ত্রিপুরায় গ্রেপ্তার পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা জেএমবি জঙ্গি নাজির শেখ

গতকাল ৫ই মার্চ, ত্রিপুরা পুলিস আগরতলা থেকে নাজির শেখ নামে এক জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে।  বছর পঁচিশের নাজিরের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে। সে আগরতলায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতো। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার ডিজি এ কে শুক্লা জানিয়েছেন যে, নাজির ২০১৩ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত। ডিজি আরও বলেন যে বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের মুলচক্রী কওসরের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো নাজির। পুলিস জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে গোয়েন্দাদের একটি দল এবং পুলিস মিলিতভাবে আগরতলার অরুন্ধুতি নগর থেকে নাজিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের সন্দেহ, ধৃত নাজির রাজমিস্ত্রির কাজের পাশাপাশি জেএমবি-এর কাজ করছিলো। সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে তাঁকে জেরা করছে পুলিস।

লালগোলা স্টেশন এলাকায় ৫ বাংলাদেশী মুসলিম অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার

অবৈধভাবে এদেশে প্রবেশ করায় গত ২০শে জানুয়ারী, রবিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের লালগোলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে পাঁচ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে লালগোলা থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃত পাঁচজনের বাড়ি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাবাড়ি থানার প্রসুণ্ডা গ্রামে। ধৃতদের গতকাল ২১শে জানুয়ারী, সোমবার লালবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। লালগোলা থানার পুলিস জানিয়েছে, ওইদিন সন্ধ্যায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লালগোলা থানার রামনগর সীমান্ত দিয়ে চারজন অবৈধভাবে মুর্শিদাবাদে ঢোকে। ট্রেন ধরে অন্য কোথাও যাওয়ার উদ্দেশ্যে লালগোলা স্টেশনের দিকে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে পুলিস পাঁচজনকে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের জেরা করে প্রাথমিকভাবে  গিয়েছে যে কেরল বা মুম্বইয়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার জন্য ধৃত যুবকরা মুর্শিদাবাদ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল।

মুর্শিদাবাদ জেলা আগ্নেয়াস্ত্র ওবোমা কারবারিদের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে

মুর্শিদাবাদ জেলায়  সক্রিয় হয়ে উঠেছে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা। এমনকী, দিনমজুর ও সব্জি বিক্রেতার বেশে কারবার চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এক সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৯২টি বোমা উদ্ধার হওয়ায় এমনই মনে করছেন গোয়েন্দারা। তাঁদের ধারণা, লোকসভা ভোটের আগে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিরা জেলায় জাল বিস্তার করছে। এদের সঙ্গে মুঙ্গেরের অস্ত্র এবং বাংলাদেশের বোমা তৈরির কারিগরদের যোগাযোগ আছে বলেই মনে হচ্ছে। জেলার পুলিস সুপার মুকেশ কুমার অবশ্য বলেন, আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমার কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিস সতর্ক রয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন বোমা ও অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

গত ২৪শে ডিসেম্বর, সোমবার রাতে মহম্মদ শাহনাওয়াজ ওরফে নাসিম নামে এক অস্ত্র কারাবারিকে গ্রেপ্তার করে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস। নিউ ডাকবাংলো মোড় থেকে ওই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত নাসিম এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। ধৃতের কাছ থেকে চারটি পাইপগান ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ওই রাতেই বেলডাঙা থানার পুলিস ঝুমকা মোড় থেকে সাকির শেখ নামে এক সশস্ত্র দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি পাইপগান ও দুই রাউন্ড গুলি মিলেছে। মির্জাপুরের নতুন পাড়ায় ধৃতের বাড়ি। গত শনিবার জলঙ্গি থানার পুলিস মাহাতাব কলোনি থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ডগুলি সহ আনিসুর মণ্ডল নামে এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম, একটি সেভেন এমএম, একটি ছয়ঘরা এবং দু’টি পাইপগান মিলেছে। শুক্রবার সকালে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর দক্ষিণপাড়া থেকে আনসার আলি ওরফে হাবল নামে এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং পাঁচটি পাইপগান উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত আনসার এলাকায় দিনমজুর হিসেবে পরিচিত। মির্জাপুরে আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার রমরমিয়ে চলছে বলে জানা গিয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ডোমকল থানার পুলিস একটি নাইন এমএম পিস্তল সহ সাহারুল ইসলাম নামে আর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর দু’দিন আগে বেলডাঙা থানার পুলিস মির্জাপুর থেকে অস্ত্র সহ এক ইটভাটার মালিককে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের কাছ থেকে সেভেন এমএম এবং নাইন এমএম পিস্তল সহ আটটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
এর বাইরে রবিবার সূতি থানার ঝাড়খণ্ড সীমানা সংলগ্ন সাহাজাদপুর ও চণ্ডীতলা গ্রামে পাঁচটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৮২টি বোমা উদ্ধার করে পুলিস। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন দিনমজুর ও একজন সব্জি বিক্রেতা। যার মধ্যে ৬২টি ‘টেপ বোমা’ ছিল। ধৃতদের মধ্যে দু’জন এর আগে অস্ত্র এবং বিস্ফোরক মজুত আইনে গ্রেপ্তার হয়েছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। ওই রাতেই ভরতপুর থানার গুন্দোরিয়া গ্রামে এক বিজেপি কর্মীর বাড়ি থেকে ১০টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিস সূত্রে খবর। এইসব গ্রেপ্তারির ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুর্শিদাবাদ জেলায় রমরমিয়ে চলছে বোমা এবং আগ্নেয়াস্ত্রের কারবার, যা নিয়ন্ত্রণ করাই পুলিসের সামনে বড়ো চ্যালেঞ্জ।

