্বান জানিয়ে প্রচার চালাচ্ছিলো। সেই মতো আজ দুপুরে রাস্তা আটকে নামাজ পড়তে শুরু করে মুসলমানরা। হিন্দু পথচারী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিবাদ করলে মুসলমানরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একের পর এক হিন্দুদের দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। কিছু হিন্দু প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, উন্মত্ত মুসলিম জনতার সামনে দাঁড়াতে পারেনি তারা। একাধিক গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় মুসলিম জনতা। খবর পেয়ে পুলিসবাহিনী এলেও মুসলিম যুবকরা পুলিসকে লক্ষ্য করে কাশ্মীরি স্টাইলে ইট-পাথর ছুড়তে থাকে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে RAF ডাকতে হয়। তারপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ভারতীয় সেনার গুলিতে পাকিস্তানের নাগরিকের মৃত্যু, ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানালো পাকিস্তান

একটা সময় ছিল যখন সীমান্তে পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে ভারতের দিকে গোলাগুলি বর্ষণ করতো। তখন ভারত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠাতো, প্রতিবাদ জানাতো । কিন্তু কাজের কিছুই হতো না। সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিকে বিশেষ পাত্তাই দিতো না পাকিস্তান। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। ফলে এখন উল্টোটা হচ্ছে। এবার নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভাঙার অভিযোগে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার গৌরব আলুওয়ালিয়া তলব করে প্রতিবাদ জানাল পাকিস্তান সরকার। বুধবার পাক বিদেশ দপ্তর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘গত ২ মে এবং ৫ মে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে তিন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন। আমরা ভারতীয় কূটনীতিককে জানিয়েছি, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের এই ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে বিপজ্জনক। এর ফলে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা বাড়বে।’ পাক বিদেশ দপ্তরের তরফে এদিন একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২ মে রাখচিকরি সেক্টরে ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে ১৫ বছরের তাহির হাফিজের মৃত্যু হয়। তার ৯ বছরের বোন তাহিরা গুরুতর জখম হয়। এর পরে ৫ মে ১২ বছরের মহম্মদ জাহিদ এবং নাসরিন নামে এক স্থানীয় মহিলা ভারতীয় বাহিনীর গোলায় নিহত হন। জখম হন সনিয়া বিবি নামে এক গ্রামবাসী।

হরিয়ানায় ধর্ষণের চেষ্টা করায় মুসলিম যুবকের পুরুষাঙ্গ কাটলেন হিন্দু তরুণী

হিন্দু তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল মুসলিম যুবক। রুখে দাঁড়ালো হিন্দু তরুণীটি। আর তাতে মুসলিম যুবকের পুরুষাঙ্গ কাটা গেল। গুরুতর আহত অবস্থায় যুবকটি এখন হাসপাতালে ভর্তি। গত ২৭শে এপ্রিল ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ইঞ্চলী এলাকায়। জানা গিয়েছে, বাড়িতে শৌচাগার না থাকায় বছর সতেরোর মেয়েটি সকালে প্রাতঃক্রিয়া সারতে গিয়েছিল বাড়ির পাশের জঙ্গলে। সেইসময় গ্রামের মুসলিম যুবক #রইস ছুরি নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। মেয়েটি রুখে দাঁড়ায় এবং ঐ ছুরি দিয়েই ছেলেটির পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়ে নিজেকে বাঁচায়। পরে ছেলেটির চিৎকারে গ্রামের বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তার অবস্থা এখন গুরুতর।এদিকে মেয়েটির পরিবারের তরফে থানায় ওই মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে এই ঘটনায় ইঞ্চলী এলাকার হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনোরকম সংঘর্ষ এড়াতে ব্যাপক পুলিসবাহিনী মোতায়েন রয়েছে এলাকায়।

