২০১৭ সালে ১০৭ জন হিন্দু খুন, ২৫জন হিন্দু নারী ও শিশু ধর্ষিত, ২৩৫টি মন্দির ভাঙচুর বাংলাদেশে

বাংলাদেশে গত ১লা জানুয়ারী, ২০১৭ থেকে ৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৭ পর্যন্ত মোট ১০৭ জন হিন্দু খুন, ২৫ জন হিন্দু নারী ও শিশু ধর্ষিত হয়েছে মুসলিম মৌলবাদীদের দ্বারা। এছাড়াও গত বছরে বাংলদেশের মোট ২৩৫ টি মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছে মুসলিম জনতা। গত ১৩ই জানুয়ারী, শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরলো বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট। বাংলাদেশের ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এবিষয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের সম্পাদক পলাশ দে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭৮২ জন হিন্দু দেশত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, ২৩ জনকে ইসলামে জোর করে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। তিনি এই সম্মেলনে দাবি করেন যে, প্রশাসনের অবহেলা ও ক্ষমতাশালী লোকেদের অত্যাচারের কারণে বাংলাদেশের হিন্দুসমাজ আজ বিপন্ন, সে যে সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন। তিনি আরো বলেন যে, নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুর ওপর যে অত্যাচার হয়, তা পৃথিবীর কোনো দেশে হয় না। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে, নির্যাতিত ও ধর্ষিত ও দেশত্যাগী হিন্দুর সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি।

Advertisements

বাংলাদেশের নড়াইলে হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের ওপর হামলা যুবলীগ নেতার

গত ৮ই ডিসেম্বর, সোমবার বাংলাদেশের নড়াইলের লোহাগড়ায় যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে শহরের কুন্দশী এলাকায় হিন্দু জেলে সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় মহিলাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা বাড়িঘরসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

আহতদের লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লোহাগড়া থানায় মামলা করা হলেও পুলিশ এজাহারভুক্ত কোনো আসামিকে আটক করতে পারেনি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেল চারটের দিকে লোহাগড়া পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের কুন্দশী জেলেপাড়ার বিজুষ বিশ্বাস ওরফে পাগলের মাছ ধরার জাল ভাড়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের রুলু মোল্লার সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর জের ধরে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর শিকদার নেতৃত্বে রুলু, টুলু, রবি, সুমন, বিল্লালসহ ৩০-৩৫ জনের একদল সন্ত্রাসী রামদা, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা নিয়ে জেলাপাড়ার বিজুষ বিশ্বাস ওরফে পাগলের বাড়িতে হামলা করে। এসময় সন্ত্রাসীরা বলরাম বিশ্বাসের ছেলে সুবল বিশ্বাস (১৮), তার মা নমিতা বিশ্বাস (৪৭), বিজুষ বিশ্বাস ওরফে পাগলের স্ত্রী শিখা বিশ্বাস (৪১), পরিতোষ বিশ্বাস (৪১) এবং তার স্ত্রী বাসন্তী বিশ্বাসকে (৩৬) বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। পরে এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় বলরাম বিশ্বাসের স্ত্রী নমিতা বিশ্বাস রাতেই পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে লোহাগড়া থানায় মামলা করেছেন।
লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।’’

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা জিয়াউর শিকদার পলাতক থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

চট্টগ্রামে ডাকাতি ও একই পরিবারের চার হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণ মুসলিম দুষ্কৃতীদের

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানার শাহমিরপুর এলাকার এক হিন্দু বাড়িতে ডাকাতি ও চার হিন্দু নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার এক আসামি চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। গত ২৭শে ডিসেম্বর, ওই হিন্দুবাড়িতে ডাকাতদল ঢোকে। গত ২রা ডিসেম্বর, মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দেওয়া জবানবন্দিতে মিজানুর রহমান (৪৫) নামের ওই আসামি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তবে সে নিজে ধর্ষণ করেনি বলে দাবি করেছে। মিজানুর বাগেরহাট জেলার মোংলা থানা এলাকার বাসিন্দা। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সে। জবানবন্দিতে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় পাঁচজন জড়িত বলে তথ্য উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে মিজানুরসহ চারজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অন্য একজনের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। মিজানুরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় মোট পাঁচজন জড়িত। তাদের মধ্যে আবু সামা নামের একজন স্থানীয়। বাকি চারজন অন্য জেলার। মিজানুর তিনজনের পরিচয় প্রকাশ করতে পারলেও একজনের পরিচয় আদালতে প্রকাশ করতে পারেনি। মিজানুরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন তাদের প্রবাসীদের বাড়ি দেখিয়ে দিয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দা আবু সামা। বাড়িটি পাকা এবং চারপাশ থেকে সীমানাপ্রাচীর থাকায় ডাকাতরা ভেতরে প্রবেশ করতে পারছিল না। পরে তারা একটি বাঁশের সাহায্যে সীমানাপ্রাচীর পার হয়ে ভেতরে ঢোকে। ওই বাড়ির একটি কক্ষে কেউ থাকেন না বলে তাদের আগে থেকেই জানিয়েছিল আবু সামা। ওই কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চারজন। চারজন ভেতরে প্রবেশ করলেও আবু সামা বাইরে ছিল। ভেতরে গিয়ে মিজানুরসহ তার অন্য একজন সহযোগী একটি কক্ষে প্রবেশ করে। ওই কক্ষে দুজন নারী ঘুমিয়ে ছিলেন। তারা প্রথমেই দুই নারীকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারপর গয়না, টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। এ সময় তাদের সহযোগী ইলিয়াছ ও মজিদুল দুই নারীকে পাশের রুমে নিয়ে যায়। এ সময় নারীদের মারধরও করা হয়। ইলিয়াছ ও মজিদুল দু’জন নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে মিজানুর শুনেছে বলে আদালতের কাছে দাবি করে। তবে নিজে ধর্ষণ করেছে এমন কথা সরাসরি স্বীকার করেনি। মিজানুর স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করে, পাশের রুমে দুই নারীকে নিয়ে যাওয়ার পর তারা কক্ষ থেকে টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল নিয়েছিল। মিজানুর ওই বাসা থেকে ৯০ হাজার টাকা, দেড় ভরি স্বর্ণ ও পাঁচটি মোবাইল লুটের কথা তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক (মেট্রো) সন্তোষ চাকমার কাছে স্বীকার করেছে। এর মধ্যে নিজের ভাগে ১৩ হাজার টাকা পাওয়ার কথা জানিয়েছে সে।

