হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির কর্মীদের নির্মিত শ্রী রাম মন্দিরের শুভ উদ্বোধন ও বস্ত্র বিতরণ

আজ, হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে নির্মিত ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এবং হনুমানজীর মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন কর্মসূচী এলাকাবাসীর তুমুল উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্ৰহনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস ,সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, সহঃ সভাপতি শ্রী সমীর গুহ রায় এবং বাগনানের বিধায়ক শ্রী অরূনাভ সেন(এলাকায় যিনি রাজা সেন নামেই পরিচিত)। তার ভাষনে বিধায়ক সেন প্রভু শ্রীরাম এবং তার পরম ভক্ত শ্রী বজরঙ্গবলীজীর মন্দির নির্মানে এবং রামনবমীতে শ্রদ্ধা সহকারে প্রভু শ্রীরামের পূজার উদ্যোগ গ্ৰহনের জন্য হিন্দু সংহতির বাগনান শাখার কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।সেইসঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে হিন্দু সংহতির এই ধরনের অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই তিনি পুনরায় আসবেন। তার বক্তব্যে হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায় মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র এবং তার পরম ভক্ত বজরঙ্গবলীর বীরত্বগাথা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট‍্যের উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষা শ্রীমতি অন্তরা সাহা এবং আনটিলা অঞ্চল প্রধান শ্রী সুকুমার মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বিশিষ্ট কার্যকর্তা শ্রী টোটন ওঝা। এদিন ৫০ জন মহিলাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরন করা হয়। সংগঠনের হাওড়া জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনানের প্রমুখ কার্যকর্তা নিমাই,চন্দন, সুমনদের নেতৃত্বে এবং আনটিলা গ্ৰামের রঞ্জিত, গনেশ, বিশ্বনাথদের উদ্যোগে স্থানীয় যুবকরা বিপুল সংখ্যায় উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্ৰহন করেছিলো। মা , বোনদের উপস্থিতিও ছিলো লক্ষ‍্য করার মতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হিন্দু সংহতির কর্মীরা মন্দির উদ্ঘাটনের জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে শোভাযাত্রা করে গিয়ে গঙ্গার জল আনে। শোভাযাত্রায় হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব অংশ নেন।

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

অমিত মালী

পাঠান সেনাপতি ওসমান খানের নেতৃত্বে পাঠান সেনাবাহিনী এবং বিশ্বাসঘাতক চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকা সেনাবাহিনী একসঙ্গে বাশুড়িতে আক্রমণ করেন। কিন্তু রানী ভবশঙ্করীর সেনাবাহিনী পূর্বেই প্রস্তুত ছিল ।ফলে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় দুই বাহিনীর মধ্যে। রানী ভবশঙ্করী নিজেই এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। রানী ভবশঙ্করীর সৈন্যরা যাদেরকে তিনি নিজে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, ক্ষিপ্রতার সাথে পাঠান সৈন্যদেরকে কচুকাটা করেন। সমসাময়িক পাওয়া সূত্র অনুযায়ী, রানী ভবশঙ্করী নিজে হাতির পিঠে চেপে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে বাগদি ও চন্ডাল সেনারা অসীম বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। কয়েক ঘন্টার যুদ্ধে পাঠান সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং পাঠান সেনাপতি ওসমান খান পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। পরে তিনি ফকিরের ছদ্মবেশে উড়িষ্যা পালিয়ে যান। এই যুদ্ধের পরে রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়।

