ভারতীয় সেনার গুলিতে পাকিস্তানের নাগরিকের মৃত্যু, ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানালো পাকিস্তান

একটা সময় ছিল যখন সীমান্তে পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে ভারতের দিকে গোলাগুলি বর্ষণ করতো। তখন ভারত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠাতো, প্রতিবাদ জানাতো । কিন্তু কাজের কিছুই হতো না। সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিকে বিশেষ পাত্তাই দিতো না পাকিস্তান। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। ফলে এখন উল্টোটা হচ্ছে। এবার নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভাঙার অভিযোগে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার গৌরব আলুওয়ালিয়া তলব করে প্রতিবাদ জানাল পাকিস্তান সরকার। বুধবার পাক বিদেশ দপ্তর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘গত ২ মে এবং ৫ মে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে তিন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন। আমরা ভারতীয় কূটনীতিককে জানিয়েছি, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের এই ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে বিপজ্জনক। এর ফলে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা বাড়বে।’ পাক বিদেশ দপ্তরের তরফে এদিন একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২ মে রাখচিকরি সেক্টরে ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে ১৫ বছরের তাহির হাফিজের মৃত্যু হয়। তার ৯ বছরের বোন তাহিরা গুরুতর জখম হয়। এর পরে ৫ মে ১২ বছরের মহম্মদ জাহিদ এবং নাসরিন নামে এক স্থানীয় মহিলা ভারতীয় বাহিনীর গোলায় নিহত হন। জখম হন সনিয়া বিবি নামে এক গ্রামবাসী।

লাহোরের দাতা দরবারে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালালো তালিবান , মৃত ১০

লাহোরের দাতা দরবার সুফি সৌধের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১০ জনের, আহত কমপক্ষে ২৪। নিহতদের মধ্যে তিন জন পুলিশ আধিকারিক, দু’জন নিরাপত্তারক্ষী এবং পাঁচ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। গতকাল ৮ই মে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ সৌধের মহিলা প্রবেশদ্বারের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে। ২০১০ সালে সন্ত্রাসহানার পর থেকে এই সৌধে কড়া নিরাপত্তা থাকে। রমজান মাসে সেই নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও হামলা এড়ানো গেল না। বিস্ফোরণের পর পুলিশের দোমড়ানো-মোচড়ানো গাড়ির ছবি সামনে এসেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পুলিশকে লক্ষ করেই হামলা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তানি তালিবানের শাখা সংগঠন হিজবুল আহরার হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে সৌধে মহিলাদের প্রবেশের অধিকার দেওয়ার কারণেও এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ তালিবান বরাবরই নারী স্বাধীনতার বিরোধী। এর আগে তালিবানের জিহাদিরা মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতায় স্কুল জ্বালানো, বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দাতা দরবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সুফি সৌধ। দাতা গঞ্জ বক্সির এই সমাধিসৌধে প্রতিবছর হাজার হাজার শিয়া ও সুন্নি মুসলিম ভিড় জমান। ২০১০ সালে একবার আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েছিল এই সুফি সৌধ। প্রাণ গিয়েছিল ৫০ জনের, আহত হয়েছিলেন ২০০-রও বেশি মানুষ।

পাকিস্তানের দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ, জোর করে ধর্মপরিবর্তন এবং বিয়ে করার ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তি বিয়েতে সহায়তা করেছিল বলেও অভিযোগ। তাকে খানপুর থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, এসবের মধ্যেই ওই দুই নাবালিকা পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরের একটি আদালতে হাজির হয়ে নিরাপত্তার আর্জি জানিয়েছে বলে একটি পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, তাদের দু’টি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপর পাক প্রশাসনের তরফে সাতজনকে আটক করার খবর মিলেছে।
একটি সূত্র থেকে ওই কিশোরীদের পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন বলে গতকালই ট্যুইট করেছিলেন পাক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতভর রহিম ইয়ার খানে তল্লাশি চালিয়ে বিয়েতে সাহায্যকারী এবং ওই দুই নাবালিকার সঙ্গে যাদের বিয়ে হয়েছে সেই দুই ব্যক্তির কয়েকজন আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিস। ওই সাহায্যকারী পাকিস্তান সুন্নি তেহরিকের একজন নেতা। আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সিন্ধু পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, হোলির দিন সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলার বাসিন্দা দুই বোন রবীনা (১৩) এবং রীনাকে (১৫) বাড়ি থেকেই অপহরণ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয় দু’টি ভিডিও। যার একটিতে ওই দুই নাবালিকার ‘নিকাহ’ করাতে দেখা যায় এক মৌলবীকে। অপর ভিডিওটিতে তাদের স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার কথা বলতে দেখা যায়। এরপর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সেদেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত বছর নির্বাচনী প্রচারে হিন্দু মেয়েদের জোর করে বিয়ে আটকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এবার সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

হিন্দুদের উদ্দেশ্যে অসম্মানজনক মন্তব্য, মন্ত্রীপদ হারালেন পাকিস্তানের মন্ত্রী

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিয়ে অপমানসূচক এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের দায়ে মন্ত্রীপদ  খোয়ালেন পিটিআই নেতা তথা পঞ্জাব প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ফৈয়াজ়ুল হাসান চৌহান। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এর ব্যাখ্যা চেয়ে ফৈয়াজ়ুলকে আজ নিজের অফিসে ডেকে পাঠান পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সর্দার উসমান বুজ়দার এবং সেখানেই তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। একাংশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নিজের দলেও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় শেষমেশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ফৈয়াজ়ুল।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার দশ দিন পরে, গত ২৪ ফেব্রূয়ারি  এক জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফৈয়াজ়ুল বেশ কিছু ‘হিন্দু-বিরোধী’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। কয়েক দিন ধরে ফৈয়াজ়ুলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁকে সরানোর দাবিতে #স্যাকফৈয়াজ়চৌহান নামে বেশ কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চাপের মুখে আজ ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফৈয়াজ়ুল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি হিসেবে, পাকিস্তানে এখন প্রায় ৭৫ লক্ষ হিন্দুর বাস। বেসরকারি মতে যদিও সংখ্যাটি ৯০ লক্ষের বেশি। তাঁদের সিংহভাগই থাকেন সিন্ধু প্রদেশে।

পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু মহিলা বিচারপতি হলেন সুমন কুমারী

suman kumariমুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু মহিলা বিচারপতি  নিযুক্ত হলেন সুমন কুমারী। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক সুমন কুমারি কামবার-শাহদাদকোটের বাসিন্দা। সেখানকারই একটি আদালতের দায়িত্বভার নেবেন তিনি। পাক মাটিতে মাত্র ২ শতাংশ হিন্দুর বাস, যদিও এ দেশে সংখ্যায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পরই হিন্দুরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সুমনের বাবা পবন কুমার বোদন পেশায় চোখের ডাক্তার। দরিদ্র গ্রামবাসীদের নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকেন তিনি। সাধারণ আয় সত্ত্বেও তিন কন্যার পড়াশোনায় কোনও ঘাটতি হতে দেননি তিনি। বড় মেয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আরেক মেয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আর সুমন বিচারক। হায়দরাবাদ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করার পর করাচির শহিদ জুলফিকার আলি ভুট্টো ইনস্টিটিউশন থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন সুমন। পরিবারের সামান্য আয় কিংবা রক্ষণশীল সমাজ, কোনও কিছুই বাধা হতে পারেনি সুমনের উত্থানের পথে। সব কিছুকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি। মেয়ের সাফল্যে বাবার মুখের হাসি আজ একটু বেশিই চওড়া। পাক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘সুমন একটি কঠিন পেশা বেছে নিয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সততার মধ্য দিয়ে সে অবশ্যই সফল হবে।’

পাকিস্তানের মতো দেশে যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের খবর প্রায় রোজকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এ ধরনের বিষয় নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পাকিস্তানে বিচারক বা বিচারপতি পদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নিয়োগ এই প্রথম নয়। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন রানা ভগবানদাস।