মিশরের চার্চে হামলা ইসলামিক জঙ্গিদের; মৃত ৯, আহত বহু

mishorer churche hamla islamic jongiderউৎসবের মরসুমে আনন্দে মাতোয়ারা সকলেই। তার সুযোগ নিয়ে বড়সড় জঙ্গি হামলার আশঙ্কাটা আগে থেকেই ছিল। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বন্দুকবাজের হামলায় রক্তাক্ত হল মিশরের একটি গির্জা।

আজ সকালে দক্ষিণ কায়রোর হেলওয়ান জেলার মার মিনা গির্জায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে। তাতে নিহত হয়েছেন ৯ জন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন তিন পুলিশকর্মীও। হামলায় জখম হয়েছেন ৫ জন। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ওই গির্জায় হামলা চালিয়েছে দুই সন্দেহভাজন জঙ্গি। এদের মধ্যে এক জন পুলিশের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছে।আর অন্য জন পালিয়ে গিয়েছে বলে অনুমান। তার খোঁজে তল্লাশিও শুরু হয়েছে। পুলিশের দাবি, ভিড়ে ঠাসা গির্জায় আত্মঘাতী হামলা চালানোর ছক কষেছিল ওই জঙ্গিরা। কারণ নিহত জঙ্গির কাছ থেকে বিস্ফোরক ঠাসা একটি বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ফলে বেশ বড়সড় হামলা ঠেকানো গিয়েছে। কপটিক গির্জা ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা মিশরে নতুন ঘটনা নয়। তবে আজকের এই হামলার পিছনে কাদের হাত রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীই এর দায় স্বীকার করেনি। তবে এর আগে ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গিগোষ্ঠীর মিশরীয় শাখা খ্রিস্টানদের নিশানা করে গির্জাগুলিতে হামলা চালিয়েছে। পরবর্তী কালেও আরও বড়সড় হামলা চালানোরও হুমকি দিয়েছিল তারা। ফলে এ ক্ষেত্রেও আইএস যোগ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বারবার কপটিক গির্জায় হামলা হলেও গত মাসেই সিনাইয়ের আল-রাওদহ মসজিদে বড়সড় জঙ্গি হামলার বলি হয়েছিল। তাতে নিহতের সংখ্যা ছিল তিনশো ছুঁইছুঁই।

এ বার বড়সড় হামলা চালাতে মূলত উৎসবের মরসুমটাকেই বেছে নিয়েছিল জঙ্গিরা। গির্জায় মোতায়েন করা হয়েছিল বহু পুলিশ। আজ সকালে প্রার্থনার জন্য গির্জায় জড়ো হয়েছিলেন বহু মানুষ। গির্জার বাইরে টহল দিচ্ছিল পুলিশ। সেই সময় গির্জার বাইরে দু’জনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়েছিল টহলরত পুলিশ বাহিনীর। ওই দুই সন্দেহভাজনের দিকে এগোতেই তারা আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পাল্টা জবাব দেয় পুলিশও। কিছুক্ষণ দু’পক্ষের গুলি বিনিময় চলার পরে অবশ্য এক সন্দেহভাজনকে গুলি করে মেরেছে পুলিশ।

পরকীয়ার অভিযোগে বাংলাদেশে যুবতীকে চাবুক মেরে হত্যা

ফের এক নারকীয় ঘটনায় কেঁপে উঠল বাংলাদেশ। ইসলামিক স্টেটের অনুকরণে, পরকীয়ার অভিযোগে চাবুক মেরে হত্যা করা হল এক যুবতীকে।