রানী ভবশঙ্করীর বীরত্বের কথা, পাঠান সেনাদের কচুকাটা করার কথা মুঘল সম্রাট আকবরের কানে পৌঁছায়। এই খবর আকবরের কাছে পৌঁছনোর পর আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এর পিছনেও কারণ ছিল। সেই সময় অবিভক্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা- যাকে সুবে বাংলা বলা হতো, তার সুবেদার ছিলেন মান সিংহ। কিন্তু সেই সময়ে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অংশে পাঠানদের অত্যাচার ছিল খুব। পাঠানরা মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাট চালাতো। এ নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন আকবর- কারণ বাংলা ছিল সোনার ডিম দেওয়া হাঁস। কারণ বাংলা সেসময় ছিল সোনার বাংলা। কিন্তু রানী ভবশঙ্করী অসাধারণ রণকৌশল ও বীরত্বে সেই পাঠান সৈন্যদের পরাজিত করেছিলেন। ফলে আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যে মান সিংহকে পাঠান। মান সিংহ ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন। সেইসঙ্গে আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সার্বভৌমত্ব মেনে নেন। মুঘল সম্রাট আকবর রানী ভবশঙ্করীকে ‘রায়বাঘিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর অনেক বছর রানী ভবশঙ্করী রাজ্য শাসন করেন। পরে তাঁর পুত্র প্রতাপনারায়ন প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাঁর হাতে রাজ্যের ভার দেন এবং তিনি কাশীতে চলে যান। আজও হাওড়া জেলার উদনারায়নপুরে রানী ভবশঙ্করী প্রতিষ্ঠিত রায়বাঘিনী মন্দির রয়েছে। আজও গড় ভবানীপুর রয়েছে। শুধু আমরা ভুলে গিয়েছি আমাদের গৌরবময় লড়াইয়ের অতীত কথা। মনে রাখতে হবে অতীত ছাড়া ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে না। (সমাপ্ত )
তথ্যসূত্র- ১. বীরত্বে বাঙালি; অনিল চন্দ্র ঘোষ
               ২. Land and Local Kingship in Eighteenth -Century Bengal ; John R. McLane

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

অমিত মালী

rani vabashankari2

রাজা রুদ্রনারায়ণের মৃত্যুর পর রানী ভবশঙ্করী মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত ভেঙে পড়েন। তিনি মানসিক দিক থেকে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তিনি রাজা রুদ্রনারায়ণের চিতায় নিজেকে আহুতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্ বংশের কুল পুরোহিত রানী ভবশঙ্করীকে বাধা দেন। রাজ পুরোহিত রানী ভবশঙ্করীকে রাজ্যের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান, যতদিন না পর্যন্ত রাজকুমার প্রতাপনারায়ণ প্রাপ্তবয়স্ক না হয়ে ওঠেন। তার পরেই রানী ভবশঙ্করী রাজ্যের শাসনভার সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শাসনভার গ্রহণ করার পূর্বে রাজ্যের সভাসদদের কাছে তিন মাস সময় চেয়ে নেন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্যে। এরপরে তিনি তাঁর রাজ্যের দায়িত্বভার সেনাপতি চতুর্ভুজ চক্রবর্তী এবং রাজস্ব মন্ত্রী দুর্লভ দত্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে কাস্তাসনগড়-এর মহাদেব মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিনি পাঠান আক্রমণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে তাঁর সঙ্গে খুবই বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী মহিলাদের একটি সেনাদলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মহাদেব মন্দিরে তিনি রোজ নিষ্ঠাভরে পূজা করতেন এবং সেইসঙ্গে গরিব-দুঃখী, ভিখারিদের অর্থ, অন্ন-বস্ত্র দান করতেন। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে সেনাপতি চতুর্ভুজ চক্রবর্তী রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্যে সচেষ্ট হলেন। সেনাপতি চতুর্ভুজ সুলতান ওসমান খানের সঙ্গে চক্রান্ত করেন রানী ভবশঙ্করী এবং তাঁর নাবালক পুত্র প্রতাপনারায়ণকে হত্যা করার। সেইমতো চতুর্ভুজ সমস্ত তথ্য ওসমান খানের কাছে পৌঁছে দেন। ওসমান খান তাঁর সেনাবাহিনীর বাছাইকরা শক্তিশালী সেনা নিয়ে রানী ভবশঙ্করীকে হত্যার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী ওসমান খানের সেনারা হিন্দু সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে প্রবেশ করেন। এছাড়াও বহু পাঠান সৈন্য ব্যবসায়ী, পর্যটক, ফকির ইত্যাদি ছদ্মবেশে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু বর্তমান হাওড়া জেলার আমতার দুর্গে থাকা সেনা ইউনিটের গোয়েন্দারা পাঠান সেনাদের চিনতে পারেন। তারাই রানী ভবশঙ্করীকে পাঠান সেনার আগমনের খবর পৌঁছে দেন। রানী ভবশঙ্করী এই সংবাদ পাওয়া মাত্রই পাঠান সেনাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো তিনি আশেপাশের দুর্গগুলি থেকে দক্ষ সেনাদের ডেকে নেন এবং তাদেরকে আশেপাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে বলেন। তিনি নিজের সঙ্গে বিস্বস্ত নারী সেনাদের রাখেন। রাতে রানী ভবশঙ্করী যুদ্ধের পোশাক পরে, অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূজায় বসেন। পূজায় বসার সময় তিনি নিজের শরীরে একটি সাদা কাপড় জড়িয়ে নেন। গভীর রাতে ওসমান খানের সেনাবাহিনী রানী ভবশঙ্করীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মন্দিরে আক্রমণ করেন। কিন্তু সেনারা প্রস্তুত থাকায় তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। রানী ভবশঙ্করীর নেতৃত্বে থাকা সেনারা পাঠান সেনাদের কচুকাটা করেন। পিছনে থাকা পাঠান সেনাদের একটি দল এই খবর পাওয়ার পর ভোরের সময়ে কিছু দূরের গ্রামে থাকা একটি শৈব সাধুদের আখড়ায় আক্রমণ করেন। কিন্তু শৈব সাধুরা পাঠানদের তরোয়ালের জবাব তরোয়ালের দ্বারাই দেন। সেখানে শৈব সন্ন্যাসীরা বহু পাঠান সৈন্যকে হত্যা করেন। ওসমান খান রাতের অন্ধকারে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান। পরেরদিনই রানী ভবশঙ্করী নিজের রাজধানী গড় ভবানীপুরে ফিরে আসেন। তিনি গোয়েন্দা মারফত খবর পেয়েছিলেন চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর চক্রান্তের কথা। কিন্তু প্রমানের অভাবে তাকে কোনো শাস্তি দিতে পারেননি। কিন্তু এরপরেই রাজ্যের শাসনভার সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করেন রানী ভবশঙ্করী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি চতুর্ভুজ চক্রবর্তীকে সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং ভূপতি কৃষ্ণ রায়কে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা প্রশিক্ষণের শিবির স্থাপন করেন, যেগুলি রানী ভবশঙ্করী নিজে তদারকি করতেন। এরপরেই পাঠান সেনাদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা, বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় তাঁর যুদ্ধ করার কাহিনী ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যের লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। যদি রানী ভবশঙ্করী বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ না করে ওসমান খানকে পরাজিত করতেন, তাহলে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্য ইসলামের শাসন শুরু হতো এবং হিন্দুর মঠ-মন্দির, হিন্দুর সংস্কৃতি, সুখ-শান্তি সব ধ্বংস হয়ে যেত।

