একের পর এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের পরে খুন, কালনায় গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের কামরুজ্জামান

নিজের অস্ত্র নিয়ে শনিবার শিকারে বেরিয়ে কালনা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল সিরিয়াল মহিলা খুনি | এই ভয়াবহ খুনির নাম কামরুজ্জামান সরকার | বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। গত দেড় বছর আগে বাড়ি করে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোয়ালপাড়ার সুজননগরে | খুনি এদিন পুলিশের নিকট তার অপরাধের সব কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এই অপরাধীর নেশা ছিল বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মচারী সেজে লাল মোটর বাইক নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো | মিটার দেখার নাম করে বিভিন্ন বাড়িতে দিনের বেলাতেই প্রবেশ করতো। বাড়িতে মহিলাকে একা পেলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধর্ষণ করতো। তারপর প্রমান লোপাটের জন্য প্রথমে মাথায় রডের আঘাত করে অজ্ঞান করতো। শেষে গলায় সাইকেলের চেন পেঁচিয়ে মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত করেই বাইক নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেত।বিগত তিন মাসে কেবল কালনা থানাতেই ছয়টি এই রকম অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মন্তেশ্বর, মেমারী, পাণ্ডুয়া, বলাগর থানা ধরলে এই অপরাধের সংখ্যা ১২টি। শেষ খুনের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বৈকালে কালনা থানা এলাকায়। এক দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে পাশবিক অত্যাচারের পর হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে রবিবার অপরাধী বাইক নিয়ে শিকারে বেরিয়ে কালনা-১ ব্লকের কাঁকুরিয়া গ্রামে অপর এক বাইকের সাথে ধাক্কা মেরে পড়ে যায়। স্থানীয় একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার বাইক চালকদের তুলতে গিয়ে লাল বাইকের কথা মনে পড়ে যায়। কারন পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ও সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পেরে গিয়েছিল যে অপরাধী লাল বাইক ব্যবহার করে। তাই সন্দেহ হতেই সিভিক তার ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে ব্যাগে লোহার রড, চেন সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। যে সরঞ্জামগুলি মহিলাদের হত্যা করার সময় ব্যবহার করা হতো। প্রথমে তাকে ধরে বুলবুলিতলা ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কালনা মহকুমার পুলিশ অফিসাররা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব দোষ স্বীকার করে। বুলবুলিতলা ফাঁড়ি থেকে অপরাধীকে কালনা থানায় আনা হয়। সেখানে বর্ধমান জেলার এডিশনাল এস পি এসে তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।

সমুদ্রগড়ে হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

হিন্দু সংহতি সমুদ্রগড় শাখা আয়োজিত মা কালী পূজার দ্বিতীয় দিনে অর্থাৎ গতকাল ১২ই মে, রবিবার  এলাকার দরিদ্র মহিলাদের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হলো হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানের শুরুতে সকালে অনুষ্ঠিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতার পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তারপরেই বস্ত্র বিতরণের অনুষ্ঠান শুরু হয়।  এই অনুষ্ঠানে সমুদ্রগড় এলাকার শতাধিক মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবু রাজবংশী, শ্রী প্রশান্ত শিকদার এবং সুমন দাস।

সমূদ্রগড়ে হিন্দু সংহতি আয়োজিত মা কালীর পূজায় জনসমুদ্র

গত ১১ই মে, হিন্দু সংহতির সমূদ্রগড় শাখার আয়োজিত মা কালীর পূজা মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হলো। পূজার সঙ্গে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে জেলে বন্দী তিন হিন্দু সংহতি কর্মী শ্রী সঞ্জিত শর্মা, শ্রী প্রতাপ সরকার এবং শ্রী সঞ্জয় সূত্রধর-এর মুক্তির দাবি তোলা হয় । আজ ছিল পূজার প্রথম দিন। প্রথম দিনে যজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছিল। যজ্ঞনুষ্ঠানে আশেপাশের প্রচুর মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সন্ধ্যায় পূজাস্থলে প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে এবং পূজা প্রাঙ্গণ মেলার আকার ধারণ করে। সেই সঙ্গে আপামর জনগণকে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণ করা হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস এবং সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দু সংহতির উদ্যোগে রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরে

গতকাল ১১ই মার্চ, সোমবার পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত বর্ধমান শহরে হিন্দু সংহতির এবং “ভাবনা”
সংস্থার যৌথ উদ্যোগে এক রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই রক্তদান শিবির বর্ধমান শহরের শ্রী শ্রী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের সামনে অভিষেক বিয়ে বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন হিন্দু সংহতির কর্মী রক্তদান করে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, প্রমুখ কর্মী টোটন ওঝা এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রমুখ কর্মী শ্রী শিবাংশু ভঞ্জ, প্রশান্ত চক্রবর্তী এবং সঞ্জয় সূত্রধর।

১ বছর ধরে জেলে বন্দি হিন্দু সমাজকর্মীদের পাশে দাঁড়াতেহিন্দু সংহতির আহ্বান

sanjit-sharma

সমুদ্রগড়ের হিন্দু সংহতির কর্মী সঞ্জিত শর্মা এবং প্রতাপ সরকার আজ এক বছরের উপরে জেল খাটছে। শিবু রাজবংশী নয় মাস জেল খাটার পরে জামিন পেয়ে বাইরে বেরোতে পেরেছে। আমরা বিশ্বাস করি যে তারা নির্দোষ। আপনারা জানেন হিন্দু সংহতি শুরু থেকে তাদের কেস সম্বন্ধীয় যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে চলেছে। শুধু তাই নয়, সেই সময় থেকে তাদের পরিবার চালানোর জন্য যথাসম্ভব সহযোগিতাও হিন্দু সংহতি করে চলেছে। বর্ধমান এবং কালনা কোর্টে তাদের ট্রায়াল শুরু হতে চলেছে খুব তাড়াতাড়ি। আপনাদের কাছে আবেদন, আপনারা অভিযুক্তদের আইনী লড়াইয়ের ব্যয়ভারের অংশীদার হয়ে এদের পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং যথাসাধ্য আর্থিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন যাতে এই হিন্দু যোদ্ধারা অতি শীঘ্র ন্যায় বিচার পায়। নিচের লিঙ্ক এ ক্লিক করে আপনাদের সামর্থ অনুযায়ী সহযোগিতা করতে পারেন।এছাড়া হিন্দু সংহতির একাউন্ট এ আপনার মূল্যবান সাহায্য পাঠাতে পারেন-Hindu Samhati.A/C no-35195690885(S.B.I.).IFS code:SBIN0001767.(01767)-B K PAUL AVENUE(KOlKATA).104/2,B K PAUL AVENUE.KOLKATA.W.B.-700005। আপনাদের দানের অর্থ তাদের ন্যায়বিচার পাবার পথকে সুগম করবে।
দানকৃত অর্থরাশি জমা দেবার লিংক-https://milaap.org/fundraisers/debtanu-bhattacharya -এই লিংকে ক্লিক করলে অর্থ সাহায্য করার অপশন আসবে।

