তমলুকের শ্রীরামপুরের হিন্দুরা জিহাদি আক্রমণের শিকার, বাড়ি-ঘর ও মন্দির পুড়ে ছাই

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের শ্রীরামপুর গ্রামের হিন্দুরা ভয়ঙ্কর জিহাদি আক্রমণের শিকার হলো। মুসলিমরা হিন্দুদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। হিন্দুদের বাড়ির সামনে থাকা তুলসী মঞ্চ, মন্দিরে থাকা দেবতার মূর্তি নির্বিচারে ভাঙচুর চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে যে শ্রীরামপুর গ্রামের পাশের এলাকা হলো বাহির খোপ-যা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। এর আগে সরস্বতী পুজোর সময়েও ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছিল হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে। এছাড়াও, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে কোনো ঘটনায় মুসলিমরা হিন্দুদের টার্গেট করে থাকে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে হাতিয়ার করে। এবারেও তাঁর ব্যতিক্রম হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত ২৮শে ফেব্রূয়ারি। ওইদিন মুসলিমরা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় যে বাহির খোপ গ্রামের ফারুক নামে একজন মুসলিম ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এনিয়ে মুসলিমরা পথ অবরোধ করে। এলাকায় প্রচুর পুলিস মোতায়েনও করা হয়। কিন্তু পরেরদিন ১লা মার্চ ফারুকের মৃতদেহ একটি পুকুরে উদ্ধার হয়। এরপরেই বাহির খোপ এলাকার মুসলমানেরা হিন্দু গ্রাম শ্রীরামপুর আক্রমণ করে। উন্মত্ত মুসলিমরা একের পর এক বাড়িতে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলিমরা শাবল, গাইতি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল, তা দিয়ে গ্রামের একের পর এক মন্দির ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় ওই মুসলিমরা। এই ঘটনায় পুরো গ্রামে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। আতঙ্কে বহু পরিবার গ্রামছাড়া।এদিকে গ্রামে একটি পুলিস পিকেট রয়েছে।

Advertisements

হলদিয়ায় বিরাট অস্ত্র কারখানার হদিশ, গ্রেপ্তার মুঙ্গেরের ৩ কারবারি

haldiaকলকাতা, হাওড়ার পর এবার বিশাল বড় মাপের অস্ত্র কারখানার হদিশ মিলল পূর্ব মেদনীপুরের হলদিয়ায়। শুক্রবার এসটিএফ এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে দুর্গাচক থানার ভাগ্যবন্তপুরের একটি লেদ কারখানার মধ্যে এই অস্ত্র কারখানার হদিশ পেয়েছে।  পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লেদ কারখানাটি একটি ভাড়া বাড়িতে চলত। এদিন কারখানার মধ্যে থেকে প্রায় ১০০টি অর্ধ সমাপ্ত বন্দুক উদ্ধার হয়েছে ওই লেদ কারখানাটি থেকে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও এসটিএফ দল অস্ত্র সহ লেদ মেশিনও বাজেয়াপ্ত করেছে।  এসটিএফ সূত্রে খবর, গত ১৩ জানুয়ারী কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেফতার করে এসটিএফ। জাল নোটের বিনিময়ে অস্ত্র কেনাবেচা চক্রের পর্দাফাঁস করে পুলিশ।যার মধ্যে ৩ জন মুঙ্গেরের বাসিন্দা।ধৃতরা হলো মহম্মদ নিজাম, নৌশাদ এবং রোহিত সাহিল।   ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার এই অস্ত্র কারখানার হদিশ জানতে পারে এসটিএফ। এরপরেই আজ পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ভাগ্যবন্তপুরের ওই বাড়িটিতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটি স্থানীয় এক সাইকেল ব্যবসায়ীর হলেও তাঁরা এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবী করেছেন।  পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ভি. সোলেমান নেশাকুমার জানিয়েছেন, এসটিএফ এর সঙ্গে যৌথ ভাবে অভিযানে নেমেছিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ওই কারখানা থেকে প্রায় ১০০টি অসম্পূর্ণ বন্দুক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই কারখানাটিকেও সিল করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে এদিন নতুন করে কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