শিখ কিশোরীকে গণধর্ষণ পাকিস্তানে

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে এম্বুলেন্সের ভিতরে একজন শিখ কিশোরীকে গণধর্ষণ করলো ২ মুসলিম যুবক।। পুলিস জানিয়েছে, ওই কিশোরী মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন। সে গত শনিবার নানকানা সাহিব শহরের একটি গুরুদ্বার থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। দুদিন মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে মেয়েটির বাবা পুলিসের দ্বারস্থ হন। শেষে রবিবার সকালে শহরের বাইপাসে একটি এম্বুলেন্সের ভিতর থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা গাড়ির ভিতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনতে পান। তখনি মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি তার পরিবারের লোককে জানায় যে দুজন তার ওপর পাশবিক অত্যাচার করেছে। কিন্তু কারোর নাম বলতে পারেনি সে। পরে স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই কিশোরী চিকিৎসাধীন।  তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

করাচির পঞ্চমুখী হনুমান মন্দিরে পালিত হলো রামনবমী উৎসব

পাকিস্তানের করাচি শহরে পালিত হলো শ্রী রাম নবমী উৎসব। এই উৎসবে করাচি শহরে থাকা সেদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এই উৎসব করাচি শহরের জনপ্রিয় মন্দির শ্রী পঞ্চমুখী হনুমান মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই মিলিতভাবে ”জয় শ্রী রাম” লেখা গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেন। এই উৎসব উপলক্ষে মন্দিরটিকে আলো দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। তাছাড়া এই উৎসবে যোগ দিতে সিন্ধু প্রদেশ থেকেও প্রচুর হিন্দু উপস্থিত হয়েছিলেন করাচির শ্রী পঞ্চমুখী হনুমান মন্দিরে।

ভারতে রোহিঙ্গা মুসলিম থাকলেও, পাকিস্তান থেকে আগত শরণার্থী হিন্দুদেরকে তাড়িয়ে দিলো রাজস্থান সরকার

ধর্মের ভিত্তিতে ভারত ভেঙে পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল।  সেই সময় পাকিস্তান ও  বাংলাদেশে থাকা হিন্দুদের কথা কেউ মনে  রাখেনি। আর সেই কারণে দীর্ঘ সাত দশক ধরে পাকিস্তানে থাকা হিন্দুরা মুসলিম মৌলবাদীদের অত্যাচারের শিকার হয়েছে। তাদের মা-বোনেদের ধর্ষিতা হতে হয়েছে, ধর্মান্তরিত হতে হয়েছে। তবুও তাদের যন্ত্রণার খবর ভারতে পৌঁছায়নি। অনেক হিন্দু পরিবার নিরাপত্তার খোঁজে ভারতে আশ্রয় চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন । ভেবেছিলেন, ভারত একশো কোটি হিন্দুর দেশ। এখানে জান, মান, ধর্মের নিরাপত্তা মিলবে। কিন্তু এ দেশ তাঁদের ঠাঁই দেয়নি, কেন্দ্রে তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী সরকার থাকা সত্বেও।  উল্টে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে পাকিস্তানে, যে দেশ তাঁরা ছাড়তে চেয়েছিলেন। আর তার ফলেই মারাত্মক সংকটে পড়েছেন পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হিন্দু বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী এলাকার এই মানুষগুলো ভারতে এসেছিলেন আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু না প্রশাসন, না সিআইডি- কেউ তাঁদের এ দেশে থাকতে দেয়নি। এমনকি তথাকথিত হিন্দুত্ববাদী কেন্দ্র সরকার তাদের দিকে ফিরেও তাকায়নি।  ফেরত পাঠিয়েছে পাকিস্তানে। অভিযোগ, এবার সেখানে ফেরার পর তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। নাহলে মহিলা সহ পরিবারের সদস্যদের বাঁচানো যাবে না। রাজি না হলে চলছে নির্মম অত্যাচার। যেমন সিন্ধু প্রদেশের মাতালি গ্রাম। সীমান্ত এলাকার এই গ্রামে কয়েকদিনের মধ্যে  ধর্ম পরিবর্তনে বাধ্য হতে চলেছেন ৫০০-র বেশি হিন্দু। গত ২ বছরে হাজারের মত পাক হিন্দু রাজস্থানের যোধপুরে আশ্রয় চাইতে এসেছিলেন। কিন্তু ৯৬৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে জোর করে। এঁদেরই একজন চাণ্ডু ভীল। সিআইডি তাঁকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠাতে চায় দেখে তিনি রাজস্থান হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। স্পেশাল বেঞ্চ তাঁর ফেরত যাওয়ার নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশও দেয়। কিন্তু তার আগেই সিআইডি জোর করে পাকিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করে তাঁর গোটা পরিবারকে। এবার পাকিস্তানে তাঁদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে, ইসলাম গ্রহণ করতে হবে। এমন বহু পরিবার পাকিস্তানে বৈষম্যের শিকার হয়ে এ দেশে এসেছিল। ফের যেতে বাধ্য করা হয়েছে তাদের। আর ধর্ম বদলানোর চাপের জেরে পাকিস্তানের বহু গ্রামে হিন্দু সংখ্যা শূন্যে এসে দাঁড়াতে চলেছে।

পাকিস্তানের হিন্দুদের জন্যে সরকার,বিরোধী কেউই চিন্তিত না হলেও মায়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে  চিন্তিত ভারতের বুদ্ধিজীবী থেকে সরকারের নেতা মন্ত্রীরা। তারা রোহিঙ্গা মুসলিমকে নিয়ে এসে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন এবং সুযোগ সুবিধা দিচ্ছেন। কিন্তু মূর্খ নেতাদের ভুলে দেশভাগের ফলে পাকিস্তানের হিন্দুদের অধিকার রয়েছে ভারতে বসবাস করার। কিন্তু বিচিত্র দেশ এই ভারত। পাকিস্তানের হিন্দুদের যন্ত্রনা আমেরিকা কিংবা ব্রিটেনের সরকারের কানে পৌঁছালেও কাছের ভারতের সরকারের কানে পৌঁছায় না। ফলে  রাজস্থানে নামেই বিজেপি সরকার চললেও তা যে হিন্দু বিরোধী তা আজ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।  এ প্রসঙ্গে হিন্দু সংহতির সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য মহাশয়কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন,  “রাজস্থানে যে একটা হিন্দু বিরোধী সরকার চলছে তা আরো একবার প্রমাণিত হলো। কিন্তু এই ইস্যুতে কেন্দ্রের অবস্থান কি? মোদী সরকার কিভাবে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারে? যাদের সাথে ভারতের মাটি, ভারতের  সভ্যতা, সংস্কৃতি – কোনো কিছুর বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই, সেই রোহিঙ্গারা যদি হাজার হাজার সংখ্যায় ভারতের মাটি দখল করে থাকতে পারে, তাহলে পাকিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে বিতাড়িত এই হিন্দুরা কেন থাকতে পারবে না?  এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের নীতি স্পষ্ট হওয়া উচিত। আমাদের স্পষ্ট মতামত, বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় কারণে অত্যাচারিত হয়ে যে হিন্দুরা ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বা হচ্ছেন, তাদেরকে ভারতে থাকার অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি যারা আর্থিক অথবা অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করার জন্য অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করে বসবাস করছে, জাল কাগজপত্র তৈরী করে এখানে চাকরি করছে, ব্যবসা করছে – তাদেরকে বিদেশী বলে চিহ্নিত করে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।”

ভারতে হামলা চালাতে শিখ যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিছে আইএসআই, সংসদে রিপোর্ট পেশ

শিখ যুবকদের নিয়ে সন্ত্রাসবাদের ট্রেনিং দিচ্ছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে গত ১৯শে মার্চ, সোমবার সংসদে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে । সেই রিপোর্টে এমনই আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে যে, পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই শিখ যুবকদের জঙ্গি মতাদর্শে প্ররোচিত করছে। পাকিস্তানে তাঁদের নিজস্ব ক্যাম্পে এই সব যুবকদের জঙ্গি কার্যকলাপে দীক্ষিতও করা হচ্ছে। জঙ্গি বাছাইয়ের জন্য ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাহায্য নিচ্ছে আইএসআই। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে কানাডা, আমেরিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে শিখ যুবকদের জোগাড় করছে আইএসআই। এরপর তাদের মগজ ধোলাই করে ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। জঙ্গি হিসেবে বেছে নেওয়া হচ্ছে দাগী অপরাধী অথবা বেকার শিখ যুবদের। রিপোর্টে স্পষ্টই বলা হয়েছে, শুধুমাত্র দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গি নাশকতা চালিয়ে অস্থিরতা তৈরি করতে চায় পাক গুপ্তচর সংস্থা। পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া খলিস্তানি আন্দোলনকেও পুনর্জন্ম দিতে চায় আইএসআই।

কাশ্মীরের পুঞ্চে পাকিস্তানের হামলায় একই পরিবারের ৫জন মৃত

কাশ্মীর রক্ষার্থে প্রয়োজনে সীমান্ত পেরিয়ে মারবে সেনাবাহিনী।গত ১৭ই মার্চ,  শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এহেন হুঁশিয়ারি পরেই নিয়ন্ত্রণরেখায় ফের সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। গতকাল ১৮ই মার্চ, রবিবার পুঞ্চ জেলার বালাকোট সেক্টরে পাক রেঞ্জার্সের মর্টার হামলায় প্রাণ হারালেন তিন ভাই সহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। গুরুতর জখম হয়েছেন দুই বোন। শেল হামলার যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাও।
পুঞ্চের নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে বালাকোটের দেবতা সার্গলুন গ্রামের দূরত্ব মেরেকেটে ৩-৪ কিমি। প্রতিদিনের মতো এদিনও এখানে সূর্য উঠেছিল। কিন্তু, জীবনযাত্রা শুরু হওয়ার আগেই সীমান্তের ওপার থেকে গ্রামে উড়ে আসতে শুরু করে ৮১, ১২০ মিলিমিটারের মর্টার। বিনা প্ররোচনায় এপারের বসতি লক্ষ্য করে গুলি ও শেল ছোঁড়ে পাক সেনাবাহিনী। যোগ্য জবাব দিয়েছেন ভারতীয় জওয়ানরাও। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই গুলির লড়াই চলে প্রায় চার ঘণ্টা। পাকিস্তানের মর্টার হামলায় প্রাণ হারান একই পরিবারের পাঁচ সদস্য। তাঁরা হলেন, চৌধুরী মহম্মদ রমজান (৩৫), তাঁর স্ত্রী মালাইকা বাই (৩২) এবং তাঁদের তিন ছেলে আব্দুল রেহমান (১৪), মহম্মদ রিজওয়ান (১২) ও রেজ্জাক রমজান (৭)। গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁদের দুই বোন নাসরিন কৌসের (১১) ও মাহরিন কৌসের (৫)। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের আকাশপথে উড়িয়ে জম্মুর এক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিসের ডিজি এস পি বৈদ্য ট্যুইট করে একথা জানিয়েছেন।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ আধিকারিক লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবেন্দর আনন্দ জানিয়েছেন, কোনওরকম প্ররোচনা ছাড়াই এদিন সীমান্তে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। এলোপাথাড়ি গুলি ও মর্টার হামলা চালায়। আমাদের জওয়ানরাও তার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই গুলির লড়াই চলে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত। নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় চার কিমি দূরের গ্রামের পাক বাহিনীর এই মর্টার হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আনন্দ। তিনি বলেছেন, ঘটনাস্থলে কোনও সেনা শিবির বা জওয়ান মোতায়েন থাকা না সত্ত্বেও হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। গোলা-গুলিতে নিরীহ পাঁচ গ্রামবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীর মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি।
ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, ‘পুঞ্চের বালাকোটে নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।’ পরিস্থিতির উন্নতিতে শান্তি জরুরি বলে জানিয়েছেন মেহবুবা মুফতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এক্ষেত্রে শান্তিই একমাত্র পথ। বাজপেয়িজি (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী) লাহোর বাসযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা করেছিলেন। এবং পরে তা একই উদ্যোগে জারি রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি। কিন্তু, পাঠানকোটে তাদের ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। আমরা যদি জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দাদের রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের সঠিক পথ বাছতে হবে।’