পূর্বস্থলীতে মন্দিরের ষাঁড়কে হত্যা,মামলা দায়ের পুলিশের,অভিযুক্ত ফেরার

দেবতার নামে উৎসর্গ করা ষাঁড়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগে মামলা দায়ের করল পূর্বস্থলী থানার পুলিস। বরিবার বিকেলে পূর্বস্থলীর চণ্ডীপুরে ষাঁড় মারার ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ষাঁড়টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। কাছাকাছি পশুদের ময়নাতদন্তের কোনও ব্যবস্থা না থাকায় থানা চত্বরে পশু চিকিৎসক নিয়ে এসে ষাঁড়টির ময়নাতদন্ত করায় পুলিস।
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্বস্থলীর মেড়তলা পঞ্চায়েতের চণ্ডীপুর এলাকার শিবমন্দিরে ভক্তরা মানত পূরণের উদ্দেশ্যে একটি ষাঁড় ছেড়ে দিয়ে যান। দেবতার নামে উৎসর্গ ষাঁড়টি বেশ কিছুদিন ধরেই গ্রামে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। ষাঁড়টি গ্রামের মধ্যে কখনও গৃহস্থের গাছপালা ও চাষের জমিতে নেমে ফসলের ক্ষতি করছিল। রবিবার বিকেলে ষাঁড়টি স্থানীয় বাসিন্দা শুকচাঁদ ঘোষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। সেই সময় সে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে ষাঁড়টিকে আঘাত করে। কিছুক্ষণ পরই ষাঁড়টি মারা যায়। পশুটিকে এভাবে মেরে ফেলার ঘটনাটি এলাকার অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। এই ঘটনার পরই এলাকার বাসিন্দারা পুলিসে খবর দেন। পুলিস মৃত ষাঁড়টি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গিয়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। এরপরই অভিযুক্ত শুকচাঁদ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে।
কালনার এসডিপিও শান্তনু চৌধুরী বলেন, চণ্ডীপুরে একটি ষাঁড়কে মেরে ফেলার ঘটনায় কেস রুজু হয়েছে। পশু চিকিৎসককে ডেকে মৃত ষাঁড়টির পরীক্ষা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তর খোঁজ চলছে।

কালনার ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা তপন ঘোষ

tapandaগত ২৯শে এপ্রিল, রবিবার বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন কালনা মহকুমার অন্তর্গত জামালপুরের বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী বুড়ো ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। শ্রী ঘোষ মহাশয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী বিশ্বজিৎ মজুমদার। মেলাতে শ্রী ঘোষ মহাশয়কে ঘিরে সাধারণ হিন্দু জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ আর উন্মাদনা ছিল। সকলে হাতে থাকা অস্ত্র আকাশের দিকে তুলে শ্রী ঘোষ মহাশয়কে স্বাগত জানান। এই মেলাতে  বর্ধমান,নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে প্রচুর ভক্ত বুদ্ধপূর্ণিমার দিন আসেন। সকলে অস্ত্র নিয়ে খেলতে খেলতে আসেন ধর্মরাজের মন্দিরে পুজো দিতে। অনেকে এই মন্দিরে মানদ করেন। তারপর মনোকামনা পূর্ণ হলে পশু বলি দেন। এইবারে প্রচুর ভক্ত মন্দিরে পূজাসহ  পশু বলি দেন।

মেদিনীপুরের স্কুলে মুসলিম ছাত্রের মৃত্যু, হিন্দু বাড়িঘর-দোকানে আগুন দিলো মুসলিম জনতা

গত ২০শে এপ্রিল, শুক্রবার  পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুকের শ্রীরামপুরের এগ্রিকালচার হাইস্কুলের হোস্টেলে নবম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল গাজীর অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর স্কুলের প্রধানশিক্ষক জানান যে এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করবে। কিন্তু মৃত ছাত্রের পরিবারের লোকজন সে কথা শুনতে চাননি। তারা স্কুলে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। সেই সময় স্কুলে অল্প ভাঙচুর চালানো হয়। কিন্তু পরেরদিন ২১শে এপ্রিল,শনিবার  আসরে নামে জিহাদি মানসিকতার মুসলিম সংগঠন অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি এসোসিয়েশন (আইমা)। ঐদিন রাত্রে তারা বিক্ষোভের নাম করে দূর দূরান্ত থেকে কয়েকহাজার মুসলমানকে জড়ো করে। তারা হাতে ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর নাম করে স্কুলের আশেপাশে থাকা একের পর হিন্দু দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। স্কুলের সামনে থাকা একটি টিফিন স্টলে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দোকানটি পুরো পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পাশে থাকা একটি একটি টালির বসতবাড়ি ভাঙচুর করে মুসলিম জনতা। এছাড়া আশেপাশে থাকা অনেকগুলি হিন্দু বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুন লাগানো হয়। তবে কাছে থাকা একটি মুসলিম বস্তিতে হাত দেয়নি দাঙ্গাকারী মুসলমানরা। স্থানীয় হিন্দুরা জানিয়েছেন যে মুসলিমরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী হিন্দুদের আক্রমণ করার মানসিকতা নিয়ে এসেছিলো। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশবাহিনী ও RAF ব্যাপক লাঠিচার্জ করে ডাঙায় উন্মত্ত মুসলিম জনতাকে হঠিয়ে দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে এও জানিয়েছেন যে, পুলিশ যদি লাঠিচার্জ করে মুসলিম জনতাকে না সরিয়ে দিতো,তাহলে তমলুকের বুকে আর একটা ধুলাগড় হয়ে যেতে পারতো।

হিন্দু সংহতির সমুদ্রগড় শাখার মা কালীর আরাধনায় আমন্ত্রিত সংহতি সভাপতি

গতকাল ১৭ই এপ্রিল,মঙ্গলবার হিন্দু সংহতির বর্ধমান জেলার সমুদ্রগড় শাখার উদ্যোগে শক্তির দেবী মা কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় এবং হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়। এছাড়া কালীপূজা উপলক্ষই যজ্ঞ  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এছাড়া এই অনুষ্ঠানের মণ্ডপে শিয়ালদহ স্টেশনের নাম শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রেল ট্যার্মিনাস করার যে দাবি হিন্দু সংহতি জানিয়ে আসছে, তা নিয়ে একটি ফ্লেক্স দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে সমুদ্রগড় ছাড়াও আশেপাশের নাদনঘাট এলাকা থেকে বিশালসংখক হিন্দু জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।

বর্ধমানের আলমপুরে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

গত ১৫ই এপ্রিল, রবিবার রাতে বর্ধমান-গুসকরা রোডে আলমপুরে আগ্নেয়াস্ত্র সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিস। ধৃতদের নাম আমির আলি, শেখ আজাদ, মানিক সাহা, পলাশ রাজমল ও শেখ জাহাঙ্গির। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে একটি পাইপগান, এক রাউন্ড গুলি, ভোজালি, হাঁসুয়া ও লাঠি পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিসের দাবি। পুলিস তাদের গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে। রাস্তায় ডাকাতির পরিকল্পনায় তারা সেখানে জড়ো হয়েছিল বলে পুলিসের অনুমান।গতকাল ১৬ই এপ্রিল, সোমবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হলে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন সিজেএম রতনকুমার গুপ্তা।

স্ত্রী-এর সাথে পরকীয়া, খোকন মোল্লাকে খুন করে শাস্তি দিলো সত্য অধিকারী

বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী-২ ব্লকের মুকসিমপাড়া পঞ্চায়েতের কেশববাটী গ্রামের বাসিন্দা খোকন মোল্লা (২৭) বছর তিনেক ধরে পাটুলি থেকে মহাদেবপুর রুটে অটো চালাতেন। স্থানীয় নানা সূত্রের দাবি, উত্তর শ্রীরামপুরের বাসিন্দা সত্য অধিকারীর স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাড়িও ছাড়েন ওই মহিলা। এলাকাবাসীর দাবি, তাঁদের নদিয়ার বেথুয়াডহরিতে একটি ভাড়া বাড়িতে রাখেন খোকন। তার পর থেকেই বছর পঁয়ত্রিশের সত্যর সঙ্গে খোকনের বিবাদ চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ন’মাথা মোড়ের আশপাশে সত্য কখনও আখ, কখনও ডাব বিক্রি করে। এ দিন সে রাস্তার পাশে ডাব বিক্রি করছিল। সঙ্গে ছিল ধারাল হাঁসুয়া। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন অটো চালিয়ে যাতায়াত করতেন খোকন। এ দিন সকাল ৯টা নাগাদ খোকনের অটো যাত্রী নিয়ে ন’মাথার মোড়ে পৌঁছয়। অভিযোগ, তার পরেই সত্য দ্রুত অটোর কাছে গিয়ে কিছু বুঝে ওঠার আগে হাঁসুয়া দিয়ে খোকনের গলায় কোপ মারে। আশপাশের লোকজন দ্রুত খোকনকে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলেও সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র রাণীগঞ্জ, মৃত ১, গুরুতর আহত পুলিশ আধিকারিক

