বড়বাজার কুমারসভা পুস্তকালয়ের শতবর্ষে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মানে ভূষিত হলেন শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত

আজ কলকাতার কলামন্দির প্রেক্ষাগৃহে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মান তুলে দেওয়া হল হিন্দি ভাষার জাতীয়তাবাদী সাহিত্যিক শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিতের হাতে। শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত জাতীয়তাবাদী হিন্দি সাহিত্যের অগ্রগণ্য লেখক এবং বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার অধ্যক্ষও। তিনি হিন্দি ভাষায় প্রায় ২৫ টিরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। আজ এই পুরস্কার দেওয়া হল কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন বড়বাজার কুমারসভা পুস্তকালয়ের পক্ষ থেকে। এই অনুষ্ঠানে  উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল শ্রী কেশরী নাথ ত্রিপাঠি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রী  রাম নাইক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী লক্ষী নারায়ণ ভালা। সাহিত্যিক হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিতের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শ্রী রাম নাইক মহাশয়।  পুরস্কার নিয়ে শ্রী হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, ”আমি এই সম্মান পেয়ে গর্বিত। আমি যখন দেশের সেবা কাজে আত্মনিয়োগ করি, সেই কাজে সামান্য সহযোগ হলো আমার এই সাহিত্য রচনা। আর সেই রচনা আজ আমাকে পুরস্কার এনে দেওয়ায় আমি সত্যিই অভিভূত।” উত্তর প্রদেশের রাজ্যপাল শ্রী রাম নাইক তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় সংস্কৃতির অতীত গৌরবের কথা তুলে ধরে বলেন যে, ভারতের গৌরবময় ইতিহাসের পুনর্জাগরণে বাঙালি সাহিত্যিক বঙ্কিম চন্দ্রের বন্দেমাতরম ধ্বনির অবদান অনস্বীকার্য। আর আজ ভারত যখন ধীরে ধীরে তাঁর হারানো গৌরব ফিরে পাচ্ছে, তখন কিছু মানুষ যারা বন্দে মাতরম বলতে অস্বীকার করে, যা সত্যি বেদনাদায়ক।”  রাজ্যপাল কেশরী নাথ ত্রিপাঠি তাঁর বক্তব্যে বার বার ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির নাম নেন। তিনি বলেন যে, ভারতের একতায় ও রক্ষায় তাঁর অবদান কখনোই ভোলার নয়। সেই প্রসঙ্গে এক অতীত ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন যে, একবার সংসদে নেহেরু শ্যামাপ্রসাদকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন যে ” I will crush this mentality .” তার উত্তরে শ্যামাপ্রসাদ বলেছিলেন, ” I will crush this crushing mentality of yours .” সেইসঙ্গে ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থানে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির অবদানের কথা মনে করিয়ে দেন।  প্রসঙ্গত এর পূর্বে ডঃ হেডগেওয়ার প্রজ্ঞা সম্মানে ভূষিত হয়েছেন এম ভি কামাথ, মোরেপন্ত পিঙ্লে, দীনানাথ বাত্রা, শ্রী অশোক সিঙ্ঘল, ডঃ মুরলি মনোহর যোশী -এর মতো উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্ব।

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মিছিলে জনজোয়ার, হাজার হাজার যুবকের সিংহ গর্জনে কাঁপলো কলকাতা

 

