গঙ্গারামপুরে পুকুরে পাওয়া গেলো বিষ্ণুমূর্তি

bishnuগতকাল ২রা নভেম্বর, শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার মিশন মোড় এলাকায় এক ব্যক্তির পুকুর খননের সময় কষ্টিপাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি পাওয়া যায়। পুলিস জানিয়েছে, গঙ্গারামপুর থানার মিশন মোড়ের বাসিন্দা সুবল দাস এদিন তাঁর পুকুর খনন করছিলেন। সেই সময় বিষ্ণু মূর্তিটি পাওয়া যায়। সেটি অক্ষত রয়েছে। বিষ্ণু মূর্তি পাওয়ার খবরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। মূর্তিটিকে দেখার জন্যে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় করেন। এমনকি মূর্তিকে ঘিরে পুজোও শুরু হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিস গিয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। গঙ্গারামপুর থানার আইসি গৌতম রায় বলেন একটি বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয়েছে। মূর্তিটি সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করা হবে

Advertisements

হিলি সীমান্তের হাঁড়িপুকুরগ্রামে ধুমধাম করে কালীপূজা করেন গ্রামের মুসলিমরাই

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারের ভারতীয় গ্রাম হাঁড়িপুকুরের কালীপুজো ধুমধামের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ করে থাকেন। মূলত দীর্ঘ ১৫০ বছরের বেশি সময় ধরে এই পুজো গ্রামবাসীরা করে আসছেন। আগে এখানে মূর্তি তৈরি করে পুজো হলেও বর্তমানে ঘটপুজো হয়। সারাবছর মন্দিরের রক্ষাণাবেক্ষণও করেন মুসলিম বাসিন্দারা । কারণ গ্রামে একসময় হিন্দুদের বসবাস থাকলেও বর্তমানে ওই গ্রামে আর একজনও হিন্দু থাকেন না। তাই কোনো এক অজানা টানের কারণে গ্রামের মুসলিমরাই সেই পূজা আজও বাঁচিয়ে রেখেছেন। এমনকি, পুজোর ভোগ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রতিবেশী বাংলাদেশের বাসিন্দাদেরও। বিএসএফ ও বিজিবির জওয়ানদের কড়া নজরদারিতেই মিলন হয় দুই দেশের বাসিন্দাদের। চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে খিচুরি রান্না পুজোর প্রসাদ বিতরণ সবই করেন মুসলিমরা। শুধু রীতি মেনে পুজো করতে কাঁটাতার পেরিয়ে সূদর হিলি থেকে পুরোহিত আনা হয়। এই পুজোকে কেন্দ্র করে আলোর উৎসবেও মেতে উঠে দুই দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
এলাকার বাসিন্দা রসিদ মণ্ডল, আতিয়ার মণ্ডল, নজরুল ইসলামরা বলেন, এই পুজোর কথা আগে বাপ-ঠাকুর্দাদের মুখ থেকে শুনতাম। বর্তমানে আমরা মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ করছি। দীপাবলির দিনে আমরাই এলাকা আলোকিত করে তুলি। আগে মূর্তি বানিয়ে পুজো করা হলেও এখন ঘটপুজো করা হয়। কারণ কয়েকবছর আগেও মূর্তি পূজা করা হলেও কোনো এক অজানা কারণে মূর্তি পূজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে কয়েকবছর।

দক্ষিণ দিনাজপুরে মুসলিম দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন বিবেকানন্দ সেবাকেন্দ্রের স্বামী রামানন্দ মহারাজ