খড়গ্রামের সিদ্ধেশরী কালী মন্দিরে চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা

গতকাল ১৯শে ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার অন্তর্গত খড়গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটলো। দুষ্কৃতীরা মন্দিরের তালা ভেঙে সোনা-রুপোর গহনা, পিতলের বাসনপত্র চুরি করে পালিয়ে যায়। জানা গিয়েছে, চুরি যাওয়া জিনিসপত্রের মূল্য লক্ষাধিক টাকার বেশি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে, গত শনিবার থেকেই মন্দিরে চলছিল বাৎসরিক পূজা অনুষ্ঠান ও উৎসব। সেই উপলক্ষে মন্দিরের প্রতিমাকে সোনা ও রুপোর গহনা দিয়ে সাজানো হয়েছিল। সোমবার সেই উৎসব শেষ হয়। উৎসব শেষ হওয়ার পরেও প্রতিমার গায়ে গহনা ছিল। কিন্তু বুধবার সকালে মন্দিরের সেবাইত শুভানন্দ গিরি মহারাজ মন্দিরে এসে দেখেন যে মন্দিরের তালা ভাঙা এবং প্রতিমার সমস্ত সোনা-রুপোর গহনা চুরি গিয়েছে। তখন তিনি আশেপাশের বাসিন্দাদেরকে চুরির কথা জানান। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকার  হিন্দু বাসিন্দাদের মধ্যে যথেষ্ট চাঞ্চল্য ছড়ায়। ইতিমধ্যে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খড়গ্রাম থানার পুলিস। পরে দুপুরের দিকে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তদন্ত করছে খড়গ্রাম থানার পুলিস। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কোন দুষ্কৃতী ধরা পড়েনি।

মুর্শিদাবাদের পাঁচথুপীতে সিংহবাহিনী মন্দিরে ভয়ানক চুরি

singhabahiniমুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা থানার অন্তর্গত পাঁচথুপীর সিংহবাহিনী মন্দিরে ভয়ানক চুরির ঘটনা ঘটলো। আজ সকালে পুরোহিত মন্দিরে এসে দেখতে পান যে মন্দিরের তালা ভাঙা এবং  মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় তিন লক্ষ টাকার  সোনার অলংকার  চুরি হয়ে গিয়েছে। তিনি এই ঘটনার কথা স্থানীয় বাসিন্দাদের জানান। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মন্দিরের সামনে ভিড় জমান। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে , এই মন্দির আশেপাশের এলাকাতে জাগ্রত মন্দির হিসেবেই পরিচিত। ফলে এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা  ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বড়ঞা থানার পুলিস এসে পৌঁছায়। স্থানীয় মানুষরা পুলিসের কাছে দোষীদেরকে  করার আবেদন জানান। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে  এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

