কলকাতায় পালিত হলো প্রতাপাদিত্য উৎসব

গতকাল  বঙ্গের বীরযোদ্ধা মহারাজা প্রতাপাদিত্যের স্মরণে কলকাতায় পালিত হলো ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’। এই উৎসবের আয়োজক ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক একটি সংগঠন। এই অনুষ্ঠানে সহযোগী ছিল #হিন্দু_সংহতি। কলকাতার থিওসোফিক্যাল সোসাইটি হলে এই অনুষ্ঠানে কলকাতার বহু জ্ঞানী-গুণী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সবাই মহারাজা প্রতাপাদিত্যের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রতাপাদিত্য স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শ্রী

 বিমল নন্দী, শ্রী সব্যসাচী বাগচী এবং সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির গর্বের ইতিহাস প্রতাপাদিত্যের সাশনকালের বিভিন্ন দিক, মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বাঙালি হিন্দুর হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কিভাবে তাঁর থেকে প্রেরণা পেতে পারে, তা তুলে ধরেন। সব্যসাচী বাগচী তার বক্তব্যে বলেন যে, প্রতাপাদিত্য মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলায় হিন্দু শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই গৌরবের দিনগুলিকে বাঙালির ভুলে গেলে চলবে না।বরং তা থেকে প্রেরণা নিয়ে বাঙালি হিন্দুকে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটতে হবে । সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর মধ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া লড়াইয়ের ধারাটি তুলে ধরেন।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে না, এ এক মিথ্যে প্রচার। বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে ।তবু বারবার বাঙালি হিন্দুকে হারতে হয়।তার কারণ বাঙালির মধ্যে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার অভাব। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সবাইকে বাঙালি হিন্দুর গৌরব ফেরানোর লড়াইয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই বাঙালি তাঁর হৃৎগৌরব ফিরে পাবে। এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে মহারাজা প্রতাপাদিত্য স্মরণে একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। সেটি প্রকাশ করেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য। এছাড়াও আয়োজকদের তরফে কল্যাণ সরকার, ধ্রুব মহাজন, প্রবীর ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানের আয়োজকরা লাভ জিহাদ ও নারী পাচার প্রতিরোধ করার কাজে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য হাওড়া জেলার শ্রী লাল্টু শী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শ্রী দীনবন্ধু ঘরামীর বিশেষ সম্মান প্রতাপাদিত্য পদক তুলে দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চলনা করেন শ্রী অনিমিত্র চক্রবর্তী।

শিয়ালদহ স্টেশনে গ্রেপ্তার মালদহের জালনোট পাচারকারী সাহাবুল শেখ

কলকাতা শহর থেকে ফের উদ্ধার হলো জালনোট। এবার শহরের ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাহাবুল শেখ নামে মালদহের এক জালনোটের পাচারকারীকে। গত ১৮ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফ সূত্রের খবর, মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে এসে কলকাতায় এক এজেন্টের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সাহাবুলের। সে কোন ট্রেনে করে শিয়ালদহে আসছে, সেই তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পারে এসটিএফ। তারপরেই নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। রাতেই ট্রেন থেকে নামতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করে এসটিএফ-এর অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া টাকার সবটাই দু’হাজার টাকার নোটের। ধৃতকে প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে কলকাতায় জালনোট ছড়ানো হতো। এর আগেও সাহাবুল কলকাতায় এসে জালনোট দিয়ে গিয়েছে। আরও তথ্য জানার জন্যে তাকে জেরা করছেন এসটিএফ-এর অফিসাররা।

নিউ টাউনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী

কলকাতার নিউ টাউন থানার পুলিস এক বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম জাকির হোসেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। জানা গিয়েছে,  সে দীর্ঘদিন কলকাতায় এসে গৌরাঙ্গনগরে ভাড়া থাকছিলো। গত ১৭ই এপ্রিল গৌরাঙ্গনগর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মন্ডল থানায় অভিযোগ জানান যে  স্থানীয় মুসলিম যুবক জাকির তাঁর মেয়েকে হুমকি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে নিউ টাউন থানার পুলিস। কিন্তু থানায় এসে জাকির আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড জমা দেয় ।কিন্তু পুলিস তদন্তে জানতে পারে এ সব জাল। তারপরেই তাকে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং হুমকিসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিউ টাউন থানার পুলিস।

অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তর; জোড়াবাগান থানায় ডেপুটেশন দিলো হিন্দু সংহতি

কলকাতার দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তরের ঘটনায় জোড়াবাগান থানায় আজ হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। হিন্দু সংহতির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ ও শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী অমিত মালী। প্রসঙ্গত, দুই বোনের মধ্যে ছোটবোনকে উদ্ধার করতে পারলেও, অপহরণকারী মুসলিম যুবককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। সেই কারণে ওই অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে এই ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এছাড়াও, থানার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। আলোচনার শেষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেয় পুলিস।

কলকাতার বুকে ২ হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তকরণ, উদ্ধার ১

কলকাতা শহরের বুকে দুই বোনকে  অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তর করলো দুই মুসলিম যুবক। দুজনের মধ্যে একজন নাবালিকা এবং আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক। জানা গিয়েছে, কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকার বাসিন্দা দুই বোন বিনীতা ঠাকুর এবং পরি ঠাকুর (নাম পরিবর্তিত) নামে  দুই বোনকে অপহরণ করে মুসলিম যুবকেরা । মেয়েটির বাবা জানিয়েছেন যে গত ১১ই মার্চ তারিখ থেকে তাঁর দুই কন্যা নিখোঁজ ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন যে এলাকার দুই মুসলিম ছেলে শাহবাজ খান এবং আহমেদ খান তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে গিয়েছে, যারা প্রথমে নিজের হিন্দু পরিচয় দিয়েছিলো।  সেদিনই তিনি জোড়াবাগান থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিস তার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো FIR দায়ের করেনি।   থানার অফিসাররা ছোট বোন পরিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন। তাঁর মুখ থেকে ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা জানা যায়। পরি জানিয়েছে যে ওই দুই মুসলিম যুবক তাদেরকে ভয় দেখায় যে তাদের সঙ্গে না গেলে তাঁর বাবা-মাকে খুন করা হবে। ভয় পেয়ে তারা ওই দুই মুসলিম যুবকের সঙ্গে যেতে রাজি হয়। তারপর তাদেরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে দুই মুসলিম যুবককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিস পরিকে উদ্ধার করতে পারলেও, বিনীতাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেইসঙ্গে পরিকে তাঁর বাবার হাতে তুলে দিলেও কোনো মেডিকেল করায়নি পুলিস এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পস্কো(POSCO ) ধারা যোগ করেনি পুলিস। কোনো উপায় না পেয়ে, তাদের পিতা গত ১২ই  মার্চ জোড়াবাগান থানায় আর একবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন(GD নং -৯৩৫)। পরির পিতা আরো জানিয়েছেন যে তাদের দুই মেয়েকে কলকাতার বড়বাজার এলাকার “বড়ি মসজিদে” ধর্মান্তর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী বড়ো বোন বিনীতাকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস।

শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিন্দু সংহতি

কলকাতার শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিল পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের আশা-ভরসা হিন্দু সংহতি । এই অনুষ্ঠান কলকাতার বিধান গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের সমস্ত সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রামায়ণের সুন্দরকান্ড তুলে ধরেন কথাকার। অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যকে শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের পক্ষ থেকে স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। স্মারক তুলে দেন সালাসার ভক্তবৃন্দের সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র মোদীজি, সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় পোদ্দার ছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সভাপতি ছাড়াও সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, প্রমুখ কর্মী শ্রী টোটন ওঝা এবং শ্রী অমিত মালী উপস্থিত ছিলেন।

এন্টালিতে জালনোটসহ গ্রেপ্তার তাফজুল হক

fake currency newমালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতার এজেন্টের হাতে তুলে দেবার সময় কলকাতা পুলিসের টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হলো মালদহের এক জালনোট কারবারি।  কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতের নাম তাফজুল হক। তাঁর বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। তাকে গত ১৮ই মার্চ, সোমবার রাতে এন্টালি থানা এলাকার সিআইটি রোড থেকে ধরা হয়। তাঁর কাছ থেকে দু লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগটাই দু হাজার টাকার নোট। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র মালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতা শহরে এজেন্টের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিসের হাতে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এর আগেই।এই নোট আসছে বাংলাদেশ থেকে। গোয়েন্দারা ধৃতকে জেরা করে আরও বিশদে জানতে চাইছেন।

কলকাতায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় বসিরহাট থেকে গ্রেফতার রবিউল ইসলাম

বিস্ফোরকবোঝাই ম্যাটাডোর উদ্ধারের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেফতার করল এসটিএফ। ধৃতের নাম রবিউল ইসলাম। বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় এই নিয়ে মোট ৩ জনকে গ্রেফতার করা হল।

পুলিস সূত্রে খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় রবিউল ইসলামকে। ধৃত ম্যাটাডোর চালক ও খালাসিকে জেরা করে রবিউল ইসলামের খোঁজ পান তদন্তকারী অফিসাররা। জানা গিয়েছে, এই রবিউল ইসলাম-ই পটাসিয়াম নাইট্রেট-এর বরাত দিয়েছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকাতেই মজুত করা হত বাজেয়াপ্ত ১০০০ কিলোগ্রাম পটাসিয়াম নাইট্রেট। এসটিএফ-এর অনুমান, তারপর সেখানেই বানানো হত বিস্ফোরক।

পুলওয়ামা কাণ্ডের ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার জের কাটতে না কাটতেই শুক্রবার রাতে কলকাতায় উদ্ধার হয় বিস্ফোরকবোঝাই লরি। টালা ব্রিজের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই লরিটি উদ্ধার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। লরির ভিতর থেকে মোট ২৭টি ব্যাগে কমপক্ষে ১০০০ কেজি পটাশিয়াম নাইট্রেট বাজেয়াপ্ত করা হয়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শুক্রবার রাতে অভিযান চালায় এসটিএফ। তখনই টালা ব্রিজের কাছে আটক করা হয় লরিটি। গ্রেফতার করা হয় লরির চালক ও খালাসিকে।

জেরায় ধৃতরা জানায়, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে এই চক্র চালানো হত। ওড়িশার বালেশ্বর থেকে নিয়ে আসা হচ্ছিল বিস্ফোরক। উত্তর ২৪ পরগনার একটি জায়গায় এই বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এরপরই বসিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে রবিউলকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।

মাইক বন্ধের নামে মন্দিরে পুলিসের ভাঙচুরের অভিযোগ, বিক্ষোভে রণক্ষেত্র নিউ টাউনের পাথরঘাটা


new townমন্দিরের মাইক বাজানো বন্ধকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার নিউটাউনের পাথরঘাটা গ্রাম। গ্রামবাসী-পুলিস খণ্ডযুদ্ধে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পাথরঘাটা গ্রাম। এলাকায় তুমুল উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, লাউডস্পিকার বন্ধের নামে মন্দিরে ভাঙচুর চালায় পুলিস। আর তারপরই পুলিসের ওপর হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী। টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা।
অভিযোগ, ভরা পরীক্ষার মরসুমে গভীর রাতেও মাইক বাজানো হচ্ছিল মন্দিরে। তাতে আপত্তি জানায় পুলিস। মাইক বন্ধ করে দিতে বলে পুলিস। এরপরই এককথা-দুকথায় বচসা শুরু হয়ে যায়। বচসা গড়ায় বিক্ষোভে। অভিযোগ, এরপরই মাইক বন্ধের নামে মন্দিরে ভাঙচুর চালায় পুলিস। আর এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী। রাস্তায় টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিক্ষোভকারীরা। যত সময় গড়ায় তত উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
গ্রামে ঢোকার রাস্তা বন্ধ করে দেয় উত্তেজিত জনতা। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয় গ্রামে ঢোকার পথ। অশান্তির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন পঞ্চায়েত প্রধান এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি। তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে দেখে তখনকার মত এলাকা ছেড়ে চলে যায় পুলিস।
তারপর আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি, সকালে আবার নতুন করে উত্তেজনা ছাড়ায় পাথরঘাটা গ্রামে। বন্ধ সমস্ত দোকানপাট। কোনও গাড়িও চলছে না এলাকায়। এদিন সকালে আবার গ্রামে ঢোকে পুলিস। আর গ্রামে ফের পুলিস ঢোকার খবর পেয়েই মারমুখী হয়ে ওঠে বিক্ষোভকারীরা। অভিযোগ, ভাঙচুর করা হয় পুলিসের গাড়ি। উত্তেজিত জনতা বেধড়ক মারধর করে পুলিসকে।

চলন্ত বাসে মহিলার শ্লীলতাহানি, গ্রেপ্তার ৩ মুসলিম যুবক

প্রথমে মহিলাকে দেখে অশ্লীল মন্তব্য। তার পর গায়ে পড়ার চেষ্টা। বারবার বিরক্তি প্রকাশ করছিলেন মহিলা। কিন্তু নিরস্ত করতে পারেননি। বরং, উত্যক্ত করার মাত্রা বাড়তেই থাকে। এমনকী, মহিলার মোবাইল নম্বর নেওয়ার অছিলায় তাঁর গায়েও হাত দেয় এক যুবক। চলন্ত বাসে বেশ কিছুক্ষণ ধরেই চলছিল এই পর্ব। সহযাত্রীদের কেউ কেউ সামান্য বিরক্তি প্রকাশ করলেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। শেষমেশ তরুণীর চিৎকারে টহলদারি পুলিশ বাস থামিয়ে পাকড়াও করল তিনজনকেই। ঘটনাটি গত ২৬শে জানুয়ারী,  শনিবার রাতে প্রগতি ময়দান থানা এলাকার। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা হলেন পারভেজ, মুজিবর ও আফতাব। তাঁরা বাসন্তী হাইওয়ের ধারে একটি চামড়ার কারখানায় কাজ করেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, কটূক্তি ও একই উদ্দেশে অপরাধের মামলা রুজু হয়েছে।

কলকাতার নারকেলডাঙায় চার লক্ষাধিক টাকার জালনোটসহ ধৃত ২

জালনোটের কারবারের রমরমা চলছে পশ্চিমবঙ্গে। আর প্রতিক্ষেত্রেই জালনোট আসছে সেই মালদহের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকেই। গতকাল ৪ঠা জানুয়ারী, শুক্রবার  কলকাতায় দুই জালনোট কারবারির গ্রেপ্তারে তারই প্রমান মিললো। কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারকেলডাঙা থানা এলাকার স্বর্ণময়ী স্ট্রিট থেকে কলকাতার ২ বাসিন্দা এবং মালদহের এক জালনোট কারবারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪লক্ষ টাকারও বেশি জালনোট। গ্রেপ্তার হওয়া দুই জন হলো মহম্মদ আক্রম আলী এবং মহম্মদ গুডডু কুরেশি। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি তিলজলাতে এবং অপরজনের বাড়ি তপসিয়াতে। এরা মালদহ থেকে জালনোট নিয়ে এসে কলকাতার বিভিন্ন বাজারে ছড়িয়ে দিতো। এদের সঙ্গে মালদহের জালনোট কারবারি আনারুল হক-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। আনারুল হক আবার বাংলাদেশ থেকে জালনোট ভারতে নিয়ে আসতো এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিতো। ধৃতদের জেরা করে এই কারবারে আর কারা কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে ধর্ষণ, নূর আলমকে ১৫ বছর কারাদণ্ডের সাজা শোনালো আদালত

FB_IMG_1545281049325কলকাতার ফুলবাগান এলাকার ১৩ বছর বয়সী এক হিন্দু কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত নূর আলমকে ১৫বছরের কারাদণ্ডের সাজা শোনালো আদালত।  সেই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬০,০০০টাকা দিতে হবে মেয়েটিকে। কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ইংরেজি ২০১৭ সালের ১৮ই মে তারিখের। ঐদিন সন্ধ্যায় কলকাতার ফুলবাগান থানায় বিবি লেনের বাসিন্দা প্রভাত লেনকা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাঁর ১৩বছর বয়সী নাবালিকা কন্যাকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে এসআই অরুনাভ কুণ্ড -এর নেতৃত্বে তদন্তে নামে ফুলবাগান থানার পুলিস। তদন্তে নেমে ২ মাসের মধ্যে শিলিগুড়ির প্রধানগর এলাকা থেকে নূর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিস; সেই সঙ্গে নাবালিকাকে উদ্ধারও করা হয়। পুলিশি জেরায় নূর আলম জানায় যে তার বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার বিসাহার গ্রামে। সে ঐদিন ফুলবাগানের সুভাষ বিদ্যাপীঠের সামনে থেকে ওই নাবালিকাকে অপহরণ করে শিলিগুড়ি নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। পরে তার বিরুদ্ধে পসকো আইনে মামলা দায়ের করে পুলিস। কয়েকদিন আগেই সেই ঘৃণ্য অপরাধের সাজা শোনালো আদালত। আদালতের রায়ে এবং পুলিসের ভূমিকায় মেয়েটির পরিবার স্বস্তির নিঃস্বাস ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হিন্দু পরিচয়ে ৪টি বিয়ে, আরও ৩টি বিয়ে করার আগে দিঘা থেকে গ্রেপ্তার শেখ মুজিবর রহমান

mujiborসেক্স-জিহাদের এক নতুন রূপ দেখা গেলো কলকাতার একটি ঘটনায়। হিন্দু নাম ও পরিচয় নিয়ে একের পর এক বিয়ে করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যেত শেখ মুজিবর রহমান। এইরকম করে একটা-দুটো নয়, পর পর চারটি বিয়ে করেছিল সে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই মেয়ের বাড়ির লোক আধার কার্ড বা পরিচয় পত্র দেখতে চাননি। আর তাই প্রতারিত হতে হলো মুসলিম যুবকের দ্বারা। আরো তিনটি বিয়ে করার মতলবে ছিল সে। কিন্তু তার আগেই দিঘা থেকে গ্রেপ্তার করলো কলকাতার সরশুনা থানার পুলিস। পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ওই মুসলিম যুবকের আসল বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত দেওয়ানদিঘি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। সে নিজেকে অভিজিৎ মন্ডল বলে পরিচয় দিতো। কিন্তু আধার কার্ড-এ তার নাম রয়েছে শেখ মুজিবর রহমান। এমনকি বিয়ে করার জন্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতো। নিজেকে সিআরপিএফ-এর জওয়ান বলে পরিচয় দিতো। একই ভাবে মাস তিনেক আগে বেহালার সরশুনার বাসিন্দা এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করে শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু কয়েক মাস পরেই সে বেপাত্তা হয়ে যায়। সেই তরুণী প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন সরশুনা থানায়। তার পরেই তদন্তে নেমে গত ৩রা ডিসেম্বর, সোমবার রাত্রে দিঘার হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ মুজিবরকে গ্রেপ্তার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ঘন ঘন সিমকার্ড বদলানোর ফলে তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু গ্রেপ্তার করার পর সব শুনে পুলিস অফিসাররাও হতবাক। কিন্তু এইসব করার পিছনে কারণ কি,তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

কলকাতার হলদিরাম বাস-স্টপ এর নাম এখন হজ হাউস বাস স্টপ

IMG-20181115-WA0035কলকাতা এয়ারপোর্টের  দিকে বাসে করে যেতে গেলে হলদিরাম বলে একটি বাস স্টপ ছিল, যেখানে বাস দাঁড়াতো। কিন্তু ওখানে সরকারি উদ্যোগে তৈরি কোনো যাত্রীদের বসার বা অপেক্ষা করার শেড ছিল না। কিন্তু কিছুদিন আগেই মানুষজনের নজরে আসে যে ওখানে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্যে একটি শেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং নাম দেওয়া হয়েছে হজ হাউস বাস স্টপ। তবে এই নতুন নামকরণ নিয়ে সুশীল সমাজের অনেক মানুষই আপত্তি জানিয়েছেন। হঠাৎ কি কারণে এই নতুন নামকরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের বক্তব্য, এই বাংলা যে ক্রমাগত ইসলামীকরণের দিকে  এগিয়ে চলেছে, এ তারই নমুনা। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ”আজ সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাম পরিবর্তন করা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু একইরকম ভাবে এই পশ্চিমবঙ্গেও নাম পরিবর্তন হয়ে চলেছে, তবে তা চুপিসারে। এমনকি মিডিয়া থেকে সংবাদপত্র কোথাও প্রকাশিত হচ্ছে না। কিন্তু কিছুদিন আগেই উত্তর দিনাজপুরের একটি স্কুল ইসলামপুরের জায়গায় ঈশ্বরপুর লেখাতে রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানালেও,আজ কলকাতার  হলদিরাম বাস-স্টপের  নাম পরিবর্তিত হয়ে হজ হাউস হওয়ায় তাঁরা চুপ কেন?” তিনি আরও বলেন, ”পশ্চিমবাংলার এই নিঃশব্দ ইসলামীকরণের প্রতিবাদে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।”

নিউ টাউনে নাবালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার মহম্মদ আসলাম

নিউ টাউনে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার দায়ে  এক যুবককে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। গত ১৮ই জুন, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউ টাউনের হাতিয়াড়ায়। ধৃতের নাম মহম্মদ আসলাম। পরেরদিন মঙ্গলবার রাতে আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকে দিদির বাড়িতে যাচ্ছিল মেয়েটি। রাস্তায় আচমকাই তাকে মুখ চেপে একটি অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায় কয়েকজন ছেলে। সেখানেই তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছে, কোনও মতে সে নিজেকে ওই যুবকদের হাত থেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসে। সোজা বাড়িতে এসে অভিভাবকদের ঘটনার কথা জানায় মেয়েটি। এর পরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। রাতেই নিউ টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন, অপহরণ, গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। নাবালিকার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নিউ টাউন থানার পুলিশ। গতকাল ২০শে জুন, বুধবার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আসলামকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।