আমতায় দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

গতকাল বীর হিন্দু সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন ছিল  সেই পুণ্য তিথিতে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য সহ দুঃস্থ হিন্দুদের কম্বল বিতরণ করা হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানটি হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত দক্ষিণ হরিশপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য স্বামী বিবেকানন্দের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। তারপর হরিশপুর গ্রাম এবং আশেপাশের গ্রামের ২০০ জন দরিদ্র বৃদ্ধ, মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন কলকাতার Magnum পরিবার।এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে, উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে এবং কলকাতার Magnum পরিবারের পক্ষ থেকে শ্রীমতি মীনা আগারওয়াল, সঞ্জীব তান্ঠিয়া এবং শ্রী বীরেন্দ্র মোদীজি। 

Advertisements

টিকিয়াপাড়ায় বেআইনি অস্ত্র কারখানায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ৩

হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় বেআইনি অস্ত্র তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভিনরাজ্যের ৩ কারিগরসহ একাধিক পিস্তল, পিস্তল তৈরির যন্ত্রাংশ এবং কয়েকটি লেদ মেশিন উদ্ধার করেছে। গতকাল ১৮ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাওড়া সিটি পুলিসের গোয়েন্দাবিভাগ টিকিয়াপাড়ার গঙ্গারাম বৈরাগী লেনের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেই অভিযানে এই কারখানার সন্ধান পায় পুলিস। পাশাপাশি তিনজন কারিগরকেও গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বাড়ি বিহার এবং ঝাড়খণ্ডে।পুলিস জানিয়েছে, বেআইনি এই অস্ত্র কারখানা থেকে ৪০টি তৈরি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ছোট আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা যায়, এরকম বহু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস সূত্রের দাবি, যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে, তা দিয়ে প্রায় শতাধিক বন্দুক তৈরি করা সম্ভব। পুলিস যখন কারখানায় হানা দেয়, তখন সেখানে তিনজন ছিল। সেই তিনজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বাকি একজনের খোঁজে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে। পুলিসের দাবি, ধৃতরা জেরায় জানিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিভিন্ন জেলায় সরবরাহের জন্য তারা একমাস আগে থেকেই বরাত পেয়েছিল। সেই মতো সেগুলি তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছিল। দু-এক মাসের মধ্যে সেগুলি সরবরাহ করার কথা ছিল। পুলিস ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কারা বরাত দিয়েছিল, সেবিষয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে। এমনকী যে ব্যক্তি ধৃতদের বাড়ি ভাড়া দিয়েছিল, সে এই অস্ত্র তৈরির কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, তাও হাওড়া কমিশনারেটের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন।

তিনদফা দাবিতে হাওড়ার উলুবেড়িয়াতে বিশাল মিছিল হিন্দু সংহতির

uluberiya-rally1গতকাল ২৯শে নভেম্বর, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়ন এবং বাধ্যতামূলক  জন্মনিয়ন্ত্রণ আইন-এই তিনদফা দাবিতে এক বিশাল মিছিলের আয়োজন করা  সংহতির উদ্যোগে। এই মিছিলে উলুবেড়িয়া এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু সংহতি কর্মী যোগ দেন। এছাড়াও, প্রচুর হিন্দু জনসাধারণ মিছিলে পা মেলান। মিছিল গঙ্গারামপুর মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর পরিক্রমা করে।  মিছিলের শেষে একটি ছোট পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই পথসভাতে বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়।  শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় তার বক্তব্যে বলেন, ”আজ সমস্ত রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ভুলে সমস্ত হিন্দুকে আজ জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি তুলতে হবে। তা নাহলে এই পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে মুসলিম জনসংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, একদিন হিন্দুরাই এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুতে পরিণত হবে।তখন এই হিন্দুকে ভিটে-মাটি ত্যাগ করে বিহার, ঝাড়খন্ড কিংবা উড়িষ্যায় আশ্রয় খুঁজেতে হবে,  বাংলাদেশের হিন্দুরা অত্যাচারের শিকার হয়ে এদেশে  নিয়েছেন।” তিনি আরো বলেন যে আগামী দিনগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতদিন না সরকার এই তিনদফা মেনে না নেয়।  এছাড়াও এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী অভিষেক ব্যানার্জি এবং সহ সম্পাদক শ্রী মুকুন্দ কোলে। পরে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের অফিসে যান এবং তিনদফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দেন।