এর কিছুদিন পরেই রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেকের দিনক্ষণ স্থির হয়। ঠিক হয় যে এক বিশেষ দিনে তান্ত্রিক মতে ছাউনাপুরের অন্তর্গত বাঁশুরি গ্রামের ভবানী মন্দিরে রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেক হবে। স্থির হয় যে গোলক চট্টোপাধ্যায় নামক একজন তান্ত্রিক রাজ্যাভিষেকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। কিন্তু পদচ্যুত সেনাপতি চতুর্ভজ চক্রবর্তী চক্রান্ত করতে থাকেন রানী ভবশঙ্করীকে হত্যা করে ভূরিশ্রষ্ঠ রাজ্যের ক্ষমতা দখলের। এবারেও তিনি পাঠান সেনাপতি ওসমান খানের সঙ্গে হাত মেলান। এবারে চতুর্ভুজ চক্রবর্তী, ওসমান খানকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর অনুগত সেনাদের নিয়ে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে আক্রমণ করবেন। পরিকল্পনা মতো ওসমান খান কয়েকশো সেনা নিয়ে রাতের অন্ধকারে খানাকুলে এসে পৌঁছান। খানাকুলে এসে জঙ্গলে ঘাঁটি গাড়েন। কিন্তু জঙ্গলে শিকার করতে যাওয়া এক শিকারী এদের দেখতে পেয়ে খানাকুলের দুর্গে খবর দেন। সেই খবর যখন চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর কাছে পৌঁছায়, তিনি তা গুজব বলে উড়িয়ে দেন( ওই সময় সেনাপতি ভূপতি কৃষ্ণ রায় বিশেষ কাজে দূরে থাকায় চতুর্ভুজ চক্রবর্তী খানাকুল দুর্গের দায়িত্বে ছিলেন)। কিন্তু রানী ভবশঙ্করীর গুপ্তচর ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এই খবর তাঁর কাছে পৌঁছে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গেই তিনি ব্যবস্থা নেন। তিনি দূতের মাধ্যমে ভূপতি কৃষ্ণ রায়কে ফিরে আসতে বলেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দুর্গে থাকা সেনাদেরকে ডেকে নেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রানী ভবশঙ্করী নিজের রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনীকে রাজ্যের সীমান্ত বরাবর সেনাকে ছড়িয়ে রাখতেন। সেই জন্যে রাজধানীতে কখনো বেশি সংখক সেনা থাকতো না। তিনি রাজ্যের সীমানা বরাবর নির্দিষ্ট দূরত্বে বহু দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন এবং প্রতিটি দুর্গে একটি করে সেনা ইউনিট থাকতো। এছাড়াও প্রতিটি দুর্গে অশ্বারোহী সৈন্য, হস্তী বাহিনী এবং পদাতিক সৈন্য থাকতো। সেই কারণে রানী ভবশঙ্করী ছাউনাপুর, বাঁশডিঙ্গাগড় এবং লস্করডাঙ্গা দুর্গের সেনা ইউনিটগুলোকে নিজের কাছে ডেকে নেন এবং তাদেরকে আশেপাশের এলাকায় মোতায়েন করেন। সেই সঙ্গে রানী ভবশঙ্করী তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হরিদেব ভট্টাচার্যের পরামর্শে আশেপাশের বাগদি(বর্গ ক্ষত্রিয়) এবং নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের বাছাই করা যোদ্ধাদের সামিল করেন, যারা তীর ছোঁড়া এবং তরোয়াল চালানোয় বিশেষ দক্ষ ছিলেন। তাছাড়া, তাদের পূর্বেই যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল, যেহেতু রানী ভবশঙ্করী রাজ্যের প্রত্যেক পরিবারের একজনের সেনা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছিলেন। (চলবে)

