শীতলকুচিতে বিজেপি -তৃণমূলের সংঘর্ষের আড়ালে আক্রান্ত হিন্দু; বাড়ি-ঘর, দোকান ও মন্দির ভাঙচুর; চললো গুলি

বিজয় মিছিলকে কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূলের সংঘর্ষ সাম্প্রদায়িক রূপ নিলো। ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার  জেলার শীতলকুচি ব্লকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৯ই জুন, শনিবার শীতলকুচিতে বিজেপির পক্ষ থেকে একটি বিজেপি মিছিল বের করা হয় শীতলকুচি বাজারের পাশেই রথের ডাঙ্গাতে। যখন মিছিল একটি মসজিদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো, সেইসময় মিছিলের কয়েকজনের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে করেকজন বিজেপি সমর্থক। সেই থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। তারপরেই কিছুক্ষনের মধ্যেই বিশাল সংখক মুসলমান টিএমসির ঝান্ডা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। একের পর এক হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায়। রথের ডাঙায় হিন্দুদের দোকানপাট ভাঙচুর করে মুসলমানেরা পুলিসের সামনেই। RAF শুধু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। উন্মত্ত মুসলিম জনতাকে আটকানোর চেষ্টা করেনি। ফক্করের হাটের বেছে হিন্দুদের দোকানগুলিতে ভাঙচুর চালায় মুসলিমরা। ধীরে ধীরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পাগলাপীর, পঞ্চারহাট এলাকায়। হিন্দুদের লক্ষ করে গুলিও চালায় মুসলিমরা। এছাড়াও, এটা যে শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছিল না, তাঁর প্রমান মেলে অচিরেই। টিএমসির ঝান্ডাধারী উন্মত্ত মুসলমান জনতা ভাঙচুর করে পাগলাপীর এলাকার হরিমন্দির, ফক্করের হাটের হরিমন্দির এবং পঞ্চারহাটের হরিমন্দির। গুলিতে আহত হয় দুইজন হিন্দু যুবক। স্থানীয় বাসিন্দারা হিন্দু সংহতিকে জানিয়েছেন যে বিজেপি তকমা দিয়ে এই আক্রমণের আসল লক্ষ্য ছিল হিন্দুরা। ঘটনা পর্যালোচনা করে সেই ইঙ্গিতও মিলছে।

জলপাইগুড়িতে রাজবাড়ির মন্দিরের মূর্তিসহ একাধিক মূর্তি ভাঙলো দুষ্কৃতীরা

এই পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মস্থান সুরক্ষিত নয়। তার প্রমাণস্বরূপ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক মন্দিরে দুষ্কৃতীদের আক্রমণ ঘটে চলেছে। সেই তালিকায় নতুন নাম যোগ হলো জলপাইগুড়ি শহর। গত ১৭ই মে রাতে জলপাইগুড়ি রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী মনসা মন্দিরের মূর্তিসহ শহরের একাধিক মন্দিরের মূর্তিতে ভাঙচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। পরেরদিন সকালে বিষয়টি শহরের বাসিন্দাদের নজরে আসে। তখনই শহর জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। শহরের একাধিক বাসিন্দা হিন্দু সংহতির প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন যে, জলপাইগুড়ির রাজবাড়ীর মনসা মন্দির খুবই ঐতিহ্যবাহী একটি মন্দির এবং মন্দিরটির সঙ্গে জলপাইগুড়ি জেলার মানুষের আবেগ জড়িত রয়েছে। কিন্তু ওই মন্দিরটির মূর্তি ভেঙে ফেলে দেয় দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও শহরের জেলা সদর হাসপাতালের ভিতরে থাকা কালী মন্দিরের মূর্তিও ভেঙে দুষ্কৃতীরা। ভাঙা হয় তিস্তা বুড়ির মন্দিরের মূর্তিও।  এছাড়াও রাজবাড়ীর পার্কে থাকা একাধিক মূর্তিও ভেঙে ফেলে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। মন্দির ভাঙার খবর পেয়ে শহরের প্রচুর মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে জলপাইগুড়ি থানার পুলিসও। তথ্য প্রমান সংগ্রহ করে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে শহরের বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন যে শুধুমাত্র মন্দিরের মূর্তিগুলি কেন ভাঙলো দুষ্কৃতীরা। এ নিয়ে তাদের অভিযোগের তীর শহরে গজিয়ে ওঠা বিশেষ সম্প্রদায়ের বস্তিগুলির ওপর এবং এই ঘটনায় শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