ঘটনাটি ঘটে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর শহরে। ডিসেম্বরের ২০ তারিখ ঘটনাটি ঘটলেও সদ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় এই জঘন্য কাণ্ডটি। তারপরই দেশ জুড়ে শুরু হয় প্রবল শোরগোল। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এহেন ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে সরকার ও প্রশাসন। জানা গিয়েছে, ২৩ বছরের নিহত যুবতীর নাম মৌসুমি আখতার। স্থানীয় লোকজন জানান, ৯ মাস আগে হরিপুরের বালিয়াপুকুর গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মৌসুমির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৩০ হাজার টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয় জাহাঙ্গীরকে। কিন্তু তারপরও ১ লক্ষ টাকা দাবি করে সে। টাকা না দিলে মৌসুমিকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় জাহাঙ্গীর। মৃতার দাদা জানিয়েছেন, ‘‘এক লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবিতে গত ১৬ ডিসেম্বর মৌসুমীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয় জাহাঙ্গীর। তারপর ২০ ডিসেম্বর কৌশলে মৌসুমিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সালিশি সভা বসায় অভিযুক্ত।’’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন রাত ১১টা নাগাদ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে সালিশি সভা বসে। সেখানে কাজি আবুল কালামের নির্দেশে ‘ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক’ মৌসুমিকে ১০১ বার চাবুক মারা হয়। মৌসুমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও প্রতিবাদের সাহস দেখাতে পারেননি কেউই। অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে পরদিন ২১ ডিসেম্বর ওই বাড়িতেই মৃত্যু হয় মৌসুমির। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মৌসুমির পরিবারকে জানানো হয় যে, সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তারপরই পুলিশের দ্বারস্থ হয় মৃতার পরিবার। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় মৌসুমির দেহ। তাঁর দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কাজি আবুল কালামকে। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটের আক্রমণ, নিহত ৪১

ফের আইএস হানায় রক্তাক্ত আফগানিস্তান৷ এ বারও বেছে বেছে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষকেই টার্গেট করল তারা৷ বৃহস্পতিবার শিয়াদের একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘তাবায়ান’-এ আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কমপক্ষে ৪১ জনকে খতম করে আইএস জঙ্গিরা, জখম হন আশিরও বেশি মানুষ৷ হামলার সময় ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে একটি আলোচনা চক্রের জন্য হাজির হয়েছিলেন বহু ছাত্রছাত্রী, ফলে বিস্ফোরণে নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্বল্প বয়সি ছেলেমেয়েও রয়েছে৷ মুখপত্র ‘আমাক’-এ বিবৃতি দিয়ে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট৷ তালিবান আবার পৃথক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা এই হামলা করেনি৷

আফগানিস্তানে সোভিয়েত আগ্রাসনের ৩৮ বছর পূর্ণ হতে চলেছে, সেই উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা চক্রে যোগ দিতেই ‘তাবায়ান’-এ এসেছিলেন পড়ুয়ারা৷ মহম্মদ হাসান নামের এক পড়ুয়ার বক্তব্য, ‘‘সভার ভিতরে সামনের দিকেই বসেছিলাম আমি, হঠাৎ পিছন থেকে বিকট আওয়াজ হল, গোটা বিল্ডিং কেঁপে উঠল৷ মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধে ভরে গেল গোটা সভাঘর৷ কোনও মতে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম আমরা৷’’ প্রশাসন জানিয়েছে, প্রথম বিস্ফোরণটি হয় এই অনুষ্ঠান কেন্দ্রে, এতে ‘তাবায়ান’ তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ই, সঙ্গে সঙ্গে ‘আফগান ভয়েস’-এর দপ্তরেও ক্ষয়ক্ষতি হয়৷ এক সাংবাদিকের প্রাণ যাওয়ার এবং আরও দু’জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে৷ এর পর আরও দুটো ছোট বিস্ফোরণ হয় ওই এলাকায়, যদিও তাতে কোনও প্রাণহানি হয়নি৷

গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা ভীষণ ভাবে বেড়ে গিয়েছে৷ মূলত দেশের পূর্ব অংশকেই টার্গেট করছে তারা, কারণ এই এলাকাতেই সবথেকে বেশি শিয়াদের বসবাস৷ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, আফগানিস্তানে শিয়া-সুন্নি সংঘাত বাধাতে চাইছে আইএস৷ কারণ প্রাণহানির হাত থেকে বাঁচাতে না পারার জন্য এমনিতেই আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির ওপর রেগে রয়েছেন শিয়ারা, এমন অবস্থায় নতুন করে হামলার ঘটনা আগুনে ঘি ঢালতেই পারে৷ ক্ষোভের আগুনে জল ঢালতে প্রেসিডেন্ট শুরুতেই এই হামলাকে ‘মানবতার ওপর হামলা’ আখ্যা দিয়ে দিয়েছেন৷ আহতদের দ্রুত আরোগ্যের প্রার্থনাও করেছেন তিনি৷ তবে তাতে ক্ষোভ কমার সম্ভাবনা খুবই কম, কারণ গত অক্টোবরেই আইএস হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ৩৯ জনের, তাঁরা প্রত্যেকেই শিয়া৷