মুর্শিদাবাদে মাদক ইনজেকশন কারবারি রেজাউল করিম গ্রেপ্তার

মুর্শিদাবাদ থেকে একগুচ্ছ ইঞ্জেকশন বাজেয়াপ্ত করল নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। এইসব ইঞ্জেকশন বুপ্রোনরফিন গ্রুপের। যা মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে জানা যাচ্ছে। হেরোইনের আকাল পড়ায় এই ইঞ্জেকশনের চাহিদা বেড়েছে। গত ৪ঠা মে, শুক্রবার এই ইঞ্জেকশন কাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন এনসিবি’র অফিসাররা। আরও একজন ভুয়ো মেডিক্যাল প্র্যাক্টিশনারের খোঁজ চলছে। লাইসেন্স ছাড়াই ওষুধের দোকান খুলে সে এই কারবার চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। সে কোনও ডিগ্রি ছাড়াই মেডিক্যাল প্র্যাকটিস করে বলে জানা গিয়েছে।
এনসিবি’র কাছে খবর আসে, মুর্শিদাবাদে একটি নির্দিষ্ট ইঞ্জেকশনের চাহিদা ব্যাপকহারে হারে বেড়ে গিয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে তা নিয়ে আসা হচ্ছে। এক-একটি ইঞ্জেকশন বিক্রি করা হচ্ছে একশো টাকায়। অল্পবয়সি যুবকদের মধ্যে এর বিপুল চাহিদা রয়েছে। তারা ওই ইঞ্জেকশন কিনে নিয়ে গিয়ে সিরিঞ্জ দিয়ে নিজেরাই শরীরে পুশ করছে। এরপরই এনসিবি’র একটি টিম মুর্শিদাবাদে হানা দেয়। সেখান থেকে রেজাউল করিম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ ইঞ্জেকশন। তাকে জেরা করে আরও এক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। জানা যায়, তার ওষুধের দোকান রয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়া বেআইনিভাবে ওই দোকান চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে সে কোনও ডিগ্রি ছাড়াই মেডিক্যাল প্র্যাকটিস করে। তার কাছে এনসিবি কর্তাদের আসার খবর কোনওভাবে পৌঁছে যাওয়ায় সে পালিয়ে যায়। তার বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয় প্রচুর পরিমাণ ইঞ্জেকশন। প্রয়োজনীয় নথি ছাড়াই সেইসব ইঞ্জেকশন নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ইঞ্জেকশনের মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি বলে দাবি করেছে এনসিবি।

নিকাহ হালালার বিরুদ্ধে লড়ছেন জঙ্গিপুরের নাসিমা বেগম

nasimaমুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুরের রঞ্জিতপুর গ্রাম। আর সেই গ্রামের বছর আটত্রিশের সাধা-মাটা মুসলিম গৃহবধূ নাসিমা বেগম। নাসিমা বেগমের দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলে চোদ্দ বছরের আর মেয়ের বয়স বারো বছর। গত বছর একদিন ঝগড়া হয় নাসিমা ও তার স্বামী রবিউলের। আর সেই ঝগড়ার সময় রাগের মাথায় তিন তালাক বলে দেন রবিউল। সেই সময় নাসিমা বাড়ি ভিতরে ছিলেন এবং তিনি নিজের কানে শোনেনি। পরে তিনি এই ওঠা বাপের বাড়িতে চলে আসেন। কিন্তু ছেলে-মেয়ের মুখ চেয়ে এখন স্বামীর সঙ্গে ঘর করতে চান। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ধর্মান্ধ মোল্লা-মাওলানারা। তারা শরিয়তি মেনে নিকাহ হালালা করার কথা বলেছেন। না করলে তাদের দুইজনকে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেবার হুমকিও দিয়েছেন তারা। রবিউল এই প্রস্তাবে রাজি হলেও রাজি নন নাসিমা। একাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়া নাসিমা জানেন খবরের কাগজ পড়তে। তিনি জানেন যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তিন তালাক দেওয়া নিষিদ্ধ। তবু গ্রামের মোল্লা-মাওলানারা কোনো কথা শুনতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য শরীয়তের নিয়ম মানতে হবে নাসিমাকে। কারণ শরীয়ত স্বয়ং আল্লার আইন। আর এই আইন পরিবর্তন করার অধিকার নেই সুপ্রিম কোর্টের। কিন্তু নাসিমা দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে ধর্মীয় নিয়মের জন্যে তিনি ধর্ষিতা হতে পারবেন না। তাই তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মুর্শিদাবাদে আগ্নেয়াস্ত্রসহ কারবারি সামারুল মন্ডল গ্রেপ্তার

ফের মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিসের জালে ধরা পড়ল এক অস্ত্র কারবারি। গত ১৯শে মার্চ, সোমবার গভীর রাতে ইসলামপুর থানার নেতাজি পার্ক এলাকা থেকে সামারুল মণ্ডল নামে এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত সামারুল বেআইনি অস্ত্র কারবারের ‘ডিলার’ বলে পুলিস দাবি করেছে। সব্জি ভর্তি ব্যাগে ধৃত অস্ত্রগুলি এনেছিল। সাতদিনে এনিয়ে দু’জন অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের কাছ থেকে ন’টি পিস্তল, ১১টি ম্যাগজিন ও ৩৯রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।  মালদহ ও মুঙ্গের থেকে ওই সব অস্ত্র আসছে।