কাশ্মীরে গ্রেফতার পিএইচডি পাশ জঙ্গি হিলাল আহমেদ মান্টো

শোনা যায় অশিক্ষা নাকি জঙ্গিবাদের মূল কারণ। কিন্তু শিক্ষিত মুসলিম যুবকদের মধ্যে বাড়ছে জঙ্গি হওয়ার প্রবণতা। যা নিয়ে অনেক আগেই সতর্ক করেছিল গোয়েন্দারা। সেই আশঙ্কা সত্যি করে জঙ্গি যোগের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো এক পিএইচডি করা যুবককে।

phd terroristধৃত ব্যক্তির নাম হিলাল আহমেদ মান্টো। তার সঙ্গে আরও পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের নাম হল- ওয়াসিম, উমার শাফি, আকিব শাহ, ওয়াইস আমিন এবং শাহিদ ওয়ানি।

গত মাসের ৩০ তারিখে জম্মু-কাশ্মীরের বানিহাল এলাকায় এক গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ হয়। জম্মু এবং কাশ্মীরের মাঝামাঝি এলাকায় ঘটে যাওয়া ওই বিস্ফোরণের লক্ষ্য ছিল আধা সেনা জওয়ানেরা। যদিও হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিস্ফোরণের তীব্রতা ছিল মারাত্মক।

ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি পুলওয়ামায় আত্মঘাতি জঙ্গিহানায় ৪০ জনেরও বেশি জওয়ানের প্রাণ যায়। গোটা দেশ জ্বলে উঠেছিল প্রতিশোধের আগুনে৷ পাক অধিকৃত বালাকোটে এয়ারস্ট্রাইক করে জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় বায়ুসেনা৷ সেই ঘটনার রেশ না কাটতেই ফের বানিহালের ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।

সেই ঘটনার তদন্তে নেমে দিন দুই পরে এক হিজবুল জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর প্রায় এক মাসের মধ্যে ছয় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই রাজ্য পুলিশের আইজি এমকে সিনহা। তদন্ত প্রায় শেষ বলেও দাবি করেছেন তিনি। ধৃতেরা সকল জৈইশ এবং হিজবুল দলের সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধৃতদের মধ্যে মান্টো গত বছরে ভাতিন্দা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি পাশ করেছিল। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয় সে। বানিহালের ঘটনার সঙ্গে জৈইশ এবং হিজবুল দলের রাইস, সাইফুল্লা এবং মুন্না বিহারী নামের তিন জঙ্গি প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। এবং তারাই মূলত এই ঘটনার মাস্টারমাইন্ড বলে জানিয়েছেন আইইপি এমকে সিনহা।
বানিহালে একটি স্যান্ট্রো গাড়িতে রাখা ছিল বিস্ফোরক। বিস্ফোরণের পরে সম্পুর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় গাড়িটি। নকল নম্বরপ্লেট লাগান থাকায় তদন্তে শুরুতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল পুলিশকে। পরে ফরেন্সিক ল্যাবের সহযোগিতায় সমাধান হয় সমস্যার।

শ্রী রামের নামে ফেসবুকে অশ্লীল মন্তব্য, FIR দায়ের করলো হিন্দু সংহতি

Afjalআসামের এক মুসলিম যুবক ভগবান শ্রী রাম সম্পর্কে অশ্লীল ভাষায় পোস্ট করে। তাঁর অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবিতে গত ২৪শে এপ্রিল, বুধবার কাছাড় জেলার অন্তর্গত শিলচর সদর থানায় FIR দায়ের করা হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। অভিযোগ দায়ের করেছেন হিন্দু সংহতির কর্মী বিজয়ন নাথ। আসামের হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি সূত্রে  জানা গিয়েছে, ওই মুসলিম যুবকের নাম আফজল চৌধুরী। তাঁর বাড়ি করিমগঞ্জে হলেও বর্তমানে সে গুয়াহাটির রাজগড় রোডের চান্দমারী এলাকায় থাকে। হিন্দু সংহতির কর্মীর দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে যে, আফজল চৌধুরীর পোস্টের মাধ্যমে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে  এবং এই পোস্টের ফলে সমাজে হিংসা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুলিস সেই অভিযোগ ইতিমধ্যে  গ্রহণ করেছে এবং ওই মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪, ১৫৩(A ) এবং ৬৬(A) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত করছে। তবে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির শিলচর শহর কমিটির সভাপতি সায়ন পাল বলেন, পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে অবিলম্বর গ্রেপ্তার করা উচিত।

