কলকাতায় পালিত হলো প্রতাপাদিত্য উৎসব

গতকাল  বঙ্গের বীরযোদ্ধা মহারাজা প্রতাপাদিত্যের স্মরণে কলকাতায় পালিত হলো ‘প্রতাপাদিত্য উৎসব’। এই উৎসবের আয়োজক ছিল ‘পশ্চিমবঙ্গের জন্য’ নামক একটি সংগঠন। এই অনুষ্ঠানে সহযোগী ছিল #হিন্দু_সংহতি। কলকাতার থিওসোফিক্যাল সোসাইটি হলে এই অনুষ্ঠানে কলকাতার বহু জ্ঞানী-গুণী ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে সবাই মহারাজা প্রতাপাদিত্যের ছবিতে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। প্রতাপাদিত্য স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক শ্রী

 বিমল নন্দী, শ্রী সব্যসাচী বাগচী এবং সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানে বক্তারা তাদের বক্তব্যে বাঙালির গর্বের ইতিহাস প্রতাপাদিত্যের সাশনকালের বিভিন্ন দিক, মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং বাঙালি হিন্দুর হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনতে কিভাবে তাঁর থেকে প্রেরণা পেতে পারে, তা তুলে ধরেন। সব্যসাচী বাগচী তার বক্তব্যে বলেন যে, প্রতাপাদিত্য মুঘল শাসনের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে তুলে বাংলায় হিন্দু শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই গৌরবের দিনগুলিকে বাঙালির ভুলে গেলে চলবে না।বরং তা থেকে প্রেরণা নিয়ে বাঙালি হিন্দুকে জিহাদি শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে হবে এবং যদি প্রয়োজন হয়, তবে প্রতিশোধের রাস্তায় হাঁটতে হবে । সাহিত্যিক বিনায়ক বন্দোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর মধ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া লড়াইয়ের ধারাটি তুলে ধরেন।তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে না, এ এক মিথ্যে প্রচার। বাঙালি হিন্দু লড়তে জানে ।তবু বারবার বাঙালি হিন্দুকে হারতে হয়।তার কারণ বাঙালির মধ্যে বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার অভাব। তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ সবাইকে বাঙালি হিন্দুর গৌরব ফেরানোর লড়াইয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে হবে। তবেই বাঙালি তাঁর হৃৎগৌরব ফিরে পাবে। এছাড়াও, এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে মহারাজা প্রতাপাদিত্য স্মরণে একটি ক্যালেন্ডার প্রকাশ করা হয়। সেটি প্রকাশ করেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য। এছাড়াও আয়োজকদের তরফে কল্যাণ সরকার, ধ্রুব মহাজন, প্রবীর ভট্টাচার্য প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এছাড়াও অনুষ্ঠানের আয়োজকরা লাভ জিহাদ ও নারী পাচার প্রতিরোধ করার কাজে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য হাওড়া জেলার শ্রী লাল্টু শী এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শ্রী দীনবন্ধু ঘরামীর বিশেষ সম্মান প্রতাপাদিত্য পদক তুলে দেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চলনা করেন শ্রী অনিমিত্র চক্রবর্তী।

Advertisements

শিয়ালদহ স্টেশনে গ্রেপ্তার মালদহের জালনোট পাচারকারী সাহাবুল শেখ

কলকাতা শহর থেকে ফের উদ্ধার হলো জালনোট। এবার শহরের ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাহাবুল শেখ নামে মালদহের এক জালনোটের পাচারকারীকে। গত ১৮ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফ সূত্রের খবর, মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে এসে কলকাতায় এক এজেন্টের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সাহাবুলের। সে কোন ট্রেনে করে শিয়ালদহে আসছে, সেই তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পারে এসটিএফ। তারপরেই নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। রাতেই ট্রেন থেকে নামতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করে এসটিএফ-এর অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া টাকার সবটাই দু’হাজার টাকার নোটের। ধৃতকে প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে কলকাতায় জালনোট ছড়ানো হতো। এর আগেও সাহাবুল কলকাতায় এসে জালনোট দিয়ে গিয়েছে। আরও তথ্য জানার জন্যে তাকে জেরা করছেন এসটিএফ-এর অফিসাররা।

নিউ টাউনে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী

কলকাতার নিউ টাউন থানার পুলিস এক বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর নাম জাকির হোসেন। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলায়। জানা গিয়েছে,  সে দীর্ঘদিন কলকাতায় এসে গৌরাঙ্গনগরে ভাড়া থাকছিলো। গত ১৭ই এপ্রিল গৌরাঙ্গনগর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মন্ডল থানায় অভিযোগ জানান যে  স্থানীয় মুসলিম যুবক জাকির তাঁর মেয়েকে হুমকি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করতে বাধ্য করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে নিউ টাউন থানার পুলিস। কিন্তু থানায় এসে জাকির আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড জমা দেয় ।কিন্তু পুলিস তদন্তে জানতে পারে এ সব জাল। তারপরেই তাকে বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং হুমকিসহ একাধিক অভিযোগে গ্রেপ্তার করে নিউ টাউন থানার পুলিস।

হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির কর্মীদের নির্মিত শ্রী রাম মন্দিরের শুভ উদ্বোধন ও বস্ত্র বিতরণ