গত ২৩শে

এপ্রিল, সোমবার সন্ধাবেলায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর থানার অন্তর্গত বিবেকানন্দ সেবা কেন্দ্রের প্রেসিডেন্ট স্বামী রামানন্দ মহারাজ দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হলেন। স্বামী রামানন্দ মহারাজ গঙ্গারামপুরের আইসি কে করা তার অভিযোগে জানিয়েছেন যে, তিনি সেবামূলক কাজের জন্যে কাশিম ৭নং জাহাঙ্গীরপুরে গিয়েছিলেন। কিন্তু ফিরতে ওনার সন্ধ্যা হয়ে যায়। তিনি শিববাড়ি রাস্তা ধরে আশ্রমে ফিরছিলেন। কিন্তু হলিক্রস মিশন স্কুলের সামনের মোড়ে দুজন দুষ্কৃতী বাইক নিয়ে রাস্তা আটকায়। রামানন্দ মহারাজ গাড়ি থেকে নামাতেই ওই দুই দুষ্কৃতী মারধর করে মহারাজকে। তারপর মহারাজের মাথায় রিভলভার ঠেকিয়ে হুমকি দেয় যে গঙ্গারামপুরে সাধুদের কোনো কাজ চলবে না।  হিন্দুদের জন্যে করা সংগঠনের কাজ ছেড়ে দেবার হুমকি দেওয়াও হয় মহারাজকে। তারপর মহারাজকে ছেড়ে চলে যায় দুষ্কৃতীরা। ওই মুসলিম দুষ্কৃতীদের মারে স্বামী রামানন্দ মহারাজ আহত হন। তিনি গঙ্গারামপুর এস ডি হাসপাতালে চিকিৎসা কোরান। বাইকের হেলমেট দিয়ে মহারাজের কাঁধে দুষ্কৃতীরা আঘাত করায় কাঁধে যথেষ্ট ব্যাথা রয়েছে। এমনকি ছুরি দিয়ে মহারাজের উরুতে আঘাত করে দুষ্কৃতীরা। বর্তমানে স্বামী রামানন্দ মহারাজ সুস্থ রয়েছেন। তবে প্রায় দুদিন হতে চললেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে ভাঙচুর চালালো দুষ্কৃতীরা

সম্প্রীতির বাংলার মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো। গত ১৭ই এপ্রিল,মঙ্গলবার রাতে কিছু দুষ্কৃতি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুমারগঞ্জের জাকিরপুরের  হাটখোলায়। স্থানীয়রা মূর্তি ভাঙা অবস্থায় দেখতে পায় পরের দিন অর্থাৎ ১৮ই এপ্রিল, বুধবার সকালে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে ওই গ্রামে গত ১লা বৈশাখ থেকে হরিনাম চলছে। ঘটনার আগেরদিন রাতে সবাই যে যার বাড়ি চলে যাওয়াতে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতিরা কয়েকটি মূর্তিতে ভাঙচুর চালায়। তার পূজার ঘট ও ঠাকুরের গলায় থাকা ফুলের মালা দূরে ছিঁড়ে ফেলে দেয় এবং পূজার অন্যান্য সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে রেখে যায়। পরেরদিন সকালে স্থানীয়রা এই ঘটনা দেখতে পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন কুমারগঞ্জ থানার ওসি পার্থ ঝা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন যে পুলিশ স্থানীয় হিন্দুদের বাধ্য করে ভাঙা মূর্তি বিসর্জন দিতে। এলাকার হিন্দু জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ থাকায় হাটখোলা এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।

গঙ্গারামপুরে দশম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার আব্দুল কাদের

এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনায় অভিযুক্ত যুবক আব্দুল কাদেরকে(২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল ১৭ই এপ্রিল, মঙ্গলবার তাকে আদালতে তুলেছে পুলিশ। গত ১৬ই এপ্রিল, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত গঙ্গারামপুর থানার প্রাণসাগরের বাসুরিয়া এলাকায়। নির্যাতিতা যুবতীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বর্তমানে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা কিশোরী স্থানীয় হাই স্কুলে দশম শ্রেণির ছাত্রী। নির্যাতিতা যুবতী সোমবার বিকেলে মামার বাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্ত আব্দুল কাদের তার পথ আটকায়। নির্যাতিতা কিশোরী ও অভিযুক্ত পরিচিত ছিল। ফলে ওই কিশোরী দাঁড়ায়। এর পর তাকে ফু্ঁসলিয়ে অভিযুক্ত যুবক ওই কিশোরীকে পাশের ব্রীজের নীচে নিয়ে যায়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত যুবক। সন্ধ্যায় বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয়দের। স্থানীয়রা লক্ষ করেন যে ওই কিশোরী সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে উদ্ধার করে গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার জ্ঞান ফিরলে অভিযুক্তের নাম বলে সে। এর পর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা কিশোরীর পরিবার। রাতেই অভিযুক্ত আব্দুল কাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে নির্যাতিতার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। এদিকে এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন  রয়েছে পুলিশ।
এবিষয়ে নির্যাতিতার মা জানান, গতকাল তার মেয়ে মামার বাড়ি থেকে আসার পথে তার মেকে ব্রীজের নীচে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অন্য দিকে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

