নাসিরনগরের ‘পুনরাবৃত্তি’ নবীগঞ্জে

বাংলাদেশের নবীগঞ্জ ইনতাগঞ্জের রজত রায় নামে এক মুদি দোকানীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে কাবা শরীফের ছবি বিকৃত করে আপলোড করার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ। ওই যুবকের ফাঁসির দাবি করে সোমবার (২০ই ফেব্রুয়ারী) দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করে মুসলিম জনতা। এসময় কয়েকটি হিন্দু বাড়িঘর ভাংচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনা সামাল দিতে সোমবার দুপুরে স্থানীয় জনতাকে নিয়ে বৈঠক করেছেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। এলাকায় অতিরিক্ত র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পেশায় মুদি দোকানি ওই যুবককে রোববার (১৯ ফেব্রুয়ারী) রাতেই আটক করে সোমবার জেলা হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। সে ফেসবুকে অবমাননাকর ছবি আপলোড করার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এরআগে গতবছরের অক্টোবরে একই ধরণের ঘটনা ঘটে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগরে। সেখানে রসরাজ নামের এক জেলের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কাবা শরীফের ছবি বিকৃত করে আপলোড করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার জের ধরে ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু বাড়িঘর-মন্দিরে হামলা-ভাংচুর- লুটপাটের ঘটনা ঘটে।অভিযোগ ওঠার পরপরই আটক করা হয়েছিলো রসরাজ দাসকে। তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।
রজত রায়ের ফাঁসি দাবি করে সোমবার সকাল ১১ টার দিকে বিভিন্ন গ্রাম থেকে খন্ড খন্ড বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। ইতানগঞ্জ বাজারে এসে মিলিত হয় এসব মিছিল। এরপর ইউনিয়নের মধ্যসমেত গ্রামের রজত রায়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে মিছিল শুরু করলে পথের মধ্যে কয়েকটি হিন্দু বাড়ি ভাংচুর করা হয় ও কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে ইট পাটকেল ছোড়া হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ রায়, সঞ্জয় রায়, শুভাষ রায়, গোবিন্দ রায়ের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শেষে বিক্ষোব্দ মুসলমানরা ফের মিছিল নিয়ে বাজারের দিকে আসার সময় আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় স্থানীয় কয়েকজন মিছিলকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুপুর ২টার দিকে বিক্ষোব্দ জনতাদের নিয়ে স্থানীয় হাই স্কুল মাঠে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার লক্ষে সভা করেন। রাতেই নবীগঞ্জ থানার এসআই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। সোমবার সকালে রজতকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়।