আজ, হাওড়ার বাগনানে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে নির্মিত ভগবান শ্রীরামচন্দ্র এবং হনুমানজীর মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন কর্মসূচী এলাকাবাসীর তুমুল উৎসাহ ও সক্রিয় অংশগ্ৰহনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। মন্দিরের দ্বারোদ্ঘাটন করেন হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস ,সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, সহঃ সভাপতি শ্রী সমীর গুহ রায় এবং বাগনানের বিধায়ক শ্রী অরূনাভ সেন(এলাকায় যিনি রাজা সেন নামেই পরিচিত)। তার ভাষনে বিধায়ক সেন প্রভু শ্রীরাম এবং তার পরম ভক্ত শ্রী বজরঙ্গবলীজীর মন্দির নির্মানে এবং রামনবমীতে শ্রদ্ধা সহকারে প্রভু শ্রীরামের পূজার উদ্যোগ গ্ৰহনের জন্য হিন্দু সংহতির বাগনান শাখার কর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।সেইসঙ্গে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে হিন্দু সংহতির এই ধরনের অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই তিনি পুনরায় আসবেন। তার বক্তব্যে হিন্দু সংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায় মর্যাদা পুরুষোত্তম শ্রীরামচন্দ্র এবং তার পরম ভক্ত বজরঙ্গবলীর বীরত্বগাথা এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট‍্যের উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মধ্যক্ষা শ্রীমতি অন্তরা সাহা এবং আনটিলা অঞ্চল প্রধান শ্রী সুকুমার মন্ডল। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির বিশিষ্ট কার্যকর্তা শ্রী টোটন ওঝা। এদিন ৫০ জন মহিলাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরন করা হয়। সংগঠনের হাওড়া জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী মুকুন্দ কোলে এবং বাগনানের প্রমুখ কার্যকর্তা নিমাই,চন্দন, সুমনদের নেতৃত্বে এবং আনটিলা গ্ৰামের রঞ্জিত, গনেশ, বিশ্বনাথদের উদ্যোগে স্থানীয় যুবকরা বিপুল সংখ্যায় উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্ৰহন করেছিলো। মা , বোনদের উপস্থিতিও ছিলো লক্ষ‍্য করার মতো। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হিন্দু সংহতির কর্মীরা মন্দির উদ্ঘাটনের জন্য প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ হেঁটে শোভাযাত্রা করে গিয়ে গঙ্গার জল আনে। শোভাযাত্রায় হিন্দু সংহতির নেতৃত্ব অংশ নেন।

লাভ জিহাদের শিকার পূর্ব মেদিনীপুরের জ্যোতি দাস, হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ পরিবার

লাভ জিহাদের বিষ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে মারাত্মক ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এর কবলে পড়ে একের পর এক কন্যাসন্তান হিন্দু সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
এবার লাভ জিহাদের শিকার হলো পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানার অন্তর্গত বাসুদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা জ্যোতি দাস(নাম পরিবর্তিত,বয়স ১৫ বছর) ।
Jyoti Dasতাঁর পিতা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে, গত ৫ই মার্চ নাবালিকা জ্যোতি স্কুল গিয়ে আর বাড়ি থেকে ফেরেনি। জ্যোতিকে কে বা কারা অপহরণ করেছে, তা অজানা থাকায়, তাঁর পিতা গত ৮ই মার্চ এগরা থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এগরা থানা কেস শুরু করে, যার নম্বর-১৯২/১৯ ।তদন্ত শুরু করে এগরা থানার পুলিস। কিন্তু পরে জ্যোতির পিতা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন যে গ্রামের রবিউল খান(পিতা-খোদাবক্স), খোদাবক্স খান(পিতা-মোস্তাকিন), ঝর্ণা দাস এবং মোস্তাকিন খান তাঁর মেয়ের অপহরণে জড়িত। সেই কথা জানিয়ে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসককে চিঠি দেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও নাবালিকা জ্যোতিকে এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেইসঙ্গে দোষীদেরও গ্রেপ্তার করা যায়নি। এমতাবস্থায় জ্যোতির পিতা মেয়েকে ফিরে পেতে সাহায্য চেয়ে হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হয়েছেন। তিনি হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যের কাছে সহযোগিতা চেয়ে লিখিতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সবরকম সহযোগিতা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে অপহৃতা জ্যোতির পরিজনদের।