হিলি সীমান্তে ১৬লক্ষ বাংলাদেশী টাকা উদ্ধার করল বিএসএফ

গত ১৫ই এপ্রিল, রবিবার গভীর রাতে হিলির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের উজাল থেকে বাংলাদেশি ১৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে বিএসএফের ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। বিএসএফ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার ভারতীয় মূল্য ১২ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ৪০ হাজার টাকার জামা প্যান্ট উদ্ধার হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে উজাল সীমান্তের জিরো পয়েন্টে দুই দেশের পাচারকারীরা বাংলাদেশের টাকাগুলি নিজেদের মধ্যে আদান প্রদান করছিল। সেসময় গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিএসএফ হানা দিতেই পাচারকারী টাকা ও জামা কাপড় ফেলে পালিয়ে যায়। হিলি থানার পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

হিলি সীমান্ত এলাকায় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ গ্রেফতার এক

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় গতকাল ১১ই মার্চ, রবিবার গোপন সুত্রে খবর পেয়ে হিলি থানার ত্রিমোহিনী এলাকার একটি বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ এক ব্যক্তিকে আটক করল বিএসএফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কফ সিরাফের বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে। পরে বিএসএফ উদ্ধার করা নিষিদ্ধ কফ সিরাফ ও আটক ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হিলি থানার পুলিশ ও বিএসএফ।
জানা গেছে, হিলি থানার ত্রিমোহিনী বাজার সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত গোপাল দত্তের বাড়ি। বিএসেফের কাছে গোপন খবর আসে গোপাল দত্তের বাড়িতে নিষিদ্ধ কফ সিরাফ মজুত রয়েছে। খবর পেয়ে এদিন দুপুরে বাড়িতে হানা দেয় বিএসেফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের জওয়ানরা। হানা দিয়ে গোপাল দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ। ঘটনায় তাকে আটক করে বিএসএফ।  উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ কফ সিরাফের বাজার মূল্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা। নিষিদ্ধ কফ সিরাফ সহ ধৃত ব্যক্তিকে হিলি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ।
এবিষয়ে বিএসএফের ১৮৩ ব্যাটেলিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রবিবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে হানা দিয়ে গোপাল দত্ত নামে এক ব্যক্তি সহ ৫৪০ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাফ উদ্ধার করা হয় এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এবার কুশমন্ডিতে আদিবাসী মহিলাকে শ্লীলতাহানি, আটক মমেনুল হক

