কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় বালুরঘাটে পাক পতাকা পুড়িয়ে মিলিটারি অ্যাকশনের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রদপ্তর কে চিঠি হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে গর্জে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর। গতকাল ১৫ই ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। পাকপতাকা ও পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পিছপা হননি হিন্দু সংহতি ও। ওই ঘটনায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে করা মিলিটারি অ্যাকশন নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্পিড পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি করা হয় হিন্দু সংহতির তরফে। পাশাপাশি এদিন বিকেলে শহরের হিলি মোড়ে দেশের ৪৪ জন বীর শহীদদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানায় হিন্দু সংহতি সদস্যরা। সংগঠনের তরফে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে পোড়ানো হয় পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। দাহ করা হয় পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকাও। একই ঘটনায় এদিন বালুরঘাটের বাদামাইলে হিলি বালুরঘাট জাতীয় সড়কের ওপর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কুশপুতুল দাহ করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

বালুরঘাটে হিন্দু সংহতির তরফে রজত রায় জানিয়েছেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান। সেখানে বসেই পাকিস্তান এমন সব সন্ত্রাসমূলক কাজ করে চলেছে। এর বিরুদ্ধে কড়া মিলিটারি অ্যাকশন নিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে তাদের সংগঠনের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সাথে পোড়ানো হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকাও।

Advertisements

তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে মিছিল হিন্দু সংহতির

দক্ষিণ দিনাজপুরে হিন্দু সংহতির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ গত 2রা ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে, তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে এক মিছিল অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রমুখ কর্মী শ্রী রজত রায়ের নেতৃত্বে। এই মিছিলে বালুরঘাট, বুনিয়াদপুর এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েকশ হিন্দু সংহতির কয়েকশ কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মিছিল থেকে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবার দাবিতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন চালুর দাবিতে এবং বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে স্লোগান ওঠে। এই মিছিল থানা মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর ঘুরে থানা মোড়ে শেষ হয়।

বালুরঘাটে দুঃস্থ আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ হিন্দু সংহতির

 

শিবা সোরেন – দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। সে তাঁর পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। ছোটবেলায় তাঁর বাবা মারা গিয়েছিলো। তার পর থেকে খুব কষ্ট করেই সে পড়াশুনো করছে।সে বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখে।  শুভজিৎ হাঁসদা একই জেলার সুদর্শনগর P. H. H. B. উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর। তার পিতা সামান্য কিছু জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালান। অভাবের পরিবারে শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে শুভজিৎ। সে বড়ো হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। বালুরঘাটের রীমা মান্ডি। সে কুরমাইল সোনাওয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সেও তার পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। তার কৃষক পিতার সামর্থ নেই তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় বই তুলে দেওয়ার। বংশীহারির অর্পণ পাহান। সে বংশীহারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়াশুনো করে। তাঁর পিতা একজন দিনমজুর। সেও শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখে বড়ো হয়ে পরিবারের অভাব দূর করবার। গতকাল ২রা ফেব্রূয়ারি, শনিবার হিন্দু সংহতির কোষাধক্ষ্য সাগর হালদারের তত্বাবধানে বালুরঘাটে এইরকম ৫০ জন  ছেলেমেয়ের(যার মধ্যে ২৪ জন নবম শ্রেণীর এবং ২৬জন দশম শ্রেণীর ) হাতে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে তাদের সমূহ প্রয়োজনীয় বইয়ের সেট তুলে দেওয়া হলো। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি  দেবতনু ভট্টাচার্য  বলেন, ”আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি পৃথিবীর মধ্যে এক বিশেষ জায়গা অধিকার করে আছে। আজ যারা বয়স্ক, তারা ভারতের সভ্যতা, সংস্কৃতিকে উচ্চ তুলে ধরার কাজ আর করতে পারবে না। সেই দায়িত্ব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছাত্রসমাজকে নিতে হবে। সেই কাজে শক্তির দরকার। আর সেই শক্তি হলো শিক্ষা। আর সেই শক্তি গ্রহণের পথে যাতে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়, সেই কারণে হিন্দু সংহতি তোমাদের হাতে বই তুলে দিলো।” তিনি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, ”তোমরা মন দিয়ে পড়াশুনো করো,শক্তি সঞ্চয় করো এবং ভারতের সংস্কৃতি, সভ্যতাকে বিশ্বে তুলে ধরার কাজ করো। সেই পথে বাধা এলে হিন্দু সংহতি তোমাদের পাশে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।” এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়,  সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বালুরঘাট ভারত সেবাশ্রম সংঘের শ্রী বিদুরানন্দজী মহারাজ, অনুপমানন্দজী মহারাজ, বালুরঘাটের বিখ্যাত আইনজীবী শ্রী বিদ্যুৎ কুমার রায়, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী রজত রায় এবং শ্রী প্রমিত লাহা।

