বাংলাদেশের বালিয়াকান্দিতে কালী মন্দির ভাঙচুর দুষ্কৃতীদের

baliakandi.jpgবাংলদেশের রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তুলশীবরাট গ্রামে শ্মশান কালীমন্দিরের দুটি প্রতিমা ভেঙে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গত ২৬শে মার্চ, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ  বুধবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে।

জানা গিয়েছে , মন্দিরের আশপাশে কোনো বাড়ি নেই। একটি পুকুর পাড়ে খোলা মাঠে মন্দিরটি অবস্থিত। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে কালী প্রতিমার মাথা পুরোটা এবং মহাদেবের হাতের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার জানান, সাত বছর আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ৩০ চৈত্র এ মন্দিরে বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও প্রতি মঙ্গলবার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে পূজা অর্চনা করে থাকেন। টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি মন্দিরটি অনেকটাই অরক্ষিত। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় মন্টু পূজা করে বাঁশের দরজা সুতলি দিয়ে বেঁধে রেখে যান। বুধবার সকালে মন্দির কমিটির সভাপতি নেপাল রাজ মন্দিরে প্রণাম করতে গেলে প্রতিমা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রশাসন ও বালিয়াকান্দি থানায় জানিয়েছেন ।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি আজমল হুদা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্দিরের দুটি প্রতিমা ভাঙার সত্যতা পাওয়া গেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে তিনি নিজে একটি জিডি করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

চট্টেশ্বরী সড়কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দুদের

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মা চট্টেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার নাম পরিবর্তন করা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, রাতারাতি রাস্তায় থাকা ছ’টি নামের ফলক সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর জে এই মাদ্রাসা সড়ক নামের ফলক লাগানো হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় এবং পথ অবরোধ, মানববন্ধন করে।  চাপে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে শান্ত করতে  এমপি বিবৃতি দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে চট্টেশ্বরী রোডের নাম ফেরালে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার রাশেদুল হাসান

dhaka-Mirpurবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে আজ সকাল ৭ টায় মন্দিরের  প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।কালী  মায়ের প্রতিমা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টায় মন্দির খুলে পরিষ্কার করার সময় ২২ বছরের এক যুবক প্রবেশ করেন। এতো সকালে কেন এখানে এসেছেন -জানতে চাইলে জানায়, সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাই প্রার্থনা করতে এসেছেন। তার নাম মিঠুন চক্রবর্তী বলে সে পরিচয় দেয়।
সে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০ মিনিট প্রার্থনা করে। আশাপাশে কেউ না থাকায় ভেতরে গিয়ে কালী প্রতিমা টেনে নীচে ফেলে দেয় এবং ভাঙচুর করে। প্রতিমা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ভেতরে থাকা পুরোহিতের সহকারী ও পরিচ্ছন্নকর্মী দৌড়ে গিয়ে যুবককে ধরে ফেলেন।
পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে, সে আসলে কোন হিন্দুু নয়, তার আসল নাম রাশেদুল হাসান। মিরপুর ১১ নম্বর এভিনিউ এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় মিরপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাদের সন্দেহ এ প্রতিমা ভাঙচুর এর পেছনে বড় দুস্কৃতিকারীরা জড়িত রয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যশোরে মা মনসা প্রতিমা ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ইয়াসিন

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জিহাদি মনোভাবাপন্ন মুসলিমদের আক্রমণ অব্যাহত। খুন, জমি পর এবার হিন্দুদের  ভাঙচুর।  গতকাল  ১২ই জানুয়ারী, বাংলাদেশের যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার মহাকাল গ্রামের মৃত হরিপদ দাসের বাড়ির দুইশত বছরের পুরোনো মনসা প্রতিমা ভাঙচুর করলো স্থানীয় একজন মুসলিম যুবক। জানা গিয়েছে, ঐদিন ভোরের বেলায় বাড়ির মন্দিরের বেদিতে থাকা মা মনসার প্রতিমা ভেঙে ফেলে দেয় এক মুসলিম যুবক। কিন্তু ভাঙচুরের আওয়াজে বাড়ির সদস্যরা জেগে যায় এবং একজন মুসলিম দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে বাড়ির লোকেরা। তাঁর নাম ইয়াসিন।  চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের হিন্দুরা ছুটে আসে এবং ওই  দুষ্কৃতীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সিলেটের গৌরাঙ্গ মন্দিরে লুঠপাট দুষ্কৃতীদের

gouranga akhraনির্বাচনের পরেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা অব্যাহত। গত ৩রা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার  রাতে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের দুপড়িরপাড় গ্রামে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আখড়ায় লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে!রাতের অন্ধকারে মন্দিরের তালা ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে মন্দিরের বিগ্রহের স্বর্নালংকার ও সেবায়েতের ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।সেই সঙ্গে মন্দিরের মধ্যে থাকা পূজার বাসনপত্র ফেলে দেয় এবং মন্দিরের ভিতরে থাকা পূজার জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র তছনছ করে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে আখড়া কতৃপক্ষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