গতকাল রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের  বচসা ও সংঘর্ষ মেটাতে গিয়ে বোমার আঘাতে ডান হাত গুরুতরভাবে জখম হল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি(সদর) অরিন্দম দত্তরায়চৌধুরীর।  ইঁটের ঘায়ে এসিপি(সেন্ট্রাল) অজয় চট্টোপাধ্যায়ের পায়ে ও রানিগঞ্জ থানার ওসির মাথায় চোট লেগেছে।  তিন পুলিশকর্মীর মাথা ফেটেছে. খবর চাউর হতেই শহরের সব দোকান ও বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়. পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি এখন থমথমে। ঘটনার সূত্রপাত এ দিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ হিলবস্তি থেকে একটি ডিজে সহ শোভাযাত্রা বের হয়। একটি বিশেষ গান বাজানোকে কেন্দ্র করে রাজার বাঁধ মোড়ে বেশকিছু মুসলমান যুবকের সঙ্গে শোভাযাত্রায় সামিল যুবকদের প্রথমে বচসা ও পড়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়। জানা গেছে গানটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রথমে ইঁট ছোড়ে স্থানীয় মুসলমান যুবকরা। তারপর উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।  কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বাড়িতে আগুন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রানিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এক পুলিশকর্মীর মাথা ফাটে। অল্প সময়ের মধ্যে শহরজুড়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রানিগঞ্জ বড়বাজার, কলেজপাড়া, মারোয়ারি পট্টি, শিবমন্দির রোড, তারবাংলা ও হাটতলায় ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগে সামিল হয় দু পক্ষ। এভাবে প্রায় চল্লিশটি দোকানে তান্ডব চলে. হামলা চালানো হয় বন্ধ দোকানেও. এরই মধ্যে রাজারবাধে হামলা ঠেকাতে গিয়ে বোমার আঘাতে ডিসি(সদর)এর হাত গুরুতর জখম হয়। সাহেববাধ মোড়ের কাছে এসিপি(সেন্ট্রাল) অজয় চট্টোপাধ্যায়ের বাঁ পা ও ওসির মাথা ফেটে যায়। এদিন খবর পেয়ে আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তেওয়ারি ঘটনাস্থলে গিয়ে দু গোষ্ঠীর কাছে এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আবেদন করেছেন। শান্তিবজায় রাখার আবেদন করেছেন মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। এ দিন বিকেল চারটে নাগাদ পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মীনা, জেলাশাসক, মহকুমাশাসককে সঙ্গে নিয়ে শহরের উত্তেজনা প্রবণ এলাকাগুলো পরিদশন করেন। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। অসমর্থিত সূত্রে এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বর্ধমানে বোমাসহ গ্রেপ্তার শেখ আকাশ

বোমা সহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বর্ধমান থানার পুলিস। ধৃতের নাম শেখ আকাশ। শহরের কেশবগঞ্জচটি এলাকায় তার বাড়ি। পুলিস জানিয়েছে,গত ১৬ই মার্চ, শুক্রবার রাতে সদরঘাটের দিক থেকে একটি নাইলনের থলি নিয়ে আসছিল আকাশ। তেলিপুকুর আন্ডারপাসের কাছে তাকে ধরা হয়। তল্লাশিতে তার কাছে থাকা নাইলনের ব্যাগ থেকে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধার হয়। গতকাল ১৭ই মার্চ, শনিবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতকে তিনদিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস।

