মুক্তিযুদ্ধের স্মারক গুড়িয়ে দেওয়া হলো বাংলাদেশের বগুড়ায়

1473329443902বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিলো মৌলবাদীরা। বগুড়ায় স্থাপিত শান্তির বার্তাবহ এই ভাস্কর্যটি গত বুধবার সকালে ভেঙ্গে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিভিন্ন মহল থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা হয়েছে। বগুড়া পৌরসভার মেয়র, বার কাউন্সিলের সদস্য এ্যাডভোকেট রেজাউল করিম মন্টু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ও তাদের দোসররা সুকৌশলে পরিকল্পনা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চিহ্ন ধ্বংস করতে মাঠে নেমেছে। তিনি এই ভাংচুরকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ১৯৯১ সালে বগুড়া শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথায় উঁচু কংক্রিটের বেদির ওপর এই ভাস্কর্য স্থাপন করে, যাতে জনসমাগমস্থল সাতমাথায় চারদিকের পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের দৃষ্টিতে পড়ে। জাতীয় দিবসগুলোতে এই ভাস্কর্যের বেদিতে শহীদ বীর মুত্তিযোদ্ধাদের স্মরণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। বগুড়ার সর্বস্তরের মানুষের কাছে এই বিজয় ভাস্কর্য ছিল পরম সম্মানের। ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট ক্ষমতার আসার পর এই ভাস্কর্যের একটি হাত (যে হাতে মুক্তিযোদ্ধা শান্তির কপোত উড়িয়ে দিচ্ছিল) ভেঙ্গে দেয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তা মেরামত করে নেয়।২০০৩ সালের দিকে বগুড়ার সড়ক চওড়া করার সময় তাৎকালীন বিতর্কিত জেলা প্রশাসক রফিকুল মোহামেদ বিজয় ভাস্কর্যটি শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা থেকে সরিয়ে ফেলেন। প্রতিক্রিয়ায় বগুড়ার প্রগতিশীল ধারার সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে তীব্র প্রতিবাদ করে সমাবেশ করে।পরে ভাস্কর্যটি সাতমাথা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দক্ষিণে বগুড়ার প্রবেশপথে বনানীর গোল চত্বরে স্থাপিত হয়।

পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে আফগানিস্তানের তালেবানদের অনুকরণে শক্ত হাতুড়ি বা শাবল দিয়ে ভাস্কর্যটি গুঁড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বাংলাদেশে তালিবানীকরণের প্রক্রিয়া যে জোর কদমে চলছে, এই ঘটনাই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

Advertisements