হিন্দু সংহতির সহায়তায় আসামে বিদেশী ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু জামিন পেলো গুয়াহাটি হাইকোর্টে

আসামের কাছাড় জেলার ২ বাঙালি হিন্দু শ্রী সঞ্জীব দে এবং শ্রীমতি মায়ারানি দাসকে এই বছরেই বিদেশী ঘোষণা করেছিল আসামের বিদেশী ট্রাইবুনাল। বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে ওই ২জনের পরিবারের আর্থিক সামর্থ ছিল না আইনি লড়াই চালানোর। তাছাড়া বিদেশী ঘোষিত হওয়ার পরে তাদেরকে গ্রেপ্তার হয়ে  ডিটেনশন ক্যাম্প-এ যেতে হতো এবং যতদিন না তারা নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমান করতে পারছেন, ততদিন তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হতো। এমতবস্থায় তারা হিন্দু সংহতির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন। তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে গত ৪ঠা হাইকোর্টে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আবেদন জানানো হয়েছিল।  সে খবরও প্রকাশ করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে গতকাল ১২ই এপ্রিল, শুক্রবার গুয়াহাটি হাইকোর্ট তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়। জামিন পাওয়ায় স্বভাবতই ওই হিন্দুর পরিবারের সদস্যরা খুশি এবং তারা হিন্দু সংহতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন। তবে, হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন যে, জামিন পেয়ে গেলেও আইনি লড়াই শেষ নয়। এরপরেও নিজেদেরকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার দীর্ঘ লড়াই চলবে। এই লড়াইতে হিন্দু সংহতি এদের পাশে থাকবে।

আসামে বিদেশি ঘোষিত ২ বাঙালি হিন্দু; পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলার উধারবন্দ থানার অন্তর্গত দুর্গানগর উজানগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সঞ্জীব দে। কয়েক পুরুষ ধরে তাঁর পরিবারের বসবাস ওই এলাকায়। কিন্তু গত ২৫শে ফেব্রূয়ারি, ২০১৯  তারিখে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল(চতুর্থ) । এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে লড়াই চালিয়ে নিজেকে ভারতের নাগরিক প্রমান করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল না তাঁর। উপায়ন্তর না দেখে সঞ্জীব হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত-এর সঙ্গে দেখা করে সহযোগিতার আবেদন জানান।
 একই জেলার কচুরদম থানার অন্তর্গত  গনিরগ্রাম সোনাই এলাকার বাসিন্দা মায়ারানী দাস । তাঁর পরিবারও কয়েকপুরুষ ধরে ওই এলাকায় বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই বছর জানুয়ারি মাসে তাকে বাংলাদেশি ঘোষণা করে আসামের বিদেশি ট্রাইব্যুনাল( ষষ্ঠ)। কিন্তু নিজেকে ভারতীয় নাগরিক প্রমান করার আইনি লড়াই চালানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর পরিবারের। তাঁর পরিবার হিন্দু সংহতির কাছে আওহযোগিতার আবেদন জানান ।
গত ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার এই দুজনকে ন্যায় দেওয়ার লক্ষ্যে গুয়াহাটি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলো হিন্দু সংহতি ।এ প্রসঙ্গে শ্রী সম্রাট দত্ত বলেন, “যতদিন না এরা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন, ততদিন হিন্দু সংহতি এদের আইনি লড়াইয়ে সহযোগী থাকবে”।