উত্তর ২৪ পরগনায় বিশাল অস্ত্র কারখানার হদিশ পেল পুলিস, গ্রেপ্তার শেখ আলী হোসেন

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত নারায়ণপুর থানা এলাকায় বড়সড় অস্ত্র কারখানার হদিশ পেলো পুলিস। গতকাল ৪ঠা এপ্রিল, বৃহস্পতিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিধাননগর পুলিস এবং কলকাতা পুলিসের এসটিএফ নারায়ণপুরের দোননগর এবং ছোট গাঁতির একটি বাড়িতে হানা দেয়। সেখান থেকে ৩০টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৬০টি অসম্পূর্ণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, শেখ আলি হোসেন ওরফে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, এলাকায় ‘জামাই’ বলেই সে অতিপরিচিত ছিল। গত ছয়-আট মাস ধরে সাইকেলের বল বিয়ারিং তৈরির কারখানা চালাত বলেই বাসিন্দারা জানতেন। কিন্তু, এদিন সেখান থেকেই অস্ত্র কারখানা উদ্ধার হওয়ায় হতবাক এলাকার বাসিন্দারাও।
পুলিস সূত্রের দাবি,  আগের দিন এসটিএফ কলকাতা থেকে সদকাশ এবং টারজান নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এসটিএফের গোয়েন্দারা জানতে পারেন, নারায়ণপুর থানা এলাকার একটি জায়গায় পিস্তল তৈরি হচ্ছে। সেই পিস্তল চোরাপথে কলকাতায় ঢুকছে। আবার ভিন জেলাতেও তা পাঠানো হচ্ছে। এরপরেই নারায়ণপুর থানার পুলিসকে নিয়ে এসটিএফ যৌথভাবে মধ্যমগ্রামের রোয়ান্ডা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দোননগরে হানা দেয়। পুলিস জানিয়েছে, দোননগরের বাড়িতে হানা দিয়ে জানা যায় বিধাননগর পুরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের ছোট গাঁতি এলাকায় এই পিস্তলগুলি তৈরি করা হয়েছে। সেখান থেকেই তা বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়। এরপরেই পুলিসের যৌথ দল ছোট গাঁতিতেও হানা দেয়। সেখান থেকেই হাতেনাতে মুন্না বলে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছোট গাঁতির বাড়িটিতে একটা অস্ত্র তৈরির কারখানা চলছিল। সেখানে মুঙ্গের থেকে বিভিন্ন কাঁচামালের পাশাপাশি শ্রমিকও আসছিল। তারপরে এই কারখানায় সেই কাঁচামালগুলিকে একত্রিত করে পিস্তল তৈরি করা হচ্ছিল। সেই কারখানা থেকেই ৬০টি অর্ধেক তৈরি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিস আরও জানিয়েছে, ছোট গাঁতির একটি ক্লাবের পাশে ওই বাড়ি থেকে ৬০টি আধা তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও লেদ মেশিন এবং ড্রিলিং মেশিন সহ বিভিন্ন কাঁচামাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তর; জোড়াবাগান থানায় ডেপুটেশন দিলো হিন্দু সংহতি

কলকাতার দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তরের ঘটনায় জোড়াবাগান থানায় আজ হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ডেপুটেশন দেওয়া হলো। হিন্দু সংহতির এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ ও শ্রী সমীর গুহরায়, সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, কোষাধ্যক্ষ শ্রী সাগর হালদার এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী অমিত মালী। প্রসঙ্গত, দুই বোনের মধ্যে ছোটবোনকে উদ্ধার করতে পারলেও, অপহরণকারী মুসলিম যুবককে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। সেই কারণে ওই অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে এই ডেপুটেশন দেওয়া হয়। এছাড়াও, থানার তদন্তকারী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। আলোচনার শেষে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেয় পুলিস।

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

অমিত মালী

পাঠান সেনাপতি ওসমান খানের নেতৃত্বে পাঠান সেনাবাহিনী এবং বিশ্বাসঘাতক চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর সঙ্গে থাকা সেনাবাহিনী একসঙ্গে বাশুড়িতে আক্রমণ করেন। কিন্তু রানী ভবশঙ্করীর সেনাবাহিনী পূর্বেই প্রস্তুত ছিল ।ফলে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় দুই বাহিনীর মধ্যে। রানী ভবশঙ্করী নিজেই এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। রানী ভবশঙ্করীর সৈন্যরা যাদেরকে তিনি নিজে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, ক্ষিপ্রতার সাথে পাঠান সৈন্যদেরকে কচুকাটা করেন। সমসাময়িক পাওয়া সূত্র অনুযায়ী, রানী ভবশঙ্করী নিজে হাতির পিঠে চেপে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধে বাগদি ও চন্ডাল সেনারা অসীম বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। কয়েক ঘন্টার যুদ্ধে পাঠান সেনাবাহিনী পরাজিত হয় এবং পাঠান সেনাপতি ওসমান খান পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। পরে তিনি ফকিরের ছদ্মবেশে উড়িষ্যা পালিয়ে যান। এই যুদ্ধের পরে রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেক সম্পন্ন হয়।

রানী ভবশঙ্করীর বীরত্বের কথা, পাঠান সেনাদের কচুকাটা করার কথা মুঘল সম্রাট আকবরের কানে পৌঁছায়। এই খবর আকবরের কাছে পৌঁছনোর পর আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সঙ্গে মিত্রতা গড়ে তুলতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এর পিছনেও কারণ ছিল। সেই সময় অবিভক্ত বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা- যাকে সুবে বাংলা বলা হতো, তার সুবেদার ছিলেন মান সিংহ। কিন্তু সেই সময়ে অবিভক্ত বাংলার বিভিন্ন অংশে পাঠানদের অত্যাচার ছিল খুব। পাঠানরা মুঘল সাম্রাজ্যের বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্রে হামলা ও লুটপাট চালাতো। এ নিয়ে খুবই চিন্তিত ছিলেন আকবর- কারণ বাংলা ছিল সোনার ডিম দেওয়া হাঁস। কারণ বাংলা সেসময় ছিল সোনার বাংলা। কিন্তু রানী ভবশঙ্করী অসাধারণ রণকৌশল ও বীরত্বে সেই পাঠান সৈন্যদের পরাজিত করেছিলেন। ফলে আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যে মান সিংহকে পাঠান। মান সিংহ ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করেন। সেইসঙ্গে আকবর ভুরিশ্রেষ্ঠ রাজ্যের সার্বভৌমত্ব মেনে নেন। মুঘল সম্রাট আকবর রানী ভবশঙ্করীকে ‘রায়বাঘিনী’ উপাধিতে ভূষিত করেন। এরপর অনেক বছর রানী ভবশঙ্করী রাজ্য শাসন করেন। পরে তাঁর পুত্র প্রতাপনারায়ন প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাঁর হাতে রাজ্যের ভার দেন এবং তিনি কাশীতে চলে যান। আজও হাওড়া জেলার উদনারায়নপুরে রানী ভবশঙ্করী প্রতিষ্ঠিত রায়বাঘিনী মন্দির রয়েছে। আজও গড় ভবানীপুর রয়েছে। শুধু আমরা ভুলে গিয়েছি আমাদের গৌরবময় লড়াইয়ের অতীত কথা। মনে রাখতে হবে অতীত ছাড়া ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে না। (সমাপ্ত )
তথ্যসূত্র- ১. বীরত্বে বাঙালি; অনিল চন্দ্র ঘোষ
               ২. Land and Local Kingship in Eighteenth -Century Bengal ; John R. McLane