নির্বাচনের আগেই আক্রমণের শিকার বাংলাদেশের হিন্দুরা

রাত পোহালেই বাংলাদেশ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগেই আবারও বাংলাদেশে আক্রান্ত হিন্দুরা। উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি হিন্দুবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে এনিয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলায় তিনটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

আখানগর ইউনিয়নের ঝাঁপরতলি গ্রামের আনন্দ চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা হয়। শুক্রবার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া শাহপাড়া গ্রামে কৃষ্ণ ঘোষের এবং আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাও গ্রামের যাক্রু বর্মনের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্তদের অভিযোগ পরিকল্পনা করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট দিতে না পারেন সেই কারণেই এই হামলা বলে অভিযোগ।

আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে নির্বাচনের আবহে ওই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হতে পারে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও এই আশঙ্কার উল্লেখ করা ছিল। পরিস্থিতি অশান্ত করতেই আইএসআই মদতপুষ্ট বিএনপি ও জামাত হিন্দুদের নিশানা করতে পারে বলে ধারণা অনেকের। কারণ সংখ্যালঘুদের বড় একটা অংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভোট গ্রহণ। ফলে দেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নির্বাচনের আগে ও ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। বাড়িতে ঢুকে হামলা, কটুক্তি হুমকির ঘটনা নতুন নয় সেখানে। সংখ্যালঘু ঐক্য পরিষদের দাবি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তর। সেই জন্যেই তারা সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ফেনীতে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দিলো আওয়ামী লীগ নেতা, পুড়ে ছাই ৪টি বাড়ি

shilparaআগামী ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচন। আর নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় জিহাদি আক্রমণের শিকার হয়। বিএনপি হোক বা আওয়ামী লীগ- সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর অত্যাচারে কেউ কম যায় না। এবারও তার অন্যথা ঘটলো না। গত ১৫ই ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশের ফেনী জেলায় হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিলো মুসলিম দুষ্কৃতীরা, তাও আবার আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার বগদানা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের শীলপাড়ায় আলাউদ্দিন বাবুল-এর নেতৃত্বে হিন্দুদের ঘরে আগুন দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীদের দেওয়া আগুনে শীলপাড়ার বাসিন্দা শিশির কুমার শীল, রণজিৎ কুমার শীল, অজিত কুমার শীল এবং মনীন্দ্র কুমার শীল-এর সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কোনোরকম পরিবারসহ নিজেরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল খাটিয়ে দিন কাটছে তাদের। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জন্যে তারা স্থানীয় নির্বাচিত ওয়ার্ড সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বাবুল-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। পুলিস যথারীতি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলি সুবিচার পাবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ভোট আসছে, আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা

আর কিছুদিন পরেই রয়েছে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। আর তা নিয়েই আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। কারণ বিগত দিনগুলিতে দেখা গিয়েছে, ভোটের আগে এবং পরে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয় মৌলবাদী মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বারা । ভোট আওয়ামী লীগ জিতুক বা বিএনপি হারুক, হামলার শিকার হয় সে দেশের হিন্দুরা। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের হিন্দুরা নিরাপদে থাকলেও গ্রামাঞ্চলের হিন্দুরা আক্রমণে শিকার হয়, তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর সেই কারণে নির্বাচনের আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেনা মোতায়েন করার দাবি জানালেন বাংলাদেশের হিন্দু নেতারা। গতকাল ১৪ই ডিসেম্বর, শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন; তার মধ্যে  ছিল ”বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট”, বাংলাদেশ জনতা পার্টি”, ”জাগো হিন্দু পরিষদ” ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। সেই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দাবি তোলা হয় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তার জন্যে ভোটের এক সপ্তাহ আগে এবং ভোটের পরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সেনা মোতায়েন রাখতে হবে। এছাড়াও হিন্দু সম্প্রদায় যাতে সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারে, তার জন্যে নিরাপত্তা দেবার দাবি তোলা হয় সম্মেলন থেকে।

বাংলাদেশে গত ১১ মাসে ৮৮জন হিন্দু খুন, ৩৪৭ জন আহত এবং ২৯জন ধর্ষিত, রিপোর্ট বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় যে ভালো নেই, তা আর একবার প্রকাশ পেলো বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট প্রকাশিত রিপোর্টে। সংগঠনের মহাসচিব শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি রিপোর্ট পেশ করেন।তিনি বলেন যে এই রিপোর্ট ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন এই রিপোর্ট সংগঠনের জেলা এবং উপজিলা ইউনিটের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ওই  রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে চলা অত্যাচার ও নিপীড়ণের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা আতঙ্কের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশের ২৯জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে অপহরণ করা হয়েছে,যার মধ্যে শিশু, যুবক-যুবতীও আছে। এছাড়াও ২৯ জন হিন্দু মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছে মুসলিমদের হাতে, যার মধ্যে ৯জন মহিলা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৪জনকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়াও রিপোর্টে বলা হয়েছে,গত ১১ মাসে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ২,৭৩৪ একর জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হয়েছে; ২১৭টি হিন্দু পরিবারকে ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, ২২৩টি পরিবারকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তাদেরই প্রতিবেশী মুসলমানরা। এছাড়াও ১০৮ টি হিন্দু পরিবারের ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
 হিন্দুদের ধর্মীয়স্থানগুলিও রেহাই পায়নি। গত ১১ মাসে ৩৭৯টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে এবং ৯টি স্থানে মন্দিরের মূল্যবান মূর্তি চুরি হয়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও, পরে অভিযুক্ত মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এই অজুহাতে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। এই রিপোর্টের সঙ্গে সঙ্গে একটি দাবিপত্রও পেশ করা হয় জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে। তিনি সেই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিশ্চিত করার আবেদন জানান।

জামাত-ই-ইসলামী বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক, রিপোর্ট মার্কিন কংগ্রেসে

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনের আগে ফের ধাক্কা খেল বিএনপি-জামাত জোট। আমেরিকা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, মৌলবাদী সংগঠন জামাত ইসলামি বাংলাদেশের জন্য সর্বনাশ! জামাত ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরকে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও ধর্মনিরপেক্ষ গণতন্ত্রের জন্য বিপদ বলে মনে করছে মার্কিন কংগ্রেস। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারকে মৌলবাদী সংগঠনগুলিকে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ানা স্টেটের কংগ্রেস সদস্য জিম ব্যাঙ্কস ‘বাংলাদেশে সক্রিয় ধর্মীয় সংগঠনগুলোর বিপদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ’ শীর্ষক এই বিলটি সম্প্রতি হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে উত্থাপন করেন। হাউস রেজ্যুলেশন-১১৫৬ পার্লামেন্টের বিদেশ কমিটিতে রেফার করা হয়েছে। বিলটিতে ইউনাইটেড স্টেট এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএইড) ও মার্কিন বিদেশ দপ্তরকে জামাত ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবিরসহ উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সব গ্রুপের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ও তহবিল দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। বিলটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বিগত নির্বাচনের সময় বিএনপি, জামাত ইসলামি ও ইসলামি ছাত্রশিবির ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য আতঙ্ক হয়ে ওঠে, যার ফলে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৯৫টি হিন্দু বাড়ি ধ্বংস করা হয়। ৫৮৫টি দোকানে হামলা ও লুট এবং ১৬৯টি উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়। জামাতের কর্মীরা সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলার সঙ্গেও জড়িত। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে, বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় ওই বিলটিতে। শুধু তাই নয়, বিলটিতে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে হতাহতদের কথা এবং বাংলাদেশ যে ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক চেতনার উপর প্রতিষ্ঠিত—তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মার্কিন কংগ্রেসের বিলটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয় প্রায় ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু, এক কোটির বেশি মানুষের উদ্বাস্তু হওয়া ও দুই লাখ মহিলার ধর্ষিত হওয়ার বিনিময়ে। আর এর অনেক ঘটনা ঘটেছে জামাত ইসলামির নেতৃত্বে ইসলামপন্থী উগ্রবাদীদের হাতে। উগ্র মৌলবাদী সংগঠনগুলো অস্থিতিশীলতা বাংলাদেশে আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। ফিলাডেলফিয়ার থিঙ্ক ট্যাঙ্ক মিডল ইস্ট ফোরাম (এমইএফ) এক বিবৃতিতে এই বিলকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, ‘জামাত ইসলামি একটি বিপজ্জনক ইসলামি গ্রূপ যাদের হিংসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।’