মঙ্গলসূত্র খুলিয়ে স্ত্রীকে কুলভূষণের সঙ্গে সাক্ষাত করতে দিল পাকিস্তান

নামেই ‘মানবিক’ সাক্ষাত। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে স্ত্রী ও মাকে সাক্ষাত করতে দিলেও প্রতিমুহূর্তে পাকিস্তান বুঝিয়ে দিয়েছে দিন ঘনিয়ে আসছে তাঁর। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পাক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে স্ত্রী চেতনকুলকে মাথার টিপ, হাতের বালা এমনকী মঙ্গলসূত্র পর্যন্ত খুলে ফেলতে হল। যে পোশাক পরে তাঁরা দেখা করতে গিয়েছিলেন, তাও খুলিয়ে দেওয়া হয়। পরতে দেওয়া হয় অন্য পোশাক। ফেরার সময়ে স্ত্রীর জুতো পর্যন্ত ফেরত দেয়নি পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধ মা মাতৃভাষা মারাঠিতে স্বচ্ছন্দ হলেও, সেই ভাষায় তাঁকে ছেলের সঙ্গে কথাও বলতে দেওয়া হয়নি। গতকাল পাক বিদেশ মন্ত্রক তাদের ‘মানবিক মুখে’র কথা ঘটা করে ঘোষণা করলেও, আদতে যে একটি আতঙ্ক ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল, তা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
গতকালই ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত প্রাক্তন নৌ কমান্ডার কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মাকে দেখা করতে দিয়েছিল পাকিস্তান। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লি সেই সাক্ষাতের ঘটনায় পাকিস্তানের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। যেভাবে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কুলভূষণকে কথা বলতে দেওয়া হয়েছে তা দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার উদ্দেশ্যকেই নষ্ট করেছে বলে এদিন কঠোর নিন্দা করেছে বিদেশ মন্ত্রক। এক বিবৃতিতে বিদেশমন্ত্রক বলেছে, যেভাবে কুলভূষণের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মা দেখা করেছেন, তাতে তাঁর স্বাস্থ্য কতটা ভালো রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।
এদিন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন কুলভূষণ যাদবের পরিবার। গতকালের সাক্ষাতের বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেন তাঁরা। এরপরেই ওই সাক্ষাতের ঘটনায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কড়া বিবৃতি দেয় বিদেশ মন্ত্রক। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা ওই সাক্ষাতের যে রিপোর্ট পেয়েছি, তাতে মনে হচ্ছে যাদব অত্যন্ত চাপের মধ্যে ছিলেন। এবং তাঁকে অবাঞ্ছিত পরিবেশের মধ্যে কথা বলতে হয়েছে। কাচের দেওয়ালের আড়ালে ইন্টারকমের মাধ্যমে স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে কথা বলতে হয় কুলভূষণকে। কিন্তু প্রায় দু’বছর পরে ছেলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়া মা অবন্তী মাতৃভাষা মারাঠিতে কথা বলতে পর্যন্ত পারেননি। পাক কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ইংরেজিতে কথা বলতে হয়েছে স্ত্রী ও মাকে। ইংরেজিতে সড়গড় না হওয়ায় মাঝে মাঝেই মারাঠি বেরিয়ে আসছিল তাঁর স্ত্রী ও মায়ের। তৎক্ষণাৎ ওই আলোচনা বন্ধ করে দিচ্ছিলেন উপস্থিত পাক আধিকারিকরা।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে অভিযোগ করা হয়, যেভাবে এই আলোচনাটি সংগঠিত করা হয়েছে ততে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট, তারা যাদবের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল তাই বহাল রাখতে চাইছে। তাই পাকিস্তানের এই ভূমিকার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। দু’দেশের সমঝোতার যে উদ্দেশ্য থাকে, তা-ই নষ্ট করে দিয়েছে পাকিস্তান। গতকাল পাক বিদেশ মন্ত্রক একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল স্ত্রী ও মাকে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ায় পাক সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন কুলভূষণ। এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার স্পষ্টই বলেন, যাদব প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং একটি ভয়ের পরিবেশে কথা বলেছেন। তাঁর অধিকাংশ মন্তব্যই শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। চরবৃত্তির যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে পাকিস্তান এনেছে, তাকে সত্য প্রমাণিত করতেই এই মিথ্যার বেসাতি জোর করে বলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গতকাল কুলভূষণের স্ত্রী ও মায়ের সঙ্গে ছিলেন ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার জে পি সিং। কিন্তু পাকিস্তান কূটনৈতিক সৌজন্য পর্যন্ত দেখায়নি। তিনজনে এক সঙ্গে পাক বিদেশ মন্ত্রকের ভবনে ঢুকলেও, তাদের আলাদা করে দেওয়া হয়। জে পি সিংকে আলাদা বসিয়ে রেখে কুলভূষণের স্ত্রী ও মাকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরেই শুরু হয়ে যায় তাঁদের ‘সাক্ষাৎ’ পর্ব। আলোচনা যে শুরু হয়েছে তা জানতেও পারেননি তিনি। তখন জে পি সিং প্রতিবাদ করলে তাঁকে আলোচনাস্থলের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মূল জায়গায় ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। তাঁকে আলাদা জায়গায় রাখা হয়। সবমিলিয়ে পাকিস্তান যেভাবে কুলভূষণকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দিয়েছে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

হিন্দু তরুণীকে অপহরণ করে ধর্মান্তকরণের ঘটনা পাকিস্তানে

সংখ্যালঘু তরুণীকে অপহরণ করে ধর্মান্তকরণ করানোর ঘটনা ঘটল পাকিস্তানে। অভিযোগ, ধর্মান্তকরণের পর জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় ওই তরুণীর। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে ওই তরুণীর পরিবার। পুলিশের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে বলে খবর।

সংবাদ সংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, প্রথমে ওই তরুণীর থার-এর বাড়িতে হানা দেয় ৩ সশস্ত্র দুষ্কৃতী। এরপর তাঁকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানের ইসলামকোট প্রেস ক্লাবে বসে এমনই অভিযোগ করেন ওই তরুণীর বাবা। পাশপাশি, মেয়েকে অপহরণ করে ধর্মান্তর করিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তা সত্ত্বেও ওই তরুণীকে উদ্ধারের কোনও চেষ্টাই পুলিশ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন অপহৃত তরুণীর বাবা।