আউশগ্রামে গরুচোর আলম খাঁকে গণপিটুনি দিল জনতা

গতকাল ২৫শে ফেব্রুয়ারী, পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম-১ ব্লকের অন্তর্গত সুন্দরপুর গ্রামে গরু চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ল আলম খাঁ নামে এক ব্যক্তি। উত্তেজিত এলাকার বাসিন্দারা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে আউশগ্রাম থানার পুলিশ এসে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের হাত থেকে আলমকে উদ্ধার করতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়ে। পরে পুলিশ এলাকাবাসীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরে আলমকে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। আলমের বাড়ি বীরভূম জেলার নানুর থানার পালুন্দি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে আলম জানিয়েছে, তার সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তি ছিল। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজিত ছিল আউশগ্রাম-১ ব্লকের বিডিও চিত্তজিৎ বসুকেও ঘটনাস্থলে আসতে হয়। তিনিও গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন।

মাদ্রাসা ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করলেন মাদ্রাসারই প্রধান শিক্ষক, বিক্ষোভ কালনায়

ছাত্রীর শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রামবাসীরা৷ গত ২৩শে ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার মোসলেমাবাদ মাদ্রাসায় বছর ১৪-এর এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ৷ শুধু তাই নয়, শ্লীলতাহানির পর বেধড়ক মারধর করা হলে অচৈতন্য হয়ে পড়ে ছাত্রীটি৷ এরপর প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বিক্ষোভ শুরু হয়৷ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খইরুল ইসলাম মণ্ডল নামে অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে৷ কালনা থানার ওসি প্রণব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷’’ ওই ছাত্রীর মা থানায় লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, শুক্রবার মেয়ে মাদ্রাসার সিঁড়ি দিয়ে নামছিল৷ সেই সময় প্রধান শিক্ষক খইরুল ইসলাম মণ্ডল মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন৷ তখন মেয়ে চিৎকার করে উঠলে অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা চলে আসে৷ সেই সময় প্রধান শিক্ষক মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে মারতে শুরু করেন৷ এতে মেয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে৷ খবর পেয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে আটঘরিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও পরে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁরা৷ যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক৷ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ওই ছাত্রীর পরিজনরা তাঁকে মারধর করেছেন বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তিনি৷ অভিযুক্ত শিক্ষক বলেন, ‘‘আমি নমাজ পড়ে মাদ্রাসায় ফিরে বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম৷ তখন দেখি এক অভিভাবক উপরে উঠে আসছেন৷ কিছু বুঝে ওঠার আগেই উনি আমার চোখের নীচে ঘুষি মেরে বলেন, তুই আমার মেয়েকে মেরেছিস৷ আসলে নমাজের পর আমি সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় ওই ছাত্রী দৌড়ে নীচে নামছিল৷ আমার সঙ্গে ধাক্কা লাগায় আমি একটু বকাঝকা করি৷ এরপর আমি তাকে ক্লাসেও বসিয়ে দিয়ে আসি৷ আমাকে মারধর করার পর ওই ছাত্রীকে ডেকে তার সামনেই পুরো বিষয়টি বলি৷ কয়েকজন ছাত্রছাত্রীও ঘটনার সাক্ষী রয়েছে৷ তা সত্ত্বেও এখন আমার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করা হচ্ছে৷’’ ওই ছাত্রী অবশ্য দাবি করেছে, প্রধান শিক্ষক তাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন৷ তার শরীরে হাত দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। সে চিৎকার করতেই তাকে মারধর করা হয়৷ অভিভাবকরা বলেন, মেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না তাঁরা৷ ওই শিক্ষকের শাস্তির দাবি করেন তাঁরা৷