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

  • অমিত মালী
পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কাছে রানী ভবশঙ্করী নামটা ততটা পরিচিত নয়। কিন্তু রানী ভবশঙ্করী অবিভক্ত বাংলার মুসলমান শাসকদের কাছে একটা আতঙ্ক ছিল, যাকে বাংলার সুলতানি শাসক, পাঠান শাসকরা কোনোদিন পরাজিত করতে পারেনি। এমনকি রানী ভবশঙ্করীর শাসনকালে মুঘল শাসক আকবর ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব মেনে নেন।  আসুন তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
রানী ভবশঙ্করীর জন্মসূত্রে নাম ছিল ভবশঙ্করী চৌধুরী। তাঁর জন্ম হয়েছিল ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যে( ইংরেজি Bhurshut kingdom), সেই সময় ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বর্তমান হাওড়া ও হুগলি জেলা জুড়ে ছিল। তাঁর পিতার নাম দীননাথ চৌধুরী। তিনি রাজা রুদ্রনারায়ণের সাম্রাজ্যে একজন দুর্গরক্ষক ছিলেন। তাঁর পিতা দীনানাথ চৌধুরী দুর্গের রক্ষক ছিলেন, সেইসঙ্গে সেনাদের যুদ্ধ বিদ্যার প্রশিক্ষণ দিতেন। আর তাই ছোটবেলা থেকেই ভবশঙ্করী পিতার কাছে অস্ত্র শিক্ষা পান। তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করা, তরোয়াল যুদ্ধ, তীর ছোঁড়া ইত্যাদির প্রশিক্ষণ নেন। সেইসঙ্গে তিনি মাঝে মাঝে পিতার সঙ্গে যুদ্ধ অভিযান এবং শিকার অভিযানে যেতেন।এছাড়াও ভবশঙ্করী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ পন্ডিতদের কাছ থেকে সমাজশাস্ত্র, রাজনীতি, দর্শন, কূটনীতি এবং ধর্মশাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এইভাবে সময় কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু এর কিছু সময় পরেই ভবশঙ্করীর মায়ের মৃত্যু হয়। তারপরেই দীনানাথ তাঁর কন্যার বিবাহ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করতে থাকেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা, যোদ্ধা ভবশঙ্করী এক অদ্ভুত শর্ত দেন যে যে পুরুষ তাকে তরোয়াল যুদ্ধে হারাতে পারবেন তিনি তাকেই বিয়ে করবেন।কিন্তু শেষপর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। কারণ সময়ের ফেরে ভবশঙ্করীর সঙ্গে রাজা রুদ্রনারায়ণ-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে আজও হাওড়া এবং হুগলী জেলার গ্রামে-গ্রামে লোকমুখে কাহিনী প্রচলিত আছে। একবার ভবশঙ্করী শিকার অভিযানে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল বুনো মহিষ ভবশঙ্করীকে আক্রমণ করে। কিন্তু ভবশঙ্করীর তরোয়াল চালানোয় অসাধারণ দক্ষতা ছিল। সেই দক্ষতায় সবকটি বুনো মহিষকে তিনি হত্যা করেন এবং শিকার অভিযানে থাকা বাকিদের রক্ষা করেন। এই দৃশ্য রাজা রুদ্রনারায়ন দূর থেকে লক্ষ্য করেন এবং যুদ্ধ দক্ষতায় মুগ্ধ হন। তিনিই ভবশঙ্করীর পিতাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং খুব শীঘ্রই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয় গড় ভবানীপুর দুর্গের কাছে দামোদর রাজপ্রাসাদে। এরপরেই ব্রাম্ভন কন্যা ভবশঙ্করী চৌধুরী পরিচিত হন রানী ভবশঙ্করী নামে। বিবাহের পরেই রানী ভবশঙ্করী রাজ্য শাসন বিষয়ে রাজা রুদ্রনারায়নকে সাহায্য করতেন। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রানী ভবশঙ্করী দেবী চন্ডীর ভক্ত ছিলেন। সেই কারণে বিবাহের পরেই রাজপ্রাসাদের পাশেই দেবী চন্ডীর মন্দির নির্মাণ করান। তিনি রোজ নিষ্ঠাভরে  মা চন্ডীর পূজা করতেন। আজও হাওড়া ও হুগলী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যে বেতাই চন্ডী এবং মেলাই চন্ডীর পূজা হয়ে থাকে, তা ভবশঙ্করীর শাসনকালেই হিন্দুদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেবী চন্ডীর অনেকগুলি মন্দির নির্মাণ করেন।
rani vabashankari2এছাড়াও তিনি সাম্রাজ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে বিশেষ নজর দেন। রানী ভবশঙ্করী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকগুলো সামরিক দুর্গের নির্মাণ করেন। তিনি খানাকুল, ছাউনপুর, তমলুক, আমতা , উলুবেড়িয়া, নস্করডাঙ্গায় দুর্গ নির্মাণ করেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও দেখভাল করতেন। তাঁর নজরদারির মধ্যেই অনেকগুলি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালিত হতো। তিনিই প্রথম ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীতে মহিলাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিয়ে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন।সেই সঙ্গে তিনি নিয়ম করেন যে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একজনকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যাতে আপদকালীন পরিস্থিতিতে সেনার দরকার পড়লে যুদ্ধ যোগ দিতে পারে। রানী ভবশঙ্করীর প্রশাসনিক দক্ষতায় ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য হাওড়া ও হুগলী ছাড়িয়ে পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিন মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশে বিস্তার লাভ করে।সেই সঙ্গে তিনি নৌবাহিনীর দিকেও নজর দেন।রানী ভবসশঙ্করীর তত্বাবধানে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের নিজস্ব নৌবাহিনী গঠন করেন, যা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সেইসময় গৌড়ের শাসক ছিলেন পাঠান বংশীয় সুলেমান কারী। মুসলিম শাসকদের লুটেরা বাহিনী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অতর্কিত হামলা করার লুঠ-পাট চালাতো। তাই এদের শায়েস্তা করতে রানী ভবশঙ্করীর পরামর্শে উড়িষ্যার রাজা মুকুন্দদেবের সঙ্গে জোট করেন রাজা রুদ্রনারায়ন । ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবেনির যুদ্ধে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য এবং মুকুন্দদেবের মিলিত সেনাবাহিনী গৌড়ের সুলতান সুলেমান কারীকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুকুন্দদেবের সেনাপতি রাজীবলোচন রায়, যিনি কালাপাহাড় নামে বিখ্যাত। সুলেমানের মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র দাউদ খান গৌড়ের শাসক হন। তিনি মুঘলদের পরাজিত করার জন্যে রাজা রুদ্রনারায়নের সাহায্য চান। রুদ্রনারায়ন রাজি না হলে দাউদ খান তাঁর সেনাপতি কলটু খানকে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য আক্রমণের নির্দেশ দেন  । রুদ্রনারায়নের সেনাবাহিনী কলটু খানের সেনাকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এবং হত্যা করেন। এইযুদ্ধে বিশাল সংখক পাঠান সেনার মৃত্যু হয়। এরফলে বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল মুসলিম শাসনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।এর পরেই রানী ভবশঙ্করী এক পুত্র সন্তান প্রতাপনারায়নের জন্ম দেন।প্রতাপনারায়নের বয়স যখন ৫ বছর, তখন রাজা রুদ্রনারায়নের মৃত্যু হয়।

(চলবে )