বালুরঘাটে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

শীতের প্রকোপে নিতান্ত অসহায় হতদরিদ্র আদিবাসী ভাই বোনেদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতে তাদের বাড়ীর উঠোনে পৌছে গেলো হিন্দু সংহতি।বাস রাস্তা থেকে চার কিলোমিটার ভেতরে বালুরঘাট ব্লকের ডাঙ্গা অঞ্চলের প্রত্যন্ত মাধবপাড়া গ্ৰামে আদিবাসী ভাইদের বাড়ীর উঠোনে গিয়ে তাদের হাতে কম্বল তুলে দিয়ে এলেন হিন্দু সংহতির কার্যকর্তা শ্রী প্রমিত লাহা এবং শ্রী রজত রায়। এখনো ঐ গ্ৰামে লাঙ্গল দিয়ে চাষ হয়। বহু মানুষ সেখানে সম্পূর্ণ অসহায়, নিঃস্ব। তাদের পাশে থাকার বার্তা দিতে হিন্দুসংহতির এই প্রয়াস।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ হিন্দু সংহতির

আদিবাসী হিন্দু ভাই-বোনদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে গত ৬ই জানুয়ারি, রবিবার হিন্দু সংহতির উদ্যোগে বালুরঘাট ব্লকের মালঞ্চা আয়নাপাড়া গ্ৰামে রবিবার দুস্থ আদিবাসী ভাই বোনদের মধ্যে কম্বল বিতরন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে দুঃস্থ আদিবাসী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং মহিলাদের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ৫৮জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মকর্তা শ্রী রজত রায় মহাশয়, বালুরঘাট সদর হাসপাতালের (অবসরপ্রাপ্ত) স্টোর ইনচার্জ শ্রী গৌরীশঙ্কর রায়, বালুরঘাট জেলা আদালতের আইনজীবি শ্রী প্রদীপ সরকার, মুহুরি শ্রী নিশিকান্ত পাহান, পঞ্চায়েত সদস্যা শ্রীমতি সাদ্রী ওরাও এবং আরো অনেকে। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা হিন্দু সমাজের ঐক্যবদ্ধতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এবং বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে আরো সক্রিয়ভাবে হিন্দুসমাজে অগ্ৰনী ভূমিকা নেবার আহ্বান জানান। দল নয়, গোষ্ঠী নয়, ভাষা নয়, বর্ণ নয়, পেশা নয়, পরিচিতি একটাই হোক- আমরা হিন্দু; এই বার্তাই দেন বক্তারা।

হিন্দু সংহতির উদ্যোগে কুমারগঞ্জে আদিবাসীদের কম্বল বিতরণ

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ থানার অন্তর্গত কাঁটাকোল গ্রামটি আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম।গ্রামের চারিদিকে দারিদ্র্যের ছাপ। খড়ের ছাউনি এবং বাঁশের বেড়াতে মাটির লেপ দেওয়া দেওয়ালের বাড়িতে আদিবাসী ভাই-বোনদের বসবাস; বেশ কয়েকটি বাড়িতে টিন এবং এসবেস্টস-এর ছাউনি দেওয়া। সমাজের এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলির মাঝে কাজ শুরু করলো হিন্দু সংহতি।সেই কাজের অঙ্গ হিসেবে এই শীতে সেইসমস্ত আদিবাসী ভাই-বোনদের মুখে একটুখানি হাসি ফোটানোর উদ্দেশ্যে আজ হিন্দু সংহতির উদ্যোগে একটি কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ২৫জনের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়। কম্বল প্রাপকদের মধ্যে কয়েকজন বৃদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সভাপতি শ্রী দেবতনু ভট্টাচার্য, সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বালুরঘাট শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী রজত রায়।