জেলায় জেলায় অনুষ্ঠিত হলো হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন

আজ হাওড়া জেলার অন্তর্গত উলুবেড়িয়াতে হিন্দু সংহতির ডাকে বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই সম্মেলনে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত হয়েছিলেন। হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সংহতি কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় এবং সমীর গুহরায় মহাশয় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

আজ নদীয়া জেলার হরিণঘাটা থানার অন্তর্গত পাগলাতলা গ্রামে আর একটি হিন্দু সংহতির বিজয়া সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক হিন্দু সংহতি কর্মী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে শস্ত্র পূজনও করা হয়। হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দরগোপাল দাস, প্রমুখ কর্মী শ্রী সুষেন বিশ্বাস এবং নদীয়া জেলার প্রমুখ কর্মী পাঁচুগোপাল মন্ডল এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

উলুবেড়িয়াতে ঈদের রাত্রে হিন্দু মন্দিরে মদের বোতল ও ইট ছুড়লো দুষ্কৃতীরা

হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া শহরের কালীবাড়ির  জেটিঘাট এলাকা। ওই রোডের পাশে একটি কালী মন্দির রয়েছে। আর মন্দিরের আশেপাশেই রয়েছে বেশকিছু হিন্দু মালিকানাধীন দোকানঘর। গত ১৭ই জুন, রবিবার রাতে ওই মন্দিরে দুষ্কৃতীরা কালীপ্রতিমা ভাঙচুর করার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে মদের বোতল, ইঁট-পাথর ছোড়ে। ইটের আঘাতে মন্দিরের পুজোর থালা,পুজোর প্রদীপ ও অন্যান্য বাসনপত্র এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। তারপর পাশের কয়েকটি হিন্দু দোকানের টালির চাল ভাঙচুর করে দুষ্কৃতীরা। তবে মন্দিরের বাইরে লোহার শক্ত দরজা থাকায় মন্দিরের বড়োসড়ো কোনো ক্ষতি করতে পারেনি। তা নাহলে দুষ্কৃতীরা প্রতিমা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারতো বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, তাদের সন্দেহ মুসলিম দুষ্কৃতীদের দিকেই। কারণ ঈদের কয়েকদিন  আগেই মুসলিমরা জোর করে মন্দিরের কাছেই ঈদের গেট তৈরি করে, যদিও মুসলিম পাড়া অনেক দূরে অবস্থিত । আর সেই ঈদের গেট তৈরি  করা নিয়ে হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যে মন কষাকষি ছিল। তাছাড়া মন্দিরের থেকে দুমিনিটের হাঁটাপথেই উলুবেড়িয়া থানা, উলুবেড়িয়া মহকুমা শাসকের অফিস থাকা সত্বেও কিভাবে মন্দিরে দুষ্কৃতীরা মন্দিরে হামলা চালাতে পারলো,তা নিয়ে স্থানীয় হিন্দুরা ক্ষুব্ধ। ঘটনায় পুলিস এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মন্দিরের সামনে বর্তমানে পুলিস মোতায়েন রয়েছে।

দুই সন্তানসহ হিন্দু গৃহবধূকে নিয়ে গেলো শেখ রাজু, উদ্ধারের জন্যে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