গতকাল ২০শে জুন, পশ্চিমবঙ্গ দিবসে হিন্দু সংহতি  আয়োজিত মিছিলে হাজার হাজার যুবক পা মেলালেন। বাঙালি হিন্দুর শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ রক্ষায় মিছিল থেকে ওঠা স্লোগানে কেঁপে উঠলো কলকাতার রাজপথ। মিছিলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার হাজার হাজার যুবক-যুবতী অংশ নেয়। হাজার হাজার  মানুষের মিছিল আমহার্স্ট স্ট্রিটের শ্রদ্ধানন্দ পার্কের সামনে থেকে শুরু হয়ে এমজি রোড, বিধান সরণি হয়ে শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়ে শেষ হয়। প্রায় ৪ কিলোমিটার লম্বা মিছিল থেকে যুবকেরা পশ্চিমবঙ্গ রক্ষায় স্লোগান তোলেন-”পশ্চিমবঙ্গ আমার মা, জিহাদিস্থান হবে না”, ”পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ হতে দিচ্ছি না, দেব না। এই মিছিলে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, পূজ্যপাদ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ, স্বামী আগমানন্দজী মহারাজ, হিন্দু সংহতির উপদেষ্টা শ্রী চিত্তরঞ্জন দে, সহ সভাপতি শ্রী শান্তনু সিংহ ও সমীর গুহরায় ও দেব চট্টোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দোপাধ্যায় , সম্পাদক শ্রী সুন্দর গোপাল দাস, রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী রজত রায় ও দীনবন্ধু ঘরামী,  সহ সম্পাদক  শ্রী সুজিত মাইতি, কোষাধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার ।  শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত বক্তারা। প্রথমে আশীর্বানী দেন পূজ্যপাদ স্বামী প্রদীপ্তানন্দজী মহারাজ।  তিনি তার বক্তব্যে যুবকদেরকে বাঙালি হিন্দুর  শেষ আশ্রয়স্থল পশ্চিমবঙ্গ বনাচানোর লড়াইয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন হিন্দু থাকলে রাজ্যের সংস্কৃতি, ধর্মনিরপেক্ষতা , রাজীনীতি থাকবে।  এরপর বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত। তিনি তাঁর বক্তব্যে, বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড হিসেবে পাকিস্তানের বুক চিরে এই পশ্চিমবঙ্গের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু তারপরেও এই রাজ্যের বিভিন্নপ্রান্তে হিন্দুরা জিহাদি আক্রমণের শিকার হয়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে ধুলাগড়, নলিয়াখালী, বসিরহাট-বাদুড়িয়া, বগাখালীর কথা তুলে ধরেন। এরপর বক্তব্য রাখেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে বাঙালি হিন্দুর স্বার্থে হিন্দু সংহতির দীর্ঘ আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন এবং সেইসঙ্গে কয়েকটি দাবির কথা জানান। বাংলাদেশ থেকে আগত সমস্ত হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবার দাবি, সকলের জন্য জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার বাধ্যতামূলক করার দাবি, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের ভারত থেকে চিহ্নিত করে তাদের বিতরণ করার দাবি এবং শিয়ালদহ স্টেশনের নাম ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি টার্মিনাস করার দাবি জানান। এরপর তিনি উপস্থিত জনতার দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন -আপনারা এই দাবি সমর্থন করেন কিনা। উপস্থিত হাজার হাজার মানুষজন হাত তুলে সমস্বরে এই দাবিগুলিকে সমর্থন জানান। এরপর তিনি হিন্দু যুবকদেরকে বাংলার গ্রামে গ্রামে জিহাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অভেদ্য দুর্গ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ দিবসের এই মিছিলে কলকাতার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন বিশিষ্ট মনুষরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন শ্রী সঞ্জয় সোম,সাহিত্যিক মোহিত রায়,  রাজবংশী কল্যাণ সমিতির প্রমুখ রাজেশ মন্ডল, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রবীণ প্রচারক কেশব রাও দীক্ষিত এবং গজানন বাপট, কলকাতার সালাসার ভক্তবৃন্দ-এর সভাপতি শ্রী বীরেন্দ্র মোদী প্রমুখ।

রাজ্যে জিহাদি শক্তির আক্রমণের প্রতিবাদ মিছিলেহাঁটলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি

mouno micchilসাম্প্রতিককালে উত্তর ২৪ পরগণার সন্দেশখালি, ন্যাজাট অঞ্চলে মুসলিম জিহাদি  কর্তৃক ঘটে যাওয়া হিন্দু গণহত্যা ও বিতাড়ন তথা NRS-সহ পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে ডাক্তারদের উপর বিজাতীয় জিহাদী অত্যাচার ও তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রশাসনিক নির্বিকারত্বের প্রতিবাদে একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন “নাগরিক সমাজ”-এর উদ্যোগে গতকাল উত্তর কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো এক বিশাল “মৌন মিছিল”-এর। গত ১৫ই জুন, সিমলা স্ট্রীটস্থিত স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ি থেকে ঠিক সন্ধ্যে ছ’টায় প্রায় ২৫০-৩০০ সচেতন জাতীয়তাবাদী ব্যক্তিবর্গ পরিবৃত্ত হয়ে উক্ত মিছিলটির পথচলা শুরু হয় এবং প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় শেষ হয় শ্যামবাজার পাঁচমাথার মোড়ে।