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত কুশমণ্ডি থানার দেহাবন্দ এলাকার আদিবাসী যুবতীকে গণধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একবার খবরের শিরোনামে কুশমণ্ডি। এবার এক আদিবাসী বিধবা এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গণপ্রহার দিল গ্রামবাসীরা। পরে মমেনুল হক(৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কুশমণ্ডি থানার কাপুড়িয়া এলাকার ঘটনা। যদিও ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ থানায় দায়ের হয়নি বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কুশমণ্ডি থানার কাপুরিয়া এলাকায় হোলি উপলক্ষে বাউল গান চলছিল। এই এলাকায় বাড়ি আদিবাসী বিধবা মহিলার। বাড়িতে চোলাই মদ বিক্রি করতেন বলে সূত্রের খবর। গত ১লা মার্চ, দোলের দিন  ওই বিধবার বাড়ি যায় মমেনুল হক। সেই সময় ওই মহিলা একাই ছিলেন বাড়িতে। মদ্যপ অবস্থায় ওই বিধবা মহিলাকে শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা ওই ব্যক্তিকে আটকে রেখে গণধোলাই দেয়। এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে  দেয়। এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় কুশমণ্ডি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ শাসক।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। যদিও এখন পর্যন্ত ওই ঘটনায় কুশমণ্ডি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এদিকে একের পর এক আদিবাসী মহিলার উপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্ধ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন। ফের আন্দোলনে নামার হুমকি দেওয়া হয়েছে আদিবাসী সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে।
এবিষয়ে গ্রামবাসী বিমল মুরমু জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। ধৃত যুবককে বেঁধে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেয় উত্তেজিত জনতা। ঘুমিয়ে থাকার দরুন অনেকটা পরে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। ভুল না অন্য কিছু তা খতিয়ে দেখুক পুলিশ বলে তিনি জানিয়েছেন।
অন্য দিকে কুশমণ্ডি থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনার কোন লিখিত অভিযোগ তারা পাননি। অভিযোগ পেলে পুরো বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

ধর্ষণে জড়িতদের কঠিন শাস্তির দাবিতে গঙ্গারামপুরে রাস্তা অবরোধ আদিবাসীদের

গতপরশু ২৪শে ফেব্রুয়ারী, শনিবার দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে দিনভর বিক্ষোভ, মিছিল, রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন। এই বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা। কুশমন্ডির ধর্ষণ ও নির্যাতন কান্ডে ধৃতদের বাড়িঘর পোড়ানোর পর এবার রাস্তায় নেমে সশস্ত্র আন্দোলন শুরু করলো তারা। তাদের বিক্ষভে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এদিন পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরপত্তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, এদিন সকাল থেকে গঙ্গারামপুর এলাকায় জড় হতে থাকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তের আদিবাসী মানুষজন। হাতে তিরধনুক নিয়ে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ র‍্যালি বের করে। এরপর বাসস্ট্যান্ড চৌমাথা এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ সভা করা হয়। সেই সভায় অবশ্য সামিল হতে দেখা যায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদাকে। তিনি তার বক্তব্যে সকলকের কাছে শান্তিপূর্ন ভাবে আন্দোলনের আর্জি জানান। এদিকে এই আন্দোলনে দীর্ঘক্ষন বন্ধ হয়ে পরে জাতীয় সড়কের সমস্ত ধরনের যান চলাচল। মানসিক  ভারসাম্যহীন আদিবাসী মহিলা ধর্ষণের প্রতিবাদ এবং দোষীদের ফাঁসির দাবী তোলা হয়। অন্যদিকে, শুক্রবার ধৃতদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়ার সময় থেকেই কুশমন্ডির দেহাবন্দ এলাকায় বিরাট পুলিশ মোয়াতেন রয়েছে। এদিন সম্পূর্ণ থমথমে ছিল এলাকা। স্থানীয় থানার আইসিদের পাশাপাশি বিরাট পুলিশ বাহিনী নিয়ে এলাকাগুলিতে যাচ্ছেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক বিপুল বন্দ্যোপাধ্যায়।

আন্দোলনকারী নেফালিনা সোরেন এবং আদিবাসী সংগঠন আসেকার সভাপতি নৃপ্রেন্দ্রনাথ হেমব্রম জানান, কুশমন্ডির ঘটনা নিন্দনীয়। ঘটনায় জড়িত দু’জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। হিংসা নয় শান্তিতে আন্দোলন চলুক সেই আবেদন তিনি রেখেছেন এদিনের সভা থেকে। রুখে না দাঁড়ালে দিন দিন তাদের সম্প্রদায়ভুক্ত মহিলাদের বারবার ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হতে হবে। এর আগে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, কুশমন্ডির লোহাগঞ্জ এবং এবার দেহাবন্দ এলাকা তার প্রত্যক্ষ উদাহরণ। দোষীদের ফাঁসী দিলে পরবর্তীতে এই ধরনের কাজ করার সাহস পাবে না আর কেউ। মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী কুশমন্ডিতে অসহায় আদিবাসী যুবতীকে গণধর্ষণ কান্ডে যারা অভিযুক্ত রয়েছেন তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে তারা এদিন গঙ্গারামপুরে ধিক্কার মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় শামিল হয়েছিলেন।