হাওড়া জেলার আমতা থানার অন্তর্গত খরিওফ গ্রামের বাসিন্দা অর্জুন হাজরা। গ্রামে তার সামান্য জমিজমা আছে, তাতেই চাষবাস করে কোনোরকমে সংসার চলতো। অর্জুনের দুই ছেলেমেয়ে-১২ বছরের সুস্মিতা এবং ১০ বছরের সবুজ। কিন্তু অর্জুনের বন্ধুত্ব ছিল খরিওফ কালীতলার বাসিন্দা শেখ রাজুর সঙ্গে।বন্ধুত্বের সূত্রে বাড়িতে যাওয়া আসা ছিল শেখ রাজুর।  শেখ রাজু জরির কাজের ব্যবসাদার ছিল। পরিবারে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ আনতে অর্জুন হাজরার স্ত্রী সোনামনিও জরির কাজ করতে শুরু করে। প্রায় গত পাঁচ বছর ধরে সে জরির কাজ করে আসছে। কিন্তু হঠাৎই গত ২৯শে আগস্ট, ২০১৭তে অর্জুনের স্ত্রী সোনামনি তার মেয়ে সুস্মিতা এবং  ছেলে সবুজকে নিয়ে শেখ রাজুর সঙ্গে পালিয়ে যায়। স্ত্রী ও সন্তানকে ফিরে পাবার আশায় অর্জুন হাজরা আমতা থানায় শেখ রাজুর বিরুদ্ধে গত ১৪ই অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে অভিযোগ দায়ের করে। আমতা থানার পুলিশ শেখ রাজুর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩ এবং ৩৬৫ ধারায় কেস দায়ের করে তদন্ত শুরু করে, যার কেস নম্বর ৪৬৪/১৭। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত চালিয়েও তাদের উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। কিন্তু নাছোড়বান্দা অর্জুন হাজরা গত ১২ই ফেব্রূয়ারি, ২০১৮ তারিখে হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়ে স্ত্রী এবং ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করার কাতর আবেদন জানান। কিন্তু পুলিশ এখনো তাদের খুঁজে পায়নি। নিরুপায় অর্জুন স্ত্রী-সন্তানদের ফিরে পাবার জন্যে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি গতকাল ১৩ই এপ্রিল, ২০১৮ তারিখে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়-এর কাছে আবেদন জানান তার স্ত্রী-সন্তানকে উদ্ধার করতে সাহায্য করার। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে তাকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন  দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়। 

মুম্বই থেকে কিশোরীকে অপহরণ, হাওড়া থেকে গ্রেপ্তার শেখ রোহিত

মুম্বইতে কাজ করতে গিয়ে ওখানকার কিশোরীকে অপহরণ করার অভিযোগে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের খলতপুর থেকে গত ১৫ই মার্চ এক যুবককে গ্রেপ্তার করলো মুম্বই পুলিশ। পাশাপাশি অপহৃত মেয়েটিকেও উদ্ধার করে পুলিশ।  ধৃতের নাম শেখ রোহিত (১৯)। পরের দিন ধৃতকে উলুবেড়িয়া কোর্টে তোলা হয়। মুম্বই পুলিশ অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বই নিয়ে যাবার আবেদন জানায়। বিচারক সেই আবেদনে না করেননি।  বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে , বছর দুয়েক আগে উদয়নারায়ণপুরের বাসিন্দা শেখ রোহিত চশমার দোকানে কাজ করার উদ্দেশে মুম্বইয়ের কল্যানে যায়। সেখানে কাজ করার সুবাদে ওই মেয়েটির সঙ্গে আলাপ হয়। কিন্তু গত সোমবার সেস্ক রোহিত মেয়েটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে আসে। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিস শেখ রোহিতকে গ্রেপ্তার করে।

১৪ই ফেব্রুয়ারী সভায় আসার পথে বিষ্ণুপুর ও উলুবেড়িয়াতে মুসলিমদের দ্বারা আক্রান্ত হিন্দু সংহতির কর্মীরা