সমাজের সর্বস্তরের-সর্বপেশার মানুষ উক্ত মিছিলটির শোভাবর্ধন করেছিলেন। মিছিলের একেবারে সামনের সারিতে ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক শ্রী রন্তিদেব সেনগুপ্ত  মহাশয়, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (IIM), কলকাতার প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী অম্বুজ মোহান্তি মহাশয়, হিন্দু সংহতির বর্তমান সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয় ও সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়, “হিন্দু চোর” খ্যাত নাট্যকার শ্রী প্রবীর মন্ডল মহাশয়, ছোটপর্দার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা শ্রী সুমন ব্যানার্জী মহাশয়, “ছোট বউ” ও অন্যান্য চলচ্চিত্রের বিখ্যাত অভিনেত্রী শ্রীযুক্তা দেবিকা মুখার্জী মহাশয়া, রাজনীতিবিদ শ্রীযুক্তা বনশ্রী সেনগুপ্ত মহাশয়াদের মতো ব্যক্তিত্বরা। এ ছাড়াও মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন “অমৃতস্য পুত্রা” খ্যাত সুলেখক শ্রী দেবাশীষ লাহা মহাশয়ের মত উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরাও। উক্ত মিছিলে সমাজের সাধারণ মানুষদের যোগদান ছিলো চোখে পড়ার মতো।

সন্দেশখালীতে হিন্দু গণহত্যায় দোষীদের শাস্তির দাবিতে ক্যানিং-এ প্রতিবাদ মিছিল হিন্দু সংহতির

আজ বিকেলে সন্দেশখালীতে হিন্দু গনহত্যার প্রতিবাদে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ক্যানিং বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করলো হিন্দু সংহতির নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও মিছিল থেকে গণহত্যার প্রধান অভিযুক্ত শাজাহান শেখের ফাঁসির দাবি তোলা হয়। এই প্রতিবাদ মিছিল পুরো ক্যানিং বাজার পরিক্রমা করে। মিছিলের নেতৃত্ব দেন হিন্দু সংহতির রাজ্য কমিটির সদস্য শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী, কোষধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার, অনিল মন্ডল, ভাস্কর সর্দার , স্বপন মন্ডল এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

হিন্দু সংহতির কর্মী প্রদীপ মন্ডল খুনের প্রতিবাদে তালদিতে রেল অবরোধ হিন্দু সংহতির

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সন্দেশখালীর ভাঙ্গিপাড়া গ্রামের নিহত হিন্দু সংহতির কর্মী এলাকার হিন্দু নেতা প্রদীপ মন্ডলকে খুন করার প্রতিবাদে আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কানিংয়ের তালদি স্টেশনে পথ অবরোধ করলো হিন্দু সংহতি। প্রদীপের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল । সে ছিল বিজেপি কর্মীও। আজ কয়েকশ হিন্দু সংহতি কর্মী, সমর্থক স্বপন মন্ডল, সাগর হালদার এবং রাজ্য কমিটির সদস্য দীনবন্ধু ঘরামীর নেতৃত্বে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার তালদি স্টেশনে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভ, অবরোধে বক্তব্য রাখেন শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে এই অবরোধ চলে। শেষে সাধারণ মানুষদের অসুবিধার কথা ভেবে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সংঘর্ষ রূপ নিলো হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের, হিন্দু সংহতির কর্মী প্রদীপ মন্ডলসহ মৃত্যু ৪ হিন্দুর, আশঙ্কাজনক ১

 