বিভিন্ন সময় ধৃত অস্ত্র কারবারিদের কাছ থেকে সামারুলের নাম জানতে পারে পুলিস। সেই মতো সোমবার রাতে ইসলামপুর থানার নেতাজিপার্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতের বাড়ি হরিহরপাড়া থানার তুলসিপুরে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের সঙ্গে থাকা সব্জির ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ছ’টি সেভেন এমএম পিস্তল, ১১টি ম্যাগজিন ও ১৭রাউন্ডগুলি মিলেছে। পিস্তলগুলির দাম ১৭-১৮ হাজার টাকা। ধৃত কারবারি ইসলামপুরে কোনও ব্যক্তির কাছে সেগুলি বিক্রি করতে এসেছিল। স্থানীয় কোনও এজেন্টের মাধ্যমে সে মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি এখানে এনেছিল।

জেলার পুলিস সুপার মুকেশ কুমার বলেন, প্রায় এক মাস ধরে ট্র্যাক করার পর সামারুলকে গ্রেপ্তার করা হল। ধৃত এই কারবারের ডিলার। ধৃতের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

নিত্য-নতুন পদ্ধতিতে গরু পাচার, ধরতে আসছে সিবিআই

যে লোকের নাম মহম্মদ ইমানুল হক , তার ব্যবসায়িক নাম যে বিশু শেখ , তিনিই আবার পরিচিত খুদে নামে , সেটা আর কী করে জানবেন সিবিআই অফিসারেরা! গত সপ্তাহে গরু পাচারের অভিযোগে ইমানুলকে গ্রেপ্তারের  পরে এ রাজ্যের বাকি পাচারকারীদের গ্রেফতার করতে এবার কোমর বেঁধে নামছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা৷ এই তদন্তের জন্য বিশেষ দল তৈরি করে কাজ শুরু করছেন তাঁরা৷ সিবিআই কর্তাদের ধারণা, শুধু গরু পাচারই নয় – বাঁকুড়া, বীরভূম, আসানসোলের মতো এলাকায় কয়লা এবং বালি কারবারের একটা মোটা অংশ যাচ্ছে শাসকদলের নেতাদের কাছে৷ সূত্রের খবর, এই গরু পাচারের তদন্তে নেমে মুর্শিদাবাদ জেলার শাসকদলের এক যুবনেতার পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাট মহকুমার এক নেতার নাম জানা গিয়েছে৷ কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, এই গরু পাচারের মোটা টাকার অংশ বড়মাপের কিছু নেতার কাছেও পৌঁছে যাচ্ছে৷ গতকাল ১৩ই মার্চ, মঙ্গলবার এক গোয়েন্দা কর্তা বলেন, ‘এত দিন এই পাচারের ঘটনা ঘটছে অথচ জেলা পুলিশ কিছু জানে না, সেটা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়৷ আমাদের কাছে খবর, মুর্শিদাবাদ এবং কোচবিহারের কিছু জায়গায় অদ্ভুত কিছু মোবাইল ফোনের রিংটোন সেট করে রাখা হয়৷ যেমন পুলিশের সঙ্গে সমঝোতা করে গরু বর্ডারের কাছাকাছি আনতে পারলে শাঁখ বাজানোর মতো আওয়াজ করা হয় মোবাইল দিয়ে৷ যাতে জনবহুল এলাকা দিয়ে পার হওয়ার সময় রাতের অন্ধকারে নির্বিঘ্নে পেরিয়ে যাওয়া যায়৷ কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় পুলিশের গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সের আওয়াজও৷ ’ এক তদন্তকারীর বক্তব্য, বিভিন্ন এলাকায় যারা পাচারকারী, তারা ডামি নাম ব্যবহার করে এই ‘লাইন ’ খোলে৷ বিশু নিজের ক্ষেত্রেও তাই নিজের নাম ব্যবহার না করায় সমস্যায় পড়তে হয়েছিল খোদ সিবিআইয়ের তদন্তকারীদের৷ ফলে তার মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে আসল লোককে চিহ্নিত করতেই কেটে যায় তিন মাস৷ সূত্রের খবর, এমন কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে পুলিশের এই পাচার থামানোর বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখা যায় না৷ উদাহরণ হিসেবে তাঁরা সামনে এনেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি রিপোর্ট, যেখানে বলা হয়েছে দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া থানা এলাকায় উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে গরু পাচার বন্ধ করার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ সেখানে থানার কাছে বাজেয়াপ্ত  করা গরুদের রাখার জন্য যে খোঁয়াড় চড়া দামে লিজ দেওয়া হয়েছে, তার খরচ পর্যন্ত তুলতে পারছেন না লিজ নেওয়া ব্যবসায়ী৷ গত ডিসেম্বরে সিবিআই আলাপ্পুজা স্টেশন থেকে বিএসএফের কাম্যান্ড্যান্ট জিবু ম্যাথুকে গ্রেপ্তার  করে নতুন পাঁচশো এবং দু’হাজার টাকার নোটের ৪৫ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করে৷ তাঁকে গ্রেফতার করার পরে জানা যায় বিশু শেখের নাম৷ সিবিআই তাঁকে জেরা করে জানতে পারে, শুধু বিএসএফ বা জেলা পুলিশই নয় , শাসকদলের বেশ কিছু জেলাস্তরের নেতাকেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এই কারবার চলে৷

