ভারতীয় সেনার গুলিতে পাকিস্তানের নাগরিকের মৃত্যু, ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে প্রতিবাদ জানালো পাকিস্তান

একটা সময় ছিল যখন সীমান্তে পাকিস্তান সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে ভারতের দিকে গোলাগুলি বর্ষণ করতো। তখন ভারত পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠাতো, প্রতিবাদ জানাতো । কিন্তু কাজের কিছুই হতো না। সীমান্ত সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিকে বিশেষ পাত্তাই দিতো না পাকিস্তান। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার। ফলে এখন উল্টোটা হচ্ছে। এবার নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষ বিরতি চুক্তি ভাঙার অভিযোগে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনার গৌরব আলুওয়ালিয়া তলব করে প্রতিবাদ জানাল পাকিস্তান সরকার। বুধবার পাক বিদেশ দপ্তর দক্ষিণ এশিয়া ডেস্কের ভারপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত ডিরেক্টর জেনারেল মহম্মদ ফয়জল বলেন, ‘গত ২ মে এবং ৫ মে নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে তিন অসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন দু’জন। আমরা ভারতীয় কূটনীতিককে জানিয়েছি, সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের এই ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি এবং সুস্থিতির পক্ষে বিপজ্জনক। এর ফলে কৌশলগত অবস্থান নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা বাড়বে।’ পাক বিদেশ দপ্তরের তরফে এদিন একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২ মে রাখচিকরি সেক্টরে ভারতীয় সেনার গোলাবর্ষণে ১৫ বছরের তাহির হাফিজের মৃত্যু হয়। তার ৯ বছরের বোন তাহিরা গুরুতর জখম হয়। এর পরে ৫ মে ১২ বছরের মহম্মদ জাহিদ এবং নাসরিন নামে এক স্থানীয় মহিলা ভারতীয় বাহিনীর গোলায় নিহত হন। জখম হন সনিয়া বিবি নামে এক গ্রামবাসী।

লাহোরের দাতা দরবারে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালালো তালিবান , মৃত ১০

লাহোরের দাতা দরবার সুফি সৌধের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১০ জনের, আহত কমপক্ষে ২৪। নিহতদের মধ্যে তিন জন পুলিশ আধিকারিক, দু’জন নিরাপত্তারক্ষী এবং পাঁচ জন সাধারণ নাগরিক, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। গতকাল ৮ই মে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল পৌনে ন’টা নাগাদ সৌধের মহিলা প্রবেশদ্বারের বাইরে বিস্ফোরণটি ঘটে। ২০১০ সালে সন্ত্রাসহানার পর থেকে এই সৌধে কড়া নিরাপত্তা থাকে। রমজান মাসে সেই নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও হামলা এড়ানো গেল না। বিস্ফোরণের পর পুলিশের দোমড়ানো-মোচড়ানো গাড়ির ছবি সামনে এসেছে, তাতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, পুলিশকে লক্ষ করেই হামলা চালানো হয়েছিল। পাকিস্তানি তালিবানের শাখা সংগঠন হিজবুল আহরার হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে সৌধে মহিলাদের প্রবেশের অধিকার দেওয়ার কারণেও এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ তালিবান বরাবরই নারী স্বাধীনতার বিরোধী। এর আগে তালিবানের জিহাদিরা মেয়েদের শিক্ষার বিরোধিতায় স্কুল জ্বালানো, বিস্ফোরণ ঘটানোর মতো কাজ করেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দাতা দরবার দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সুফি সৌধ। দাতা গঞ্জ বক্সির এই সমাধিসৌধে প্রতিবছর হাজার হাজার শিয়া ও সুন্নি মুসলিম ভিড় জমান। ২০১০ সালে একবার আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েছিল এই সুফি সৌধ। প্রাণ গিয়েছিল ৫০ জনের, আহত হয়েছিলেন ২০০-রও বেশি মানুষ।

বাংলাদেশের বালিয়াকান্দিতে কালী মন্দির ভাঙচুর দুষ্কৃতীদের

baliakandi.jpgবাংলদেশের রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের তুলশীবরাট গ্রামে শ্মশান কালীমন্দিরের দুটি প্রতিমা ভেঙে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। গত ২৬শে মার্চ, মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ  বুধবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে।

জানা গিয়েছে , মন্দিরের আশপাশে কোনো বাড়ি নেই। একটি পুকুর পাড়ে খোলা মাঠে মন্দিরটি অবস্থিত। অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা রাতের অন্ধকারে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে কালী প্রতিমার মাথা পুরোটা এবং মহাদেবের হাতের কিছু অংশ ভেঙে দিয়েছে।

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অজিত কুমার জানান, সাত বছর আগে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিবছর ৩০ চৈত্র এ মন্দিরে বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও প্রতি মঙ্গলবার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে পূজা অর্চনা করে থাকেন। টিন ও বাঁশ দিয়ে তৈরি মন্দিরটি অনেকটাই অরক্ষিত। মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় মন্টু পূজা করে বাঁশের দরজা সুতলি দিয়ে বেঁধে রেখে যান। বুধবার সকালে মন্দির কমিটির সভাপতি নেপাল রাজ মন্দিরে প্রণাম করতে গেলে প্রতিমা ভাঙা দেখতে পান। পরে বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রশাসন ও বালিয়াকান্দি থানায় জানিয়েছেন ।

বালিয়াকান্দি থানার ওসি আজমল হুদা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মন্দিরের দুটি প্রতিমা ভাঙার সত্যতা পাওয়া গেছে। কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এ ব্যাপারে তিনি নিজে একটি জিডি করেছেন। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনো দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিস।

পাকিস্তানের দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ ও ধর্মান্তরিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৭

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে দুই হিন্দু নাবালিকাকে অপহরণ, জোর করে ধর্মপরিবর্তন এবং বিয়ে করার ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে এক ব্যক্তি বিয়েতে সহায়তা করেছিল বলেও অভিযোগ। তাকে খানপুর থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, এসবের মধ্যেই ওই দুই নাবালিকা পাঞ্জাব প্রদেশের বাহাওয়ালপুরের একটি আদালতে হাজির হয়ে নিরাপত্তার আর্জি জানিয়েছে বলে একটি পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, তাদের দু’টি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পরেই এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এরপর পাক প্রশাসনের তরফে সাতজনকে আটক করার খবর মিলেছে।
একটি সূত্র থেকে ওই কিশোরীদের পাঞ্জাবের রহিম ইয়ার খান জেলায় নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছেন বলে গতকালই ট্যুইট করেছিলেন পাক তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতভর রহিম ইয়ার খানে তল্লাশি চালিয়ে বিয়েতে সাহায্যকারী এবং ওই দুই নাবালিকার সঙ্গে যাদের বিয়ে হয়েছে সেই দুই ব্যক্তির কয়েকজন আত্মীয়কে আটক করেছে পুলিস। ওই সাহায্যকারী পাকিস্তান সুন্নি তেহরিকের একজন নেতা। আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সিন্ধু পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, হোলির দিন সিন্ধু প্রদেশের ঘোটকি জেলার বাসিন্দা দুই বোন রবীনা (১৩) এবং রীনাকে (১৫) বাড়ি থেকেই অপহরণ করা হয়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয় দু’টি ভিডিও। যার একটিতে ওই দুই নাবালিকার ‘নিকাহ’ করাতে দেখা যায় এক মৌলবীকে। অপর ভিডিওটিতে তাদের স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মগ্রহণ করার কথা বলতে দেখা যায়। এরপর থেকেই পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন সেদেশে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত বছর নির্বাচনী প্রচারে হিন্দু মেয়েদের জোর করে বিয়ে আটকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। এবার সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

