মন্দিরের জমি দখল, প্রতিবাদে দুর্গাপূজা বন্ধ বাংলাদেশের লালমনিরহাটে

লালম‌নিরহা‌ট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের এক‌টি সার্বজনীন দুর্গা ম‌ন্দি‌রের জ‌মি দীর্ঘদি‌ন ধ‌রে বেদখলে। জ‌মি উদ্ধারের জন্য প্রশাস‌নের কাছে অ‌ভি‌যোগ ক‌রে সুফল পায়নি ভক্তবৃন্দরা। ফ‌লে এবার মোগলহাট ইউনিয়‌নের ১৮ টি দুর্গা ম‌ন্দি‌রে অাসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব বন্ধের ঘোষনা করেছে হিন্দু সম্প্রদায়। এ‌বিষ‌য়ে ১৪ই সে‌প্টেম্বর ভক্তবৃন্দ তা‌দের সিদ্ধা‌ন্তের কথা জেলা প্রশাসক ও পু‌লিশ সুপারসহ বি‌ভিন্ন দপ্ত‌রে লি‌খিত ভা‌বে জা‌নি‌য়ে‌ছেন।

অ‌ভি‌যো‌গ সূত্রে জানা গে‌ছে, ১৯৫৯ সা‌লে লালম‌নিরহা‌ট সদর উপ‌জেলার মোগলহাট ইউ‌নিয়া‌নের মোগলহাট হ‌রিবাসন সার্বজনীন দুর্গা ম‌ন্দি‌রের নামে ৩৫শতক জ‌মি ক্রয় করা হয়। জ‌মি ক্রয়ের পর থেকেই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের ভক্তবৃন্দরা ম‌ন্দির নির্মাণ ক‌রে পুজা আর্চনা ক‌রে আসছেন।

২০১৫ সা‌লে ম‌ন্দি‌রের না‌মে জ‌মি বি‌ক্রির সত্ত্ব অস্বীকার ক‌রে ৩৫শতক জ‌মির ম‌ধ্যে ১১শতক জ‌মি দখল ক‌রে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় ম‌ন্দির ক‌মি‌টি লালম‌নিরহাট অাদাল‌তে মামলা দা‌য়ের ক‌রেন। যার মামলা নং অন্য ১১১/১৫। মামলা হওয়ার কার‌ণে জ‌মি দখলকারীরা ‌ক্ষিপ্ত হ‌য়ে ভক্তবৃ‌ন্দের প্রাণনা‌শের হুম‌কি ধম‌কি অব্যাহত রা‌খেন এবং চল‌তি বছ‌রের ১০সে‌প্টেম্বর পুনরায় ম‌ন্দি‌রের অারও ১শতক জ‌মি বাঁশের বেড়া দি‌য়ে ‌দখল ক‌রে নেন।এই পরিস্থিতিতে অাসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপ‌ন ক‌ঠিন হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। যে কোন মুহু‌র্তে ভক্তবৃ‌ন্দের সা‌থে দখলকারীর সংঘ‌র্ষের সম্ভাবনা র‌য়ে‌ছে। তাই মোগলহাট ইউ‌নিয়‌নের ১৮টি দুর্গা ম‌ন্দি‌রের ভক্তবৃন্দরা ১৩ সে‌প্টেম্বর কুরুল কালীবাড়ী‌ শ্রী শ্রী সার্বজনীন দুর্গা ম‌ন্দি‌রে এক জরুরী সভার ডাক দেন।বীর মু‌ক্তি‌যোদ্ধা অমল চন্দ্র রা‌য়ের সভাপ‌তি‌ত্বে সভায় মোগলহাট ইউ‌নি‌য়নের মোট ১৮টি দুর্গা ম‌ন্দি‌রে অাসন্ন শারদীয় দুর্গা পুজা এক‌যো‌গে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন ক‌রেন ভক্তবৃন্দরা।মোগলহাট হ‌রিবাসন সার্বজনীন দুর্গা ম‌ন্দি‌র ক‌মি‌টির সভাপ‌তি অর্জুন কুমার গুপ্ত ও সম্পাদক প্রশান্ত সেন ব‌লেন, অামরা ভক্তবৃন্দ নিরুপায় হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছি। এখা‌নে এবার পুজা হ‌লে ভক্তবৃন্দের জীবন না‌শের হুম‌কি দি‌চ্ছে জ‌মি দখলকারীরা। এলাকার শা‌ন্তিপ্রিয় মানু‌ষের শা‌ন্তি যেন বজায় থাকে একারনে সম্মিলিত ভাবে মোগলহাট ইউনিয়নের ১৮টি মন্দিরের দূর্গাপুজা বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে! একথা বার বার প্রচার করা হয় যে হাসিনার সময়কালে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু নিরাপদে থাকে। কিন্তু এই ঘটনা দেখে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে হাসিনা হোক বা খালেদা জিয়া, বাংলাদেশের হিন্দুরা কোনোকালেই নিরাপদ নয়।

Advertisements