হিলি সীমান্তে রমরমিয়ে চলছে গরু পাচার

ঠান্ডার মরশুম শুরু হতেই হিলি সীমান্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে গোরু পাচার। কুয়াশা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে বাংলাদেশে গোরু পাচার। অভিযোগ কার্যত পুলিশ ও বিএসএফের মদতেই এই পাচার চলছে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তিন দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। জেলায় ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের ২৫২ কিলোমিটার রয়েছে। তার মধ্যে এখনও ৩২ কিলোমিটার উন্মুক্ত রয়েছে। নেই কোনও কাঁটাতার। এই এলাকা দিয়ে সব থেকে বেশি পাচার হয় বলে অভিযোগ।
শীতের মরশুমে কুয়াশায় অন্ধকার ঘন হওয়ায় ফের গোরু পাচারের করিডর হয়ে ওঠেছে হিলি সীমান্ত। বেশকিছু দিন ধরে রমরমা ভাবে চলছে গোরু পাচার। হাট থেকে গোরু ক্রয় করে সেগুলি তিওড় ডাঙ্গি এলাকায় রাখার পর ত্রিমোহিনী দিয়ে চক গোপাল, ডুমরণ, গোবিন্দপুর, জামালপুর সীমান্ত দিয়ে পাচার হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। পাচার চক্রের মাথা রয়েছে রাজনৈতিক দলের দোর্দণ্ডপ্রতাপশালী ব্যক্তিরা। এদিকে প্রশ্ন ওঠেছে কার মদতে এমন কারবার চলছে ? তবে কি পুলিশ বিএসএফের মদত রয়েছে ? আবার কেউ কেউ দাবি করছে মদত ছাড়া এমন কাজ করার সাহস পাবে কি করে ?
কেটে গিয়েছে চার দশকেরও বেশি সময়। দেশ এখন ডিজিটালের শিখরে। উন্নত হয়েছে সামরিক ব্যবস্থা। কিন্তু যেন সেই খোলা সীমান্ত, অবৈধ মালপত্রের পাচার এখনও গ্রাস করে রেখেছে হিলি সীমান্ত ব্যবস্থাকে। দিনে স্টোরিং রাতে পাচার এ যেন হিলির নিত্যসঙ্গী। পাচার কাজের সঙ্গে জড়িত স্কুল পড়ুয়ারাও। রুটিরুজি জোগাড়ে হিলিতে কৃষিকাজের বিকল্প নেই কোনও কর্মসংস্থান বলে অভিযোগ পাচারকারীদের।
এবিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, অনুপ্রবেশকারী সমাজবিরোধীরা গোরু পাচার করে বিষিয়ে তুলেছে। রাত হলেই রমরমা গোরু পাচার চালু হয়। প্রতিবাদ করতে গেলে আক্রান্ত হতে হয় মানুষ’কে। প্রশাসনকে জানিয়ে কোনও লাভ হয়নি। পাচারকারীরা এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট করে দিচ্ছে। কঠোরতম ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত প্রশাসনের বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের তরফ থেকে পুরো বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলা হয়।

গঙ্গারামপুরে পুকুরে পাওয়া গেলো বিষ্ণুমূর্তি

bishnuগতকাল ২রা নভেম্বর, শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার মিশন মোড় এলাকায় এক ব্যক্তির পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি পাওয়া যায়। পুলিস জানিয়েছে, গঙ্গারামপুর থানার মিশন মোড়ের বাসিন্দা সুবল দাস এদিন তাঁর পুকুর খনন করছিলেন। সেই সময় বিষ্ণু মূর্তিটি পাওয়া যায়। সেটি অক্ষত রয়েছে। বিষ্ণু মূর্তি পাওয়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মূর্তিটিকে দেখার জন্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন। এমনকি মূর্তিকে ঘিরে পুজোও শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গঙ্গারামপুর থানার আইসি গৌতম রায় বলেন একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। মূর্তিটি সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে

হিলি সীমান্তের হাঁড়িপুকুরগ্রামে ধুমধাম করে কালীপূজা করেন গ্রামের মুসলিমরাই

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারের ভারতীয় গ্রাম হাঁড়িপুকুরের কালীপুজো ধুমধামের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ করে থাকেন। মূলত দীর্ঘ ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো গ্রামবাসীরা করে আসছেন। আগে এখানে মূর্তি তৈরি করে পুজো হলেও বর্তমানে ঘটপুজো হয়। সারাবছর মন্দিরের রক্ষাণাবেক্ষণও করেন মুসলিম বাসিন্দারা । কারণ গ্রামে একসময় হিন্দুদের বসবাস থাকলেও বর্তমানে ওই গ্রামে আর একজনও হিন্দু থাকেন না। তাই কোনো এক অজানা টানের কারণে গ্রামের মুসলিমরাই সেই পূজা আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন। এমনকি, পুজোর ভোগ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রতিবেশী বাংলাদেশের বাসিন্দাদেরও। বিএসএফ ও বিজিবির জওয়ানদের কড়া নজরদারিতেই মিলন হয় দুই দেশের বাসিন্দাদের। চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে খিচুরি রান্না পুজোর প্রসাদ বিতরণ সবই করেন মুসলিমরা। শুধু রীতি মেনে পুজো করতে কাঁটাতার পেরিয়ে সূদর হিলি থেকে পুরোহিত আনা হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে আলোর উৎসবেও মেতে উঠে দুই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা রসিদ মণ্ডল, আতিয়ার মণ্ডল, নজরুল ইসলামরা বলেন, এই পুজোর কথা আগে বাপ-ঠাকুর্দাদের মুখ থেকে শুনতাম। বর্তমানে আমরা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করছি। দীপাবলির দিনে আমরাই এলাকা আলোকিত করে তুলি। আগে মূর্তি বানিয়ে পুজো করা হলেও এখন ঘটপুজো করা হয়। কারণ কয়েকবছর আগেও মূর্তি পূজা করা হলেও কোনো এক অজানা কারণে মূর্তি পূজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে কয়েকবছর।