এলাকায় বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে ছিল গ্রামের বিজেপি সমর্থকরা। সেই পতাকা টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীরা খুলতে গেলে বাধা দেয় বিজেপি সমর্থকরা। তারপরেই দুপক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। কিন্তু আশ্চর্জনকভাবে সেই সংঘর্ষ রূপ নিলো হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষের। একতরফা ভাবে হিন্দুদের গ্রাম আক্রমণ করে বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দেওয়া হলো। মুসলিম দুষ্কৃতীদের বেপরোয়া গুলি চালনায় ৩ জন হিন্দুর মৃত্যু হলো।  ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত সন্দেশখালির হাটগাছিতে। স্থানীয় হিন্দুরা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, আজ বিকেলে ৪টা নাগাদ সন্দেশখালির মুসলিম দুষ্কৃতী শাজাহান শেখের নেতৃত্বে ও মদতে প্রায় ১৫০০-এর বেশি টিএমসি মুসলিম দুষ্কৃতী হাটগাছি এলাকার ননকোড়া ভাঙ্গিপাড়া গ্রাম আক্রমণ করে। ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা হিন্দু সংহতির কর্মী এবং এলাকার দাপুটে হিন্দু নেতা প্রদীপ মন্ডলের বাড়ি ঘিরে গুলি চালাতে থাকে। এছাড়াও আশেপাশের হিন্দুদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা।  সেই গুলিতে আরও ২ জন হিন্দুর মৃত্যু হয়। তাঁরা হলো- প্রদীপ মন্ডল(৪০), সুকান্ত মন্ডল(২৫), শংকর মন্ডল(৩২),  ও তপন মন্ডল। আরও ১ জন গুলিবিদ্ধ। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এলাকার স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা অভিযোগ জানিয়েছেন যে বিকেল থেকে এলাকায় মুসলিম দুষ্কৃতীরা বোমা-গুলি নিয়ে আক্রমণ করলেও পুলিসের দেখা মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ যে শাজাহান শেখের নির্দেশে পুলিস  নিষ্ক্রিয় ছিল এবং এলাকায় পৌঁছাতে দেরি করে। হিন্দু সংহতির কর্মীদের মৃত্যুতে হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য শোকাহত। তিনি বলেন, ”দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেশখালি এলাকায় সাজাহান সেখের দৌরাত্ম্য চলছে। এই সাজাহান শেখ আদ্যোপান্ত জেহাদী এবং ক্রিমিনাল। একসময় সরবেরিয়া-আগারাটি অঞ্চলের সিপিএমের পঞ্চায়েত প্রধান মোসলেম শেখের পোষা গুন্ডা হিসেবে লাল ঝান্ডা নিয়ে এলাকায় হিন্দুদের উপরে সন্ত্রাস চালাতো এই সাজাহান শেখ। বর্তমানে সে তৃণমূলের নেতা এবং এই তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে সে এলাকার হিন্দুদের উপরে আগের মতোই অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাজাহান সেখের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাতে নিহত প্রদীপ মন্ডল হিন্দু সংহতির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। এক বছর আগে তিনি সক্রিয় রাজনীতি করতে শুরু করেন। রাজনৈতিক সংঘর্ষের অজুহাতে ওই এলাকার হিন্দুদের অন্যতম লড়াকু নেতা প্রদীপ মন্ডলকে খুন করা হল। আমরা অবিলম্বে সাজাহান সেখের গ্রেফতার দাবী করছি। রাজনৈতিক রঙ্ দিয়ে হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টদের হত্যা করার পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে। যারা এই সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দিয়ে চলেছে, জনগণ তাদের‌ও হিসাব বুঝে নেবে।”

ঈদের দিন হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষ আসানসোলের দিলদারনগরে

Asansolগত ৫ই জুন, বুধবার ঈদের দিন সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠলো আসানসোলের ৪১নং ওয়ার্ডের দিলদারনগর এলাকা। স্থানীয় এক বাসিন্দা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে ঈদ উপলক্ষে মুসলমানেরা ডিজে বাজাচ্ছিল। সন্ধে হতেই ডিজের সাউন্ড বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে মদ্যপ মুসলিম যুবকেরা রাস্তা দিয়ে যাওয়া হিন্দুদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এছাড়াও এলাকার হিন্দু মন্দিরগুলির সামনে মদ্যপ মুসলিম যুবকেরা জটলা পাকাতে থাকে। এলাকার কিছু হিন্দু ব্যক্তি এর প্রতিবাদ করলে মুসলিম যুবকেরা তাদের আক্রমণ করে। ইটের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়। তারপরেই ওই মুসলিম যুবকেরা হিন্দুদের বাড়ি, গাড়ি লক্ষ্য করে ব্যাপক ইট ছুড়তে থাকে। এরপর কিছু হিন্দু যুবক প্রতিরোধ শুরু করে। দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইট ছোড়াছুড়ি হয়। মুসলিমরা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়। এইসবের পরে রাতে এলাকায় বিশাল পুলিসবাহিনী ও RAF এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তারা বিভিন্ন পাড়ায় টহল দেয়। এসডিপিও সায়ক দাস বলেন, সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভোট দিতে নিষেধ; না মানায় হিন্দু গ্রামের ওপর নেমে এলো টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের অত্যাচার