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার কলকাতার বুকে ধর্মতলার রানী রাসমণি এভিনিউতে হিন্দু সংহতির দশম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত হয়। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা গাড়ি করে সভায় আসছিল। কিন্তু আসার পথে পাকিস্তানপন্থী জিহাদি মুসলমানরা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর এবং হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়াতে হিন্দু সংহতির কর্মীদের গাড়ি ভাঙচুর করে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকার হিন্দু সংহতির কর্মীরা ৩টি গাড়ি করে যখন নওহাজারীর পোলের ওপর দিয়ে পাকিস্তান মুর্দাবাদ স্লোগান দিতে দিতে আসছিল, তখন স্থানীয় মুসলিমরা গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। পরে বিশাল সংখ্যক মুসলিম জনতা সংহতি কর্মীদের গাড়ি ঘিরে ধরে এবং দাবি করে যে এই এলাকায় পাকিস্তান মুর্দাবাদ স্লোগান দেওয়া চলবে না। এই নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। এই সংঘর্ষে হিন্দু সংহতির কয়েকজন কর্মী আহত হয়। পরে বিষ্ণুপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনার ফলে সংহতি কর্মীরা ১৪ই ফেব্রুয়ারী-এর সভায় যোগ দিতে পারেনি।
অন্যদিকে, হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়ার হিন্দু সংহতি কর্মীরা ৬টি গাড়ি করে ১৪ই ফেব্রুয়ারী-এর জনসভায় যোগ দিতে আসছিল। কিন্তু একটি গাড়ি একটু পিছনে থেকে  যায়। আর সেই গাড়িটিকে লক্ষ্য করে মুসলিমরা নিমদিঘির ফকিরপাড়া মোড়ের কাছে ইট ছোড়ে। সেই ইটের আঘাতে গাড়ির ড্রাইভার ও সামনে বসা দুজন হিন্দু সংহতির কর্মী আহত হয়। পরে কর্মীরা নেমে মুসলিমদের তাড়া করে এবং মুসলিমরা পালিয়ে যায়। পরে গাড়িটি ধর্মতলার সমাবেশে এসে পৌঁছায়।

উলুবেড়িয়াতে মনসা পুজোর মেলায় মুসলিম দুষ্কৃতিদের হামলা, হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর-আগুন

হাওড়া জেলার অন্তর্গত উলুবেড়িয়া একটি মহকুমা শহর। এই মহকুমার উলুবেড়িয়া থানার অন্তর্গত লালতেগর খডিয়াময়নাপুর দামনঘাটা এলাকায় গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার মনসা পূজা উপলক্ষে একটি মেলার আয়োজন করেছিল গ্রামবাসীরা।  কিন্তু মেলা চলা কালীন এলাকার কিছু মুসলিম যুবক মেলায় থাকা মহিলাদের কটূক্তি করতে থাকে। মহিলারা প্রতিবাদ করলে তাদের শ্লীলতাহানি করে ওই মুসলিম দুষ্কৃতিরা। তখন মেলায় থাকা হিন্দুরা ওদেরকে ওখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। কিন্তু ওই মুসলিম দুষ্কৃতিরা যাওয়ার সময় রাস্তায় থাকা তিনটি হিন্দু বাড়ি ভাঙচুর করে এবং একটি ছোট পিক-আপ গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই ঘটনায় মেলা কমিটি থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। কিন্তু যাদের বাড়ি ভাঙচুর হয়েছিল, তারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এতে একজন মুসলিম দুষ্কৃতিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে।

শ্যামপুরের ওসিকে মারধরে ঢোলাহাট থেকে গ্রেপ্তার ৫

Shyampure OC ke mardhore Dholahat.jpgশ্যামপুর থানার বারগ্রাম মুন্সিপাড়ায় ওসি সুমন দাস সহ পুলিশ কর্মীদের বেধড়ক মারধর করার অভিযোগে গত ৮ই জানুয়ারী,  সোমবার ভোরবেলা পুলিশ আরও ৫ জনকে গ্রেপ্তার করল। এদিন ভোরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থানার জগদীশপুর থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় মুন্সিপাড়ার বাসিন্দা বাবর মুন্সি, বরহান মুন্সি, রমজান মুন্সি, ইব্রাহিম মুন্সি সহ মোট ৫ জনকে ধরেছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতের ঘটনার পর মুন্সিপাড়া জনমানবশূন্য। যে যেখানে পেরেছে ঘরে তালা লাগিয়ে সপরিবারে পালিয়েছে। গ্রামে এখন পুলিশি টহল ছাড়া কিছুই নেই। এমনকী মহিলারাও বাড়িছাড়া।

ঘটনার দিনই পুলিশ মূল অভিযুক্ত মুন্সি মতিয়ার রহমান সহ মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। এই নিয়ে মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হল পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে জোর তল্লাসি জারি রয়েছে।