কলকাতার বুকে ২ হিন্দু মেয়েকে অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তকরণ, উদ্ধার ১

কলকাতা শহরের বুকে দুই বোনকে  অপহরণ করে ইসলামে ধর্মান্তর করলো দুই মুসলিম যুবক। দুজনের মধ্যে একজন নাবালিকা এবং আর একজন প্রাপ্তবয়স্ক। জানা গিয়েছে, কলকাতার জোড়াবাগান থানা এলাকার বাসিন্দা দুই বোন বিনীতা ঠাকুর এবং পরি ঠাকুর (নাম পরিবর্তিত) নামে  দুই বোনকে অপহরণ করে মুসলিম যুবকেরা । মেয়েটির বাবা জানিয়েছেন যে গত ১১ই মার্চ তারিখ থেকে তাঁর দুই কন্যা নিখোঁজ ছিল। পরে তিনি জানতে পারেন যে এলাকার দুই মুসলিম ছেলে শাহবাজ খান এবং আহমেদ খান তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে গিয়েছে, যারা প্রথমে নিজের হিন্দু পরিচয় দিয়েছিলো।  সেদিনই তিনি জোড়াবাগান থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিস তার অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো FIR দায়ের করেনি।   থানার অফিসাররা ছোট বোন পরিকে উদ্ধার করতে সমর্থ হন। তাঁর মুখ থেকে ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা জানা যায়। পরি জানিয়েছে যে ওই দুই মুসলিম যুবক তাদেরকে ভয় দেখায় যে তাদের সঙ্গে না গেলে তাঁর বাবা-মাকে খুন করা হবে। ভয় পেয়ে তারা ওই দুই মুসলিম যুবকের সঙ্গে যেতে রাজি হয়। তারপর তাদেরকে ইসলামে ধর্মান্তরিত করে দুই মুসলিম যুবককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। পরে পুলিস পরিকে উদ্ধার করতে পারলেও, বিনীতাকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস। সেইসঙ্গে পরিকে তাঁর বাবার হাতে তুলে দিলেও কোনো মেডিকেল করায়নি পুলিস এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পস্কো(POSCO ) ধারা যোগ করেনি পুলিস। কোনো উপায় না পেয়ে, তাদের পিতা গত ১২ই  মার্চ জোড়াবাগান থানায় আর একবার লিখিত আবেদন জানিয়েছেন(GD নং -৯৩৫)। পরির পিতা আরো জানিয়েছেন যে তাদের দুই মেয়েকে কলকাতার বড়বাজার এলাকার “বড়ি মসজিদে” ধর্মান্তর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী বড়ো বোন বিনীতাকে এখনো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিস।

শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিন্দু সংহতি

কলকাতার শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের বার্ষিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিল পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের আশা-ভরসা হিন্দু সংহতি । এই অনুষ্ঠান কলকাতার বিধান গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের সমস্ত সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রামায়ণের সুন্দরকান্ড তুলে ধরেন কথাকার। অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যকে শ্রী সালাসার ভক্তবৃন্দের পক্ষ থেকে স্মারক দিয়ে সম্মানিত করা হয়। স্মারক তুলে দেন সালাসার ভক্তবৃন্দের সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র মোদীজি, সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় পোদ্দার ছাড়াও অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সভাপতি ছাড়াও সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, প্রমুখ কর্মী শ্রী টোটন ওঝা এবং শ্রী অমিত মালী উপস্থিত ছিলেন।