আতঙ্কে ঘর ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতি কর্মীরা

মুসলিমদের ভয়ে বাড়ি ছাড়া হিন্দু মহিলাকে ঘরে ফেরালো হিন্দু সংহতির কর্মীরা। গত ১০ই মার্চ, রবিবার হিন্দু সংহতির কর্মীরা মহিলাকে।সঙ্গে করে তাঁর বাড়িতে রেখে আসেন। ঘটনাটি হাওড়া জেলার অন্তর্গত বাগনান শহরের ।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে আশ্রম মোড়ের বাসিন্দা শুভ্রা মিত্রের একটি পৈতৃক জমি তার ভাই ওনার অজান্তে ইউনুস নামে একজন মুসলমানকে বিক্রি করে দেন। সেইমতো মুসলমানরা ওই জমিতে একটি টিনের বাড়িও তৈরি করেন।সেটা জানার পর শুভ্রা মিত্র কোর্টে মামলা করেন এবং কোর্ট ১৪৪ ধারা জারি করে। ফলে বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় মুসলিমরা। এমতবস্থায় গত ৭ই মার্চ, বৃহষ্পতিবার ইউনুসের পরিবারের মহিলারা এবং তাঁর ছেলেরা শুভ্রা মিত্রের বাড়িতে এসে উনাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে। উনাকে মারধর করে এবং কেস তুলে নেবার জন্যে শাসিয়ে যায় । এতে আতঙ্কিত হয়ে উনি ঘর ছাড়েন। এরপর ঘটনার কথা হিন্দু সংহতির কর্মীদের জানান। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ওই মহিলাকে ওনার বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।সেই সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা উনার নিরাপত্তার বিষয়টিও খেয়াল রাখবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে যখন হিন্দু সংহতির কর্মীরা গিয়েছিলেন, সেই সময় ওই মুসলিমদের পরিবারের কেউ ছিল না, বাড়িটা তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। 

ভিডিও লিংক -https://www.facebook.com/hindusamhatibangla/videos/331598884151961/?t=3

হাওড়ার কালী মন্দিরে মাইক দান হিন্দু সংহতির

হাওড়া জেলার বাগনান থানার অন্তর্গত মুর্গাবেড়িয়া গ্রাম। সেই গ্রামের শ্মশান কালী মন্দির খুবই জাগ্রত একটি মন্দির। গ্রামের বাসিন্দারা মন্দিরের পূজার সুবিধার জন্যে হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের কাছে একটি মাইক সেট দেবার আবেদন করেন। সেই মতো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে আজ ওই মন্দিরে মাইক সেট তুলে দেওয়া হয়। এই সময় মন্দির প্রাঙ্গনে  গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনান থানা এলাকার প্রমুখ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এই কর্মসূচিতে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন একজন সহৃদয় সমর্থক শ্রী তপন দেশপ্রেমী। মাইক সেট পাওয়ায় গ্রামবাসীরা স্বভাবতই খুশি এবং তাঁরা এই কাজে হিন্দু সংহতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

হাওড়ার দাশনগরে একই রাতে দুটি মন্দিরে চুরি, দুষ্কৃতীরা অধরা

গত ১৯শে ফেব্রূয়ারি, মঙ্গলবার হাওড়া জেলার অন্তর্গত দাশনগর এলাকার একটি শ্যামাকালী ও তারা মায়ের মন্দিরে চুরি হয়েছে। দু’টি মন্দির থেকেই দুষ্কৃতীরা প্রতিমার গায়ে থাকা অলঙ্কার ও বাসনপত্র নিয়ে চম্পট দিয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এই নিয়েও দাশনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত কয়েকদিন ধরেই হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় চুরির ঘটনা ব্যাপক আকার নিয়েছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। অথচ পুলিস এখনও পর্যন্ত কোনও চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এই ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের পঞ্চানন মন্দিরে লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা

jagatballavpurরাতের অন্ধকারে মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে প্রায় লক্ষাধিক টাকার অলঙ্কার চুরির ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল জগৎবল্লভপুরের উত্তর মাজু পঞ্চাননতলা এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন দুস্কৃতি উত্তর মাজু পঞ্চাননতলা এলাকায় পঞ্চানন্দ মন্দিরের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে থাকা বিগ্রহের সোনা ও রুপার সমস্ত অলঙ্কার চুরি করে নিয়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার ভোরে স্থানীয় মহিলা মন্দির পরিস্কার করার জন্য মন্দিরে এলে চুরির বিষয়টি তার নজরে আসে। পরে তার চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে সমস্ত অলঙ্কার চুরির বিষয়টি তারা জানতে পারে। পরে পুলিশে খবর দিলে জগৎবল্লভপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চুরির ঘটনার তদন্তে নামে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীর গ্রেপ্তরির খবর পাওয়া যায়নি।  মন্দির কমিটি সূত্রে জানা গেছে এর আগেও দুস্কৃতিরা মন্দিরে চুরির চেষ্টা করলেও সফল হয়নি। তবে এই ঘটনায় স্থানীয় হিন্দুদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

আমতায় দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

গতকাল বীর হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ছিল  সেই পুণ্য তিথিতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য সহ দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ করা হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানটি হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত দক্ষিণ হরিশপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। তারপর হরিশপুর গ্রাম এবং আশেপাশের গ্রামের ২০০ জন দরিদ্র বৃদ্ধ, মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কলকাতার Magnum পরিবার।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে, উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে এবং কলকাতার Magnum পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীমতি মীনা আগারওয়াল, সঞ্জীব তান্ঠিয়া এবং শ্রী বীরেন্দ্র মোদীজি। 

টিকিয়াপাড়ায় বেআইনি অস্ত্র কারখানায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৩

হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভিনরাজ্যের ৩ কারিগরসহ একাধিক পিস্তল, পিস্তল তৈরির যন্ত্রাংশ এবং কয়েকটি লেদ মেশিন উদ্ধার করেছে। গতকাল ১৮ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দাবিভাগ টিকিয়াপাড়ার গঙ্গারাম বৈরাগী লেনের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে এই কারখানার সন্ধান পায় পুলিস। পাশাপাশি তিনজন কারিগরকেও গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বাড়ি বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে।পুলিস জানিয়েছে, বেআইনি এই অস্ত্র কারখানা থেকে ৪০টি তৈরি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ছোট আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা যায়, এরকম বহু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস সূত্রের দাবি, যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে প্রায় শতাধিক বন্দুক তৈরি করা সম্ভব। পুলিস যখন কারখানায় হানা দেয়, তখন সেখানে তিনজন ছিল। সেই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাকি একজনের খোঁজে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিসের দাবি, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য তারা একমাস আগে থেকেই বরাত পেয়েছিল। সেই মতো সেগুলি তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছিল। দু-এক মাসের মধ্যে সেগুলি সরবরাহ করার কথা ছিল। পুলিস ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা বরাত দিয়েছিল, সেবিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে। এমনকী যে ব্যক্তি ধৃতদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিল, সে এই অস্ত্র তৈরির কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তাও হাওড়া কমিশনারেটের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।

তিনদফা দাবিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে বিশাল মিছিল হিন্দু সংহতির

uluberiya-rally1গতকাল ২৯শে নভেম্বর, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এবং বাধ্যতামূলক  জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন-এই তিনদফা দাবিতে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা  সংহতির উদ্যোগে। এই মিছিলে উলুবেড়িয়া এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেন। এছাড়াও, প্রচুর হিন্দু জনসাধারণ মিছিলে পা মেলান। মিছিল গঙ্গারামপুর মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে।  মিছিলের শেষে একটি ছোট পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পথসভাতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়।  শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় তার বক্তব্যে বলেন, ”আজ সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে সমস্ত হিন্দুকে আজ জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি তুলতে হবে। তা নাহলে এই পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে মুসলিম জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, একদিন হিন্দুরাই এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে।তখন এই হিন্দুকে ভিটে-মাটি ত্যাগ করে বিহার, ঝাড়খন্ড কিংবা উড়িষ্যায় আশ্রয় খুঁজেতে হবে,  বাংলাদেশের হিন্দুরা অত্যাচারের শিকার হয়ে এদেশে  নিয়েছেন।” তিনি আরো বলেন যে আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতদিন না সরকার এই তিনদফা মেনে না নেয়।  এছাড়াও এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি এবং সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। পরে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের অফিসে যান এবং তিনদফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দেন।

জেলায় জেলায় অনুষ্ঠিত হলো হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন

আজ হাওড়া জেলার অন্তর্গত উলুবেড়িয়াতে হিন্দু সংহতির ডাকে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই সম্মেলনে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সংহতি কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় এবং সমীর গুহরায় মহাশয় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