যদিও ওই এলাকার এসএসপি পাল্টা দাবি করেছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই ঘটনায় প্রাথমিক তদন্ত চালিয়ে ৩ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কুলভূষণ যাদবের মা এবং স্ত্রীর সঙ্গে অমানবিক আচরণ করলো পাকিস্তান

kulbhusan jadober ma o strir songe omanobikগুপ্তচরবৃত্তির দায়ে মৃত্যুদণ্ডাজ্ঞাপ্রাপ্ত জেলবন্দি কুলভূষণ যাদবের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী এবং মায়ের দেখা করিয়ে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করল পাকিস্তান। কিন্তু এর জন্য আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালতে কুলভূষণ মামলায় ইসলামাবাদকেই পস্তাতে হবে বলে মনে করছে দিল্লি।

কাঁচের দেওয়ালের দু’দিকে বসে কুলভূষণ এবং তাঁর মা-স্ত্রীর এ দিনের সাক্ষাতের পরে দিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, ‘‘আমরা ২১ বার পাক নেতৃত্বকে চিঠি লিখে কুলভূষণের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস (দূতাবাসের প্রবেশাধিকার) চেয়েছি। কোনও সাড়া দেওয়া হয়নি। অথচ ভিয়েনা চুক্তির স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে পাকিস্তান বাধ্য তাদের দেশে জেলবন্দি ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে আমাদের কূটনীতিক এবং আইনজীবীদের দেখা করতে দিতে।’’

এই প্রবেশাধিকারের বিষয়টি নিয়ে আজ সকাল থেকে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল পাকিস্তান। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, যেটা ইচ্ছাকৃত। সকালে টুইট করে পাক বিদেশমন্ত্রী খাজা মহম্মদ আসিম জানান, কুলভূষণ যাদবের কাছে ভারতীয় কূটনীতিকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের জায়গায় ভারত থাকলে কিন্তু এই ধরনের সুযোগ আমাদের দিত না।’’ একই সঙ্গে ইসলামাবাদ জানায়, পাকিস্তানের জনক ‘কয়েদ-ই-আজম’ মহম্মদ আলি জিন্নার জন্মদিনে এ এক মানবিক পদক্ষেপ। পাক বিদেশমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরেই শোরগোল বাধে কূটনৈতিক শিবির এবং প্রচারমাধ্যমে। প্রশ্ন ওঠে, তা হলে কি মা এবং স্ত্রীর পাশাপাশি ভারতীয় কূটনৈতিক কর্তাকেও কুলভূষণের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে? পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে পাক বিদেশ মন্ত্রক জানায়, কুলভূষণের মা ও স্ত্রীকে কথা বলতে দেওয়া হলেও ভারতীয় দূতাবাসের কাউকে সেখানে প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

পাকিস্তানের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘আজ যেটা হয়েছে সেটা তামাশা ছাড়া কিছু নয়। কাঁচের দেওয়ালের ওপার থেকে মাইক্রোফোনে দু’তরফের কথা হয়েছে। এমনকী ভারতীয় হাইকমিশনারকেও ঘরে থাকতে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়টি তো স্কাইপ বা ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমেও করা যেত। ছেলে তো মাকে এত দিন পরে প্রণামটুকুও করতে পারলেন না। মানবিকতার নামে অত্যন্ত নিষ্ঠুর এই আচরণ।’’

সূত্রের খবর, আন্তর্জাতিক আদালতের পরবর্তী শুনানিতে পাকিস্তানের এই আচরণ নিয়ে সরব হবে ভারত। পাশাপাশি ভিয়েনা কনভেনশন অমান্য করে পাকিস্তান যে আসলে চোখে ধুলো দিতে চাইছে, সেটাও সবিস্তার তুলে ধরা হবে। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে কুলভূষণের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধকে ধামাচাপা দিতেই আজকের এই ‘নাটক’ করা হল বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

ভারত যখন আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ ঠোকার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ইসলামাবাদও বসে নেই। আজ ফের কুলভূষণের তথাকথিত স্বীকারোক্তির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। দিল্লিতে বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা জানান, প্রযুক্তির যুগে কুলভূষণের আরও একটা মিথ্যে ভিডিও বাজারে আনল পাকিস্তান। তা ছাড়া, কুলভূষণের মা-ই তো ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে ভিসার আর্জি জানিয়েছিলেন। অথচ ভিডিও-য় কুলভূষণ বলেছেন, তাঁর অনুরোধ মেনে পাক সরকার তাঁর মা ও স্ত্রীকে দেখা করার সুযোগ দিয়েছে। পাকিস্তান নিজেদের মিথ্যের জালে নিজেরাই ফাঁসবে।

লাহোরে নিজের দল মিল্লি মুসলিম লীগের পার্টি অফিস খুললো হাফিজ সইদ

Lahore nijer dol milliমার্কিন চাপ অগ্রাহ্য করেই নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করল মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ মহম্মদ সইদ। রীতিমতো ঘটা করে লাহোরে তাঁর দল মিল্লি মুসলিম লিগের একটি অফিসও খুলে ফেলেছে সে। সোজা কথায়, হাফিজ সইদ বুঝিয়ে দিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের কাছে মাথা নত করে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দান থেকে সে সরে আসবে না। ফলে পাকিস্তান এখন দ্বিমুখী চাপের মুখে পড়ে গেল।

হাফিজ মহম্মদ সইদকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী আগেই ঘোষণা করেছে আমেরিকা। তার মাথার দাম ধার্য হয়েছে এক কোটি ডলার। সম্প্রতি পাক আদালতের রায়ে হাফিজের গৃহবন্দি দশা মুক্ত হওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করতে চাপ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকী, পাকিস্তান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে হাফিজকে নিকেশ করার কথাও ওয়াশিংটন ভেবেছে বলে পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে গোপন রিপোর্ট দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই নিজের সুরক্ষা ব্যবস্থা বাড়িয়েছে মুম্বই হামলার মূল চক্রী। তবে সেটি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিক। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে মার্কিন চাপকে যে মানতে সে নারাজ তা বুঝিয়ে দিয়েছে হাফিজ। বস্তুত, ট্রাম্পকে ইসলাম বিরোধী আখ্যা দিয়ে জেহাদের রাস্তা আরও জোরদার করে জনগণের সহানুভূতি আদায়ের পথ পরিষ্কার করতে চাইছে হাফিজ সইদ।

লস্কর-ই-তোইবা নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেই জামাত-উদ-দাওয়া নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের আড়ালে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল হাফিজ সইদ। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মাথা নত করে তাকে একসময় গৃহবন্দি করে পাক সরকার। কিন্তু আদালতের রায়ে বন্দিদশা কাটার পরেই ফের স্বমূর্তি ধারণ করেছে এই ভারত বিদ্বেষী সন্ত্রাসবাদী। এবার রাখঢাক না রেখে নির্বাচনে লড়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে সে। মিল্লি মুসলিম লিগের ব্যানারে আগামী বছরের সাধারণ নির্বাচনে জামাত লড়বে বলে জানায় হাফিজ।

পাকিস্তানে শিখদের ধর্মান্তরণের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি সুষমা স্বরাজের

Pakistane Shikh Dhormantokoronপাকিস্তানের হাঙ্গু জেলায় শিখদের জোর করে মুসলিম হতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। বিষয়টি নিয়ে তিনি অবিলম্বে পাক প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে কথা বলবেন বলে মঙ্গলবার তাঁর টুইটে জানিয়েছেন সুষমা। এ দিন তাঁর টুইটে ইসলামাবাদের ভারতীয় হাইকমিশনকে ট্যাগ করে বিদেশমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে আমরা পাকিস্তান সরকারের সর্বোচ্চ স্তরের সঙ্গে কথা বলব। হাঙ্গু জেলায় বসবাসকারী শিখদের ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা হচ্ছে।’’ গত ১৬ ডিসেম্বর পাক সংবাদপত্র ‘ট্রিবিউন’-এ ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই বিষয়টি বিদেশমন্ত্রীর নজরে আনার জন্য টুইট করেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ। সেই টুইটে তিনি বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে পাক সরকারের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান বিদেশমন্ত্রীকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে সুষমার ওই টুইট। গত শনিবার পাক সংবাদপত্র ‘ট্রিবিউন’ জানায়, হাঙ্গু জেলার খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে থাকা শিখদের সরকারি কর্তারা জোর করে মুসলিম বানাচ্ছেন। সেখানকার শিখ সম্প্রদায়ের তরফে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগও করা হয়েছে হাঙ্গুর ডেপুটি কমিশনারের কাছে।

তাতে বলা হয়েছে, ‘‘দোয়াবায় আমাদের (শিখ) ধর্মীয় মতাদর্শের ওপর আঘাত হানা হচ্ছে। স্থানীয় শিখদের ধর্মান্তরণে বাধ্য করছেন তহশিলের সহকারী কমিশনার তাল ইয়াকুব খান।’’

হাঙ্গুর জেলা প্রশাসন অবশ্য ওই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনের বক্তব্য, এক জনেরও ধর্মান্তরণ হয়নি।তবে একটা অভিযোগ যখন এসেছে, তখন তা খতিয়ে দেখতে স্থানীয় শিখদের নিয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়েছে হাঙ্গু জেলা প্রশাসন।

কাশ্মীরকে স্বাধীন করে একাত্তরের হারের বদলা নেবো, মন্তব্য হাফিজ সইদ-এর

kashmirke swadhin kore ekattorer harereকাশ্মীরকে স্বাধীন করে ১৯৭১-এ পাকিস্তানের হারের বদলা নেওয়া হবে। ফের হুঙ্কার দিল জামাত-উদ-দাওয়া প্রধান ও মুম্বই হামলার মাথা হাফিজ সইদ। লাহোরে এক সভায় হাফিজ সইদের হুমকি, ‘‘পাকিস্তান ১৯৭১ সালের লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছিল। সেই পরজয়ের বদলা নেওয়া হবে কাশ্মীরকে স্বাধীন করে।’’ উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই থামাতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে আক্রমণ করে পাক সেনা। সে সময় পাকিস্তানের কয়েক হাজার সেনাকে আটকে দেয় ভারত। অসহায় পাক সেনারা ভারতীয় সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ফলস্বরূপ স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই রাগ এখনও পুষে রেখেছে পাকিস্তান। সেই কথাই বেরিয়ে এল সইদের মুখ থেকে। জঙ্গি মদতের অভি‌যোগে বেশ কিছুদিন সইদকে গৃহবন্দি করে রাখে পাকিস্তান। তবে শেষপ‌র্যন্ত আদালতের নির্দেশে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বন্দিদশা থেকে ছাড়া পেয়েই সইদ ঘোষণা করে, কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে জামাত-উদ-দাওয়া। শনিবার নওয়াজ শরিফ ও তার দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের উদ্দেশ্যে সইদের বার্তা, তোমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে, পাকিস্তানকে রক্ষা করবে। কিন্তু তোমরা দেশের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছ। তোমরা নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চেয়েছিলে। দেশের মানুষের সঙ্গে তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছ।

স্ত্রীকে রহমানির বই পড়ার উপদেশ দিতো বাংলাদেশী জঙ্গি আকায়েদুল্লা

strike rohomanir boi porar upodeshআমেরিকার ম্যানহাটনে বোমা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত বাংলাদেশী জঙ্গি আকায়েদুল্লা তার স্ত্রীকে সবসময় রহমানির বই পড়তে বলতো। বাংলাদেশী পুলিশ তার স্ত্রী জান্নাতুল ফিরদৌসকে জেরা করে তথ্য জানতে পেরেছেন। কে এই রহমানী? এর পুরো নাম হলো জসিমুদ্দিন রহমানী। এর অনুপ্রেনা ও নেতৃত্বে তৈরি হয় বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিম। এই জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার আদর্শে পরিচালিত হয়। এই সংগঠন বাংলাদেশের একের পর এক ব্লগার খুনে জড়িত। তবে আকায়েদুল্লার স্ত্রীর বাড়িতে রহমানির কোনোরকম বইপত্র পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রী বাংলাদেশী পুলিশের কাছে দাবি করেন যে বাংলদেশে থাকার সময় তার স্বামীর সঙ্গে কোনো জঙ্গি সংগঠনের যোগ ছিল না। তবে সে খুব ধার্মিক ছিল, ইসলাম ধর্মের নিয়মগুলো খুব কঠোরভাবে মেনে চলতো বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।

পাকিস্তানের কাটাসরাজ মন্দিরে মূর্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিলো পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট।

Pakistaner katasraj mondire murti protisthar onumotiপাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রভিন্সে বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরে কোনও বিগ্রহ নেই৷ তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাঞ্জাব প্রশাসনকে বিঁধল পাক সুপ্রিম কোর্ট৷ ইসলামে বিগ্রহের উপাসনা নিষিদ্ধ৷ কিন্তু  ইসলামি একটি দেশে হিন্দুদের মন্দিরে কেন বিগ্রহ থাকবে না? এই প্রশ্নই তুলেছে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত৷ সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন বিচারপতি৷ প্রধান বিচারপতি মিঞাঁ সাকিব নিসারের নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ দিন প্রশ্ন তোলেন, ‘‘হিন্দুরা যদি মন্দিরে বিগ্রহ না দেখতে পান, তবে পাকিস্তান সম্পর্কে তাঁদের কী ধারণা তৈরি হবে?’’ মন্দিরে বিগ্রহ রাখার মতো পরিবেশ নিশ্চিত করতে না পারলে তা আদালতের নির্দেশ অমান্যের সামিল হবে বলেও প্রশাসনকে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত৷ পাঞ্জাব প্রদেশের কাটাসরাজ মন্দিরে পুকুরের জল শুকিয়ে যাওয়া নিয়ে স্বতঃপ্রণোণিত একটি মামলায় এ দিন এই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি৷ কথিত আছে, শিবের চোখের জল থেকে এই পুকুরের সৃষ্টি৷ তাই হিন্দুদের কাছে এই পুকুরটি খুবই পবিত্র৷ সম্প্রতি ওই মন্দিরের খুব কাছে গড়ে উঠেছে একটি সিমেন্ট তৈরির কারখানা৷ সেখানে শয়ে শয়ে কুয়ো ও টিউবওয়েল খোঁড়ার ফলে জলস্তর হু হু করে নেমেছে৷ আর তাতেই প্রায় শুকিয়ে গিয়েছে হিন্দুদের এই পবিত্র পুকুর৷ সিমেন্ট তৈরির কারখানার ওই কুয়ো ও টিউবওয়েল অবিলম্বে বন্ধ করতে চাকওয়াল জেলার কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে পাক শীর্ষ আদালত৷

নিজের কর্মস্থলেই বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিল বাংলাদেশী আইএস জঙ্গি আকায়েদউল্লা

nijer kormostholey bisforok bangladesh IS jongiসোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাতটা। নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটানের সবচেয়ে বড় বাস টার্মিনালে যেতে হন্তদন্ত হয়ে ছুটছে মানুষ। টাইম স্কোয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথটি কিছুটা সরু। সেখানে মানুষের আনাগোনাও বেশি। আচমকা বিকট শব্দ আর ধোঁয়া! শুরু হয়ে গেল চিৎকার ও মানুষের ছোটাছুটি। ম্যানহাটানের পোর্ট অথারিটি বাস টার্মিনালে দিনের শুরুটা ছিল এমনই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ব্যস্ততম বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন নিউ ইয়র্ক থেকে নিউ জার্সি পর্যন্ত বিভিন্ন বাস এই টার্মিনাল থেকে যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া গ্রেহাউন্ড ও পিটারপ্যানের মতো দূরবর্তী স্থানগুলিতে যাত্রী পরিবহণকারী বাসগুলিও এখান থেকেই ছেড়ে যায়। গড়ে প্রতিদিন এই বাস টার্মিনাল দিয়ে আড়াই লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করেন। আত্মঘাতী হামলার জন্য এই তল্লাটই বেছে নিয়েছিল আইএস জঙ্গি। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর সঙ্গে নিজের যোগাযোগ স্বীকার করে নিয়েছে ধৃত ব্যক্তি। নিজেকে আইএস প্রচারক বলেও দাবি করেছে সে।