গ্রামের হিন্দুদের সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে নিষেধ করেছিল আশেপাশের গ্রামের টিএমসি আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীরা। কিন্তু নিষেধ না মানায় হিন্দুদের ওপর নেমে এলো অত্যাচার। ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ফলতা থানার অন্তর্গত নিত্যানন্দপুর গ্রামের। নিষেধ উপেক্ষা করে গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা ২৩শে মে ভোট দেন। তারপরেই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে গত ৩০শে মে নিত্যনন্দপুর গ্রামে জাহাঙ্গীর খানের নেতৃত্বে একদল মুসলিম দুষ্কৃতী আসে। এসে গ্রামের হিন্দুরা বিজেপি সমর্থক এই অভিযোগ তুলে বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করে। পরে আবার ১লা জুন এসে আবার কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর এবং বাড়ির মূল্যবান সামগ্রী লুঠ করে নিয়ে যায়। নিত্যনন্দপুর গ্রামের ১৮০ নং বুথের শ্যামল ঘোষ, গোপাল ভুইঁয়া, সঞ্জয় ভুইঁয়া, শৃঙ্খল ভুইঁয়া, মনিতোষ ভুইঁয়া এবং বিক্রম ভূইঁয়ার বাড়িঘর ভাঙচুর করে ও টাকা পয়সা, টিভি ও সাইকেল লুঠ করে নিয়ে যায়। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে রেহাই পায়নি গ্রামের মহিলারা। বাধা দিতে গেলে মহিলাদের বেধড়ক মারধর করে ওই দুষ্কৃতীরা। তাদের মারে আহত হয় কয়েকজন। বুথের জলের কলের হাতল ভেঙে দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও একইভাবে ওই  গ্রামের ১৮১ নং বুথের হিন্দুদের ওপর অত্যাচার চালায় দুষ্কৃতীরা। ওই বুথের হিন্দুদের মারধর করা হয়। দুষ্কৃতীদের মারে কমবেশি আহত হন মদন ঘোষ, সঞ্জয় ভৌমিক, কাবেরী ভৌমিক, বিক্রম ভৌমিক, বিধান ভৌমিক, শৃঙ্খল ভৌমিক, ইলা ঘোষ এবং গোপাল ভুইঁয়া। এছাড়াও প্রবীর কোটালের পা ভেঙে যায় দুষ্কৃতীদের আক্রমণে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এছাড়াও এই বুথের পানীয় জলের কোলের ভিতর বালি-সিমেন্ট ঢুকিয়ে দিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা। ফলে জলের উৎস বন্ধ হয়ে যায়।  গ্রামের বাসিন্দারা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত এবং পুলিস-প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এমতবস্থায় আতঙ্কে ওই বাসিন্দারা অন্য গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।

কিশোরীকে অপহরণ করে শারীরিক নিগ্রহ, ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শেখ আজহারউদ্দিনের

SK Ajharuddinগত বছরের ঘটনা। ১২ জুলাই মানিকতলা থানায় একটি গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেন একজন মহিলা। জানান, তাঁর নাবালিকা মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি ইকবালপুরের বাসিন্দা। মানিকতলায় তাঁর পৈতৃক বাড়ি। ১১ জুলাই, মানিকতলার বাড়িতে ঘুরতে যাবে বলে ইকবালপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল মেয়েটি। তারপর থেকেই সে নিখোঁজ। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত তদন্তে নেমে পড়ে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, মেয়েটিকে শেষ দেখা গেছে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে। মেয়েটির মা জানিয়েছিলেন, শেখ আজহারউদ্দিন নামে এক প্রতিবেশীর নজর ছিল কিশোরীটির ওপর। নানা ছুতোয় সে বারবার তাঁর মেয়ের সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করত। আজহারউদ্দিনের চেহারার যে বর্ণনা দিয়েছিলেন সেই মহিলা, তার সঙ্গে সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির চেহারার বর্ণনাও হুবহু মিলে যাচ্ছিল। সেই দিনই, সাব ইনস্পেকটর সন্তোষ কুমার শা-এর নেতৃত্বে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম তল্লাশি চালায় শেখ আজহারউদ্দিনের বাড়িতে। বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় সেই কিশোরীকে। শেষ মুহূর্তে পিছনের দরজা দিয়ে পালায় আজহারউদ্দিন। মেয়েটি জানায়, আজহারউদ্দিন তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করেছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিল আজহারউদ্দিন। সেদিনও একা বেরোতে দেখে সে মেয়েটির পিছু নেয়। কথা বলার ফাঁকে মেয়েটিকে নানাকিছু কিনে দেওয়ারও লোভ দেখায় সে। বয়স কম, প্রলোভনে পা দিয়ে ফেলে মেয়েটিও। আজহারউদ্দিন তখন বাড়ি থেকে টাকা নেওয়ার অছিলায় তাকে নিয়ে আসে নিজের বাড়িতে। তারপর বলপূর্বক মেয়েটিকে শারীরিক নিগ্রহ করে সে। ভয় দেখিয়ে তাকে ঘরে আটকে রেখেছিল আজহারউদ্দিন। পুলিশ গিয়ে সেই দিনই উদ্ধার না করলে আরও বড় অনিষ্ট ঘটতে পারত। কিশোরীটির মেডিকেল রিপোর্টেও শারীরিক নিগ্রহের প্রমাণ মেলে। আজহারউদ্দিনের খোঁজ শুরু হয়। খবর দেওয়া হয় সোর্সদেরও। সোর্স মারফত খবর পেয়েই গত ২০ মার্চ মানিকতলা থেকে আজহারউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে মানিকতলা থানার বিশেষ টিম। তার বিরুদ্ধে অপহরণ ও পসকো (Protection of Children from Sexual Offences Act) আইনে মামলা রুজু হয়। উপযুক্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ-সহ চার্জশিট জমা দেওয়া হয় দ্রুতই। সেই মামলারই রায় বের হলো গত ৩রা জুন।। আজহারউদ্দিনের ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন মাননীয় বিচারক। সঙ্গে ৬০,০০০ টাকা জরিমানা। এই জরিমানার ৯০% টাকাই ক্ষতিপূরণ বাবদ যাবে কিশোরী মেয়েটির কাছে। জরিমানা অনাদায়ে কারাদণ্ডের মেয়াদ বাড়বে আরও ৬ মাস।

সৌজন্যে- কলকাতা পুলিস

হিন্দু সংহতির সহায়তায় হিন্দু ধর্মে ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার হিনা পারভীন

Maitriহিন্দু সংহতির সহায়তায়  পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দু ধর্মে ফিরলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জীবনতলা থানা এলাকার বাসিন্দা হিনা পারভীন। হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার পর তাঁর নাম এখন হিনা নস্কর। হিন্দু সংহতির কর্মীকে বিয়ে করল সে। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ওই দম্পতিকে সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে। ছবিতে হিনার সঙ্গে হিন্দু সংহতির কোষাধক্ষ্য শ্রী সাগর হালদার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শ্রী দীনবন্ধু ঘরামী।

একের পর এক হিন্দু মহিলাকে ধর্ষণের পরে খুন, কালনায় গ্রেপ্তার মুর্শিদাবাদের কামরুজ্জামান

নিজের অস্ত্র নিয়ে শনিবার শিকারে বেরিয়ে কালনা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে গেল সিরিয়াল মহিলা খুনি | এই ভয়াবহ খুনির নাম কামরুজ্জামান সরকার | বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। গত দেড় বছর আগে বাড়ি করে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট থানার নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গোয়ালপাড়ার সুজননগরে | খুনি এদিন পুলিশের নিকট তার অপরাধের সব কথা স্বীকার করে নিয়েছে। এই অপরাধীর নেশা ছিল বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মচারী সেজে লাল মোটর বাইক নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো | মিটার দেখার নাম করে বিভিন্ন বাড়িতে দিনের বেলাতেই প্রবেশ করতো। বাড়িতে মহিলাকে একা পেলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ধর্ষণ করতো। তারপর প্রমান লোপাটের জন্য প্রথমে মাথায় রডের আঘাত করে অজ্ঞান করতো। শেষে গলায় সাইকেলের চেন পেঁচিয়ে মহিলার মৃত্যু নিশ্চিত করেই বাইক নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেত।বিগত তিন মাসে কেবল কালনা থানাতেই ছয়টি এই রকম অপরাধের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি মন্তেশ্বর, মেমারী, পাণ্ডুয়া, বলাগর থানা ধরলে এই অপরাধের সংখ্যা ১২টি। শেষ খুনের ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বৈকালে কালনা থানা এলাকায়। এক দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে পাশবিক অত্যাচারের পর হত্যা করার চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেশনে চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে রবিবার অপরাধী বাইক নিয়ে শিকারে বেরিয়ে কালনা-১ ব্লকের কাঁকুরিয়া গ্রামে অপর এক বাইকের সাথে ধাক্কা মেরে পড়ে যায়। স্থানীয় একজন সিভিক ভলেন্টিয়ার বাইক চালকদের তুলতে গিয়ে লাল বাইকের কথা মনে পড়ে যায়। কারন পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ও সি সি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পেরে গিয়েছিল যে অপরাধী লাল বাইক ব্যবহার করে। তাই সন্দেহ হতেই সিভিক তার ব্যাগ পরীক্ষা করে দেখতে পায় যে ব্যাগে লোহার রড, চেন সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। যে সরঞ্জামগুলি মহিলাদের হত্যা করার সময় ব্যবহার করা হতো। প্রথমে তাকে ধরে বুলবুলিতলা ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কালনা মহকুমার পুলিশ অফিসাররা গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব দোষ স্বীকার করে। বুলবুলিতলা ফাঁড়ি থেকে অপরাধীকে কালনা থানায় আনা হয়। সেখানে বর্ধমান জেলার এডিশনাল এস পি এসে তাকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন।

মুসলিমদের কবল থেকে হিন্দু গৃহবধূকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিল হিন্দু সংহতি কর্মীরা

Sumita dasহিন্দু পরিচয় দিয়ে নিয়ে এসে আটকে রাখা এক অসহায় হিন্দু গৃহবধূকে মুসলিমদের কবল থেকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের হাতে তুলে দিলো হিন্দু সংহতির কর্মীরা। গত ২২শে মে, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত জীবনতলা থানা এলাকায়। হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীরা ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করার পর পুরো ঘটনাটি বিস্তারিত জানা যায়। জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর নাম সুমিতা দাস(নাম পরিবর্তিত) ।তিনি এক কন্যা ও পুত্র সন্তানের মা। তার বাড়ি গোসাবায়। স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের কারণে তিনি তাঁর বাপের বাড়িতে থাকতেন এবং কলকাতায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এর মধ্যে কিছুদিন আগে ফোনে মিসকলে জীবনতলা এলাকার এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। ওই মুসলিম যুবক নিজেকে হিন্দু বলে পরিচয় দেয়।ধীরে ধীরে ওই যুবকের সঙ্গে ওই মহিলার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই যুবকের কথামতো তিনি তাঁর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে জীবনতলায় চলে আসেন। ওখানে খেলার মাঠের পাশে একটি ঘরে মহিলাকে আটকে রাখে ওই মুসলিম যুবকেরা। ওই মাঠে হিন্দু সংহতির কিছু কর্মী ফুটবল খেলছিল। তাদের নজরে পড়ে যে মেয়েটিকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং মেয়েটি কান্নাকাটি করছে। আরও দেখা যায় যে বাইরে কয়েকজন মুসলিম যুবক মদ্যপান করছে। অশুভ কিছু ঘটতে চলেছে এই আশঙ্কা করে, ওই কর্মীরা অন্য কর্মীদের বিষয়টি জানান। তৎক্ষণাৎ হিন্দু সংহতির সক্রিয় কর্মী তাপস নস্কর, সন্দীপ নস্কর, মৃত্যুঞ্জয় রায়সহ কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং ঐ মুসলিম ছেলেদের মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে এবং এক কর্মীর বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়। পরে ওই মুসলিম ছেলেরা হিন্দু সংহতির কর্মীদের নামে থানায় অভিযোগ জানায় এবং পুলিস তদন্তে আসে। পরে পুলিসের সামনেই ওই মুসলিম ছেলেদের আবার মারধর করে হিন্দু সংহতির কর্মীরা। তারপরেই গতকাল ২৩শে মে ওই গৃহবধূর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় হিন্দু সংহতির তরফে। ওর পরিবারের লোকেরা সুমিতা দাসকে সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যায় । তাদের মেয়েকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করায় তাঁর পরিবারের লোকেরা হিন্দু সংহতি এবং কর্মীদেরকে অশেষ সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আবির খেলাকে কেন্দ্র করে বীরভূমের লাভপুরে মন্দির ভাঙচুর, হিন্দুদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালো মুসলিমরা

হরিনাম সংকীর্তনের নগর পরিক্রমায় আবির ছোঁড়া নিয়ে হিন্দুরা মুসলিমদের আক্রমণের শিকার হলো। ভাঙার চেষ্টা করা হলো মন্দির। মুসলিম দুষ্কৃতীদের আক্রমণে তিনজন হিন্দু মহিলা সহ মোট সাতজন জখম হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় বোলপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে। গত ১৬ই মে ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূম জেলার লাভপুর থানার অন্তর্গত ছোটগোগা গ্রামে। জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরেই ওই গ্রামে কীর্তন অনুষ্ঠান চলছিল। গত ১৬ই মে শেষ দিনে ধুলোট অনুষ্ঠান অর্থাৎ নগর পরিক্রমা  চলছিল। সেই অনুষ্ঠানে হিন্দুরা আবির খেলছিলেন নিজেদের মধ্যে। সেই আবির খেলার সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়া এক মুসলমান মোটরবাইক আরোহীর গায়ে লাগে। তখন একটু খানি বচসা হয়। সেদিন বিষয়টি মিতে গেলেও পরেরদিন অর্থাৎ ১৭ই মে, শুক্রবার রাত্রে পশ্চিমপাড়ার একদল মুসলিম দুষ্কৃতী বাঁশ, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হিন্দু পাড়ায় আক্রমণ চালায়। বিজলি দত্ত নামে এক হিন্দু গৃহবধূকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে এনে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করে ওই মুসলমান দুষ্কৃতীরা। মুসলিম দুষ্কৃতীদের মারে ওই মহিলা গুরুতর আহত হয়, তাঁর কোমর ভেঙে যায়। নিতাই দাস নামে আর এক হিন্দু গ্রামবাসীর হাত ভেঙে যায়। এছাড়াও, বেশ কয়েকজন হিন্দুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। এছাড়াও, গ্রামের যে মন্দিরে হরিনাম সংকীর্তন চলছিল, সেই মন্দিরটিতে আক্রমণ করে ভাঙতে থাকে মুসলিমরা। এলাকা বাসীরা প্রতিবাদ করলে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়।  এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। ঘটনার আকস্মিকতা কাটিয়ে গ্রামবাসীরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুত্বই অবস্থা যাদের ছিল, তাদের বোলপুরে রেফার করা হয়। বাকিদের লাভপুর গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

হাসনাবাদের হাটখোলা বাজারে হামলা TMC আশ্রিত মুসলিম দুষ্কৃতীদের; ভেঙে দেওয়া হলো শনি ঠাকুরের মূর্তি

গ্রামের হিন্দু বাসিন্দারা বিজেপি করে, এই অজুহাতে হিন্দু অধ্যুষিত গ্রামে হামলা চালালো টিএমসি-এর ঝান্ডাধারী মুসলিম দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার অন্তর্গত হাসনাবাদ থানার হাটখোলা বাজারে। স্থানীয় এক হিন্দু বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে গত ১৯শে মে রাত দশটা নাগাদ  একদল মুসলিম দুষ্কৃতী হাটখোলা বাজার এলাকায় এসে বেছে বেছে একের পর হিন্দু বাড়িতে হামলা চালায়। মুসলিম দুষ্কৃতীরা কয়েকটি আসবেস্টস-এর ছাউনি ভেঙে দেয়। এছাড়াও একটি ক্লাবে ভাঙচুর চালায়। এরপর ওই মুসলিম দুষ্কৃতীরা বাজারের পাশে থাকা একটি শনি মন্দিরে ভাঙচুর চালায়। মন্দিরে থাকা শনি ঠাকুরের মূর্তি টেনে বাইরে ফেলে দেয় এবং মন্দিরে থাকা পূজার উপাচার সামগ্রী তছনছ করা হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এলাকার হিন্দু বাসিন্দারা এই ঘটনায় যথেষ্ট ক্ষুব্ধ। তাঁরা তাদের সেই ক্ষোভ হিন্দু সংহতির প্রতিনিধির কাছে প্রকাশ করেছেন। তবে এই ঘটনায় এলাকার কিছু হিন্দু বাসিন্দারা এখনো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

ডানকুনিতে খুন হলেন গৃহবধূ পিঙ্কি বারি, গ্রেপ্তার প্রেমিক শেখ সেলিম

চিকিৎসককে দেখাতে যাওয়ার কথা বলে নিজের শিশুপুত্রকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন লিলুয়ার বাসিন্দা গৃহবধূ পিঙ্কি বারি। তার পরে আর বাড়ি ফেরেননি। সেইদিন রাতেই ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উদ্ধার হয় ডানকুনির হাউসিং মোড়ের কাছের একটি হোটেলে। গত ৯ই মে  এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস গত ১১ই মে পিঙ্কির ‘প্রেমিক’ শেখ সেলিম নামে এক মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় দিনমজুর সেলিম বিবাহিত এবং তাঁর একটি মেয়ে রয়েছে। চন্দননগর পুলিস কমিশনারেটের এক কর্তা জানিয়েছেন, ধৃত সেলিম জেরায় জানিয়েছে, পিঙ্কির সঙ্গে দু বছর আগে তাঁর আলাপ হয়। সেই থেকে দুজনের সম্পর্কের শুরু হয়। এদিকে পিঙ্কি বিবাহিত এবং তাঁর দেড় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। সেলিম আরও জানিয়েছে, সে এবং পিঙ্কি প্রায়ই বিভিন্ন হোটেলে সময় কাটাতো। কিন্তু ইদানিং পিঙ্কি তাকে অতটা গুরুত্ব দিচ্ছিলো  অন্য ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিল। তাই সে পিঙ্কিকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। অভিযুক্তের দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিস। আপাতত ধৃত সেলিম পুলিস হেফাজতে রয়েছে।