বাংলাদেশের প্রথম আত্মঘাতী নারী বোমারু

1বড়দিনের ছুটির ঠিক আগের দিন ঢাকা কেঁপে ওঠলো মানববোমা বিস্ফোরণে। নিজের গায়ে লাগানো সুইসাইড জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দিলো এক নারী জঙ্গি।

এ ঘটনাও বাংলাদেশে প্রথম। সম্প্রতি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যে নারীরাও যুক্ত হয়ে পড়ছেন সেটি নতুন তথ্য নয়। কিন্তু এই প্রথম কোনো নারী জঙ্গি এভাবে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে প্রাণ হারালেন।

২৪ শে ডিসেম্বর, শনিবার রাজধানীর পূর্ব আশকোনার ৩ তলা সূর্যভিলায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজমের অভিযানের সময় আত্মঘাতী হামলা চালায় ওই নারী। যদিও আত্মসমর্পণের ভান করে বাড়ি থেকে বের হয় সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিস্ফোরণ ঘটায় নারী বোমারু। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। আহত হয় তার সঙ্গে থাকা ৬ থেকে ৭ বছর বয়সী ছোট্ট শিশু। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি ওই নারীর সন্তান। আবার কেউ কেউ বলছেন, সে অপর একজন জঙ্গির মেয়ে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা যখন আশকোনার বাড়িতে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তখন এই মহিলা আত্মসমর্পণের ভান করে বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিল এক মেয়েশিশু। হঠাৎ গায়ে থাকা সুইসাইড জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দেয় সে।

নিহত আত্মঘাতী নারী কথিত জঙ্গি সুমনের স্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এও বলছেন, পুলিশের তালিকায় সুমন বলে কেউ নেই। হয়তো এটা তার সাংগঠনিক নাম। তাই জঙ্গি সুমন সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।

এদিকে অভিযান শুরুর আগে মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে জানান, নব্য জেএমবির বেশ কয়েক জন জঙ্গি ‘সূর্যভিলা’ নামে তিনতলা বাড়িটির এক তলায় লুকিয়ে রয়েছে। তাদের বেরিয়ে এসে আত্মসমর্পণের জন্য দেড় ঘণ্টা সময় দেয়া হলেও জঙ্গিরা জানিয়ে দেয়, তাদের সঙ্গে আত্মঘাতী বাহিনীর সদস্যরা তো আছেই, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকও মজুদ রয়েছে। আক্রমণ করলে তারা বাড়িটি উড়িয়ে দেবে। এরপর তারা গ্রেনেড ও গুলি ছুঁড়তে থাকে।

এরমধ্যেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত জঙ্গি নেতা সেনাবাহিনীর পলাতক মেজর জাহিদের স্ত্রী জেবুন্নাহার শিলা ও পলাতক জঙ্গি মুসার স্ত্রী তৃষ্ণা তাদের মেয়ে নিয়ে বাড়িটিতে অবস্থান করছেন। সকাল ৯ টা নাগাদ  ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে শিলার মাকে। তিনি মাইকে আত্মসমর্পণের অনুরোধ জানালে শিলা ও তৃষ্ণা ছেলেমেয়ে নিয়ে বেরিয়ে আসে। তাদের কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি উদ্ধার করা হয়।

এদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরও বাড়ির ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোঁড়া হয়। সাড়ে ১২টার দিকে দরজা খুলে মেয়ের হাত ধরে ওই নারী জঙ্গি বেরিয়ে এসে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। তার সঙ্গে থাকা শিশুটি বিস্ফোরণে ছিটকে গেলেও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার হয়। বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন।

এরপর পুলিশের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী সোয়াট অস্ত্র উঁচিয়ে জঙ্গিদের আস্তানায় ঢুকে পড়ে দু’জনকে আটক করে। তবে ওই ঘরে ১৫ বছরের এক কিশোর জঙ্গির দেহ পাওয়া যায়। তার নাম আফিফ কাদেরী নাবিল। নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরীর ছেলে। তানভীর কাদেরী ছিল নব্য জেএমবির অন্যতম নেতা এবং ঢাকার আজিমপুরে এক পুলিশী অভিযানের সময় সে আত্মহত্যা করে। নব্য জেএমবির নেতা তামিম চৌধুরী নিহত হবার পর তানভীর কাদেরীই নব্য জেএমবির প্রধান হবে বলে ধারণা করছিল পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, জঙ্গি মুসা নিজেকে ইমতিয়াজ আহমেদ পরিচয় দিয়ে কোরবানি ঈদের আগে এ বাড়িটি ভাড়া নেন। এরপর থেকেই সেখানে চলে জঙ্গি প্রশিক্ষণ।

Advertisements