অন্যদিকে, চিকিৎসাধীন ওসি সুমন দাসের অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো বলে জানিয়েছে কলকাতার ওই নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, সুমনবাবুর সিটি স্ক্যান করা হয়েছিল সোমবার। তাতে কোনও অবনতি লক্ষ্য করা যায়নি। চিকিৎসকদের আশা, তাঁর মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্ত ধীরে ধীরে মিশে যাবে। তখন অবস্থার আরও উন্নতি হবে।

জগৎবল্লভপুরে রাতের অন্ধকারে মনসা মাতার মূর্তি ভেঙে দিলো দুষ্কৃতীরা

হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর থানার অন্তর্গত নরেন্দ্রপুর পশ্চিম পাড়ার ঘটনা। পাড়ার মোর রাস্তার ধারে বেশ কয়েকবছর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা মনসা মাতার মূর্তি স্থাপন করেন। কয়েকবছর ধরে নিয়মিত পুজো হয়ে আসছিলো ওই থানে। আকাশের নিচে একটি বেদির ওপর স্থাপিত ছিল। কিন্তু গত ২০শে ডিসেম্বর, বুধবার দুষ্কৃতীরা ওই মূর্তিটিতে ভাঙচুর করে করে এবং রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে যায়। সকালে এই ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। জগৎবল্লভপুর থানায় খবর গেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পাঁচলায় জিহাদের আঁচ : ভাঙা হলো রাধা গোবিন্দের মূর্তি

panchlay jihader anchহাওড়া জেলার অন্তর্গত পাঁচলার লস্করপুরের ২৪ পরতলার নামতলা এলাকা। এলাকায় প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো রাধা গোবিন্দের মন্দির রয়েছে। এই মন্দির হাওড়া জেলার খুব জনপ্রিয় মন্দির। এখানে বাৎসরিক উৎসবের সময় প্রচুর লোক সমাগম হয়। গত কয়েকদিন ধরেই মন্দিরে নাম-সংকীর্তন চলছিল। শনিবার ১৬ই ডিসেম্বর রাতে কীর্তন শেষ করে যে যার বাড়িতে চলে যায়। পরের দিন রবিবার ১৭ই ডিসেম্বর ভোরে কীর্তনের দল মন্দিরে এসে দেখে যে রাধা গোবিন্দের মূর্তির মধ্যে রাধার মাথা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। মূর্তি ভাঙার খবর  চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে বিশাল সংখ্যক মানুষ মন্দির চত্বরে এসে জড়ো হন। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাঁচলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। তাদের ঘিরে ধরে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানায় হিন্দু জনতা। পুলিশ ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দেয়। তবে পুলিশ দোষীদের আদৌ গ্রেপ্তার করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। কারণ এর আগে পাঁচলা বাজার লুট হয়েছে, নবী দিবসের মিছিলের অছিলায় হিন্দু বাড়িঘর ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আর এবার রাধা গোবিন্দের মূর্তি  ভাঙা হলো। আগের ঘটনায় দোষীদের সাজা হয়নি। তাই এবার দুষ্কৃতীরা সাজা পাবে কিনা এলাকাবাসীদের মনে সন্দেহ রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

দুই কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, প্রতিবাদে পথ অবরোধ হিন্দু সংহতি কর্মীদের