জামাতের সঙ্গে কোনো আপস নয়,জানালো ভারত

“জামাত ছাড়া, বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলবে নয়াদিল্লি৷ গণতন্ত্রবিরোধী জামাতের সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করতে রাজি নয় ভারত।” এমনই জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা৷ তিনি জানান, মূলত তিনটি কারণে জামাতের সঙ্গে কোনও রকমের বোঝাপড়ায় যাবে না ভারত৷ প্রথমত, মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাতের ভূমিকা, দ্বিতীয়ত, তাঁদের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং তৃতীয়ত তাদের গণতন্ত্র বিরোধী নীতি-আদর্শ। যেগুলির পুরোপুরি বিরোধী ভারত৷  তিনি আরও জানান, আওয়ামি লিগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টি-সহ সমস্ত দলের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ রয়েছে। ব্যতিক্রম জামাত৷ কারণ, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লড়াইয়ের বিরোধিতা করেছে জামাত। মুক্তিযোদ্ধাদের নির্বিচারে হত্যা করেছে তারা। ওই গণহত্যার শিকার হয়েছেন ভারতীয় সেনারাও। জামাত সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করছে বলেও অভিযোগ করেন শ্রিংলা৷ তিনি জানান, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরও নৃশংস অত্যাচার চালাচ্ছে জামাত সদস্যরা। আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন সম্পর্কে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিও স্পষ্ট করেন তিনি৷

সংখ্যালঘু হিন্দুর সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিলো বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট

bdবাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিলো সে দেশের হিন্দু স্বার্থে কাজ করা হিন্দু সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট’।গত ৭ই নভেম্বর শেখ হাসিনাকে দেওয়া চিঠিতে মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক জাতীয় সংসদে ৫০টি আসন সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছেন।এছাড়াও সংখ্যালঘু মন্ত্রক তৈরির দাবি এবং সংখ্যালঘুদের অভাব-অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্যে সংখ্যালঘু কমিশন গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন।কিন্তু এই দাবির কতটা বাস্তবায়ন হবে,কিংবা সংখ্যালঘু হিন্দুসমাজের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত হবে,তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।
এইবার ভারতের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যাক।এদেশে সংখ্যালঘুর জন্যে আলাদা মন্ত্রক, আলাদা কমিশন, পৃথক ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা।কিন্তু একটা মুসলিমপ্রধান দেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্যে কোনো ব্যবস্থা নেই।তাই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা যতই দাবি করুক না কেন যে বাংলাদেশে হিন্দুধর্মালম্বী মানুষেরা ভালো আছে, বাস্তব কিন্তু সম্পূর্ণ উল্টো।

বাংলাদেশের মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর

madaripurমাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুষ্কৃতীরা মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে বাইরে ফেলে দিয়ে যায়।
রাজৈর থানার ওসি জিয়াউল মোর্শেদ জানান, বাজিতপুর ঘোষপাড়া সর্বজনীন মন্দিরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ভাংচুর হয় বলে তারা অভিযোগ পেয়েছেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি দীনবন্ধু ঘোষ অভিযোগ করেন, “রাতের আঁধারে আমাদের মন্দিরের রাধাকৃষ্ণ প্রতিমাটি দুর্বৃত্তরা ভেঙে ফেলেছে। সকালে পূজা দিতে গিয়ে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে।”
স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল ঘোষ বলেন, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এমন একটি ঘটনা ঘটায় আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের ভেতরে আতঙ্ক কাজ করছে।”

বাংলাদেশের গাইবান্ধায় ২ হিন্দু শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় একই হিন্দু পরিবারের সাত বছরের দুই কন্যা শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী মুদি দোকানদার নুরুন্নবী মিঞা  ও তার পুত্র জাহির মিঞা । এমনকি ঘটনার পর ওই দুই শিশুটির পরিবারকে অভিযোগ না জানানোর জন্যে হুমকিও দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত নুরুন্নবী মিঞা এবং তার ছেলে জাহির মিঞা-এর  বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২৪ অক্টোবর, বুধবার  রাতে নির্যাতিত দুই শিশুর একজনের বাবা  সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। ওই দিন দুপুরে সদর উপজেলার চক মামরোজপুর গ্রামের একটি দোকান ঘরে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। রবিদাস সম্প্রদায়ের দুই শিশুই দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিস কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পিরোজপুরের কালীমন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ২ মুসলিম দুষ্কৃতী

বাংলাদেশের পিরোজপুরের সদর উপজেলার পাঁচপাড়া সর্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়ে প্রতিমাটিকে পাশের পুকুরে ফেলে দিলো একদল মুসলিম দুষ্কৃতী। গত ১২ই অক্টোবর,শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। পরেরদিন সকালে স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা ভাঙা মন্দির দেখতে পেয়ে ঢাকা-পিরোজপুর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দোষীদের গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেয় স্থানীয় হিন্দু জনতা। পরে ঐদিন পুলিস ওহেদ হাওলাদার(৪৫) এবং মফিদুল ইসলাম(৫০)-কে গ্রেপ্তার করে।  স্থানীয় হিন্দু বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যে ধৃতরা সকলেই আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এই মন্দির ভাঙার পিছনে আওয়ামী লীগের ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের হাত রয়েছে। কারণ এর আগে মন্দিরের জমি নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেছিলেন শহিদুল ইসলাম। তাই স্থানীয় হিন্দুরা শহিদুল ইসলামকেও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।