উত্তর দিনাজপুরে হিন্দু বাসিন্দাদের ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের মুসলিমরা

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মুকুটে নতুন পালক যোগ হলো ২০১৯শের লোকসভা ভোটে। গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা ভোট দিতে দিলেন না গ্রামের হিন্দুদের যারা সংখ্যালঘু। ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিং লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চোপড়া এলাকার একটি গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে হিন্দুরা সংখ্যালঘু। গ্রামে মুসলিমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ওই গ্রামে মাত্র ৬০০ জন হিন্দু ভোটার। অভিযোগ, গতকাল যখন গ্রামের কয়েকজন হিন্দু বাসিন্দা ভোট দিতে বুথে যান, তখন বুথের বাইরে থাকা কয়েকজন মুসলিম ব্যক্তি তাদেরকে বলে যে তাদের ভোট দেওয়া হয়ে গিয়েছে। প্রতিবাদ করলে মারধর করে ভোটার কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজন বাসিন্দা সাইকেলে করে ভোট দিতে আসছিলেন, তাদেরকে রাস্তায় আটকে মারধর করা হয়, সাইকেল ভেঙে দেওয়া হয়। তাদেরকে বলা হয় যে তারা নাকি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সমর্থক, তাই তাদেরকে বুথে যেতে দেওয়া হবে না।পুলিসকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ফলে লোকসভা নির্বাচনে গ্রামের একজনও হিন্দু বাসিন্দা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। পরে তারা দলবদ্ধভাবে বিক্ষোভ দেখান। তখন বিষয়টি কয়েকটি জাতীয় ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের নজরে আসে। তাদের প্রচার ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশের শুভবিদ্ধিসম্পন্ন মানুষের মনে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা মনে করছেন যে এই ঘটনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের গণতন্ত্রের বেহাল অবস্থার ছবি প্রকাশ পেয়েছে ।

শিয়ালদহ স্টেশনে গ্রেপ্তার মালদহের জালনোট পাচারকারী সাহাবুল শেখ

কলকাতা শহর থেকে ফের উদ্ধার হলো জালনোট। এবার শহরের ব্যস্ততম শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সাহাবুল শেখ নামে মালদহের এক জালনোটের পাচারকারীকে। গত ১৮ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাতে তাকে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিসের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। এসটিএফ সূত্রের খবর, মালদহ থেকে জাল নোট নিয়ে এসে কলকাতায় এক এজেন্টের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল সাহাবুলের। সে কোন ট্রেনে করে শিয়ালদহে আসছে, সেই তথ্য গোপন সূত্রে জানতে পারে এসটিএফ। তারপরেই নজরদারি বাড়ায় এসটিএফ। রাতেই ট্রেন থেকে নামতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আড়াই লক্ষ টাকার জালনোট উদ্ধার করে এসটিএফ-এর অফিসাররা। উদ্ধার হওয়া টাকার সবটাই দু’হাজার টাকার নোটের। ধৃতকে প্রাথমিক জেরায় জানা গিয়েছে, বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে কলকাতায় জালনোট ছড়ানো হতো। এর আগেও সাহাবুল কলকাতায় এসে জালনোট দিয়ে গিয়েছে। আরও তথ্য জানার জন্যে তাকে জেরা করছেন এসটিএফ-এর অফিসাররা।