সিবিআই জানতে পেরেছে, ধৃত ইমানুল আগে নোটবদলের কাজ করত৷ তার পরে গরু পাচারে হাত পাকায়৷ বিশু শেখ নাম দিয়ে পুরো লাইনটি কিনে নেয়৷ এই ব্যবসা করতে গিয়ে তার লাইফস্টাইল পরিবর্তন হয়ে যায়৷ গত সপ্তাহে ঢাকা থেকে কলকাতায় ফাইভ ষ্টার হোটেলে উঠলে সেখান থেকে ফোনের সূত্র ধরে অভিযুক্ত এই গরু পাচারকারীকে গ্রেফতার  করেন গোয়েন্দারা৷

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে গ্রেপ্তার জেএমবি জঙ্গি নূর আলম মোমিন

চলতি বছরের গোড়ায় বুদ্ধগয়ায় দলাই লামার সফরের সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে হায়দরাবাদে গোপন বৈঠকে বসেছিল জেএমবি৷ বিস্ফোরণের যড়যন্ত্রে জড়িত অভিযোগে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযানে নুর আলম মোমিন নামে আরও এক সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ৷ তাঁকে জেরা করে তদন্তকারীদের দাবি , ১৮ জানুয়ারি বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরণের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতে নভেম্বরে হায়দরাবাদে বৈঠকে বসে জেএমবি -র চাঁইরা৷ নুরও সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন৷ তাঁকে জেরা করে আরও তিন সন্দেহভাজনের নাম জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা৷ আদিল , উমর , আব্দুল করিম (জুনিয়র ), পয়গম্বর শেখ ও কালু নামে পাঁচ জনের সঙ্গে মুর্শিদাবাদ থেকে হায়দরাবাদে পৌঁছেছিলেন নুর৷ মাসখানেক আগে জেএমবি -র ধুলিয়ান মডিউলের পয়গম্বর শেখকে গ্রেপ্তারের পর রাজ্যে জেএমবি -র বাড়বাড়ন্তের তথ্য প্রকাশ্যে আসে৷ একে -একে ধরা পড়েন আহমেদ আলি (কালু), শিস মহম্মহ -৪ জন৷ খোঁজ চলছে উমর , আদিল , করিমদের৷ ইতিমধ্যে ধৃত পয়গম্বর , জামিরুল , শিস মহম্মদকে জেরা করেই নুরের নাম জেনেছিলেন তদন্তকারীরা৷ কয়েক দিন ধরেই তাঁকে গ্রেপ্তারের  চেষ্টা চলছিল৷ অবশেষে নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে গত ২২শে ফেব্রূয়ারি, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সামশেরগঞ্জের অনুপনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়৷ জেলার পুলিশ সুপার শ্রী মুকেশ বলেন , ‘অভিযুক্তকে এসটিএফ গ্রেপ্তার  করেছে৷ তার কাছ থেকে অনেক গোপন তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ ’গোয়েন্দাদের দাবি , ধুলিয়ানের কাঞ্চনতলার একটি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছিলেন ওই যুবক৷ ২০১৩ সালে বোরখা , ওড়না , স্কার্ফ বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন৷ কাঁঠালপাতাও বিক্রি করতেন৷ ধৃত আহমেদ আলি ওরফে কালুর কাছ থেকেই ব্যবসার জিনিস নিতেন৷ ধর্মীয় বইও বিক্রি করতেন৷ তাঁর কাছ থেকে হিজাব , বই ও একটি পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে৷ পাসপোর্টটির বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ব্যবসার সূত্রেই জেএমবি সদস্যের সংস্পর্শে আসা নুরের৷ ধীরে ধীরে সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠা৷ গোয়েন্দাদের দাবি , নভেম্বরে মুুর্শিদাবাদ থেকে হায়দরাবাদে গিয়ে ১৫ দিন ছিলেন নুর ও তাঁর সঙ্গীরা৷ হায়দরাবাদের ওই বৈঠকে শুধু বিস্ফোরণের পরিকল্পনাই নয় , সংগঠন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া , দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি -জাল বিস্তার বিষয়েও আলোচনা হয়৷ অনেককে পরে চেন্নাইয়ে নিয়ে গিয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়৷ শুক্রবার দুপুরে নুরের গ্রামে গিয়ে দেখা যায় , বিশাল দোতালা বাড়ি৷ দু’বছরের মধ্যে সামান্য একটি বাড়ি এত বড় হল কী ভাবে , খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ স্থানীয়দের দাবি , এলাকায় সে ভাবে কারও সঙ্গে মিশতেন না ওই যুবক৷ গতকাল ২৩শে ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার নুরকে কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হলে পুলিশের আর্জির ভিত্তিতে ১০ দিন এসটিএফ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক৷

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ৬লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার তিন

মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর শহরে ৬লক্ষ টাকার জালনোট সহ পুলিসের জালে ধরা পড়ল তিন ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বানজেটিয়া এলাকায় পুলিস ও স্পেশাল অপারেশন গ্রূপ(এসওজি)যৌথ অভিযান চালিয়ে ওই তিন জালনোট পাচারকারীকে পাকড়াও করে। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া বান্ডিলে ৫০০ ও ২০০০টাকার জাল নোট ছিল। ধৃতদের জেরা করে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা জালনোট কারবারের এক ডিস্ট্রিবিউটরের নাম জানতে পেরেছে পুলিস। সে জেএমবির বাংলাদেশ শাখাকে অর্থের জোগান দেয় বলে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। সমগ্র ঘটনা সম্পর্কে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির কাছে পুলিস রিপোর্ট পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিস সুপার মুকেশ কুমার বলেন, ধৃত জালনোট কারবারিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগে ফরাক্কা থানা এলাকায় জালনোট সহ মা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এরপর সামশেরগঞ্জ থানার পুলিস বিস্ফোরক সমেত এক ম্যাজিক ভ্যান চালক ও তিন জালনোট পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত ম্যাজিক ভ্যানের চালক জেএমবির সদস্য বলেই পুলিস জানতে পেরেছে। ধৃতদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য জানার পর জেলা পুলিস জালনোটের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। সেই মতো বৃহস্পতিবার সকালে পুলিস ও এসওজি বানজেটিয়া এলাকায় জাল বিছায়। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুরের দিকে ওই তিন ব্যক্তি বাজারের ব্যাগ হাতে সেখানে আসে। দীর্ঘক্ষণ তারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। নিজেদের মধ্যে হিন্দুস্থানি ভাষায় কথা বলছিল। সন্ধ্যার দিকে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা ইতস্তত করে। দু’জন এলাকা ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন তাদের ধরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালনোট উদ্ধার করা হয়।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম মতিউর রহমান(৫০), রাবু মিঞা(৭৫) ও মদন মণ্ডল(৫০)। মালদহের কালিয়াচক থানার গোপালনগরে ধৃতদের বাড়ি। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী শ্মশানী ও চরিঅনন্তপুর গ্রাম দু’টির মাঝখানে গোপালনগর অবস্থিত। মাঝখানে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও শ্মশানী ও চরিঅনন্তপুরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালনোট পাচারকারীরা। সংশ্লিষ্ট দু’টি এলাকায় কাঁটাতারের বেড়ার উপর দিয়ে এপারে জালনোটের বান্ডিল আসছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। একই সঙ্গে পুলিসের সন্দেহ, পুলিসের নজর এড়াতেই জালনোটের কারবারে বয়স্কদের নামানো হয়েছে। পুলিস সুপার বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে ৬লক্ষ টাকার জালনোট মিলেছে। এরমধ্যে ৩৮৮টি ৫০০টাকার এবং ২০৩টি ২০০০টাকার জালনোট আছে। ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি মোবাইল ফোন এবং মালদহ-বহরমপুর বাসের টিকিট মিলেছে।
শুক্রবার ধৃতদের বহরমপুর সিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাত থেকে এদিন সকাল পর্যন্ত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাংলাদেশের চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার তেলকুপি গ্রামের বাসিন্দা বাবলু মিঞা ওরফে সাফিজুদ্দিনের নাম জানা গিয়েছে। বাবলু জালনোটের ডিস্ট্রিবিউটর। বাংলাদেশের মনাকষা, তেলকুপি ও শিবগঞ্জে তার ঘাঁটি। মালদহের কালিয়াচক ও বৈষ্ণবনগর সীমান্ত দিয়ে জালনোটের কারবার নিয়ন্ত্রণ করে বাবলু। এক্ষেত্রে মূলত গঙ্গার রাজনগরঘাট ও চর ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি, বাবলুর জেএমবির ফাইনান্সার বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে। তবে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃতরা নিজেদের মধ্যে গোলমাল করে পুলিসকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে বলেও জানা গিয়েছে।
পুলিস সুপার বলেন, ধৃতদের কাছ থেকে বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে থাকা বাবলুর নাম জানা গিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া, ধৃতরা বহরমপুর ও বেলডাঙার কয়েকজনের নাম জানিয়েছে। তাদের খোঁজ শুরু হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে প্রচুর বিস্ফোরকসহ গ্রেপ্তার রুবেল শেখ, জেএমবি যোগের সম্ভাবনা

গত ৫ই ফেব্রুয়ারী, সোমবার আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমান বিস্ফোরক, গুলি ও জিহাদি পুস্তিকাসহ এক মোটর ভ্যান চালককে গ্রেপ্তার করলো মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতের নাম আজহার শেখ ওরফে রুবেল। তার বাড়ি থেকে পাইপগান, নাইন এমএম পিস্তলসহ প্রায় ২৫কেজি বিস্ফোরক ও জামাত-উল-মুজাহিদিন-এর প্রচুর পুস্তিকা পাওয়া গিয়েছে। তার বাড়ি রতনপুর গ্রামে। জানা গিয়েছে, ধৃত রুবেল মোটর ভ্যানের চালক। সে ডাকবাংলো স্ট্যান্ডে ভ্যান নিয়ে থাকতো। সে যে জিহাদি কাজকর্ম করছে তা পুলিশের কাছে অজানা ছিল। পুলিশ গাড়ি চেকিং করে, তাই জঙ্গিরা মোটরভ্যানে করেই অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার ও মজুত করতো। গতকাল ৬ই ফেব্রুয়ারী, মঙ্গলবার তাকে জঙ্গিপুর এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর জঙ্গি শিস মহম্মদ গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদে

Jamatul Mujahidin Bangladeshরাজ্য থেকে ফের গ্রেপ্তার জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর জঙ্গি। গতকাল ৩রা ফেব্রুয়ারী, শনিবার মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ধৃত জঙ্গির নাম শিস মহম্মদ। বাড়ি শামসেরগঞ্জের ইলিজাবাদ গ্রামে। সে গত বুধবার গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি পয়গম্বর শেখের সঙ্গী। গত মাসে বুদ্ধগয়ায় বিস্ফোরক পাচারে পয়গম্বরের সঙ্গে শিসেরও হাত ছিল বলে পুলিশের দাবি। শিসকে শনিবার কলকাতায় এনে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এসটিএফ জানিয়েছে, শিস বিস্ফোরক তৈরিতে ওস্তাদ। খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর কিছু দিন চুপচাপ থাকলেও গত বছর থেকে তারা মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গায় নব্য জেএমবি গঠনের কাজ শুরু করে। এই সংগঠনের ৬-৭টি মডিউলের খোঁজ ইতিমধ্যেই মিলেছে। প্রতিটি মডিউলে ১০-১২ জন জঙ্গি আছে বলে খবর। গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম লাগোয়া জেলাগুলির সঙ্গে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও বাংলাদেশে নব্য জেএমবি-এর শিকড় ছড়িয়েছে মূলত পয়গম্বর ও শিসের হাত ধরেই।

দলাই লামাকে খুন করার পরিকল্পনা, গ্রেপ্তার ২ জেএমবি জঙ্গি

dolai lamaবৌদ্ধ ধর্মালম্বী মানুষদের শ্রদ্ধার পাত্র দলাই লামাকে খুন করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছিল  দুই জামাত-উল-মুজাহিদিন (জেএমবি) জঙ্গি। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে কলকাতা পুলিশের টাস্ক ফোর্স গ্রেপ্তার করলো তাদের। ধৃত দুই জিহাদির নাম শেখ পয়গম্বর এবং শেখ জামিরুল। গত ৩১শে জানুয়ারী, বুধবার তাদের দার্জিলিং-এর ফাঁসিদেওয়া এবং মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতদের কাছ থেকে ল্যাপটপ,ট্যাব,গ্লাভ্স, ৫০কেজি এমোনিয়াম নাইট্রেট পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে পয়গম্বর মুর্শিদাবাদের কাঁকুড়িয়ায় আল তৌহিদ একাডেমি নামের একটি স্কুলে আরবি ভাষা পড়াতো এবং শেখ জামিরুল কাঁঠাল পাতা সরবরাহের ব্যবসা করতো। ধৃতরা মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর ঘটে চলা অত্যাচারের বদলা নিতেই দলাই লামাকে হত্যার চক্রান্ত করেছিল। ধৃত ২জনকে গত ১লা জানুয়ারী ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

মুর্শিদাবাদে ৩.৫ লক্ষ টাকার জালনোটসহ রাজমিস্ত্রি ইসমাইল গ্রেপ্তার

পাড়ায় পরিচয় ছিল রাজমিস্ত্রি হিসেবে। কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাকে ঘুরে বেড়াতে হয় বলে প্রতিবেশীদের জানিয়েছিল। কিন্তু সেই রাজমিস্ত্রি যে আসলে বড়মাপের জাল নোটের কারবারি, সিআইডির হাতে ধরা পড়ার পরই তা জানা গেল। যা দেখে রীতিমতো অবাক ইসমাইলেরর গ্রামের বাসিন্দারা। গত ৩১শে জানুয়ারী, বুধবার ভোররাতে তাকে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার জাল নোট। সমস্ত নোটই ৫০০ ও ২০০০-এর বলে জানা গিয়েছে। নোটগুলি বাংলাদেশ থেকে আনা হয়েছিল বলে সিআইডির তদন্তকারী অফিসাররা নিশ্চিত।

মালদহে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করায়, জাল নোটের কারবারিরা কৌশল বদলেছে বলে সিআইডি কর্তাদের কাছে খবর আসছিল। কিন্তু কোথায় তা রাখা হচ্ছে এবং কোন জেলাকে ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খোঁজ করতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, মুর্শিদাবাদই এখন জাল নোট কারবারের বড় ঘাঁটি। মালদহের কারবারিরাই এখানে এসে ডেরা বেঁধেছে। বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা জাল নোট মজুতও করা হচ্ছে এখানেই। সেই সূত্রেই তদন্তকারী অফিসারদের হাতে আসে ইসমাইলের নাম। তার সম্পর্কে খোঁজখবর করতে গিয়ে জানা যায়, সে জাল নোট পাচারের অন্যতম বড় মাথা। বাংলাদেশের জাল নোটের শীর্ষ কারবারিরা তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে। তার মাধ্যমে জাল নোট পৌঁছোচ্ছে এ রাজ্য সহ দেশের অন্য প্রান্তেও। কিন্তু তাকে বেছে নেওয়ার কারণ কী? খুঁজতে গিয়ে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারেন, ওই যুবকের বাংলাদেশে আত্মীয় রয়েছে। সেই সুবাদে তার বাংলাদেশে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানকার বহু জায়গাই তার চেনা। সেদেশে থাকা তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাল নোট পাচারকারীরা ইসমাইলের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পরই তার মাধ্যমে জাল নোট পাঠানো শুরু হয় এদেশে।

তদন্তকারী অফিসাররা জেনেছেন, সে যে জাল নোটের কারবারি, তা যাতে গ্রামের কেউ জানতে না পারে, সেজন্য ইসমাইল রাজমিস্ত্রির কাজ নেয়। এই কাজ কিছুটা জানা ছিল তার। তাই ধৃত এই পেশাকেই বেছে নেয়। যাতে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়ার নাম করে সেখানে জাল নোট ছড়িয়ে দিয়ে আসা যায়। ইসমাইল তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছে, বাড়ি তৈরি করার নাম করে সে একাধিকবার বাংলাদেশে গিয়েছে। এরপর সেখানকার নোট পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের জাল নোট একাধিকবার এদেশে নিয়ে এসেছে। কখনও এজেন্টরাও সীমান্তে এসে নোট দিয়ে গিয়েছে তার হাতে। তার সঙ্গে সেদেশের নোট পাচারকারীদের কথা হত বলে জানা যাচ্ছে। ইসমাইলের দাবি, এই জাল নোট রাখার জন্য মুর্শিদাবাদে একটি স্ট্যাকইয়ার্ড তৈরি করে সে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে সে বড় মাথা হয়ে যায়। তার কাছ থেকে এই নকল নোট এরাজ্যের অন্যান্য এজেন্টরা নিয়ে যেত। তবে ভিন রাজ্যে সে নিজেই নিয়ে যেত। তা থেকে অফিসাররা বুঝতে পারছেন, অন্যান্য রাজ্যের জাল নোট পাচারকারীদের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের জাল নোট কারবারিদের কয়েকজনের নাম তার কাছ থেকে জেনেছেন সিআইডির গোয়েন্দারা। যাদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আবার বাংলাদেশ পুলিশের তাড়া খেয়ে এদেশে এসে তার কাছে থেকে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকী তাদের নকল পাসপোর্ট পর্যন্ত ইসমাইল তৈরি করে দিয়েছে বলে খবর অফিসারদের কাছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন ঘটনায় অভিযুক্তরা এ দেশে পালিয়ে আসার পর, তার খুঁজে দেওয়া ডেরাতেই থেকেছে বলে জেনেছেন তদন্তকারী অফিসাররা। পরে তাদের পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দিয়েছে সে। তা থেকে আধিকারিকরা বুঝতে পারছেন, ভুয়ো পাসপোর্ট চক্রের সঙ্গেও তার যোগাযোগ রয়েছে। ধৃতকে এই বিষয়ে জেরা করে তথ্য জানার চেষ্টা হচ্ছে।