দক্ষিণ দিনাজপুরে আদিবাসী নাবালিকাকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার মোস্তাকিন মন্ডল

গত ১৬ই ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত গঙ্গারামপুর থানার ফুলবাড়ির মোহনপুরে অষ্টম শ্রেণীর এক আদিবাসী ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ এক সংখ্যালঘু মুসলিম যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত যুবকের নাম মোস্তাকিন মণ্ডল(২২) ওরফে আপেল। অভিযোগ, মা-বাবা মারা যাওয়ার পরে ওই নাবালিকা মোহনপুরে মামা বাড়িতে থাকত। অভিযোগ গত ১৫ই ফেব্রুয়ারী, বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়েটি জমিতে কাজে গেলে তাকে ওই প্রতিবেশী যুবক ধর্ষণ করে। নাবালিকার পরিবারের তরফে বিষয়টি নিয়ে গঙ্গারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। এনিয়ে গত শুক্রবার স্থানীয় হিন্দুরা দলবদ্ধভাবে থানায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পুলিশ তৎপর হয়। পুলিশ রাতেই ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ।

ইসলামপুরের রামগঞ্জে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ২ মুসলিম দুষ্কৃতি

islampurer ramgunjeগত ১৮ই ফেব্রুয়ারী, রবিবার রাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর থানার রামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুই দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম হাফিজুল হক ও সফিরুল ইসলাম। তারা সুজালির কামারগছের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল, একটি ওয়ান শাটার ও ১৩টি কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে। ইসলামপুর থানার আইসি রাজেন ছেত্রি বলেন, ‘‘গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রামগঞ্জ হাইস্কুলের পাশে একটি মিষ্টির দোকান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত থাকারও অভিযোগ রয়েছে।’’

পাঞ্জিপাড়ার সুধা নদী দখলের চেষ্টা মহম্মদ সালাহউদ্দিনের

দক্ষিণ দিনাজপুরের গোয়ালপোখর থানার পাঞ্জিপাড়ার সুধা নদীর একাংশ ভরাট নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নদীর একাংশের জমির মালিকানা দাবি করে স্থানীয় এক বাসিন্দা মাটি ভরাট করছিলেন। এদিন পাঞ্জিপাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল কমিটি ওই কাজ আটকে দিয়েছে। মহম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, ওই জমি আমাদের পরিবারের নামে রেকর্ড রয়েছে। মোট ৮৫ কাঠা জমি। নদীর স্রোত যাতে বাধা না পায় সেজন্য ২০ কাঠা জমি ছেড়ে দিয়ে মাটি ফেলছি। এদিন তৃণমূল কর্মীরা বাধা দিয়েছে। আমরা এনিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হব। তৃণমূলের পাঞ্জিপাড়া অঞ্চল কমিটির সভাপতি ফিরোজ খান বলেন, নদী ভরাটের কাজ চলছিল, আমরা আটকেছি। মাটি ভরাট করা হলে বর্ষার সময় জল বের হতে পারবে না। স্থানীয়রা সমস্যায় পরবেন। প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বাসিন্দারা বলেন, সুধা নদী বহু প্রাচীন। বর্ষার সময় ওই নদী দিয়েই এলাকার জল বের হয়।

এটিএম থেকে গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে গ্রেপ্তার বিএড-এর ছাত্র রফিকুল মন্ডল

অভিনব কায়দায় দিনের পর দিন মানুষকে প্রতারিত করে এটিএম থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ২রা ফেব্রুয়ারী, শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থানার পুলিশ এক কলেজ পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ছাত্রের নাম রফিকুল মণ্ডল। তার বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি ব্লকের খারুনে। সে মালদহের একটি বেসরকারি বিএড কলেজের ছাত্র। গত এক মাসে এক লক্ষেরও বেশি টাকা সে বিভিন্ন সময়ে হাতিয়ে নিয়েছে।