কোচবিহারের দিনহাটায় মাদ্রাসা ছাত্রের ব্যাগ থেকে বোমা উদ্ধার করলো পুলিস

cooch bombকোচবিহারের দিনহাটায় এক মাদ্রসা ছাত্রের ব্যাগ থেকে বোমা উদ্ধার করলো পুলিস। আর সেই নেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কোচবিহারের শিক্ষা মহলে। পুলিশ যদি তৎপর না থাকতো, তাহলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারতো। জানা গিয়েছে যে  দিনহাটার বড় আটিয়াবাড়ি জোরপাকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল। এই বিদ্যালয়ের দিনহাটার বিভিন্ন মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিল। পরীক্ষার প্রথম দিন চান্দেরকুঠি হাই মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে বিরক্ত করে মুন্সিরহাট সাদেকিয়া হাই মাদ্রাসার এক পরীক্ষার্থী। সেই ঘটনার জেরে চান্দেরকুঠির ছাত্ররা একতাবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করে এবং মুন্সিরহাট মাদ্রাসার এক ছাত্রকে তারা মারধর করে। ঘটনার জেরে পরীক্ষা শেষে চান্দেরকুঠির ছাত্রদের গাড়ি থামিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দেয় মুন্সিরহাটের কিছু ছাত্র। শেষ পরীক্ষার দিন চান্দেরকুঠি ছাত্রদের দেখে নেওয়া হবে বলেও তারা শাসায়। বিষয়টি দুই মাদ্রাসার শিক্ষকদের মধ্যে জানাজানি হলে তাঁরা মিটমাটের উদ্যোগ নেয়। এদিন শেষ পরীক্ষার দিন গণ্ডগোল হতে পারে বলে পুলিসকেও জানানো হয়। সেজন্য এদিন ওই পরীক্ষা কেন্দ্রে বিশাল পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কোনও গণ্ডগোল যাতে না হয় সেজন্য দুই মাদ্রাসার ছাত্রছাত্রীদের অভিভাবক, শিক্ষকরাও উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষা শেষে এক একজন করে হল থেকে বের করে দেয় পুলিস। আপাত শান্তিপূর্ণভাবেই পরীক্ষা পর্ব মিটে যায়। কিন্তু পরীক্ষা শেষে দুই বন্ধু সহ দিনহাটা চৌপথিতে মদের দোকানের সামনে যায়। সেখানে আরও কয়েকজনের সঙ্গে তারা ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে মারামারি দেখে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়াররা এগিয়ে যায়। হাতাহাতি শান্ত হলে ব্যাগে কী রয়েছে দেখতে চাইলে বাধা দেয় ছাত্রটি। ব্যাগের চেন খুলিতেই বোমা বেরিয়ে আসে। দ্রুত দিনহাটা থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিস এসে বোমা সহ ছাত্রকে থানায় নিয়ে যায়।

হিন্দু ধর্মে ফিরলেন অলিপুরদুয়ারের খ্রিস্টান তরুণী হীরামনি

হিন্দু সংহতির সহায়তায় হিন্দু ধর্মে ফিরলেন আলিপুরদুয়ার জেলার তুরতুরী গ্রামের বাসিন্দা খ্রিস্টান তরুণী হীরামনি খাড়িয়া। তিনি বিয়ে করলেন একই জেলার উত্তর রামপুর বস্তির হিন্দু তরুণ বিশ্বজিৎ দেবনাথকে। গতকাল ১৫ই ফেব্রুয়ারি হিন্দু সংহতির সহযোগিতায় এবং কর্মীদের উদ্যোগে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয় সম্পূর্ণ হিন্দু রীতিতে। বিশ্বজিৎ এবং হীরামনির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।কিন্তু তাঁরা বিয়ে করতে চাইলে বাধা আসে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী হীরামনির পরিবার থেকে। তখন তাঁরা হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের কাছে সহযোগিতা প্রাথর্না করে।তখন হিন্দু সংহতি কর্মীদের সহযোগিতায় এবং ব্যবস্থাপনায় বিশ্বজিৎ এবং হীরামনির শুভ বিবাহ সম্পন্ন হয়। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মে স্বাগতম হীরামনিকে।

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় বালুরঘাটে পাক পতাকা পুড়িয়ে মিলিটারি অ্যাকশনের দাবি জানিয়ে স্বরাষ্ট্রদপ্তর কে চিঠি হিন্দু সংহতির

কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনায় প্রতিবাদে গর্জে উঠল দক্ষিণ দিনাজপুর। গতকাল ১৫ই ফেব্রূয়ারি, শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নামেন সাধারণ মানুষ। পাকপতাকা ও পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ জানানো হয় জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে পিছপা হননি হিন্দু সংহতি ও। ওই ঘটনায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে করা মিলিটারি অ্যাকশন নেওয়ার দাবি জানিয়ে স্পিড পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে চিঠি করা হয় হিন্দু সংহতির তরফে। পাশাপাশি এদিন বিকেলে শহরের হিলি মোড়ে দেশের ৪৪ জন বীর শহীদদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদ জানায় হিন্দু সংহতি সদস্যরা। সংগঠনের তরফে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করে পোড়ানো হয় পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা। দাহ করা হয় পাক প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকাও। একই ঘটনায় এদিন বালুরঘাটের বাদামাইলে হিলি বালুরঘাট জাতীয় সড়কের ওপর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কুশপুতুল দাহ করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

বালুরঘাটে হিন্দু সংহতির তরফে রজত রায় জানিয়েছেন, জঙ্গি প্রশিক্ষণের আঁতুড়ঘর পাকিস্তান। সেখানে বসেই পাকিস্তান এমন সব সন্ত্রাসমূলক কাজ করে চলেছে। এর বিরুদ্ধে কড়া মিলিটারি অ্যাকশন নিতে স্বরাষ্ট্র দপ্তরকে স্পিড পোস্টের মাধ্যমে তাদের সংগঠনের তরফে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সাথে পোড়ানো হয়েছে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকাও।

ডুয়ার্সের রায়ডাক চা বাগান এলাকায় হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

গত ১লা ফেব্রূয়ারি থেকে আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত ডুয়ার্সের রায়ডাক চা বাগানে এক ভাগবত কথা  অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, যার আয়োজকদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু সংহতির কর্মী। সেই অনুষ্ঠান গতকাল ৯ই ফেব্রূয়ারি শেষ হয়। শেষ দিনে ওখানে একটি গণ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ৫০ জনের হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। ওই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির স্থানীয় কর্মীদের সাথে উপস্থিত ছিলেন ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত হিন্দু সংহতির প্রমুখ কর্মী শ্রী বিক্রম ছেত্রী।

তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে মিছিল হিন্দু সংহতির

দক্ষিণ দিনাজপুরে হিন্দু সংহতির কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ গত 2রা ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে, তিনদফা দাবিতে বালুরঘাটে এক মিছিল অনুষ্ঠিত হলো দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রমুখ কর্মী শ্রী রজত রায়ের নেতৃত্বে। এই মিছিলে বালুরঘাট, বুনিয়াদপুর এবং আশেপাশের এলাকা থেকে কয়েকশ হিন্দু সংহতির কয়েকশ কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। মিছিল থেকে বাংলাদেশ থেকে আগত হিন্দু শরণার্থীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেবার দাবিতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণ আইন চালুর দাবিতে এবং বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়নের দাবিতে স্লোগান ওঠে। এই মিছিল থানা মোড় থেকে শুরু হয়ে শহর ঘুরে থানা মোড়ে শেষ হয়।

ডুয়ার্সের ধৌলাঝরা বস্তিতে হিন্দু সংহতির বস্ত্র বিতরণ

গত ৬ই জানুয়ারি, আলিপুরদুয়ার জেলার ডুয়ার্সের ধৌলাঝরা বস্তিতে হিন্দু সংহতির উদ্যোগে এক বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠানে ধৌলাঝরা বস্তির রাভা, সাঁওতাল, সাদ্রীভাষী জনজাতির বহু মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মহিলার হাতে শাড়ি তুলে দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, ডুয়ার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী শ্রী বিক্রম ছেত্রী, প্রমুখ কর্মী শ্রী অমিত মালী এবং ধৈলাঝরা এলাকার কর্মী শ্রীমতি মীনাক্ষী রাভা। এছাড়াও উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন শ্রী সুজিত মাইতি মহাশয়। তিনি তার বক্তব্যে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে আমাদের সকলকে সনাতন ধর্মে থেকে ধর্মকে, নিজের পরিচয়কে আরও বেশি শক্তিশালী করার দরকার।সেইসঙ্গে খ্রিস্টানদের ধর্মান্তকরণ করার চক্রান্তকে ব্যার্থ করার কাজে হিন্দু সংহতির সহযোগী হওয়ার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