গত ৩০শে নভেম্বর, হাওড়া জেলার বাগনান থানার অন্তর্গত নুনটিয়া মোড়ে একটি মুসলিম যুবককে মারধরের পুরোনো  মামলায় বাগনান থানার পুলিশ দুই হিন্দু সংহতির কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মীর নাম রাজেশ বেরা ও পুষ্পেন বেরা। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঐদিন সন্ধ্যাবেলায় প্রচুর সংখক সংহতি কর্মী সন্ধ্যা থেকে বাগনান থানার সামনে জড়ো হয়। তারা ওই দুইজন সংহতি কর্মীকে ছেড়ে দেবার দাবি জানাতে থাকেন। পুলিশ অসম্মত হলে ঐদিন রাতে বাগনান-শ্যামপুর রোড অবরোধ করে সংহতি কর্মীরা। এতে রাস্তায় প্রচুর গাড়ি দাঁড়িয়ে পরে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং অবরোধ তুলে নেবার জন্যে অনুরোধ জানায় সংহতি কর্মীদেরকে। সেসময় পুলিশ জানায় যে রাজনৈতিক চাপে ওনারা ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়েছেন। পরের দিন জামিন হয়ে যাবে সে প্রতিশ্রুতিও দেন। তখন সংহতি কর্মীরা অবরোধ তুলে নেন। সেই মতো পরের দিন ১লা ডিসেম্বর, শুক্রবার উলুবেড়িয়া কোর্ট থেকে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে ওই দুই কর্মীর জামিন করানো হয়।

মুম্বইতে সুড়ঙ্গ কেটে ব্যাঙ্ক লুঠের মূল অপরাধী গ্রেপ্তার হাওড়ার পাঁচলায়

হলিউডি ছবির মতো ছক সাজিয়ে নভি মুম্বইয়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক ব্যাঙ্ক অফ বারোদায়  ঢুকেছিল লুটেরার দল৷ তার পর ব্যাঙ্কের কমপক্ষে ৩০টি লকার ভেঙে বিপুল পরিমাণ নগদ, সোনাদানা সাফ করে চম্পট দেয় তারা৷ তার তদন্তে নেমে গত সোমবার গ্রামীণ হাওড়ার পাঁচলায় হানা দিল নভি মুম্বই পুলিশ৷ হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে জালে পড়ল লুঠপাটের অন্যতম চক্রী যুবক৷ পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মইউদ্দিন শেখ৷ পাঁচলার ভবানন্দপুরে বোনের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল সে৷ গত ১১ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে নভি মুম্বইয়ের জুনিনগর এলাকার ব্যাঙ্ক অফ বরোদার একটি শাখায় ৩০ ফুট সুড়ঙ্গ কেটে ঢোকে চোরের দল৷ পরের সোমবার ব্যাঙ্ক কর্মীরা এসে দেখেন, খোয়া গিয়েছে নগদ সমেত ৫-৬ কোটি টাকা৷ সুড়ঙ্গের উৎস ছিল ব্যাঙ্কের কাছেই একটি দোকানে৷ গত মে মাসে দোকানটি ভাড়া নিয়ে খুলেছিল ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা জেনা বচ্চন প্রসাদ৷ লুঠপাটের ঘটনা জানাজানি হতেই বেপাত্তা হয়ে যায় সে৷ তদন্তে নেমে দশটি বিশেষ টিম গড়ে নভি মুম্বই কমিশনারেট৷ দেশের সর্বত্র শুরু হয় সন্ধান৷ নভি মুম্বই পুলিশ জানতে পারে, ওই দোকানের অন্যতম অংশীদার মইউদ্দিন৷ সে মুম্বই থেকে পালিয়ে হাওড়ার পাঁচলায় লুকিয়ে আছে৷ এর পর হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে নভি মুম্বই কমিশনারেট৷ এ দিন দুপুরে মইউদ্দিনের খোঁজে গ্রামীণ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভবানন্দপুরে ঢোকে নভি মুম্বই পুলিশ৷ জানা গিয়েছে, পাঁচ-ছ’মাস ধরে চলছিল সুড়ঙ্গ কাটা৷ পাঁচলা থানা সূত্রের খবর, ব্যাঙ্কে ঢোকার জন্য ওই দোকানের নীচ থেকে সুড়ঙ্গ কাটত মইউদ্দিনও৷ সুড়ঙ্গ কাটার সময় মাটি ব্যাগে করে ফেলে আসত অন্য জায়গায়৷ কাটা অংশের উপরে রাখা হত প্লাইউড৷ হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের গৌরব শর্মা বলেন, ‘নভি মুম্বই পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল৷ ধৃত মইউদ্দিনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তারা৷’
mumbaite surango kete

এমন সুড়ঙ্গ কেটেই ব্যাঙ্ক লুঠ করে মহউদ্দিনরা(ইনসেটে )৷