আজ নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত পাগলাতলা গ্রামে আর একটি হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে শস্ত্র পূজনও করা হয়। হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দরগোপাল দাস, প্রমুখ কর্মী শ্রী সুষেন বিশ্বাস এবং নদীয়া জেলার প্রমুখ কর্মী পাঁচুগোপাল মন্ডল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উলুবেড়িয়াতে ঈদের রাত্রে হিন্দু মন্দিরে মদের বোতল ও ইট ছুড়লো দুষ্কৃতীরা

হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের কালীবাড়ির  জেটিঘাট এলাকা। ওই রোডের পাশে একটি কালী মন্দির রয়েছে। আর মন্দিরের আশেপাশেই রয়েছে বেশকিছু হিন্দু মালিকানাধীন দোকানঘর। গত ১৭ই জুন, রবিবার রাতে ওই মন্দিরে দুষ্কৃতীরা কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে মদের বোতল, ইঁট-পাথর ছোড়ে। ইটের আঘাতে মন্দিরের পুজোর থালা,পুজোর প্রদীপ ও অন্যান্য বাসনপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। তারপর পাশের কয়েকটি হিন্দু দোকানের টালির চাল ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। তবে মন্দিরের বাইরে লোহার শক্ত দরজা থাকায় মন্দিরের বড়োসড়ো কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তা নাহলে দুষ্কৃতীরা প্রতিমা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারতো বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, তাদের সন্দেহ মুসলিম দুষ্কৃতীদের দিকেই। কারণ ঈদের কয়েকদিন  আগেই মুসলিমরা জোর করে মন্দিরের কাছেই ঈদের গেট তৈরি করে, যদিও মুসলিম পাড়া অনেক দূরে অবস্থিত । আর সেই ঈদের গেট তৈরি  করা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মন কষাকষি ছিল। তাছাড়া মন্দিরের থেকে দুমিনিটের হাঁটাপথেই উলুবেড়িয়া থানা, উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসকের অফিস থাকা সত্বেও কিভাবে মন্দিরে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে হামলা চালাতে পারলো,তা নিয়ে স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষুব্ধ। ঘটনায় পুলিস এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মন্দিরের সামনে বর্তমানে পুলিস মোতায়েন রয়েছে।

দুই সন্তানসহ হিন্দু গৃহবধূকে নিয়ে গেলো শেখ রাজু, উদ্ধারের জন্যে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত খরিওফ গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন হাজরা। গ্রামে তার সামান্য জমিজমা আছে, তাতেই চাষবাস করে কোনোরকমে সংসার চলতো। অর্জুনের দুই ছেলেমেয়ে-১২ বছরের সুস্মিতা এবং ১০ বছরের সবুজ। কিন্তু অর্জুনের বন্ধুত্ব ছিল খরিওফ কালীতলার বাসিন্দা শেখ রাজুর সঙ্গে।বন্ধুত্বের সূত্রে বাড়িতে যাওয়া আসা ছিল শেখ রাজুর।  শেখ রাজু জরির কাজের ব্যবসাদার ছিল। পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ আনতে অর্জুন হাজরার স্ত্রী সোনামনিও জরির কাজ করতে শুরু করে। প্রায় গত পাঁচ বছর ধরে সে জরির কাজ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎই গত ২৯শে আগস্ট, ২০১৭তে অর্জুনের স্ত্রী সোনামনি তার মেয়ে সুস্মিতা এবং  ছেলে সবুজকে নিয়ে শেখ রাজুর সঙ্গে পালিয়ে যায়। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পাবার আশায় অর্জুন হাজরা আমতা থানায় শেখ রাজুর বিরুদ্ধে গত ১৪ই অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে অভিযোগ দায়ের করে। আমতা থানার পুলিশ শেখ রাজুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩ এবং ৩৬৫ ধারায় কেস দায়ের করে তদন্ত শুরু করে, যার কেস নম্বর ৪৬৪/১৭। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত চালিয়েও তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু নাছোড়বান্দা অর্জুন হাজরা গত ১২ই ফেব্রূয়ারি, ২০১৮ তারিখে হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করার কাতর আবেদন জানান। কিন্তু পুলিশ এখনো তাদের খুঁজে পায়নি। নিরুপায় অর্জুন স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে পাবার জন্যে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি গতকাল ১৩ই এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়-এর কাছে আবেদন জানান তার স্ত্রী-সন্তানকে উদ্ধার করতে সাহায্য করার। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তাকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন  দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়।