দক্ষিণ দিনাজপুরে মুসলিম দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন বিবেকানন্দ সেবাকেন্দ্রের স্বামী রামানন্দ মহারাজ

গত ২৩শে

এপ্রিল, সোমবার সন্ধাবেলায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত বিবেকানন্দ সেবা কেন্দ্রের প্রেসিডেন্ট স্বামী রামানন্দ মহারাজ দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন। স্বামী রামানন্দ মহারাজ গঙ্গারামপুরের আইসি কে করা তার অভিযোগে জানিয়েছেন যে, তিনি সেবামূলক কাজের জন্যে কাশিম ৭নং জাহাঙ্গীরপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরতে ওনার সন্ধ্যা হয়ে যায়। তিনি শিববাড়ি রাস্তা ধরে আশ্রমে ফিরছিলেন। কিন্তু হলিক্রস মিশন স্কুলের সামনের মোড়ে দুজন দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে রাস্তা আটকায়। রামানন্দ মহারাজ গাড়ি থেকে নামাতেই ওই দুই দুষ্কৃতী মারধর করে মহারাজকে। তারপর মহারাজের মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে হুমকি দেয় যে গঙ্গারামপুরে সাধুদের কোনো কাজ চলবে না।  হিন্দুদের জন্যে করা সংগঠনের কাজ ছেড়ে দেবার হুমকি দেওয়াও হয় মহারাজকে। তারপর মহারাজকে ছেড়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। ওই মুসলিম দুষ্কৃতীদের মারে স্বামী রামানন্দ মহারাজ আহত হন। তিনি গঙ্গারামপুর এস ডি হাসপাতালে চিকিৎসা কোরান। বাইকের হেলমেট দিয়ে মহারাজের কাঁধে দুষ্কৃতীরা আঘাত করায় কাঁধে যথেষ্ট ব্যাথা রয়েছে। এমনকি ছুরি দিয়ে মহারাজের উরুতে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। বর্তমানে স্বামী রামানন্দ মহারাজ সুস্থ রয়েছেন। তবে প্রায় দুদিন হতে চললেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে ভাঙচুর চালালো দুষ্কৃতীরা

সম্প্রীতির বাংলার মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো। গত ১৭ই এপ্রিল,মঙ্গলবার রাতে কিছু দুষ্কৃতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুমারগঞ্জের জাকিরপুরের  হাটখোলায়। স্থানীয়রা মূর্তি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায় পরের দিন অর্থাৎ ১৮ই এপ্রিল, বুধবার সকালে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ওই গ্রামে গত ১লা বৈশাখ থেকে হরিনাম চলছে। ঘটনার আগেরদিন রাতে সবাই যে যার বাড়ি চলে যাওয়াতে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতিরা কয়েকটি মূর্তিতে ভাঙচুর চালায়। তার পূজার ঘট ও ঠাকুরের গলায় থাকা ফুলের মালা দূরে ছিঁড়ে ফেলে দেয় এবং পূজার অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরেরদিন সকালে স্থানীয়রা এই ঘটনা দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমারগঞ্জ থানার ওসি পার্থ ঝা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে পুলিশ স্থানীয় হিন্দুদের বাধ্য করে ভাঙা মূর্তি বিসর্জন দিতে। এলাকার হিন্দু জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় হাটখোলা এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

গঙ্গারামপুরে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার আব্দুল কাদের

এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আব্দুল কাদেরকে(২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ১৭ই এপ্রিল, মঙ্গলবার তাকে আদালতে তুলেছে পুলিশ। গত ১৬ই এপ্রিল, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত গঙ্গারামপুর থানার প্রাণসাগরের বাসুরিয়া এলাকায়। নির্যাতিতা যুবতীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরী স্থানীয় হাই স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী। নির্যাতিতা যুবতী সোমবার বিকেলে মামার বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্ত আব্দুল কাদের তার পথ আটকায়। নির্যাতিতা কিশোরী ও অভিযুক্ত পরিচিত ছিল। ফলে ওই কিশোরী দাঁড়ায়। এর পর তাকে ফু্ঁসলিয়ে অভিযুক্ত যুবক ওই কিশোরীকে পাশের ব্রীজের নীচে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত যুবক। সন্ধ্যায় বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। স্থানীয়রা লক্ষ করেন যে ওই কিশোরী সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার জ্ঞান ফিরলে অভিযুক্তের নাম বলে সে। এর পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার। রাতেই অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে নির্যাতিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। এদিকে এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন  রয়েছে পুলিশ।
এবিষয়ে নির্যাতিতার মা জানান, গতকাল তার মেয়ে মামার বাড়ি থেকে আসার পথে তার মেকে ব্রীজের নীচে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হিলি সীমান্তে ১৬লক্ষ বাংলাদেশী টাকা উদ্ধার করল বিএসএফ

গত ১৫ই এপ্রিল, রবিবার গভীর রাতে হিলির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উজাল থেকে বাংলাদেশি ১৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে বিএসএফের ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। বিএসএফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার ভারতীয় মূল্য ১২ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকার জামা প্যান্ট উদ্ধার হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে উজাল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের পাচারকারীরা বাংলাদেশের টাকাগুলি নিজেদের মধ্যে আদান প্রদান করছিল। সেসময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিএসএফ হানা দিতেই পাচারকারী টাকা ও জামা কাপড় ফেলে পালিয়ে যায়। হিলি থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

হিলি সীমান্ত এলাকায় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ গ্রেফতার এক

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গতকাল ১১ই মার্চ, রবিবার গোপন সুত্রে খবর পেয়ে হিলি থানার ত্রিমোহিনী এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ এক ব্যক্তিকে আটক করল বিএসএফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কফ সিরাফের বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে। পরে বিএসএফ উদ্ধার করা নিষিদ্ধ কফ সিরাফ ও আটক ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হিলি থানার পুলিশ ও বিএসএফ।
জানা গেছে, হিলি থানার ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত গোপাল দত্তের বাড়ি। বিএসেফের কাছে গোপন খবর আসে গোপাল দত্তের বাড়িতে নিষিদ্ধ কফ সিরাফ মজুত রয়েছে। খবর পেয়ে এদিন দুপুরে বাড়িতে হানা দেয় বিএসেফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। হানা দিয়ে গোপাল দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ। ঘটনায় তাকে আটক করে বিএসএফ।  উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কফ সিরাফের বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ ধৃত ব্যক্তিকে হিলি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ।
এবিষয়ে বিএসএফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দিয়ে গোপাল দত্ত নামে এক ব্যক্তি সহ ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ উদ্ধার করা হয় এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এবার কুশমন্ডিতে আদিবাসী মহিলাকে শ্লীলতাহানি, আটক মমেনুল হক

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুশমণ্ডি থানার দেহাবন্দ এলাকার আদিবাসী যুবতীকে গণধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার খবরের শিরোনামে কুশমণ্ডি। এবার এক আদিবাসী বিধবা এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপ্রহার দিল গ্রামবাসীরা। পরে মমেনুল হক(৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কুশমণ্ডি থানার কাপুড়িয়া এলাকার ঘটনা। যদিও ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশমণ্ডি থানার কাপুরিয়া এলাকায় হোলি উপলক্ষে বাউল গান চলছিল। এই এলাকায় বাড়ি আদিবাসী বিধবা মহিলার। বাড়িতে চোলাই মদ বিক্রি করতেন বলে সূত্রের খবর। গত ১লা মার্চ, দোলের দিন  ওই বিধবার বাড়ি যায় মমেনুল হক। সেই সময় ওই মহিলা একাই ছিলেন বাড়িতে। মদ্যপ অবস্থায় ওই বিধবা মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে  দেয়। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কুশমণ্ডি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ শাসক।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কুশমণ্ডি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এদিকে একের পর এক আদিবাসী মহিলার উপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্ধ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। ফের আন্দোলনে নামার হুমকি দেওয়া হয়েছে আদিবাসী সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে।
এবিষয়ে গ্রামবাসী বিমল মুরমু জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। ধৃত যুবককে বেঁধে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘুমিয়ে থাকার দরুন অনেকটা পরে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। ভুল না অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখুক পুলিশ বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্য দিকে কুশমণ্ডি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনার কোন লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।