আতঙ্ক আর ভয়ের অনুভূতি কেড়ে নিয়েছিল সকালের স্নিগ্ধতা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জানা যায় হামলাকারীর পরিচয়। পুলিশ বলছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর নাম আকায়েদউল্লা। ২৭ বছরের এই ব্যক্তি বাংলাদেশী। তার বাড়ি ছিল চট্টগ্রামে। যদিও বাংলাদেশ পুলিশের দাবি, তাদের কাছে আকায়েদউল্লার অতীত অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই।

সাত বছর আগে সে নিউ ইয়র্কে আসে। ইদানীং থাকে ব্রুকলিনের ইস্ট ফর্টি এইট স্ট্রিটে। আকায়েদ ও তাঁর পরিবার যে বাড়িতে থাকে, ঠিক তার পাশেই থাকেন অ্যালান বুতরিকো। সিএনএনকে তিনি জানিয়েছেন, আকায়েদ থাকত ভূগর্ভস্থ একটি কক্ষে। তাঁর বোন থাকত দোতলায়। তাঁর ভাইও থাকত একই বাড়িতে। বুতরিকো বলেন, গত দুই রাত ধরে আকায়েদের বাড়ি থেকে মারামারি, চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। আমার ভাড়াটেরা জানিয়েছেন, দু’রাত ধরেই এমন চলেছে। তাঁরা বলেছেন যে, কান্না ও গোঙানোর শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তবে কী হয়েছে বুঝতে পারেননি। পুলিশেও খবর দেওয়া হয়নি। অ্যালান আরও জানান, মোটেই বন্ধুসুলভ ছিল না আকায়েদ। কারও সঙ্গেই খুব একটা কথা বলত না। তারা কেবল এখানে থাকত, ব্যস এটুকুই।

সিএনএন জানিয়েছে, নিজের কর্মস্থলেই বিস্ফোরকটি তৈরি করেছিল আকায়েদউল্লা। প্রাথমিক তদন্তে এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। আকায়েদ তা স্বীকারও করেছে। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ হয়নি। আকায়েদ ইচ্ছে করেই নির্দিষ্ট স্থানে বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছে। নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নিল জানিয়েছেন, আকায়েদউল্লা যে বিস্ফোরকটি ব্যবহার করেন, সেটি তার শরীরে লাগানো ছিল। বিস্ফোরকে ব্যবহৃত প্রযুক্তি উচ্চমানের ছিল না। তার কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের তার ও ডিভাইস পাওয়া গিয়েছে। নিউ ইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিন কোম্পানিতে কাজ করছিল আকায়েদ। সেখানে তার ভাইও কাজ করত।

কী কারণে এই হামলা? সিএনএন বলছে, গাজায় ইজরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এ ধরনের হামলা চালাতে আকায়েদকে বাধ্য করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, গাজায় ইজরায়েলের ‘অনুপ্রবেশ’ সে মেনে নিতে পারেনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু ব্যাখ্যা করেনি।

অন্যদিকে, আকায়েদউল্লার নিউ ইয়র্ক শহরে ট্যাক্সি ও লিমোজিন গাড়ি চালানোর লাইসেন্স ছিল। ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ওই লাইসেন্সের মেয়াদ ছিল। ২০১৫ সালের মে মাসের পর ওই লাইসেন্স আর নবীকরণ করা হয়নি। তবে শহরের ইয়েলো ট্যাক্সি বা উবের চালানোর লাইসেন্স তাঁর ছিল না। গুরুতর আহত আকায়েদউল্লাকে এখন বেলেভু হাসপাতালে পুলিশের হেপাজতে রাখা হয়েছে। বিস্ফোরণে তার হাত ও পেটের কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। বিস্ফোরণে আরও চার ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের অবস্থা গুরুতর নয়। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নিউ ইয়র্কের ফিল্ম অ্যাকাডেমির প্রাক্তন ছাত্র আলি পি রিহান সোশ্যাল সাইটে লিখেছেন, ‘‘নিউ ইয়র্কে আজকে বাংলাদেশী হিসেবে পরিচয় দিতে গিয়ে লজ্জা হচ্ছে।’’

নিউইয়র্কে চলতি বছরে এটি তৃতীয় জঙ্গি হামলার ঘটনা। গত মার্চ মাসে মার্কিন সেনাবাহিনীর এক প্রাক্তন সদস্য ছুরিকাঘাতে একজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে হত্যা করে। এ ছাড়া গত অক্টোবর মাসে এক উজবেক বংশোদ্ভূত অভিবাসী পথচারীদের উপর ট্রাক চালিয়ে দিলে আটজনের মৃত্যু হয়। ওই দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে। ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘‘তাঁর অভিবাসী নীতি সংস্কার যে সঠিক পদক্ষেপ ছিল তা আবার প্রমাণিত।’’