হিন্দু গৃহবধুকে তপ্ত গরম জল দিয়ে জলসানো হল আড়াইহাজারে

Hindu-Women-_attacked-by-Muslim.jpgনারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঝলসানো হিন্দু গৃহবধূর সজলা শীলের পাশে দাঁড়ানি পুলিশ। সে আইনী সহয়তা থেকে বঞ্চিত। অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রথম রমজানের দিন গরম জল দিয়ে তার শরীরির ঝলসে দিয়েছেন তারই বাড়িওয়ালার ছেলে। ঘটনার পর থেকেই এটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে গৃহবধূকে ঝলসানো ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে “ভাইরাল” হয়ে পড়ায় এলাকায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
এক প্রকার বিনা চিকিৎসায় দগদগে ক্ষত নিয়ে ওই গৃহবধূ যন্ত্রনায় কার্তাচ্ছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, স্থানীয় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদের প্রবেশেও বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশাশী মহল এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিতে বাঁধা প্রদান করছেন। আহত গৃহবধূ স্থানীয় উলুকান্দির রেপারীপাড়া এলাকার স্বপন শীলের স্ত্রী বলে জানা গেছে। সংখ্যালঘু হওয়ায় থানায় অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন তারা। গোপালদী ফাঁড়ির পুলিশকে স্থানীয়রা এ ব্যাপারে অবহিত করলেও, রহস্যজনক কারণে কোনো প্রকার ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ। নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদেরকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় একযুবক নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহবধূকে গরম জল দিয়ে ঝলসে দিয়েছেন তার বাড়িওয়ালা মৃত জালালের ছেলে শাহআলম। তাকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের একনেতা আড়ালে থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার সহযোগিতা করছেন। শাহআলমের বোন ঝুমা নামে এক নারীও নানাভাবে দগ্ধ সজলা নারীকে চাপে রেখেছেন। এতে নির্যাততার পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ দিতে ভয় পাচ্ছেন। তবে এলাকাবাসীর দাবী পুলিশ যেন গৃহবধূকে উদ্ধার করে আসল ঘটনা উদ্ঘাটন করে জনসম্মুখে প্রকাশ করেন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এদিকে, গোপালদী ফাঁড়ির পুলিশের ইনর্চাজ আহসানের দাবী দগ্ধ সজলা রানীর স্বামী ঝগড়ার এক পর্যায়ে গরম জল তার ওপর ছুঁড়ে মারেন। এতে তার শরীরের পেছনের পুরো অংশই ঝলসে যায়। ভিকটিমের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়ার জন্য বলা হয়েছে; কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগ কেউ না দেয়ায় পুলিশ কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করতে পারছে না। আহসান আরও বলেন, আড়াইহাজার থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন স্যারকেও এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। তিনিও ভিকটিমের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ নেয়ার জন্য বলেছেন।
৫নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোসলেম বলেন, সজলা শীল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসা শেষে এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে বসা হবে।

Advertisements