স্বামী মুসলিম, জানতে পেরে আত্মহত্যা করলেন আসামের হিন্দু তরুণী

লাভ জিহাদের শিকার হওয়া আসামের তেজপুরের এক হিন্দু তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিলো। গত ১৫ই মার্চ, আসামের তেজপুরের আমবাগান এলাকার বাসিন্দা হিন্দু তরুণী পূজা মন্ডল আত্মহত্যা করে। পরে পুলিস এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। পাশাপাশি একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার করে পুলিস। সেই সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক মাস আগে পূজা মন্ডল তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে এসে রাজ বরাকে বিয়ে করে। তারপর তারা আমবাগান এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। কিন্তু কয়েকদিন আগেই পূজা তাঁর স্বামীর পরিচয় জানতে পারে। সে জানতে পারে যে তাঁর স্বামী রাজ বরার  আসল নাম রেইজুল আহমেদ এবং সে মুসলিম । এটা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে পূজা। তারপর অপমানে আত্মহত্যা করে পূজা, এমনটাই সন্দেহ করছে পুলিস। তারপরেই রেইজুল বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। রেইজুলের দুটি ফোন নম্বরও দিয়েছে পূজা। কিন্তু রেইজুল দু’বার ফোন ধরলেও,বর্তমানে তাঁর ফোন বন্ধ রয়েছে এবং তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটাই জানিয়েছে পুলিস। এমতবস্থায় পুলিস পূজার মৃতদেহ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্ত করায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত পূজার পরিবারের কারওর খোঁজ পায়নি পুলিস। সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়া সত্বেও পূজার পরিবারের কেউ তাঁর মৃতদেহ এখনো  আসেনি।তাই পূজার মৃতদেহ এখনও হাসপাতালের মর্গেই পড়ে আছে।  তবে পুলিস রেইজুলকে গ্রেপ্তার করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

চীনা পণ্য বয়কটের ডাক দিলেন যোগগুরু বাবা রামদেব

ramdevভারতের মানুষকে চীনা পণ্য বয়কট করার আহ্বান জানালেন যোগগুরু বাবা রামদেব। সেই আহ্বানসহ টুইট করেছেন গতকাল। সন্ত্রাস প্রশ্নে পাকিস্তানকে বরাবরই সমর্থন জানিয়ে আসছে চীন। এমনকি চীনের ভেটো দেওয়ার ফলে মাসুদ আজহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা বাধা পাচ্ছে বারবার। তাই এবার চীনা পণ্য বর্জন করার ডাক দিলেন রামদেব।  তিনি তাঁর টুইটে বলেন, ”মাসুদ আজহারের সমর্থক চীন এবং তাদের নাগরিকদের সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিকভাবে বয়কট করা উচিত আমাদের। চীন শুধু ব্যবসার ভাষা বোঝে। তাই ওদের অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করলে, তা ওদের কাছে যুদ্ধের থেকেও ভয়ঙ্কর হবে”।

আসামে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে প্রচার হিন্দু সংহতির

লাভ জিহাদের ফাঁদে পড়ে হিন্দু মেয়ের গৃহ ত্যাগ এবং ইসলামে ধর্মান্তরিত হওয়া নতুন ঘটনা নয়। কিন্তু এই লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সংহতি তার প্রতিষ্ঠার লগ্ন থেকে লড়াই করছে। সেই ধারা বজায় রেখে লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে মানুষের সচেতনতা গড়ে তুলতে বাড়ি-বাড়ি অভিযান চালানো হলো আসামে।  হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের যুবক কর্মীরা লাভ জিহাদের বিরুদ্ধে গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় প্রচার চালাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরেই। হিন্দু সংহতির কর্মীরা কাছাড় জেলার  শিলচর শহর, মালুগ্রাম প্রভৃতি এলাকার হিন্দু বাড়িতে গিয়ে হ্যান্ডবিল দেওয়াসহ প্রচার চালাচ্ছেন।  এই পর্যন্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা ২০০টি পরিবারে প্রচার চালিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বরাক ভ্যালির হিন্দু সংহতি প্রধান সম্রাট দত্ত জানিয়েছেন, ”আমরা ১০০০ টি পরিবারে প্রচার চালানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। তাই আগামী দিনগুলিতে হিন্দু সংহতির এই প্রচার অভিযান চলবে”।

ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াং হিন্দুদের পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