বালুরঘাটে দুঃস্থ আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পুস্তক বিতরণ হিন্দু সংহতির

 

শিবা সোরেন – দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। সে তাঁর পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। ছোটবেলায় তাঁর বাবা মারা গিয়েছিলো। তার পর থেকে খুব কষ্ট করেই সে পড়াশুনো করছে।সে বড় হয়ে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখে।  শুভজিৎ হাঁসদা একই জেলার সুদর্শনগর P. H. H. B. উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর। তার পিতা সামান্য কিছু জমিতে কৃষিকাজ করে সংসার চালান। অভাবের পরিবারে শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে শুভজিৎ। সে বড়ো হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। বালুরঘাটের রীমা মান্ডি। সে কুরমাইল সোনাওয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। সেও তার পরিবারের প্রথম প্রজন্মের পড়ুয়া। তার কৃষক পিতার সামর্থ নেই তাঁর হাতে প্রয়োজনীয় বই তুলে দেওয়ার। বংশীহারির অর্পণ পাহান। সে বংশীহারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়াশুনো করে। তাঁর পিতা একজন দিনমজুর। সেও শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন দেখে বড়ো হয়ে পরিবারের অভাব দূর করবার। গতকাল ২রা ফেব্রূয়ারি, শনিবার হিন্দু সংহতির কোষাধক্ষ্য সাগর হালদারের তত্বাবধানে বালুরঘাটে এইরকম ৫০ জন  ছেলেমেয়ের(যার মধ্যে ২৪ জন নবম শ্রেণীর এবং ২৬জন দশম শ্রেণীর ) হাতে হিন্দু সংহতির তরফ থেকে তাদের সমূহ প্রয়োজনীয় বইয়ের সেট তুলে দেওয়া হলো। এই অনুষ্ঠানে হিন্দু সংহতির সভাপতি  দেবতনু ভট্টাচার্য  বলেন, ”আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি পৃথিবীর মধ্যে এক বিশেষ জায়গা অধিকার করে আছে। আজ যারা বয়স্ক, তারা ভারতের সভ্যতা, সংস্কৃতিকে উচ্চ তুলে ধরার কাজ আর করতে পারবে না। সেই দায়িত্ব আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ছাত্রসমাজকে নিতে হবে। সেই কাজে শক্তির দরকার। আর সেই শক্তি হলো শিক্ষা। আর সেই শক্তি গ্রহণের পথে যাতে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়, সেই কারণে হিন্দু সংহতি তোমাদের হাতে বই তুলে দিলো।” তিনি উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, ”তোমরা মন দিয়ে পড়াশুনো করো,শক্তি সঞ্চয় করো এবং ভারতের সংস্কৃতি, সভ্যতাকে বিশ্বে তুলে ধরার কাজ করো। সেই পথে বাধা এলে হিন্দু সংহতি তোমাদের পাশে সবসময় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।” এছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু সংহতির সহ সভাপতি শ্রী সমীর গুহরায়,  সহ সম্পাদক শ্রী সুজিত মাইতি, বালুরঘাট ভারত সেবাশ্রম সংঘের শ্রী বিদুরানন্দজী মহারাজ, অনুপমানন্দজী মহারাজ, বালুরঘাটের বিখ্যাত আইনজীবী শ্রী বিদ্যুৎ কুমার রায়, দক্ষিণ দিনাজপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শ্রী রজত রায় এবং শ্রী প্রমিত লাহা।

হিন্দুধর্মে ফিরলেন আলিপুরদুয়ারের খ্রিস্টান তরুণী অপর্ণা

shyam-anjali

পূর্বপুরুষের সনাতন হিন্দুধর্মে ফিরে এলেন আলিপুরদুয়ারের কোহিনুর চা বাগানের খ্রিস্টান তরুণী অপর্ণা ওঁরাও(নাম পরিবর্তিত)। বহু বছর আগে অপর্ণার পরিবারকে দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। সেই থেকে তাঁর পরিবারের সব সদস্যই খ্রিস্টান ধর্ম মেনে চলতেন। এর মধ্যে বিগত কয়েকবছর ধরে অপর্ণার সঙ্গে ধৈলাঝরা চা বাগানের শ্যাম খাড়িয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু অপর্ণাকে বিয়ে করতে চাইলে স্থানীয় চার্চ-এর নেতৃত্বে খ্রিস্টানরা বাধা দেয়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় হিন্দু সংহতির কর্মীরা সাহায্যে এগিয়ে আসে। এমনকি শ্যামের পরিবারও প্রথম দিকে খ্রিস্টান তরুণীকে বিয়ের ব্যাপারে বাধা দেয়। কিন্তু হিন্দু সংহতির কর্মীদের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় শিব মন্দিরে সনাতন, বৈদিক মতে অপর্ণাকে হিন্দুধর্মে ফিরিয়ে আনা হয়। তারপর ওই শিবমন্দিরে তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এরপরই শ্যাম খাড়িয়ার পরিবার নতুন বধূকে আপন করে নেন। হিন্দু সংহতির পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এই দম্পতির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বৈষ্ণবনগরে প্রায় ৫লক্ষ টাকার জালনোটসহ গ্রেপ্তার ইকবাল শেখ

মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার তেলিপাড়া সড়ক থেকে বাইকে করে নিয়ে যাওয়ার পথে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পৌনে পাঁচ লক্ষ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করেছে বিএসএফ। বুধবার ভোররাতে হঠাৎপাড়া লিঙ্ক রোডের কাজ থেকে সন্দেহভাজন এক বাইক আরোহীকে বিএসএফ আটক করে। তাদের কাছে তল্লাশি চালিয়ে ওই জালনোট বাজেয়াপ্ত হয়। বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম ইকবাল শেখ। ধৃত ওই যুবক শব্দলপুরের কুশলপাড়ার বাসিন্দা। ধৃতের কাছ থেকে ২৩৮টি নতুন ২০০০ টাকার জালনোট মিলেছে। উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমান ৪লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা। গতকাল ২৩শে জানুয়ারী, বুধবার ধৃতকে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিসের হাতে পরবর্তী তদন্তের জন্যে তুলে দেয় বিএসএফ ।

মালদহের ইংলিশবাজারের কালীমন্দিরে প্রণামীর টাকাসহ অলংকার চুরি, অধরা দুষ্কৃতীরা

inglishbazarপশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় একের পর এক মন্দিরে চুরি হয়ে চলেছে। চোরেরা প্রত্যেকটি মন্দিরের অলংকার থেকে শুরু করে পূজার যাবতীয় জিনিস চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। এবার চুরি হলো মালদার কালীমন্দিরে। গত ১৯শে জানুয়ারী, শুক্রবার রাতে  মালদহের ইংলিশবাজারের হায়দরপুরের একটি ক্লাবের কালীমন্দিরে  চুরির ঘটনা ঘটলো । শনিবার সকালে স্থানীয়রা মন্দিরের ভাঙা লোহার গেট দেখে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারে। তারপরেই হইচই পড়ে যায়। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবীপ্রতিমার গায়ে থাকা যাবতীয় অলঙ্কার, বাসনপত্র ও প্রণামীর টাকা দুষ্কৃতীরা নিয়ে চলে গিয়েছে। সবমিলিয়ে লক্ষাধিক টাকার চুরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার খবর পেয়ে পরে পুলিস আসে। শহরের মধ্যে এধরনের চুরি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, সম্প্রতি শহরে একাধিক মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ইংলিশবাজার থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুণ্ডু বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে চুরির সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।