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

অমিত মালী

rani vabashankari2

রাজা রুদ্রনারায়ণের মৃত্যুর পর রানী ভবশঙ্করী মানসিক দিক থেকে অত্যন্ত ভেঙে পড়েন। তিনি মানসিক দিক থেকে এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তিনি রাজা রুদ্রনারায়ণের চিতায় নিজেকে আহুতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্ বংশের কুল পুরোহিত রানী ভবশঙ্করীকে বাধা দেন। রাজ পুরোহিত রানী ভবশঙ্করীকে রাজ্যের শাসনভার নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান, যতদিন না পর্যন্ত রাজকুমার প্রতাপনারায়ণ প্রাপ্তবয়স্ক না হয়ে ওঠেন। তার পরেই রানী ভবশঙ্করী রাজ্যের শাসনভার সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু শাসনভার গ্রহণ করার পূর্বে রাজ্যের সভাসদদের কাছে তিন মাস সময় চেয়ে নেন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করার জন্যে। এরপরে তিনি তাঁর রাজ্যের দায়িত্বভার সেনাপতি চতুর্ভুজ চক্রবর্তী এবং রাজস্ব মন্ত্রী দুর্লভ দত্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে কাস্তাসনগড়-এর মহাদেব মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তিনি পাঠান আক্রমণের সম্ভাবনা মাথায় রেখে তাঁর সঙ্গে খুবই বিশ্বস্ত এবং শক্তিশালী মহিলাদের একটি সেনাদলকে নিয়ে গিয়েছিলেন। মহাদেব মন্দিরে তিনি রোজ নিষ্ঠাভরে পূজা করতেন এবং সেইসঙ্গে গরিব-দুঃখী, ভিখারিদের অর্থ, অন্ন-বস্ত্র দান করতেন। কিন্তু তাঁর অবর্তমানে সেনাপতি চতুর্ভুজ চক্রবর্তী রাজ্যের ক্ষমতা দখলের জন্যে সচেষ্ট হলেন। সেনাপতি চতুর্ভুজ সুলতান ওসমান খানের সঙ্গে চক্রান্ত করেন রানী ভবশঙ্করী এবং তাঁর নাবালক পুত্র প্রতাপনারায়ণকে হত্যা করার। সেইমতো চতুর্ভুজ সমস্ত তথ্য ওসমান খানের কাছে পৌঁছে দেন। ওসমান খান তাঁর সেনাবাহিনীর বাছাইকরা শক্তিশালী সেনা নিয়ে রানী ভবশঙ্করীকে হত্যার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী ওসমান খানের সেনারা হিন্দু সন্ন্যাসীর ছদ্মবেশে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে প্রবেশ করেন। এছাড়াও বহু পাঠান সৈন্য ব্যবসায়ী, পর্যটক, ফকির ইত্যাদি ছদ্মবেশে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু বর্তমান হাওড়া জেলার আমতার দুর্গে থাকা সেনা ইউনিটের গোয়েন্দারা পাঠান সেনাদের চিনতে পারেন। তারাই রানী ভবশঙ্করীকে পাঠান সেনার আগমনের খবর পৌঁছে দেন। রানী ভবশঙ্করী এই সংবাদ পাওয়া মাত্রই পাঠান সেনাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করেন। সেই মতো তিনি আশেপাশের দুর্গগুলি থেকে দক্ষ সেনাদের ডেকে নেন এবং তাদেরকে আশেপাশের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে বলেন। তিনি নিজের সঙ্গে বিস্বস্ত নারী সেনাদের রাখেন। রাতে রানী ভবশঙ্করী যুদ্ধের পোশাক পরে, অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পূজায় বসেন। পূজায় বসার সময় তিনি নিজের শরীরে একটি সাদা কাপড় জড়িয়ে নেন। গভীর রাতে ওসমান খানের সেনাবাহিনী রানী ভবশঙ্করীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মন্দিরে আক্রমণ করেন। কিন্তু সেনারা প্রস্তুত থাকায় তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। রানী ভবশঙ্করীর নেতৃত্বে থাকা সেনারা পাঠান সেনাদের কচুকাটা করেন। পিছনে থাকা পাঠান সেনাদের একটি দল এই খবর পাওয়ার পর ভোরের সময়ে কিছু দূরের গ্রামে থাকা একটি শৈব সাধুদের আখড়ায় আক্রমণ করেন। কিন্তু শৈব সাধুরা পাঠানদের তরোয়ালের জবাব তরোয়ালের দ্বারাই দেন। সেখানে শৈব সন্ন্যাসীরা বহু পাঠান সৈন্যকে হত্যা করেন। ওসমান খান রাতের অন্ধকারে পালিয়ে নিজের প্রাণ বাঁচান। পরেরদিনই রানী ভবশঙ্করী নিজের রাজধানী গড় ভবানীপুরে ফিরে আসেন। তিনি গোয়েন্দা মারফত খবর পেয়েছিলেন চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর চক্রান্তের কথা। কিন্তু প্রমানের অভাবে তাকে কোনো শাস্তি দিতে পারেননি। কিন্তু এরপরেই রাজ্যের শাসনভার সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করেন রানী ভবশঙ্করী। দায়িত্ব নিয়েই তিনি চতুর্ভুজ চক্রবর্তীকে সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন এবং ভূপতি কৃষ্ণ রায়কে সেনাপতি নিযুক্ত করেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সেনা প্রশিক্ষণের শিবির স্থাপন করেন, যেগুলি রানী ভবশঙ্করী নিজে তদারকি করতেন। এরপরেই পাঠান সেনাদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াইয়ের কথা, বাঘের মতো ক্ষিপ্রতায় তাঁর যুদ্ধ করার কাহিনী ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যের লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। যদি রানী ভবশঙ্করী বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ না করে ওসমান খানকে পরাজিত করতেন, তাহলে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্য ইসলামের শাসন শুরু হতো এবং হিন্দুর মঠ-মন্দির, হিন্দুর সংস্কৃতি, সুখ-শান্তি সব ধ্বংস হয়ে যেত।

এর কিছুদিন পরেই রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেকের দিনক্ষণ স্থির হয়। ঠিক হয় যে এক বিশেষ দিনে তান্ত্রিক মতে ছাউনাপুরের অন্তর্গত বাঁশুরি গ্রামের ভবানী মন্দিরে রানী ভবশঙ্করীর রাজ্যাভিষেক হবে। স্থির হয় যে গোলক চট্টোপাধ্যায় নামক একজন তান্ত্রিক রাজ্যাভিষেকের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। কিন্তু পদচ্যুত সেনাপতি চতুর্ভজ চক্রবর্তী চক্রান্ত করতে থাকেন রানী ভবশঙ্করীকে হত্যা করে ভূরিশ্রষ্ঠ রাজ্যের ক্ষমতা দখলের। এবারেও তিনি পাঠান সেনাপতি ওসমান খানের সঙ্গে হাত মেলান। এবারে চতুর্ভুজ চক্রবর্তী, ওসমান খানকে প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি তাঁর অনুগত সেনাদের নিয়ে ভুরীশ্রেষ্ঠ রাজ্যে আক্রমণ করবেন। পরিকল্পনা মতো ওসমান খান কয়েকশো সেনা নিয়ে রাতের অন্ধকারে খানাকুলে এসে পৌঁছান। খানাকুলে এসে জঙ্গলে ঘাঁটি গাড়েন। কিন্তু জঙ্গলে শিকার করতে যাওয়া এক শিকারী এদের দেখতে পেয়ে খানাকুলের দুর্গে খবর দেন। সেই খবর যখন চতুর্ভুজ চক্রবর্তীর কাছে পৌঁছায়, তিনি তা গুজব বলে উড়িয়ে দেন( ওই সময় সেনাপতি ভূপতি কৃষ্ণ রায় বিশেষ কাজে দূরে থাকায় চতুর্ভুজ চক্রবর্তী খানাকুল দুর্গের দায়িত্বে ছিলেন)। কিন্তু রানী ভবশঙ্করীর গুপ্তচর ব্যবস্থা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, এই খবর তাঁর কাছে পৌঁছে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গেই তিনি ব্যবস্থা নেন। তিনি দূতের মাধ্যমে ভূপতি কৃষ্ণ রায়কে ফিরে আসতে বলেন। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দুর্গে থাকা সেনাদেরকে ডেকে নেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রানী ভবশঙ্করী নিজের রাজ্যকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনীকে রাজ্যের সীমান্ত বরাবর সেনাকে ছড়িয়ে রাখতেন। সেই জন্যে রাজধানীতে কখনো বেশি সংখক সেনা থাকতো না। তিনি রাজ্যের সীমানা বরাবর নির্দিষ্ট দূরত্বে বহু দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন এবং প্রতিটি দুর্গে একটি করে সেনা ইউনিট থাকতো। এছাড়াও প্রতিটি দুর্গে অশ্বারোহী সৈন্য, হস্তী বাহিনী এবং পদাতিক সৈন্য থাকতো। সেই কারণে রানী ভবশঙ্করী ছাউনাপুর, বাঁশডিঙ্গাগড় এবং লস্করডাঙ্গা দুর্গের সেনা ইউনিটগুলোকে নিজের কাছে ডেকে নেন এবং তাদেরকে আশেপাশের এলাকায় মোতায়েন করেন। সেই সঙ্গে রানী ভবশঙ্করী তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা হরিদেব ভট্টাচার্যের পরামর্শে আশেপাশের বাগদি(বর্গ ক্ষত্রিয়) এবং নমঃশূদ্র সম্প্রদায়ের বাছাই করা যোদ্ধাদের সামিল করেন, যারা তীর ছোঁড়া এবং তরোয়াল চালানোয় বিশেষ দক্ষ ছিলেন। তাছাড়া, তাদের পূর্বেই যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল, যেহেতু রানী ভবশঙ্করী রাজ্যের প্রত্যেক পরিবারের একজনের সেনা প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করেছিলেন। (চলবে)

রানী ভবশঙ্করী- বিস্মৃত বাঙালি বীর কন্যা

  • অমিত মালী
পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কাছে রানী ভবশঙ্করী নামটা ততটা পরিচিত নয়। কিন্তু রানী ভবশঙ্করী অবিভক্ত বাংলার মুসলমান শাসকদের কাছে একটা আতঙ্ক ছিল, যাকে বাংলার সুলতানি শাসক, পাঠান শাসকরা কোনোদিন পরাজিত করতে পারেনি। এমনকি রানী ভবশঙ্করীর শাসনকালে মুঘল শাসক আকবর ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের সার্বভৌমত্ব মেনে নেন।  আসুন তাঁর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
রানী ভবশঙ্করীর জন্মসূত্রে নাম ছিল ভবশঙ্করী চৌধুরী। তাঁর জন্ম হয়েছিল ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যে( ইংরেজি Bhurshut kingdom), সেই সময় ভুরীশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বর্তমান হাওড়া ও হুগলি জেলা জুড়ে ছিল। তাঁর পিতার নাম দীননাথ চৌধুরী। তিনি রাজা রুদ্রনারায়ণের সাম্রাজ্যে একজন দুর্গরক্ষক ছিলেন। তাঁর পিতা দীনানাথ চৌধুরী দুর্গের রক্ষক ছিলেন, সেইসঙ্গে সেনাদের যুদ্ধ বিদ্যার প্রশিক্ষণ দিতেন। আর তাই ছোটবেলা থেকেই ভবশঙ্করী পিতার কাছে অস্ত্র শিক্ষা পান। তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে ঘোড়ায় চড়ে যুদ্ধ করা, তরোয়াল যুদ্ধ, তীর ছোঁড়া ইত্যাদির প্রশিক্ষণ নেন। সেইসঙ্গে তিনি মাঝে মাঝে পিতার সঙ্গে যুদ্ধ অভিযান এবং শিকার অভিযানে যেতেন।এছাড়াও ভবশঙ্করী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ পন্ডিতদের কাছ থেকে সমাজশাস্ত্র, রাজনীতি, দর্শন, কূটনীতি এবং ধর্মশাস্ত্র সম্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। এইভাবে সময় কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু এর কিছু সময় পরেই ভবশঙ্করীর মায়ের মৃত্যু হয়। তারপরেই দীনানাথ তাঁর কন্যার বিবাহ দেওয়ার জন্য উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান করতে থাকেন। কিন্তু স্বাধীনচেতা, যোদ্ধা ভবশঙ্করী এক অদ্ভুত শর্ত দেন যে যে পুরুষ তাকে তরোয়াল যুদ্ধে হারাতে পারবেন তিনি তাকেই বিয়ে করবেন।কিন্তু শেষপর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। কারণ সময়ের ফেরে ভবশঙ্করীর সঙ্গে রাজা রুদ্রনারায়ণ-এর বিবাহ সম্পন্ন হয়। এ নিয়ে আজও হাওড়া এবং হুগলী জেলার গ্রামে-গ্রামে লোকমুখে কাহিনী প্রচলিত আছে। একবার ভবশঙ্করী শিকার অভিযানে গিয়েছিলেন। সেখানে একদল বুনো মহিষ ভবশঙ্করীকে আক্রমণ করে। কিন্তু ভবশঙ্করীর তরোয়াল চালানোয় অসাধারণ দক্ষতা ছিল। সেই দক্ষতায় সবকটি বুনো মহিষকে তিনি হত্যা করেন এবং শিকার অভিযানে থাকা বাকিদের রক্ষা করেন। এই দৃশ্য রাজা রুদ্রনারায়ন দূর থেকে লক্ষ্য করেন এবং যুদ্ধ দক্ষতায় মুগ্ধ হন। তিনিই ভবশঙ্করীর পিতাকে বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং খুব শীঘ্রই তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয় গড় ভবানীপুর দুর্গের কাছে দামোদর রাজপ্রাসাদে। এরপরেই ব্রাম্ভন কন্যা ভবশঙ্করী চৌধুরী পরিচিত হন রানী ভবশঙ্করী নামে। বিবাহের পরেই রানী ভবশঙ্করী রাজ্য শাসন বিষয়ে রাজা রুদ্রনারায়নকে সাহায্য করতেন। একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো রানী ভবশঙ্করী দেবী চন্ডীর ভক্ত ছিলেন। সেই কারণে বিবাহের পরেই রাজপ্রাসাদের পাশেই দেবী চন্ডীর মন্দির নির্মাণ করান। তিনি রোজ নিষ্ঠাভরে  মা চন্ডীর পূজা করতেন। আজও হাওড়া ও হুগলী জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যে বেতাই চন্ডী এবং মেলাই চন্ডীর পূজা হয়ে থাকে, তা ভবশঙ্করীর শাসনকালেই হিন্দুদের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দেবী চন্ডীর অনেকগুলি মন্দির নির্মাণ করেন।
rani vabashankari2এছাড়াও তিনি সাম্রাজ্যের সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে বিশেষ নজর দেন। রানী ভবশঙ্করী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনেকগুলো সামরিক দুর্গের নির্মাণ করেন। তিনি খানাকুল, ছাউনপুর, তমলুক, আমতা , উলুবেড়িয়া, নস্করডাঙ্গায় দুর্গ নির্মাণ করেন। সেই সঙ্গে রাজ্যের সামরিক প্রশিক্ষণের বিষয়টিও দেখভাল করতেন। তাঁর নজরদারির মধ্যেই অনেকগুলি সামরিক প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালিত হতো। তিনিই প্রথম ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের সেনাবাহিনীতে মহিলাদের যুদ্ধ প্রশিক্ষণ দিয়ে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেন।সেই সঙ্গে তিনি নিয়ম করেন যে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের একজনকে যুদ্ধ প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যাতে আপদকালীন পরিস্থিতিতে সেনার দরকার পড়লে যুদ্ধ যোগ দিতে পারে। রানী ভবশঙ্করীর প্রশাসনিক দক্ষতায় ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য হাওড়া ও হুগলী ছাড়িয়ে পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর এবং পশ্চিন মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশে বিস্তার লাভ করে।সেই সঙ্গে তিনি নৌবাহিনীর দিকেও নজর দেন।রানী ভবসশঙ্করীর তত্বাবধানে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের নিজস্ব নৌবাহিনী গঠন করেন, যা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল। সেইসময় গৌড়ের শাসক ছিলেন পাঠান বংশীয় সুলেমান কারী। মুসলিম শাসকদের লুটেরা বাহিনী ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অতর্কিত হামলা করার লুঠ-পাট চালাতো। তাই এদের শায়েস্তা করতে রানী ভবশঙ্করীর পরামর্শে উড়িষ্যার রাজা মুকুন্দদেবের সঙ্গে জোট করেন রাজা রুদ্রনারায়ন । ১৫৬৫ খ্রিস্টাব্দে ত্রিবেনির যুদ্ধে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য এবং মুকুন্দদেবের মিলিত সেনাবাহিনী গৌড়ের সুলতান সুলেমান কারীকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মুকুন্দদেবের সেনাপতি রাজীবলোচন রায়, যিনি কালাপাহাড় নামে বিখ্যাত। সুলেমানের মৃত্যুর পরে তাঁর পুত্র দাউদ খান গৌড়ের শাসক হন। তিনি মুঘলদের পরাজিত করার জন্যে রাজা রুদ্রনারায়নের সাহায্য চান। রুদ্রনারায়ন রাজি না হলে দাউদ খান তাঁর সেনাপতি কলটু খানকে ভুরিশ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য আক্রমণের নির্দেশ দেন  । রুদ্রনারায়নের সেনাবাহিনী কলটু খানের সেনাকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে এবং হত্যা করেন। এইযুদ্ধে বিশাল সংখক পাঠান সেনার মৃত্যু হয়। এরফলে বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল মুসলিম শাসনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়।এর পরেই রানী ভবশঙ্করী এক পুত্র সন্তান প্রতাপনারায়নের জন্ম দেন।প্রতাপনারায়নের বয়স যখন ৫ বছর, তখন রাজা রুদ্রনারায়নের মৃত্যু হয়।

(চলবে )

হিন্দু সংহতির প্রচেষ্টায় উদ্ধার লাভ-জিহাদের শিকার নাবালিকা সুপর্ণা

Suparna Tarafdarদক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ভাঙড় থানা এলাকার বাসিন্দা সুপর্ণা তরফদার(নাম পরিবর্তিত) লাভ জিহাদের শিকার হয়েছিল গত ইংরেজি ২০১৮ সালের জুলাই মাসে। সুপর্ণা জুলাই মাসের ৮ তারিখে সোনারপুরের বাঘের মোড় থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়।  এর পর সুপর্ণার পিতা মেয়েকে ফিরে  পাওয়ার জন্যে সোনারপুর থানায় সালাম লস্কর এবং মিন্টু লস্কর নামে দুজন মুসলিম যুবকের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন, যার FIR নম্বর-১০৯২/১৮। এরপরে তদন্তে নেমে পুলিস সালাম লস্করের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে, কিন্তু সালাম লস্করকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস। তারপরে সুপর্ণার পিতা কলকাতা হাইকোর্টে মেয়েকে ফিরে পাওয়ার জন্যে মামলা করেন। কলকাতা হাইকোর্ট বারুইপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন যে স্পেশ্যাল তদন্তকারী টিম গঠন করে কেসের তদন্তকারী অফিসারকে সহযোগিতা করতে, যাতে নাবালিকা সুপর্ণাকে যাতে  দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।  এর পরেও  সালাম লস্কর আগাম  জামিন পেয়ে যায় আলিপুর জজ কোর্ট থেকে । কিন্তু দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও নির্মলবাবু তাঁর মেয়েকে ফিরে পাননি।  কোনো উপায়ে মেয়েকে ফিরে না পেয়ে তিনি হিন্দু সংহতির দ্বারস্থ হন। তিনি হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্যকে লিখিত আবেদন করেন এবং মেয়েকে ফিরিয়ে দেবার জন্য কাতর প্রাথর্না করেন। এর পরেই হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে মেয়েকে উদ্ধার করার জন্যে পুলিস-প্রশাসনের  ওপর মহলে চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষপর্যন্ত গতকাল মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে পুলিস-প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে ।

আগুনে সর্বস্ব হারানো আদিবাসীদের পাশে হিন্দু সংহতি

এই বছরের ফেব্রূয়ারি  মাসে নদীয়ার পলাশিপাড়া থানার বার্নিয়া আদিবাসীপাড়ায় বিধ্বংসী আগুনে পাঁচটি আদিবাসী পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর আগে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল হিন্দু সংহতি। সেইসময় পরিবারগুলোকে রান্নার প্রয়োজনীয় বাসনপত্র এবং অর্থ সাহায্য করা হয়েছিল হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে। গতকাল ১৯ই মার্চ, মঙ্গলবার  ওই পাঁচটি পরিবারের হাতে মহিলাদের জন্য শাড়ি এবং পুরুষদের জন্য শার্ট দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি এবং প্রমুখ কর্মী শ্রী টোটন ওঝা।

এন্টালিতে জালনোটসহ গ্রেপ্তার তাফজুল হক

fake currency newমালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতার এজেন্টের হাতে তুলে দেবার সময় কলকাতা পুলিসের টাস্ক ফোর্সের হাতে গ্রেপ্তার হলো মালদহের এক জালনোট কারবারি।  কলকাতা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে ধৃতের নাম তাফজুল হক। তাঁর বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। তাকে গত ১৮ই মার্চ, সোমবার রাতে এন্টালি থানা এলাকার সিআইটি রোড থেকে ধরা হয়। তাঁর কাছ থেকে দু লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগটাই দু হাজার টাকার নোট। বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র মালদহ থেকে জালনোট এনে কলকাতা শহরে এজেন্টের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিসের হাতে বেশ কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে এর আগেই।এই নোট আসছে বাংলাদেশ থেকে। গোয়েন্দারা ধৃতকে জেরা করে আরও বিশদে জানতে চাইছেন।