আসামের কাছাড় জেলায় হিন্দু রিয়াং উপজাতির বসবাস কয়েকশ বছর ধরে। সেখানেই বসবাস করে মার উপজাতিরা।কিন্তু খ্রিস্টান মিশনারিদের প্রভাবে এই মার(Hmar) উপজাতির বিশাল সংখক মানুষ খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়েছে। তারপরেই বিভিন্ন ভাবে রিয়াং উপজাতির হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজনকে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে।কিন্তু এতকিছুর পরেও রিয়াং হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হয়নি। আর তার ফলেই তাদের ওপর নেমে এলো খ্রিস্টানদের আক্রমণ। গত ১৮ই ফেব্রুয়ারি একদল মার(Hmar) উপজাতির খ্রিস্টান যুবক রিয়াংদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এতে আতঙ্কিত রিয়াং হিন্দুরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাঁরা জিরিঘাটে পালিয়ে আসে। ঘটনার খবর পেয়ে হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিটের  সম্রাট দত্তের নেতৃত্বে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ভিটে-মাটি ছাড়া রিয়াংদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর হিন্দু সংহতির উদ্যোগে তাদেরকে জিরিঘাট ইউনাইটেড ক্লাবে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়, তাদেরকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।বর্তমানে তাঁরা ওই স্থানে রয়েছেন।

হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে রিয়াং হিন্দুদের পুনর্বাসন-এর দাবি জানানো হয়েছে প্রশাসনের কাছে। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত মার(Hmar) খ্রিস্টান যুবকদের গ্রেপ্তার করারও দাবি জানানো হয়েছে। প্রশাসন যদি হিন্দু সংহতির দাবি না মেনে নেয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে হিন্দু সংহতি, এমনটাই জানিয়েছেন বরাক ভ্যালি ইউনিটের সভাপতি শ্রী সম্রাট দত্ত

করিমগঞ্জের দোহালিয়ার সর্বহারা হিন্দু পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতি

Dohaliyaগত ১০ই ফেব্রূয়ারি রাতে আসামের করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত দোহালিয়ায় ২টি হিন্দু বাড়িতে আগুন দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। পুড়ে ছাই হয়ে যায় ১ টি হিন্দুর বাড়ির সর্বস্ব এবং এর একটি বাড়ির আংশিক ক্ষতি হয়। এমনকি বাড়ির পাশে থাকা একটি টিনের তৈরি মন্দির পুড়ে ছাই হয়ে যায়।সেই দিন থেকে ওই দুটি পরিবার খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল খাটিয়ে বসবাস করছিল। কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এই রকম পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ালো হিন্দু সংহতির বরাক ভ্যালি ইউনিট। গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সেই পরিবারের হাতে ১০ টিন তুলে দেওয়া হয় হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।

জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ৪ঠা ফেব্রূয়ারি তারিখে। সেইদিন দুপুরে করিমগঞ্জ জেলার পাঠারকান্দি মডেল হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের আরবি শিক্ষক মাওলানা মেহবুব হাসান স্কুলের ভিতরেই দুই হিন্দু ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এই মেহবুবপ্রতিবাদে পাথারকান্দি ও নিলামবাজারে পথ অবরোধ করে হিন্দুরা। এমনকি ওই আরবি শিক্ষককে স্কুলের বাইরে বেধড়ক মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা।পরে ওই শিক্ষককে হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয়। এর প্রতিবাদে মাদ্রসা ছাত্রদের সংগঠন আমসা পথ অবরোধ করে। আর এই কারণেই দোহালিয়ায়  হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন লাগানো হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দোহালিয়াকে কেন বেছে নেওয়া হলো?কারণ দোহালিয়া পাহাড়ের কোলে একটি প্রত্যন্ত গ্রাম এবং যে গ্রামে হিন্দু সংখ্যালঘু-মাত্র ৩০০ হিন্দুর বাস। গ্রামটির দুরত্ব আসিমগঞ্জ বাজার থেকে ১ কিমি।তাই ওই অল্পসংখ্যক হিন্দু টার্গেটে পরিণত হলো ।আরো বড় ক্ষতি হতে পারতো, কিন্তু হিন্দুরা সজাগ থাকায় মুসলিম  দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। আর সেই হামলায় সর্বস্ব হারানো পরিবারদুটির পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল হিন্দু সংহতি। হিন্দু সংহতির কর্মী অমিত রায় এবং শুভম দাস আসিমগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১ কিমি পথ টিন মাথায় নিয়ে, পায়ে হেঁটে  গিয়ে পরিবারগুলোর হাতে সাহায্য পৌঁছে দেন।ভবিষ্যতেও ওই পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে।