হিন্দু পরিচয়ে ৪টি বিয়ে, আরও ৩টি বিয়ে করার আগে দিঘা থেকে গ্রেপ্তার শেখ মুজিবর রহমান

mujiborসেক্স-জিহাদের এক নতুন রূপ দেখা গেলো কলকাতার একটি ঘটনায়। হিন্দু নাম ও পরিচয় নিয়ে একের পর এক বিয়ে করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যেত শেখ মুজিবর রহমান। এইরকম করে একটা-দুটো নয়, পর পর চারটি বিয়ে করেছিল সে। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই মেয়ের বাড়ির লোক আধার কার্ড বা পরিচয় পত্র দেখতে চাননি। আর তাই প্রতারিত হতে হলো মুসলিম যুবকের দ্বারা। আরো তিনটি বিয়ে করার মতলবে ছিল সে। কিন্তু তার আগেই দিঘা থেকে গ্রেপ্তার করলো কলকাতার সরশুনা থানার পুলিস। পুলিসের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ওই মুসলিম যুবকের আসল বাড়ি পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত দেওয়ানদিঘি। তার বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। সে নিজেকে অভিজিৎ মন্ডল বলে পরিচয় দিতো। কিন্তু আধার কার্ড-এ তার নাম রয়েছে শেখ মুজিবর রহমান। এমনকি বিয়ে করার জন্যে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিতো। নিজেকে সিআরপিএফ-এর জওয়ান বলে পরিচয় দিতো। একই ভাবে মাস তিনেক আগে বেহালার সরশুনার বাসিন্দা এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করে শেখ মুজিবর রহমান। কিন্তু কয়েক মাস পরেই সে বেপাত্তা হয়ে যায়। সেই তরুণী প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন সরশুনা থানায়। তার পরেই তদন্তে নেমে গত ৩রা ডিসেম্বর, সোমবার রাত্রে দিঘার হোটেল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, শেখ মুজিবরকে গ্রেপ্তার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে তাদের। ঘন ঘন সিমকার্ড বদলানোর ফলে তার নাগাল পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিন্তু গ্রেপ্তার করার পর সব শুনে পুলিস অফিসাররাও হতবাক। কিন্তু এইসব করার পিছনে কারণ কি,তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।

Advertisements

কলকাতার হলদিরাম বাস-স্টপ এর নাম এখন হজ হাউস বাস স্টপ

IMG-20181115-WA0035কলকাতা এয়ারপোর্টের  দিকে বাসে করে যেতে গেলে হলদিরাম বলে একটি বাস স্টপ ছিল, যেখানে বাস দাঁড়াতো। কিন্তু ওখানে সরকারি উদ্যোগে তৈরি কোনো যাত্রীদের বসার বা অপেক্ষা করার শেড ছিল না। কিন্তু কিছুদিন আগেই মানুষজনের নজরে আসে যে ওখানে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্যে একটি শেড নির্মাণ করা হয়েছে এবং নাম দেওয়া হয়েছে হজ হাউস বাস স্টপ। তবে এই নতুন নামকরণ নিয়ে সুশীল সমাজের অনেক মানুষই আপত্তি জানিয়েছেন। হঠাৎ কি কারণে এই নতুন নামকরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। তাদের বক্তব্য, এই বাংলা যে ক্রমাগত ইসলামীকরণের দিকে  এগিয়ে চলেছে, এ তারই নমুনা। এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য বলেন, ”আজ সারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাম পরিবর্তন করা নিয়ে জলঘোলা হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে। কিন্তু একইরকম ভাবে এই পশ্চিমবঙ্গেও নাম পরিবর্তন হয়ে চলেছে, তবে তা চুপিসারে। এমনকি মিডিয়া থেকে সংবাদপত্র কোথাও প্রকাশিত হচ্ছে না। কিন্তু কিছুদিন আগেই উত্তর দিনাজপুরের একটি স্কুল ইসলামপুরের জায়গায় ঈশ্বরপুর লেখাতে রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীরা প্রতিবাদ জানালেও,আজ কলকাতার  হলদিরাম বাস-স্টপের  নাম পরিবর্তিত হয়ে হজ হাউস হওয়ায় তাঁরা চুপ কেন?” তিনি আরও বলেন, ”পশ্চিমবাংলার এই নিঃশব্দ ইসলামীকরণের প্রতিবাদে সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদেরও এগিয়ে আসা উচিত।”

নিউ টাউনে নাবালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার মহম্মদ আসলাম

নিউ টাউনে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করার দায়ে  এক যুবককে গ্রেপ্তার করল বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। গত ১৮ই জুন, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নিউ টাউনের হাতিয়াড়ায়। ধৃতের নাম মহম্মদ আসলাম। পরেরদিন মঙ্গলবার রাতে আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জানা গিয়েছে, সোমবার গভীর রাতে নিজের বাড়ি থেকে দিদির বাড়িতে যাচ্ছিল মেয়েটি। রাস্তায় আচমকাই তাকে মুখ চেপে একটি অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায় কয়েকজন ছেলে। সেখানেই তার উপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছে, কোনও মতে সে নিজেকে ওই যুবকদের হাত থেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে আসে। সোজা বাড়িতে এসে অভিভাবকদের ঘটনার কথা জানায় মেয়েটি। এর পরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার। রাতেই নিউ টাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন, অপহরণ, গণধর্ষণ-সহ একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। নাবালিকার মেডিক্যাল টেস্ট করানো হচ্ছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে নিউ টাউন থানার পুলিশ। গতকাল ২০শে জুন, বুধবার মূল অভিযুক্ত মহম্মদ আসলামকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

কলকাতায় ট্যাক্সি থেকে মহিলাদের ওপর অ্যাসিড হামলা,অভিযুক্ত শেখ নূর মমতাজকে খুঁজছে পুলিশ

দক্ষিণ কলকাতার পণ্ডিতিয়া রোডে গত৬ই মে, রবিবার রাতে ঘটে গেছে আঁতকে ওঠার মতো ঘটনা। চলন্ত ট্যাক্সি থেকে অ্যাসিড ছুঁড়ে পথচারী মহিলাদের  জখম করে পালিয়েছে এক দল দুষ্কৃতিকারী। স্থানীয়রা ট্যাক্সিটিকে তাড়া করলে চালকসহ সবাই ট্যাক্সি ফেলে পালিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত ১০টার দিকে পণ্ডিতিয়া রোড দিয়ে যাচ্ছিল ডব্লুবি০৪এফ৭৫৯৩ নম্বরের একটি হলুদ ট্যাক্সি। গাড়িতে ছিল তিন-চারজন যুবক। ডোভার টেরেসের কাছে হঠাৎই ট্যাক্সির জানালা দিয়ে চালক মহিলাদের উপর অ্যাসিড হামলা চালায়। ট্যাক্সিতে চালক ছাড়াও আরও দু’জন ছিল বলে দাবি প্রত্যদর্শীদের। মূলত মহিলাদেরই টার্গেট করা হয়। অ্যাসিড হামলায় ছয় জন জখম হয়েছেন।এদের প্রত্যেকেরই  অ্যাসিড লেগে হাত,মুখের অনেকটা পুড়ে গিয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ওই তরুণী চালককে রিকি বলে এক স্থানীয় যুবক হিসেবে শনাক্ত করতে পেরেছেন। এক তদন্তকারী অফিসার জানান, রিকি কালীঘাটের নিষিদ্ধ পল্লীতে থাকে। তার ভালো নাম শেখ নূর মুমতাজ। এর আগেও একবার গোলমাল পাকানোর জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল রিকিকে। রিকির খোঁজ করছে পুলিশ। ট্যাক্সিতে আর কারা ছিল? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কি কারণে হামলা? তা নিয়ে ধন্দ্বে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে রিকি পালাতক।

কলকাতার রিপন স্ট্রিটে মাদক কারবারি মহম্মদ সফি গ্রেপ্তার

এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ ধৃতের নাম মহম্মদ সফি ৷ গতকাল ২৪শে মার্চ, শুক্রবার সকালে কলকাতার রিপন স্ট্রিট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়৷ দিন কয়েক আগে পার্ক স্ট্রিটের একটি পানশালার সামনে থেকে একই অভিযোগে গ্রেপ্তার  করা হয়েছিল তিনজনকে৷ পরদিনই ধরা পড়ে আরও একজন৷ তার আগে একই ঘটনায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার  করেছিলেন গোয়েন্দারা৷ লালবাজারের দাবি , চল্লিশ বছরের মহম্মদ সফিও ওই একই চক্রের সদস্য৷ এদিন সকালের বিমানে জয়পুর পালানোর কথা ছিল তার৷ সেখান থেকে আজমের শরীফ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ধৃতের৷ পুলিশ গোপন সূত্রের খবর পেয়ে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে তার সেই ছক ভেস্তে যায়৷ প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জেনেছে , মুম্বই -সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদক নিয়ে এসে তাকলকাতা  শহরের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করার কাজটাই করত সফি৷ সফিকে জেরা করেই চক্রে জড়িত বাকিদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ৷

ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি, সাসপেন্ড টিএমসিপি নেতা আনারুল ইসলাম

ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গত ২১শে ফেব্রুয়ারী, বুধবার সাসপেন্ড করা হল বাঘাযতীন সম্মিলনী কলেজের টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি আনারুল ইসলাম হালদারকে। ডায়মন্ড হারবারের বাসিন্দা আনারুলের বিরুদ্ধে এদিনই কলেজর দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রী ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন তিনি। এমনকী, শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছেও চিঠি লিখে সুবিচার চান। কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা কাউন্সিলার বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত এ প্রসঙ্গে জানান, অভিযোগটি কলেজের জেন্ডার সেল খতিয়ে দেখছে। একটি তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে যার সামনে আজ, বৃহস্পতিবার দু’পক্ষেরই বসার কথা রয়েছে। যতদিন না তদন্ত শেষ করে ওই কমিটি রিপোর্ট জমা দিচ্ছে, ততদিন সাসপেন্ডই থাকতে হবে আনারুলকে।

হিন্দু সংহতির প্রাণপুরুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের পুলিশের

গত ১৪ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার কলকাতার ধর্মতলার রানী রাসমণি এভিনিউতে হিন্দু সংহতির দশম বার্ষিক প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই জনসভাতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার হিন্দু সংহতির কর্মী সমর্থক উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠানের শেষ মুহুর্তে সাংবাদিক নিগ্রহের অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়কে গ্রেপ্তার করে। খবরে প্রকাশ এই গ্রেপ্তার স্বয়ং মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পুলিশ IPC-এর ৩০৭, ৩২৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। কিন্তু পুলিশের এই গ্রেপ্তারীতে অনেকেই চমকে গিয়েছেন। কারণ গত ২০১৪সালের নভেম্বরে এই ধর্মতলায় জমিয়তে-উলেমা-ই-হিন্দের সভা ছিল। সেই সভার নেতা ছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, যিনি বর্তমানে তৃণমূল সরকারের গ্রন্থাগার মন্ত্রী। সেই সভাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ও পুলিশকে প্রচুর মারধর করা হয়। মুসলিমদের মারা ইঁটের আঘাতে কলকাতা পুলিশের তিনজন ডেপুটি কমিশনারের মাথা ফেটে যায়। তারা দৌড়ে ওখান থেকে পালিয়ে ডালহৌসি ক্লাবে আশ্রয় নেন। ভাঙচুর করা হয় ডালহৌসি ক্লাবেও। খবর করতে গেলে ২৪ ঘন্টার সাংবাদিককে বেধড়ক মারধর করা হয়। ২৪ ঘন্টার নিউজভ্যানে ভাঙচুর চালায় মুসলিম জনতা। কিন্তু সেদিনের সেই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের দায়ের করা সেই অভিযোগের বর্তমানে কি অবস্থা, তার খবরও রাজ্যের মানুষের জানা নেই। সেদিনের সেই অপরাধী তোষণের সুবিধা লাভ করে বর্তমানের গ্রন্থাগার মন্ত্রী। কিন্তু সেই ২৪ ঘন্টার সাংবাদিকের মাথায় হালকা আঘাতেই চাটুকার কলকাতা পুলিশ নড়েচড়ে বসলো এবং শ্রী তপন ঘোষকে গ্রেপ্তার করলো। কলকাতা পুলিশের এই হিন্দ-মুসলিমের ভেদাভেদমূলক আচরণে বাংলার হিন্দু জনগণ স্তম্ভিত। শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় মঞ্চের ওপর থাকা সত্বেও তার ওপর খুনের চেষ্টা, মারধর করার অভিযোগ আনাতে অনেক অভিজ্ঞ আইনজীবীও স্তম্ভিত।

তবে এই ঘটনা ঘিরে সংবাদপত্রগুলো একযোগে হিন্দু সংহতির বদনাম করতে মাঠে নেমে পড়েছে। বাংলার প্রায় প্রতিটি সংবাদপত্র হিন্দু সংহতির দোষ দেখতে পাচ্ছে এই ঘটনায়। কিন্তু বিগত দশ বছর ধরে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ হিন্দুর একমাত্র আশা-ভরসা যে হিন্দু সংহতি, সে বিষয়ে কোনোদিন এই মিডিয়াকে লিখতে দেখা যায়নি। যদিও ঐদিনের সভায় শেষলগ্নে সাংবাদিকদের অনেক অনুরোধ করা সত্ত্বেও সাংবাদিকরা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করা পরিবারটিকে অনেক উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করতে থাকেন। News Nation -এর মহিলা সাংবাদিক হিন্দু সংহতিকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে বলেন ”Hindu Samhati – my foot”। আর তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে যায় গ্রাম বাংলা থেকে আসা হিন্দু সংহতির কর্মীরা, যারা হিন্দু সংহতিকে ভালোবাসেন। তারপরেই তারা সাংবাদিকদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। পরে সাংবাদিকরা শ্রী ঘোষ মহাশয়কে ক্ষমা চাইতে বলেন। শ্রী ঘোষ মহাশয় এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্যে দুঃখ প্রকাশ করেন। তা সত্ত্বেও মেরুদন্ডহীন মিডিয়ার করা অভিযোগ এবং নির্লজ্জ পুলিশের মুসলিম তোষণের জন্যে হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাণপুরুষ শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় আজ জেলে।

কলকাতায় অটোতে মহিলার শ্লীলতাহানি, গ্রেপ্তার অটোচালক ইমান আলী খান

Kolkatay autote shlilotahani iman ali khanভরসন্ধ্যেয় কলকাতার বুকে অটোচালকের হাতে লাঞ্ছনা। তারপর থানার বাইরে ভিড় করা জনতার মুখ থেকে উড়ে আসা শাসানি, ‘‘মহিলাকে চিনে নাও, বাইরে বেরোলে ছিঁড়ে খাব।’’ নিছক মুখের কথা নয়। রিকশা করে বাড়ি ফিরতে গিয়ে আক্রমণের মুখে মা-ছেলে প্রাণ নিয়ে পালালেন থানায়। অবশেষে মধ্যরাতে পুলিশের গাড়ি বাড়ি ফিরিয়ে দিয়ে গেল ওঁদের। বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা ওই মহিলা এবং তাঁর ছেলের অভিযোগ, গত বুধবার, ৭ই ফেব্রুয়ারী এমন অভিজ্ঞতারই মুখোমুখি হয়েছেন তাঁরা।

মধ্যবয়স্কা মায়ের হেনস্থা এবং সেই অভিযোগ দায়েরের জের সামলে ওঠা তো দূর, এখন তাঁকে এফআইআর তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ওই যুবকের। গত ৭ই ফেব্রুয়ারী, বুধবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ বছর পঞ্চাশের মহিলা ছেলের সঙ্গে জুতো কিনতে বেরিয়েছিলেন। বাঁশদ্রোণীর ঊষা মোড় থেকে গড়িয়া যাওয়ার জন্য অটোয় ওঠেন। বাঁ পায়ে সমস্যা আছে বলে চালকের পাশের আসনে বসেন তিনি। ছেলে বসেন পিছনের আসনে। অটোতে অন্য যাত্রী ছিলেন না। মহিলার ছেলের বয়ান অনুযায়ী,  গড়িয়া মো়ড় আসার আগে অটোর গতি কমতেই প্রায় লাফিয়ে নেমে পড়েন মা। ‘‘কেন এ ভাবে নামলে?’’ জিজ্ঞাসা করতেই কেঁদে ফেলেন তিনি। মায়ের অভিযোগ, অটোয় ওঠার পর থেকেই চালক তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অশালীন উদ্দেশ্য নিয়ে ধাক্কা দিচ্ছিলেন। ছেলেকে কী ভাবে বলবেন, বুঝতে না পেরে চুপ করে ছিলেন। কিন্তু বেশিক্ষণ সহ্য করতে পারেননি। তাই লাফিয়ে অটো থেকে নেমে গিয়েছেন। গড়িয়া মোড়ের ট্র্যাফিক পুলিশকে তখনই অভিযোগ জানান ছেলেটি। নেতাজিনগর থানায় খবর যায়। অভিযুক্ত অটোচালক ইমান আলি খান ওরফে ‘মামা’কে গ্রেপ্তার করা হয়। লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে থানায় যান মা আর ছেলে। ছেলের বক্তব্য, নেতাজিনগর থানায় অভিযোগ জানানোর সময়েই তিনি জানলা দিয়ে দেখেন, বাইরে শ’দুয়েক মানুষের জমায়েত। ‘ছিঁড়ে খাওয়ার’ হুমকি সেখান থেকেই ভেসে আসে বলে অভিযোগ। রাত এগারোটা নাগাদ পরিস্থিতি খানিকটা শান্ত হলে মা ও ছেলে রিকশা করে বাড়ির দিকে রওনা হন। অভিযোগ, থানা চত্বর পেরোতেই জনা ষাটেক লোক চড়াও হয়। রিকশা থেকে নেমে দৌড়ে ওঁরা ফের থানায় ঢুকে পড়েন। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘটনাটি বর্ণনা করতে গিয়ে মহিলা বলেন, ‘‘ছেলের দিকেও ফিরে তাকানোর সময় পাইনি। রিকশা থেকে নেমে ছুটতে থাকি।’’ শেষে রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ থানা থেকে পুলিশ গাড়ি করে তাঁদের পৌঁছে দেয়। ‘মামা’র গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গতকাল ৭ই ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার  সকাল থেকেই টালিগঞ্জ-গড়িয়া রুটের অটো বন্ধ ছিল। আদালত ধৃতকে ২২ তারিখ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে। চালকদের একাংশ বলছেন, চল্লিশ বছর ধরে অটো চালাচ্ছেন অভিযুক্ত। কখনও তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ হয়নি। তাহলে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করলেন না কেন? কথা বলে না মিটিয়ে মহিলাকে তাড়া করলেন কেন? চালকদের দাবি, তাঁরা কাউকে তাড়া করেননি। ‘মামা’র পাশে দাঁড়াতে থানায় গিয়েছিলেন কেবল।

কালীঘাটের মন্দির সংস্কারের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

Kalighat Mondir Sonskarer Nirdeshতারাপীঠ মন্দিরের পর এবার কালীঘাটের কালী মন্দিরের সংস্কার এবং উন্নয়নের নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাই মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছা মেনে নতুন করে সাজছে কালীঘাট মন্দির৷ তার জন্য কোমর বেঁধে নামেছে কলকাতা পুরসভা৷ প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুসারে, কালীঘাট মন্দিরকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে আশপাশের হকারদের অন্যত্র সরানো হবে৷ মন্দির সংলগ্ন দুধপুকুর, কুণ্ডপুকুর এবং চাতালকে একই চৌহদ্দির মধ্যে আনা হবে৷ মন্দিরের চারপাশে তৈরি হবে কংক্রিটের পাঁচিল৷ দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা যাতে মন্দিরে অবাধে প্রবেশ করতে পারেন, তার জন্য দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে এখানেও স্কাইওয়াক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে৷ মমতার বহুদিনের ইচ্ছা, দক্ষিণেশ্বরের মতো কালীঘাট মন্দির চত্বরও আরও সুন্দর ও ঝকঝকে হোক৷ পুরসভাকে সেই কাজের দায়িত্ব সঁপেছেন তিনি৷ পুরসভা সূত্রের খবর, প্রথম পর্যায়ে মন্দির এবং তার আশপাশের এলাকাকে সুন্দর করে সাজানো হবে৷ মন্দির চত্বরকে পুরোপুরি হকারমুক্ত করা হবে, যাতে বাইরে থেকেই পুণ্যার্থীরা মন্দির দর্শন করতে পারেন৷ দ্বিতীয় পর্যায়ে মন্দিরের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলিকে আরও প্রশস্ত করা হবে৷ পুণ্যার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে দু’টি স্কাইওয়াক নির্মাণ করা হবে৷ তার মধ্যে একটি মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির দিকে গোপালনগর ব্রিজের মুখ থেকে শুরু হয়ে মন্দিরের সামনে গিয়ে শেষ হবে৷ আর একটি কালীঘাট ট্রাম ডিপোর সামনে থেকে শুরু হয়ে মন্দিরের প্রবেশদ্বার পর্যন্ত যাবে৷ কী ভাবে মন্দির চত্বরের সংস্কার হবে, তার রূপরেখা তৈরি করতে ইতিমধ্যেই তিনবার বৈঠকে বসেছেন পুর কর্তৃপক্ষ৷ মন্দির পরিচালন কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে৷ হকার ও ডালা মালিকদের সঙ্গেও কথা বলছেন পুরকর্তারা৷ পুলিশকেও মাঠে নামানো হয়েছে৷ স্থানীয় তৃণমূল নেতারাও এ ব্যাপারে সক্রিয়৷ বিষয়টি তদারকি করছেন খোদ তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি৷ কালীঘাট মন্দিরের সংস্কার নিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা পুরভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, স্থানীয় কাউন্সিলর এবং মন্দির কমিটির কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন৷ পুরসভার এক আধিকারিক জানান, মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে এ পর্যন্ত তিনটি বৈঠক হয়েছে৷ তা থেকে কোনও সমাধান সূত্র বেরিয়ে না আসায় আবার নতুন করে বৈঠক ডাকা হবে৷ তাতে হকার এবং ডালা মালিকদেরও ডাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ মেয়র জানিয়েছেন, মন্দিরের সংস্কার কী ভাবে হবে, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি৷ পুরসভার দায়িত্বপ্রান্ত আধিকারিকরাও এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন৷

পুরসভা সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মন্দির সংস্কারের জন্য মেয়র উদ্যোগী হলেও, তাতে প্রধান বাধা হকার এবং ডালা মালিকরা৷ মন্দির চত্বর এবং তার লাগোয়া অঞ্চলে ৮১টি ডালা রয়েছে৷ তাঁরা কয়েক যুগ এখানে ব্যবসা করছেন৷ মন্দির সংস্কারের ফলে তাঁদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হবে বলে আশঙ্কা করছেন ডালা মালিকরা৷ স্থানীয় ৮ নম্বর বরো কমিটির চেয়ারম্যান বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মন্দিরের পাশে অসংখ্য ডালা ও হকার রয়েছে৷ সংস্কারের সময় তাদের কথাও আমাদের ভাবতে হবে৷’’ তিনি বলেন, ‘‘দক্ষিণেশ্বরের সঙ্গে কালীঘাটের অনেক পার্থক্য৷ এখানে যে দু’টি রাস্তার উপর দিয়ে স্কাইওয়াক তৈরির কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো খুবই সঙ্কীর্ণ৷ রাস্তার দু’পাশে অনেক দোকানদার, পুরোহিত, মিষ্টি-ফুল বিক্রেতা রয়েছেন৷ তাঁদের অস্বীকার করব কী ভাবে!’’ উদ্বিগ্ন মন্দির কমিটির সদস্যরাও৷ মন্দির কমিটির এক সদস্য জানান, ‘‘ডালা সরালে সেখান থেকে যে ঘরভাড়া আদায় হয়, তার ক্ষতিপূরণ কী ভাবে দেবে পুরসভা? পুরসভা কী ভাবে মন্দির সাজাবে, সে ব্যাপারে কমিটিকে কিছুই জানানো হচ্ছে না৷’’ মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি বাবলু হালদার অবশ্য বলেন, ‘‘প্রশাসন যে পরিকল্পনা নিয়েছে , সেটা খুবই ভালো৷ ওরা আমাদের জানিয়েছে, হকারদের বিকল্প জায়গা দেওয়ার পরই সংস্কারের কাজ শুরু করবে৷’’ বেসরকারি উদ্যোগেও মন্দিরের গর্ভগৃহের সংস্কারের কাজ চলছে৷ তার জন্য বিদেশ থেকে মার্বেল পাথর আনা হয়েছে৷ বিগ্রহের পিছনে বসছে নতুন রুপোর চাঁদি৷

পুলিশের গাফিলতিতে জেল থেকে ছাড়া পেলো সন্ত্রাসবাদী হারুন রশিদ

‘সন্ত্রাসবাদী’ তকমা লেগেছিল আগেই। আদালতের নির্দেশে শুধু সেই তকমাই খসে পড়ল না, জালনোট ও বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলা থেকেও মুক্তি পেল হারুণ রশিদ নামের সেই ব্যক্তি। গতকাল ৫ই ফেব্রুয়ারী, সোমবার কলকাতা নগর দায়রা আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক কুমকুম সিনহা এই চাঞ্চল্যকর রায় দিয়েছেন। আদালতের মন্তব্য, ধৃতের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আদালতে কোনওভাবেই প্রমাণিত হয়নি। এদিকে, রায় ঘোষণার পরই হারুণের স্ত্রী রফত সুলতানা কোর্ট চত্বরে দাঁড়িয়ে বললেন, দীর্ঘ সাত বছর আমার স্বামীকে অহেতুক বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এতগুলো বছর কি কেউ আমাদের পরিবারকে ফিরিয়ে দিতে পারবে? সরকারি আইনজীবী গণেশ মাইতি এই রায় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর সাফ কথা, আমি এ নিয়ে কিছু বলছি না। অন্যদিকে, ধৃতের দুই আইনজীবী নবকুমার ঘোষ এবং ফজলে আহমেদ খান বলেন, এর আগেও পুলিশ আমাদের মক্কেলকে ওয়াটগঞ্জে জালনোটের এক মামলায় ফাঁসিয়েছিল। কিন্তু তারা অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে। আর তাই আক্রোশের বশেই তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মতো কড়া মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের ২১ জুলাই কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাক্স ফোর্স (এসটিএফ) ওই ব্যক্তিকে শিয়ালদহ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের দাবি ছিল, তাঁকে জেরা করে সেখানকার একটি হোটেলের ঘর থেকে একটি ব্যাগ পাওয়া যায়। যাতে ছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের নানা পত্র-পত্রিকা ছাড়াও প্রচুর জালনোট এবং একটি টিফিন ক্যারিয়ার ঠাসা বিস্ফোরক পদার্থ। এরপরই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন এসটিএফের তৎকালীন ইন্সপেক্টর কৌশিক দাস। এই কেসে তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ছিলেন শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ আদালতে দাবি করে, ধৃত ব্যক্তি এক সময় সিমির পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পুলিশ মামলার তদন্ত শেষ করে ২০১২ সালের ১৮ অক্টোবর ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট পেশ করে। কোর্টে সাক্ষ্য দেন মোট ১৬ জন।

এই মামলার শুনানি চলাকালীন বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে চলে আসে। ধৃতের আইনজীবীরা বলেন, হোটেলের কয়েকজন সাক্ষী কোর্টে সাক্ষ্য দিতে আসেননি। দ্বিতীয়ত, যে হোটেলে অভিযুক্ত উঠেছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছিল, সেখানকার হাজিরার খাতাতেও নানা অসঙ্গতি রয়েছে। তৃতীয়ত, তিনি যে ঘরে ছিলেন, সেই ঘরের তালা পুলিশ আসল না ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে খুলেছিল, তা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। চতুর্থত, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা কোর্টে কোনওভাবে প্রমাণ হয়নি। পঞ্চমত, সরকারপক্ষের বক্তব্য ছিল, ধৃতের হেফাজত থেকে জঙ্গি সংগঠনের নানা লিফলেট ও অন্যান্য নথিপত্র পাওয়া গিয়েছে। এর প্রত্যুত্তরে হারুণের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, কারও হেফাজত থেকে উর্দুতে লেখা কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের কাগজপত্র পাওয়া গেলে তার থেকে প্রমাণিত হয় না যে, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী লোক। ষষ্ঠত, এই মামলায় সিজার লিস্ট নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। সব মিলিয়ে এই মামলাকে ঘিরে রয়েছে একগুচ্ছ গাফিলতি। এই সব বিষয়গুলি কোর্টের নজরে আসায় এদিন বিচারক জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।

কলকাতার ভবানীপুরে ডাকাতির চেষ্টা, গ্রেপ্তার ৪ দুষ্কৃতি

কলকাতার ভবানীপুরে লুঠের চেষ্টার ঘটনায় চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৫শে জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার রাতে ম্যাঙ্গো লেন থেকে তাদের পাকড়াও করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মহম্মদ শামিম ওরফে বাবলু, অমরজিৎ কুঁওয়ার, মহম্মদ মুস্তাকিন ওরফে রাজ এবং মহম্মদ নাদিম। এর মধ্যে অমরজিৎ বিহারের মজফ্‌ফরপুরের বাসিন্দা। শামিমের বাড়ি হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় এবং বাকি দু’জন বন্দর এলাকার বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি সিঙ্গল শটার পিস্তল, দু’টি কার্তুজ এবং একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত ২৪শে জানুয়ারী, বুধবার রাতে ভবানীপুর থানার আনন্দ ব্যানার্জি লেনের অগ্রবাল পরিবারে লুঠের চেষ্টা হয়। কিন্তু গৃহকর্ত্রী ললিতা অগ্রবালের উপস্থিত বুদ্ধির জোরে লুঠ না করেই চম্পট দেয় দুষ্কৃতিরা। ওই পরিবারের কর্তা মোহন অগ্রবালের এলগিন রো়ডে একটি ছবি তোলার স্টুডিও আছে। তাঁদের অভিযোগ, গভীর রাতে কলিং বেলের আওয়াজ শুনে মোহনবাবু ঘুম চোখে দরজা খুলতেই চার জন মুখোশধারী তাঁকে ঠেলে ঢুকে পড়ে। ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে মোহনবাবুকে তারা কিছু বলতে থাকে। দুষ্কৃতিদের এক জন শোয়ার ঘরে ঢুকে ফের বেরিয়ে আসে এবং মোহনবাবুর মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে কিছু জানার চেষ্টা করে। ঘটনার সময়ে শোয়ার ঘর থেকে মোহনবাবুর দিদি গায়ত্রীদেবী ও স্ত্রী ললিতাদেবী বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ললিতাদেবীকে ঘরে ঢুকে যেতে বলে দুষ্কৃতিরা। কিছুক্ষণ পরে সন্দেহ হওয়ায় তিনি ফের বাইরে আসেন এবং দেখেন, তাঁর স্বামীর মাথায় রিভলভার ঠেকানো। এর পরেই শোয়ার ঘরে ঢুকে স্ত্রী ললিতাদেবী ফোন করেন থানায়। ললিতাদেবী জানান, রাতে কলিং বেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল তাঁর। তিনি হাসপাতাল থেকে ডায়ালিসিস করে আসায় ক্লান্ত ছিলেন। ওই রাতে মেয়ে এবং বৌমার সঙ্গে তিনি অন্য ঘরে শুয়েছিলেন। ললিতাদেবীর কথায়, ‘‘আমার ঘরেও কেউ ঢুকে আলো জ্বেলেছিল। আলো দেখে সেটা বন্ধ করতে বলি। পরে পরিস্থিতি বুঝে থানায় জানাই।’’

আলিপুর জেল থেকে পালিয়ে গেলো তিন বাংলাদেশী বন্দি, গাফিলতির জন্যে সাসপেন্ড কারারক্ষীরা

গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার ভোররাতের অন্ধকারে আলিপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের উঁচু পাঁচিল টপকে পালিয়ে গেল তিন বন্দি। এদের মধ্যে দু’জন বিচারাধীন, অন্যজন সাজাপ্রাপ্ত। পলাতকরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, খুন সহ একাধিক ধারায় অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, মোয়ার মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অন্য দুই বন্দিকে অচৈতন্য করে গরাদ কেটে তারা সেলের বাইরে বেরোয়। এরপর পড়ে থাকা লোহালক্কর দিয়ে আঁকশি বানায়। নিজেদের ব্যবহারের শাল দিয়ে দড়ি বানিয়ে সেই আঁকশির সাহায্যে রবিবার ভোররাতে পাঁচিল টপকায় তারা।

জেল সূত্রের খবর, কারারক্ষীদেরও ওই ঘুমের ওষুধ দেওয়া মোয়া খাওায়ানো হয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য কারারক্ষীদের অচৈতন্য করার বিষয়টি মানতে চায়নি। যদিও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড করা হয়েছে তিনজনকে।পলাতকদের খোঁজে বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। তাদের ছবিও পাঠানো হয়েছে সমস্ত জেলায়। বিষয়টি জানানো হয়েছে বিএসএফকেও। একইসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশকে গোটা ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।

তবে এই ঘটনায় জেলের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। জেল সূত্রে খবর, গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাতে কারারক্ষীরা শেষ টহল দিয়েছিলেন রাত ২টো নাগাদ। তারপর তাঁরা ঘুমটিতে ঘুমোচ্ছিলেন। তা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, ভোর ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। কারাকর্তাদের বক্তব্য, তাঁরা কারারক্ষীদের অচৈতন্য অবস্থায় দেখেননি। তাঁদের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হচ্ছে। তবে তাঁদের কাজে যে গাফিলতি ছিল, মানছেন তাঁরা। সেই কারণেই সাসপেন্ড করা হয়েছে তিনজনকে। অন্যদিকে, প্রশ্ন উঠেছে, সশস্ত্র পুলিশের অফিসাররাও তো জেলের বাইরে নজরদারির দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদেরও কেন বিষয়টি নজরে এল না? তাঁরাও ঘুমোচ্ছিলেন বলে বক্তব্য স্থানীয়দের।

তদন্তে জানা গিয়েছে, যে এলাকা দিয়ে তারা পালিয়েছে, সেখানে কোনও সিসিটিভি ছিল না। বোঝাই যাচ্ছে, বন্দিরা আগে থেকেই জানত, কোন এলাকা ক্যামেরার নজরের বাইরে রয়েছে। সেই কারণেই রাস্তায় থাকা সিসিটিভি ফুটেজ নেওয়া হচ্ছে।
পলাতক তিন বন্দির নাম ফিরদৌস শেখ, ইমন চৌধুরি ও ফারুক হাওলাদার। এদিন গুনতির সময়ে দেখা যায়, তিনজন জেলবন্দিকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরই বিষয়টি নজরে আসে কারাকর্তাদের। দেখা যায়, আদিগঙ্গার দিকে পড়ে রয়েছে বন্দিদের ফেলে যাওয়া শাল ও জ্যাকেট। তা থেকেই কারাকর্তারা বুঝতে পারেন, এই দিক দিয়েই তারা পালিয়েছে। এরপরই বিষয়টি জানানো হয় আলিপুর থানায়। ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের কর্তারা। আনা হয় পুলিশের কুকুরও।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ফারুক সোনারপুরে একটি ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় ২০১৩ সালে। ইমনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। ফিরদৌস ডাকাতি ও বেআইনি অনুপ্রবেশের ঘটনায় অভিযুক্ত। এরা ২০১৪ সালে ধরা পড়ে। এদের মধ্যে ইমনের পাঁচ বছরের সাজা হয়েছে। এরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক।

কিন্তু জেলের সুরক্ষা ভেদ করে কী করে পালাতে সক্ষম হল এই তিন বন্দি? জেল সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিন বন্দির ঠিকানা ছিল সাত নম্বর ওয়ার্ড। এখানে ৮০ থেকে ৯০ জন আসামি রয়েছে। ওয়ার্ডের পাশেই গরাদের ধারে তাদের শোয়ার ব্যবস্থা ছিল। ওই ওয়ার্ডে থাকা অন্য বন্দিরা কারাকর্তাদের জানিয়েছে, ফারুক বেশ কিছুদিন ধরেই জেল পালানোর ছক কষছিল। এজন্য বাংলাদেশি বন্দিদের নিয়ে সে আলাদা বৈঠকও করে।

জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যে ওয়ার্ডে তারা থাকত, সেখানকার গরাদ বেশ পুরনো হয়ে যাওয়ায় তা যথেষ্ট নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। মরচেও ধরেছে। সেই কারণেই ওই জায়গাকেই তারা টার্গেট করে। জেলের মধ্যে থেকেই তারা করাত জোগাড় করে। যাতে কারও নজরে না আসে, সেজন্য কয়েকদিন আগে থেকেই তারা গরাদ কাটার কাজ অল্প অল্প করে শুরু করে। পাশাপাশি জোগাড় করা হয় লোহার স্ক্র্যাপ। যা ঘষেমেজে তৈরি করা হয় আঁকশি। যাতে তার সঙ্গে শাল দিয়ে তৈরি দড়ি বেঁধে সহজেই পাঁচিল বেয়ে নীচে নেমে আসা যায়। সমস্ত কিছু চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার পর শনিবার রাতে তারা পরিকল্পনা করে গরাদ কেটে পালাবে। পরিকল্পনামাফিক গরাদের কাছে থাকা অন্য দুই বন্দিকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। তার জন্য জেল হাসপাতাল থেকে আগেই জোগাড় করা হয়েছিল ঘুমের ওষুধ। বাইরে থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল মোয়া। তা খেয়ে গরাদের কাছে থাকা দুই বন্দি অচৈতন্য হয়ে পড়ে। অন্যরা তখন অঘোর ঘুমে। বাইরে নেই কোনও রক্ষী। এই সুযোগে জেলের গরাদ কেটে তারা বাইরে আসে। পাঁচিলের উপরে ওঠে। আঁকশির সঙ্গে জড়িয়ে দেওয়া হয় শাল। এরপর তা বেয়ে নীচে নেমে এসে তারা  অনায়াসে পালিয়ে যায়।

কলকাতার একবালপুরে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার বিহারের মহম্মদ দিলসাদ

অস্ত্রসহ এক দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করল ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে দু’টি অত্যাধুনিক পিস্তল, নগদ টাকা ও বেশ কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম মহম্মদ দিলসাদ ওরফে মুন্না। সে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। কয়েকমাস ধরে সে একবালপুর লেনে থাকত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার রাতে ওয়াটগঞ্জ থানার পুলিশ মনসাতলা এলাকায় একজনকে উদ্দেশ্যহীনভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। পুলিশ এখন তাকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে, মুঙ্গের থেকে অস্ত্র এনে সে কলকাতায় কারবার চালাত কি না। শহরের বুকে যেভাবে গুলি চালনোর ঘটনা বেড়ে গিয়েছে, তাতে পুলিশকর্তারা নিশ্চিত, মুঙ্গেরের বাসিন্দারাই এই ধরনের অস্ত্র শহরে নিয়ে আসছে। ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন সহ অন্যান্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গত ১৪ই জানুয়ারী, রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কলকাতার এন্টালিতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধৃত ২ মুসলিম দুষ্কৃতি

খাস কলকাতায় দুষ্কৃতিরাজ বেড়েই চলেছে, তার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে ইদানিং। এবার এন্টালি থানার ছাতুবাবু লেন ও আনন্দ পালিত রোডের সংযোগস্থল থেকে গত ১১ই জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার বিকেলে সাত রাউন্ড কার্তুজ ও দুটি আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুই অস্ত্র বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করলেন লালবাজারের গুন্ডাদমন শাখার গোয়েন্দারা। ধৃতরা হল মহম্মদ ইলিয়াস ওরফে ইল্লু এবং আব্দুল আলি ওরফে তনভির। লালবাজার সূত্রে এই খবর জানা গিয়েছে।

কলকাতার জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার বাংলাদেশী ইসলামিক স্টেট জঙ্গি জাহিদ

মধ্য কলকাতার জোড়াসাঁকো এলাকা থেকে বাংলাদেশী এক জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। জাহিদ নামের ওই সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গত ৪ঠা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার রাতে ধরা হয়। সে বাংলাদেশের আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের সদস্য বলে জানা যাচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে সে সম্প্রতি বিদেশে পালানোর ছক কষছিল বলে জেনেছেন উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের অফিসাররা। এ রাজ্যে বসেই সে জেহাদি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ল্যাপটপ সহ অন্যান্য সামগ্রী।

কয়েকমাস আগে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) এক সদস্য। তাকে জেরা করে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা জঙ্গিরা ডেরা বাঁধছে উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দে। সেখানকার বিভিন্ন খারিজি মাদ্রাসায় জেহাদিদের প্রশিক্ষণ পর্ব চলছে। শুধু তাই নয়, এখানে এসে থাকছে নাশকতার ঘটনায় অভিযুক্ত একাধিক জঙ্গি। তাদের পাসপোর্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে এখানেই। ধৃত জঙ্গি জেরায় জানায়, সে সমস্ত কিছুর ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই জেহাদিরা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়। দীর্ঘ জেরা করার পর ওই এবিটি সদস্য তদন্তকারী আধিকারিকদের জানায়, জাহিদ নামের এবিটির এক সদস্য কলকাতায় লুকিয়ে রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে এ রাজ্যে এসেছে ওই জঙ্গি। তাকে সে জাল পাসপোর্ট করে দিয়েছে। কলকাতায় বসেই সংগঠনের কাজকর্ম দেখভাল করে জাহিদ। তার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বিদেশে পালিয়ে থাকা এবিটির একাধিক সদস্যের। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম তার সম্বন্ধে খোঁজখবর করতে শুরু করে। জানা যায়, জাহিদ বাংলাদেশী। তার বিরুদ্ধে সেদেশে নাশকতার অভিযোগ রয়েছে। এবিটির হয়ে কাজ করার পাশাপাশি সে আইএসের বাংলাভাষী উইংয়ের হয়েও কাজ করছে। এ রাজ্য থেকে বাংলাদেশে যাতায়াতের সুবিধা থাকাতেই সে এখানে ডেরা বেঁধেছে। ভুয়ো পাসপোর্ট নিয়েই সে সীমান্তের ওপারে গিয়েছে বলে খবর। এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফের টিম বৃহস্পতিবার কলকাতায় হাজির হয়। জোড়াসাঁকো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় জাহিদকে। শুক্রবার তাকে ব্যঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তার বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইন লঙ্ঘন সহ একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
গ্রেপ্তারের পর জাহিদকে জেরা করে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারছেন, তার হাত ধরে উত্তরপ্রদেশ থেকে একাধিক জেহাদি কলকাতায় এসেছে। তাদের এখানে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে সে। যারা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে জেহাদি কাজকর্ম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। মূলত সীমান্ত এলাকাকেই বেছে নিয়েছে তারা। জাহিদ পুলিশকে জানিয়েছে, কলকাতায় থাকলেও সে সীমান্তের ওপারের জেহাদিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। ওপার বাংলার জঙ্গিদের সীমান্ত পার করে নিয়ে আসার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নতুন জেহাদি নিয়োগের দায়িত্ব সে সম্প্রতি পেয়েছিল। সেজন্য সে বিভিন্ন জেলায় ঘুরে ঘুরে জেহদি ভাবধারা প্রচার করে বেড়াচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি এখান থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক বাংলাদেশর জেহাদিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বলেও খবর। তবে কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ থেকে তার কাছে নির্দেশ আসে সৌদি আরবে চলে যাওয়ার। সেখানে সংগঠনের তহবিল দেখার দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলা হয়, সৌদিতে কিছুদিন সংগঠনের কাজকর্ম করবে। পরে তাকে আবার ভারতে নিয়ে আসা হবে। সেই কারণেই তার ভুয়ো পাসপোর্ট তৈরি করে দেয় ধরা পড়া অন্য এক জঙ্গি। তা নিয়েই সে সৌদিতে যাবে বলে ঠিক করে ফেলে। এজন্য সমস্ত কিছুর ব্যবস্থাও হয়ে গিয়েছিল। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই তার পালানোর পরিকল্পনা ছিল বলে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনের কোন কোন নেতা তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখত, তা ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।