হিন্দু কলেজ ছাত্রীকে জোরপূর্বক অপহরণ চেষ্টা, শ্লীলতাহানি

আশুলিয়ায় সাভার গণবিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক হিন্দু ছাত্রীকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক বিয়ের চেষ্টা, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে একই বিভাগের ছাত্র নুর হোসেনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মামলাটি গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগী ছাত্রী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, তিনি হিন্দু পরিবারের মেয়ে। আশুলিয়ার গোরাট এলাকার ইমান আলীর ছেলে নুর হোসেন ৫-৬ মাস ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এমনকি প্রস্তাবে রাজি না হলে তার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দেয়। বিষয়টি নুর হোসেনের অভিভাবককে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি, বরং এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নুর হোসেন তাকে আরও বেশি উত্ত্যক্ত করতে থাকে।
২ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা শেষে বেলা দেড়টার দিকে নরসিংহপুরে বাসায় ফেরার সময় নুর হোসেন ও মিল্টন তাকে জোর করে তুলে নিয়ে থানা যুবলীগ নেতা গোরাটের আরিফ মাদবরের অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে আরিফ মাদবরসহ নুর হোসেনের আরও অনেক সাঙ্গপাঙ্গ ছিল। ওই ছাত্রী বিয়েতে রাজি না হওয়ায় নুর হোসেন তাকে মারধর করে এবং তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে অন্য একটি প্রাইভেট কারে ওই ছাত্রীকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। এরপর থেকে নুর হোসেন তার ০১৮৮১৬৮৩১২৯ ও ০১৭৯৪১৩৩৭৭২ নম্বর দিয়ে প্রতিনিয়ত ফোন ও মেসেজ দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখায়। একটি ফেক আইডি দিয়ে ফেসবুকে মেসেজ ও তার ছবি এডিটিং করে বিভিন্ন কুৎসা রটনা করে।
জানতে চাইলে থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিনুল কাদির বলেন, এজাহারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা হল : মিল্টন, গোরাট এলাকার ওয়াসিম, সজিব, উত্তম ও তানভীর।

Advertisements