দিনে ফেরি,রাতে নাবালিকাকে অপহরণের চেষ্টা, গ্রেপ্তার দুই মুসলিম যুবক

ফাঁকা রাস্তা থেকে এক কিশোরীকে অপহরণের চেষ্টা এবং তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে ভিনজেলার দুই ফেরিওয়ালা মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কাঁথি থানার পুলিস। গত ৬ই জানুয়ারী, রবিবার রাতে কাঁথি থানার বেণীচক গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। এর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তদের অটোতে ভাঙচুর চালায় এবং তাদের গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিস উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দু’জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে ওই কিশোরীর আত্মীয়র অভিযোগের ভিত্তিতে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ওই দুই মুসলিম যুবক অটোতে করে বিভিন্ন জিনিস ফেরি করতো।  রবিবার রাতে দেশপ্রাণ ব্লকের পেটুয়া থেকে ফেরি করে কাঁথি ফিরছিলো। সেই সময় কাঁথি-রসুলপুর রাজ্য সড়কের শ্যামপুরের কাছে বাড়ি আসার জন্যে অটো ধরতে দাঁড়িয়ে ছিল এক কিশোরী তাঁর মা। তারা যাত্রীবাহী অটো মনে করে হাত দেখায়, তখন তাদেরকে গাড়িতে তুলে নেয়।  গাড়ি একটু এগিয়ে যেতেই কিশোরী ও তার মায়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে দুই যুবক। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই কিশোরীর মাকে ঠেলে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আনিস ও হাসিবুল ওই কিশোরীকে মুখ চাপা দিয়ে তাদের গাড়িতে করে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। বিপদ বুঝে ওই কিশোরী কোনওরকমে মুখের কাপড় সরিয়ে চিৎকার শুরু করতেই স্থানীয় পথচলতি মানুষজন দৌড়ে আসেন। তাঁরা পিছু ধাওয়া করে ওই গাড়িটিকে ধরে ফেলেন। পাকড়াও করা ওই দুই যুবককে। শুরু হয় গণধোলাই। গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়েই পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা হল দক্ষিণ ২৪পরগনা জেলার ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামের শেখ হাসিবুল ও নদীয়া জেলার নবদ্বীপের বাসিন্দা শেখ আনিস। ধৃতরা এই ঘটনায় যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। মঙ্গলবার দু’জনকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। কাঁথি থানার আইসি সুনয়ন বসু বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ওদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

ঈদের দিন তমলুকে মিথ্যে অপবাদে হিন্দু ছেলেকে পিটিয়ে মারলো মুসলমান দুষ্কৃতীরা

ঈদের দিনে অর্থাৎ ১৬ই জুন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক থানার লালদিঘি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জয় চন্দ্র মুসলিম অধ্যুষিত মথুরি গ্রামে একজনের সঙ্গে দেখা করতে যান। কিন্তু ওই এলাকায় সঞ্জয়বাবুকে দেখে তাকে ছেলেধরা সন্দেহে মুসলিমরা ঘিরে ধরে প্রচণ্ড মারতে থাকে। তারপর মুসলিম দুষ্কৃতীরা তাকে স্থানীয় ক্লাবে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নগ্ন করে মারধর করা হয়। তিনি বারবার অনুরোধ করেন যে তিনি পাশের লালদিঘি গ্রামের বাসিন্দা। কিন্তু উন্মত্ত জিহাদি মানসিকতার মুসলিমরা তার কোনো কথাই কানে তোলেনি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, মুসলিমরা তার যৌনাঙ্গ পরীক্ষা করে হিন্দু বুঝতে পারার পরই নৃশংসতা বেড়ে যায়। তার গলায় দড়ি দিয়ে বেঁধে রাস্তায় ফেলে প্রচুর মারধর করে মুসলিমরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে তমলুক থানার পুলিস। পুলিস সঞ্জয় চন্দ্রকে অর্ধমৃত অবস্থায়  উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার পর গত ২২শে জুন, শুক্রবার সঞ্জয় চন্দ্র মারা যায়। এই ঘটনায় তমলুক শহরের বাসিন্দারা দোষীদের  তমলুক শহরে বিক্ষোভ। দেখায় শেষমেশ চাপে পরে পুলিস ৪জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

হলদিয়ার ভবানীপুরের গৌরাঙ্গ ধাম মন্দিরের পর এবার গঙ্গেশ্বর শিব মন্দিরে চুরি

হলদিয়ায় একের পর এক হিন্দু মন্দিরে চুরি হয়ে চলেছে। গত ২১ জুন, বৃহস্পতিবার রাতে হলদিয়ার ভবানীপুর থানার অন্তর্গত  দেভোগ অঞ্চলের বড়বাড়ি গ্রামের শতাব্দী প্রাচীন গঙ্গেশ্বর মন্দিরে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরের দিন ২২শে জুন, শুক্রবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাইতরা প্রথম চুরির ঘটনা জানতে পারেন। তাঁরা এসে দেখেন মন্দিরের দরজা খোলা রয়েছে এবং প্রণামী বাক্স মাঠে পড়ে রয়েছে। মন্দির কমিটির সম্পাদক ও সদ্য জয়ী স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য সত্যেন তুঙ্গ বলেন, শিবের মাথার রূপোর মুকুট ছাড়াও ভক্তদের দান করা রূপোর তৈরি ৩০টি ত্রিশূল, ৩০টি বেলপাতাসহ প্রায় এক লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি গিয়েছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগেই এক কিলোমিটার দূরে এলাকার গৌরাঙ্গ ধাম মন্দির চুরি হয়েছিল। পরপর হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির চুরির ঘটনায় স্থানীয় মানুষজন উদ্বিগ্ন।  ক্ষুব্ধ স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন যে পরিকল্পিতভাবেই একের পর হিন্দু মন্দিরে চুরি করা হচ্ছে বলে তারা মনে করেন। এক্ষেত্রে প্রশাসন যেন দুষ্কৃতীদের যারা ধর্মবিশ্বাসে আঘাত দেবার উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেয়, সেই দাবি জানান।

নন্দকুমারে স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালী মাখালো দুষ্কৃতিরা, চাঞ্চল্য এলাকায়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত নন্দকুমারের কল্যাণচক হাই স্কুল মোড়ে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তিতে কালি ঘষে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। জানা গিয়েছে, গত ১৮ই এপ্রিল রাতের অন্ধকারে কে বা কারা স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তিতে কালি মাখিয়ে দেয়। এদিন সকালে এই ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পর পুলিস ও প্রশাসনের কর্তারাও নড়েচড়ে বসেন। গত ১৯শে এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়বের উদ্যোগে কালি তুলে নতুন করে মূর্তি রং করা হয়। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তা জানার জন্য পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হয়েছে।
বিডিও মহম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, খবর পাওয়ার পরই দ্রুত স্বামীজির মূর্তিতে লেগে থাকা কালি তুলে নতুন রং করা হয়েছে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খোঁজে পুলিস তল্লাশি শুরু করেছে।

মহিষাদলের ৩০০ বছরের পুরোনো রামমন্দিরের সংস্কার করবে তৃণমূলের দখলে থাকা পঞ্চায়েত সমিতি

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে একটি পুরোনো রামমন্দির রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে মন্দিরটি প্রায় ৩০০ বছরের বেশি পুরোনো। সংস্কারের অভাবে জীর্ণ হয়ে পড়েছে সেই মন্দির। পুরোনো ইঁট ভেঙে পড়েছে কোথাও কোথাও। আবার প্লাস্টার খসে পড়েছে। এমনকি মন্দিরের গায়ে গজিয়ে উঠেছে বোরো বোরো গাছ। এবার সেই রামমন্দির সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলো তৃণমূলের দখলে থাকা মহিষাদল পঞ্চায়েত সমিতি। এর জন্যে কয়েকদিন আগে পঞ্চায়েত সমিতিতে আলোচনা করে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর এর জন্যে খোড়ো ধরা হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। এ নিয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দল সমালোচনা করলেও স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির প্রশংসা করেছেন। তারা জানিয়েছেন যে তাদের গর্ব এই রাম মন্দির। তা নতুন রূপ পেলে এলাকার হিন্দুদের কাছে খুবই আনন্দের হবে। এনিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির করতে-ব্যক্তিদেরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তারা।

আইনি সহায়তা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হিন্দু মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণ মুসলিম কনস্টেবলের

আইনি সহায়তা দেওয়ার অজুহাতে এক মহিলাকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রামনগর থানার এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে৷ অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবলের নাম শেখ মোসারফ৷ এলাকায় মুসা নামে পরিচিত৷ তার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা বনগাঁয়। অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত মুসাকে রাতারাতি রামনগর থেকে সরিয়ে তমলুক থানাতে বদলি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ৷ লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলার শ্বশুরবাড়ি রামনগর থানার পালধুইয়ে৷ তাঁর স্বামীর দু’টো বিয়ে। তিনি দ্বিতীয়পক্ষের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় না হওয়ায় বালিসাইয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে স্বামীর সঙ্গে উঠেছিলেন ওই মহিলা৷ বছরদেড়েক আগে অশান্তি শুরু হলে তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে যায় তাঁর স্বামী৷ মহিলার দাবি, ওই মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে রামনগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পরিচয় হয় মুসার সঙ্গে। সেই থেকে স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্কে জোড়া লাগানোর কথা বলে মহিলার বাড়িতে আসা-যাওয়া শুরু করে কনস্টেবল মুসা৷ নির্যাতিতার অভিযোগ, অসহায়তার সুযোগ নিয়ে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ায় মুসা৷ বিয়েরও প্রস্তাব দেয় তাঁকে৷ প্রথমে রাজি না হলেও নিজের অসহায়তার কথা ভেবে সে বিয়েতে রাজি হয়ে যায়৷ শুরু হয় অবাধ মেলামেশা৷ দিঘা থেকে শুরু করে কলকাতার বিভিন্ন হোটেলেও মহিলাকে নিয়ে যায় সে৷ মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাতও করানো হয়৷ মহিলার দাবি, মাস তিনেক আগে বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বেঁকে বসে অভিযুক্ত মুসা৷ নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করে সে৷ প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে থানা যেতে চাইলে মুসা খুনের হুমকি দেয় বলে নির্যাতিতার দাবি৷ সেই থেকেই মহিলা আতঙ্কে ছিলেন৷ সম্প্রতি হুমকি বাড়তে থাকায় গত ৩১ জানুয়ারী ডাকযোগে অভিযোগ পাঠান জেলার পুলিশ কর্তাদের৷ মহিলার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘অভিযুক্ত মুসাই তাঁদের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছিল৷ আর সেই সুযোগ নিয়েই তাঁর স্ত্রীকে সে ধর্ষণ করেছে৷ হাতে পেলেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি অভিযুক্ত কনস্টেবল শেখ মোসারফ ওরফে মুসাকে৷ উল্টে অভিযুক্তকে রাতারাতি অন্য থানায় বদলি করে দিয়েছেন রামনগর থানার ওসি৷’’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘আমি মহিলার অভিযোগ পেয়েই রামনর থানাকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি৷ আর বদলির ব্যাপার আমার অজানা৷ সম্প্রতি বদলির নোটিশও জারি হয়নি৷ আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখছি৷’’ রামনগর থানার পুলিশ সূত্রে খবর, এটা রুটিন বদলি৷ অনেক আগেই মুসার বদলির নির্দেশ এসেছিল৷

লাভ-জিহাদের শিকার নন্দীগ্রামের সুপ্রিয়া দাস

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম থানার অন্তর্গত রানিচর গ্রামের বাসিন্দা একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী, সুপ্রিয়া দাস (নাম পরিবর্তিত, বয়স ১৭বছর) কে  গত ২৯শে জানুয়ারী ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় সাতাঙ্গাবাড়ি গ্রামের শেখ সুফিয়ান আলি, পিতা – শেখ আফতার আলি। কিন্তু মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পুলিশ যথেষ্ট দেরী করছে। মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়েটির মা নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, যার  FIR No-৪১/১৮ । পুলিশ অভিযুক্ত মুসলিম যুবক শেখ সুফিয়ান আলীর বিরুদ্ধে IPC – ৩৬৯,৩৬৫ধারায় মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পুলিশ যথেষ্ট দেরী করছে। এমতবস্থায় মেয়েটির পরিবার তাদের মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্য হিন্দু সংহতির কাছে আবেদন জানিয়েছেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হলে পুলিশের পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত লাভ-জিহাদের শিকার কিশোরী সুপ্রিয়াকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ-প্রশাসন।

পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে ম্যাটাডোরের ধাক্কায় স্কুলছাত্রীর মৃত্যু, ড্রাইভার শেখ নিয়াজ অধরা

গত ১৫ই জানুয়ারী, সোমবার বিকালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের মথুরী এলাকায় ম্যাটাডোরের ধাক্কায় এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ওই ছাত্রীর নাম সুমনা গিরি(১৫)। এই ঘটনায় মৃত ছাত্রীর বোনসহ আরো তিনজন জখম হয়েছে। তারা বর্তমানে তমলুক জেলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ম্যাটাডোরটি ওই ছাত্রীদেরকে ধাক্কা মেরে উল্টে যায়। চালক শেখ নিয়াজ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষী ম্যাটাডোর চালক শেখ নিয়াজকে গ্রেপ্তার করার দাবিতে গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী অভিযুক্ত শেখ নিয়াজকে এখনো পর্যন্ত পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এমনও খবর পাওয়া গিয়েছে যে উপরমহলের চাপে নিহত ছাত্রীর পরিবারকে মোটা অঙ্কের টাকা দেবার টোপ দেওয়া হয়েছে। আর তার ফলেই অভিযুক্ত ড্রাইভার শেখ নিয়াজ এখনো অধরা রয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরে হিন্দু পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা মুসলিমদের, প্রতিরোধ করলো হিন্দু সংহতি

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার অন্তর্গত রাকষা গ্রাম। হাইরোডের পাশে একচিলতে দরমার বেড়া দেওয়া ঘর মনীষা নায়েকের। স্বামী দিনমজুরি করেন। অভাবের সংসারে তাই বাড়তি রোজগারের আশায় বাড়ির সামনে সরকারি জমিতে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালান তিনি। কিন্তু ওই জমির ওপর স্থানীয় মুসলিমদের নজর ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। তাই জমি দখলের লক্ষ্যে বেশ কিছুদিন ধরে স্থানীয় মুসলিমরা তাকে ওই জায়গা ছেড়ে দেবার হুমকি দিয়ে আসছিলো। কিন্তু সেই হুমকির কাছে মনীষা নায়েক মাথা নত না করায় গত ২৭শে ডিসেম্বর, বুধবার বেশকিছু স্থানীয় মুসলিম শেখ রাজা, শেখ আনিসুর ও শেখ মোফাজ্জল-এর নেতৃত্বে মনীষার বাড়িতে এসে দশ হাজার টাকা দেওয়ার দাবি করে। কিন্তু মনীষা নায়েক তা দিতে অস্বীকার করে এবং তাতে ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। মনীষা নায়েকের বাড়িঘর ভাঙচুর করে, তার বাড়ির সমস্ত জিনিসপত্র ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়। বাড়ির দরমার বেড়া ভেঙে দেয় ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা। বাধা দিতে এলে মনীষা নায়েকের বৃদ্ধা শাশুড়িমা কে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় মুসলিমরা। এমনকি মনীষা নায়েকের শ্লীলতাহানিও করে মুসলিমরা। এই ঘটনায় হিন্দুরা প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও পরে হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মী সমীর দোলই ও স্বপন দোলই-এর নেতৃত্বে হিন্দুরা রুখে দাঁড়ায়। তখন ভয় পেয়ে মুসলিমরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে গ্রামের হিন্দুদের সহযোগিতায় মনীষা নায়েক তার দোকানঘর পুনরায় নির্মাণ করতে সক্ষম হন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে মনীষা নায়েক-এর পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নন্দীগ্রামের বাৎসরিক হনুমান পূজায় আমন্ত্রিত হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব, আক্রমণ মুসলিমদের

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম। কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনের জন্যে পশ্চিমবঙ্গে পরিচিত এই নাম। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসীদের কাছে অজানা হলো এই যে নন্দীগ্রাম ইসলামিক জিহাদিদের কবলে চলে গিয়েছে। সেখানে বারে বারে হিন্দুর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয়েছে। কিন্তু হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব আর সাহসে ভর করে বর্তমানে এলাকার হিন্দুরা মাথা তুলে বাঁচার ভরসা পেয়েছে। আর সেই ভরসা থেকেই নন্দীগ্রামের শ্রী বজরং কমিটি তাদের বাৎসরিক শ্রী হনুমান-এর পূজায় হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব ও কর্মীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এই বছর। গত ২৬শে ডিসেম্বর, মঙ্গলবার পুজোর দিন হিন্দু সংহতির কর্মীরা যখন বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসছিলো পূজা প্রাঙ্গনে, তখন তেরোপাখিয়া ও বড়বাঁধ এলাকায় মুসলিমরা হিন্দু সংহতির মিছিলে আক্রমণ করে। প্রধান মিছিল যা টেঙ্গুয়া মোড় থেকে শুরু হয়, যার  সামনে ছিলেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ শ্রী জীবাত্মানন্দজি মহারাজ,  হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয় এবং শ্রী সৌরভ শাসমল। এই মিছিল যখন এগিয়ে চলছিল তখন মিছিলের পিছনের প্রান্তে স্থানীয় মুসলিম রুকুমুদ্দিনের নেতৃত্বে বেশ কিছু মুসলিম হিন্দু সংহতির মিছিলে আক্রমন করে। তাতে মিছিলে অংশ নেওয়া একজন বাইক আরোহী আহত হয়। সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু সংহতির কর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে টেঙ্গুয়া মোড় অবরোধ করে। খবর পেয়ে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবংহিন্দু সংহতির নেতৃত্ব-এর পক্ষ থেকে  দোষীদেরকে গ্রেপ্তার করার জন্যে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। পুলিশ বাধ্য হয়ে দোষীদের  গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। সোশ পাওয়া খবর অনুযায়ী, পুলিশ রুকুমুদ্দিন ও তার চার সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে অনেক বাধা সত্বেও অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। পুজোর শেষে প্রায় পঁচিশ হাজার মানুষ ভোগ প্রসাদ গ্রহণ করেন।

পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটে দুস্থদের কম্বল বিতরণ করলো হিন্দু সংহতি

গত ২৪শে ডিসেম্বর, রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট এলাকার বড়িশা গ্রামে স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীদের আয়োজনে দুস্থ সহায়-সম্বলহীন মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ২০০ জন মহিলাকে কম্বল দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির এই মহতী উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো কলকাতার ”সালাসার ভক্তবৃন্দ”। এছাড়াও ঐদিন হিন্দু সংহতির কর্মীরা বড়িশা মোড়ে একটি শ্রী হনুমান মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী দেবদত্ত মাজি মহাশয়, হিন্দু সংহতির সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং সহ-সম্পাদক শ্রী সৌরভ শাসমল। এছাড়া সালাসার ভক্তবৃন্দ -এর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন শ্রী বীরেন্দ্র মোদী  মহাশয় এবং শ্রী সুশীল যজোতিয়া মহাশয়।

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড় হওয়া তিন দুষ্কৃতী গ্রেপ্তার

ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া তিন দুষ্কৃতীকে সশস্ত্র অবস্থায় গ্রেপ্তার করল ভগবানপুর থানার পুলিশ। রবিবার রাতে ভগবানপুরের যাদবপুকুর এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে থানার টহলদারি পুলিশ। দুষ্কৃতীরা ভগবানপুরের কলাবেড়িয়া এলাকায় একটি জুয়েলারির দোকানে ডাকাতি করার জন্য জড়ো হয়েছিল বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত অনন্ত জানা ওরফে ‘মামা’র বাড়ি তমলুকের পসড়া গ্রামে, শেখ রিয়াজুলের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের সরাইকেল্লা এবং রাজু হাজরার বাড়ি হুগলি জেলার চন্দননগর এলাকায়। ধৃতদের কাছ থেকে পুলিশ এক রাউন্ড গুলি সহ একটি ওয়ান শটার পাইপগান, একটি নম্বরবিহীন বাইক এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত শাবল, চেন সহ অন্যান্য সামগ্রী আটক করেছে। সোমবার ধৃতদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক প্রত্যেকের ১৪দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পূর্বমেদিনীপুরের সুতাহাটায় কালো বৌকে পুড়িয়ে মারলো স্বামী

পারিবারিক অশান্তির জেরে বিষ খাইয়ে বা কুপিয়ে বধূকে খুন করার ‘রেওয়াজ’ ছিলই৷ এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল গায়ের রঙ কালো হওয়ার অপরাধ৷ সোমবার সকালে স্রেফ এ কারণে এক বধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটায়৷ বিয়ে হওয়ার পর বছর না ঘুরতেই শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে খুন করেছে বলে অভিযোগ৷ নারী নির্যাতনের সঙ্গে বধূ খুনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন পুলিশ-প্রশাসন৷ লোভ ও মানসিক বিকৃতি থেকে এমন ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে৷ পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন , ‘ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে৷’ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুতাহাটা থানার চকলালপুর গ্রামের বছর কুড়ির মঞ্জিরার সঙ্গে হলদিয়ার ভবানীপুরের জাহাঙ্গিরের বিয়ে হয় ১১ মাস আগে৷ চার ভাইবোনের মধ্যে মঞ্জিরা ছিলেন সবার ছোট৷ বড় আদরের ছিলেন তিনি৷ অভিযোগ, পেশায় দর্জি জাহাঙ্গির বেশি টাকার লোভে বিয়ে করে মঞ্জিরাকে৷ প্রথম প্রথম কিছু না বললেও দু’মাস পর গায়ের রঙ নিয়ে কটূ কথা বলতে শুরু করে জাহাঙ্গির৷ তার সঙ্গে দোসর হয় শ্বশুরবাড়ির অন্যরা৷ সোমবার সকালে অগ্নিদগ্ধ বধূটির দেহ ঘরের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখেন প্রতিবেশীরা৷ এরপরই উত্তেজিত লোকজন জাহাঙ্গিরের বাড়ি ঘিরে রেখে খবর দেয় পুলিশকে৷ খবর পেয়ে চলে আসেন বধূর বাপের বাড়ির লোকেরা৷

স্বামী, শ্বশুরসহ পরিবারের অন্যদের বিরুদ্ধে ভবানীপুর থানায় অভিযোগ করেন তাঁরা৷ মৃতার দাদা শেখ মজফ্ফর বলেন, ‘ছোট হওয়ায় সকলের আদরের ছিল মঞ্জিরা৷ আজ সকালে খবর পাই বোনকে পুড়িয়ে মেরেছে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা৷ ছুটে এসে দেখি ওঁর পোড়া দেহ পড়ে রয়েছে৷ আমাদের অনুমান, প্রথমে খুন করে পরে পুড়িয়ে দিয়েছে৷’ ভাই সওকত আলি বলেন, ‘কালো বলে প্রচুর টাকা পণ দিয়ে বোনের বিয়ে দিয়েছিলাম৷ কিছুদিন চুপ থাকার পর বোনকে নিয়ে ওদের পরিবারে অশান্তি শুরু হয়৷ ওঁকে মারধরও করত৷ আমরা এসে দেখছি শ্বশুরবাড়ির সবাই পালিয়ে গিয়েছে৷’