বাংলাদেশ IS-এর প্রধান সইফুল্লাকে খুঁজছে পুলিশ

গুলশানে জঙ্গি হামলার পর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথম যে ১০ জনের যে তালিকা প্রকাশিত হয়,তার একজন এই সইফুল্লা ওজাকি। যদিও পরে জানা যায় সইফুল্লা ওজাকি নামের ওই জঙ্গির আগের নাম ছিল সুজিত দেবনাথ। সিলেট ক্যাডেট কলেজের প্রাক্তন এই ছাত্র ২০০১ সালে জাপান সরকারের স্কলারশিপ নিয়ে সেখানকার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে সে জাপানের কিওটো বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা শুরু করে। ওই ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েটদের দেওয়া হয় ওজাকি উপাধি। পরবর্তীতে এক জাপানি মেয়েকে বিয়ে করে সেখানেই সংসার শুরু করে সে। সংসার জীবনে সুজিত চার ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। জাপানে থাকতেই সুজিত ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলমান হয়। তার স্ত্রীও মুসলমান হয়। এরপর একবার দেশে ফিরলেও কিন্তু নিজের বাড়িতে ওঠেনি সে। তারা উঠেছিল স্থানীয় চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের বাড়িতে। রউফের ছেলেও জাপান প্রবাসী হওয়াতে তার সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে তার বাড়িতে এসে উঠেছিল ধর্মান্তরিত মুসলমান সইফুল্লা ওজাকি। তবে সুজিতের পরিবার রয়েছে জাপানে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা জনার্দন দেবনাথ। সুজিত দেবনাথ ওরফে সইফুল্লা ওজাকির বাড়ি ব্রাহ্মণবেড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ি গ্রামে। তার বাবা বাজারে বাজারে কাপড় ফেরি করে খুব কষ্টের মধ্যে ছেলেকে মানুষ করেছেন।জনার্দন জানান, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি সুজিত।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ধর্মান্তরিত সুজিত দেবনাথের হাতেই সংগঠনের বাংলাদেশ শাখার দায়িত্ব দিয়েছে ইসলামিক স্টেট। জাপান থেকে প্রকাশিত ‘জাপান টাইমস’ আগেই জানিয়েছিল সেদেশের অধ্যাপক হাসান ক নাকাতার সংস্পর্শে এসেই সে ধর্মান্তরিত হয় ও ইসলামিক স্টেট-এ যোগ দেয়। আর সাইফুল্লা এখন বাংলাদেশ পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড। ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় আসামি সইফুল্লা(মামলা নম্বর ২৩, তারিখ ২৪/৫/১৫)। জাপান টাইমস-এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে,স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইউরোপ হয়ে সিরিয়া পারি দিয়েছে সইফুল্লা ওজাকি।

Advertisements