বালুরঘাট থানার আইসি সঞ্জয় ঘোষ বলেন, চৌমাথা মোড়ের এটিএম থেকে টাকা না মেলার খবর লিখিতভাবে আমাদের কাছে আগেও এসেছে। শুক্রবার নির্দিষ্ট একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পতিরাম চৌমাথা মোড়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএমে এদিন কুমারগঞ্জ ব্লকের বেলতারার বাসিন্দা প্রীতি প্রামাণিক টাকা তুলতে যান। নতুন কার্ড হাতে পেয়ে টাকা তুলতে না পারায় তিনি এটিএমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রফিকুলের সাহায্য চান। একাধিকবার চেষ্টা করে ধৃত ছাত্র মহিলাকে জানিয়ে দেয় এটিএমে টাকা নেই। কিন্তু প্রীতিদেবী বাড়ি গিয়ে দেখতে পান তাঁর এটিএম কার্ডটি বদল করা হয়েছে এবং তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা তোলার একটি ম্যাসেজ মোবাইল ফোনে এসেছে। দেরি না করে তিনি পতিরাম পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে এটিএমের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে। ছবিতে দেখা যায় মহিলাকে সাহায্য করার নামে ছেলেটি এটিএম কার্ডের পিন নম্বর দেখে নেয় এবং কার্ডটি বদল করে দেয়। পুলিশ এটিএম চত্বরে গিয়ে ওই যুবকের সন্ধান পায় এবং সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ছ’মাসে ছাত্রটি একই কায়দায় ১০ জনেরও বেশি গ্রাহকের এটিএম কার্ড বদলে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না জানতে পুলিশ তদন্তে নেমেছে।

তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা জানিয়েছেন, কোনও ব্যক্তি এটিএম থেকে টাকা তুলতে না পারলে ওই যুবক সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসত। তারপরেই শুরু হত তার কারসাজি। পড়াশুনার খাতিরে সে মালদহতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকত। তবে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এটিএমে হাজির হয়ে গ্রাহকদের সাহায্য করার নামে প্রতারিত করতো। এদিন পুলিশ যুবকের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করে মহিলার হাতে তা তুলে দেয়।

বাড়িতে ব্রাউন সুগার তৈরির কারখানা, দক্ষিণ দিনাজপুরে গ্রেপ্তার ১

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত ৩রা ডিসেম্বর, বুধবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত তপন থানার পুলিশ হজরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিলারপাড়ায় একটি বাড়ি থেকে ব্রাউন সুগার তৈরির বেশকিছু রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ধার করেছে। পুলিশ হানা দিতেই বাড়ির মালিক পালিয়ে গেলেও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, এই সমস্ত রাসায়নিক পদার্থ ব্রাউন সুগার তৈরির জন্য আনা হয়েছিল। ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কারা জড়িত তাদের খোঁজ চলছে। তবে পুলিশ তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার হওয়া সংখ্যালঘু ব্যক্তির নাম জানাতে চায়নি।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানার লোহাগঞ্জে এক আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন

গত ৫ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার ভোরে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানার লোহাগঞ্জে এক আদিবাসী মহিলাকে ধর্ষণ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। এদিন ওই মহিলার বাড়ির উঠোন থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এক ব্যক্তিকে আটক করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কুশমণ্ডি থানার আইসি শ্যামল বিশ্বাস বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বাইরে রয়েছেন। সামান্য কিছু আয় করতে ওই মহিলা বাড়িতে চোলাই বিক্রি করতেন। বাড়িতে অনেকেরই আনাগোনা হতো। তবে সোমবার রাতে কী ঘটনা ঘটেছিল তা কারও নজরে আসেনি। সকাল হলে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠোনে তাঁর মৃতদেহ দেখতে পান। মৃতের মেয়ের অভিযোগ, তার বাবা ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছে। তার মাকে একা পেয়ে কেউ ধর্ষণ করে খুন করেছে। এই ঘটনায় জড়িতরা দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আদিবাসী সংগঠন জেলা জুড়ে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছে।