উত্তর দিনাজপুরে হিন্দু বাসিন্দাদের ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের মুসলিমরা

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো ২০১৯শের লোকসভা ভোটে। গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের হিন্দুদের যারা সংখ্যালঘু। ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চোপড়া এলাকার একটি গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। গ্রামে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওই গ্রামে মাত্র ৬০০ জন হিন্দু ভোটার। অভিযোগ, গতকাল যখন গ্রামের কয়েকজন হিন্দু বাসিন্দা ভোট দিতে বুথে যান, তখন বুথের বাইরে থাকা কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি তাদেরকে বলে যে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ করলে মারধর করে ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজন বাসিন্দা সাইকেলে করে ভোট দিতে আসছিলেন, তাদেরকে রাস্তায় আটকে মারধর করা হয়, সাইকেল ভেঙে দেওয়া হয়। তাদেরকে বলা হয় যে তারা নাকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, তাই তাদেরকে বুথে যেতে দেওয়া হবে না।পুলিসকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ফলে লোকসভা নির্বাচনে গ্রামের একজনও হিন্দু বাসিন্দা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। পরে তারা দলবদ্ধভাবে বিক্ষোভ দেখান। তখন বিষয়টি কয়েকটি জাতীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নজরে আসে। তাদের প্রচার ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশের শুভবিদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা মনে করছেন যে এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের বেহাল অবস্থার ছবি প্রকাশ পেয়েছে ।

সীমান্তে কাঁটাতার কাটার চেষ্টা, বিএসএফ-এর গুলিতে মৃত্যু বাংলাদেশীর

ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার কাটতে এসে বি এস এফের গুলিতে মৃত্যু হলো এক বাংলাদেশীর। গত ১৮ ই জানুয়ারী ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরদিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার শ্রীপুর বর্ডার আউট পোষ্টে। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে এসেছে। মৃতদেহের পাশ থেকে দুটি কাটার ও ভোজালি উদ্ধার হয়েছে। মৃতের পরিচয় জানা যায় নি। গোয়ালপোখর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, ওইদিন ভোরে গোয়ালপোখর থানার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে শ্রীপুর বর্ডার দিয়ে এক ব্যাক্তি কাটাতারের বেড়া কেটে ভারত সীমান্তে ঢোকার চেষ্টা করে। সেই সময় প্রহরারত বি এস এফ জোয়ান তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় ওই ব্যাক্তির। মৃতদেহর পাশ থেকে উদ্ধার হয় দুটি কাটার ও একটি ভোজালি। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ইসলামপুর হাসপাতালে পাঠায়। মৃতের পরিচয় জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গোয়ালপোখর থানার পুলিশ।

অবৈধ বাংলাদেশী পাচারকারীকে ধরতে গিয়ে মুসলিম গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষ পুলিসের, আহত কয়েকজন পুলিসকর্মী

Goyalpokhorদুই বাংলাদেশী পাচারকারকারীকে ধরতে গিয়ে পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল গ্রামবাসীদের। অভিযোগ, পুলিশের গুলিতে আহত দুই গ্রামবাসী। আহত বেশ কয়েকজন পুলিস কর্মীও। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর থানার ডাঙ্গীবস্তি এলাকায়। আহত ওই দুই গ্রামবাসীর নাম আব্দুল মালেক ও রহমান আলি। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে গোয়ালপোখর থানার বিশাল পুলিসবাহিনী।
স্থানীয়সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়ালপোখর থানার পুলিস গোপনসূত্রে জানতে পারে ডাঙ্গীবস্তি এলাকার বাসিন্দা মজনুরের বাড়িতে দুই বাংলাদেশী আশ্রয় নিয়ে আছে। ওই দুই বাংলাদেশীকে গত ৯ই ডিসেম্বর, রবিবার গভীর রাতে পুলিস ধরতে যায়। সেই সময় গ্রামবাসীরা পুলিসকে বাধা দিলে পুলিস সেখান থেকে ফিরে আসে। পরে থানা থেকে বিশাল পুলিসবাহিনী নিয়ে গেলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিসকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীরা ইট পাথর ছুঁড়তে থাকে। পালটা পুলিস গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পুলিসের গুলিতে আহত হয় আব্দুল মালেক ও রহমান আলি নামে দুই গ্রামবাসী। উত্তেজিত গ্রামবাসী পুলিসের গাড়িটিকে ভাঙচুর চালায় বলে পালটা অভিযোগ। এই ঘটনায় দুই জনকে আটক করে নিয়ে আসে পুলিস। এলাকায় এই ঘটনায় ব্যপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিসের গুলি চালানোর প্রতিবাদে পরেরদিন ১০ই ডিসেম্বর, সোমবার এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় ডাঙ্গিবস্তি গ্রামের বাসিন্দারা। পুলিস গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে জেলা পুলিস সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন,’দুই বাংলাদেশীকে পুলিস গ্রেপ্তার করতে গেলে গ্রামবাসীরা পুলিসকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট পাথর ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিস কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট চালায়। এখনও পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন গ্রামবাসীকে আটক করা হয়েছে।’ জেলা পুলিস  সুপার সুমিত কুমার জানিয়েছেন, ঐদিন রাতে পুলিস ওই গ্রামে দুই বাংলাদেশীকে ধরতে যায় তখন পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রামবাসীরা ইট পাথর ছুড়তে থাকে। তখন পুলিস পাম এ্যাকশান গান(রাবার বুলেট) চালায়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিসের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। 

ডালখোলার মাদ্রাসায় বোমা বিস্ফোরণ, খাগড়াগড় কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি কি?

dalkholaউত্তর দিনাজপুর জেলার ডালখোলা থানার অন্তর্গত ঝাটকিয়া গ্রাম। সেই গ্রামেই রয়েছে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা। কিন্তু গত ২৯শে নভেম্বর, গভীর রাত্রে ওই মাদ্রাসায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের আওয়াজে পুরো গ্রাম কেঁপে ওঠে। এমনকি মাদ্রাসার দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। মাদ্রাসার ভিতরে চেয়ার,টেবিল ভেঙেচুরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। দেওয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ে বিস্ফোরণের তীব্রতায়। বিস্ফোরণের আওয়াজে গ্রামবাসীরা মাদ্রাসা চত্বরে ছুটে আসেন। গ্রামবাসীরা মাদ্রসার মৌলবী জুনেদ আলম রুমানিকে ঘিরে ধরে বিস্ফোরণের কারণ জানতে চান।    কিন্তু আশ্চর্জনকভাবে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ বিস্ফোরণের কথা প্রথমে পুলিসকে জানাননি। সূত্র মারফত এই খবর পেয়ে শুক্রবার সকালে ইসলামপুরের অতিরিক্ত পুলিস সুপার কার্তিকচন্দ্র মন্ডল ঘটনাস্থলে আসেন। তখনই মাদ্রাসা কতৃপক্ষ দাবি করেন যে মাদ্রসায় বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা বোমা ছুঁড়েছে এবং শুক্রবার দুপুরে ডালখোলা থানায় FIR দায়ের করেছেন। কিন্তু ইতিমধ্যেই একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে রাতে বিস্ফোরণ হলেও সকালে মাদ্রাসা কতৃপক্ষ কেন পুলিসকে জানাননি।
তবে এই ঘটনায় খাগড়াগড় কান্ডের কথা মনে করিয়ে দিলো। এমনিতেই খাগড়াগড় কান্ডের পর পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকাগুলি নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত গোয়েন্দারা। এরমধ্যেই ঝাটকিয়ার এই বিস্ফোরণ অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মাদ্রাসার ভিতরে বোমা বিস্ফোরণ করলো কারা? কি কারণে এই বোমা বিস্ফোরণ ? রাতে বিস্ফোরণ হলেও, দুপুরে কেন থানায় অভিযোগ জানানো হলো ?যদিও এইসব প্রশ্নের উত্তর একমাত্র তদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে এই ঘটনাকে যথেষ্ট গুরত্ব দিয়ে দেখছেন জেলা পুলিসের কর্তারা। ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত পুলিস সুপার ঘটনাস্থল ঘুরে গিয়েছেন এবং নিজের তত্বাবধানে তদন্ত করছেন। তাছাড়া মাদ্রাসার ভিতরে কি কাজকর্ম হতো, তা জানার জন্যে স্থানীয় গ্রামবাসীদের নিয়ে আলোচনায় বসতে চলেছেন পুলিসকর্তারা। তবে এই ঘটনার পর কাউকে আটক বা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্যে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়নি।

উত্তরদিনাজপুরের চোপড়া এবং করণদিঘি সীমান্তে জোরকদমে চলছে পাচার।

আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের করিডর হয়ে উঠেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। গরু-মোষ থেকে শুরু করে কাফ সিরাপ, মদ, চোরাই মোটর বাইকের ইঞ্জিন সহ অনেক কিছুই এই সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়। পাচারের পথে রুপোও এই জেলার সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে। মাঝেমধ্যে বিএসএফ পাচারকারীদের আটক ও পাচার সামগ্রী উদ্ধার করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সীমান্তরক্ষীদের চোখে ধুলো দিয়েই পাচার চলছে। নজরদারি এড়াতে মাঝেমধ্যে পদ্ধতির পরিবর্তন করে পাচারকারীরা। এমনকী সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে সুড়ঙ্গ কাটার ঘটনাও ধরা পড়ে। চোরাচালানের বিকল্প রাস্তা বানাতেই ওই সুড়ঙ্গ কাটা হচ্ছিল বলে বিএসএফ ও পুলিসের গোয়েন্দারা জানান।  জেলার ইটাহার ও চাকুলিয়া বাদে সমস্ত ব্লকেই বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের বেশির ভাগ জায়গা কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে রাখা হলেও কিছু জায়গায় এখনও কাঁটাতারের বেড়া নেই। চোপড়ার বড় বিল্লা ও গোয়ালগছ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। কিছু জায়গায় নদীই দু’দেশের সীমান্ত হিসেবে রয়েছে। করণদিঘির বোরধই, ভাটোল ও খুরকা এলাকার সীমান্তে নাগর নদী প্রবাহিত হয়েছে। এইসব উন্মুক্ত পথই চোরাচালানের কাজে বেশি ব্যবহার হয়। তবে কাঁটাতার কেটে গোরু পাচারের ঘটনাও এখানে ধরা পড়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হল প্রায় এক বছর আগে চোপড়ার ফতেপুর বিওপি এলাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে ৮০ ফুট সুড়ঙ্গ খনন করে ফেলেছিল দুষ্কৃতীরা। পুলিস ও বিএসএফের গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান, নির্বিঘ্নে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের জন্যই এই সুড়ঙ্গ খনন হয়েছিল।
সীমান্তে পাচারের কাজ যে বন্ধ হয়নি তার প্রমাণ এইসব এলাকায় বিভিন্ন সময়ই পাচারের নানা সামগ্রী উদ্ধার হয়। পাচারকারীদের সঙ্গে বিএসএফ জওয়ানদের সংঘর্ষও হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামে দিনের বেলায় গবাদিপশু সহ অন্যান্য পাচারের সামগ্রী জমা করা হয়। সীমান্তে অনেকগুলি বড় বড় হাট আছে। সেখানে গোরু কেনাবেচা হয়। হাটগুলি থেকে গোরু কিনে পাচারকারীরা পায়ে হাঁটিয়ে একেবারে সীমান্ত লাগোয়া এলাকার গ্রামে জমা করে রাখে। রাতে অন্ধকার নামতেই শুরু হয় অপারেশন। দুষ্কৃতীরা সুযোগ বুঝে কাঁটাতার কেটে ওপারে গোরু পাঠিয়ে দেয়। সম্প্রতি হেমতাবাদের বিষ্ণুপুর পঞ্চায়েতের করইডাঙ্গি গ্রামে পাচারের জন্য মজুত গোরু উদ্ধার করতে গেলে বিএসএফের সঙ্গে গ্রামবাসীদের সংঘর্ষ হয়। কাফ সিরাপ ও নেশার বিভিন্ন সামগ্রী প্যাকেট করে এপার থেকে ছুঁড়ে ওপারে ফেলা হয়। গোয়ালপোখরের ফুলবাড়ি, দেবীগঞ্জ সহ অনেক এলাকাই পাচারকারীদের দখলে। বামনবাড়ি এলাকায় পাচারের আগেই বিএসএফ ১৫ কেজি রুপো উদ্ধার করেছিল। আবার সম্প্রতি পাঞ্জিপাড়া ও ইসলামপুরে তক্ষক উদ্ধার হয়েছিল। সেগুলি বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল।

উত্তর দিনাজপুরের রাড়িয়া গ্রামের বাৎসরিক ধর্মসভায় আমন্ত্রিত তপন ঘোষ

উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত রায়গঞ্জের  রাড়িয়া  গ্রামে গতকাল ২১শে এপ্রিল, শনিবার গ্রামের বাৎসরিক পূজা উপলক্ষে এক বিরাট হিন্দু সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল।তবে এবারের অনুষ্ঠান অন্য বছরের তুলনায় সম্পূর্ণরকম আলাদা ছিল। কারণ এই বছর অনুষ্ঠানের সর্বাগ্রে সমস্ত দায়িত্ব মাথায় তুলে নিয়েছিল হিন্দু সংহতির তরুণ-যুবকেরা। আর তাদের প্রচেষ্টায় এই বছরের অনুষ্ঠান অনেক বিরাট আকারে পালিত হলো।  আর সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন হিন্দু সংহতির প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে মুখ্য উপদেষ্টা শ্রী তপন ঘোষ মহাশয়। এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির উত্তরবঙ্গের পর্যবেক্ষক শ্রী পীযুষ মন্ডল এবং হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী তুষার সরকার। রাড়িয়া গ্রামে  শ্রী তপন ঘোষ মহাশয় আসবেন-এই খবর ঘিরে এলাকার জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ছিল। প্রধান রাস্তা থেকে কয়েক হাজার হিন্দু জনসাধারণ মিছিল করে, ঢাক বাজিয়ে, জয় মা কালী জিন্দাবাদ,হিন্দু সংহতি জিন্দাবাদ, তপন ঘোষ জিন্দাবাদ শ্লোগান দিতে দিতে শ্রী ঘোষকে সভাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে তপন ঘোষ হিন্দু জনসাধারণের উদ্দেশে তার মূল্যবান বক্তব্য রাখেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন যে, ”মাটি রক্ষার জন্যে শুধু লড়াই করে যেতে হবে। আর এটাই হলো হিন্দু সংহতির মন্ত্র। যুবকেরা তোমরা মনে রেখো, লড়াই করতে করতে মাথা কেটে যাবে, তবুও যেন তোমাদের পা পিছিয়ে না আসে”। এছাড়াও তিনি উপস্থিত হিন্দু জনতার উদ্দেশ্যে বলেন যে, ওরা মুসলিমদের জন্যে দেশভাগ করে নিয়েছে,তবুও কেন এদেশে জায়গার নাম ইসলামপুর থাকবে? প্রসঙ্গত গত বছর বকরি ঈদের সময় গরুর মাংস ফেলাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায়। সেই হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় এই  রাড়িয়া গ্রামের হিন্দু যুবক তোতন দাস শহীদ হন। সেই সময়  রাড়িয়া গ্রামের হিন্দুদের পাশে হিন্দু সংহতি দাঁড়িয়ে থেকে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছিল।

লালগঞ্জে হিন্দু নাবালিকাকে নির্যাতন মুসলিম ছাত্রের, ক্ষমা স্বীকার

উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত লালগঞ্জের লাগুয়া হাইস্কুল-এর ছাত্রী ১৬ বছরের মানসী সরকার (নাম পরিবর্তিত, পিতা-রাজকুমার সরকার) কে স্কুলে যাওয়া আসার পথে উত্যক্ত করতো ওই স্কুলের ছাত্র আমির শাহিন কাদরী (পিতা-মহম্মদ মতিউর রহমান)। এই ঘটনা দীর্ঘদিন ঘটতে থাকায় মেয়েটি স্কুল যাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরে মেয়েটির পরিবার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবিষয়ে জানায়। কিন্তু উনি কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মেয়েটির পরিবার হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী কাশীনাথ ঢালীকে বিষয়টি জানান। হিন্দু সংহতি এ বিষয়ে উদ্যোগী হলে প্রধান শিক্ষক মহাশয় হিন্দু সংহতির চাপের কাছে নতিস্বীকার করে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেন। ওই সভাতে হিন্দু সংহতির প্রতিনিধি, প্রধানশিক্ষক, মেয়েটি ও ছেলেটির পরিবার উপস্থিত ছিলেন। শেষে ছেলেটির পিতা এই মর্মে দেয় যে ভবিষ্যতে তার ছেলে  মেয়েটিকে উত্যক্ত করলে যা শাস্তি দেওয়া তা মেনে নিতে হবে।

ইসলামপুরে বোমা ফেটে জখম ৩ মুসলিম শিশু

গতকাল ২৭শে মার্চ, মঙ্গলবার দুপুরে ইসলামপুর থানার মাটিকুণ্ডা – ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিন্নাবাড়ি চাপাসা গ্রামে খেলতে গিয়ে বিস্ফোরণে তিন শিশু জখম হয়েছে। এঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জখম শিশুদের উদ্ধার করে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, জখমরা হল আট বছর বয়স্ক মহম্মদ তানভির, ১০ বছরের জব্বার আলি এবং ১৩ বছরের মহম্মদ মুজাহিদ। জব্বারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছে। তার হাত গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। হাতটি বাদ দিতে হতে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে  বোমা ফেটে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা জানিয়েছেন যে , ওই শিশুরা বাঁশবাগানের পাশে খেলা করছিলো। ওখানে মজুত করা বোমা ফেটে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছেন।

ইটাহারে রাজবংশী হিন্দুদের উচ্ছেদের চক্রান্ত, বাড়িতে আগুন দিলো মুসলিমরা

উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহারের দুর্লভপুরে রাজবংশী হিন্দুদের তাদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করার জন্যে স্থানীয় মুসলিম দুষ্কৃতিরা হামলা চালালো তাদের ওপর। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার ২০শে মার্চ, মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে দুর্লভপুরে তিনটি রাজবংশী পরিবার -দিপু রায়, দীনেশ রায় ও মালতি রায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছে। ওই তিনটি পরিবারের ওই বসতবাড়ি ছাড়া আর অন্য কোনো জমিজমা নেই। ওদের পরিবার শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু স্থানীয় মুসলিমরা মাজাহারুল ইসলাম, মুস্তাফা আলীদের নেতৃত্বে মাসখানেক আগে ওই তিনটি পরিবারকে ওই জমি থেকে বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। কিন্তু ওই মুসলিমরা জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখতে পারেনি। এ নিয়ে কোর্টে মামলাও হয়। সেই মামলা এখনও চলছে। কিন্তু তার মধ্যে গত মঙ্গলবার মুসলিমরা দলবেঁধে মাজাহারুল ইসলাম, মুস্তাফা আলীর নেতৃত্বে এসে ওই তিনটি রাজবংশী হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালায়, ঘরদোর ভাংচুর করে। তারপর বাড়ি তিনটিতে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় আসে-পাশের হিন্দুরা ছুটে আসে এবং মাজাহারুল ইসলাম ও আরো তিনজন মুসলিম দুষ্কৃতিকে ধরে ফেলে। তাদের প্রচুর মারধর করে এবং তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে ঘটনাস্থলে আসেন দুর্লভপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মদন গোপাল বর্মন। তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়া ওই তিনটি হিন্দু পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই  ঘটনায় এলাকার রাজবংশী হিন্দুদের মধ্যে যথেষ্ট ক্ষোভ থাকায় এলাকায় বিশাল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আগ্নেয়াস্ত্র সহ বাইক পাচার চক্রের পাণ্ডা আইনুল হক ধৃত

শিলিগুড়িতে আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক মোটর বাইক পাচার চক্রের পাণ্ডাকে গ্রেপ্তার করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিস। ধৃতের নাম আইনুল হক। তার বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার চুরাখাওয়ায়। ধৃতের কাছ থেকে চারটি মোটর বাইক, একটি দেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) গৌরব লাল সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, পুরানো মামলায় খুঁজতে গিয়ে গত ১১ মার্চ, রবিবার ভক্তিনগর থানা এলাকা থেকে ধরা হয় আইনুলকে। তার কাছ থেকে দেশি পিস্তল ও গুলি পাওয়া যায়। হেফাজতে নিয়ে জানা যায় ধৃত মোটর বাইক চুরির সঙ্গে যুক্ত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চোপড়া থেকে চারটি মোটর বাইক উদ্ধার হয়। ওই বাইকগুলি শিলিগুড়ি থেকে চুরি হয়েছিল।

কুশমন্ডি ধর্ষণে অভিযুক্তের বাড়ি জ্বালিয়ে দিলো আদিবাসী জনগণ

kushmondiদক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমণ্ডির দেহাবন্দে আদিবাসী যুবতীকে ধর্ষণে অভিযুক্তদের শাস্তি এবং নির্যাতিতার সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল ২৩শে ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে। এদিন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকশো আদিবাসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। উত্তেজিত জনতা ধর্ষণের ঘটনায় ধৃত রামপ্রসাদ শর্মা সহ তার তিন আত্মীয়ের বাড়ি ও দু’টি কাঠের দোকান ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভয়ে এদিন একাংশ বাসিন্দা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আদিবাসীদের অভিযোগ, ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন জড়িত রয়েছে। পুলিস ঠিকভাবে তদন্ত না করায় এখনও তারা গ্রেপ্তার হয়নি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিকেলের পর থেকে গ্রামে বহিরাগত কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল সকালে বংশীহারির ধুমসা দিঘিতে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় হাজার তিনেক আদিবাসী সমাজের মানুষ জমায়েত হন। তাদের প্রত্যেকের হাতেই তির ধনুক, ধারালো অস্ত্র ছিল। গণ্ডগোলের আগাম আঁচ পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিস সুপার, ডেপুটি পুলিস সুপার, গঙ্গারামপুরের এসডিপিও সহ কুশমণ্ডি, হরিরামপুর থানার পুলিস কর্মীরা উপস্থিত হন। দুপুর ১টা নাগাদ আদিবাসীদের বিক্ষোভ মিছিল ঘাটপাড়ায় যায়। মিছিল থেকেই কিছু লোক ধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত রামপ্রসাদ সহ তার তিন প্রতিবেশীর বাড়িতে চড়াও হয়। তালাবন্ধ বাড়িতে তারা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাশাপাশি কয়েকটি দোকানেও আগুন ধরিয়ে দেয়। এলাকা নিমেষের মধ্যে উত্তাল হয়ে ওঠে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পুলিস থাকলেও তারা তির ধনুক নিয়ে আসা বিক্ষোভকারীদের আটকানোর সাহস দেখাতে পারেনি। আতঙ্কিত হয়ে একাংশ গ্রামবাসী ঘরে তালা মেরে পালিয়ে যান। কুশমণ্ডি থেকে ইটাহারগামী সড়কে পুলিস যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। এদিকে,এলাকায় মিছিল ও বিক্ষোভ থাকায় ঠিক সময়ে দমকলের ইঞ্জিনও পৌঁছতে পারেনি। বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ভস্মীভূত হয়ে যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্যাতিতা যুবতীকে মালদহ মেডিকেলে ফেলে রাখা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার দাবিও তারা করে। পাশবিক ওই ঘটনায় জড়িত সকলকে খুঁজে বের করার দাবি জানানোর পাশাপাশি ধৃতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দেওয়া না হলে জেলাজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দেন বিক্ষোভকারীরা। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী আদিবাসী যুবতীকে ধর্ষণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। মালদহ মেডিকেল কলেজে গিয়ে তিনি নির্যাতিতাকে দেখে আসেন। চিকিৎসা এবং ওই মহিলা যাতে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন সেজন্য সরকারের তরফে তাঁকে চার লক্ষেরও বেশি টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

কয়লা পাচার করার দায়ে গ্রেপ্তার চাপড়ার বিজেপি নেতা সাহিন আখতার

বেআইনি ভাবে কয়লা মেশানো ও কয়লা পাচারের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হল চোপড়ার বিজেপি নেতা সাহিন আখতারকে। চোপড়া থানার পুলিশ গত ৮ই ফেব্রূয়ারি, বৃহস্পতিবার রাতে চোপড়া থেকে গ্রেফতার করে তাঁকে। উত্তর দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘ধৃতকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’’

চোপড়ার দলুয়া এলাকায় পেট্রল পাম্প সংলগ্ন একটি জমি রয়েছে সাহিন আখতারের। সেখানেই বেআইনি কয়লার কারবার চলত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি সেখানে হানা দিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় কয়েকটি ট্রাক ও ছোট গাড়িও। তবে অধরা ছিলেন সাহিন আখতার। তাঁর খোঁজ চলছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় সাহিন আখতারের নাম রয়েছে। গতকাল ৯ই ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার দুপুরে তাঁকে ইসলামপুর থানা থেকে আদালতে পাঠানোর সময় থানার সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। পুলিশের দাবি, বাইরে থেকে নিম্নমানের কয়লা এনে তা মিশিয়ে সেই কয়লার কারবার চালাতেন সাহিন। আখতারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪১১, ৪১৪, ৩৭৯, ৪২০, ৪৬৪, ৪৬৮, ৩৪ ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সাহিনের আইনজীবী সৌমেন্দু মজুমদারের (বাবলু) দাবি, রাজনৈতিক কারণেই সাহিনকে ফাঁসানো হয়েছে. আদালতে সেসব তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরিয়ে দেওয়া হলো উত্তর দিনাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যানকে

সরিয়ে দেওয়া হল উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংসদের চেয়ারম্যান জাহিদ আলম আরজুকে। আজ সন্ধ্যে নাগাদ এবিষয়ে রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের কাছে। নতুন চেয়ারম্যান কে হবেন তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। জাহিদ আলম আরজু গোয়ালপোখরের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী গোলাম রব্বানির ঘনিষ্ঠ। অন্যদিকে সূত্রের খবর, সরিয়ে দেওয়া হতে পারে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল আহসানকেও। নতুন পরিদর্শক হিসাবে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা সুজয় মাইতির। সুজয়বাবু বর্তমানে মেদিনীপুরে কর্মরত। হঠাৎ এই রদবদলের জেরে জল্পনা ছড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক মহলে।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান জাহিদ আলম আরজু জানিয়েছেন, “আমিও শুনেছি। কিন্তু নির্দেশ হাতে পাইনি। কাল বিস্তারিত জানতে পারবো। সরস্বতী পুজোর দিন ছুটি সংক্রান্ত নির্দেশিকার জেরেই এই অপসারণ কি না, তা বলতে পারব না।” উল্লেখ্য, ১০ জানুয়ারী উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের তরফে জানুয়ারী মাসের ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকায় সংসদের চেয়ারম্যান জাহিদ আলম আরজ়ু ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের সচিব আমিনুল আহসানের সই ছিল। ছুটির তালিকায় ১ জানুয়ারী, বিবেকানন্দের জন্মদিন, নেতাজির জন্মদিন ও প্রজাতন্ত্র দিবসে ছুটি থাকলেও সরস্বতী পুজোর (২২ জানুয়ারী, সোমবার) দিনটিতে ছুটির দিন বলে উল্লেখ ছিল না।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় মহলে। প্রতিবছর এই দিনটিতে ছুটি থাকলেও, কেন এবছর সরস্বতী পুজোতে ছুটি ঘোষণা হল না, তা নিয়ে ক্ষোভ চরমে ওঠে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। সংসদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয় বিতর্ক। এই খবর ইনাডু বাংলাতে প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তারা। পরের দিন পূর্বের তালিকা বাতিল করে ছুটির সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে সংসদ। সেখানে সরস্বতী পুজোতে ছুটির উল্লেখ ছিল।

রায়গঞ্জে পিস্তলসহ গ্রেপ্তার কালু মহম্মদ

গত ৩১শে জানুয়ারী, বুধবার রাতে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ থানার শ্যামপুরে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল রায়গঞ্জ থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের নাম কালু মহম্মদ। শ্যামপুরেই তার বাড়ি। তার কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। রায়গঞ্জ থানার পুলিস জানিয়েছে, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।