নিউজল্যান্ডের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজের হামলা, মৃত ৪০ জন মুসলিম, আহত ২০

new zealandনিউজল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের একটি মসজিদে বন্দুকবাজের হামলায় নামাজ পড়তে আসা ৪০ জনের মৃত্যু এবং ২০জন আহত হয়েছে। সিএনএন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্রাইস্টচার্চের আল নুরী মসজিদে বন্দুকবাজ হামলা চালায়। সেই হামলায় অনেকের মৃত্যু হয় এবং অনেকে আহত হয়। অনুমান করা হচ্ছে যে এই ঘটনার পিছনে নিউজল্যান্ডের অভিবাসী বিরোধী, মুসলিম বিরোধী গোষ্ঠীর হাত থাকতে পারে। কারণ বেশ কিছু বছর ধরেই নিউজল্যান্ডের ভূমিপুত্ররা দেশে মুসলিম শরণার্থীদের প্রবেশের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এমনকি নিউজল্যান্ডের মানুষজনকে ক্রমাগত ইসলামে ধর্মান্তরিত করা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। এর ফলেই এই ঘটনা বলেই অনেকে মনে করছেন। এমনকি একজন হামলাকারী ঘটনার লাইভ করেন তার ফেসবুক একাউন্টে। ওই মসজিদে নামাজ পড়তে আসার কথা ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের। তবে কিছুক্ষন আগেই হামলা হওয়ায় তড়িঘড়ি ক্রিকেট টিমের বাস থেকে দৌড়ে হোটেলে পালিয়ে যান। যদিও পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বহু মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে ।

চট্টেশ্বরী সড়কের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হিন্দুদের

বাংলাদেশের চট্টগ্রামের মা চট্টেশ্বরী মন্দিরে যাওয়ার রাস্তার নাম পরিবর্তন করা নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে, রাতারাতি রাস্তায় থাকা ছ’টি নামের ফলক সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর জে এই মাদ্রাসা সড়ক নামের ফলক লাগানো হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখায় এবং পথ অবরোধ, মানববন্ধন করে।  চাপে পড়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে শান্ত করতে  এমপি বিবৃতি দিলেও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন যে চট্টেশ্বরী রোডের নাম ফেরালে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা।

হিন্দুদের উদ্দেশ্যে অসম্মানজনক মন্তব্য, মন্ত্রীপদ হারালেন পাকিস্তানের মন্ত্রী

পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিয়ে অপমানসূচক এবং উস্কানিমূলক মন্তব্যের দায়ে মন্ত্রীপদ  খোয়ালেন পিটিআই নেতা তথা পঞ্জাব প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ফৈয়াজ়ুল হাসান চৌহান। পাক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এর ব্যাখ্যা চেয়ে ফৈয়াজ়ুলকে আজ নিজের অফিসে ডেকে পাঠান পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সর্দার উসমান বুজ়দার এবং সেখানেই তাঁকে ইস্তফা দিতে বলা হয়। একাংশের দাবি, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে নিজের দলেও তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় শেষমেশ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ফৈয়াজ়ুল।

পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার দশ দিন পরে, গত ২৪ ফেব্রূয়ারি  এক জমায়েতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফৈয়াজ়ুল বেশ কিছু ‘হিন্দু-বিরোধী’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই শাসক দলের নেতা-মন্ত্রীরা তাঁর বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন। কয়েক দিন ধরে ফৈয়াজ়ুলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে থাকেন বিরোধীরাও। তাঁকে সরানোর দাবিতে #স্যাকফৈয়াজ়চৌহান নামে বেশ কিছু পোস্টও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চাপের মুখে আজ ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফৈয়াজ়ুল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারি হিসেবে, পাকিস্তানে এখন প্রায় ৭৫ লক্ষ হিন্দুর বাস। বেসরকারি মতে যদিও সংখ্যাটি ৯০ লক্ষের বেশি। তাঁদের সিংহভাগই থাকেন সিন্ধু প্রদেশে।

ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার রাশেদুল হাসান

dhaka-Mirpurবাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মিরপুরের কালী মন্দিরে আজ সকাল ৭ টায় মন্দিরের  প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।কালী  মায়ের প্রতিমা ভেঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে আটক করা হয়েছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টায় মন্দির খুলে পরিষ্কার করার সময় ২২ বছরের এক যুবক প্রবেশ করেন। এতো সকালে কেন এখানে এসেছেন -জানতে চাইলে জানায়, সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তাই প্রার্থনা করতে এসেছেন। তার নাম মিঠুন চক্রবর্তী বলে সে পরিচয় দেয়।
সে প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১০ মিনিট প্রার্থনা করে। আশাপাশে কেউ না থাকায় ভেতরে গিয়ে কালী প্রতিমা টেনে নীচে ফেলে দেয় এবং ভাঙচুর করে। প্রতিমা পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে ভেতরে থাকা পুরোহিতের সহকারী ও পরিচ্ছন্নকর্মী দৌড়ে গিয়ে যুবককে ধরে ফেলেন।
পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে সে স্বীকার করে, সে আসলে কোন হিন্দুু নয়, তার আসল নাম রাশেদুল হাসান। মিরপুর ১১ নম্বর এভিনিউ এলাকার বাসিন্দা।
এই ঘটনায় মিরপুরের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। তাদের সন্দেহ এ প্রতিমা ভাঙচুর এর পেছনে বড় দুস্কৃতিকারীরা জড়িত রয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়া দুষ্কৃতীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু মহিলা বিচারপতি হলেন সুমন কুমারী

suman kumariমুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রথম হিন্দু মহিলা বিচারপতি  নিযুক্ত হলেন সুমন কুমারী। সে দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক সুমন কুমারি কামবার-শাহদাদকোটের বাসিন্দা। সেখানকারই একটি আদালতের দায়িত্বভার নেবেন তিনি। পাক মাটিতে মাত্র ২ শতাংশ হিন্দুর বাস, যদিও এ দেশে সংখ্যায় ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পরই হিন্দুরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সুমনের বাবা পবন কুমার বোদন পেশায় চোখের ডাক্তার। দরিদ্র গ্রামবাসীদের নিখরচায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকেন তিনি। সাধারণ আয় সত্ত্বেও তিন কন্যার পড়াশোনায় কোনও ঘাটতি হতে দেননি তিনি। বড় মেয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আরেক মেয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আর সুমন বিচারক। হায়দরাবাদ থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করার পর করাচির শহিদ জুলফিকার আলি ভুট্টো ইনস্টিটিউশন থেকে স্নাতকোত্তর করেছেন সুমন। পরিবারের সামান্য আয় কিংবা রক্ষণশীল সমাজ, কোনও কিছুই বাধা হতে পারেনি সুমনের উত্থানের পথে। সব কিছুকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন তিনি। মেয়ের সাফল্যে বাবার মুখের হাসি আজ একটু বেশিই চওড়া। পাক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, ‘সুমন একটি কঠিন পেশা বেছে নিয়েছে। তবে আমার বিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং সততার মধ্য দিয়ে সে অবশ্যই সফল হবে।’

পাকিস্তানের মতো দেশে যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের খবর প্রায় রোজকার ঘটনায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এ ধরনের বিষয় নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে পাকিস্তানে বিচারক বা বিচারপতি পদে হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নিয়োগ এই প্রথম নয়। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের কার্যনির্বাহী প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলেছিলেন রানা ভগবানদাস।

যশোরে মা মনসা প্রতিমা ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ইয়াসিন

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জিহাদি মনোভাবাপন্ন মুসলিমদের আক্রমণ অব্যাহত। খুন, জমি পর এবার হিন্দুদের  ভাঙচুর।  গতকাল  ১২ই জানুয়ারী, বাংলাদেশের যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার মহাকাল গ্রামের মৃত হরিপদ দাসের বাড়ির দুইশত বছরের পুরোনো মনসা প্রতিমা ভাঙচুর করলো স্থানীয় একজন মুসলিম যুবক। জানা গিয়েছে, ঐদিন ভোরের বেলায় বাড়ির মন্দিরের বেদিতে থাকা মা মনসার প্রতিমা ভেঙে ফেলে দেয় এক মুসলিম যুবক। কিন্তু ভাঙচুরের আওয়াজে বাড়ির সদস্যরা জেগে যায় এবং একজন মুসলিম দুষ্কৃতীকে ধরে ফেলে বাড়ির লোকেরা। তাঁর নাম ইয়াসিন।  চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আশেপাশের হিন্দুরা ছুটে আসে এবং ওই  দুষ্কৃতীকে গাছে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাকে স্থানীয় থানার হাতে তুলে দেওয়া হয়।

সিলেটের গৌরাঙ্গ মন্দিরে লুঠপাট দুষ্কৃতীদের

gouranga akhraনির্বাচনের পরেও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা অব্যাহত। গত ৩রা জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার  রাতে সিলেট জেলার জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের দুপড়িরপাড় গ্রামে শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আখড়ায় লুঠপাটের ঘটনা ঘটেছে!রাতের অন্ধকারে মন্দিরের তালা ভেংগে ভিতরে প্রবেশ করে মন্দিরের বিগ্রহের স্বর্নালংকার ও সেবায়েতের ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।সেই সঙ্গে মন্দিরের মধ্যে থাকা পূজার বাসনপত্র ফেলে দেয় এবং মন্দিরের ভিতরে থাকা পূজার জন্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র তছনছ করে দিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে আখড়া কতৃপক্ষ। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। 

নির্বাচনের আগেই আক্রমণের শিকার বাংলাদেশের হিন্দুরা

রাত পোহালেই বাংলাদেশ নির্বাচন। আর এই নির্বাচনের আগেই আবারও বাংলাদেশে আক্রান্ত হিন্দুরা। উত্তরের জনপদ ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার একটি হিন্দুবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ। ঘটনায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। জানা গেছে এনিয়ে ঠাকুরগাঁও উপজেলায় তিনটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটল।

আখানগর ইউনিয়নের ঝাঁপরতলি গ্রামের আনন্দ চন্দ্র বর্মনের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে হামলা হয়। শুক্রবার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া শাহপাড়া গ্রামে কৃষ্ণ ঘোষের এবং আখানগর ইউনিয়নের মধ্য ঝাড়গাও গ্রামের যাক্রু বর্মনের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। আক্রান্তদের অভিযোগ পরিকল্পনা করে হিন্দুদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু তথা সংখ্যালঘুরা যাতে ভোট দিতে না পারেন সেই কারণেই এই হামলা বলে অভিযোগ।

আখানগর ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি নুরুল ইসলাম দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল যে নির্বাচনের আবহে ওই দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হতে পারে। এমনকি গোয়েন্দা রিপোর্টেও এই আশঙ্কার উল্লেখ করা ছিল। পরিস্থিতি অশান্ত করতেই আইএসআই মদতপুষ্ট বিএনপি ও জামাত হিন্দুদের নিশানা করতে পারে বলে ধারণা অনেকের। কারণ সংখ্যালঘুদের বড় একটা অংশ আওয়ামী লীগের সমর্থক।

৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশে ভোট গ্রহণ। ফলে দেশ জুড়ে রয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ঘেরাটোপ। নির্বাচনের আগে ও ফলাফল প্রকাশের পরই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। বাড়িতে ঢুকে হামলা, কটুক্তি হুমকির ঘটনা নতুন নয় সেখানে। সংখ্যালঘু ঐক্য পরিষদের দাবি নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিস্তর। সেই জন্যেই তারা সংখ্যালঘু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

ফেনীতে হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দিলো আওয়ামী লীগ নেতা, পুড়ে ছাই ৪টি বাড়ি

shilparaআগামী ৩০শে ডিসেম্বর বাংলাদেশে নির্বাচন। আর নির্বাচন এলেই বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় জিহাদি আক্রমণের শিকার হয়। বিএনপি হোক বা আওয়ামী লীগ- সংখ্যালঘু হিন্দুর ওপর অত্যাচারে কেউ কম যায় না। এবারও তার অন্যথা ঘটলো না। গত ১৫ই ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশের ফেনী জেলায় হিন্দুদের বাড়ি-ঘরে আগুন দিলো মুসলিম দুষ্কৃতীরা, তাও আবার আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে। বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার বগদানা ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের শীলপাড়ায় আলাউদ্দিন বাবুল-এর নেতৃত্বে হিন্দুদের ঘরে আগুন দেয় মুসলিম দুষ্কৃতীরা। দুষ্কৃতীদের দেওয়া আগুনে শীলপাড়ার বাসিন্দা শিশির কুমার শীল, রণজিৎ কুমার শীল, অজিত কুমার শীল এবং মনীন্দ্র কুমার শীল-এর সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। কোনোরকম পরিবারসহ নিজেরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ত্রিপল খাটিয়ে দিন কাটছে তাদের। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জন্যে তারা স্থানীয় নির্বাচিত ওয়ার্ড সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন বাবুল-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। পুলিস যথারীতি আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলি সুবিচার পাবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ভোট আসছে, আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের হিন্দুরা

আর কিছুদিন পরেই রয়েছে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। আর তা নিয়েই আতঙ্কে রয়েছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। কারণ বিগত দিনগুলিতে দেখা গিয়েছে, ভোটের আগে এবং পরে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় আক্রান্ত হয় মৌলবাদী মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বারা । ভোট আওয়ামী লীগ জিতুক বা বিএনপি হারুক, হামলার শিকার হয় সে দেশের হিন্দুরা। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের হিন্দুরা নিরাপদে থাকলেও গ্রামাঞ্চলের হিন্দুরা আক্রমণে শিকার হয়, তাদের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আর সেই কারণে নির্বাচনের আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে সেনা মোতায়েন করার দাবি জানালেন বাংলাদেশের হিন্দু নেতারা। গতকাল ১৪ই ডিসেম্বর, শুক্রবার ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন; তার মধ্যে  ছিল ”বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট”, বাংলাদেশ জনতা পার্টি”, ”জাগো হিন্দু পরিষদ” ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। সেই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দাবি তোলা হয় যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তার জন্যে ভোটের এক সপ্তাহ আগে এবং ভোটের পরে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে সেনা মোতায়েন রাখতে হবে। এছাড়াও হিন্দু সম্প্রদায় যাতে সুষ্ঠভাবে ভোট দিতে পারে, তার জন্যে নিরাপত্তা দেবার দাবি তোলা হয় সম্মেলন থেকে।

বাংলাদেশে গত ১১ মাসে ৮৮জন হিন্দু খুন, ৩৪৭ জন আহত এবং ২৯জন ধর্ষিত, রিপোর্ট বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় যে ভালো নেই, তা আর একবার প্রকাশ পেলো বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট প্রকাশিত রিপোর্টে। সংগঠনের মহাসচিব শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি রিপোর্ট পেশ করেন।তিনি বলেন যে এই রিপোর্ট ৩০শে নভেম্বর পর্যন্ত সময়কে ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন এই রিপোর্ট সংগঠনের জেলা এবং উপজিলা ইউনিটের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ওই  রিপোর্টে বিস্তারিতভাবে সে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ঘটে চলা অত্যাচার ও নিপীড়ণের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা আতঙ্কের। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১১ মাসে বাংলাদেশের ২৯জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে অপহরণ করা হয়েছে,যার মধ্যে শিশু, যুবক-যুবতীও আছে। এছাড়াও ২৯ জন হিন্দু মহিলা ধর্ষণের শিকার হয়েছে মুসলিমদের হাতে, যার মধ্যে ৯জন মহিলা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ৪জনকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়াও রিপোর্টে বলা হয়েছে,গত ১১ মাসে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ২,৭৩৪ একর জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হয়েছে; ২১৭টি হিন্দু পরিবারকে ভিটে-মাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, ২২৩টি পরিবারকে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তাদেরই প্রতিবেশী মুসলমানরা। এছাড়াও ১০৮ টি হিন্দু পরিবারের ঘর-বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
 হিন্দুদের ধর্মীয়স্থানগুলিও রেহাই পায়নি। গত ১১ মাসে ৩৭৯টি মন্দিরে হামলা চালিয়ে মূর্তি ভাঙচুর হয়েছে এবং ৯টি স্থানে মন্দিরের মূল্যবান মূর্তি চুরি হয়ে গিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করলেও, পরে অভিযুক্ত মানসিকভাবে সুস্থ নয়, এই অজুহাতে ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। এই রিপোর্টের সঙ্গে সঙ্গে একটি দাবিপত্রও পেশ করা হয় জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষ থেকে। তিনি সেই সঙ্গে সকল রাজনৈতিক নেতাদের কাছে সে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং সম্মান নিশ্চিত করার আবেদন জানান।